📄 মুরতাদ-এর সাথে কী আচরণ করা হবে
যদি কোনো প্রাপ্ত বয়স্ক বুদ্ধিমান ব্যক্তি ইসলাম ত্যাগ করে, তবে তাকে দীনের দিকে আহবান করা হবে, দীন গ্রহণ করার জন্য উৎসাহ দেয়া হবে এবং সে যেন তাওবা করে, সেই লক্ষ্যে তাকে তাওবা করার প্রস্তাব পেশ করা হবে। যদি সে তাওবা করে, তবে সে মুসলিম হিসেবেই বিবেচিত হবে। আর যদি তাওবা না করে কুফর ও দীনত্যাগের উপরেই অটল থাকে, তবে তাকে তরবারির আঘাতে হত্যা করা হবে কুফর এর জন্য, হদ প্রতিষ্ঠা করার জন্য নয়।
১-ইবনু আব্বাস থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রসূল -ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম- বলেন:
«مَنْ بَدَّلَ دِينَهُ فَاقْتُلُوهُ». أخرجه البخاري برقم (۳۰۱۷).
"যে ব্যক্তি স্বীয় দীনকে (ইসলাম) পরিত্যাগ করে, তাকে হত্যা করে দাও। বুখারী হা/৩০১৭।
وَعَنْ أَبِي مُوسَى رَضِيَ اللهُ عَنْهُ أَنَّ رَجُلاً أَسْلَمَ ثُمَّ تَهَودَ، فَأَتَى مُعَاذُ بْنُ جَبَلٍ وَهُوَ عِنْدَ أَبِي مُوسَى، فَقَالَ: مَا لِهَذَا؟ قَالَ: أَسْلَمَ ثُمَّ تَهَودَ ، قَالَ: لَا أَجْلِسُ حتى حَتَّى أَقْتَلَهُ. قَضاء الله ورسوله - صلى الله عليه وسلم - . متفق عليه أخرجه البخاري برقم (٧١٥٧), واللفظ له، ومسلم برقم (١٨٢٤) في الإمارة.
২-আবু মূসা থেকে বর্ণিত, এক ব্যক্তি ইসলাম গ্রহণের পর ইহুদী ধর্মে প্রবেশ করল, তখন মু'আয বিন জাবাল সেখানে আগমন করলেন এমন অবস্থায় উক্ত দীনত্যাগী আবু মূসার নিকট উপস্থিত ছিল অতঃপর বললেন, এই ব্যক্তির কী হয়েছে? তিনি বললেন, ইসলাম গ্রহণের পর ইহুদী ধর্ম গ্রহণ করেছে। তিনি বললেন, আমি আল্লাহ ও তার রসূল-ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের লক্ষ্যে তাকে হত্যা করা পর্যন্ত বসতে পারব না।"
যদি কোনো প্রাপ্ত বয়স্ক বুদ্ধিমান ব্যক্তি ইসলাম ত্যাগ করে, তবে তাকে দীনের দিকে আহবান করা হবে, দীন গ্রহণ করার জন্য উৎসাহ দেয়া হবে এবং সে যেন তাওবা করে, সেই লক্ষ্যে তাকে তাওবা করার প্রস্তাব পেশ করা হবে। যদি সে তাওবা করে, তবে সে মুসলিম হিসেবেই বিবেচিত হবে। আর যদি তাওবা না করে কুফর ও দীনত্যাগের উপরেই অটল থাকে, তবে তাকে তরবারির আঘাতে হত্যা করা হবে কুফর এর জন্য, হদ প্রতিষ্ঠা করার জন্য নয়।
১-ইবনু আব্বাস থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রসূল -ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম- বলেন:
«مَنْ بَدَّلَ دِينَهُ فَاقْتُلُوهُ». أخرجه البخاري برقم (۳۰۱۷).
"যে ব্যক্তি স্বীয় দীনকে (ইসলাম) পরিত্যাগ করে, তাকে হত্যা করে দাও। বুখারী হা/৩০১৭।
وَعَنْ أَبِي مُوسَى رَضِيَ اللهُ عَنْهُ أَنَّ رَجُلاً أَسْلَمَ ثُمَّ تَهَودَ، فَأَتَى مُعَاذُ بْنُ جَبَلٍ وَهُوَ عِنْدَ أَبِي مُوسَى، فَقَالَ: مَا لِهَذَا؟ قَالَ: أَسْلَمَ ثُمَّ تَهَودَ ، قَالَ: لَا أَجْلِسُ حتى حَتَّى أَقْتَلَهُ. قَضاء الله ورسوله - صلى الله عليه وسلم - . متفق عليه أخرجه البخاري برقم (٧١٥٧), واللفظ له، ومسلم برقم (١٨٢٤) في الإمارة.
