📄 তাকফীর বা কাউকে কাফের বলে ঘোষণা দেয়ার বিধান
তাকফীর বা কাফের বলে ঘোষণা দেয়া: তাকফীর হল কোনো মানুষকে কাফের বলে বিধান জারি করা। কাউকে কাফের ঘোষণা দেয়া আল্লাহর একক অধিকার। বিধায় আমাদের জন্য একমাত্র আল্লাহ ও তার রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কাফের ঘোষণা করেছেন এমন ব্যক্তিকে ব্যতীত অন্য কাউকে কাফের আখ্যায়িত করা জায়েয নয়। আর যে আমাদেরকে কাফের বলে, আমরা তাকে কাফের বলি না।
সুতরাং কোনো ব্যক্তি যদি কারোর ব্যাপারে মিথ্যা দোষারোপ করে বা কারোর স্ত্রীর সঙ্গে ব্যভিচার করে, তবে অপর ব্যক্তির জন্য তার ব্যাপারে মিথ্যা দোষারোপ করা বা তার স্ত্রীর সঙ্গে ব্যভিচার করা জায়েয নেই। কেননা, মিথ্যা বলা ও ব্যভিচার করা হারাম; কারণ উভয়টিই আল্লাহ তা'আলার হক্ক। এমনিভাবে তাকফীর বা কাউকে কাফের বলা এটাও আল্লাহর হক্ক। বিধায় আল্লাহ ও তার রসূল ল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যাকে কাফের বলেছেন, একমাত্র তাকেই আমরা কাফের বলতে পারব।
১-আল্লাহ তা'আলা বলেন: {يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا إِذَا ضَرَبْتُمْ فِي سَبيل الله فَتَبَيَّنُوا وَلَا تَقُولُوا لِمَنْ أَلْقَى إِلَيْكُمُ السَّلَامَ لَسْتَ مُؤْمِنًا تَبْتَغُونَ عَرَضَ الْحَيَاةِ الدُّنْيَا فَعِنْدَ اللهِ مَغَانِمُ كَثِيرَةٌ كَذَلِكَ كُنْتُمْ مِنْ قَبْلُ فَمَنَّ اللهُ عَلَيْكُمْ فَتَبَيَّنُوا إِنَّ اللهَ كَانَ بِمَا تَعْمَلُونَ خَبِيرًا (٩٤)} [النساء: ٩٤].
"হে ইমানদারগণ, যখন তোমরা আল্লাহর রাস্তায় চলতে থাক, তখন সাবধান থেক। তোমাদেরকে কেউ সালাম দিলে তাকে বলোনা, যে তুমি মুমিন নও। তোমরা ইহকালীন সম্পত্তির মোহে পড়ে এমন করছ, অথচ আল্লাহর কাছে অফুরন্ত সম্পদ আছে। তোমরাও ইতোপূর্বে এমনি ছিলে। আল্লাহ তোমাদের উপর অনুগ্রহ করেছেন। বিধায় তোমরা আরো সাবধান হও। নিশ্চয় আল্লাহ তা'আলা তোমাদের কার্যক্রম সম্পর্কে সার্বিক জ্ঞান রাখেন।" (সূরা আন নিসা: ৯৪)
২-আব্দুল্লাহ বিন উমার থেকে বর্ণিত, রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম- বলেন:
«أَيُّمَا رَجُلٍ قال : لأخِيهِ يَا كَافِرُ، فَقَدْ بَاءَ بِهَا أَحَدُهُما» متفق عليه، أخرجه البخاري برقم (٦١٠٤), واللفظ له، ومسلم برقم (٦০).
