📄 বিদ‘আতের ভয়াবহতা
বিদ'আহ হল দীন পরিপূর্ণ হওয়ার পরেও তাতে কোনো বিধান বৃদ্ধি করা। আর বিদ'আহ এর প্রকৃতি হল- অবাধে বিস্তার লাভ করা, অত্যাধিক পরিমাণে ছড়িয়ে যাওয়া ও ব্যাপকহারে প্রসারিত হওয়া। ব্যক্তি থেকে ব্যক্তিতে, দল হতে দলে এবং শহর থেকে শহরে সংক্রমণের গতিতে ও অন্ধানুগত্যের ভিত্তিতে ছড়িয়ে পড়ে। আর এটাকে প্রতিষ্ঠিত করার জন্য সর্বাধিক প্রচার-প্রসার ও শক্তি প্রয়োগ করে থাকেন নিকৃষ্ট আলেমগণ, যারা স্বল্প বিবেকের, অসম্পূর্ণ বিবেচনা শক্তি, অন্তঃসারশূন্য জ্ঞান ও অসারতাপূর্ণ সাধুতার আশ্রয় নিয়ে সাধারণ জনতাকে ধোঁকার জালে জড়িয়ে রেখেছেন। তারা তাদের কর্মকাণ্ডের অনুসরণ করে যদিও তা অলীক ও প্রত্যাখ্যানযোগ্য হয়। আর এমন আলেমদের বিরতিহীন বিদ'আতে লিপ্ত হওয়ার পরিণতিতে সংশ্লিষ্ট বিদ'আহ এর শ্রেষ্ঠত্ব বা আবশ্যকীয়তা সাধারণ জনতার হৃদয়ে বদ্ধমূল হয়ে যায়। ফলত এটা এমন এক ইবাদত এর রূপ লাভ করে, যা মানুষ নিয়মিত পালন করতে থাকে এবং যার দ্বারা মানুষ আল্লাহর নৈকট্য অর্জনের চেষ্টা করে। যা উত্তম মনে করে শুরু করা হয়, কিন্তু পরবর্তীতে এটা তার চেয়েও জঘন্যতম নিকৃষ্টতা অর্থাৎ শিরকের দিকে টেনে নিয়ে যায়।
সর্বপ্রথম যারা নাবীর জন্মদিবস পালনের বিদ'আহ উদ্ভাবন করেছে, তারা হল মিসরের ফাত্বেমী বংশীয় শাসকগোষ্ঠী। তারা যখন দেখল খ্রিস্টানরা ঈসা
মাসীহের জন্মদিবসকে অত্যন্ত আড়ম্বরতা ও জাঁক-জমকের সাথে উদযাপন করছে এবং এই দিবসকে তারা তাদের ঈদের দিন হিসেবে ধার্য করেছে, যে দিবসে তারা সমস্ত ব্যবসায়ী ও চাকরিজীবীদের জন্য ছুটির ঘোষণা দিয়েছে – তখন তারাও তাদের অনুকরণে নাবীর জন্মদিবসকে মহত্বের সঙ্গে উদযাপনের এই বিদ'আহ উদ্ভাবন করল খ্রিস্টানদের সাদৃশ্যতা অবলম্বন করে। অতঃপর জন্মদিবসের এই বিদ'আহ বিভিন্ন শহরে মূর্খতা, সংক্রমণের ন্যায় গতিশীলতা ও অন্ধ্যানুগত্যের ফলে বিস্তৃত পরিসরে প্রচার-প্রসার হতে লাগল। আর এই বিদ'আহ এর পরিণতিতে এর চেয়েও জঘন্যতম পাপাচার অর্থাৎ মৃত মানুষকে কেন্দ্র করে অতিভক্তি, বাড়াবাড়ি, বিলাপ, দফ বাজানো, মদ পান ও নারী-পুরুষের অবাধ মেলামেশা সহ আরো অন্যান্য কাবীরা গুনাহসমূহ সংঘটিত হয়। কোনো জাতি যখনই কোনো বিদ'আত উদ্ভাবন করবে, সেই জাতি থেকে অবশ্যই অনুরূপ একটি সুন্নাহ উঠিয়ে নেয়া হবে।
১-আল্লাহ তা'আলা বলেন:
{فَمَنْ أَظْلَمُ مِمَّنِ افْتَرَى عَلَى اللَّهِ كَذِبًا لِيُضِلُّ النَّاسَ بِغَيْرِ عِلْمٍ إِنَّ اللَّهَ لَا يَهْدِي الْقَوْمَ الظالمين (١٤٤)} [الأنعام: ١٤٤].
