📘 ইসলাম ভঙ্গকারী বিষয়সমূহ > 📄 নিফাক্ব আল-আছগার ও আল-আকবার এর মাঝে পার্থক্য

📄 নিফাক্ব আল-আছগার ও আল-আকবার এর মাঝে পার্থক্য


নিফাক্ব আল-আছগার ও আল-আকবার এর মাঝে গুরুত্বপূর্ণ পার্থক্যসমূহঃ ১-নিফাক্ব আল-আকবার দীন থেকে বহিষ্কার করে দেয়, কিন্তু নিফাক্ব আল-আছুগার দীন থেকে বহিষ্কার করে না।
২-নিফাক্ব আল-আকবার এর ধারক চিরস্থায়ী জাহান্নামী, পক্ষান্তরে নিফাক্ব আল-আছুগার এর ধারক চিরস্থায়ী জাহান্নামী নয়।
৩-নিফাক্ব আল-আকবার মুমিন থাকা অবস্থায় সংঘটিত হতে পারে না, কিন্তু নিফাক্ব আল-আছুগার মুমিন থেকেও সংঘটিত হতে পারে।
৪-নিফাক্ব আল-আকবার হল- নিয়‍্যাতের ক্ষেত্রে বাহ্যিক ও আন্তরিক অবস্থার ভিন্নতা। পক্ষান্তরে নিফাক্ব আল-আছুগার হল- আ'মলের ক্ষেত্রে বাহ্যিক ও আন্তরিক অবস্থার ভিন্নতা।
৫-নিফাক্ব আল-আকবার এর ধারক এর ক্ষেত্রে অধিকাংশ সময়ই তাওবা নছীব হয় না। পক্ষান্তরে নিফাক্ব আল- আছুগার এর ধারক কখনো কখনো তাওবা করে সঠিক পথে ফিরে আসে, ফলে আল্লাহ তা'আলা তাকে ক্ষমা করে দেন।

📘 ইসলাম ভঙ্গকারী বিষয়সমূহ > 📄 মুনাফিক্বদের অস্তিত্ব

📄 মুনাফিক্বদের অস্তিত্ব


মুনাফিক্বরা সর্বযুগে সর্বস্থানে বিদ্যমান থাকে। তারা সংখ্যায় অধিক হয়, তাদের আবির্ভাব বেশী হয় যখন ইসলামের শক্তি বৃদ্ধি লাভ করে এবং তারা ইসলামের সাথে মুখোমুখী সংঘর্ষে লিপ্ত হতে পারে না। ফলে তারা নিজেদেরকে মুসলিম হিসেবে দেখায়, যাতে করে অভ্যন্তরীণভাবে তারা সংঘর্ষ ও চক্রান্তে লিপ্ত হতে পারে। আর মুসলিমদের ঐক্যে ফাটল সৃষ্টি করতে পারে। এমনিভাবে তারা ইসলামকে জাহির করে কুফরকে আন্তরিকভাবে লালন করে, যাতে করে তারা মুসলিমদের সঙ্গে বেঁচে থাকতে পারে তাদের জান-মালের নিরাপত্তা সহকারে। তারা প্রত্যেক যুগে প্রত্যেক স্থানে ভিন্ন ভিন্ন বেশে যেমন: সরদার, আমীর, আলেম, আবেদ, ব্যবসায়ী ও ডাক্তারদের রূপে আত্মপ্রকাশ করে। তাদের ভয়াবহ আশঙ্কা ও দুর্দশার কারণেই আল্লাহ তা'আলা কুরআনুল কারীমে তাদের পর্দা উঠিয়ে দিয়েছেন এবং তাদের রহস্য উন্মোচন করেছেন। স্বীয় বান্দাদের সামনে তিনি তাদের বৈশিষ্ট্য ও কার্যক্রমগুলি স্পষ্ট করে দিয়েছেন, যাতে তারা তাদের থেকে সাবধান থাকতে পারে এবং তাদের বিষয়ে স্পষ্ট দলীলের উপর অবিচল থাকতে পারে। তারা সবচেয়ে ভয়ঙ্কর শত্রু, সর্বাধিক ষড়যন্ত্র ও চক্রান্তকারী এবং সর্বোচ্চ ধোঁকাবাজ ও প্রতারক। তারা নিজেদেরকে কখনো জাহির করে, আবার কখনো আত্মগোপন করে থাকে। তারা সংখ্যায় কখনো বেশী হয়, আবার কখনো কম হয়। আল্লাহ তা'আলাই তাদের কার্যক্রমের ব্যাপারে সবচেয়ে ভালো জানেন।
আল্লাহ তা'আলা বলেন: {وَلَوْ نَشَاءُ لَأَريناكهم فلعرفتهم بسيماهم ولتعرفتُهُمْ فِي لَحْنِ الْقَوْلِ وَاللَّهُ يَعْلَمُ أَعْمَالَكُمْ (۳۰)} [محمد: ٣٠].
"আমি যদি চায়, তবে তাদের চেহারা আপনাকে দেখিয়ে দিতে পারি, ফলে আপনি তাদেরকে তাদের চেহারা দেখে চিনতে পারতেন। তবে আপনি অবশ্যই তাদেরকে কথার ভঙ্গিতে চিনতে পারবেন। আর আল্লাহ তা'আলা তোমাদের আমল সম্পর্কে ভালোভাবেই অবগত আছেন।” (সূরা মুহাম্মাদ: ৩০)

