📄 রিদ্দাহ-এর প্রকারসমূহ
ইসলাম ভঙ্গকারী যেকোনো কারণই আবশ্যকীয়ভাবে রিদ্দাহ বা দীনত্যাগের পরিণাম ডেকে আনে। ইসলাম ভঙ্গকারী কারণটি কোনো কথা বা কোনো কাজ বা কোনো আক্বীদাগত বিশ্বাস বা কোনোপ্রকার সন্দেহ যেকোনোটিই হতে পারে।
রিদ্দাহ ইসলাম ভঙ্গকারী কারণসমূহের মধ্যে - নিম্নে বর্ণিত - যেকোনো একটি কারণে লিপ্ত হওয়ার দ্বারাই সংঘটিত পারে:
প্রথম কারণ: আক্বীদাগত বিশ্বাসের দ্বারা রিদ্দাহ বা দীনত্যাগ (الردة بالاعتقاد) |
এটা সংঘটিত হতে পারে নিম্নেবর্ণিত যেকোনো একটি কারণে:
* আল্লাহর কোনো অংশীদার আছে বলে বিশ্বাস করা। * অথবা আল্লাহ তা'আলা ফক্বীর বা জালেম মনে মনে এমন বিশ্বাস লালন করা।
* অথবা রব ও ইলাহ বলতে কিছু নেই, পুনরুত্থান ও হাশর বলতে কিছু নেই, জান্নাত-জাহান্নাম বলতে কিছু নেই, ছুওয়াব-শাস্তি বলতে কিছু নেই এমন বিশ্বাস পোষণ করা।
* অথবা রসূলগণকে অবিশ্বাস করা বা আল্লাহর পক্ষ থেকে নাযিলকৃত কিতাবসমূহকে অস্বীকারমূলক কোনো বিশ্বাস হৃদয়ে ধারণ করা।
* অথবা মুহাম্মাদ-ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-সত্যবাদী নন বা তিনি শেষ নাবী নন এমন বিশ্বাস পোষণ করা।
* অথবা দীনের কোনো বিষয়ে রাগ-গোস্বা পোষণ করা যদিও উক্ত বিষয়ের প্রতি আমল করা হয়।
* অথবা দু'আতে আল্লাহ তা'আলার সাথে গায়রুল্লাহকেও -যেমন: কোনো মালাক-ফেরেশতা বা নাবী বা গাছ বা পাথর বা জ্বীন অথবা অন্যান্য যেসকল বস্তু শয়তান সুসজ্জিত করে উপস্থাপন করে অনেক আদম সন্তানের সম্মুখে আহবান করা যাবে এমন বিশ্বাস পোষণ করা।
* অথবা আল্লাহ তা'আলার নাযিলকৃত শরীয়াহ-এর পরিবর্তে অন্য কোনো শারীয়াহ দ্বারা বিধান দেয়া জায়েয এমন বিশ্বাস পোষণ করা।
* অথবা ইসলামেরে রুকনসমূহ ওয়াজিব বা আবশ্যক নয় এমনটি পোষণ করা।
* অথবা কুফর, শিরক, নিফাক্ব ও যুলুম করা জায়েয আছে, যে এটা করতে চায়।
* অথবা সুদ, ব্যভিচার, মদ পান ও অশ্লীল কর্মকাণ্ডসমূহ জায়েয মনে করা।
* অথবা পানি, রুটি ও এই জাতীয় বস্তুগুলোকে হারাম মনে করা, যেগুলোর ওয়াজিব হওয়া বা হালাল হওয়া বা হারাম হওয়া অকাট্য দলীল দ্বারা প্রমাণিত এবং উক্ত আক্বীদাহ পোষণকারী ব্যক্তি এই বিষয়ে অজ্ঞাত নন।
তাহলে এগুলো সবই কুফর ও ইসলাম থেকে স্থানান্তর বলে বিবেচিত হবে। আর এগুলো হল দীনত্যাগের সবচেয়ে বড় প্রকার। বিধায়, যে ব্যক্তি উপরোক্ত কোনো একটি বিষয়ের প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করে, সে কাফের মুরতাদ (দীনত্যাগী
কাফের) হয়ে যাবে। তার সমস্ত আমল বাতিল হয়ে যাবে, তার ঠিকানা জাহান্নাম যদি সে তাওবা না করেই মৃত্যুবরণ করে।
১-আল্লাহ তা'আলা বলেন;
{وَمَنْ يَرْتَدِدْ مِنْكُمْ عَنْ دِينِهِ فَيَمُتْ وَهُوَ كَافِرٌ فَأُولَئِكَ حَبِطَتْ أَعْمَالُهُمْ فِي الدُّنْيَا وَالْآخِرَةِ وأُولَئِكَ أَصْحَابُ النَّارِ هُمْ فِيهَا خَالِدُونَ (۲۱۷)} [البقرة: ۲۱۷].
"আর তোমাদের মধ্যে থেকে যারা স্বীয় দীন পরিত্যাগ করবে, অতঃপর কাফের হয়ে মৃত্যুবরণ করবে, তাদের আমল দুনিয়া ও আখেরাত উভয় জগতেই ব্যর্থতায় পর্যবসিত হবে, তারা হল জাহান্নামের বাসিন্দা, তারা চিরস্থায়ী জাহান্নামী।" (সূরা আল বাক্বারাহ: ২১৭)
২-আল্লাহ তা'আলা বলেন;
{إِنَّ الَّذِينَ ارْتَدُّوا عَلَى أَدْبَارِهِمْ مِنْ بَعْدِ مَا تَبَيَّنَ لَهُمُ الْهُدَى الشَّيْطَانُ سَوَّلَ لَهُمْ وَأَمْلَى لهم (٢٥)} [محمد: ٢٥].
"নিশ্চয় যাদের সামনে হেদায়েত স্পষ্ট হয়ে যাওয়ার পরেও তারা দীনকে পৃষ্ঠে ফেলে চলে গেছে, তাদেরকে শয়তান অবশ্যই কুমন্ত্রণা প্রদান করেছে এবং মিথ্যা আশ্বাস দিয়েছে।” (সূরা মুহাম্মাদ: ২৫)
৩-আল্লাহ তা'আলা বলেন:
{ فَلَا وَرَبِّكَ لَا يُؤْمِنُونَ حَتَّى يُحَكِّمُوكَ فِيمَا شَجَرَ بينهم ثُمَّ لَا يَجِدُوا فِي أَنْفُسِهِمْ حَرَجًا ممَّا قَضَيْتَ وَيُسَلِّمُوا تَسْلِيمًا (٦٥)} [النساء: ٦٥] .
"আপনার রবের শপথ, তারা ঈমানদার হবে না, যতক্ষণ পর্যন্ত তাদের মাঝে ঘটে যাওয়া বিবাদগুলোর মীমাংসা করার ক্ষেত্রে আপনাকে তারা বিচারক হিসেবে মেনে নিয়ে তাদের হৃদয়ে কোনোপ্রকার সঙ্কীর্ণতা অনুভব না করে এবং আপনার সিদ্ধান্তকে পরিপূর্ণভাবে স্বীকার করে না নেয়।" (সূরা আন নিসা: ৬৫)
দ্বিতীয় কারণ: সন্দেহ পোষণ করার দ্বারা রিদ্দাহ বা দীনত্যাগ (الردة بالشك):
এটা সংঘটিত হতে পারে নিম্নেবর্ণিত যেকোনো একটি কারণে: ইতোপূর্বে বর্ণিত সবগুলো বিষয়ে বা কিছু বিষয়ে সন্দেহ পোষণ করা। যেমন:
* কেউ শিরক ও মুল্লুক হারাম হওয়ার ব্যাপারে সন্দেহ পোষণ করল।
* বা সুদ, ব্যভিচার ও মদ পান হারাম হওয়ার ব্যাপারে সন্দেহ পোষণ করল।
* বা ছলাত ও যাকাত ওয়াজিব হওয়ার ব্যাপারে সন্দেহ করল।
* বা পানি ও রুটি বৈধ হওয়ার ব্যাপারে সন্দেহ করল।
* বা আল্লাহর কিতাবসমূহের যথার্থতা ও সঠিকতার ব্যাপারে সন্দেহ করল।
* বা তাঁর রসূলগণের ব্যাপারে সন্দেহ করল।
* বা ইসলাম ও তা শাশ্বত হওয়া ও সর্বগুণে উপযোগী হওয়ার ব্যাপারে সন্দেহ করল।
আর সন্দেহের দৃষ্টান্ত হল: এমন কথা বলা, যেমন: আমি জানি না যে, আল্লাহ্ তা'আলার অস্তিত্ব বাস্তবিক না অবাস্তব?
আমি জানি না যে, রসূল সত্য না মিথ্যা?
আমি জানি না যে, পুনরুত্থান সত্যিই সংঘটিত হবে কি-না?
আমি জানি না যে, জান্নাত ও জাহান্নাম সত্য না মিথ্যা?
আমি জানি না যে, রসূল -সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম- শেষ নবী কি-না?
অথবা এমন কথা বলা: ছলাত ওয়াজিব কি-না সে বিষয়ে আমার সন্দেহ আছে? ইত্যাদি।
উক্ত সন্দেহগুলো কুফর আল-আকবার এবং রিদ্দাহ দীনত্যাগের শামিল। বিধায় যে উপরের কোনো একটি বিষয়ে সন্দেহ পোষণ করল, সে মুরতাদ কাফের (দীনত্যাগী কাফের) বলে বিবেচিত হবে। তার সমস্ত আমল বাতিল বলে গণ্য হবে। কিয়ামতের দিবসে তার ঠিকানা হবে জাহান্নাম যদি তাওবা না করে মৃত্যুবরণ করে।
তবে আকস্মিকভাবে হৃদয়ে উদ্ভূত হওয়া ওয়াসওয়াসা এটা ঈমানের জন্য ক্ষতিকর নয় যদি মুসলিম ব্যক্তি তা দমন করে, তার কাছে নিজেকে সঁপে না দেয় এবং তার তার হৃদয়ে সেই ওয়াসওয়াসাকে স্থায়ী হতে না দেয়। তার জন্য ওয়াজিব হল- আল্লাহ্ তা'আলার নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করা, নিজের মনে চলমান রাখা।
ওয়াসওয়াসা থেকে নিজেকে বাঁচিয়ে রাখা এবং এই কথা বলা: আমি আল্লাহ ও তার রসূলগণের প্রতি ঈমান আনলাম।
১-আল্লাহ তা'আলা বলেন:
{إِنَّمَا يَسْتَأْذِنُكَ الَّذِينَ لَا يُؤْمِنُونَ بِالله وَالْيَوْمِ الْآخِرِ وارتابت قلوبهم فهم في ريبهم يترددون (٤٥)} [التوبة: ٤٥] .
"আপনার কাছে নিষ্ক্রিয়ভাবে বসে থাকার অনুমতি প্রার্থনা করে ঐ সকল লোক, যারা আল্লাহর প্রতি এবং পরকালের প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করেনি এবং তাদের হৃদয় সন্দেহপ্রবণ, ফলে তারা তাদের সংশয়ের মাঝেই সিদ্ধান্তহীনভাবে চলতে থাকুক।” (সূরা আত তাওবা: ৪৫)
২-আবু হুরায়রা ( থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন:
«إِنَّ اللَّهَ تَجَاوَزَ الأُمَّتِي مَا حَدَّثَتْ بِهِ أَنْفُسَهَا مَا لَمْ يَتَكَلَّمُوا أَوْ يَعْمَلُوا به» متفق عليه، আখরজে বুখারী বরকম (২৫২৮), ও মুসলিম বরকম (১২৭), ওয়াললফজ লেহু।
"আল্লাহ তা'আলা আমার উম্মতের ঐ সকল গুনাহসমূহ ক্ষমা করে দিয়েছেন, যেগুলো তাদের মনে খারাপ ভাবনার উদ্রেকের দ্বারা সংঘটিত হয়, যতক্ষণ পর্যন্ত তারা উক্ত কথা মুখে উচ্চারণ না করে অথবা উক্ত কাজ সংঘটিত না করে।"
৩-আবু হুরায়রা ( এর সূত্রে বর্ণিত, রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন:
يَأْتِي الشَّيْطَانُ أَحَدَكُمْ فَيَقُولُ: مَنْ خَلَقَ كَذَا ، مَنْ خَلَقَ كَذَا، حَتَّى يَقُولَ: مَنْ خَلَقَ ربك؟ فَإِذا بلغه فليستعذ بالله ولينته» متفق عليه، أخرجه البخاري برقم (٣٢٧٦), واللفظ له، ومسلم برقم (١٣٤).
