📘 ইসলামে হালাল হারামের বিধান > 📄 যবেহ করার শরীয়তসম্মত পন্থা

📄 যবেহ করার শরীয়তসম্মত পন্থা


সামুদ্রিক জীব সবই হালাল

জীব-জন্তু তাদের অবস্থান ও বসবাস স্থানের দৃষ্টিতে দুটি ভাগে বিভক্ত। হয় তারা সমুদ্রবাসী, নয় স্থল অধিবাসী।
সামুদ্রিক জীব বলতে বোঝায় যেসব প্রাণী যা পানিতে অবস্থান ও বসবাস করে এবং পানি ভিন্ন যাদের জীবন অকল্পনীয়। শরীয়তের দৃষ্টিতে মূলত তা সবই হালাল, তা যেখানেই পাওয়া যাক না কেন। তা পানির মধ্য থেকে জীবিতই ধরা হোক, কি মৃত মরে ভেসে উঠুক আর নাই উঠুক। ক্ষুদ্রাকার ও বিরাটাকার মাছসমূহ এর মধ্যে পড়ে। আর সামদ্রিক কুকুর কিংবা সামুদ্রিক শূকর বলতে যে জীবগুলোকে বোঝায় তাও এবং এ ধরনের অপরাপর মাছ জাতীয় জীব- সবই হালাল পর্যায়ে গণ্য। তাকে ধরেছে বা মেরেছে কিংবা শিকার করেছে- সে মুসলিম কি কাফির- সে প্রশ্ন এক্ষেত্রে সম্পূর্ণ অবান্তর। বস্তুত সমুদ্রে যা কিছু এবং যত কিছুই রয়েছে তা সব হালাল করে দিয়ে আল্লাহ্ তা'আলা তাঁর বান্দাদের প্রতি বিশাল পর্যায়ের অনুগ্রহ দান করেছেন। সামুদ্রিক জীবদের মধ্য থেকে বিশেষ কোন শ্রেণীকে হারাম ঘোষণা করা হয়নি এবং তাদের যবেহ করার কোন শর্তও আরোপ করা হয়নি। বরং মানুষকে এক্ষেত্রে অবাধ অনুমতি দেয়া হয়েছে, সে নিজের কষ্ট ও অভাব লাঘবের জন্যে যতটা ইচ্ছা সংগ্রহ করে ব্যবহার করতে পারে। আল্লাহ্ তা'আলা তাঁর বান্দাদের প্রতি তার বিশেষ অনুগ্রহের কথা প্রকাশ প্রসঙ্গেই ইরশাদ করেছেন: ( النحل : ١٤ ) وَهُوَ الَّذِي سَخَّرَ الْبَحْرَ لِتَأْكُلُوا مِنْهُ لَحْمًا طَرِيًّا
সেই মহান আল্লাহই নদী-সমুদ্রকে নিয়ন্ত্রিত ও নিয়োজিত করে রেখেছেন, যেন তোমরা তা থেকে তাজা গোশ্ত গ্রহণ করতে পার। বলেছেন: أُحِلَّ لَكُمْ صَيْدُ الْبَحْرِ وَطَعَا مُهُ مَتَاعًا لَكُمْ وَلِلسَّيَّارَةِ -
তোমাদের জন্যে সমুদ্রের শিকার ও খাদ্য হালাল করে দেয়া হয়েছে। তা তোমাদের ও পরিভ্রমণকারীদের জন্যে সামগ্রী। (সূরা মায়িদা : ৯৬) এ দুটি আয়াতে সব সামুদ্রিক জীবকেই সাধারণভাবে ও নির্বিশেষে হালাল করার কথা ঘোষিত হয়েছে।

