📄 সুললিত কণ্ঠ মহিলাদেরকে ফিত্নায় ফেলে দেয়
বারা'আ বিন মালিক (রাঃ) সুললিত কণ্ঠের অধিকারী ছিলেন। তিনি ভ্রমণকালে মাঝে মধ্যে আল্লাহর রসূল (ﷺ)-কে গজল শুনাতেন। একবার গজল শুনানোর সময় মহিলাদের নিকটাবর্তী হয়ে গেলেন, তখন রসূল (ﷺ) তাকে বললেন:
إِيَّاكَ وَالْقَوَارِيرَ
কাঁচ থেকে সাবধান হও!" বর্ণনাকারী বলেন: একথা শুনে তিনি থেমে গেলেন।
হাকিম (রহঃ) বলেন: রসূল (ﷺ) মহিলারা তার কণ্ঠ শ্রবণ করুক এটা অপছন্দ করলেন (কাঁচ বলতে মহিলাকে বুঝানো হয়েছে)।
যখন রসূল (ﷺ) সুললিত কণ্ঠে উৎসাহ ব্যঞ্জক গান শ্রবণে মহিলাদের ফিত্নায় পড়ার আশঙ্কা করলেন তবে যদি আজকের যুগে যে সব পাপীষ্ঠ হীন চরিত্রের অধিকারী বা তাদের ন্যায় আরো যারা বেহায়াপনা ও মাতলামীর বিষয়ে পারদর্শী শিল্পী রয়েছে তাদের এমন সব গান যেগুলোতে রয়েছে গাল, শরীরের গঠন, উঁচু-নীচু ইত্যাদির বর্ণনা যা আসক্তি ও প্রবৃত্তিকে জাগিয়ে তুলে পীড়িত আত্মাকে আকাঙ্ক্ষিত বিষয় আবেদনের জন্য বিরক্ত করে ও লজ্জার আবরণকে খুলে ফেলে এসব শুনলে রসূল কি বলতেন?
আর বিশেষতঃ যখন এসব গানের সাথে বাদ্যযন্ত্রের সংমিশ্রণ ঘটবে যা বিবেককে ভ্রষ্ট করে এবং এর শ্রবণকারীর অন্তরে মদের ন্যায় কাজ করে .....?
টিকাঃ
"শু'আবুল ঈমান হাঃ ৪৭৬২।
* সহীহ, হাকিম বর্ণনা করেন ও যাহাবী সমর্থন দেন।
📄 শিস ও তালি বাজানো থেকে বিরত থাকুন
আল্লাহ তা'আলা বলেন :
وَ مَا كَانَ صَلَاتُهُمْ عِنْدَ الْبَيْتِ إِلَّا مُكَاءً وَتَصْدِيَةً
“কা'বা ঘরে তাদের সলাত বলতে কেবল শিস দেয়া আর তালি বাজানোই ছিল।”৭
তাই শিস ও তালি বাজানো থেকে বিরত থাকুন। কেননা এতে মহিলা, পাপীষ্ঠ ও মুশরিকদের সাথে সামঞ্জস্য রয়েছে। যখন কোন বিষয় ভাল লাগবে তখন বলবে :
مَا شَاءَ الله
অর্থ : আল্লাহর যা ইচ্ছা। অথবা
سُبْحَانَ الله
অর্থ : আল্লাহ পবিত্র।
টিকাঃ
৭. ৮নং সূরাহ্ আল আনফাল, ৩৫।
📄 গান (সঙ্গীত) মুনাফিক্বীর জন্ম দেয়
১. ইবনু মাস'উদ (রাঃ) বলেন: গান অন্তরে কপটতার জন্ম দেয়। যেমন: পানি জন্ম দেয় শাক-সবজির। পক্ষান্তরে যিক্র অন্তরে ঈমানের ফলন ঘটায়। যেমন: পানি শস্যফলের জন্ম দেয়।
২. ইমাম ইবনুল কাইয়্যিম (রহঃ) বলেন: যে ব্যক্তিই গানে অভ্যস্ত হয় অজ্ঞাতসারে তার অন্তর কপটাতাগ্রস্ত হয়ে যায়।