📘 ইসলাম ভঙ্গকারী বিষয়সমূহ > 📄 মুনাফিক্বদের বিধান

📄 মুনাফিক্বদের বিধান


১। ঐ সকল মুনাফেক্বরা যারা ইসলাম প্রকাশ করে আর অন্তরে কুফর লুকিয়ে রাখে (নিফাক্ব আল-আকবার)- দুনিয়াতে তাদের বিধান: মুসলিমদের বিধানের ন্যায়।
আখেরাতে তাদের বিধান: আখেরাতে তাদের সমস্ত আমল বাতিল ও অকার্যকর সাব্যস্ত হবে, তারা জাহান্নামের সর্বনিম্নস্তরে অবস্থান করবে।
আল্লাহ তা'আলা বলেন: {إِنَّ الْمُنَافِقِينَ فِي الدَّرْكِ الْأَسْفَلِ مِنَ النَّارِ وَلَنْ تَجِدَ لَهُمْ نَصِيرًا (١٤٥) إِلَّا الَّذِينَ تَابُوا وَأَصْلَحُوا وَاعْتَصَمُوا بِاللَّهِ وَأَخْلَصُوا دِينَهُمْ لِلَّهِ فَأُولَئِكَ مَعَ الْمُؤْمِنِينَ وَسَوْفَ يُؤْتِ اللَّهُ الْمُؤْمِنِينَ أَجْرًا عَظِيمًا (١٤٦)} [النساء: ١٤٥ - ١٤٦].
"নিশ্চয় মুনাফেক্বরা জাহান্নামের সর্বনিম্নস্তরে অবস্থান করবে এবং আপনি তাদের পক্ষে কোনো সাহায্যকারী খুজে পাবেন না। তবে তাদের মধ্যে যারা তাওবা করবে, আল্লাহকর রজ্জু শক্তকরে আঁকড়ে ধরবে এবং একনিষ্ঠভাবে আল্লাহর জন্য তাদের দীন পালন করবে, তারা মুমিনদের সঙ্গেই অবস্থান করবে (জান্নাতে)। আর আল্লাহ তা'আলা অচিরেই তাদেরকে মহা প্রতিদান দ্বারা ভূষিত করবেন।" (সূরা আন নিসা: ১৪৫-১৪৬)
আল্লাহ তা'আলা বলেন: {ذَلِكَ بِأَنَّهُمُ اتَّبَعُوا مَا أَسْخَطَ اللَّهَ وَكَرِهُوا رِضْوَانَهُ فَأَحْبَطَ أَعْمَالَهُمْ (۲۸)} [محمد: ۲৮]
"এই শাস্তি তাদেরকে এই জন্যই প্রদান করা হবে যে, তারা আল্লাহ তা'আলাকে রাগান্বিত করে এমন বিষয়ের অনুকরণ করে এবং তারা আল্লাহত সন্তুষ্টিকে অপছন্দ করে। ফলে এই অপরাধ তাদের আমলসমূহ বিনষ্ট করে দিয়েছে।" (সূরা মুহাম্মাদ: ২৮)
২। নিফাক্ব আল-আছূগার এর ধারকদের বিধান:
তাদের মধ্যে দুনিয়াতে যারা তাওবা করবে, আল্লাহ তা'আলা তাদেরকে ক্ষমা করে দিবেন। আর যারা দুনিয়াতে তাওবা করবে না, তাদের বিধান হল কাবীরা গুনাহে লিপ্ত ব্যক্তি ও একত্ববাদে বিশ্বাসী মুমিনদের ন্যায়, যাদেরকে গুনাহের পরিমাণ অনুযায়ী শাস্তি দেয়ার পরে জাহান্নাম থেকে মুক্তি দেয়া হবে। আবার কখনো আল্লাহ তা'আলা শুরুতেই ক্ষমা করে দিবেন, ফলে তাদেরকে জাহান্নামেই যেতে হবে না।
আল্লাহ তা'আলা বলেন: {إِنَّ اللَّهَ لَا يَغْفِرُ أَنْ يُشْرَكَ بِهِ وَيَغْفِرُ مَا دُونَ ذَلِكَ لِمَنْ يَشَاءُ وَمَنْ يُشْرِكْ بِاللَّهِ فَقَدِ افْتَرَى إِثْمًا عَظِيمًا (٤٨)} [النساء: ٤٨].
"নিশ্চয় আল্লাহ তা'আলা তাঁর সঙ্গে শিরক করার গুনাহ ক্ষমা করবেন না, এছড়া অন্যসকল গুনাহ যাকে ইচ্ছা করবেন ক্ষমা করে দিবেন। আর যে আল্লাহর সঙ্গে অংশীদার করল, সে মহা অপবাদ আরোপ করল।" (সূরা আন নিসা: ৪৮)

