📘 ইসলামে গান ছবি ও প্রতিকৃতির বিধান > 📄 বাজনা ও গানের (সঙ্গীতের) অপকারিতা

📄 বাজনা ও গানের (সঙ্গীতের) অপকারিতা


ইসলাম কোন জিনিসকে হারাম করলে কেবল এজন্যই হারাম করেছে যে, তাতে অনিষ্ট রয়েছে, আর গানে (সঙ্গীতে) ও বাজনায় রয়েছে প্রচুর অনিষ্ট। শাইখুল ইসলাম ইমাম ইবনু তাইমিয়্যাহ (রহঃ) তা উল্লেখ করেছেন। যেমন:
১. বাদ্যযন্ত্র : এ হচ্ছে আত্মার মাদক। মদের গ্লাস অপেক্ষা বেশী ক্রিয়াশীল। তাই যখন লোকেরা সুরের দ্বারা মাদকাসক্ত হয়ে পড়ে তখনই তাদের মাঝে শির্ক ঢুকে পড়ে এবং তারা ঘৃণ্য ও অত্যাচারের কাজের প্রতি ঝুকে যায় তথা শির্ক করে, মহান আল্লাহ কর্তৃক হারামকৃত লোকদের হত্যা করে ও ব্যভিচার করে। এ ত্রিবিধ অভ্যাসটি বাদ্যযন্ত্রের (শিস ও তালি) শ্রবণকারীদের মধ্যে অধিক পরিমাণে বিদ্যমান।
২. শির্ক : তারা তাদের অধিনায়ক (কণ্ঠশিল্পী)'কে আল্লাহকে ভালবাসার মতই ভালবাসে এবং তার ভালবাসার ওপর ব্যথা অনুভব করে।
৩. ঘৃণ্যকাজ : গান (সঙ্গীত) হচ্ছে ব্যভিচারের মন্ত্র (পথ) এটি হচ্ছে ঘৃণ্যকাজে লিপ্ত হওয়ার প্রধান উপায়গুলোর একটি। শিশু ও রমণীরা পূত চরিত্র ও পাপমুক্ত থাকে। যখন গান শুনা শুরু করে, তখন তার প্রাণ সঞ্চালিত হয় এবং তার পক্ষে মদপানকারীর ন্যায় বা তার চেয়েও বেশী পরিমাণে পাপকার্য সহজ হয়ে উঠে।
৪. হত্যা : গান শ্রবণাবস্থায় একে অপরকে হত্যা করার ভুরিভুরি ঘটনা রয়েছে। তারা বলে থাকে: এ ওকে তার স্বীয় অবস্থায় হত্যা করেছে। এটা তাদের কাছে শক্তির পরিচায়ক। বস্তুতঃ তাদের সাথে শাইতুন উপস্থিত থাকে এবং যার শাইত্বন বেশী শক্তিশালী সে অপরকে হত্যা করে।
৫. বাজনা গান যদি অন্তরে কোন উপকারিতা বা সার্থকতা করে থাকে তবে সেই সাথে সে যে ভ্রষ্টতা ও অপকারিতা বয়ে নিয়ে আসে তা আরো ভয়াবহ। সে আত্মার জন্য ঠিক তদ্রূপ যেমন শরীরের জন্য মদ। তাই তার শ্রবণ ও চর্চাকারীর মধ্যে মদ অপেক্ষা বেশী নেশার সৃষ্টি করে। ফলে তারা মদ পানকারীর ন্যায় বরং তার চেয়েও বেশী স্বাদ অনুভব করে।
৬. শাইতুন তাদের সাথে মিশে যায় এবং তাদেরকে সহ অগ্নিতে প্রবেশ করে ও তাদের কেউ কেউ অগ্নিদগ্ধ লোহা নিয়ে স্বীয় শরীর (বা জিহ্বায়) রেখে দেয়, এ ধরনের আরো অনেক কাজ তারা করে থাকে যার একটিও সলাত ও কুরআন তিলাওয়াতের সময় ঘটে না। কারণ, এসব হচ্ছে শারী'আত ও ঈমানভিত্তিক মুহাম্মাদী 'ইবাদাত যা শাইতুনদেরকে তাড়িয়ে দেয়। পক্ষান্তরে ঐসব হচ্ছে বিদ'আত, শির্ক তথা শাইতুনী দর্শনভিত্তিক 'ইবাদাত যা শাইত্বনদের আমদানী করে।