২-আবু মূসা থেকে বর্ণিত, এক ব্যক্তি ইসলাম গ্রহণের পর ইহুদী ধর্মে প্রবেশ করল, তখন মু'আয বিন জাবাল সেখানে আগমন করলেন এমন অবস্থায় উক্ত দীনত্যাগী আবু মূসার নিকট উপস্থিত ছিল অতঃপর বললেন, এই ব্যক্তির কী হয়েছে? তিনি বললেন, ইসলাম গ্রহণের পর ইহুদী ধর্ম গ্রহণ করেছে। তিনি বললেন, আমি আল্লাহ ও তার রসূল-ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের লক্ষ্যে তাকে হত্যা করা পর্যন্ত বসতে পারব না।"
📄 মুরতাদ-এর বিধান
১-মুরতাদ প্রকৃত কাফের থেকেও অত্যাধিক নিকৃষ্ট কাফের; কারণ, সে সত্য জেনেও তা পরিত্যাগ করেছে।
২-রিদ্দাহ দীন থেকে বহিষ্কারকারী, সকল আমলকে বাতিলকারী এবং চিরস্থায়ী জাহান্নামী হওয়ার কারণ, যদি তাওবা না করে মৃত্যুবরণ করে।
৩-যদি মুরতাদ ব্যক্তিকে হত্যা করা হয় বা তাওবা না করেই মৃত্যুবরণ করে, তবে সে কাফের। তাকে গোসল দেয়া যাবে না, কাফন দেয়া যাবে না, তার জানাযার ছলাত আদায় করা যাবে না, তাকে মুসলিমদের কবরে দাফন করা যাবে না এবং তার জন্য দু'আ করা যাবে না।
৪-মুরতাদ স্বামী ও তার মুসলিম স্ত্রীর মাঝে বিচ্ছেদ ঘটানো হবে; কেননা, উক্ত স্ত্রী কাফেরের জন্য হালাল হবে না। আর যখন স্ত্রী মুরতাদ হয়ে যাবে, স্বামী তার স্ত্রীকে বিচ্ছিন্ন করে দিবে। কারণ, মুসলিম কাফেরদের সম্পর্কের রশি আটকে রাখতে পারবে না। তবে মুরতাদ ব্যক্তি তাওবা করার পরে স্বীয় স্ত্রীকে ফিরিয়ে আনতে পারবে যতক্ষণ পর্যন্ত তার ইদ্দাত (মহিলাদের ঋতু শেষ হওয়ার মেয়াদ) শেষ না হয়। আর যদি তার ইদ্দাতের মেয়াদ শেষ হয়ে যায় এবং তার স্বামী তাকে ফিরিয়ে না নিয়ে আসে, তবে উক্ত মহিলা নিজেই নিজের মালিক হয়ে যাবে অর্থাৎ নিজেই নিজের সিদ্ধান্ত নিতে পারবে। উক্ত মহিলা সংশ্লিষ্ট পুরুষের জন্য হালাল হবে না যতক্ষণ পর্যন্ত সে নতুনভাবে আক্বদ (নতুন বিবাহ চুক্তি) ও নতুন মোহরানার ব্যাপারে রাজি না হবে।
৫-মুরতাদ-এর নিকট তাওবা তলব করাকালীন তার সম্পত্তিতে হস্তক্ষেপ করতে তাকে বাধা দেয়া হবে। অতঃপর যদি সে ইসলাম কবুল করে, তবে উক্ত সম্পদ তার মালিকানায় চলে যাবে। আর যদি স্বীয় দীনত্যাগের উপর অটল
থাকে, তবে তার সকল সম্পত্তি ফাই (যুদ্ধ ব্যতিরেকে শত্রুপক্ষ থেকে অর্জিত সম্পদ) হিসেবে মুসলিম সমাজের কল্যাণে ব্যবহার করা হবে।
৬-মুরতাদ ব্যক্তি কাফের, সে তার মুসলিম আত্মীয়দের ওয়ারিস হতে পারবে না, তারাও তার ওয়ারিস হতে পারবে না। কেননা, কাফের মুসলিমের ওয়ারিস হতে পারে না।
১-আল্লাহ তা'আলা বলেন; قال الله تعالى: {وَمَنْ يَرْتَدِدْ مِنْكُمْ عَنْ دِينِهِ فَيَمُتْ وَهُوَ كَافِرٌ فَأُولَئِكَ حَبِطَتْ - ١ أَعْمَالُهُمْ فِي الدُّنْيَا وَالْآخِرَةِ وَأُولَئِكَ أَصْحَابُ النَّارِ هُمْ فِيهَا خَالِدُونَ (۲۱۷)} [البقرة: .[۲۱۷
"আর তোমাদের মধ্যে থেকে যারা স্বীয় দীন পরিত্যাগ করবে, অতঃপর কাফের হয়ে মৃত্যুবরণ করবে, তাদের আমল দুনিয়া ও আখেরাত উভয় জগতেই ব্যর্থতায় পর্যবসিত হবে, তারা হল জাহহান্নামের বাসিন্দা, তারা চিরস্থায়ী জাহান্নামী।" (সূরা আল বাক্বারাহ: ২১৭)
২-আল্লাহ তা'আলা বলেন: {إِنَّ الَّذِينَ آمَنُوا ثُمَّ كَفَرُوا ثُمَّ آمَنُوا ثُمَّ كَفَرُوا ثُمَّ ازْدَادُوا كُفْرًا لَمْ يَكُنِ اللَّهُ لِيَغْفِرَ لَهُمْ ولا ليهديهم سبيلا (۱۳۷)} [النساء: ۱۳۷].
"নিশ্চয় যারা ঈমান আনার পর কুফর অবলম্বন করে, অতঃপর পুনরায় ঈমান আনার পর আবারো কুফর অবলম্বন করে, অতঃপর অধিক পরিমাণে কুফরে লিপ্ত হয়, আল্লাহ তা'আলা তাদেরকে ক্ষমাও করবেন না এবং তাদেরকে হিদায়েতের রাস্তাও দেখাবেন না।" (সূরা আন নিসা: ১৩৭)
৩-আল্লাহ তা'আলা বলেন: { وَلَا تُصَلِّ عَلَى أَحَدٍ مِنْهُمْ مَاتَ أَبَدًا وَلَا تَقُمْ عَلَى قَبْرِهِ إِنَّهُمْ كَفَرُوا بِاللَّهِ وَرَسُولِهِ وَمَاتُوا وَهُمْ فَاسِقُونَ (٨٤)} [التوبة: ٨٤].
"তাদের মধ্যে কেউ মারা গেলে কখনই তার জানাযার ছলাত আদায় করবেন না, তার ক্ববরের নিকটেও দাঁড়াবেন না। নিশ্চয় তারা আল্লাহ ও তার রসূলের প্রতি কুফর: করেছে এবং ফাসেক্ব হয়ে মৃত্যুবরণ করেছে।" (সূরা আত-তাওবা: ৮৪)
৪-আল্লাহ তা'আলা বলেন:
{وَلَا تُنْكِحُوا الْمُشْرِكِينَ حَتَّى يُؤْمِنُوا وَلَعبد مُؤْمِنٌ خَيْرٌ مِنْ مُشْرِكِ وَلَوْ أَعْجَبَكُمْ أُولَئِكَ يَدْعُونَ إِلَى النَّارِ وَاللَّهُ يَدْعُو إِلَى الْجَنَّةِ وَالْمَغْفِرَةِ بِإِذْنه ويبين آياته للنَّاسِ لَعَلَّهُمْ يَتَذَكَّرُونَ (۲۲۱)} [البقرة: ۲۲۱].