📘 ইসলামে হালাল হারামের বিধান > 📄 সামুদ্রিক জীব সবই হালাল

📄 সামুদ্রিক জীব সবই হালাল


জীব-জন্তু তাদের অবস্থান ও বসবাস স্থানের দৃষ্টিতে দুটি ভাগে বিভক্ত। হয় তারা সমুদ্রবাসী, নয় স্থল অধিবাসী।
সামুদ্রিক জীব বলতে বোঝায় যেসব প্রাণী যা পানিতে অবস্থান ও বসবাস করে এবং পানি ভিন্ন যাদের জীবন অকল্পনীয়। শরীয়তের দৃষ্টিতে মূলত তা সবই হালাল, তা যেখানেই পাওয়া যাক না কেন। তা পানির মধ্য থেকে জীবিতই ধরা হোক, কি মৃত মরে ভেসে উঠুক আর নাই উঠুক। ক্ষুদ্রাকার ও বিরাটাকার মাছসমূহ এর মধ্যে পড়ে। আর সামদ্রিক কুকুর কিংবা সামুদ্রিক শূকর বলতে যে জীবগুলোকে বোঝায় তাও এবং এ ধরনের অপরাপর মাছ জাতীয় জীব- সবই হালাল পর্যায়ে গণ্য। তাকে ধরেছে বা মেরেছে কিংবা শিকার করেছে- সে মুসলিম কি কাফির- সে প্রশ্ন এক্ষেত্রে সম্পূর্ণ অবান্তর। বস্তুত সমুদ্রে যা কিছু এবং যত কিছুই রয়েছে তা সব হালাল করে দিয়ে আল্লাহ্ তা'আলা তাঁর বান্দাদের প্রতি বিশাল পর্যায়ের অনুগ্রহ দান করেছেন। সামুদ্রিক জীবদের মধ্য থেকে বিশেষ কোন শ্রেণীকে হারাম ঘোষণা করা হয়নি এবং তাদের যবেহ করার কোন শর্তও আরোপ করা হয়নি। বরং মানুষকে এক্ষেত্রে অবাধ অনুমতি দেয়া হয়েছে, সে নিজের কষ্ট ও অভাব লাঘবের জন্যে যতটা ইচ্ছা সংগ্রহ করে ব্যবহার করতে পারে। আল্লাহ্ তা'আলা তাঁর বান্দাদের প্রতি তার বিশেষ অনুগ্রহের কথা প্রকাশ প্রসঙ্গেই ইরশাদ করেছেন: ( النحل : ١٤ ) وَهُوَ الَّذِي سَخَّرَ الْبَحْرَ لِتَأْكُلُوا مِنْهُ لَحْمًا طَرِيًّا
সেই মহান আল্লাহই নদী-সমুদ্রকে নিয়ন্ত্রিত ও নিয়োজিত করে রেখেছেন, যেন তোমরা তা থেকে তাজা গোশ্ত গ্রহণ করতে পার। বলেছেন: أُحِلَّ لَكُمْ صَيْدُ الْبَحْرِ وَطَعَا مُهُ مَتَاعًا لَكُمْ وَلِلسَّيَّارَةِ -
তোমাদের জন্যে সমুদ্রের শিকার ও খাদ্য হালাল করে দেয়া হয়েছে। তা তোমাদের ও পরিভ্রমণকারীদের জন্যে সামগ্রী। (সূরা মায়িদা : ৯৬) এ দুটি আয়াতে সব সামুদ্রিক জীবকেই সাধারণভাবে ও নির্বিশেষে হালাল করার কথা ঘোষিত হয়েছে।