"যদি কোনো ব্যক্তি যখন তার ভাইকে বলবে, হে কাফের, তবে তাদের উভয়ের কোনো একজন অবশ্যই উক্ত কথা (কাফের বলা) নিজের দিকে ফিরিয়ে আনল।" মুত্তাফাকুন আলাইহি, বুখারী হা/৬১০৪, মুসলিম হা/৬০।
তাকফীরের প্রকারসমূহ: তাকফীরের তিনটি রূপ: ১-ঢালাওভাবে কাফের বলা। ২-নিদিষ্ট গুণাবলীকে কুফর বলা। ৩-নির্দিষ্ট ব্যক্তিদেরকে কাফের বলা।
প্রথম রূপ: ঢালাওভাবে কাফের বলা। ঢালাওভাবে কাফের বলার অর্থ হল আলেম এবং জাহেল, ব্যাখ্যা গ্রহণকারী (জাহেরী নুদ্বুদ্ধের স্পষ্ট অর্থের মধ্যে) এবং ব্যাখ্যা অগ্রাহ্যকারী, যার নিকট সত্যকে দলীল-প্রমাণ দ্বারা সুপ্রতিষ্ঠিত করা হয়েছে এবং যার নিকট করা হয়নি এমন সকল মানুষকে সাধারণভাবে কোনো যাচাই-বাছাই না করেই কাফের বলে দেয়া। এটা হল সকল কাবীরা গুনাহের চেয়েও বড় গুনাহ, এটা বিদ'আতী ও আল্লাহর হুকুমের ব্যাপারে অজ্ঞ ব্যক্তিদের ত্বরীক্বাহ বা পথ।
দ্বিতীয় রূপ: নির্দিষ্ট গুণাবলীকে কুফর বলা। যেমন আলেমদের বক্তব্য: যে আল্লাহ ও তার রসূল কে গালি দিল, সে কুফরী করল। যে পুনরুত্থানকে অস্বীকার করল, সে কুফরী করল। যে জ্বলাত পরিত্যাগ করল, সে কুফরী করল। যে নিজের মাঝে ও আল্লাহর মাঝে মাধ্যম স্থাপন করে তাদের নিকট প্রার্থনা করল, সে কুফরী করল। এই জাতীয় কার্যক্রম কুফর, যা দীন থেকে বহিষ্কার করে দেয়। আর দীন থেকে বহিষ্কারকারী কোনো বৈশিষ্ট্য দ্বারা কোনো কার্যক্রমকে কুফর ঘোষণা দেয়া শরীয়ত সম্মত। তবে কুফর: কর্মের সংঘটককে
কাফের বলা যাবে না যতক্ষণ পর্যন্ত তাকে কাফের বলার যাবতীয় শর্তাবলী পূর্ণমাত্রায় উপস্থিত না হয় এবং তাকে কাফের বলার ক্ষেত্রে সকল বাধা-বিপত্তি দূরীভূত না হয়। বিধায় শুধুমাত্র কুফর: কর্ম সংঘটনের দ্বারাই কাউকে কাফের বলা আবশ্যকীয় হয় না।
তৃতীয় রূপ: নির্দিষ্ট ব্যক্তিদেরকে কাফের বলা।
নিদিষ্ট ব্যক্তিদেরকে কাফের বলার অর্থ হল নির্দিষ্ট করে এমন কোনো ব্যক্তিকে কাফের বলা, যে ইসলাম থেকে বহিষ্কারকারী কোনো কার্যক্রমে লিপ্ত হয়েছে। এমন ব্যক্তিকেও কাফের বলা যাবে না যতক্ষণ পর্যন্ত তাকে কাফের বলার যাবতীয় শর্তাবলী পূর্ণমাত্রায় উপস্থিত না হয় এবং তাকে কাফের বলার ক্ষেত্রে সকল বাধা-বিপত্তি দূরীভূত না হয়।
তাকফীর বা কাফের বলে ঘোষণা দেয়া: তাকফীর হল কোনো মানুষকে কাফের বলে বিধান জারি করা। কাউকে কাফের ঘোষণা দেয়া আল্লাহর একক অধিকার। বিধায় আমাদের জন্য একমাত্র আল্লাহ ও তার রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কাফের ঘোষণা করেছেন এমন ব্যক্তিকে ব্যতীত অন্য কাউকে কাফের আখ্যায়িত করা জায়েয নয়। আর যে আমাদেরকে কাফের বলে, আমরা তাকে কাফের বলি না।
সুতরাং কোনো ব্যক্তি যদি কারোর ব্যাপারে মিথ্যা দোষারোপ করে বা কারোর স্ত্রীর সঙ্গে ব্যভিচার করে, তবে অপর ব্যক্তির জন্য তার ব্যাপারে মিথ্যা দোষারোপ করা বা তার স্ত্রীর সঙ্গে ব্যভিচার করা জায়েয নেই। কেননা, মিথ্যা বলা ও ব্যভিচার করা হারাম; কারণ উভয়টিই আল্লাহ তা'আলার হক্ক। এমনিভাবে তাকফীর বা কাউকে কাফের বলা এটাও আল্লাহর হক্ক। বিধায় আল্লাহ ও তার রসূল ল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যাকে কাফের বলেছেন, একমাত্র তাকেই আমরা কাফের বলতে পারব।
১-আল্লাহ তা'আলা বলেন: {يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا إِذَا ضَرَبْتُمْ فِي سَبيل الله فَتَبَيَّنُوا وَلَا تَقُولُوا لِمَنْ أَلْقَى إِلَيْكُمُ السَّلَامَ لَسْتَ مُؤْمِنًا تَبْتَغُونَ عَرَضَ الْحَيَاةِ الدُّنْيَا فَعِنْدَ اللهِ مَغَانِمُ كَثِيرَةٌ كَذَلِكَ كُنْتُمْ مِنْ قَبْلُ فَمَنَّ اللهُ عَلَيْكُمْ فَتَبَيَّنُوا إِنَّ اللهَ كَانَ بِمَا تَعْمَلُونَ خَبِيرًا (٩٤)} [النساء: ٩٤].