"আর (তোমাদের নারীদেরকে) মুশরিক পরুষদের সঙ্গে বিবাহ দিয়োনা, যতক্ষণ পর্যন্ত তারা ঈমান না আনে। মুমিন ক্রীতদাস মুশরিক অপেক্ষা উত্তম, যদিও সে তোমাদের কাছে মোহনীয় লাগে। তারা জাহান্নামের দিকে আহবান করে আর আল্লাহ তা'আলা স্বীয় আদেশ দ্বারা জান্নাত ও ক্ষমার দিকে আহবান করেন, স্বীয় নিদর্শনাবলী মানুষের জন্য স্পষ্টরূপে বর্ণনা করেন, যাতে তারা উপদেশ গ্রহণ করতে পারে।" (সূরা আল বাক্বারাহ: ১২১)
৫-উসামা বিন যায়েদ (رضي الله عنه) থেকে বর্ণিত, নাবী কারীম-ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন:
«لا يَرِثُ المُسْلِمُ الكَافِرَ ، وَلَا يَرِثُ الكَافِرُ الْمُسْلِمَ» متفق عليه، أخرجه البخاري برقم (٦٧٦٤), ومسلم برقم (١٦١٤).
"মুসলিম কাফেরের ওয়ারিস হতে পারে না এবং কাফের মুসলিমের ওয়ারিস হতে পারে না।" মুসলিম হা/১৬১৪।
মুরতাদের হত্যা বিধিসম্মত হওয়ার হিকমাহ
ইসলাম হল জীবন চলার একটি পূর্ণাঙ্গ আদর্শ, মানুষের সমস্ত প্রয়োজন ও চাহিদার পরিপূর্ণ ব্যবস্থাপক, স্বভাব ও বিবেকের পূর্ণাঙ্গ সমর্থক, দলীল ও শক্তিশালী প্রমাণের উপর প্রতিষ্ঠিত এবং মানব জীবনে সর্বোচ্চ নি'আমত। যে এই দীনে প্রবেশ করার পর তা পরিত্যাগ করল, সে অধঃপতনের অতল গহবরে নেমে গেল, আল্লাহ তা'আলা স্বীয় সৃষ্টিজীবের জন্য যে দীনের ব্যাপারে সন্তুষ্ট এমন দীনকে সে পরিত্যাগ করেছে, আল্লাহ ও তার রসূলের সাথে খিয়ানত করেছে এবং আল্লাহর নি'আমতকে অস্বীকার করেছে। বিধায় তাকে হত্যা করা ওয়াজিব; কারণ, সে সত্যকে অস্বীকার করেছে এবং কল্যাণকে পরিত্যাগ করেছে, যে কল্যাণ ব্যতীত দুনিয়া ও আখিরাতের জিন্দেগী ব্যর্থ ও নিষ্ফল হয়ে যাবে।
মুরতাদ-এর বৈশিষ্ট্য
মানুষ যখন ইসলাম ভঙ্গকারী কোনো একটি কার্য সম্পাদন করে অথবা ঐকমত্যপূর্ণ কোনো বিধানকে পূর্ণরূপে পরিবর্তন করে ফেলে অথবা ঐকমত্যপূর্ণ কোনো হারামকে হালাল বানিয়ে ফেলে অথবা ঐকমত্যপূর্ণ কোনো হালালকে হারাম বানিয়ে ফেলে অথবা আল্লাহর নাযিলকৃত বিধানের পরিবর্তে অন্যকোনো বিধান দ্বারা ফায়ছালা করে, তবে সে মুরতাদ কাফের, যদিও সে দুই সাক্ষ্যের (তাওহীদ ও রিসালাত-কালিমা শাহাদাত) স্বীকৃতি প্রদান করুক না কেনো। কারণ, মুনাফেক্বরাও এই জাতীয় সাক্ষ্যের মিথ্যা স্বীকৃতি প্রদান করত, তারা ছলাত আদায় করত এবং ছওম পালন করত তথাপি তারা জাহান্নামের সর্বনিম্নস্তরে অবস্থান করবে।
১-আল্লাহ তা'আলা বলেন:
{إِنَّ الْمُنَافِقِينَ فِي الدَّرْك الْأَسْفَلِ مِنَ النَّارِ وَلَنْ تَجِدَ لَهُمْ نَصِيرًا (١٤٥) إِلَّا الَّذِينَ تَابُوا وَأَصْلَحُوا وَاعْتَصَمُوا بِالله وَأَخْلَصُوا دِينَهُمْ لِله فَأُولَئِكَ مَعَ الْمُؤْمِنِينَ وَسَوْفَ يُؤْتِ اللَّهُ الْمُؤْمِنِينَ أَجْرًا عَظِيمًا (١٤٦)} [النساء: ١٤٥ - ١٤٦].
"নিশ্চয় মুনাফেক্বরা জাহান্নামের সর্বনিম্নস্তরে অবস্থান করবে এবং আপনি তাদের পক্ষে কোনো সাহায্যকারী খুজে পাবেন না। তবে যারা তাওবা করেছে, নিজেদেরকে সংশোধন করেছে, আল্লাহর রজ্জুকে শক্তভাবে আঁকড়ে ধরেছে এবং একনিষ্ঠভাবে আল্লাহর জন্য দীন পালন করেছে, তারা ইমানদারদের সেঙ্গে অবস্থান করবে। আল্লাহ তা'আলা অচিরেই তাদেরকে মহা প্রতিদানে ভূষিত করবেন।" (সূরা আন নিসা: ১৪৫-১৪৬)
২-আল্লাহ তা'আলা বলেন:
{وَمَنْ يُشَاقِقِ الرَّسُولَ من بعد ما تَبَيَّنَ لَهُ الْهُدَى ويتبع غَيْرَ سَبِيلِ الْمُؤْمِنِينَ نُوَلِّهِ مَا تَوَلَّى ونصله جهنم وَسَاءَتْ مَصِيرًا (١١٥)} [النساء: ١١٥].
