📄 বিদ‘আত এর বিধান
দ্বীনের মধ্যে নব্যসৃষ্ট প্রতিটি বস্তুই বিদ‘আহ, আর প্রতিটি বিদ‘আহ পথভ্রষ্টতা হারাম এবং বিবর্জিত, আর প্রতিটি পথভ্রষ্টতাই জাহান্নামের আগুনে প্রবেশ করবে। বিদ‘আহ এর নিষিদ্ধতা বিদ‘আহ এর স্তরভেদে বিভিন্ন রকম হতে পারে। এমনও বিদ‘আহ আছে যা, স্পষ্ট কুফর। যেমন, কবরের চতুর্দিকে ত্বাওয়াফ করা, তাদের কাছে প্রার্থনা করা, তাদের নিকট ফরিয়াদ করা এবং তাদের জন্য জবেহকৃত পশু ও মান্নতের জন্য ধার্য কৃত সম্পদ তাদের নিকট পেশ করা।
আবার কিছু বিদ‘আহ এমনও আছে, যেগুলো শিরকের মাধ্যমরূপে কাজ করে। যেমন, কবরের উপরের সংযুক্ত স্থানটি পাকা করা, সেখানে ছলাত আদায় করা এবং সেখানে বসে সংশ্লিষ্ট কবরবাসীদের ওয়াসীলা দিয়ে আল্লাহকে ডাকা। আবার কিছু বিদ‘আহ এমনও আছে, যেগুলো আক্বীদাগত বিশ্বাসে অন্যায় ও অনাচারের জন্ম দেয়। যেমন, শর‘য়ী দলীল-প্রমাণের সঙ্গে সাংঘর্ষিক বিদ‘আহসমূহ। আবার কিছু বিদ‘আহ এমনও আছে, যেগুলো সাধারণ অপরাধের ন্যায়। যেমন, চির কুমার হয়ে থাকা, সূর্যের আলোতে দাঁড়িয়ে দ্বীয়াম পালন করা এবং সঙ্গমের চাহিদা নষ্ট করে ফেলার উদ্দ্যেশ্যে যৌনাঙ্গ কর্তন করা।
আলেমগণের উপর ওয়াজিব হল- স্পষ্টরূপে সুন্নাহ এর বর্ণনা দেয়া, যাতে বিদ‘আহ দূরীভূত হয় এবং বিদ‘আহ ও বিদ‘আহ এর সাথে সংযুক্ত ব্যক্তিদের থেকে মানুষকে সাবধান করা; যাতে করে মানুষ তাদের দ্বারা ধোকায় পতিত না হয়।
আর মুসলিম রাষ্ট্রনায়কদের উপর ওয়াজিব হল- বিদ‘আহকে বাধা দেয়া, এর সাথে সংযুক্ত ব্যক্তিদের হস্ত বেধে রাখা এবং তাদেরকে অনিষ্ট সাধন করা থেকে বিরত রাখা; যাতে করে তারা দীনের মধ্যে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির সুযোগ না পায় এবং সুন্নাহ-এর বিনাশ করতে না পারে।
(১) আল্লাহ তা'আলা বলেন,
وَمَنْ يُشَاقِقِ الرَّسُولَ مِنْ بَعْدِ مَا تَبَيَّنَ لَهُ الْهُدَى وَيَتَّبِعْ غَيْرَ سَبِيلِ الْمُؤْمِنِينَ نُوَلِّهِ مَا تَوَلَّى وَنُصْلِهِ جَهَنَّمَ وَسَاءَتْ مَصِيرًا (١١٥)} [النساء : ١١٥].
"যে কেউ রসূলের বিরুদ্ধাচরণ করে, তার কাছে সরল পথ প্রকাশিত হওয়ার পর এবং সব মুসলমানের অনুসৃত পথের বিরুদ্ধে চলে, আমি তাকে ঐ দিকেই ফেরাব যে দিক সে অবলম্বন করেছে এবং তাকে জাহান্নামে নিক্ষেপ করব। আর তা নিকৃষ্টতর গন্তব্যস্থান।” [আন নিসা: আয়াত নং ১১৫]
(২) আল্লাহ তা'আলা বলেন,
{فَإِنْ لَمْ يَسْتَجِيبُوا لَكَ فَاعْلَمْ أَنَّمَا يَتَّبِعُونَ أَهْوَاءَهُمْ وَمَنْ أَضَلُّ مِمَّنِ اتَّبَعَ هَوَاهُ بِغَيْرِ هُدًى مِنَ اللَّهِ إِنَّ اللَّهَ لَا يَهْدِي الْقَوْمَ الظَّالِمِينَ (٥٠)} [القصص : ٥٠] .
"অতঃপর তারা যদি আপনার কথায় সাড়া না দেয়, তবে জানবেন, তারা শুধু নিজের প্রবৃত্তির অনুসরণ করে। আল্লাহর হেদায়েতের পরিবর্তে যে ব্যক্তি নিজ প্রবৃত্তির অনুসরণ করে, তার চাইতে অধিক পথভ্রষ্ট আর কে? নিশ্চয় আল্লাহ জালেম সম্প্রদায়কে পথ দেখান না।” [আল কাসাস: আয়াত নং ৫০]
(৩) আয়েশা () থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন,
«مَنْ أَحْدَثَ فِي أَمْرِنَا هَذَا مَا لَيْسَ فِيهِ فَهُوَ رَدُّ متفق عليه، أخرجه البخاري برقم (٢٦٩٧), ومسلم برقم (۱۷۱۸).
"আমাদের দীনের অংশ নয় এমন কোনো বিষয় যে আমাদের এই দীনের মধ্যে নতুনভাবে অন্তর্ভুক্ত করল, তার উক্ত কমটি সম্পূর্ণরূপে পরিত্যক্ত।” (মুত্তাফাকুন আলাইহি) ছুহীহ বুখারী, ২৬৯৭ ছুহীহ মুসলিম, ১৭১৮।