"শয়তান তোমাদের কারো কাছে এসে প্রথমে বলবে, এটা কে সৃষ্টি করেছে, এটা কে সৃষ্টি করেছে, এমনকি এক পর্যায়ে সে বলে, তোমার রবকে কে সৃষ্টি করেছে? যদি তোমাদের কেউ এই পর্যায়ে উপনীত হয়, তবে সে যেন আল্লাহ তা'আলার নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করে এবং এমন ভাবনা থেকে বিরত হয়।"
৪-আবু হুরায়রা () থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসুলুল্লাহ-ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-বলেন:
«إنَّ الشَّيْطَانَ يَأْتِي أَحَدَكُمْ فَيَقُولُ : مَنْ خَلَقَ السَّمَاءَ؟ فَيَقُولُ: اللَّهُ عَزَّ وَجَلَّ، فَيَقُولُ مَنْ خَلَقَ الأَرْضَ؟ فَيَقُولُ: اللَّهُ ، فَيَقُولُ : مَنْ خَلَقَ اللَّهُ؟ فَإِذَا أَحَسٌ أَحَدُكُمْ بِشَيْءٍ مِنْ هَذَا فليقل: آمنت بالله وبرسله صحيح أخرجه أحمد برقم (٨٣٧٦), وهذا لفظه، ومسلم برقم (١٣٤)
"শয়তান তোমাদের কারো নিকট প্রথমে এসে বলে আসমান কে সৃষ্টি করেছে? সে উত্তরে বলে মহান আল্লাহ তা'আলা। অতঃপর সে প্রশ্ন করে কে যমীন সৃষ্টি করেছে? তখন সে উত্তরে বলে আল্লাহ তা'আলা। অতঃপর সে বলে আল্লাহকে কে সৃষ্টি করেছে? তোমাদের কারো মনে এমন প্রশ্নের উদ্রেক হলে সে যেন তৎক্ষণাৎ বলে আমি আল্লাহ ও তার রসূলগণের প্রতি ঈমান আনলাম।
তৃতীয় কারণ: কথার দ্বারা রিদ্দাহ বা দীনত্যাগ )الردة بالقول( :
এটা সংঘটিত হয় নিম্নেবর্ণিত বিষয়গুলো দ্বারা:
* আল্লাহ তা'আলাকে গালি দেয়া বা তার রসূলগণকে গালি দেয়া বা তার মালাইকা-ফেরেশতাদেরকে গালি দেয়া বা তার কিতাবসমূহকে গালি দেয়া
* বা গায়রুল্লাহের নিকট দু'আ করা বা আল্লাহ তা'আলা ছাড়া অন্যকেউ করতে সক্ষম নয় এমন ক্ষেত্রে গায়রুল্লাহ-এর কাছে সাহায্য প্রার্থনা করা
* বা নাবী হওয়ার দাবী করা বা নাবী হওয়ার দাবিদারকে সত্যায়ন করা
* অথবা দীন বা দীনের কোনো বিষয় নিয়ে ঠাট্টা করা বা ছাহাবাগণকে অথবা কোনো একজন ছাহাবীকে গালি দেয়া।
* অথবা বাহ্যিকভাবে হারাম বিষয়গুলো যেমন: সুদ, ব্যাভিচার, মদ ও এ জাতীয় বিষয়গুলোর হারাম হওয়াকে অস্বীকার করা।
* অথবা বাহ্যিকভাবে ওয়াজিব এমন বিষয়গুলো যেমন: ছলাত, যাকাত, ছিয়াম, হজ্ব ও এ জাতীয় বিষয়গুলোর ওয়াজিব হওয়াকে অস্বীকার করা অথচ তার মত ব্যক্তির এগুলো অজানা থাকার কথা নয়।
যে এমন ও এই জাতীয় কথা-বার্তা বলে, সে কাফের ইসলাম ধর্মকে পরিত্যাগকারী। তার সমস্ত আমল বাতিল হয়ে যাবে। তার ঠিকানা জাহান্নাম যদি মৃত্যুর পূর্বে তাওবা না করে।
১-আল্লাহ তা'আলা বলেন:
{وَلَقَدْ أُوحِيَ إِلَيْكَ وَإِلَى الَّذِينَ مِنْ قَبْلِكَ لَئِنْ أَشْرَكْتَ لَيَحْبَطَنَّ عَمَلُكَ وَلَتَكُونَنَّ مِنَ الْخَاسِرِينَ (٦٥) بَلِ اللَّهَ فَاعْبُدْ وَكُنْ مِنَ الشَّاكِرِينَ (٦٦)} [الزمر: ٦٥ - ٦٦] .
"আপনার নিকট এবং আপনার পূর্ববর্তীদের নিকট এই মর্মে প্রত্যাদেশ পাঠানো হয়েছে যে, যদি আপনি আল্লাহর সঙ্গে অংশীদার সাব্যস্ত করেন, তবে আপনার আমল ধ্বংস হয়ে যাবে এবং আপনি চিরস্থায়ী ক্ষতিগ্রস্থদের অন্তর্ভুক্ত হবেন। বিধায় একমাত্র আল্লাহর ইবাদত করুন এবং শুকরিয়া আদায়কারীদের অন্তর্ভুক্ত হয়ে যান।" (সূরা আয-যুমার: ৬৫-৬৬)
২-আল্লাহ তা'আলা বলেন:
{ وَمَنْ أَظْلَمُ مِمَّنِ افْتَرَى عَلَى اللهِ كَذِبًا أَوْ قَالَ أُوحِيَ إِلَيَّ وَلَمْ يُوحَ إِلَيْهِ شَيْءٌ وَمَنْ قَالَ سَأُنْزِلُ مِثْلَ مَا أَنْزَلَ اللَّهُ} [الأنعام: ٩٣].
"ঐ ব্যক্তির চেয়ে বড় অন্যায়কারী আর কে হতে পারে যে, আল্লাহর প্রতি মিথ্যারোপ করে অথবা এই কথা বলে যে, আমার কাছে অহী এসেছে, অথচ তাঁর কাছে কোনো অহীই আসেনি অথবা এই কথা বলে যে, আল্লাহ তা'আলা যেরূপ আয়াত নাযিল করেছেন, ঠিক তদ্রূপ আয়াত আমিও নাযিল করব।" (সূরা আল আন'আম: ৯৩)
৩-আল্লাহ তা'আলা বলেন:
{فَمَنْ أَظْلَمُ مِمَّنِ افْتَرَى عَلَى اللَّهِ كَذِبًا أَوْ كَذَّبَ بِآيَاتِهِ إِنَّهُ لَا يُفْلِحُ الْمُجْرِمُونَ (۱۷)} [يونس: ۱۷] .
ঐ ব্যক্তির চেয়ে বড় জালেম আর কে হতে পারে যে, আল্লাহর প্রতি মিথ্যারোপ করে অথবা তাঁর আয়াতসমূহকে মিথ্যা প্রতিপন্ন করে। নিশ্চয় অপরাধীরা সফল হয় না।” (সূরা ইউনুস: ১৭)
৪-আল্লাহ তা'আলা বলেন:
{فَمَنْ أَظْلَمُ مِمَّنْ كَذَبَ عَلَى اللهِ وَكَذَّبَ بِالصِّدْقِ إِذْ جَاءَهُ أَلَيْسَ فِي جَهَنَّمَ مَثْوًى لِّلْكَافِرِينَ (۳۲)} [الزمر: ٣٢].
"ঐ ব্যক্তির চেয়ে বড় জালেম আর কে হতে পারে যে, আল্লাহর প্রতি মিথ্যারোপ করে এবং সত্য তাঁর নিকট আসার পরেও সেটাকে মিথ্যা সাব্যস্ত করে। জাহান্নام কি কাফেরদের ঠিকানা নয়?" (সূরা আয যুমার: ৩২)
৫-আল্লাহ তা'আলা বলেন:
{وَلَئِن سَأَلْتَهُمْ لَيَقُولُنَّ إِنَّمَا كُنَّا نَخُوضُ وَنَلْعَبُ قُلْ أَبِالله وَآيَاتِهِ وَرَسُولِهِ كُنتُمْ تَسْتَهْزِئُونَ (٦٥) لَا تَعْتَذِرُوا قَدْ كَفَرْتُمْ بَعْدَ إِيمَانِكُمْ} [التوبة: ٦٥ - ٦٦].
"আর যদি আপনি তাদেরকে জিজ্ঞাসা করেন, তবে তারা বলবে, আমরা তো কথার কথা বলছিলাম আর ঠাট্টা-কৌতুক করছিলাম। আপনি বলুন, তোমরা কি আল্লাহর সাথে, তাঁর আয়াতসমূহের সাথে এবং তাঁর রসূলের সাথে ঠাট্টা করছ? তোমরা ছলনা করো না, তোমরা ঈমান আনার পর কাফের হয়ে গেছ। তোমাদের কিছু লোককে আমি ক্ষমা করে দিলেও কিছু লোককে অবশ্যই শাস্তি দিব। কারণ, তারা প্রকৃতপক্ষেই অপরাধী।” (সূরা আত তাওবা: ৬৫-৬৬)
চতুর্থ কারণ: কার্যক্রমের দ্বারা রিদ্দাহ বা দীনত্যাগ (الردة بالفعل) :
কার্যক্রমের দ্বারা দীনত্যাগ নিম্নেবর্ণিত বিষয়গুলোর দ্বারা হতে পারে। * গাছপালা, পাথরসমূহ ও অন্যান্য বস্তুর দ্বারা তৈরী মূর্তির পূজা করা। * কবরের উপর সেজদাহ করা, কবরের উপর তাওয়াফ করা, * গায়রুল্লাহের উদ্দেশ্যে জবেহ করা, * মুছহাফ তথা কুরআন মাজীদকে তুচ্ছ তাচ্ছিল্য করা, কুরআন মাজীদকে অবমাননা করে তার উপর বসা,
* আল্লাহ তা'আলার নাযিলকৃত শারীয়াহ ব্যতীত অন্যকোনো শারীয়াহ দ্বারা বিধান দেয়া।
* যাদু শিক্ষা করা ও শিক্ষা দেয়া, মুশরিকদের পৃষ্ঠপোষকতা করা এবং মুসলিমদের বিরুদ্ধে তাদেরকে সহযোগীতা করা, আল্লাহ তা'আলার দীন থেকে এমনভাবে মুখ ফিরিয়ে নেয়া যে, তা শিক্ষা করা ও তার উপর আমল করা হতে সম্পূর্ণরূপে বিরত থাকা, হারাম বিষয়গুলোকে বৈধ মনে করা এবং জ্বলাত পরিত্যাগ করা ইত্যাদি।
যে এই বিষয়গুলো বা এ জাতীয় কার্যক্রম সাধন করবে, সে ইসলাম পরিত্যাগকারী কাফের। তার সকল আমল বাতিল বলে গণ্য হবে। তার ঠিকানা জাহান্নাম হবে যদি মৃত্যুকালীন তাওবা তার নাছীব না হয়।
১-আল্লাহ তা'আলা বলেন: {وَلَقَدْ أُوحِيَ إِلَيْكَ وَإِلَى الَّذِينَ مِنْ قَبْلِكَ لَئِنْ أَشْرَكْتَ لَيَحْبَطَنَّ عَمَلُكَ وَلَتَكُونَنَّ مِنَ الخاسرين (٦٥)} [الزمر: ٦٥] .
"আপনার নিকট এবং আপনার পূর্ববর্তীদের নিকট এই মর্মে প্রত্যাদেশ পাঠানো হয়েছে যে, যদি আপনি আল্লাহর সঙ্গে অংশীদার সাব্যস্ত করেন, তবে আপনার আমল ধ্বংস হয়ে যাবে এবং আপনি চিরস্থায়ী ক্ষতিগ্রস্থদের অন্তর্ভুক্ত হবে।" (সূরা আয যুমার: ৬৫)
২-আল্লাহ তা'আলা বলেন: {وَمَنْ لَمْ يَحْكُمْ بِمَا أَنْزَلَ اللهُ فَأُولَئِكَ هُمُ الْكَافِرُونَ (٤٤)} [المائدة: ٤٤] .
"আর যে আল্লাহর নাযিলকৃত বিধান অনুযায়ী বিচার না করে, সে কাফের।" (সূরা আল-মায়িদাহ:৪৪)
৩-আল্লাহ তা'আলা বলেন: {يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا لَا تَتَّخِذُوا الْيَهُودَ وَالنَّصَارَى أَوْلِيَاءَ بَعْضُهُمْ أَوْلِيَاءُ بَعْضٍ وَمَنْ يَتَوَلَّهُمْ منكم فإنه منهم إنَّ اللهَ لَا يَهْدِي الْقَوْمَ الظَّالِمِينَ (٥١)} [المائدة: ٥١].
"হে ইমানদারগণ, তোমরা ইয়াহুদী ও নাছারাদেরকে বন্ধুরূপে গ্রহণ করো না, তারা একে অপরের বন্ধু। তোমাদের মধ্যে যে তাদেরকে বন্ধুরূপে গ্রহণ করবে,
সে তাদেরই দলভুক্ত হয়ে যাবে। নিশ্চয় আল্লাহ তা'আলা জালেম সম্প্রদায়কে হেদায়েত দান করেন না।" (সূরা আল মায়িদাহ: ৫১)
৪-আল্লাহ তা'আলা বলেন: { وَاتَّبَعُوا مَا تَتْلُو الشَّيَاطِينُ عَلَى مُلْكِ سُلَيْمَانَ وَمَا كَفَرَ سُلَيْمَانُ وَلَكِنَّ الشَّيَاطِينَ كَفَرُوا يعلمون الناس السحر} [البقرة: ١٠٢].
"তারা এমন শাস্ত্রের অনুসরণ করে, যা সুলায়মান আলাইহিস সালাম – এর রাজত্বকালে শয়তানরা আবৃত্তি করত। সুলায়মান আলাইহিস সালাম- কুফর করেননি, কিন্তু শয়তানরা কুফর করেছে, যারা মানুষকে যাদুবিদ্যা শিক্ষা দিত।" (সূরা আল বাক্বারাহ: ১০২)
৫-জাবির বিন আব্দুল্লাহ () থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমি রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছি: «إِنَّ بَينَ الرَّجُلِ وَبَيْنَ الشِّرْكِ وَالكُفْرِ تَرْكَ الصَّلاة». أخرجه مسلم برقم (৮২).
