📘 ইসলামে গান ছবি ও প্রতিকৃতির বিধান > 📄 বিশ্ব পপ শিল্পীর ইসলামোত্তর উক্তিসমূহ

📄 বিশ্ব পপ শিল্পীর ইসলামোত্তর উক্তিসমূহ


আল-মদীনা পত্রিকা ৫ রমাযান ১৪০০ হিজরীতে বিশ্ব নাট্য শিল্পী ক্যাট স্টিফেঞ্জ সম্পর্কে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করে যিনি ইসলাম গ্রহণোত্তর নাম রাখেন। ১৮
উক্ত প্রতিবেদনে অনেক গুরুত্বপূর্ণ উক্তি ও শিক্ষণীয় উপদেশ রয়েছে আমি তার বিশেষ কয়েকটি দিক তুলে ধরছি :
১. ইসলাম গ্রহণোত্তর আমার গান (সঙ্গীত) পরিহার দেখে পশ্চিমা দেশগুলো অবাক হয়ে যায় এবং আমার পরিবর্তন সম্পর্কে তারা প্রশ্ন করতে থাকে? কিন্তু প্রচার মাধ্যমগুলো সম্পূর্ণরূপে চুপ হয়ে যায় এবং আমাকে একেবারে ভুলে যাওয়ার ভান করে।
পূর্বের ন্যায় আমার পিছনে আর ছোটাছুটি করল না কারণ পাশ্চাত্যের প্রচার যন্ত্র হচ্ছে ইয়াহূদ, আর তারাই সব চাবিকাঠির মালিক।
২. আমার ইসলাম গ্রহণের পিছনে যে কারণটি ছিল তা হচ্ছে মাসজিদুল আকুসায় আমার এক ভাইয়ের সাথে সাক্ষাৎ এবং তার পক্ষ থেকে আমাকে 'আরবী ও ইংরেজী দু' কপি কুরআন উপহার দেয়া। উপহারের পিছনে অবশ্য কারণ এ ছিল যে, সে আমার আসমানী ধর্ম সম্পর্কে জানার কৌতুহল কতটুকু তা জানত।
আমি একাকী কুরআন পড়তে থাকি এবং তার পূর্ণ অধ্যয়ন শেষ করি। অতঃপর রসূল (ﷺ)-এর জীবনী অধ্যয়ন করি এবং তাঁর ব্যক্তিত্বের দ্বারা দারুণভাবে প্রভাবিত হই এবং দেড় বছরকাল জ্ঞানগত অধ্যয়নের পর আমি ইসলামের মহানত্বে মুগ্ধ হই এবং এটিই যে, সত্য ধর্ম তা উপলব্ধি করি। আর আমি আল্লাহর প্রশংসা জ্ঞাপন করছি যে, কোন মুসলিমের সাথে সাক্ষাৎ ছাড়াই এবং তাদের অসংখ্য মতপার্থক্য সম্পর্কে অবগত না হয়েই আমি ইসলামে দীক্ষিত হয়েছি।