"হেদায়েত স্পষ্ট হয়ে যাওয়ার পরেও যে আল্লাহর রসূলের বিরোধিতা করে এবং মুমিনদের রাস্তা ব্যতীত অন্যকোনো রাস্তা অবলম্বন করে, আমি তাকে তার অবলম্বন করা রাস্তার উপরেই চলতে বাধ্য করব এবং জাহান্নামের আগুনে নিক্ষেপ করব। জাহান্নাম অত্যন্ত নিকৃষ্ট ঠিকানা।” (সূরা আন নিসা: ১১৫)
১-মুরতাদ প্রকৃত কাফের থেকেও অত্যাধিক নিকৃষ্ট কাফের; কারণ, সে সত্য জেনেও তা পরিত্যাগ করেছে।
২-রিদ্দাহ দীন থেকে বহিষ্কারকারী, সকল আমলকে বাতিলকারী এবং চিরস্থায়ী জাহান্নামী হওয়ার কারণ, যদি তাওবা না করে মৃত্যুবরণ করে।
৩-যদি মুরতাদ ব্যক্তিকে হত্যা করা হয় বা তাওবা না করেই মৃত্যুবরণ করে, তবে সে কাফের। তাকে গোসল দেয়া যাবে না, কাফন দেয়া যাবে না, তার জানাযার ছলাত আদায় করা যাবে না, তাকে মুসলিমদের কবরে দাফন করা যাবে না এবং তার জন্য দু'আ করা যাবে না।
৪-মুরতাদ স্বামী ও তার মুসলিম স্ত্রীর মাঝে বিচ্ছেদ ঘটানো হবে; কেননা, উক্ত স্ত্রী কাফেরের জন্য হালাল হবে না। আর যখন স্ত্রী মুরতাদ হয়ে যাবে, স্বামী তার স্ত্রীকে বিচ্ছিন্ন করে দিবে। কারণ, মুসলিম কাফেরদের সম্পর্কের রশি আটকে রাখতে পারবে না। তবে মুরতাদ ব্যক্তি তাওবা করার পরে স্বীয় স্ত্রীকে ফিরিয়ে আনতে পারবে যতক্ষণ পর্যন্ত তার ইদ্দাত (মহিলাদের ঋতু শেষ হওয়ার মেয়াদ) শেষ না হয়। আর যদি তার ইদ্দাতের মেয়াদ শেষ হয়ে যায় এবং তার স্বামী তাকে ফিরিয়ে না নিয়ে আসে, তবে উক্ত মহিলা নিজেই নিজের মালিক হয়ে যাবে অর্থাৎ নিজেই নিজের সিদ্ধান্ত নিতে পারবে। উক্ত মহিলা সংশ্লিষ্ট পুরুষের জন্য হালাল হবে না যতক্ষণ পর্যন্ত সে নতুনভাবে আক্বদ (নতুন বিবাহ চুক্তি) ও নতুন মোহরানার ব্যাপারে রাজি না হবে।
৫-মুরতাদ-এর নিকট তাওবা তলব করাকালীন তার সম্পত্তিতে হস্তক্ষেপ করতে তাকে বাধা দেয়া হবে। অতঃপর যদি সে ইসলাম কবুল করে, তবে উক্ত সম্পদ তার মালিকানায় চলে যাবে। আর যদি স্বীয় দীনত্যাগের উপর অটল
থাকে, তবে তার সকল সম্পত্তি ফাই (যুদ্ধ ব্যতিরেকে শত্রুপক্ষ থেকে অর্জিত সম্পদ) হিসেবে মুসলিম সমাজের কল্যাণে ব্যবহার করা হবে।
৬-মুরতাদ ব্যক্তি কাফের, সে তার মুসলিম আত্মীয়দের ওয়ারিস হতে পারবে না, তারাও তার ওয়ারিস হতে পারবে না। কেননা, কাফের মুসলিমের ওয়ারিস হতে পারে না।
১-আল্লাহ তা'আলা বলেন; قال الله تعالى: {وَمَنْ يَرْتَدِدْ مِنْكُمْ عَنْ دِينِهِ فَيَمُتْ وَهُوَ كَافِرٌ فَأُولَئِكَ حَبِطَتْ - ١ أَعْمَالُهُمْ فِي الدُّنْيَا وَالْآخِرَةِ وَأُولَئِكَ أَصْحَابُ النَّارِ هُمْ فِيهَا خَالِدُونَ (۲۱۷)} [البقرة: .[۲۱۷
"আর তোমাদের মধ্যে থেকে যারা স্বীয় দীন পরিত্যাগ করবে, অতঃপর কাফের হয়ে মৃত্যুবরণ করবে, তাদের আমল দুনিয়া ও আখেরাত উভয় জগতেই ব্যর্থতায় পর্যবসিত হবে, তারা হল জাহহান্নামের বাসিন্দা, তারা চিরস্থায়ী জাহান্নামী।" (সূরা আল বাক্বারাহ: ২১৭)
২-আল্লাহ তা'আলা বলেন: {إِنَّ الَّذِينَ آمَنُوا ثُمَّ كَفَرُوا ثُمَّ آمَنُوا ثُمَّ كَفَرُوا ثُمَّ ازْدَادُوا كُفْرًا لَمْ يَكُنِ اللَّهُ لِيَغْفِرَ لَهُمْ ولا ليهديهم سبيلا (۱۳۷)} [النساء: ۱۳۷].
"নিশ্চয় যারা ঈমান আনার পর কুফর অবলম্বন করে, অতঃপর পুনরায় ঈমান আনার পর আবারো কুফর অবলম্বন করে, অতঃপর অধিক পরিমাণে কুফরে লিপ্ত হয়, আল্লাহ তা'আলা তাদেরকে ক্ষমাও করবেন না এবং তাদেরকে হিদায়েতের রাস্তাও দেখাবেন না।" (সূরা আন নিসা: ১৩৭)
৩-আল্লাহ তা'আলা বলেন: { وَلَا تُصَلِّ عَلَى أَحَدٍ مِنْهُمْ مَاتَ أَبَدًا وَلَا تَقُمْ عَلَى قَبْرِهِ إِنَّهُمْ كَفَرُوا بِاللَّهِ وَرَسُولِهِ وَمَاتُوا وَهُمْ فَاسِقُونَ (٨٤)} [التوبة: ٨٤].
"তাদের মধ্যে কেউ মারা গেলে কখনই তার জানাযার ছলাত আদায় করবেন না, তার ক্ববরের নিকটেও দাঁড়াবেন না। নিশ্চয় তারা আল্লাহ ও তার রসূলের প্রতি কুফর: করেছে এবং ফাসেক্ব হয়ে মৃত্যুবরণ করেছে।" (সূরা আত-তাওবা: ৮৪)
৪-আল্লাহ তা'আলা বলেন:
{وَلَا تُنْكِحُوا الْمُشْرِكِينَ حَتَّى يُؤْمِنُوا وَلَعبد مُؤْمِنٌ خَيْرٌ مِنْ مُشْرِكِ وَلَوْ أَعْجَبَكُمْ أُولَئِكَ يَدْعُونَ إِلَى النَّارِ وَاللَّهُ يَدْعُو إِلَى الْجَنَّةِ وَالْمَغْفِرَةِ بِإِذْنه ويبين آياته للنَّاسِ لَعَلَّهُمْ يَتَذَكَّرُونَ (۲۲۱)} [البقرة: ۲۲۱].