"ব্যক্তি এবং শিরক ও কুফরের মধ্যে পার্থক্য হলো জ্বলাত পরিত্যাগ করা।" ছুহীহ মুসলিম হা/৮২।
রিদ্দাহ বা দীনত্যাগের সবচে ভয়াবহ প্রকার
রিদ্দাহ বা দীনত্যাগ কথার দ্বারা হতে পারে, কাজের দ্বারা হতে পারে, আক্বীদাগত বিশ্বাসের দ্বারা হতে পারে এবং সন্দেহ পোষণ করার দ্বারাও হতে পারে। তবে এগুলোর মধ্যে সবচেয়ে মারাত্মক ও সাংঘাতিক প্রকার হল যা উপরোক্ত প্রকারগুলোর সমস্ত উপকরণের সমন্বয়ক, অপরাধের দিক থেকে সবচেয়ে জঘন্য এবং শাস্তির দিক থেকে সবচেয়ে ভয়ঙ্কর-তা হলো ঐ ব্যক্তির বিশ্বাস, যে বিশ্বাস করে বা ধারনা করে যে, আল্লাহ তা'আলার সাথে অন্যান্য মূর্তিদেরও ইবাদত করা জায়েয আছে, সে কাফের। যদি এই বিশ্বাসের কথা সে মুখ দিয়ে বলে, তবে সে কথা ও আক্বীদাগত বিশ্বাস উভয়টির দ্বারাই কাফের সাব্যস্ত হবে। আর যদি গায়রুল্লাহের ইবাদত করে, তবে কথা, কাজ ও আক্বীদাগত বিশ্বাস এই সবগুলো উপকরণের দ্বারাই সে কাফের সাব্যস্ত হবে। এসকল প্রকারের মধ্যে রয়েছে কবর পূজারীদের কার্যক্রম। যেমন: মৃতব্যক্তির
নিকট প্রার্থনা করা, তাদের কাছে কোনো প্রকার সাহায্য চাওয়া এবং রসূল - হুল্লাল্লাহি আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কবরের সম্মুখে দাঁড়িয়ে কিছু অজ্ঞ মুসলিমের এমন কথা বলা: হে আল্লাহর রসূল, আমাকে আরোগ্য দান করুন, হে আল্লাহর রসূল, আমাদেরকে আমাদের শত্রুদের বিরুদ্ধে সাহায্য প্রদান করুন। অনেক মুসলিম বহুদূর থেকে নিজ দেশে বসে ডাকেন এবং বলতে থাকেন, ইয়া রসূলুল্লাহ, আমার প্রার্থনায় সাড়া দিন। ইয়া রাসুলাল্লাহ, মাদাদ মাদাদ। আল্লাহর রসূল হলেন একজন রক্ত-মাংসে গড়া মানুষ। আল্লাহ তা'আলা তাকে যতটুকু গায়েবের জ্ঞান শিক্ষা দিয়েছেন তার চেয়ে বেশী জানেন না। আল্লাহ তা'আলার ইচ্ছা ব্যতীত তিনি নিজের কোনো ক্ষতি বা উপকার করতে পারেন না। এগুলো সবই হল বিশ্বাস, কথা ও কার্যক্রম সংশ্লিষ্ট শিরক। আমরা আল্লাহর নিকট এগুলো থেকে নিরাপত্তা ও মুক্তি কামনা করছি।
১-আল্লাহ তা'আলা বলেন: {وَلَقَدْ أُوحِيَ إِلَيْكَ وَإِلَى الَّذِينَ مِنْ قَبْلِكَ لَئِنْ أَشْرَكْتَ لَيَحْبَطَنَّ عَمَلُكَ وَلَتَكُونَنَّ مِنَ الْخَاسِرِينَ (٦٥) بَلِ اللَّهَ فَاعْبُدْ وَكُنْ مِنَ الشَّاكِرِينَ (٦٦)} [الزمر: ٦٥ - ٦٦]. "আপনার নিকট এবং আপনার পূর্ববর্তীদের নিকট এই মর্মে প্রত্যাদেশ পাঠানো হয়েছে যে, যদি আপনি আল্লাহর সঙ্গে অংশীদার সাব্যস্ত করেন, তবে আপনার আমল ধ্বংস হয়ে যাবে এবং আপনি চিরস্থায়ী ক্ষতিগ্রস্থদের অন্তর্ভুক্ত হবেন। বিধায় একমাত্র আল্লাহর ইবাদত করুন এবং শুকরিয়া আদায়কারীদের অন্তর্ভুক্ত হয়ে যান।” (সূরা আয-যুমার: ৬৫-৬৬)
২-আল্লাহ তা'আলা বলেন: {قُلْ لَا أَمْلِكُ لِنَفْسِي نَفْعًا وَلَا ضَرًّا إِلَّا مَا شَاءَ اللهُ وَلَوْ كُنْتُ أَعْلَمُ الْغَيْبَ لَاسْتَكْثَرْتُ مِنَ الْخَيْرِ وَمَا مَسَّنِيَ السُّوءُ إِنْ أَنَا إِلَّا نَذِيرٌ وَبَشِيرٌ لِقَوْمٍ يُؤْمِنُونَ (۱۸۸)} [الأعراف: .[۱۸۸ "বলুন, আমি নিজের ক্ষতি ও উপকার কোনোটারই মালিক নয়, তবে আল্লাহ যদি চান। যদি আমি অদৃশ্যের জ্ঞান আহরণ করতে পারতাম, তবে আমি অধিক পরিমাণে কল্যাণ হাছিল করতে পারতাম এবং আমাকে কোনোঙ্গকল্যাণ স্পর্শ করতে পারত না। আমি তো শুধুমাত্র ভিতীপ্রদর্শনকারী ও সুসংবাদ দাতা ঐ জাতির জন্য, যারা বিশ্বাস স্থাপন করে।" (সূরা আল আ'রাফ: ১৮৮)
ইসলাম ভঙ্গকারী যেকোনো কারণই আবশ্যকীয়ভাবে রিদ্দাহ বা দীনত্যাগের পরিণাম ডেকে আনে। ইসলাম ভঙ্গকারী কারণটি কোনো কথা বা কোনো কাজ বা কোনো আক্বীদাগত বিশ্বাস বা কোনোপ্রকার সন্দেহ যেকোনোটিই হতে পারে।
রিদ্দাহ ইসলাম ভঙ্গকারী কারণসমূহের মধ্যে - নিম্নে বর্ণিত - যেকোনো একটি কারণে লিপ্ত হওয়ার দ্বারাই সংঘটিত পারে:
প্রথম কারণ: আক্বীদাগত বিশ্বাসের দ্বারা রিদ্দাহ বা দীনত্যাগ (الردة بالاعتقاد) |
এটা সংঘটিত হতে পারে নিম্নেবর্ণিত যেকোনো একটি কারণে:
* আল্লাহর কোনো অংশীদার আছে বলে বিশ্বাস করা। * অথবা আল্লাহ তা'আলা ফক্বীর বা জালেম মনে মনে এমন বিশ্বাস লালন করা।
* অথবা রব ও ইলাহ বলতে কিছু নেই, পুনরুত্থান ও হাশর বলতে কিছু নেই, জান্নাত-জাহান্নাম বলতে কিছু নেই, ছুওয়াব-শাস্তি বলতে কিছু নেই এমন বিশ্বাস পোষণ করা।
* অথবা রসূলগণকে অবিশ্বাস করা বা আল্লাহর পক্ষ থেকে নাযিলকৃত কিতাবসমূহকে অস্বীকারমূলক কোনো বিশ্বাস হৃদয়ে ধারণ করা।
* অথবা মুহাম্মাদ-ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-সত্যবাদী নন বা তিনি শেষ নাবী নন এমন বিশ্বাস পোষণ করা।
* অথবা দীনের কোনো বিষয়ে রাগ-গোস্বা পোষণ করা যদিও উক্ত বিষয়ের প্রতি আমল করা হয়।
* অথবা দু'আতে আল্লাহ তা'আলার সাথে গায়রুল্লাহকেও -যেমন: কোনো মালাক-ফেরেশতা বা নাবী বা গাছ বা পাথর বা জ্বীন অথবা অন্যান্য যেসকল বস্তু শয়তান সুসজ্জিত করে উপস্থাপন করে অনেক আদম সন্তানের সম্মুখে আহবান করা যাবে এমন বিশ্বাস পোষণ করা।
* অথবা আল্লাহ তা'আলার নাযিলকৃত শরীয়াহ-এর পরিবর্তে অন্য কোনো শারীয়াহ দ্বারা বিধান দেয়া জায়েয এমন বিশ্বাস পোষণ করা।
* অথবা ইসলামেরে রুকনসমূহ ওয়াজিব বা আবশ্যক নয় এমনটি পোষণ করা।
* অথবা কুফর, শিরক, নিফাক্ব ও যুলুম করা জায়েয আছে, যে এটা করতে চায়।
* অথবা সুদ, ব্যভিচার, মদ পান ও অশ্লীল কর্মকাণ্ডসমূহ জায়েয মনে করা।
* অথবা পানি, রুটি ও এই জাতীয় বস্তুগুলোকে হারাম মনে করা, যেগুলোর ওয়াজিব হওয়া বা হালাল হওয়া বা হারাম হওয়া অকাট্য দলীল দ্বারা প্রমাণিত এবং উক্ত আক্বীদাহ পোষণকারী ব্যক্তি এই বিষয়ে অজ্ঞাত নন।
তাহলে এগুলো সবই কুফর ও ইসলাম থেকে স্থানান্তর বলে বিবেচিত হবে। আর এগুলো হল দীনত্যাগের সবচেয়ে বড় প্রকার। বিধায়, যে ব্যক্তি উপরোক্ত কোনো একটি বিষয়ের প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করে, সে কাফের মুরতাদ (দীনত্যাগী
কাফের) হয়ে যাবে। তার সমস্ত আমল বাতিল হয়ে যাবে, তার ঠিকানা জাহান্নাম যদি সে তাওবা না করেই মৃত্যুবরণ করে।
১-আল্লাহ তা'আলা বলেন;
{وَمَنْ يَرْتَدِدْ مِنْكُمْ عَنْ دِينِهِ فَيَمُتْ وَهُوَ كَافِرٌ فَأُولَئِكَ حَبِطَتْ أَعْمَالُهُمْ فِي الدُّنْيَا وَالْآخِرَةِ وأُولَئِكَ أَصْحَابُ النَّارِ هُمْ فِيهَا خَالِدُونَ (۲۱۷)} [البقرة: ۲۱۷].
"আর তোমাদের মধ্যে থেকে যারা স্বীয় দীন পরিত্যাগ করবে, অতঃপর কাফের হয়ে মৃত্যুবরণ করবে, তাদের আমল দুনিয়া ও আখেরাত উভয় জগতেই ব্যর্থতায় পর্যবসিত হবে, তারা হল জাহান্নামের বাসিন্দা, তারা চিরস্থায়ী জাহান্নামী।" (সূরা আল বাক্বারাহ: ২১৭)
২-আল্লাহ তা'আলা বলেন;
{إِنَّ الَّذِينَ ارْتَدُّوا عَلَى أَدْبَارِهِمْ مِنْ بَعْدِ مَا تَبَيَّنَ لَهُمُ الْهُدَى الشَّيْطَانُ سَوَّلَ لَهُمْ وَأَمْلَى لهم (٢٥)} [محمد: ٢٥].
"নিশ্চয় যাদের সামনে হেদায়েত স্পষ্ট হয়ে যাওয়ার পরেও তারা দীনকে পৃষ্ঠে ফেলে চলে গেছে, তাদেরকে শয়তান অবশ্যই কুমন্ত্রণা প্রদান করেছে এবং মিথ্যা আশ্বাস দিয়েছে।” (সূরা মুহাম্মাদ: ২৫)
৩-আল্লাহ তা'আলা বলেন:
{ فَلَا وَرَبِّكَ لَا يُؤْمِنُونَ حَتَّى يُحَكِّمُوكَ فِيمَا شَجَرَ بينهم ثُمَّ لَا يَجِدُوا فِي أَنْفُسِهِمْ حَرَجًا ممَّا قَضَيْتَ وَيُسَلِّمُوا تَسْلِيمًا (٦٥)} [النساء: ٦٥] .
"আপনার রবের শপথ, তারা ঈমানদার হবে না, যতক্ষণ পর্যন্ত তাদের মাঝে ঘটে যাওয়া বিবাদগুলোর মীমাংসা করার ক্ষেত্রে আপনাকে তারা বিচারক হিসেবে মেনে নিয়ে তাদের হৃদয়ে কোনোপ্রকার সঙ্কীর্ণতা অনুভব না করে এবং আপনার সিদ্ধান্তকে পরিপূর্ণভাবে স্বীকার করে না নেয়।" (সূরা আন নিসা: ৬৫)
দ্বিতীয় কারণ: সন্দেহ পোষণ করার দ্বারা রিদ্দাহ বা দীনত্যাগ (الردة بالشك):
এটা সংঘটিত হতে পারে নিম্নেবর্ণিত যেকোনো একটি কারণে: ইতোপূর্বে বর্ণিত সবগুলো বিষয়ে বা কিছু বিষয়ে সন্দেহ পোষণ করা। যেমন:
* কেউ শিরক ও মুল্লুক হারাম হওয়ার ব্যাপারে সন্দেহ পোষণ করল।
* বা সুদ, ব্যভিচার ও মদ পান হারাম হওয়ার ব্যাপারে সন্দেহ পোষণ করল।
* বা ছলাত ও যাকাত ওয়াজিব হওয়ার ব্যাপারে সন্দেহ করল।
* বা পানি ও রুটি বৈধ হওয়ার ব্যাপারে সন্দেহ করল।
* বা আল্লাহর কিতাবসমূহের যথার্থতা ও সঠিকতার ব্যাপারে সন্দেহ করল।
* বা তাঁর রসূলগণের ব্যাপারে সন্দেহ করল।
* বা ইসলাম ও তা শাশ্বত হওয়া ও সর্বগুণে উপযোগী হওয়ার ব্যাপারে সন্দেহ করল।
আর সন্দেহের দৃষ্টান্ত হল: এমন কথা বলা, যেমন: আমি জানি না যে, আল্লাহ্ তা'আলার অস্তিত্ব বাস্তবিক না অবাস্তব?
আমি জানি না যে, রসূল সত্য না মিথ্যা?
আমি জানি না যে, পুনরুত্থান সত্যিই সংঘটিত হবে কি-না?
আমি জানি না যে, জান্নাত ও জাহান্নাম সত্য না মিথ্যা?
আমি জানি না যে, রসূল -সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম- শেষ নবী কি-না?