"বস্তুতঃ যদি সে কপটতার স্বরূপ জানত তবে স্বীয় অন্তরে তা দেখতে পেত। কেননা যে অন্তরেই গান ও কুরআনের ভালবাসা (আকর্ষণ) একত্রিত হয় সেখান থেকেই একটার ভালবাসা অপরটাকে তাড়িয়ে দেয়। আমরা সঙ্গীত শিল্পী ও শ্রোতাদেরকে প্রত্যক্ষ করেছি- কুরআন তাদের কাছে বোঝাতুল্য, তারা এ থেকে দূরে থাকে, কুরআন পাঠকের কাছ থেকে তারা মোটেও উপকৃত হয় না, এর দ্বারা তাদের অন্তরও নড়ে না।
কিন্তু যখনই গান উপস্থিত হয় তখনই তাদের স্বর কোমল হয়ে যায়, ভাবে ডুবে যায় এবং এর উপর রাত্রি জাগরণ ও তাদের কাছে আনন্দদায়ক মনে হয়। এজন্য তাদেরকে দেখতে পাবেন তারা কুরআন শ্রবণের ওপর গানকে (সঙ্গীতকে) প্রাধান্য দেয়। আর গান-বাজনায় নিমজ্জিত ব্যক্তিকে সলাতের ক্ষেত্রে, বিশেষতঃ মাসজিদে জামা'আত সহকারে সলাত আদায়ের ক্ষেত্রে সর্বাপেক্ষা অলস পাওয়া যায়।
৩. ইবনু আক্বীল যিনি হাম্বলী মাযহাবের মহা পণ্ডিতদের একজন তিনি বলেন : গায়িকা যদি পর-নারী হয় (যাকে বিবাহ করা বৈধ) তবে তার গান শ্রবণ করা হাম্বলীদের ঐক্যমতে হারাম।
৪. ইবনু হাযম (রহঃ) বলেছেন: পর-নারীর স্বর দ্বারা আত্মতৃপ্তি অনুভব করা হারাম।
📄 গানের (সঙ্গীতের) প্রতিকার
১. এর শ্রবণ থেকে দূরে থাকা, চাই তা রেডিও, টেলিভিশন ইত্যাদির যে কোনটা থেকেই হোক না কেন, বিশেষতঃ যেসব গানে বেহায়াপনা ও বাদ্যযন্ত্রের সংমিশ্রণ রয়েছে।
২. গান বাদ্যের সর্বাপেক্ষা বড় প্রতিষেধক হচ্ছে আল্লাহর স্মরণ ও কুরআন তিলাওয়াত; বিশেষতঃ সূরাহ্ আল বাক্বারাহ্ তিলাওয়াত করা।
নাবী (ﷺ) বলেন:
إِنَّ الشَّيْطَانَ يَنْفِرُ مِنَ الْبَيْتِ الَّذِي تُقْرَأُ فِيهِ سُورَةُ الْبَقَرَةِ
অর্থ : শাইত্বন অবশ্যই ঐ ঘর থেকে বেরিয়ে যায় যে ঘরে সূরাহ্ আল বাক্বারাহ্ তিলাওয়াত করা হয়।
আল্লাহ তা'আলা বলেন :
يَأَيُّهَا النَّاسُ قَدْ جَاءَتْكُمْ مَّوْعِظَةٌ مِّنْ رَّبِّكُمْ وَ شِفَاءٌ لِمَا فِي الصُّدُورِ وَهُدًى وَرَحْمَةٌ لِلْمُؤْمِنِينَ﴾
“হে মানবজাতি তোমাদের কাছে স্বীয় প্রতিপালকের পক্ষ থেকে উপদেশ এসেছে এবং আরো এসেছে অন্তরের নিরাময়, যা মু'মিন সম্প্রদায়ের জন্য হিদায়াত ও রাহমাত।”৯
৩. নাবী (ﷺ)-এর জীবন চরিত ও সহাবাদের ইতিহাস পড়াশুনা করা।
টিকাঃ
* সহীহ মুসলিম হাঃ একাঃ ১৭০৯-(২১২/৭৮০), ই.ফা. ১৬৯৪, ই.সে. ১৭০১।
৯. ১০নং সূরাহ্ ইউনুস, ৫৭।