ঐ ব্যক্তির চেয়ে বড় জালিম আর কে হতে পারে, যে আল্লাহর নামে মিথ্যারোপ করে, না জেনে মানুষকে পথভ্রষ্ট করার উদ্দেশ্যে। নিশ্চয় আল্লাহ তা'আলা যালিম সম্প্রদায়কে হিদায়েতের পথ প্রদর্শন করেন না।" (সূরা আল আন'আম: ১৪৪)
২-আল্লাহ তা'আলা বলেন:
{قُلْ إِنَّمَا حَرَّمَ رَبِّيَ الْفَوَاحِشَ مَا ظَهَرَ مِنْهَا وَمَا بَطَنَ وَالْإِثْمَ وَالْبَغْيَ بِغَيْرِ الْحَقِّ وَأَنْ تُشْرِكُوا بِاللَّهِ مَا لَمْ يُنَزِّلْ بِهِ سُلْطَانًا وَأَنْ تَقُولُوا عَلَى اللَّهِ مَا لَا تَعْلَمُونَ (۳۳)} [الأعراف : ٣٣].
"আপনি বলুন, নিশ্চয় আমার রব প্রকাশ্য ও গোপনীয় সমস্ত অশ্লীল কার্যসমূহ, পাপ কাজ এবং অন্যায়ভাবে রাষ্ট্রে বিশৃঙ্খলা তৈরী করাকে হারাম করে দিয়েছেন। আরো হারাম করেছেন তোমাদের জন্য আল্লাহর সাথে শিরক করাকে, যেই ব্যাপারে তিনি কোনো দলীল প্রমাণ নাযিল করেননি এবং তোমাদের জন্য এমন কথা বলাকেও তিনি হারাম করে দিয়েছেন, যা তোমরা না জেনেই আল্লাহর নামে আরোপ করতে থাক। (সূরা আল আরাফ:১৩৩)
📄 বিদ‘আত প্রকাশ পাওয়ার কারণসমূহ
১. দীনের বিধি-বিধান সম্পর্কে মূর্খতা )الجهل بأحكام الدين( : আল্লাহ তা'আলা বলেন:
{وَلَقَدْ ذَرَأْنَا لِجَهَنَّمَ كَثيرًا مِنَ الْجِنِّ وَالْإِنْسِ لَهُمْ قُلُوبٌ لَا يَفْقَهُونَ بِهَا وَلَهُمْ أَعْيُنٌ لَا يُبْصِرُونَ بِهَا وَلَهُمْ آذَانٌ لَا يَسْمَعُونَ بِهَا أُولَئِكَ كَالْأَنْعَامِ بَلْ هُمْ أَضَلُّ أُولَئِكَ هُمُ الْغَافِلُونَ (۱۷۹)} [الأعراف: ۱۷۹].
"আমি জাহান্নামের জন্য বহু জিন ও মানব সৃষ্টি করেছি, যাদের হৃদয় থাকা সত্ত্বেও তারা বুঝে না। চোখ থাকা সত্ত্বেও দেখে না। কান থাকা সত্ত্বেও শ্রবণ করে না। তারা হল চতুষ্পদ জন্তুর ন্যায়, বরং তার চেয়েও অধম; তারাই মূলত গাফেল।" (সূরা আল আরাফ: ১৭৯)
২. কফেরদের সঙ্গে সাদৃশ্য অবলম্বন )ا (التشبه بالكفار আল্লাহ তা'আলা বলেন:
{وَجَاوَزْنَا بِبَنِي إِسْرَائِيلَ الْبَحْرَ فَأَتَوا عَلَى قَوْمٍ يَعْكُفُونَ عَلَى أَصْنَامٍ لَهُمْ قَالُوا يَامُوسَى اجْعَلْ لَنَا إِلَهَا كَمَا لَهُمْ آلِهَةٌ قَالَ إِنَّكُمْ قَوْمٌ تَجْهَلُونَ (۱۳۸) إِنَّ هَؤُلَاءِ مُتَبَرٌ مَا هُمْ فِيهِ وباطل مَا كَانُوا يَعْمَلُونَ (۱۳۹)} [الأعراف: ۱۳৮ - ۱۳۹].