অথবা এমন কথা বলা: ছলাত ওয়াজিব কি-না সে বিষয়ে আমার সন্দেহ আছে? ইত্যাদি।
উক্ত সন্দেহগুলো কুফর আল-আকবার এবং রিদ্দাহ দীনত্যাগের শামিল। বিধায় যে উপরের কোনো একটি বিষয়ে সন্দেহ পোষণ করল, সে মুরতাদ কাফের (দীনত্যাগী কাফের) বলে বিবেচিত হবে। তার সমস্ত আমল বাতিল বলে গণ্য হবে। কিয়ামতের দিবসে তার ঠিকানা হবে জাহান্নাম যদি তাওবা না করে মৃত্যুবরণ করে।
তবে আকস্মিকভাবে হৃদয়ে উদ্ভূত হওয়া ওয়াসওয়াসা এটা ঈমানের জন্য ক্ষতিকর নয় যদি মুসলিম ব্যক্তি তা দমন করে, তার কাছে নিজেকে সঁপে না দেয় এবং তার তার হৃদয়ে সেই ওয়াসওয়াসাকে স্থায়ী হতে না দেয়। তার জন্য ওয়াজিব হল- আল্লাহ্ তা'আলার নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করা, নিজের মনে চলমান রাখা।
ওয়াসওয়াসা থেকে নিজেকে বাঁচিয়ে রাখা এবং এই কথা বলা: আমি আল্লাহ ও তার রসূলগণের প্রতি ঈমান আনলাম।
১-আল্লাহ তা'আলা বলেন:
{إِنَّمَا يَسْتَأْذِنُكَ الَّذِينَ لَا يُؤْمِنُونَ بِالله وَالْيَوْمِ الْآخِرِ وارتابت قلوبهم فهم في ريبهم يترددون (٤٥)} [التوبة: ٤٥] .
"আপনার কাছে নিষ্ক্রিয়ভাবে বসে থাকার অনুমতি প্রার্থনা করে ঐ সকল লোক, যারা আল্লাহর প্রতি এবং পরকালের প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করেনি এবং তাদের হৃদয় সন্দেহপ্রবণ, ফলে তারা তাদের সংশয়ের মাঝেই সিদ্ধান্তহীনভাবে চলতে থাকুক।” (সূরা আত তাওবা: ৪৫)
২-আবু হুরায়রা ( থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন:
«إِنَّ اللَّهَ تَجَاوَزَ الأُمَّتِي مَا حَدَّثَتْ بِهِ أَنْفُسَهَا مَا لَمْ يَتَكَلَّمُوا أَوْ يَعْمَلُوا به» متفق عليه، আখরজে বুখারী বরকম (২৫২৮), ও মুসলিম বরকম (১২৭), ওয়াললফজ লেহু।
"আল্লাহ তা'আলা আমার উম্মতের ঐ সকল গুনাহসমূহ ক্ষমা করে দিয়েছেন, যেগুলো তাদের মনে খারাপ ভাবনার উদ্রেকের দ্বারা সংঘটিত হয়, যতক্ষণ পর্যন্ত তারা উক্ত কথা মুখে উচ্চারণ না করে অথবা উক্ত কাজ সংঘটিত না করে।"
৩-আবু হুরায়রা ( এর সূত্রে বর্ণিত, রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন:
يَأْتِي الشَّيْطَانُ أَحَدَكُمْ فَيَقُولُ: مَنْ خَلَقَ كَذَا ، مَنْ خَلَقَ كَذَا، حَتَّى يَقُولَ: مَنْ خَلَقَ ربك؟ فَإِذا بلغه فليستعذ بالله ولينته» متفق عليه، أخرجه البخاري برقم (٣٢٧٦), واللفظ له، ومسلم برقم (١٣٤).
"শয়তান তোমাদের কারো কাছে এসে প্রথমে বলবে, এটা কে সৃষ্টি করেছে, এটা কে সৃষ্টি করেছে, এমনকি এক পর্যায়ে সে বলে, তোমার রবকে কে সৃষ্টি করেছে? যদি তোমাদের কেউ এই পর্যায়ে উপনীত হয়, তবে সে যেন আল্লাহ তা'আলার নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করে এবং এমন ভাবনা থেকে বিরত হয়।"
৪-আবু হুরায়রা () থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসুলুল্লাহ-ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-বলেন:
«إنَّ الشَّيْطَانَ يَأْتِي أَحَدَكُمْ فَيَقُولُ : مَنْ خَلَقَ السَّمَاءَ؟ فَيَقُولُ: اللَّهُ عَزَّ وَجَلَّ، فَيَقُولُ مَنْ خَلَقَ الأَرْضَ؟ فَيَقُولُ: اللَّهُ ، فَيَقُولُ : مَنْ خَلَقَ اللَّهُ؟ فَإِذَا أَحَسٌ أَحَدُكُمْ بِشَيْءٍ مِنْ هَذَا فليقل: آمنت بالله وبرسله صحيح أخرجه أحمد برقم (٨٣٧٦), وهذا لفظه، ومسلم برقم (١٣٤)
"শয়তান তোমাদের কারো নিকট প্রথমে এসে বলে আসমান কে সৃষ্টি করেছে? সে উত্তরে বলে মহান আল্লাহ তা'আলা। অতঃপর সে প্রশ্ন করে কে যমীন সৃষ্টি করেছে? তখন সে উত্তরে বলে আল্লাহ তা'আলা। অতঃপর সে বলে আল্লাহকে কে সৃষ্টি করেছে? তোমাদের কারো মনে এমন প্রশ্নের উদ্রেক হলে সে যেন তৎক্ষণাৎ বলে আমি আল্লাহ ও তার রসূলগণের প্রতি ঈমান আনলাম।
তৃতীয় কারণ: কথার দ্বারা রিদ্দাহ বা দীনত্যাগ )الردة بالقول( :
এটা সংঘটিত হয় নিম্নেবর্ণিত বিষয়গুলো দ্বারা:
* আল্লাহ তা'আলাকে গালি দেয়া বা তার রসূলগণকে গালি দেয়া বা তার মালাইকা-ফেরেশতাদেরকে গালি দেয়া বা তার কিতাবসমূহকে গালি দেয়া
* বা গায়রুল্লাহের নিকট দু'আ করা বা আল্লাহ তা'আলা ছাড়া অন্যকেউ করতে সক্ষম নয় এমন ক্ষেত্রে গায়রুল্লাহ-এর কাছে সাহায্য প্রার্থনা করা
* বা নাবী হওয়ার দাবী করা বা নাবী হওয়ার দাবিদারকে সত্যায়ন করা
* অথবা দীন বা দীনের কোনো বিষয় নিয়ে ঠাট্টা করা বা ছাহাবাগণকে অথবা কোনো একজন ছাহাবীকে গালি দেয়া।
* অথবা বাহ্যিকভাবে হারাম বিষয়গুলো যেমন: সুদ, ব্যাভিচার, মদ ও এ জাতীয় বিষয়গুলোর হারাম হওয়াকে অস্বীকার করা।
* অথবা বাহ্যিকভাবে ওয়াজিব এমন বিষয়গুলো যেমন: ছলাত, যাকাত, ছিয়াম, হজ্ব ও এ জাতীয় বিষয়গুলোর ওয়াজিব হওয়াকে অস্বীকার করা অথচ তার মত ব্যক্তির এগুলো অজানা থাকার কথা নয়।
যে এমন ও এই জাতীয় কথা-বার্তা বলে, সে কাফের ইসলাম ধর্মকে পরিত্যাগকারী। তার সমস্ত আমল বাতিল হয়ে যাবে। তার ঠিকানা জাহান্নাম যদি মৃত্যুর পূর্বে তাওবা না করে।
১-আল্লাহ তা'আলা বলেন:
{وَلَقَدْ أُوحِيَ إِلَيْكَ وَإِلَى الَّذِينَ مِنْ قَبْلِكَ لَئِنْ أَشْرَكْتَ لَيَحْبَطَنَّ عَمَلُكَ وَلَتَكُونَنَّ مِنَ الْخَاسِرِينَ (٦٥) بَلِ اللَّهَ فَاعْبُدْ وَكُنْ مِنَ الشَّاكِرِينَ (٦٦)} [الزمر: ٦٥ - ٦٦] .
"আপনার নিকট এবং আপনার পূর্ববর্তীদের নিকট এই মর্মে প্রত্যাদেশ পাঠানো হয়েছে যে, যদি আপনি আল্লাহর সঙ্গে অংশীদার সাব্যস্ত করেন, তবে আপনার আমল ধ্বংস হয়ে যাবে এবং আপনি চিরস্থায়ী ক্ষতিগ্রস্থদের অন্তর্ভুক্ত হবেন। বিধায় একমাত্র আল্লাহর ইবাদত করুন এবং শুকরিয়া আদায়কারীদের অন্তর্ভুক্ত হয়ে যান।" (সূরা আয-যুমার: ৬৫-৬৬)
২-আল্লাহ তা'আলা বলেন:
{ وَمَنْ أَظْلَمُ مِمَّنِ افْتَرَى عَلَى اللهِ كَذِبًا أَوْ قَالَ أُوحِيَ إِلَيَّ وَلَمْ يُوحَ إِلَيْهِ شَيْءٌ وَمَنْ قَالَ سَأُنْزِلُ مِثْلَ مَا أَنْزَلَ اللَّهُ} [الأنعام: ٩٣].
"ঐ ব্যক্তির চেয়ে বড় অন্যায়কারী আর কে হতে পারে যে, আল্লাহর প্রতি মিথ্যারোপ করে অথবা এই কথা বলে যে, আমার কাছে অহী এসেছে, অথচ তাঁর কাছে কোনো অহীই আসেনি অথবা এই কথা বলে যে, আল্লাহ তা'আলা যেরূপ আয়াত নাযিল করেছেন, ঠিক তদ্রূপ আয়াত আমিও নাযিল করব।" (সূরা আল আন'আম: ৯৩)
৩-আল্লাহ তা'আলা বলেন:
{فَمَنْ أَظْلَمُ مِمَّنِ افْتَرَى عَلَى اللَّهِ كَذِبًا أَوْ كَذَّبَ بِآيَاتِهِ إِنَّهُ لَا يُفْلِحُ الْمُجْرِمُونَ (۱۷)} [يونس: ۱۷] .
ঐ ব্যক্তির চেয়ে বড় জালেম আর কে হতে পারে যে, আল্লাহর প্রতি মিথ্যারোপ করে অথবা তাঁর আয়াতসমূহকে মিথ্যা প্রতিপন্ন করে। নিশ্চয় অপরাধীরা সফল হয় না।” (সূরা ইউনুস: ১৭)
৪-আল্লাহ তা'আলা বলেন:
{فَمَنْ أَظْلَمُ مِمَّنْ كَذَبَ عَلَى اللهِ وَكَذَّبَ بِالصِّدْقِ إِذْ جَاءَهُ أَلَيْسَ فِي جَهَنَّمَ مَثْوًى لِّلْكَافِرِينَ (۳۲)} [الزمر: ٣٢].
"ঐ ব্যক্তির চেয়ে বড় জালেম আর কে হতে পারে যে, আল্লাহর প্রতি মিথ্যারোপ করে এবং সত্য তাঁর নিকট আসার পরেও সেটাকে মিথ্যা সাব্যস্ত করে। জাহান্নام কি কাফেরদের ঠিকানা নয়?" (সূরা আয যুমার: ৩২)
৫-আল্লাহ তা'আলা বলেন:
{وَلَئِن سَأَلْتَهُمْ لَيَقُولُنَّ إِنَّمَا كُنَّا نَخُوضُ وَنَلْعَبُ قُلْ أَبِالله وَآيَاتِهِ وَرَسُولِهِ كُنتُمْ تَسْتَهْزِئُونَ (٦٥) لَا تَعْتَذِرُوا قَدْ كَفَرْتُمْ بَعْدَ إِيمَانِكُمْ} [التوبة: ٦٥ - ٦٦].
"আর যদি আপনি তাদেরকে জিজ্ঞাসা করেন, তবে তারা বলবে, আমরা তো কথার কথা বলছিলাম আর ঠাট্টা-কৌতুক করছিলাম। আপনি বলুন, তোমরা কি আল্লাহর সাথে, তাঁর আয়াতসমূহের সাথে এবং তাঁর রসূলের সাথে ঠাট্টা করছ? তোমরা ছলনা করো না, তোমরা ঈমান আনার পর কাফের হয়ে গেছ। তোমাদের কিছু লোককে আমি ক্ষমা করে দিলেও কিছু লোককে অবশ্যই শাস্তি দিব। কারণ, তারা প্রকৃতপক্ষেই অপরাধী।” (সূরা আত তাওবা: ৬৫-৬৬)
চতুর্থ কারণ: কার্যক্রমের দ্বারা রিদ্দাহ বা দীনত্যাগ (الردة بالفعل) :
কার্যক্রমের দ্বারা দীনত্যাগ নিম্নেবর্ণিত বিষয়গুলোর দ্বারা হতে পারে। * গাছপালা, পাথরসমূহ ও অন্যান্য বস্তুর দ্বারা তৈরী মূর্তির পূজা করা। * কবরের উপর সেজদাহ করা, কবরের উপর তাওয়াফ করা, * গায়রুল্লাহের উদ্দেশ্যে জবেহ করা, * মুছহাফ তথা কুরআন মাজীদকে তুচ্ছ তাচ্ছিল্য করা, কুরআন মাজীদকে অবমাননা করে তার উপর বসা,
* আল্লাহ তা'আলার নাযিলকৃত শারীয়াহ ব্যতীত অন্যকোনো শারীয়াহ দ্বারা বিধান দেয়া।
* যাদু শিক্ষা করা ও শিক্ষা দেয়া, মুশরিকদের পৃষ্ঠপোষকতা করা এবং মুসলিমদের বিরুদ্ধে তাদেরকে সহযোগীতা করা, আল্লাহ তা'আলার দীন থেকে এমনভাবে মুখ ফিরিয়ে নেয়া যে, তা শিক্ষা করা ও তার উপর আমল করা হতে সম্পূর্ণরূপে বিরত থাকা, হারাম বিষয়গুলোকে বৈধ মনে করা এবং জ্বলাত পরিত্যাগ করা ইত্যাদি।
যে এই বিষয়গুলো বা এ জাতীয় কার্যক্রম সাধন করবে, সে ইসলাম পরিত্যাগকারী কাফের। তার সকল আমল বাতিল বলে গণ্য হবে। তার ঠিকানা জাহান্নাম হবে যদি মৃত্যুকালীন তাওবা তার নাছীব না হয়।
১-আল্লাহ তা'আলা বলেন: {وَلَقَدْ أُوحِيَ إِلَيْكَ وَإِلَى الَّذِينَ مِنْ قَبْلِكَ لَئِنْ أَشْرَكْتَ لَيَحْبَطَنَّ عَمَلُكَ وَلَتَكُونَنَّ مِنَ الخاسرين (٦٥)} [الزمر: ٦٥] .