৩. আমি বায়তুল মাকুদিসে গিয়েছি তাতে মাসজিদুল আকুসার মুসলিমগণ আনন্দিত হয়েছেন কিন্তু আমি কেঁদেছি এবং তথায় সলাত আদায় করেছি। যেখানে কুদ্‌স হচ্ছে মুসলিম জাহানের কলিজা তাই এর ব্যধিগ্রস্ত হওয়ার অর্থ গোটা মুসলিম বিশ্বের ব্যধিগ্রস্ত হওয়া আর তার আরোগ্য লাভের অর্থ গোটা শরীরের আরোগ্য লাভ করা। তাই আমাদের কর্তব্য হচ্ছে ইসলামের নামে এ কলিজাকে স্বাধীন করা।
৪. ফিলিস্তীনী জনগণের ওপর ওয়াজিব হ'ল স্বীয় ইসলাম ও ধর্মকে আঁকড়ে ধরা এবং সলাত আদায়ে নিয়মিত যত্নবান হওয়া। আমি বিশ্বাস করি আল্লাহ অবশ্যই তাদেরকে বিজয় দিবেন।
৫. আমার ইসলামে দীক্ষিত হওয়ার পর তারা যখন বলল যে, ধুমপান হারাম তখন আমি এ থেকে বিরত হয়ে যাই এবং মদপান ও মহিলাদের সংশ্রব পরিহার করি ও গান পরিত্যাগ করি।
৬. একজন পর্দানশীন মহিলাকে স্ত্রী হিসেবে বেছে নিয়েছি কারণ নারীর সৌন্দর্য বড় কথা নয় বরং ইসলাম ও ঈমানই হচ্ছে প্রকৃত মর্যাদা।
৭. আমি বর্তমানে 'আরবী ভাষা শিখছি যেন কুরআন পড়তে ও তার ভাষাগত এবং অর্থগত স্বাদ অনুভব করতে পারি। আমি ইসলামের দা'ওয়াতী কাজে স্বীয় প্রসিদ্ধিকে ব্যবহার করে ইসলামের সুমহান আদর্শ সম্পর্কে কিছু বই লিখব।
৮. আমি বিশ্বাস করি যে, ঠিক সময়ে সলাত আদায় করা হচ্ছে দু' সাক্ষ্যবাণী (ঈমান) এরপর ইসলামের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ স্তম্ভ। এর ওপর সময়মতো যত্নবান থাকা হচ্ছে ব্যক্তির ও তার ইসলামের জন্য দুর্গ। আমি প্রত্যেক সলাতের পরে অস্বাভাবিক প্রশান্তি ও স্বস্তি বোধ করি।
৯. (লেখক বলেন) আমি শুনেছি যে, (ইউসুফ ইসলাম) ইংল্যান্ডে বাস করেন এবং তিনি ইসলামী দা'ওয়াতে ব্যস্ত থাকেন, তাঁর একটি বিশেষ মাসজিদ রয়েছে, মুসলিমগণ তাঁর পাশে ভিড় জমান এবং তাঁকে সহযোগিতা দান করেন। তিনি ইসলাম পালনে এবং তাকে ভালবাসায় (অনেক) মুসলিমকে ছাড়িয়ে গেছেন। আমি আল্লাহর কাছে তার জন্য তাওফীকু ও দৃঢ়তার দু'আ করছি।
আল্লাহ তার মধ্যে ও তার মতো আরো যে সব মুসলিমরা কাজ করে যাচ্ছেন তাদের প্রত্যেকের মধ্যে বারকাত দান করুন।