"হে ইমানদারগণ, যখন তোমরা আল্লাহর রাস্তায় চলতে থাক, তখন সাবধান থেক। তোমাদেরকে কেউ সালাম দিলে তাকে বলোনা, যে তুমি মুমিন নও। তোমরা ইহকালীন সম্পত্তির মোহে পড়ে এমন করছ, অথচ আল্লাহর কাছে অফুরন্ত সম্পদ আছে। তোমরাও ইতোপূর্বে এমনি ছিলে। আল্লাহ তোমাদের উপর অনুগ্রহ করেছেন। বিধায় তোমরা আরো সাবধান হও। নিশ্চয় আল্লাহ তা'আলা তোমাদের কার্যক্রম সম্পর্কে সার্বিক জ্ঞান রাখেন।" (সূরা আন নিসা: ৯৪)
২-আব্দুল্লাহ বিন উমার থেকে বর্ণিত, রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম- বলেন:
«أَيُّمَا رَجُلٍ قال : لأخِيهِ يَا كَافِرُ، فَقَدْ بَاءَ بِهَا أَحَدُهُما» متفق عليه، أخرجه البخاري برقم (٦١٠٤), واللفظ له، ومسلم برقم (٦০).
"যদি কোনো ব্যক্তি যখন তার ভাইকে বলবে, হে কাফের, তবে তাদের উভয়ের কোনো একজন অবশ্যই উক্ত কথা (কাফের বলা) নিজের দিকে ফিরিয়ে আনল।" মুত্তাফাকুন আলাইহি, বুখারী হা/৬১০৪, মুসলিম হা/৬০।
তাকফীরের প্রকারসমূহ: তাকফীরের তিনটি রূপ: ১-ঢালাওভাবে কাফের বলা। ২-নিদিষ্ট গুণাবলীকে কুফর বলা। ৩-নির্দিষ্ট ব্যক্তিদেরকে কাফের বলা।
প্রথম রূপ: ঢালাওভাবে কাফের বলা। ঢালাওভাবে কাফের বলার অর্থ হল আলেম এবং জাহেল, ব্যাখ্যা গ্রহণকারী (জাহেরী নুদ্বুদ্ধের স্পষ্ট অর্থের মধ্যে) এবং ব্যাখ্যা অগ্রাহ্যকারী, যার নিকট সত্যকে দলীল-প্রমাণ দ্বারা সুপ্রতিষ্ঠিত করা হয়েছে এবং যার নিকট করা হয়নি এমন সকল মানুষকে সাধারণভাবে কোনো যাচাই-বাছাই না করেই কাফের বলে দেয়া। এটা হল সকল কাবীরা গুনাহের চেয়েও বড় গুনাহ, এটা বিদ'আতী ও আল্লাহর হুকুমের ব্যাপারে অজ্ঞ ব্যক্তিদের ত্বরীক্বাহ বা পথ।
দ্বিতীয় রূপ: নির্দিষ্ট গুণাবলীকে কুফর বলা। যেমন আলেমদের বক্তব্য: যে আল্লাহ ও তার রসূল কে গালি দিল, সে কুফরী করল। যে পুনরুত্থানকে অস্বীকার করল, সে কুফরী করল। যে জ্বলাত পরিত্যাগ করল, সে কুফরী করল। যে নিজের মাঝে ও আল্লাহর মাঝে মাধ্যম স্থাপন করে তাদের নিকট প্রার্থনা করল, সে কুফরী করল। এই জাতীয় কার্যক্রম কুফর, যা দীন থেকে বহিষ্কার করে দেয়। আর দীন থেকে বহিষ্কারকারী কোনো বৈশিষ্ট্য দ্বারা কোনো কার্যক্রমকে কুফর ঘোষণা দেয়া শরীয়ত সম্মত। তবে কুফর: কর্মের সংঘটককে
কাফের বলা যাবে না যতক্ষণ পর্যন্ত তাকে কাফের বলার যাবতীয় শর্তাবলী পূর্ণমাত্রায় উপস্থিত না হয় এবং তাকে কাফের বলার ক্ষেত্রে সকল বাধা-বিপত্তি দূরীভূত না হয়। বিধায় শুধুমাত্র কুফর: কর্ম সংঘটনের দ্বারাই কাউকে কাফের বলা আবশ্যকীয় হয় না।