"আপনার নিকট এবং আপনার পূর্ববর্তীদের নিকট এই মর্মে প্রত্যাদেশ পাঠানো হয়েছে যে, যদি আপনি আল্লাহর সঙ্গে অংশীদার সাব্যস্ত করেন, তবে আপনার আমল ধ্বংস হয়ে যাবে এবং আপনি চিরস্থায়ী ক্ষতিগ্রস্থদের অন্তর্ভুক্ত হবে।" (সূরা আয যুমার: ৬৫)
২-আল্লাহ তা'আলা বলেন: {وَمَنْ لَمْ يَحْكُمْ بِمَا أَنْزَلَ اللهُ فَأُولَئِكَ هُمُ الْكَافِرُونَ (٤٤)} [المائدة: ٤٤] .
"আর যে আল্লাহর নাযিলকৃত বিধান অনুযায়ী বিচার না করে, সে কাফের।" (সূরা আল-মায়িদাহ:৪৪)
৩-আল্লাহ তা'আলা বলেন: {يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا لَا تَتَّخِذُوا الْيَهُودَ وَالنَّصَارَى أَوْلِيَاءَ بَعْضُهُمْ أَوْلِيَاءُ بَعْضٍ وَمَنْ يَتَوَلَّهُمْ منكم فإنه منهم إنَّ اللهَ لَا يَهْدِي الْقَوْمَ الظَّالِمِينَ (٥١)} [المائدة: ٥١].
"হে ইমানদারগণ, তোমরা ইয়াহুদী ও নাছারাদেরকে বন্ধুরূপে গ্রহণ করো না, তারা একে অপরের বন্ধু। তোমাদের মধ্যে যে তাদেরকে বন্ধুরূপে গ্রহণ করবে,
সে তাদেরই দলভুক্ত হয়ে যাবে। নিশ্চয় আল্লাহ তা'আলা জালেম সম্প্রদায়কে হেদায়েত দান করেন না।" (সূরা আল মায়িদাহ: ৫১)
৪-আল্লাহ তা'আলা বলেন: { وَاتَّبَعُوا مَا تَتْلُو الشَّيَاطِينُ عَلَى مُلْكِ سُلَيْمَانَ وَمَا كَفَرَ سُلَيْمَانُ وَلَكِنَّ الشَّيَاطِينَ كَفَرُوا يعلمون الناس السحر} [البقرة: ١٠٢].
"তারা এমন শাস্ত্রের অনুসরণ করে, যা সুলায়মান আলাইহিস সালাম – এর রাজত্বকালে শয়তানরা আবৃত্তি করত। সুলায়মান আলাইহিস সালাম- কুফর করেননি, কিন্তু শয়তানরা কুফর করেছে, যারা মানুষকে যাদুবিদ্যা শিক্ষা দিত।" (সূরা আল বাক্বারাহ: ১০২)
৫-জাবির বিন আব্দুল্লাহ () থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমি রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছি: «إِنَّ بَينَ الرَّجُلِ وَبَيْنَ الشِّرْكِ وَالكُفْرِ تَرْكَ الصَّلاة». أخرجه مسلم برقم (৮২).
"ব্যক্তি এবং শিরক ও কুফরের মধ্যে পার্থক্য হলো জ্বলাত পরিত্যাগ করা।" ছুহীহ মুসলিম হা/৮২।
রিদ্দাহ বা দীনত্যাগের সবচে ভয়াবহ প্রকার
রিদ্দাহ বা দীনত্যাগ কথার দ্বারা হতে পারে, কাজের দ্বারা হতে পারে, আক্বীদাগত বিশ্বাসের দ্বারা হতে পারে এবং সন্দেহ পোষণ করার দ্বারাও হতে পারে। তবে এগুলোর মধ্যে সবচেয়ে মারাত্মক ও সাংঘাতিক প্রকার হল যা উপরোক্ত প্রকারগুলোর সমস্ত উপকরণের সমন্বয়ক, অপরাধের দিক থেকে সবচেয়ে জঘন্য এবং শাস্তির দিক থেকে সবচেয়ে ভয়ঙ্কর-তা হলো ঐ ব্যক্তির বিশ্বাস, যে বিশ্বাস করে বা ধারনা করে যে, আল্লাহ তা'আলার সাথে অন্যান্য মূর্তিদেরও ইবাদত করা জায়েয আছে, সে কাফের। যদি এই বিশ্বাসের কথা সে মুখ দিয়ে বলে, তবে সে কথা ও আক্বীদাগত বিশ্বাস উভয়টির দ্বারাই কাফের সাব্যস্ত হবে। আর যদি গায়রুল্লাহের ইবাদত করে, তবে কথা, কাজ ও আক্বীদাগত বিশ্বাস এই সবগুলো উপকরণের দ্বারাই সে কাফের সাব্যস্ত হবে। এসকল প্রকারের মধ্যে রয়েছে কবর পূজারীদের কার্যক্রম। যেমন: মৃতব্যক্তির
নিকট প্রার্থনা করা, তাদের কাছে কোনো প্রকার সাহায্য চাওয়া এবং রসূল - হুল্লাল্লাহি আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কবরের সম্মুখে দাঁড়িয়ে কিছু অজ্ঞ মুসলিমের এমন কথা বলা: হে আল্লাহর রসূল, আমাকে আরোগ্য দান করুন, হে আল্লাহর রসূল, আমাদেরকে আমাদের শত্রুদের বিরুদ্ধে সাহায্য প্রদান করুন। অনেক মুসলিম বহুদূর থেকে নিজ দেশে বসে ডাকেন এবং বলতে থাকেন, ইয়া রসূলুল্লাহ, আমার প্রার্থনায় সাড়া দিন। ইয়া রাসুলাল্লাহ, মাদাদ মাদাদ। আল্লাহর রসূল হলেন একজন রক্ত-মাংসে গড়া মানুষ। আল্লাহ তা'আলা তাকে যতটুকু গায়েবের জ্ঞান শিক্ষা দিয়েছেন তার চেয়ে বেশী জানেন না। আল্লাহ তা'আলার ইচ্ছা ব্যতীত তিনি নিজের কোনো ক্ষতি বা উপকার করতে পারেন না। এগুলো সবই হল বিশ্বাস, কথা ও কার্যক্রম সংশ্লিষ্ট শিরক। আমরা আল্লাহর নিকট এগুলো থেকে নিরাপত্তা ও মুক্তি কামনা করছি।
১-আল্লাহ তা'আলা বলেন: {وَلَقَدْ أُوحِيَ إِلَيْكَ وَإِلَى الَّذِينَ مِنْ قَبْلِكَ لَئِنْ أَشْرَكْتَ لَيَحْبَطَنَّ عَمَلُكَ وَلَتَكُونَنَّ مِنَ الْخَاسِرِينَ (٦٥) بَلِ اللَّهَ فَاعْبُدْ وَكُنْ مِنَ الشَّاكِرِينَ (٦٦)} [الزمر: ٦٥ - ٦٦]. "আপনার নিকট এবং আপনার পূর্ববর্তীদের নিকট এই মর্মে প্রত্যাদেশ পাঠানো হয়েছে যে, যদি আপনি আল্লাহর সঙ্গে অংশীদার সাব্যস্ত করেন, তবে আপনার আমল ধ্বংস হয়ে যাবে এবং আপনি চিরস্থায়ী ক্ষতিগ্রস্থদের অন্তর্ভুক্ত হবেন। বিধায় একমাত্র আল্লাহর ইবাদত করুন এবং শুকরিয়া আদায়কারীদের অন্তর্ভুক্ত হয়ে যান।” (সূরা আয-যুমার: ৬৫-৬৬)
২-আল্লাহ তা'আলা বলেন: {قُلْ لَا أَمْلِكُ لِنَفْسِي نَفْعًا وَلَا ضَرًّا إِلَّا مَا شَاءَ اللهُ وَلَوْ كُنْتُ أَعْلَمُ الْغَيْبَ لَاسْتَكْثَرْتُ مِنَ الْخَيْرِ وَمَا مَسَّنِيَ السُّوءُ إِنْ أَنَا إِلَّا نَذِيرٌ وَبَشِيرٌ لِقَوْمٍ يُؤْمِنُونَ (۱۸۸)} [الأعراف: .[۱۸۸ "বলুন, আমি নিজের ক্ষতি ও উপকার কোনোটারই মালিক নয়, তবে আল্লাহ যদি চান। যদি আমি অদৃশ্যের জ্ঞান আহরণ করতে পারতাম, তবে আমি অধিক পরিমাণে কল্যাণ হাছিল করতে পারতাম এবং আমাকে কোনোঙ্গকল্যাণ স্পর্শ করতে পারত না। আমি তো শুধুমাত্র ভিতীপ্রদর্শনকারী ও সুসংবাদ দাতা ঐ জাতির জন্য, যারা বিশ্বাস স্থাপন করে।" (সূরা আল আ'রাফ: ১৮৮)
📄 মুরতাদ-এর সাথে কী আচরণ করা হবে
যদি কোনো প্রাপ্ত বয়স্ক বুদ্ধিমান ব্যক্তি ইসলাম ত্যাগ করে, তবে তাকে দীনের দিকে আহবান করা হবে, দীন গ্রহণ করার জন্য উৎসাহ দেয়া হবে এবং সে যেন তাওবা করে, সেই লক্ষ্যে তাকে তাওবা করার প্রস্তাব পেশ করা হবে। যদি সে তাওবা করে, তবে সে মুসলিম হিসেবেই বিবেচিত হবে। আর যদি তাওবা না করে কুফর ও দীনত্যাগের উপরেই অটল থাকে, তবে তাকে তরবারির আঘাতে হত্যা করা হবে কুফর এর জন্য, হদ প্রতিষ্ঠা করার জন্য নয়।
১-ইবনু আব্বাস থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রসূল -ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম- বলেন:
«مَنْ بَدَّلَ دِينَهُ فَاقْتُلُوهُ». أخرجه البخاري برقم (۳۰۱۷).
"যে ব্যক্তি স্বীয় দীনকে (ইসলাম) পরিত্যাগ করে, তাকে হত্যা করে দাও। বুখারী হা/৩০১৭।
وَعَنْ أَبِي مُوسَى رَضِيَ اللهُ عَنْهُ أَنَّ رَجُلاً أَسْلَمَ ثُمَّ تَهَودَ، فَأَتَى مُعَاذُ بْنُ جَبَلٍ وَهُوَ عِنْدَ أَبِي مُوسَى، فَقَالَ: مَا لِهَذَا؟ قَالَ: أَسْلَمَ ثُمَّ تَهَودَ ، قَالَ: لَا أَجْلِسُ حتى حَتَّى أَقْتَلَهُ. قَضاء الله ورسوله - صلى الله عليه وسلم - . متفق عليه أخرجه البخاري برقم (٧١٥٧), واللفظ له، ومسلم برقم (١٨٢٤) في الإمارة.
২-আবু মূসা থেকে বর্ণিত, এক ব্যক্তি ইসলাম গ্রহণের পর ইহুদী ধর্মে প্রবেশ করল, তখন মু'আয বিন জাবাল সেখানে আগমন করলেন এমন অবস্থায় উক্ত দীনত্যাগী আবু মূসার নিকট উপস্থিত ছিল অতঃপর বললেন, এই ব্যক্তির কী হয়েছে? তিনি বললেন, ইসলাম গ্রহণের পর ইহুদী ধর্ম গ্রহণ করেছে। তিনি বললেন, আমি আল্লাহ ও তার রসূল-ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের লক্ষ্যে তাকে হত্যা করা পর্যন্ত বসতে পারব না।"
যদি কোনো প্রাপ্ত বয়স্ক বুদ্ধিমান ব্যক্তি ইসলাম ত্যাগ করে, তবে তাকে দীনের দিকে আহবান করা হবে, দীন গ্রহণ করার জন্য উৎসাহ দেয়া হবে এবং সে যেন তাওবা করে, সেই লক্ষ্যে তাকে তাওবা করার প্রস্তাব পেশ করা হবে। যদি সে তাওবা করে, তবে সে মুসলিম হিসেবেই বিবেচিত হবে। আর যদি তাওবা না করে কুফর ও দীনত্যাগের উপরেই অটল থাকে, তবে তাকে তরবারির আঘাতে হত্যা করা হবে কুফর এর জন্য, হদ প্রতিষ্ঠা করার জন্য নয়।
১-ইবনু আব্বাস থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রসূল -ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম- বলেন:
«مَنْ بَدَّلَ دِينَهُ فَاقْتُلُوهُ». أخرجه البخاري برقم (۳۰۱۷).
"যে ব্যক্তি স্বীয় দীনকে (ইসলাম) পরিত্যাগ করে, তাকে হত্যা করে দাও। বুখারী হা/৩০১৭।
وَعَنْ أَبِي مُوسَى رَضِيَ اللهُ عَنْهُ أَنَّ رَجُلاً أَسْلَمَ ثُمَّ تَهَودَ، فَأَتَى مُعَاذُ بْنُ جَبَلٍ وَهُوَ عِنْدَ أَبِي مُوسَى، فَقَالَ: مَا لِهَذَا؟ قَالَ: أَسْلَمَ ثُمَّ تَهَودَ ، قَالَ: لَا أَجْلِسُ حتى حَتَّى أَقْتَلَهُ. قَضاء الله ورسوله - صلى الله عليه وسلم - . متفق عليه أخرجه البخاري برقم (٧١٥٧), واللفظ له، ومسلم برقم (١٨٢٤) في الإمارة.