"আর (তোমাদের নারীদেরকে) মুশরিক পরুষদের সঙ্গে বিবাহ দিয়োনা, যতক্ষণ পর্যন্ত তারা ঈমান না আনে। মুমিন ক্রীতদাস মুশরিক অপেক্ষা উত্তম, যদিও সে তোমাদের কাছে মোহনীয় লাগে। তারা জাহান্নামের দিকে আহবান করে আর আল্লাহ তা'আলা স্বীয় আদেশ দ্বারা জান্নাত ও ক্ষমার দিকে আহবান করেন, স্বীয় নিদর্শনাবলী মানুষের জন্য স্পষ্টরূপে বর্ণনা করেন, যাতে তারা উপদেশ গ্রহণ করতে পারে।" (সূরা আল বাক্বারাহ: ১২১)
৫-উসামা বিন যায়েদ (رضي الله عنه) থেকে বর্ণিত, নাবী কারীম-ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন:
«لا يَرِثُ المُسْلِمُ الكَافِرَ ، وَلَا يَرِثُ الكَافِرُ الْمُسْلِمَ» متفق عليه، أخرجه البخاري برقم (٦٧٦٤), ومسلم برقم (١٦١٤).
"মুসলিম কাফেরের ওয়ারিস হতে পারে না এবং কাফের মুসলিমের ওয়ারিস হতে পারে না।" মুসলিম হা/১৬১৪।
মুরতাদের হত্যা বিধিসম্মত হওয়ার হিকমাহ
ইসলাম হল জীবন চলার একটি পূর্ণাঙ্গ আদর্শ, মানুষের সমস্ত প্রয়োজন ও চাহিদার পরিপূর্ণ ব্যবস্থাপক, স্বভাব ও বিবেকের পূর্ণাঙ্গ সমর্থক, দলীল ও শক্তিশালী প্রমাণের উপর প্রতিষ্ঠিত এবং মানব জীবনে সর্বোচ্চ নি'আমত। যে এই দীনে প্রবেশ করার পর তা পরিত্যাগ করল, সে অধঃপতনের অতল গহবরে নেমে গেল, আল্লাহ তা'আলা স্বীয় সৃষ্টিজীবের জন্য যে দীনের ব্যাপারে সন্তুষ্ট এমন দীনকে সে পরিত্যাগ করেছে, আল্লাহ ও তার রসূলের সাথে খিয়ানত করেছে এবং আল্লাহর নি'আমতকে অস্বীকার করেছে। বিধায় তাকে হত্যা করা ওয়াজিব; কারণ, সে সত্যকে অস্বীকার করেছে এবং কল্যাণকে পরিত্যাগ করেছে, যে কল্যাণ ব্যতীত দুনিয়া ও আখিরাতের জিন্দেগী ব্যর্থ ও নিষ্ফল হয়ে যাবে।
মুরতাদ-এর বৈশিষ্ট্য
মানুষ যখন ইসলাম ভঙ্গকারী কোনো একটি কার্য সম্পাদন করে অথবা ঐকমত্যপূর্ণ কোনো বিধানকে পূর্ণরূপে পরিবর্তন করে ফেলে অথবা ঐকমত্যপূর্ণ কোনো হারামকে হালাল বানিয়ে ফেলে অথবা ঐকমত্যপূর্ণ কোনো হালালকে হারাম বানিয়ে ফেলে অথবা আল্লাহর নাযিলকৃত বিধানের পরিবর্তে অন্যকোনো বিধান দ্বারা ফায়ছালা করে, তবে সে মুরতাদ কাফের, যদিও সে দুই সাক্ষ্যের (তাওহীদ ও রিসালাত-কালিমা শাহাদাত) স্বীকৃতি প্রদান করুক না কেনো। কারণ, মুনাফেক্বরাও এই জাতীয় সাক্ষ্যের মিথ্যা স্বীকৃতি প্রদান করত, তারা ছলাত আদায় করত এবং ছওম পালন করত তথাপি তারা জাহান্নামের সর্বনিম্নস্তরে অবস্থান করবে।
১-আল্লাহ তা'আলা বলেন:
{إِنَّ الْمُنَافِقِينَ فِي الدَّرْك الْأَسْفَلِ مِنَ النَّارِ وَلَنْ تَجِدَ لَهُمْ نَصِيرًا (١٤٥) إِلَّا الَّذِينَ تَابُوا وَأَصْلَحُوا وَاعْتَصَمُوا بِالله وَأَخْلَصُوا دِينَهُمْ لِله فَأُولَئِكَ مَعَ الْمُؤْمِنِينَ وَسَوْفَ يُؤْتِ اللَّهُ الْمُؤْمِنِينَ أَجْرًا عَظِيمًا (١٤٦)} [النساء: ١٤٥ - ١٤٦].
"নিশ্চয় মুনাফেক্বরা জাহান্নামের সর্বনিম্নস্তরে অবস্থান করবে এবং আপনি তাদের পক্ষে কোনো সাহায্যকারী খুজে পাবেন না। তবে যারা তাওবা করেছে, নিজেদেরকে সংশোধন করেছে, আল্লাহর রজ্জুকে শক্তভাবে আঁকড়ে ধরেছে এবং একনিষ্ঠভাবে আল্লাহর জন্য দীন পালন করেছে, তারা ইমানদারদের সেঙ্গে অবস্থান করবে। আল্লাহ তা'আলা অচিরেই তাদেরকে মহা প্রতিদানে ভূষিত করবেন।" (সূরা আন নিসা: ১৪৫-১৪৬)
২-আল্লাহ তা'আলা বলেন:
{وَمَنْ يُشَاقِقِ الرَّسُولَ من بعد ما تَبَيَّنَ لَهُ الْهُدَى ويتبع غَيْرَ سَبِيلِ الْمُؤْمِنِينَ نُوَلِّهِ مَا تَوَلَّى ونصله جهنم وَسَاءَتْ مَصِيرًا (١١٥)} [النساء: ١١٥].