তৃতীয় রূপ: নির্দিষ্ট ব্যক্তিদেরকে কাফের বলা।
নিদিষ্ট ব্যক্তিদেরকে কাফের বলার অর্থ হল নির্দিষ্ট করে এমন কোনো ব্যক্তিকে কাফের বলা, যে ইসলাম থেকে বহিষ্কারকারী কোনো কার্যক্রমে লিপ্ত হয়েছে। এমন ব্যক্তিকেও কাফের বলা যাবে না যতক্ষণ পর্যন্ত তাকে কাফের বলার যাবতীয় শর্তাবলী পূর্ণমাত্রায় উপস্থিত না হয় এবং তাকে কাফের বলার ক্ষেত্রে সকল বাধা-বিপত্তি দূরীভূত না হয়।
📄 নির্দিষ্ট করে কোনো ব্যক্তিকে কাফের বলার শর্তসমূহ
নিদিষ্ট করে কোনো ব্যক্তিকে কাফের বলার জন্য দুটি শর্ত প্রযোজ্য:
প্রথম শর্ত: এমন কোনো কাজ, যা দ্বারা সংশ্লিষ্ট কাজের সংঘটককে কাফের বলা যাবে এই ব্যাপারে দলীল প্রতিষ্ঠিত হওয়া।
দ্বিতীয় শর্ত: সংশ্লিষ্ট কাজের সংঘটকের উপর - কাফের হওয়ার - বিধানটি পূর্ণমাত্রায় প্রযোজ্য হওয়া অর্থাৎ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি উক্ত বিষয়ে জ্ঞাত হওয়া, উক্ত বিষয়টি ইচ্ছাকৃতভাবে করা এবং উক্ত বিষয়ে স্বাধীন হওয়া। তবে যদি উক্ত ব্যক্তিকে কাফের ঘোষণা করার ক্ষেত্রে কোনো বাধা-বিপত্তি থাকে, যেমন, মূর্খতা বা ভুল বশতঃ কাজটি করা অথবা চাপের মুখে বাধ্য হয়ে কাজটি করা অথবা গ্রহণযোগ্য কোনো ব্যাখ্যার আশ্রয় নিয়ে কাজটি করা, তবে এই ব্যক্তিকে কাফের বলা যাবে না। আর আমাদের জন্য কোনো ব্যক্তিকে নির্দিষ্ট করে কাফের হওয়ার বিধান দেয়া জায়েয হবে না যতপক্ষণ পর্যন্ত তার নিকট সত্যকে দলীল দ্বারা প্রতিষ্ঠিত করা সত্ত্বেও সে উক্ত কুফরী উপর অবিচল না থাকে।
নিদিষ্ট করে কোনো ব্যক্তিকে কাফের বলার জন্য দুটি শর্ত প্রযোজ্য:
প্রথম শর্ত: এমন কোনো কাজ, যা দ্বারা সংশ্লিষ্ট কাজের সংঘটককে কাফের বলা যাবে এই ব্যাপারে দলীল প্রতিষ্ঠিত হওয়া।
দ্বিতীয় শর্ত: সংশ্লিষ্ট কাজের সংঘটকের উপর - কাফের হওয়ার - বিধানটি পূর্ণমাত্রায় প্রযোজ্য হওয়া অর্থাৎ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি উক্ত বিষয়ে জ্ঞাত হওয়া, উক্ত বিষয়টি ইচ্ছাকৃতভাবে করা এবং উক্ত বিষয়ে স্বাধীন হওয়া। তবে যদি উক্ত ব্যক্তিকে কাফের ঘোষণা করার ক্ষেত্রে কোনো বাধা-বিপত্তি থাকে, যেমন, মূর্খতা বা ভুল বশতঃ কাজটি করা অথবা চাপের মুখে বাধ্য হয়ে কাজটি করা অথবা গ্রহণযোগ্য কোনো ব্যাখ্যার আশ্রয় নিয়ে কাজটি করা, তবে এই ব্যক্তিকে কাফের বলা যাবে না। আর আমাদের জন্য কোনো ব্যক্তিকে নির্দিষ্ট করে কাফের হওয়ার বিধান দেয়া জায়েয হবে না যতপক্ষণ পর্যন্ত তার নিকট সত্যকে দলীল দ্বারা প্রতিষ্ঠিত করা সত্ত্বেও সে উক্ত কুফরী উপর অবিচল না থাকে।