২-আবু মূসা থেকে বর্ণিত, এক ব্যক্তি ইসলাম গ্রহণের পর ইহুদী ধর্মে প্রবেশ করল, তখন মু'আয বিন জাবাল সেখানে আগমন করলেন এমন অবস্থায় উক্ত দীনত্যাগী আবু মূসার নিকট উপস্থিত ছিল অতঃপর বললেন, এই ব্যক্তির কী হয়েছে? তিনি বললেন, ইসলাম গ্রহণের পর ইহুদী ধর্ম গ্রহণ করেছে। তিনি বললেন, আমি আল্লাহ ও তার রসূল-ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের লক্ষ্যে তাকে হত্যা করা পর্যন্ত বসতে পারব না।"
📄 মুরতাদ-এর বিধান
১-মুরতাদ প্রকৃত কাফের থেকেও অত্যাধিক নিকৃষ্ট কাফের; কারণ, সে সত্য জেনেও তা পরিত্যাগ করেছে।
২-রিদ্দাহ দীন থেকে বহিষ্কারকারী, সকল আমলকে বাতিলকারী এবং চিরস্থায়ী জাহান্নামী হওয়ার কারণ, যদি তাওবা না করে মৃত্যুবরণ করে।
৩-যদি মুরতাদ ব্যক্তিকে হত্যা করা হয় বা তাওবা না করেই মৃত্যুবরণ করে, তবে সে কাফের। তাকে গোসল দেয়া যাবে না, কাফন দেয়া যাবে না, তার জানাযার ছলাত আদায় করা যাবে না, তাকে মুসলিমদের কবরে দাফন করা যাবে না এবং তার জন্য দু'আ করা যাবে না।
৪-মুরতাদ স্বামী ও তার মুসলিম স্ত্রীর মাঝে বিচ্ছেদ ঘটানো হবে; কেননা, উক্ত স্ত্রী কাফেরের জন্য হালাল হবে না। আর যখন স্ত্রী মুরতাদ হয়ে যাবে, স্বামী তার স্ত্রীকে বিচ্ছিন্ন করে দিবে। কারণ, মুসলিম কাফেরদের সম্পর্কের রশি আটকে রাখতে পারবে না। তবে মুরতাদ ব্যক্তি তাওবা করার পরে স্বীয় স্ত্রীকে ফিরিয়ে আনতে পারবে যতক্ষণ পর্যন্ত তার ইদ্দাত (মহিলাদের ঋতু শেষ হওয়ার মেয়াদ) শেষ না হয়। আর যদি তার ইদ্দাতের মেয়াদ শেষ হয়ে যায় এবং তার স্বামী তাকে ফিরিয়ে না নিয়ে আসে, তবে উক্ত মহিলা নিজেই নিজের মালিক হয়ে যাবে অর্থাৎ নিজেই নিজের সিদ্ধান্ত নিতে পারবে। উক্ত মহিলা সংশ্লিষ্ট পুরুষের জন্য হালাল হবে না যতক্ষণ পর্যন্ত সে নতুনভাবে আক্বদ (নতুন বিবাহ চুক্তি) ও নতুন মোহরানার ব্যাপারে রাজি না হবে।
৫-মুরতাদ-এর নিকট তাওবা তলব করাকালীন তার সম্পত্তিতে হস্তক্ষেপ করতে তাকে বাধা দেয়া হবে। অতঃপর যদি সে ইসলাম কবুল করে, তবে উক্ত সম্পদ তার মালিকানায় চলে যাবে। আর যদি স্বীয় দীনত্যাগের উপর অটল
থাকে, তবে তার সকল সম্পত্তি ফাই (যুদ্ধ ব্যতিরেকে শত্রুপক্ষ থেকে অর্জিত সম্পদ) হিসেবে মুসলিম সমাজের কল্যাণে ব্যবহার করা হবে।
৬-মুরতাদ ব্যক্তি কাফের, সে তার মুসলিম আত্মীয়দের ওয়ারিস হতে পারবে না, তারাও তার ওয়ারিস হতে পারবে না। কেননা, কাফের মুসলিমের ওয়ারিস হতে পারে না।
১-আল্লাহ তা'আলা বলেন; قال الله تعالى: {وَمَنْ يَرْتَدِدْ مِنْكُمْ عَنْ دِينِهِ فَيَمُتْ وَهُوَ كَافِرٌ فَأُولَئِكَ حَبِطَتْ - ١ أَعْمَالُهُمْ فِي الدُّنْيَا وَالْآخِرَةِ وَأُولَئِكَ أَصْحَابُ النَّارِ هُمْ فِيهَا خَالِدُونَ (۲۱۷)} [البقرة: .[۲۱۷
"আর তোমাদের মধ্যে থেকে যারা স্বীয় দীন পরিত্যাগ করবে, অতঃপর কাফের হয়ে মৃত্যুবরণ করবে, তাদের আমল দুনিয়া ও আখেরাত উভয় জগতেই ব্যর্থতায় পর্যবসিত হবে, তারা হল জাহহান্নামের বাসিন্দা, তারা চিরস্থায়ী জাহান্নামী।" (সূরা আল বাক্বারাহ: ২১৭)
২-আল্লাহ তা'আলা বলেন: {إِنَّ الَّذِينَ آمَنُوا ثُمَّ كَفَرُوا ثُمَّ آمَنُوا ثُمَّ كَفَرُوا ثُمَّ ازْدَادُوا كُفْرًا لَمْ يَكُنِ اللَّهُ لِيَغْفِرَ لَهُمْ ولا ليهديهم سبيلا (۱۳۷)} [النساء: ۱۳۷].
"নিশ্চয় যারা ঈমান আনার পর কুফর অবলম্বন করে, অতঃপর পুনরায় ঈমান আনার পর আবারো কুফর অবলম্বন করে, অতঃপর অধিক পরিমাণে কুফরে লিপ্ত হয়, আল্লাহ তা'আলা তাদেরকে ক্ষমাও করবেন না এবং তাদেরকে হিদায়েতের রাস্তাও দেখাবেন না।" (সূরা আন নিসা: ১৩৭)
৩-আল্লাহ তা'আলা বলেন: { وَلَا تُصَلِّ عَلَى أَحَدٍ مِنْهُمْ مَاتَ أَبَدًا وَلَا تَقُمْ عَلَى قَبْرِهِ إِنَّهُمْ كَفَرُوا بِاللَّهِ وَرَسُولِهِ وَمَاتُوا وَهُمْ فَاسِقُونَ (٨٤)} [التوبة: ٨٤].
"তাদের মধ্যে কেউ মারা গেলে কখনই তার জানাযার ছলাত আদায় করবেন না, তার ক্ববরের নিকটেও দাঁড়াবেন না। নিশ্চয় তারা আল্লাহ ও তার রসূলের প্রতি কুফর: করেছে এবং ফাসেক্ব হয়ে মৃত্যুবরণ করেছে।" (সূরা আত-তাওবা: ৮৪)
৪-আল্লাহ তা'আলা বলেন:
{وَلَا تُنْكِحُوا الْمُشْرِكِينَ حَتَّى يُؤْمِنُوا وَلَعبد مُؤْمِنٌ خَيْرٌ مِنْ مُشْرِكِ وَلَوْ أَعْجَبَكُمْ أُولَئِكَ يَدْعُونَ إِلَى النَّارِ وَاللَّهُ يَدْعُو إِلَى الْجَنَّةِ وَالْمَغْفِرَةِ بِإِذْنه ويبين آياته للنَّاسِ لَعَلَّهُمْ يَتَذَكَّرُونَ (۲۲۱)} [البقرة: ۲۲۱].
"আর (তোমাদের নারীদেরকে) মুশরিক পরুষদের সঙ্গে বিবাহ দিয়োনা, যতক্ষণ পর্যন্ত তারা ঈমান না আনে। মুমিন ক্রীতদাস মুশরিক অপেক্ষা উত্তম, যদিও সে তোমাদের কাছে মোহনীয় লাগে। তারা জাহান্নামের দিকে আহবান করে আর আল্লাহ তা'আলা স্বীয় আদেশ দ্বারা জান্নাত ও ক্ষমার দিকে আহবান করেন, স্বীয় নিদর্শনাবলী মানুষের জন্য স্পষ্টরূপে বর্ণনা করেন, যাতে তারা উপদেশ গ্রহণ করতে পারে।" (সূরা আল বাক্বারাহ: ১২১)
৫-উসামা বিন যায়েদ (رضي الله عنه) থেকে বর্ণিত, নাবী কারীম-ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন:
«لا يَرِثُ المُسْلِمُ الكَافِرَ ، وَلَا يَرِثُ الكَافِرُ الْمُسْلِمَ» متفق عليه، أخرجه البخاري برقم (٦٧٦٤), ومسلم برقم (١٦١٤).
"মুসলিম কাফেরের ওয়ারিস হতে পারে না এবং কাফের মুসলিমের ওয়ারিস হতে পারে না।" মুসলিম হা/১৬১৪।
মুরতাদের হত্যা বিধিসম্মত হওয়ার হিকমাহ
ইসলাম হল জীবন চলার একটি পূর্ণাঙ্গ আদর্শ, মানুষের সমস্ত প্রয়োজন ও চাহিদার পরিপূর্ণ ব্যবস্থাপক, স্বভাব ও বিবেকের পূর্ণাঙ্গ সমর্থক, দলীল ও শক্তিশালী প্রমাণের উপর প্রতিষ্ঠিত এবং মানব জীবনে সর্বোচ্চ নি'আমত। যে এই দীনে প্রবেশ করার পর তা পরিত্যাগ করল, সে অধঃপতনের অতল গহবরে নেমে গেল, আল্লাহ তা'আলা স্বীয় সৃষ্টিজীবের জন্য যে দীনের ব্যাপারে সন্তুষ্ট এমন দীনকে সে পরিত্যাগ করেছে, আল্লাহ ও তার রসূলের সাথে খিয়ানত করেছে এবং আল্লাহর নি'আমতকে অস্বীকার করেছে। বিধায় তাকে হত্যা করা ওয়াজিব; কারণ, সে সত্যকে অস্বীকার করেছে এবং কল্যাণকে পরিত্যাগ করেছে, যে কল্যাণ ব্যতীত দুনিয়া ও আখিরাতের জিন্দেগী ব্যর্থ ও নিষ্ফল হয়ে যাবে।
মুরতাদ-এর বৈশিষ্ট্য
মানুষ যখন ইসলাম ভঙ্গকারী কোনো একটি কার্য সম্পাদন করে অথবা ঐকমত্যপূর্ণ কোনো বিধানকে পূর্ণরূপে পরিবর্তন করে ফেলে অথবা ঐকমত্যপূর্ণ কোনো হারামকে হালাল বানিয়ে ফেলে অথবা ঐকমত্যপূর্ণ কোনো হালালকে হারাম বানিয়ে ফেলে অথবা আল্লাহর নাযিলকৃত বিধানের পরিবর্তে অন্যকোনো বিধান দ্বারা ফায়ছালা করে, তবে সে মুরতাদ কাফের, যদিও সে দুই সাক্ষ্যের (তাওহীদ ও রিসালাত-কালিমা শাহাদাত) স্বীকৃতি প্রদান করুক না কেনো। কারণ, মুনাফেক্বরাও এই জাতীয় সাক্ষ্যের মিথ্যা স্বীকৃতি প্রদান করত, তারা ছলাত আদায় করত এবং ছওম পালন করত তথাপি তারা জাহান্নামের সর্বনিম্নস্তরে অবস্থান করবে।
১-আল্লাহ তা'আলা বলেন:
{إِنَّ الْمُنَافِقِينَ فِي الدَّرْك الْأَسْفَلِ مِنَ النَّارِ وَلَنْ تَجِدَ لَهُمْ نَصِيرًا (١٤٥) إِلَّا الَّذِينَ تَابُوا وَأَصْلَحُوا وَاعْتَصَمُوا بِالله وَأَخْلَصُوا دِينَهُمْ لِله فَأُولَئِكَ مَعَ الْمُؤْمِنِينَ وَسَوْفَ يُؤْتِ اللَّهُ الْمُؤْمِنِينَ أَجْرًا عَظِيمًا (١٤٦)} [النساء: ١٤٥ - ١٤٦].
"নিশ্চয় মুনাফেক্বরা জাহান্নামের সর্বনিম্নস্তরে অবস্থান করবে এবং আপনি তাদের পক্ষে কোনো সাহায্যকারী খুজে পাবেন না। তবে যারা তাওবা করেছে, নিজেদেরকে সংশোধন করেছে, আল্লাহর রজ্জুকে শক্তভাবে আঁকড়ে ধরেছে এবং একনিষ্ঠভাবে আল্লাহর জন্য দীন পালন করেছে, তারা ইমানদারদের সেঙ্গে অবস্থান করবে। আল্লাহ তা'আলা অচিরেই তাদেরকে মহা প্রতিদানে ভূষিত করবেন।" (সূরা আন নিসা: ১৪৫-১৪৬)
২-আল্লাহ তা'আলা বলেন:
{وَمَنْ يُشَاقِقِ الرَّسُولَ من بعد ما تَبَيَّنَ لَهُ الْهُدَى ويتبع غَيْرَ سَبِيلِ الْمُؤْمِنِينَ نُوَلِّهِ مَا تَوَلَّى ونصله جهنم وَسَاءَتْ مَصِيرًا (١١٥)} [النساء: ١١٥].