📘 ইসলামে গান ছবি ও প্রতিকৃতির বিধান > 📄 বর্তমান যুগের গান

📄 বর্তমান যুগের গান


বর্তমান যুগের বেশীর গান চাই বিবাহ উপলক্ষে হোক আর সভা মঞ্চে হোক কিংবা রেডিওতে হোক তা ভালবাসা, যৌনাবেগ, চুম্বন, সাক্ষাৎ, গাল ও শারীরিক বর্ণনা ও অন্যান্য যৌন বিষয় সম্বলিত যা যুবকদের কামাবেগ জাগিয়ে তুলে এবং তাদেরকে ঘৃণ্য ও ব্যভিচারের প্রতি মাতিয়ে তুলে ও চরিত্র বিধ্বংস করে।
পুরুষ ও মহিলা কণ্ঠ শিল্পীদের গান ও বাদ্য চালনার সমন্বয়ে ও নাট্য শিল্পের নামে তারা জাতির সম্পদ চুরি করে, এসব সম্পদ নিয়ে ইউরোপ দেশে গিয়ে গাড়ি-বাড়ি ক্রয় করে। তারা স্বীয় কোমল কণ্ঠের গান ও যৌন বিষয়ক চলচ্চিত্র দ্বারা জাতির চরিত্রকে নষ্ট করছে। অনেক যুবক তাদের ফাঁদে পড়েছে এবং আল্লাহকে বাদ দিয়ে তাদেরকে ভাল বেসেছে। এমনকি ইয়াহুদীদের সাথে ১৯৬৭ সালের যুদ্ধে ঘোষক সৈন্যদের উদ্দেশে বলছিল : তোমরা সম্মুখ পানে এগিয়ে চলো তোমাদের সাথে অমুক অমুক কণ্ঠশিল্পী (পুরুষ ও মহিলা) রয়েছে। ফলে তারা পাপীষ্ঠ ইয়াহুদীদের সামনে ঘৃণ্যভাবে পরাজয় বরণ করে। অথচ উচিত ছিল একথা বলা যে, তোমরা অগ্রসর হও, আল্লাহ তাঁর সাহায্য নিয়ে তোমাদের সাথে আছেন।
এক কণ্ঠশিল্পী ১৯৬৭ সালে ইয়াহূদীদের সাথে সংঘটিত যুদ্ধের পূর্বে ঘোষণা করে ..... যদি আমরা বিজয়ী হই তবে আমার কায়রোতে অনুষ্ঠিতব্য মাসিক সভা এবার তেলআবিবে অনুষ্ঠিত হবে। পক্ষান্তরে ইয়াহূদীরা যুদ্ধ শেষে বিজয় লাভের উপর “মাবকা” দেয়ালের কাছে দাঁড়িয়ে আল্লাহর শুকরিয়া জ্ঞাপন করে। এমনকি ধর্মীয় গানগুলোও নিদোষ নয়। এই যে শুনুন কি বলছে :
كل نبي عند رتبته و يا محمد هذا العرش فاستلم
অর্থ: প্রত্যেক নাবী স্বীয় স্তরে অবস্থান করবে আর তোমার জন্যে হে মুহাম্মাদ এই 'আর্শ তুমি তা গ্রহণ কর।
এই শেষ কথাটি আল্লাহ ও তাঁর রসূলের ওপর মিথ্যারোপ করা হয়েছে যা বাস্তবের বিপরীত।