টিকাঃ
১৭. সুনান আবু দাউদ হাঃ ৪৬০৭; শায়খ নাসিরুদ্দীন আলবানী হাদীসটি সহীহ বলে মন্তব্য করেছেন।
১৮. ইউসুফ ইসলাম।

📘 ইসলামে গান ছবি ও প্রতিকৃতির বিধান > 📄 ইসলামে ছবি ও প্রতিকৃতির বিধান

📄 ইসলামে ছবি ও প্রতিকৃতির বিধান


ইসলাম প্রতিষ্ঠিত হয়েছে সকল মানুষকে এককভাবে আল্লাহর 'ইবাদাতের দিকে আহ্বান জানানোর জন্য ও আল্লাহ ব্যতীত যত ওয়ালী ও সৎ ব্যক্তির উপাসনা করা হয় যা মূর্তি দেবতা ও ছবির আকার ধারণ করেছে তা পরিত্যাগের উদ্দেশে।
এ আহ্বান বহু পুরাতন। এর দ্বারা মানবজাতির পথপ্রদর্শনের উদ্দেশে যখন থেকে রসূলদের আগমন শুরু হয় তখন থেকে চলে আসছে।
আল্লাহ তা'আলা বলেন :
وَ لَقَدْ بَعَثْنَا فِي كُلِّ أُمَّةٍ رَّسُوْلًا أَنِ اعْبُدُوا اللَّهَ وَ اجْتَنِبُوا الطَّاغُوتَ
“অবশ্যই আমি প্রত্যেক জাতির নিকট রসূল প্রেরণ করেছি (এ বাণী দিয়ে) যে তোমরা প্রত্যেকে আল্লাহর 'ইবাদাত কর এবং আল্লাহ বিরোধী ত্বগুত থেকে বেঁচে থাক।”১৯
ত্বগুত বলা হয় প্রত্যেক ঐ বস্তুকে যাকে তার সন্তুষ্টি সাপেক্ষে আল্লাহ ব্যতীত উপাসনা করা হয়।
উপরোক্ত প্রতিকৃতির কথা নূহ (আঃ)-এর মধ্যে উল্লেখিত হয়েছে। এগুলো সৎ লোকদের প্রতিকৃতি হওয়ার ওপর সর্বাপেক্ষা বড় দলীল হচ্ছে ইবনু 'আব্বাস (রাঃ) কর্তৃক বর্ণিত হাদীস যা ইমাম বুখারী (রহঃ) বর্ণনা করেছেন এ আয়াতের শানে-নুযূলে।
وَقَالُوا لَا تَذَرُنَّ الهَتَكُمْ وَلَا تَذَرُنَّ وَدًّا وَلَا سُوَاعًا ۚ وَلَا يَغُونَ وَيَعُوقَ وَنَسْرًانَ وَقَدْ أَضَلُّوا كَثِيرًا
“তারা বলল, তোমরা তোমাদের উপাস্যগুলোকে পরিত্যাগ করো না এবং আরো পরিত্যাগ করো না অদ্দ, সুও'আ, ইয়াগুস, ইয়াউকু ও নাসরকে, তারা তো বহু লোককে পথভ্রষ্ট করে ফেলেছে।”২০
ইবনু 'আব্বাস (রাঃ) বলেন: এসব হচ্ছে নূহ (আঃ)-এর গোত্রের সৎ ব্যক্তিদের নাম। তারা যখন মারা যায় তখন শাইত্বন তাদের গোত্রের লোকজনকে এ বলে প্ররোচনা দিল যে, এদের নামে নামকরণ করে তাদের বসার স্থানগুলোতে প্রতিকৃতি প্রতিষ্ঠা কর, ফলে তারা তাই করল। তবে তখন পর্যন্ত তাদের দাসত্ব করা হয়নি।
পরবর্তীতে যখন এ প্রজন্ম মারা গেল এবং প্রতিকৃতিগুলোর আসল পরিচয় অজ্ঞাত হয়ে গেল তখনই তাদের দাসত্ব করা শুরু হয়ে যায়। এ ঘটনা একথারই সাক্ষ্য বহন করে যে, গাইরুল্লাহর দাসত্বের কারণ হচ্ছে নেতৃস্থানীয় ব্যক্তিদের আকৃতিতে যে সব প্রতিকৃতি ছিল ওগুলোই। অনেকেরই ধারণা রয়েছে যে, বর্তমানে যেহেতু ছবি ও প্রতিকৃতির পূজা হচ্ছে না সেহেতু এসব প্রতিকৃতি বিশেষতঃ ছবি এখন হালাল। এ বক্তব্য বিভিন্ন দিক থেকে প্রত্যাখ্যাত :