"হেদায়েত স্পষ্ট হয়ে যাওয়ার পরেও যে আল্লাহর রসূলের বিরোধিতা করে এবং মুমিনদের রাস্তা ব্যতীত অন্যকোনো রাস্তা অবলম্বন করে, আমি তাকে তার অবলম্বন করা রাস্তার উপরেই চলতে বাধ্য করব এবং জাহান্নামের আগুনে নিক্ষেপ করব। জাহান্নাম অত্যন্ত নিকৃষ্ট ঠিকানা।” (সূরা আন নিসা: ১১৫)
১-মুরতাদ প্রকৃত কাফের থেকেও অত্যাধিক নিকৃষ্ট কাফের; কারণ, সে সত্য জেনেও তা পরিত্যাগ করেছে।
২-রিদ্দাহ দীন থেকে বহিষ্কারকারী, সকল আমলকে বাতিলকারী এবং চিরস্থায়ী জাহান্নামী হওয়ার কারণ, যদি তাওবা না করে মৃত্যুবরণ করে।
৩-যদি মুরতাদ ব্যক্তিকে হত্যা করা হয় বা তাওবা না করেই মৃত্যুবরণ করে, তবে সে কাফের। তাকে গোসল দেয়া যাবে না, কাফন দেয়া যাবে না, তার জানাযার ছলাত আদায় করা যাবে না, তাকে মুসলিমদের কবরে দাফন করা যাবে না এবং তার জন্য দু'আ করা যাবে না।
৪-মুরতাদ স্বামী ও তার মুসলিম স্ত্রীর মাঝে বিচ্ছেদ ঘটানো হবে; কেননা, উক্ত স্ত্রী কাফেরের জন্য হালাল হবে না। আর যখন স্ত্রী মুরতাদ হয়ে যাবে, স্বামী তার স্ত্রীকে বিচ্ছিন্ন করে দিবে। কারণ, মুসলিম কাফেরদের সম্পর্কের রশি আটকে রাখতে পারবে না। তবে মুরতাদ ব্যক্তি তাওবা করার পরে স্বীয় স্ত্রীকে ফিরিয়ে আনতে পারবে যতক্ষণ পর্যন্ত তার ইদ্দাত (মহিলাদের ঋতু শেষ হওয়ার মেয়াদ) শেষ না হয়। আর যদি তার ইদ্দাতের মেয়াদ শেষ হয়ে যায় এবং তার স্বামী তাকে ফিরিয়ে না নিয়ে আসে, তবে উক্ত মহিলা নিজেই নিজের মালিক হয়ে যাবে অর্থাৎ নিজেই নিজের সিদ্ধান্ত নিতে পারবে। উক্ত মহিলা সংশ্লিষ্ট পুরুষের জন্য হালাল হবে না যতক্ষণ পর্যন্ত সে নতুনভাবে আক্বদ (নতুন বিবাহ চুক্তি) ও নতুন মোহরানার ব্যাপারে রাজি না হবে।
৫-মুরতাদ-এর নিকট তাওবা তলব করাকালীন তার সম্পত্তিতে হস্তক্ষেপ করতে তাকে বাধা দেয়া হবে। অতঃপর যদি সে ইসলাম কবুল করে, তবে উক্ত সম্পদ তার মালিকানায় চলে যাবে। আর যদি স্বীয় দীনত্যাগের উপর অটল
থাকে, তবে তার সকল সম্পত্তি ফাই (যুদ্ধ ব্যতিরেকে শত্রুপক্ষ থেকে অর্জিত সম্পদ) হিসেবে মুসলিম সমাজের কল্যাণে ব্যবহার করা হবে।
৬-মুরতাদ ব্যক্তি কাফের, সে তার মুসলিম আত্মীয়দের ওয়ারিস হতে পারবে না, তারাও তার ওয়ারিস হতে পারবে না। কেননা, কাফের মুসলিমের ওয়ারিস হতে পারে না।
১-আল্লাহ তা'আলা বলেন; قال الله تعالى: {وَمَنْ يَرْتَدِدْ مِنْكُمْ عَنْ دِينِهِ فَيَمُتْ وَهُوَ كَافِرٌ فَأُولَئِكَ حَبِطَتْ - ١ أَعْمَالُهُمْ فِي الدُّنْيَا وَالْآخِرَةِ وَأُولَئِكَ أَصْحَابُ النَّارِ هُمْ فِيهَا خَالِدُونَ (۲۱۷)} [البقرة: .[۲۱۷
"আর তোমাদের মধ্যে থেকে যারা স্বীয় দীন পরিত্যাগ করবে, অতঃপর কাফের হয়ে মৃত্যুবরণ করবে, তাদের আমল দুনিয়া ও আখেরাত উভয় জগতেই ব্যর্থতায় পর্যবসিত হবে, তারা হল জাহহান্নামের বাসিন্দা, তারা চিরস্থায়ী জাহান্নামী।" (সূরা আল বাক্বারাহ: ২১৭)
২-আল্লাহ তা'আলা বলেন: {إِنَّ الَّذِينَ آمَنُوا ثُمَّ كَفَرُوا ثُمَّ آمَنُوا ثُمَّ كَفَرُوا ثُمَّ ازْدَادُوا كُفْرًا لَمْ يَكُنِ اللَّهُ لِيَغْفِرَ لَهُمْ ولا ليهديهم سبيلا (۱۳۷)} [النساء: ۱۳۷].
"নিশ্চয় যারা ঈমান আনার পর কুফর অবলম্বন করে, অতঃপর পুনরায় ঈমান আনার পর আবারো কুফর অবলম্বন করে, অতঃপর অধিক পরিমাণে কুফরে লিপ্ত হয়, আল্লাহ তা'আলা তাদেরকে ক্ষমাও করবেন না এবং তাদেরকে হিদায়েতের রাস্তাও দেখাবেন না।" (সূরা আন নিসা: ১৩৭)
৩-আল্লাহ তা'আলা বলেন: { وَلَا تُصَلِّ عَلَى أَحَدٍ مِنْهُمْ مَاتَ أَبَدًا وَلَا تَقُمْ عَلَى قَبْرِهِ إِنَّهُمْ كَفَرُوا بِاللَّهِ وَرَسُولِهِ وَمَاتُوا وَهُمْ فَاسِقُونَ (٨٤)} [التوبة: ٨٤].
"তাদের মধ্যে কেউ মারা গেলে কখনই তার জানাযার ছলাত আদায় করবেন না, তার ক্ববরের নিকটেও দাঁড়াবেন না। নিশ্চয় তারা আল্লাহ ও তার রসূলের প্রতি কুফর: করেছে এবং ফাসেক্ব হয়ে মৃত্যুবরণ করেছে।" (সূরা আত-তাওবা: ৮৪)
৪-আল্লাহ তা'আলা বলেন:
{وَلَا تُنْكِحُوا الْمُشْرِكِينَ حَتَّى يُؤْمِنُوا وَلَعبد مُؤْمِنٌ خَيْرٌ مِنْ مُشْرِكِ وَلَوْ أَعْجَبَكُمْ أُولَئِكَ يَدْعُونَ إِلَى النَّارِ وَاللَّهُ يَدْعُو إِلَى الْجَنَّةِ وَالْمَغْفِرَةِ بِإِذْنه ويبين آياته للنَّاسِ لَعَلَّهُمْ يَتَذَكَّرُونَ (۲۲۱)} [البقرة: ۲۲۱].
"আর (তোমাদের নারীদেরকে) মুশরিক পরুষদের সঙ্গে বিবাহ দিয়োনা, যতক্ষণ পর্যন্ত তারা ঈমান না আনে। মুমিন ক্রীতদাস মুশরিক অপেক্ষা উত্তম, যদিও সে তোমাদের কাছে মোহনীয় লাগে। তারা জাহান্নামের দিকে আহবান করে আর আল্লাহ তা'আলা স্বীয় আদেশ দ্বারা জান্নাত ও ক্ষমার দিকে আহবান করেন, স্বীয় নিদর্শনাবলী মানুষের জন্য স্পষ্টরূপে বর্ণনা করেন, যাতে তারা উপদেশ গ্রহণ করতে পারে।" (সূরা আল বাক্বারাহ: ১২১)
৫-উসামা বিন যায়েদ (رضي الله عنه) থেকে বর্ণিত, নাবী কারীম-ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন:
«لا يَرِثُ المُسْلِمُ الكَافِرَ ، وَلَا يَرِثُ الكَافِرُ الْمُسْلِمَ» متفق عليه، أخرجه البخاري برقم (٦٧٦٤), ومسلم برقم (١٦١٤).
"মুসলিম কাফেরের ওয়ারিস হতে পারে না এবং কাফের মুসলিমের ওয়ারিস হতে পারে না।" মুসলিম হা/১৬১৪।
মুরতাদের হত্যা বিধিসম্মত হওয়ার হিকমাহ
ইসলাম হল জীবন চলার একটি পূর্ণাঙ্গ আদর্শ, মানুষের সমস্ত প্রয়োজন ও চাহিদার পরিপূর্ণ ব্যবস্থাপক, স্বভাব ও বিবেকের পূর্ণাঙ্গ সমর্থক, দলীল ও শক্তিশালী প্রমাণের উপর প্রতিষ্ঠিত এবং মানব জীবনে সর্বোচ্চ নি'আমত। যে এই দীনে প্রবেশ করার পর তা পরিত্যাগ করল, সে অধঃপতনের অতল গহবরে নেমে গেল, আল্লাহ তা'আলা স্বীয় সৃষ্টিজীবের জন্য যে দীনের ব্যাপারে সন্তুষ্ট এমন দীনকে সে পরিত্যাগ করেছে, আল্লাহ ও তার রসূলের সাথে খিয়ানত করেছে এবং আল্লাহর নি'আমতকে অস্বীকার করেছে। বিধায় তাকে হত্যা করা ওয়াজিব; কারণ, সে সত্যকে অস্বীকার করেছে এবং কল্যাণকে পরিত্যাগ করেছে, যে কল্যাণ ব্যতীত দুনিয়া ও আখিরাতের জিন্দেগী ব্যর্থ ও নিষ্ফল হয়ে যাবে।
মুরতাদ-এর বৈশিষ্ট্য
মানুষ যখন ইসলাম ভঙ্গকারী কোনো একটি কার্য সম্পাদন করে অথবা ঐকমত্যপূর্ণ কোনো বিধানকে পূর্ণরূপে পরিবর্তন করে ফেলে অথবা ঐকমত্যপূর্ণ কোনো হারামকে হালাল বানিয়ে ফেলে অথবা ঐকমত্যপূর্ণ কোনো হালালকে হারাম বানিয়ে ফেলে অথবা আল্লাহর নাযিলকৃত বিধানের পরিবর্তে অন্যকোনো বিধান দ্বারা ফায়ছালা করে, তবে সে মুরতাদ কাফের, যদিও সে দুই সাক্ষ্যের (তাওহীদ ও রিসালাত-কালিমা শাহাদাত) স্বীকৃতি প্রদান করুক না কেনো। কারণ, মুনাফেক্বরাও এই জাতীয় সাক্ষ্যের মিথ্যা স্বীকৃতি প্রদান করত, তারা ছলাত আদায় করত এবং ছওম পালন করত তথাপি তারা জাহান্নামের সর্বনিম্নস্তরে অবস্থান করবে।
১-আল্লাহ তা'আলা বলেন:
{إِنَّ الْمُنَافِقِينَ فِي الدَّرْك الْأَسْفَلِ مِنَ النَّارِ وَلَنْ تَجِدَ لَهُمْ نَصِيرًا (١٤٥) إِلَّا الَّذِينَ تَابُوا وَأَصْلَحُوا وَاعْتَصَمُوا بِالله وَأَخْلَصُوا دِينَهُمْ لِله فَأُولَئِكَ مَعَ الْمُؤْمِنِينَ وَسَوْفَ يُؤْتِ اللَّهُ الْمُؤْمِنِينَ أَجْرًا عَظِيمًا (١٤٦)} [النساء: ١٤٥ - ١٤٦].
"নিশ্চয় মুনাফেক্বরা জাহান্নামের সর্বনিম্নস্তরে অবস্থান করবে এবং আপনি তাদের পক্ষে কোনো সাহায্যকারী খুজে পাবেন না। তবে যারা তাওবা করেছে, নিজেদেরকে সংশোধন করেছে, আল্লাহর রজ্জুকে শক্তভাবে আঁকড়ে ধরেছে এবং একনিষ্ঠভাবে আল্লাহর জন্য দীন পালন করেছে, তারা ইমানদারদের সেঙ্গে অবস্থান করবে। আল্লাহ তা'আলা অচিরেই তাদেরকে মহা প্রতিদানে ভূষিত করবেন।" (সূরা আন নিসা: ১৪৫-১৪৬)
২-আল্লাহ তা'আলা বলেন:
{وَمَنْ يُشَاقِقِ الرَّسُولَ من بعد ما تَبَيَّنَ لَهُ الْهُدَى ويتبع غَيْرَ سَبِيلِ الْمُؤْمِنِينَ نُوَلِّهِ مَا تَوَلَّى ونصله جهنم وَسَاءَتْ مَصِيرًا (١١٥)} [النساء: ١١٥].
