📘 ইসলামে গান ছবি ও প্রতিকৃতির বিধান > 📄 যেসব ছবি ও প্রতিকৃতিতে আপত্তি নেই

📄 যেসব ছবি ও প্রতিকৃতিতে আপত্তি নেই


১. বৃক্ষরাজি, তারকারাজি, সূর্য-চন্দ্র, পাহাড়, পাথর, সাগর, নদী, সুন্দরতম (প্রাকৃতিক) দৃশ্যের, পবিত্র স্থানসমূহের যেমন মাসজিদুল হারাম, মাসজিদে নাবাবী, বায়তুল মাকদিস ও অন্যান্য মাসজিদসমূহ যদি মানুষ কিংবা অন্য কোন প্রাণী না থাকে তবে এ সবের ছবি ও প্রতিকৃতি তৈরী করতে অনুমতি রয়েছে। প্রমাণ ইবনু 'আব্বাস (রাঃ)-এর বাণী:
إِنْ كُنْتَ لَا بُدَّ فَاعِلًّا فَاصْنَعِ الشَّجَرَ وَمَا لَا نَفْسَ لَهُ
অর্থ : যদি একান্ত করতেই হয় তবে বৃক্ষের এবং এমন বস্তুর ছবি কর যার প্রাণ নেই। ২৭
২. পরিচয়পত্র বা ভ্রমণের পাসপোর্ট কিংবা গাড়ীর লাইসেন্স ইত্যাদি অপরিহার্য বস্তুতে স্থাপিত ছবি অনুমোদিত।
৩. হত্যা, চুরি ইত্যাদির আসামী ব্যক্তির প্রতিশোধ নেয়ার লক্ষ্যে তাদের গ্রেফতারের উদ্দেশে ছবি তোলা বা বিভিন্ন বিদ্যায় যে সব ছবি তোলার প্রয়োজন হয় তা যেমন উদাহরণস্বরূপ ডাক্তারী বিদ্যা (সেগুলোও আপত্তিহীন)।
৪. কন্যা শিশুদের জন্য কাপড়ের খণ্ড দ্বারা প্রস্তুতকৃত এমন শিশু সাদৃশ পুতুল দ্বারা খেলা করা, একে কাপড় পরানো, পরিষ্কার করা, ঘুম পাড়ানো বৈধ। আর তা এজন্য যে, সে যখন মা হবে তখন সন্তানদের প্রতিপালন করা শিখতে পারবে।
'আয়িশাহ্ (রাঃ) বলেন :
كُنْتُ أَلْعَبُ بِالْبَنَاتِ عِنْدَ النَّبِيِّ ﷺ
অর্থ : আমি নাবী (ﷺ)-এর কাছে পুতুল নিয়ে খেলা করতাম। ২৮
কিন্তু শিশুদের জন্য বৈদেশিক খেলনা ক্রয় করা বৈধ নয় বিশেষতঃ পর্দাহীন বিবস্ত্র কিশোরীদের প্রতিমূর্তি। কারণ, এ থেকে সে পর্দাহীনতা শিখবে এবং এর অনুকরণ করবে ও সমাজকে বিনষ্ট করবে সেই সাথে রয়েছে ইয়াহূদ ও ভিন্ন দেশের জন্য অর্থ ক্ষয়।
৫. ছবির মাথা কেটে ফেললে আর সমস্যা থাকে না, কেননা মাথাটাই ছবির মূল। তাই একে কেটে ফেললে তাতে আর আত্মা থাকে না এবং তা জড় পদার্থে পরিণত হয়ে যায়। জিব্রীল (আঃ) রসূল (ﷺ)-কে বলেছিলেন :
مُرْ بِرَأْسِ التِّمْثَالِ الَّذِي فِي الْبَيْتِ يُقْطَعُ فَيَصِيرُ كَهَيْئَةِ الشَّجَرَةِ وَمُرْ بِالسِّتْرِ فَلْيُقْطَعُ فَلْيُجْعَلْ مِنْهُ وِسَادَتَيْنِ مَنْبُوذَتَيْنِ توطان
অর্থ : প্রতিমূর্তির মাথা কেটে ফেলতে বল তাতে বৃক্ষের রূপধারণ করবে এবং (ছবি সম্বলিত) পর্দা কেটে দু' টুকরা করে ফেলতে আদেশ দাও যাতে পদদলিত হয়। ২৯
উল্লেখ্য যে, উক্ত পর্দায় ছবি বিদ্যমান ছিল।
وآخر دعوانا أن الحمد لله رب العالمين

টিকাঃ
২৭. সহীহ মুসলিম হাঃ একাঃ ৫৪৩৩-(৯৯/২১১০), ই.ফা. ৫৩৫৯, ই.সে. ৫৩৭৭।
২৮. সহীহুল বুখারী তাও, ৬১৩০, আ.প্র. ৫৬৯০, ই.ফা. ৫৫৮৭।
২৯. সুনান আবু দাউদ হাঃ ৪১৫৮। শায়খ নাসিরুদ্দীন আলবানী হাদীসটিকে সহীহ বলে মন্তব্য করেছেন।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00