📘 ইসলামে গান ছবি ও প্রতিকৃতির বিধান > 📄 সুললিত কণ্ঠ মহিলাদেরকে ফিত্নায় ফেলে দেয়

📄 সুললিত কণ্ঠ মহিলাদেরকে ফিত্নায় ফেলে দেয়


বারা'আ বিন মালিক (রাঃ) সুললিত কণ্ঠের অধিকারী ছিলেন। তিনি ভ্রমণকালে মাঝে মধ্যে আল্লাহর রসূল (ﷺ)-কে গজল শুনাতেন। একবার গজল শুনানোর সময় মহিলাদের নিকটাবর্তী হয়ে গেলেন, তখন রসূল (ﷺ) তাকে বললেন:
إِيَّاكَ وَالْقَوَارِيرَ
কাঁচ থেকে সাবধান হও!" বর্ণনাকারী বলেন: একথা শুনে তিনি থেমে গেলেন।
হাকিম (রহঃ) বলেন: রসূল (ﷺ) মহিলারা তার কণ্ঠ শ্রবণ করুক এটা অপছন্দ করলেন (কাঁচ বলতে মহিলাকে বুঝানো হয়েছে)।
যখন রসূল (ﷺ) সুললিত কণ্ঠে উৎসাহ ব্যঞ্জক গান শ্রবণে মহিলাদের ফিত্নায় পড়ার আশঙ্কা করলেন তবে যদি আজকের যুগে যে সব পাপীষ্ঠ হীন চরিত্রের অধিকারী বা তাদের ন্যায় আরো যারা বেহায়াপনা ও মাতলামীর বিষয়ে পারদর্শী শিল্পী রয়েছে তাদের এমন সব গান যেগুলোতে রয়েছে গাল, শরীরের গঠন, উঁচু-নীচু ইত্যাদির বর্ণনা যা আসক্তি ও প্রবৃত্তিকে জাগিয়ে তুলে পীড়িত আত্মাকে আকাঙ্ক্ষিত বিষয় আবেদনের জন্য বিরক্ত করে ও লজ্জার আবরণকে খুলে ফেলে এসব শুনলে রসূল কি বলতেন?
আর বিশেষতঃ যখন এসব গানের সাথে বাদ্যযন্ত্রের সংমিশ্রণ ঘটবে যা বিবেককে ভ্রষ্ট করে এবং এর শ্রবণকারীর অন্তরে মদের ন্যায় কাজ করে .....?

টিকাঃ
"শু'আবুল ঈমান হাঃ ৪৭৬২।
* সহীহ, হাকিম বর্ণনা করেন ও যাহাবী সমর্থন দেন।

📘 ইসলামে গান ছবি ও প্রতিকৃতির বিধান > 📄 শিস ও তালি বাজানো থেকে বিরত থাকুন

📄 শিস ও তালি বাজানো থেকে বিরত থাকুন


আল্লাহ তা'আলা বলেন :
وَ مَا كَانَ صَلَاتُهُمْ عِنْدَ الْبَيْتِ إِلَّا مُكَاءً وَتَصْدِيَةً
“কা'বা ঘরে তাদের সলাত বলতে কেবল শিস দেয়া আর তালি বাজানোই ছিল।”৭
তাই শিস ও তালি বাজানো থেকে বিরত থাকুন। কেননা এতে মহিলা, পাপীষ্ঠ ও মুশরিকদের সাথে সামঞ্জস্য রয়েছে। যখন কোন বিষয় ভাল লাগবে তখন বলবে :
مَا شَاءَ الله
অর্থ : আল্লাহর যা ইচ্ছা। অথবা
سُبْحَانَ الله
অর্থ : আল্লাহ পবিত্র।

টিকাঃ
৭. ৮নং সূরাহ্ আল আনফাল, ৩৫।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00