"হেদায়েত স্পষ্ট হয়ে যাওয়ার পরেও যে আল্লাহর রসূলের বিরোধিতা করে এবং মুমিনদের রাস্তা ব্যতীত অন্যকোনো রাস্তা অবলম্বন করে, আমি তাকে তার অবলম্বন করা রাস্তার উপরেই চলতে বাধ্য করব এবং জাহান্নামের আগুনে নিক্ষেপ করব। জাহান্নাম অত্যন্ত নিকৃষ্ট ঠিকানা।” (সূরা আন নিসা: ১১৫)
📄 তাকফীর বা কাউকে কাফের বলে ঘোষণা দেয়ার বিধান
তাকফীর বা কাফের বলে ঘোষণা দেয়া: তাকফীর হল কোনো মানুষকে কাফের বলে বিধান জারি করা। কাউকে কাফের ঘোষণা দেয়া আল্লাহর একক অধিকার। বিধায় আমাদের জন্য একমাত্র আল্লাহ ও তার রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কাফের ঘোষণা করেছেন এমন ব্যক্তিকে ব্যতীত অন্য কাউকে কাফের আখ্যায়িত করা জায়েয নয়। আর যে আমাদেরকে কাফের বলে, আমরা তাকে কাফের বলি না।
সুতরাং কোনো ব্যক্তি যদি কারোর ব্যাপারে মিথ্যা দোষারোপ করে বা কারোর স্ত্রীর সঙ্গে ব্যভিচার করে, তবে অপর ব্যক্তির জন্য তার ব্যাপারে মিথ্যা দোষারোপ করা বা তার স্ত্রীর সঙ্গে ব্যভিচার করা জায়েয নেই। কেননা, মিথ্যা বলা ও ব্যভিচার করা হারাম; কারণ উভয়টিই আল্লাহ তা'আলার হক্ক। এমনিভাবে তাকফীর বা কাউকে কাফের বলা এটাও আল্লাহর হক্ক। বিধায় আল্লাহ ও তার রসূল ল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যাকে কাফের বলেছেন, একমাত্র তাকেই আমরা কাফের বলতে পারব।
১-আল্লাহ তা'আলা বলেন: {يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا إِذَا ضَرَبْتُمْ فِي سَبيل الله فَتَبَيَّنُوا وَلَا تَقُولُوا لِمَنْ أَلْقَى إِلَيْكُمُ السَّلَامَ لَسْتَ مُؤْمِنًا تَبْتَغُونَ عَرَضَ الْحَيَاةِ الدُّنْيَا فَعِنْدَ اللهِ مَغَانِمُ كَثِيرَةٌ كَذَلِكَ كُنْتُمْ مِنْ قَبْلُ فَمَنَّ اللهُ عَلَيْكُمْ فَتَبَيَّنُوا إِنَّ اللهَ كَانَ بِمَا تَعْمَلُونَ خَبِيرًا (٩٤)} [النساء: ٩٤].
"হে ইমানদারগণ, যখন তোমরা আল্লাহর রাস্তায় চলতে থাক, তখন সাবধান থেক। তোমাদেরকে কেউ সালাম দিলে তাকে বলোনা, যে তুমি মুমিন নও। তোমরা ইহকালীন সম্পত্তির মোহে পড়ে এমন করছ, অথচ আল্লাহর কাছে অফুরন্ত সম্পদ আছে। তোমরাও ইতোপূর্বে এমনি ছিলে। আল্লাহ তোমাদের উপর অনুগ্রহ করেছেন। বিধায় তোমরা আরো সাবধান হও। নিশ্চয় আল্লাহ তা'আলা তোমাদের কার্যক্রম সম্পর্কে সার্বিক জ্ঞান রাখেন।" (সূরা আন নিসা: ৯৪)
২-আব্দুল্লাহ বিন উমার থেকে বর্ণিত, রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম- বলেন:
«أَيُّمَا رَجُلٍ قال : لأخِيهِ يَا كَافِرُ، فَقَدْ بَاءَ بِهَا أَحَدُهُما» متفق عليه، أخرجه البخاري برقم (٦١٠٤), واللفظ له، ومسلم برقم (٦০).
"যদি কোনো ব্যক্তি যখন তার ভাইকে বলবে, হে কাফের, তবে তাদের উভয়ের কোনো একজন অবশ্যই উক্ত কথা (কাফের বলা) নিজের দিকে ফিরিয়ে আনল।" মুত্তাফাকুন আলাইহি, বুখারী হা/৬১০৪, মুসলিম হা/৬০।
তাকফীরের প্রকারসমূহ: তাকফীরের তিনটি রূপ: ১-ঢালাওভাবে কাফের বলা। ২-নিদিষ্ট গুণাবলীকে কুফর বলা। ৩-নির্দিষ্ট ব্যক্তিদেরকে কাফের বলা।
প্রথম রূপ: ঢালাওভাবে কাফের বলা। ঢালাওভাবে কাফের বলার অর্থ হল আলেম এবং জাহেল, ব্যাখ্যা গ্রহণকারী (জাহেরী নুদ্বুদ্ধের স্পষ্ট অর্থের মধ্যে) এবং ব্যাখ্যা অগ্রাহ্যকারী, যার নিকট সত্যকে দলীল-প্রমাণ দ্বারা সুপ্রতিষ্ঠিত করা হয়েছে এবং যার নিকট করা হয়নি এমন সকল মানুষকে সাধারণভাবে কোনো যাচাই-বাছাই না করেই কাফের বলে দেয়া। এটা হল সকল কাবীরা গুনাহের চেয়েও বড় গুনাহ, এটা বিদ'আতী ও আল্লাহর হুকুমের ব্যাপারে অজ্ঞ ব্যক্তিদের ত্বরীক্বাহ বা পথ।