📘 ইসলাম ভঙ্গকারী বিষয়সমূহ > 📄 মুনাফিক্বদের শাস্তি

📄 মুনাফিক্বদের শাস্তি


১-আল্লাহ তা'আলা বলেন: {إِنَّ الْمُنَافِقِينَ فِي الدَّرْك الْأَسْفَلِ مِنَ النَّارِ وَلَنْ تَجِدَ لَهُمْ نَصِيرًا (١٤٥)} [النساء: ١٤٥].
"নিশ্চয় মুনাফেক্বরা জাহান্নামের সর্বনিম্নস্তরে অবস্থান করবে এবং আপনি তাদের পক্ষে কোনো সাহায্যকারী খুজে পাবেন না।" (সূরা আন নিসা: ১৪৫)
২-আল্লাহ তা'আলা বলেন: {وَعَدَ اللَّهُ الْمُنَافِقِينَ وَالْمُنَافِقَاتِ وَالْكُفَّارَ نَارَ جَهَنَّمَ خَالدين فيها هي حسبهم ولعنهم اللهُ وَلَهُمْ عَذَابٌ مُقيم (٦٨)} [التوبة: ٦٨].
"আল্লাহ তা'আলা মুনাফেক্ব পুরুষ ও মুনাফেক নারী এবং কাফেরদের জন্যে জাহান্নামের অঙ্গীকার করেছেন, যেখানে তারা চিরকাল বসবাস করবে। এটাই
তাদের জন্যে যথেষ্ট। আল্লাহ তাদের উপর অভিশাপ করেছেন, তাদের জন্যে রয়েছে স্থায়ী শাস্তি।” (সূরা আত তাওবা: ৬৮)
৩-আল্লাহ তা'আলা বলেন: {بَشِّرِ الْمُنَافِقِينَ بِأَنَّ لَهُمْ عَذَابًا أَلِيمًا (۱۳۸) الَّذِينَ يَتَّخِذُونَ الْكَافِرِينَ أَوْلِيَاءَ مِنْ دُونِ الْمُؤْمِنِينَ أَيَبْتَغُونَ عِنْدَهُمُ الْعِزَّةَ فَإِنَّ الْعِزَّةَ لِلَّهِ جَمِيعًا (۱۳۹)} [النساء: ۱۳۸ - ۱۳۹]
"মুনাফেক্বদেরকে সুসংবাদ প্রদান করুন যে, তাদের জন্য রয়েছে কষ্টদায়ক শাস্তি। যারা মুমিনদেরকে বাদ দিয়ে কাফেরদেরকে বন্ধুরূপে গ্রহণ করেছে। তারা কি তাদের কাছে মর্যাদা তালাশ করে? জেনে রাখ, নিশ্চয় সমস্ত মর্যাদার একমাত্র মালিক হলেন আল্লাহ তা'আলা।" (সূরা আন নিসা: ১৩৮-১৩৯)
৪-আল্লাহ তা'আলা বলেন: {وَيُعَذِّبَ الْمُنَافِقِينَ وَالْمُنَافِقَاتِ وَالْمُشْرِكِينَ وَالْمُشْرِكَاتِ الظَّانِّينَ بِاللَّهِ ظَنَّ السوْءِ عليهم دائرة السوء وغضب الله عليهم ولعنهم وأعد لهم جهنم وَسَاءَتْ مَصِيرًا (٦)} [الفتح: ٦]
"যাতে করে তিনি মুনাফেক ও মুশরিক নর-নারীদেরকে শাস্তি দিতে পারেন, যারা আল্লাহর প্রতি কুধারণা পোষণ করে। তাদের প্রতি অনিষ্টকারী দুর্যোগ আপতিত হোক। আল্লাহ তা'আলার গযব ও লা'নত তাদের উপর আপতিত হোক। তিনি তাদের জন্য জাহান্নাম ধার্য করেছেন, যা অত্যন্ত নিকৃষ্ট ঠিকানা।" (সূরা আল ফাতাহ: ৬)

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00