১. ছবি ও প্রতিকৃতির দাসত্ব আজও চলছে, ঈসা (আঃ) ও তাঁর মাতা মারইয়াম (আঃ)-এর ছবি আজও আল্লাহর পরিবর্তে পূজিত হয় গীর্জাগুলোতে। এমনকি তারা ক্রুশের উদ্দেশেও রুকূ' দিয়ে থাকে। তাছাড়া ঈসা (আঃ) ও মারইয়াম (আঃ)-এর শিল্পায়িত ফলক রয়েছে যা সর্বোচ্চ মূল্যে বিক্রি হয় ও ঘরে ঝুলিয়ে রাখা হয় তার দাসত্ব ও ভক্তি জানানোর উদ্দেশে।
২. বস্তুবাদীতায় উন্নত ও আধ্যাত্মিকতায় পিছিয়ে থাকা দেশগুলোতে নেতাদের প্রতিকৃতিগুলোর পার্শ্ব দিয়ে অতিক্রমকালে তাদের উদ্দেশে মস্তক উন্মোচন করা হয় এবং পিঠ ঝুকানো হয় যেমন আমেরিকায় জর্জ ওয়াশিংটন এর প্রতিকৃতি, ফ্রান্সে নাবিলিয়ান এর প্রতিকৃতি ও রাশিয়ায় লেনিন এবং স্টেলিন এর প্রতিকৃতি। এছাড়াও আরো যতসব প্রতিকৃতি রাস্তা-ঘাটে নির্মিত হয়েছে ইত্যাদি যেগুলোর নিকট দিয়ে অতিক্রমকারীরা তাদের উদ্দেশে রুকু' দিয়ে যায়। এ প্রতিকৃতি নির্মাণের মনোভাব কিছু কিছু 'আরব বিশ্বেও ছড়িয়ে পড়েছে এবং তারা কাফিরদের অন্ধ অনুসরণ করে নিজেদের রাস্তা-ঘাটে প্রতিকৃতি নির্মাণ করে ফেলেছে। এমনি করে বিভিন্ন 'আরব ও ইসলামী রাষ্ট্রে প্রতিকৃতি নির্মাণ চলছে। অথচ কর্তব্য ছিল এসব সম্পদ মাসজিদ, মাদ্রাসা, হাসপাতালে এবং কল্যাণমূলক সংস্থাসমূহে ব্যয় করা। তবেই তো তার যথেষ্ট উপকারিতা অর্জিত হ'ত আর তাদের নামে এসব প্রতিষ্ঠানের নামকরণ করাতে কোন দোষ নেই।
৩. এসব প্রতিকৃতির উদ্দেশে দূরভবিষ্যতে (হলেও) মস্তক ঝুকিয়ে সম্মান জানানো হবে এবং এগুলোর দাসত্ব করা হবে। যেমনটি হয়েছে ইউরোপ, তুর্কীস্তান ও অন্যান্য দেশে এবং এ বিষয়ে তাদের পূর্বসূরী হচ্ছে নূহ (আঃ)-এর জাতি, তারা স্বীয় নেতাদের প্রতিকৃতি স্থাপন করে অতঃপর তাদেরকে শ্রদ্ধা জানাতে থাকে ও তাদের দাসত্ব শুরু করে।
৪. নাবী (ﷺ) 'আলী বিন আবূ ত্বালিবকে বলেন :
لَا تَدَعَ تِمْثَالًا إِلَّا طَمَسْتَهُ وَلَا قَبْرًا مُشْرِفًا إِلَّا سَوَّيْتَهُ
অর্থ : কোন মূর্তি পেলেই তাকে নস্যাৎ করে দিবে আর উঁচু কবর দেখলেই তাকে সমতল করে ফেলবে। ২১
অপর বর্ণনায় রয়েছে :
وَلَا صُورَةً إِلَّا لَطَخْتُهَا
অর্থ : আর কোন ছবি পেলেই তাকে লেপন করে ফেলবে। ২২