"আমি বনী ইসরাঈলকে সমুদ্র অতিক্রম করিয়ে দিলাম, অতঃপর তারা এমন এক গোত্রের সম্মুখে এসে উপস্থিত হল, যারা স্বীয় প্রতিমাগুলোর চতুর্দিকে ঘুরে ঘুরে পূজা করছিল। তখন তারা বলল, হে মূসা, আমাদের জন্য একটি উপাস্য তৈরী করে দাও, যেমন তাদের উপাস্য রয়েছে। তিনি বললেন, নিশ্চয় তোমরা জাহেল-মূর্খ সম্প্রদায়। এরা যে কাজে লিপ্ত হয়েছে, তা অবশ্যই ধ্বংসশীল এবং তাদের কর্মকাণ্ড অবশ্য বাত্বিল। (সূরা আল আরাফ: ১৩৮-১৩৯)
বিদ'আহ ও গুনাহসমূহ পরস্পরে মিলিত থাকার কারণসমূহ
বিদ'আহ হল- যাবতীয় অপরাধেরই একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ। উভয়টিই নিষিদ্ধ। প্রত্যেকটি বিদ'আহ অপরাধ, কিন্তু প্রত্যেকটি অপরাধ বিদ'আহ নয়। বিদ'আহ ও গুনাহসমূহ হল শরীয়ত নিশ্চিহ্ন হয়ে যাওয়া ও সুন্নাহ মুছে যাওয়ার ঘোষণাকারী। বিধায় যখনই সুন্নাহ শক্তিশালী হবে, বিদ'আহ ও গুনাহ দুর্বল হবে। আর যখনই বিদ'আহ ও গুনাহ বেশী পরিমাণে বৃদ্ধি লাভ করবে, তখনই সুন্নাহ দুর্বল হবে এবং মুছে যেতে থাকবে। বিদ'আহ ও গুনাহ উভয়টিই ব্যবধান সম্বলিত। যেমনিভাবে গুনাহসমূহ কুফর-এর সংঘটক ও সংঘটক নয় এবং ছুগীরা ও কাবীরা এমন স্তরসমূহে বিভক্ত, ঠিক তদ্রূপ বিদ'আহ এটাও এমন বিভিন্ন স্তরে বিভক্ত। এগুলোই হল- গুনাহ আর বিদ'আহ উভয়টির সম্মিলনের কারণ।
বিদ'আহ ও গুনাহের মাঝে পার্থক্য
১-সাধারণতঃ সাধারণ গুনাহ বা অপরাধের ক্ষেত্রে নিষেধাজ্ঞার প্রমাণ হল- কিতাব ও সুন্নাহ-এর বিশেষ বিশেষ দলীলগুলো। পক্ষান্তরে বিদ'আহ এর নিষেধাজ্ঞার প্রমাণ হল- সাধারণ ও বিস্তৃত অর্থবোধক দলীলগুলো।
২-গুনাহ হল- দীনের কোনো বিধানকে অমান্য করা, নির্দেশপ্রাপ্ত কোনো বিধি উপেক্ষা করা বা নিষিদ্ধ কোনো কার্য সাধনের মাধ্যমে। পক্ষান্তরে বিদ'আহ হল- শরীয়ত সম্মত কোনো বিধানের সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ, যেটাকে দীনের দিকে সম্বন্ধ করা হয় এবং আসল দীনের সাথে সংযুক্ত করা হয়।
৩-গুনাহ হল- অনেক বড় অপরাধ, যেহেতু গুনাহ করা আল্লাহকে অপমান করা এবং তার সীমালঙ্ঘন করার শামিল। পক্ষান্তরে বিদ'আহ তার চেয়েও ভয়ংকর; কারণ, এর সংঘটক নিজেকে আল্লাহর সম্মান প্রদর্শনকারী, তার দীনের শ্রদ্ধাকারী এবং তার আদেশের মান্যকারী মনে করে থাকে।
৪-অপরাধী এটা বুঝে যে, সে অপরাধে লিপ্ত এবং স্বীকার করে যে, সে আল্লাহ ও তার রসূলের আদেশ অমান্যকারী। পক্ষান্তরে বিদ'আহ হল- মহা অপরাধ; কারণ, এই ক্ষেত্রে ভিত্তিহীনভাবে শরীয়ত প্রণয়ন এবং শরীয়তের উপর অসম্পূর্ণতার অপবাদ দেয়ার মাধ্যমে আল্লাহর সীমালঙ্ঘন করা হয়। আর
বিদ'আহ এর সংঘটক এই কাজটি পূর্ণতায় রূপান্তর করে এই জাতীয় বিদ'আত এর মাধ্যমে।
৫-অপরাধী নিজেকে বারবার স্বীয় অপরাধ থেকে তাওবা করার কথা স্মরণ করে। পক্ষান্তরে বিদ'আহ এর সংঘটক নিজেকে গুনাহ থেকে তাওবা করার কথা স্মরণ করতে পারে না, কেননা সে স্বীয় আমলকে আল্লাহ তা'আলার নৈকট্যের মাধ্যম মনে করে থাকে। বিধায় বিদ'আহ এটা শয়তানের নিকট গুনাহের চেয়েও বেশী প্রিয়; কারণ, গুনাহ থেকে তাওবা নছীব হলেও বিদ'আহ থেকে সাধারণতঃ তাওবা নছীব হয় না।