📘 ইসলামে হালাল হারামের বিধান > 📄 স্থলভাগের হারাম জীব-জন্তু

📄 স্থলভাগের হারাম জীব-জন্তু


স্থলভাগের জীব-জন্তু ও প্রাণীকূলের মধ্যে কেবলমাত্র শূকর মাংস, মৃত, রক্ত এবং অ-আল্লাহ্ নামে উৎসর্গীকৃত বা যবেহকৃত ছাড়া আর কোনটিকেই হারাম ঘোষণা করা হয়নি। এ পর্যায়ের কথা পূর্বেই আলোচিত হয়েছে।
কিন্তু কুরআন মজীদেই হালাল-হারাম ঘোষণার কিছু দায়িত্ব আল্লাহ্ তা'আলা হযরত মুহাম্মাদ (স)-এর ওপর অর্পন করেছেন। তাঁর দায়িত্ব বর্ণনা পর্যায়ে বলা হয়েছে:
يُحِلُّ لَهُمُ الطَّيِّبَتِ وَيُحَرِّمُ عَلَيْهِمُ الْخَبَائِثَ
তিনি লোকদের জন্যে পবিত্র উৎকৃষ্ট দ্রব্যাদি হালাল করেন এবং খারাপ পচা-নিকৃষ্ট জিনিসসমূহ হারাম করেছেন। (সূরা আল-আরাফ : ১৫৭) 'খবীস' বলেতে বোঝায় তা, যা সাধারণভাবে মানব সমষ্টির সুস্থ রুচিতে জঘন্য মনে হয়- কিছু সংখ্যক লোক যদি তা পছন্দ করেও। এ পর্যায়েরই একটি হদীস হচ্ছে:
نَهَى النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عَنْ أَكْلِ لُحُومِ الْحُمُرِ الْأَهْلِيَّة يَوْمَ خَيْبَرَ -
নবী করীম (স) খায়বর যুদ্ধের দিনে গার্হস্থ্য গাধার গোশত খেতে নিষেধ করেছেন। (বুখারী)
বুখারী ও মুসলিমে উদ্ধৃত হয়েছেঃ
نهى عَنْ أَكْلِ كُلِّ ذِي نَابٍ مِنَ السَّبَاعِ وَكُلِّ ذِي مَخْلَبٍ مِنَ الطَّيْرِ -
নবী করীম (স) নখরধারী সব হিংস্র জীব এবং সব ছিড়ে খাওয়া পাখির গোশত খেতে নিষেধ করেছেন।
বাঘ, শৃগাল, চিতা ইত্যাদি প্রথম পর্যায়ের জন্তু। আর চিল, শকুন, বাজ প্রভৃতি নখরধারী পাখিগুলো দ্বিতীয় পর্যায়ের।
হযরত ইবনে আব্বাস (রা)-এর মত হচ্ছে, কুরআন মজীদের যে চারটি জীব হারাম বলে উল্লিখিত হয়েছে, তাছাড়া আর কোনটিই হারাম নয়। মনে হচ্ছে, হাদীসে যেসব জন্তুর গোস্ত খেতে নিষেধ করা হয়েছে তাঁর মতে তা খাওয়া হারাম নয়, মাকরূহ মাত্র। অথবা এও হতে পারে যে, তিনি হয়ত এ হাদীস কয়টি জানতেই পারেন নি।
তিনি বলেছেন: كَانَ أَهْلُ الْجَا هليَّة يَأْكُلُونَ أَشْيَاءَ وَيَتْرُ كُونَ أَشْيَاءَ تَقَدُّرًا فَبَعَثَ اللَّهُ نَبِيِّهُ وَأَنْزَلَ كِتَابَهُ فَأَحَلُّ حَلَا لَهُ وَحَرَّمَ حَرَامَهُ فَمَا أَحَلٌ فَهُوَ حَلَالٌ وَمَا حَرَّمَ فَهُوَ حَرَامٌ وَمَا سَكَتَ عَنْهُ فَهُوَ عَفْو وَتَلَا قُلْ لَا أَجِدُ فِيْمَا أُوحِيَ إِلَى مُحَرَّمًا على طاعم الآية - (আবু দাউদ)
ইসলাম-পূর্ব যুগে লোকেরা অনেক কিছু খেত, আর অনেক কিছু খারাপ মনে করে খেত না। পরে আল্লাহ্ তাঁর নবীকে পাঠালেন এবং তাঁর কিতাব নাযিল করলেন। তাতে তাঁর হালাল ও হারাম সংক্রান্ত ঘোষণা প্রকাশ করলেন। কাজেই তাতে যা হালাল, তা হালালই আর তাতে যা হারাম তা হারামই। আর যে বিষয়ে নীরবতা অবলম্বন করা হয়েছে, তা সবই নির্দোষ ও মাফ।
অতঃপর তিনি সূরা আল-আনয়াম-এর পূর্বোদ্ধৃত ১৪৫ নং আয়াতটি পাঠ করেন। এ আয়াতের আলোকেই হযরত ইবনে আব্বাস (রা) মনে করেন যে, গৃহপালিত গাধার গোস্ত খাওয়া হালাল। ইমাম মালিক (র)-ও এ মতই গ্রহণ করেছেন। তিনি বলেছেন, হিংস্র ও ছিন্ন-ভিন্ন করে আহারকারী জন্তুগুলোর গোস্ত খাওয়া হারাম নয়, বড়জোর মাকরূহ।
তবে একথা চূড়ান্ত যে, হারাম জন্তুগুলো যবেহ করলেই তা হালাল হয়ে বাবে, এমন কোন কথা নেই। যবেহ করা হলে চামড়া ট্রেনিং না করেই পবিত্র বিবেচিত হতে পারে মাত্র।

📘 ইসলামে হালাল হারামের বিধান > 📄 গৃহপালিত জন্তু হালাল হওয়ার জন্যে যবেহ করা শর্ত

📄 গৃহপালিত জন্তু হালাল হওয়ার জন্যে যবেহ করা শর্ত


যে সব স্থলভাগের জন্তু-জানোয়ার খাওয়া জায়েয, তা দুভাগে বিভক্ত।
কতগুলো জন্তু এমন, যা মানুষের নিয়ন্ত্রণাধীন। উট, গরু, ছাগল-ভেড়া ইত্যাদি ধরনের গৃহপালিত জন্ত এবং হাঁস-মোরগ ইত্যাদি যেসব পাখি গার্হস্থ্য পর্যায়ে লালন-পালন করা হয়, তা এক প্রকার। আর অপর প্রকারের জীব হচ্ছে সেসব, যা মানুষের নিয়ন্ত্রণে আসে না বা যেসবের ওপর নিয়ন্ত্রণ চালান মানুষের সাধ্যাতীত।
প্রথম প্রকারের জন্তু ও পাখিগুলোর গোস্ত খাওয়া হালাল। তবে তার জন্যে শর্ত হচ্ছে, তাকে শরীয়তের প্রথা অনুযায়ী যবেহ করতে হবে।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00