দ্বিতীয় রূপ: নির্দিষ্ট গুণাবলীকে কুফর বলা। যেমন আলেমদের বক্তব্য: যে আল্লাহ ও তার রসূল কে গালি দিল, সে কুফরী করল। যে পুনরুত্থানকে অস্বীকার করল, সে কুফরী করল। যে জ্বলাত পরিত্যাগ করল, সে কুফরী করল। যে নিজের মাঝে ও আল্লাহর মাঝে মাধ্যম স্থাপন করে তাদের নিকট প্রার্থনা করল, সে কুফরী করল। এই জাতীয় কার্যক্রম কুফর, যা দীন থেকে বহিষ্কার করে দেয়। আর দীন থেকে বহিষ্কারকারী কোনো বৈশিষ্ট্য দ্বারা কোনো কার্যক্রমকে কুফর ঘোষণা দেয়া শরীয়ত সম্মত। তবে কুফর: কর্মের সংঘটককে
কাফের বলা যাবে না যতক্ষণ পর্যন্ত তাকে কাফের বলার যাবতীয় শর্তাবলী পূর্ণমাত্রায় উপস্থিত না হয় এবং তাকে কাফের বলার ক্ষেত্রে সকল বাধা-বিপত্তি দূরীভূত না হয়। বিধায় শুধুমাত্র কুফর: কর্ম সংঘটনের দ্বারাই কাউকে কাফের বলা আবশ্যকীয় হয় না।
তৃতীয় রূপ: নির্দিষ্ট ব্যক্তিদেরকে কাফের বলা।
নিদিষ্ট ব্যক্তিদেরকে কাফের বলার অর্থ হল নির্দিষ্ট করে এমন কোনো ব্যক্তিকে কাফের বলা, যে ইসলাম থেকে বহিষ্কারকারী কোনো কার্যক্রমে লিপ্ত হয়েছে। এমন ব্যক্তিকেও কাফের বলা যাবে না যতক্ষণ পর্যন্ত তাকে কাফের বলার যাবতীয় শর্তাবলী পূর্ণমাত্রায় উপস্থিত না হয় এবং তাকে কাফের বলার ক্ষেত্রে সকল বাধা-বিপত্তি দূরীভূত না হয়।
তাকফীর বা কাফের বলে ঘোষণা দেয়া: তাকফীর হল কোনো মানুষকে কাফের বলে বিধান জারি করা। কাউকে কাফের ঘোষণা দেয়া আল্লাহর একক অধিকার। বিধায় আমাদের জন্য একমাত্র আল্লাহ ও তার রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কাফের ঘোষণা করেছেন এমন ব্যক্তিকে ব্যতীত অন্য কাউকে কাফের আখ্যায়িত করা জায়েয নয়। আর যে আমাদেরকে কাফের বলে, আমরা তাকে কাফের বলি না।
সুতরাং কোনো ব্যক্তি যদি কারোর ব্যাপারে মিথ্যা দোষারোপ করে বা কারোর স্ত্রীর সঙ্গে ব্যভিচার করে, তবে অপর ব্যক্তির জন্য তার ব্যাপারে মিথ্যা দোষারোপ করা বা তার স্ত্রীর সঙ্গে ব্যভিচার করা জায়েয নেই। কেননা, মিথ্যা বলা ও ব্যভিচার করা হারাম; কারণ উভয়টিই আল্লাহ তা'আলার হক্ক। এমনিভাবে তাকফীর বা কাউকে কাফের বলা এটাও আল্লাহর হক্ক। বিধায় আল্লাহ ও তার রসূল ল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যাকে কাফের বলেছেন, একমাত্র তাকেই আমরা কাফের বলতে পারব।
১-আল্লাহ তা'আলা বলেন: {يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا إِذَا ضَرَبْتُمْ فِي سَبيل الله فَتَبَيَّنُوا وَلَا تَقُولُوا لِمَنْ أَلْقَى إِلَيْكُمُ السَّلَامَ لَسْتَ مُؤْمِنًا تَبْتَغُونَ عَرَضَ الْحَيَاةِ الدُّنْيَا فَعِنْدَ اللهِ مَغَانِمُ كَثِيرَةٌ كَذَلِكَ كُنْتُمْ مِنْ قَبْلُ فَمَنَّ اللهُ عَلَيْكُمْ فَتَبَيَّنُوا إِنَّ اللهَ كَانَ بِمَا تَعْمَلُونَ خَبِيرًا (٩٤)} [النساء: ٩٤].
"হে ইমানদারগণ, যখন তোমরা আল্লাহর রাস্তায় চলতে থাক, তখন সাবধান থেক। তোমাদেরকে কেউ সালাম দিলে তাকে বলোনা, যে তুমি মুমিন নও। তোমরা ইহকালীন সম্পত্তির মোহে পড়ে এমন করছ, অথচ আল্লাহর কাছে অফুরন্ত সম্পদ আছে। তোমরাও ইতোপূর্বে এমনি ছিলে। আল্লাহ তোমাদের উপর অনুগ্রহ করেছেন। বিধায় তোমরা আরো সাবধান হও। নিশ্চয় আল্লাহ তা'আলা তোমাদের কার্যক্রম সম্পর্কে সার্বিক জ্ঞান রাখেন।" (সূরা আন নিসা: ৯৪)
২-আব্দুল্লাহ বিন উমার থেকে বর্ণিত, রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম- বলেন:
«أَيُّمَا رَجُلٍ قال : لأخِيهِ يَا كَافِرُ، فَقَدْ بَاءَ بِهَا أَحَدُهُما» متفق عليه، أخرجه البخاري برقم (٦١٠٤), واللفظ له، ومسلم برقم (٦০).