"হেদায়েত স্পষ্ট হয়ে যাওয়ার পরেও যে আল্লাহর রসূলের বিরোধিতা করে এবং মুমিনদের রাস্তা ব্যতীত অন্যকোনো রাস্তা অবলম্বন করে, আমি তাকে তার অবলম্বন করা রাস্তার উপরেই চলতে বাধ্য করব এবং জাহান্নামের আগুনে নিক্ষেপ করব। জাহান্নাম অত্যন্ত নিকৃষ্ট ঠিকানা।” (সূরা আন নিসা: ১১৫)
📄 তাকফীর বা কাউকে কাফের বলে ঘোষণা দেয়ার বিধান
তাকফীর বা কাফের বলে ঘোষণা দেয়া: তাকফীর হল কোনো মানুষকে কাফের বলে বিধান জারি করা। কাউকে কাফের ঘোষণা দেয়া আল্লাহর একক অধিকার। বিধায় আমাদের জন্য একমাত্র আল্লাহ ও তার রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কাফের ঘোষণা করেছেন এমন ব্যক্তিকে ব্যতীত অন্য কাউকে কাফের আখ্যায়িত করা জায়েয নয়। আর যে আমাদেরকে কাফের বলে, আমরা তাকে কাফের বলি না।
সুতরাং কোনো ব্যক্তি যদি কারোর ব্যাপারে মিথ্যা দোষারোপ করে বা কারোর স্ত্রীর সঙ্গে ব্যভিচার করে, তবে অপর ব্যক্তির জন্য তার ব্যাপারে মিথ্যা দোষারোপ করা বা তার স্ত্রীর সঙ্গে ব্যভিচার করা জায়েয নেই। কেননা, মিথ্যা বলা ও ব্যভিচার করা হারাম; কারণ উভয়টিই আল্লাহ তা'আলার হক্ক। এমনিভাবে তাকফীর বা কাউকে কাফের বলা এটাও আল্লাহর হক্ক। বিধায় আল্লাহ ও তার রসূল ল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যাকে কাফের বলেছেন, একমাত্র তাকেই আমরা কাফের বলতে পারব।
১-আল্লাহ তা'আলা বলেন: {يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا إِذَا ضَرَبْتُمْ فِي سَبيل الله فَتَبَيَّنُوا وَلَا تَقُولُوا لِمَنْ أَلْقَى إِلَيْكُمُ السَّلَامَ لَسْتَ مُؤْمِنًا تَبْتَغُونَ عَرَضَ الْحَيَاةِ الدُّنْيَا فَعِنْدَ اللهِ مَغَانِمُ كَثِيرَةٌ كَذَلِكَ كُنْتُمْ مِنْ قَبْلُ فَمَنَّ اللهُ عَلَيْكُمْ فَتَبَيَّنُوا إِنَّ اللهَ كَانَ بِمَا تَعْمَلُونَ خَبِيرًا (٩٤)} [النساء: ٩٤].
"হে ইমানদারগণ, যখন তোমরা আল্লাহর রাস্তায় চলতে থাক, তখন সাবধান থেক। তোমাদেরকে কেউ সালাম দিলে তাকে বলোনা, যে তুমি মুমিন নও। তোমরা ইহকালীন সম্পত্তির মোহে পড়ে এমন করছ, অথচ আল্লাহর কাছে অফুরন্ত সম্পদ আছে। তোমরাও ইতোপূর্বে এমনি ছিলে। আল্লাহ তোমাদের উপর অনুগ্রহ করেছেন। বিধায় তোমরা আরো সাবধান হও। নিশ্চয় আল্লাহ তা'আলা তোমাদের কার্যক্রম সম্পর্কে সার্বিক জ্ঞান রাখেন।" (সূরা আন নিসা: ৯৪)
২-আব্দুল্লাহ বিন উমার থেকে বর্ণিত, রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম- বলেন:
«أَيُّمَا رَجُلٍ قال : لأخِيهِ يَا كَافِرُ، فَقَدْ بَاءَ بِهَا أَحَدُهُما» متفق عليه، أخرجه البخاري برقم (٦١٠٤), واللفظ له، ومسلم برقم (٦০).
"যদি কোনো ব্যক্তি যখন তার ভাইকে বলবে, হে কাফের, তবে তাদের উভয়ের কোনো একজন অবশ্যই উক্ত কথা (কাফের বলা) নিজের দিকে ফিরিয়ে আনল।" মুত্তাফাকুন আলাইহি, বুখারী হা/৬১০৪, মুসলিম হা/৬০।
তাকফীরের প্রকারসমূহ: তাকফীরের তিনটি রূপ: ১-ঢালাওভাবে কাফের বলা। ২-নিদিষ্ট গুণাবলীকে কুফর বলা। ৩-নির্দিষ্ট ব্যক্তিদেরকে কাফের বলা।
প্রথম রূপ: ঢালাওভাবে কাফের বলা। ঢালাওভাবে কাফের বলার অর্থ হল আলেম এবং জাহেল, ব্যাখ্যা গ্রহণকারী (জাহেরী নুদ্বুদ্ধের স্পষ্ট অর্থের মধ্যে) এবং ব্যাখ্যা অগ্রাহ্যকারী, যার নিকট সত্যকে দলীল-প্রমাণ দ্বারা সুপ্রতিষ্ঠিত করা হয়েছে এবং যার নিকট করা হয়নি এমন সকল মানুষকে সাধারণভাবে কোনো যাচাই-বাছাই না করেই কাফের বলে দেয়া। এটা হল সকল কাবীরা গুনাহের চেয়েও বড় গুনাহ, এটা বিদ'আতী ও আল্লাহর হুকুমের ব্যাপারে অজ্ঞ ব্যক্তিদের ত্বরীক্বাহ বা পথ।
দ্বিতীয় রূপ: নির্দিষ্ট গুণাবলীকে কুফর বলা। যেমন আলেমদের বক্তব্য: যে আল্লাহ ও তার রসূল কে গালি দিল, সে কুফরী করল। যে পুনরুত্থানকে অস্বীকার করল, সে কুফরী করল। যে জ্বলাত পরিত্যাগ করল, সে কুফরী করল। যে নিজের মাঝে ও আল্লাহর মাঝে মাধ্যম স্থাপন করে তাদের নিকট প্রার্থনা করল, সে কুফরী করল। এই জাতীয় কার্যক্রম কুফর, যা দীন থেকে বহিষ্কার করে দেয়। আর দীন থেকে বহিষ্কারকারী কোনো বৈশিষ্ট্য দ্বারা কোনো কার্যক্রমকে কুফর ঘোষণা দেয়া শরীয়ত সম্মত। তবে কুফর: কর্মের সংঘটককে
কাফের বলা যাবে না যতক্ষণ পর্যন্ত তাকে কাফের বলার যাবতীয় শর্তাবলী পূর্ণমাত্রায় উপস্থিত না হয় এবং তাকে কাফের বলার ক্ষেত্রে সকল বাধা-বিপত্তি দূরীভূত না হয়। বিধায় শুধুমাত্র কুফর: কর্ম সংঘটনের দ্বারাই কাউকে কাফের বলা আবশ্যকীয় হয় না।
তৃতীয় রূপ: নির্দিষ্ট ব্যক্তিদেরকে কাফের বলা।
নিদিষ্ট ব্যক্তিদেরকে কাফের বলার অর্থ হল নির্দিষ্ট করে এমন কোনো ব্যক্তিকে কাফের বলা, যে ইসলাম থেকে বহিষ্কারকারী কোনো কার্যক্রমে লিপ্ত হয়েছে। এমন ব্যক্তিকেও কাফের বলা যাবে না যতক্ষণ পর্যন্ত তাকে কাফের বলার যাবতীয় শর্তাবলী পূর্ণমাত্রায় উপস্থিত না হয় এবং তাকে কাফের বলার ক্ষেত্রে সকল বাধা-বিপত্তি দূরীভূত না হয়।
তাকফীর বা কাফের বলে ঘোষণা দেয়া: তাকফীর হল কোনো মানুষকে কাফের বলে বিধান জারি করা। কাউকে কাফের ঘোষণা দেয়া আল্লাহর একক অধিকার। বিধায় আমাদের জন্য একমাত্র আল্লাহ ও তার রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কাফের ঘোষণা করেছেন এমন ব্যক্তিকে ব্যতীত অন্য কাউকে কাফের আখ্যায়িত করা জায়েয নয়। আর যে আমাদেরকে কাফের বলে, আমরা তাকে কাফের বলি না।
সুতরাং কোনো ব্যক্তি যদি কারোর ব্যাপারে মিথ্যা দোষারোপ করে বা কারোর স্ত্রীর সঙ্গে ব্যভিচার করে, তবে অপর ব্যক্তির জন্য তার ব্যাপারে মিথ্যা দোষারোপ করা বা তার স্ত্রীর সঙ্গে ব্যভিচার করা জায়েয নেই। কেননা, মিথ্যা বলা ও ব্যভিচার করা হারাম; কারণ উভয়টিই আল্লাহ তা'আলার হক্ক। এমনিভাবে তাকফীর বা কাউকে কাফের বলা এটাও আল্লাহর হক্ক। বিধায় আল্লাহ ও তার রসূল ল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যাকে কাফের বলেছেন, একমাত্র তাকেই আমরা কাফের বলতে পারব।
১-আল্লাহ তা'আলা বলেন: {يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا إِذَا ضَرَبْتُمْ فِي سَبيل الله فَتَبَيَّنُوا وَلَا تَقُولُوا لِمَنْ أَلْقَى إِلَيْكُمُ السَّلَامَ لَسْتَ مُؤْمِنًا تَبْتَغُونَ عَرَضَ الْحَيَاةِ الدُّنْيَا فَعِنْدَ اللهِ مَغَانِمُ كَثِيرَةٌ كَذَلِكَ كُنْتُمْ مِنْ قَبْلُ فَمَنَّ اللهُ عَلَيْكُمْ فَتَبَيَّنُوا إِنَّ اللهَ كَانَ بِمَا تَعْمَلُونَ خَبِيرًا (٩٤)} [النساء: ٩٤].
"হে ইমানদারগণ, যখন তোমরা আল্লাহর রাস্তায় চলতে থাক, তখন সাবধান থেক। তোমাদেরকে কেউ সালাম দিলে তাকে বলোনা, যে তুমি মুমিন নও। তোমরা ইহকালীন সম্পত্তির মোহে পড়ে এমন করছ, অথচ আল্লাহর কাছে অফুরন্ত সম্পদ আছে। তোমরাও ইতোপূর্বে এমনি ছিলে। আল্লাহ তোমাদের উপর অনুগ্রহ করেছেন। বিধায় তোমরা আরো সাবধান হও। নিশ্চয় আল্লাহ তা'আলা তোমাদের কার্যক্রম সম্পর্কে সার্বিক জ্ঞান রাখেন।" (সূরা আন নিসা: ৯৪)
২-আব্দুল্লাহ বিন উমার থেকে বর্ণিত, রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম- বলেন:
«أَيُّمَا رَجُلٍ قال : لأخِيهِ يَا كَافِرُ، فَقَدْ بَاءَ بِهَا أَحَدُهُما» متفق عليه، أخرجه البخاري برقم (٦١٠٤), واللفظ له، ومسلم برقم (٦০).
"যদি কোনো ব্যক্তি যখন তার ভাইকে বলবে, হে কাফের, তবে তাদের উভয়ের কোনো একজন অবশ্যই উক্ত কথা (কাফের বলা) নিজের দিকে ফিরিয়ে আনল।" মুত্তাফাকুন আলাইহি, বুখারী হা/৬১০৪, মুসলিম হা/৬০।
তাকফীরের প্রকারসমূহ: তাকফীরের তিনটি রূপ: ১-ঢালাওভাবে কাফের বলা। ২-নিদিষ্ট গুণাবলীকে কুফর বলা। ৩-নির্দিষ্ট ব্যক্তিদেরকে কাফের বলা।
প্রথম রূপ: ঢালাওভাবে কাফের বলা। ঢালাওভাবে কাফের বলার অর্থ হল আলেম এবং জাহেল, ব্যাখ্যা গ্রহণকারী (জাহেরী নুদ্বুদ্ধের স্পষ্ট অর্থের মধ্যে) এবং ব্যাখ্যা অগ্রাহ্যকারী, যার নিকট সত্যকে দলীল-প্রমাণ দ্বারা সুপ্রতিষ্ঠিত করা হয়েছে এবং যার নিকট করা হয়নি এমন সকল মানুষকে সাধারণভাবে কোনো যাচাই-বাছাই না করেই কাফের বলে দেয়া। এটা হল সকল কাবীরা গুনাহের চেয়েও বড় গুনাহ, এটা বিদ'আতী ও আল্লাহর হুকুমের ব্যাপারে অজ্ঞ ব্যক্তিদের ত্বরীক্বাহ বা পথ।
দ্বিতীয় রূপ: নির্দিষ্ট গুণাবলীকে কুফর বলা। যেমন আলেমদের বক্তব্য: যে আল্লাহ ও তার রসূল কে গালি দিল, সে কুফরী করল। যে পুনরুত্থানকে অস্বীকার করল, সে কুফরী করল। যে জ্বলাত পরিত্যাগ করল, সে কুফরী করল। যে নিজের মাঝে ও আল্লাহর মাঝে মাধ্যম স্থাপন করে তাদের নিকট প্রার্থনা করল, সে কুফরী করল। এই জাতীয় কার্যক্রম কুফর, যা দীন থেকে বহিষ্কার করে দেয়। আর দীন থেকে বহিষ্কারকারী কোনো বৈশিষ্ট্য দ্বারা কোনো কার্যক্রমকে কুফর ঘোষণা দেয়া শরীয়ত সম্মত। তবে কুফর: কর্মের সংঘটককে
কাফের বলা যাবে না যতক্ষণ পর্যন্ত তাকে কাফের বলার যাবতীয় শর্তাবলী পূর্ণমাত্রায় উপস্থিত না হয় এবং তাকে কাফের বলার ক্ষেত্রে সকল বাধা-বিপত্তি দূরীভূত না হয়। বিধায় শুধুমাত্র কুফর: কর্ম সংঘটনের দ্বারাই কাউকে কাফের বলা আবশ্যকীয় হয় না।
তৃতীয় রূপ: নির্দিষ্ট ব্যক্তিদেরকে কাফের বলা।
নিদিষ্ট ব্যক্তিদেরকে কাফের বলার অর্থ হল নির্দিষ্ট করে এমন কোনো ব্যক্তিকে কাফের বলা, যে ইসলাম থেকে বহিষ্কারকারী কোনো কার্যক্রমে লিপ্ত হয়েছে। এমন ব্যক্তিকেও কাফের বলা যাবে না যতক্ষণ পর্যন্ত তাকে কাফের বলার যাবতীয় শর্তাবলী পূর্ণমাত্রায় উপস্থিত না হয় এবং তাকে কাফের বলার ক্ষেত্রে সকল বাধা-বিপত্তি দূরীভূত না হয়।