টিকাঃ
১৯. ১৬নং সূরাহ্ আন্ নাহ্, ৩৬।
২০. ৭১নং সূরাহ্ নূহ, ২৩-২৪।
২১. সহীহ মুসলিম হাঃ একাঃ ২১৩৩-(৯৩/৯৬৯), ই.ফা. ২১১২, ই.সে. ২১১৫।
২২. মুসনাদ আহমাদ হাঃ ৬৫৭; শায়খ নাসিরুদ্দীন আলবানী হাদীসটি সহীহ বলে মন্তব্য করেছেন।

📘 ইসলামে গান ছবি ও প্রতিকৃতির বিধান > 📄 ছবি ও প্রতিকৃতির অপকারিতা

📄 ছবি ও প্রতিকৃতির অপকারিতা


ইসলাম কোন বস্তুকে কেবল এ কারণেই হারাম করেছে যে, এতে ধর্মীয় অথবা চারিত্রিক অথবা সম্পদগত ইত্যাদির যে কোন দিক থেকে ক্ষতি রয়েছে। আর প্রকৃত মুসলিম ব্যক্তি আল্লাহ ও রসূল (ﷺ)-এর আদেশকে কারণ ও হেতু না জেনেই মাথা পেতে মেনে নেয়।
ছবি ও প্রতিকৃতির বহু অপকারিতা রয়েছে তার বিশেষ দিকগুলো :
১. ধর্ম ও বিশ্বাসের ক্ষেত্রে: আমরা প্রত্যক্ষ করেছি যে, ছবি ও প্রতিকৃতিগুলো অনেক মানুষের 'আক্বীদাহ্ বিশ্বাস বিনষ্ট করেছে, খৃষ্টানরা ঈসা, মারইয়াম ও ক্রুসের দাসত্ব করছে, ইউরোপ ও রাশিয়ানরা স্বীয় নেতাদের প্রতিকৃতিকে পূজা করছে এবং এসবের উদ্দেশে শ্রদ্ধা জানিয়ে মাথা নত করছে। তাদের সাথে যোগ দিয়েছে কিছু মুসলিম ও 'আরব রাষ্ট্র এবং তারাও স্বীয় নেতাদের প্রতিকৃতি স্থাপন করেছে অতঃপর সূফীদের মধ্য হতে কিছু ত্বরীক্বতপন্থীরা সলাত আদায়কালে তাদের সম্মুখে স্বীয় পীর-মুরশিদদের ছবি রাখতে শুরু করে। তারা বলে, এ দিয়ে খুশু (একাগ্রতা) লাভ করা যায়।
তারা আল্লাহর যিক্র অবস্থায় আল্লাহর ধ্যান করা ও তিনি তাদেরকে দেখছেন বলে জ্ঞান করার পরিবর্তে স্বীয় পীরদের ধ্যান করে।
অথবা তাদের পীরদের সম্মানার্থে ও তাদের দ্বারা বারকাত অর্জনার্থে তাদের ছবিগুলো ঝুলিয়ে রাখে।
অন্য দিকে গায়ক ও নাট্য শিল্পীদের ভক্তরা তাদেরকে ভালবাসে ও তাদের ছবিগুলো সংগ্রহ করে ভক্তি ও ভালবাসা নিয়ে ঝুলিয়ে রাখে। এরই ফলশ্রুতিতে ১৯৬৭ সালের ইয়াহূদদের বিরুদ্ধে যুদ্ধের দিন এক 'আরবীয় ঘোষক সৈন্যদের সম্বোধন করে বলেছিল, ওহে সেনাদল! তোমরা সম্মুখপানে এগুতে থাক কেননা তোমাদের সাথে অমুক অমুক নাট্য শিল্পীরা রয়েছে এই বলে তাদের নামও উল্লেখ করে। অথচ উচিত ছিল এই কথা বলা যে, তোমরা সম্মুখপানে চল, আল্লাহ তাঁর সাহায্য সহায়তা ও সামর্থ নিয়ে তোমাদের সাথে আছেন।
যুদ্ধের পরিণতি ছিল পরাজয়। কেননা, আল্লাহ তা'আলা তাদের থেকে দায়িত্ব মুক্ত হয়ে গিয়েছিলেন। ফলে পুরুষ ও মহিলা কোন শিল্পীই তাদের উপকারে আসেনি বরং তারাই ছিল পরাজয়ের মূল কারণ।
আহা যদি 'আরবরা এ পরাজয় থেকে শিক্ষা গ্রহণ করত এবং আল্লাহর দিকে সাহায্যের উদ্দেশে প্রত্যাবর্তন করত।
২. যুবক ও যুবতীদের চরিত্র বিনষ্ট করার ক্ষেত্রে ছবি ও প্রতিকৃতির কুপ্রভাব সম্পর্কে যা ইচ্ছা বলতে পারেন। কারণ আপনি দেখতেই পাবেন রাস্তা-ঘাট ও ঘর-বাড়ীগুলো পুরুষ ও মহিলা শিল্পীদের ছবি দ্বারা ভরপুর হয়ে আছে। পর্দাহীন ও বস্ত্রহীন অবস্থায় তাদেরকে দেখে যুবকরা প্রেমে পড়ে যায়। ফলে প্রকাশ্য, অপ্রকাশ্য সব ধরনের পাপে তারা লিপ্ত হয়, তাদের চারিত্রিক অবক্ষয় ঘটে এবং স্বভাব বিনষ্ট হয়। এর পরে তাদের ধর্ম, অধিকৃত ভূখণ্ড, পবিত্রভূমি, সম্ভ্রম ও জিহাদ নিয়ে ভাবনা করার কোন অবকাশই থাকে না।
ছবির ব্যাপক প্রসার ঘটেছে বিশেষতঃ লোভনীয় মহিলাদের ছবিসমূহ এমনকি জুতার বাক্সেও শোভা পেতে দেখা যায়, আরো দেখা যায় ম্যাগাজিন, পত্রিকা ও বই-পুস্তক এবং টেলিভিশনে। বিশেষ করে যৌন ও পলিসি সংক্রান্ত ধারাবাহিক অনুষ্ঠানগুলোতে।