"যদি কোনো ব্যক্তি যখন তার ভাইকে বলবে, হে কাফের, তবে তাদের উভয়ের কোনো একজন অবশ্যই উক্ত কথা (কাফের বলা) নিজের দিকে ফিরিয়ে আনল।" মুত্তাফাকুন আলাইহি, বুখারী হা/৬১০৪, মুসলিম হা/৬০।
তাকফীরের প্রকারসমূহ: তাকফীরের তিনটি রূপ: ১-ঢালাওভাবে কাফের বলা। ২-নিদিষ্ট গুণাবলীকে কুফর বলা। ৩-নির্দিষ্ট ব্যক্তিদেরকে কাফের বলা।
প্রথম রূপ: ঢালাওভাবে কাফের বলা। ঢালাওভাবে কাফের বলার অর্থ হল আলেম এবং জাহেল, ব্যাখ্যা গ্রহণকারী (জাহেরী নুদ্বুদ্ধের স্পষ্ট অর্থের মধ্যে) এবং ব্যাখ্যা অগ্রাহ্যকারী, যার নিকট সত্যকে দলীল-প্রমাণ দ্বারা সুপ্রতিষ্ঠিত করা হয়েছে এবং যার নিকট করা হয়নি এমন সকল মানুষকে সাধারণভাবে কোনো যাচাই-বাছাই না করেই কাফের বলে দেয়া। এটা হল সকল কাবীরা গুনাহের চেয়েও বড় গুনাহ, এটা বিদ'আতী ও আল্লাহর হুকুমের ব্যাপারে অজ্ঞ ব্যক্তিদের ত্বরীক্বাহ বা পথ।
দ্বিতীয় রূপ: নির্দিষ্ট গুণাবলীকে কুফর বলা। যেমন আলেমদের বক্তব্য: যে আল্লাহ ও তার রসূল কে গালি দিল, সে কুফরী করল। যে পুনরুত্থানকে অস্বীকার করল, সে কুফরী করল। যে জ্বলাত পরিত্যাগ করল, সে কুফরী করল। যে নিজের মাঝে ও আল্লাহর মাঝে মাধ্যম স্থাপন করে তাদের নিকট প্রার্থনা করল, সে কুফরী করল। এই জাতীয় কার্যক্রম কুফর, যা দীন থেকে বহিষ্কার করে দেয়। আর দীন থেকে বহিষ্কারকারী কোনো বৈশিষ্ট্য দ্বারা কোনো কার্যক্রমকে কুফর ঘোষণা দেয়া শরীয়ত সম্মত। তবে কুফর: কর্মের সংঘটককে
কাফের বলা যাবে না যতক্ষণ পর্যন্ত তাকে কাফের বলার যাবতীয় শর্তাবলী পূর্ণমাত্রায় উপস্থিত না হয় এবং তাকে কাফের বলার ক্ষেত্রে সকল বাধা-বিপত্তি দূরীভূত না হয়। বিধায় শুধুমাত্র কুফর: কর্ম সংঘটনের দ্বারাই কাউকে কাফের বলা আবশ্যকীয় হয় না।
তৃতীয় রূপ: নির্দিষ্ট ব্যক্তিদেরকে কাফের বলা।
নিদিষ্ট ব্যক্তিদেরকে কাফের বলার অর্থ হল নির্দিষ্ট করে এমন কোনো ব্যক্তিকে কাফের বলা, যে ইসলাম থেকে বহিষ্কারকারী কোনো কার্যক্রমে লিপ্ত হয়েছে। এমন ব্যক্তিকেও কাফের বলা যাবে না যতক্ষণ পর্যন্ত তাকে কাফের বলার যাবতীয় শর্তাবলী পূর্ণমাত্রায় উপস্থিত না হয় এবং তাকে কাফের বলার ক্ষেত্রে সকল বাধা-বিপত্তি দূরীভূত না হয়।
📄 নির্দিষ্ট করে কোনো ব্যক্তিকে কাফের বলার শর্তসমূহ
নিদিষ্ট করে কোনো ব্যক্তিকে কাফের বলার জন্য দুটি শর্ত প্রযোজ্য:
প্রথম শর্ত: এমন কোনো কাজ, যা দ্বারা সংশ্লিষ্ট কাজের সংঘটককে কাফের বলা যাবে এই ব্যাপারে দলীল প্রতিষ্ঠিত হওয়া।
দ্বিতীয় শর্ত: সংশ্লিষ্ট কাজের সংঘটকের উপর - কাফের হওয়ার - বিধানটি পূর্ণমাত্রায় প্রযোজ্য হওয়া অর্থাৎ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি উক্ত বিষয়ে জ্ঞাত হওয়া, উক্ত বিষয়টি ইচ্ছাকৃতভাবে করা এবং উক্ত বিষয়ে স্বাধীন হওয়া। তবে যদি উক্ত ব্যক্তিকে কাফের ঘোষণা করার ক্ষেত্রে কোনো বাধা-বিপত্তি থাকে, যেমন, মূর্খতা বা ভুল বশতঃ কাজটি করা অথবা চাপের মুখে বাধ্য হয়ে কাজটি করা অথবা গ্রহণযোগ্য কোনো ব্যাখ্যার আশ্রয় নিয়ে কাজটি করা, তবে এই ব্যক্তিকে কাফের বলা যাবে না। আর আমাদের জন্য কোনো ব্যক্তিকে নির্দিষ্ট করে কাফের হওয়ার বিধান দেয়া জায়েয হবে না যতপক্ষণ পর্যন্ত তার নিকট সত্যকে দলীল দ্বারা প্রতিষ্ঠিত করা সত্ত্বেও সে উক্ত কুফরী উপর অবিচল না থাকে।
নিদিষ্ট করে কোনো ব্যক্তিকে কাফের বলার জন্য দুটি শর্ত প্রযোজ্য:
প্রথম শর্ত: এমন কোনো কাজ, যা দ্বারা সংশ্লিষ্ট কাজের সংঘটককে কাফের বলা যাবে এই ব্যাপারে দলীল প্রতিষ্ঠিত হওয়া।
দ্বিতীয় শর্ত: সংশ্লিষ্ট কাজের সংঘটকের উপর - কাফের হওয়ার - বিধানটি পূর্ণমাত্রায় প্রযোজ্য হওয়া অর্থাৎ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি উক্ত বিষয়ে জ্ঞাত হওয়া, উক্ত বিষয়টি ইচ্ছাকৃতভাবে করা এবং উক্ত বিষয়ে স্বাধীন হওয়া। তবে যদি উক্ত ব্যক্তিকে কাফের ঘোষণা করার ক্ষেত্রে কোনো বাধা-বিপত্তি থাকে, যেমন, মূর্খতা বা ভুল বশতঃ কাজটি করা অথবা চাপের মুখে বাধ্য হয়ে কাজটি করা অথবা গ্রহণযোগ্য কোনো ব্যাখ্যার আশ্রয় নিয়ে কাজটি করা, তবে এই ব্যক্তিকে কাফের বলা যাবে না। আর আমাদের জন্য কোনো ব্যক্তিকে নির্দিষ্ট করে কাফের হওয়ার বিধান দেয়া জায়েয হবে না যতপক্ষণ পর্যন্ত তার নিকট সত্যকে দলীল দ্বারা প্রতিষ্ঠিত করা সত্ত্বেও সে উক্ত কুফরী উপর অবিচল না থাকে।