৬-শ্রেণিগত দিক থেকে বিদ'আহ গুনাহের থেকে অনেক বড়। কারণ, বিদ'আহ সংঘটকের ফিৎনা দীনের মৌলিক বিষয়ের সাথে সম্পর্কিত। আর গুনাহগারের ফিৎনা প্রবৃত্তির সমূহ চাহিদার সাথে সম্পর্কিত।
📄 বিদ‘আত সংঘটিত হওয়ার সম্পূরক নীতিমালা
১. প্রথম নীতি হল- শরী'আহ বহির্ভূত আমল দ্বারা আল্লাহর নৈকট্য অর্জনের চেষ্টা। বিধায় যে আল্লাহ ও তার রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর শরী'আহ বহির্ভূত কোনো আমল দ্বারা আল্লাহ তা'আলার নৈকট্য অর্জনের চেষ্টা করল, সে বিদ'আতে লিপ্ত হল।
২. দ্বিতীয় নীতি হল- আল্লাহ তা'আলা ও তার রসূল-ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম- এর বিধানের বিরোধিতা করা। বিধায় যে ইসলামী শরী'আহ ব্যতীত অন্যকোনো শরী'আহকে আনুগত্য ও মান্যকরণ এর অধিকার প্রদান করল, সে বিদ'আতে লিপ্ত হল।
📄 বিদ‘আতের মাধ্যমসমূহ
কোনো আমল – যদিও তা শরী'আহ সম্মত হয় – যা দীনের মাঝে নতুন বিধানের জন্ম দেয়, তবে সেই আমলটিও বিদ'আহ এর সঙ্গে সংযুক্ত, যদিও সেটা বিদ'আহ না হয়ে থাকে। আর যে আমল নিষিদ্ধতার দিকে নিয়ে যায়, তা নিষিদ্ধ বলে বিবেচিত। আল্লাহ তা'আলা মুশরিকদের উপাস্যদের গালিগালাজ করতে নিষেধ করেছেন, যদিও তা আল্লাহ তা'আলার উপর ঈমানের দাবির সাথে সংগতিপূর্ণ; কারণ, এটা শত্রুতা বশতঃ না জেনে তাদের পক্ষ থেকে আল্লাহ তা'আলাকে গালি দেয়ার কারণ হবে।
যেমনটি আল্লাহ তাআ'লা বলেন:
وَلاَ تَسُبُّوا الَّذِينَ يَدْعُونَ مِنْ دُونِ اللَّهِ فَيَسُبُّوا اللَّهَ عَدُوا بِغَيْرِ عِلْمٍ كَذَلِكَ زَيَّنَا لِكُلِّ أُمَّةٍ عملهم ثم إلى ربهم مرجعهم فينبئهم بمَا كَانُوا يَعْمَلُونَ (۱۰۸)} [الأنعام: ۱۰৮].
“তারা আল্লাহ তা'আলাকে বাদ দিয়ে যাদেরকে প্রার্থনা করে, তাদেরকে তোমরা গালি দিও না, তাহলে তারাও না জেনে শত্রুতাবশতঃ আল্লাহকে গালি দিবে। এমনিভাবে প্রত্যেক উম্মাহর কার্যক্রমকে আমি তাদের জন্য সুসজ্জিত করে দিয়েছি। অতঃপর তাদেরকে স্বীয় রবের নিকট প্রত্যাবর্তন করতে হবে। এর পরে তিনি তাদেরকে তাদের কৃতকর্মের ব্যাপারে অবগত করবেন।” (সূরা আল আন'আম: ১০৮)
জুম'আর পূর্বে (قبل الجمعة) দুই রাকা'আত ছলাত জায়েয, কিন্তু এই আমল যদি সাধারণ জনতার মনে এই বিশ্বাস গড়ে তুলে যে, এটা জুম'আহ এর ছালাতের পূর্বে নিয়মিত সুন্নাহ (سنة راتبة), তবে এই বিশ্বাস বিদ'আহ বলে সাব্যস্ত হবে, উক্ত বিশ্বাসের উপর সতর্কীকরণ বাণী জারী করতে হবে এবং উক্ত আমলের উপর ধারাবাহিকতা বজায় রাখা যাবে না।
আয়েশা () থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রসূল- ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম – বলেছেন:
«مَنْ أَحْدَثَ فِي أَمْرِنَا هَذَا مَا لَيْسَ فِيهِ فَهُوَ رَد» متفق عليه، أخرجه البخاري برقم (٢٦٩٧) واللفظ له، ومسلم برقم (۱۷۱۸).
“যে ব্যক্তি আমাদের এই দীনের মাঝে দীন বহির্ভূত কোনো নতুন আমলের জন্ম দিল, তার উক্ত আমল অগ্রহণীয় ও বাতিল বলে বিবেচিত হবে।” মুত্তাফাকুন আলাইহি, বুখারী হা/২৬৯৭, মুসলিম হা/১৭১৮।