📘 ইসলামে গান ছবি ও প্রতিকৃতির বিধান > 📄 ছবি কি প্রতিকৃতির বিধান রাখে

📄 ছবি কি প্রতিকৃতির বিধান রাখে


এ বিষয়ে হারাম বলতে অনেকে শুধু জাহিলী যুগে প্রচলিত প্রতিকৃতিকেই বুঝে, তারা মনে করে যে, ছবি হারামের ভিতর গণ্য নয়; এটা উদ্ভট ধারণা, তারা যেন সে সব স্পষ্ট দলীলগুলোকেই পড়েইনি যেগুলো ছবিকে হারাম সাব্যস্ত করে। দলীলগুলো দেখুন :
১. 'আয়িশাহ্ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি এক খণ্ড কাপড় ক্রয় করেন যাতে ছবি ছিল। রসূল (ﷺ) যখন এটা দেখলেন তখন দরজার সামনে দাঁড়িয়ে গেলেন এবং প্রবেশ করলেন না। তিনি ('আয়িশাহ্) তাঁর চেহরায় অসন্তুষ্টির ছাপ লক্ষ্য করলেন এবং বললেন, হে আল্লাহর রসূল (ﷺ)! আমি আল্লাহ ও তাঁর রসূলের দিকে প্রত্যাবর্তন করছি আমি কি অপরাধ করেছি বলুন? রসূল (ﷺ) বললেন: এসব ছবিধারী লোকদেরকে ক্বিয়ামাতের দিন শাস্তি দেয়া হবে এবং তাদেরকে বলা হবে: তোমরা যা সৃষ্টি করেছ তাতে জীবন দাও। অতঃপর বললেন :
إِنَّ البَيْتَ الَّذِي فِيهِ الصُّوَرُ لَا تَدْخُلُهُ المَلَائِكَةُ
অর্থ : যে ঘরে ছবি রয়েছে তাতে ফিরিশতাগণ প্রবেশ করেন না। ২০
২. রসূল (ﷺ) আরো বলেন:
أَشَدُّ النَّاسِ عَذَابًا يَوْمَ القِيَامَةِ الَّذِينَ يُضَاهُونَ بِخَلْقِ اللَّهِ
অর্থ: ক্বিয়ামাত দিবসে সবচেয়ে কঠিন শাস্তি ভোগ করবে ঐসব লোকেরা যারা আল্লাহর সন্তুষ্টির সাথে সাদৃশ্য করে। ২৪
আর্ট ও ফটোগ্রাফাররা আল্লাহর সন্তুষ্টির সাথে সাদৃশ্য দানকারী।
أَنَّ النَّبِيَّ ﷺ لَمَّا رَأَى الصُّوَرَ فِي البَيْتِ لَمْ يَدْخُلْ حَتَّى أَمَرَ بِهَا. فَمُحِيَتْ
৩. নাবী (ﷺ) ঘরে ছবি দেখলে যতক্ষণ তা মিটানো হ'ত ততক্ষণ তাতে প্রবেশ করতেন না। ২৫
أَنَّ النَّبِيَّ ﷺ نَهَى عَنِ الصُّوَرِ فِي الْبَيْتِ وَنَهَى الرَّجُلَ أَنْ يَصْنَعَ ذَلِكَ
৪. নাবী (ﷺ) ঘরে ছবি রাখতে নিষেধ করেছেন এব কেউ ছবি উঠাক এটাও তিনি নিষেধ করেছেন। ২৬

টিকাঃ
*. সহীহুল বুখারী তাও, ২১০৫, আ.প্র. ১৯৬০, ই.ফা. ১৯৭৫।
২৪. সহীহুল বুখারী তাও. ৫৯৫৪, আ.প্র. ৫৫২২, ই.ফা. ৫৪১৭।
২৫. সহীহুল বুখারী তাও. ৩৩৫২, আ.প্র. ৩১০৪, ই.ফা. ৩১১২এ
২৬. মুসনাদ আহমাদ হাঃ ১৪৫৯৬। শায়খ নাসিরুদ্দীন আলবানী হাদীসটিকে সহীহ বলে মন্তব্য করেছেন।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00