📄 যাদুকর ও গণকদের ফিতনা
যাদুকর, জ্যোতিষী ও গণকদের নিকট গমন করা ঈমানভঙ্গের অন্যতম কারণ। আর আল্লাহ তা'আলা স্বীয় বান্দাদেরকে পরীক্ষা করার ক্ষেত্রবিশেষের জন্য তাদেরকে সঠিকতা দান করে থাকেন, কিন্তু মানুষ সেই সঠিকতার প্রভাবে ধোঁকায় পতিত হয়। আর এদের প্রত্যেকের কর্মকাণ্ডই বান্দাদের জন্য ফিতনা ও পরীক্ষা।
১-আল্লাহ তা'আলা বলেন:
{وَنَبْلُوكُم بِالشَّرِّ وَالْخَيْرِ فِتْنَةً وَإِلَيْنَا تُرْجَعُونَ (٣٥)} [الأنبياء: ٣٥].
"আর আমি তোমাদেরকে অনিষ্ট ও কল্যাণের ফিতনা দ্বারা পরীক্ষা করব।" (সূরা আল আম্বিয়া: ৩৫)
২-নাবী-হুল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম- এর স্ত্রী আয়েশা () থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন আমি রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছি:
«إِنَّ المَلائِكَةَ تَنزِلُ في العنان، وهو السَّحَابُ، فَتَذْكُرُ الأمْرَ قُضِيَ فِي السَّمَاءِ، فَتَسْتَرِقُ الشَّيَاطِينُ السَّمْعَ فَتَسْمَعُه، فتوحيه إلى الكهان، فَيَكْذِبُونَ معها مائة كذبة من عند أنفسهم» متفق عليه، أخرجه البخاري برقم (۳۲۱۰), واللفظ له، ومسلم برقم (۲২2৮).
"নিশ্চয় মালাইকা-ফেরেশতারা যখন আনান তথা মেঘের মাঝে অবতরণ করেন অতঃপর তারা আসমানে ধার্যকৃত অদৃষ্টের ব্যাপারে আলোচনা করতে থাকেন, তখন শয়তানরা তাদের কথোপকথন চুরি করে শুনে তা গণকদেরকে অবহিত করে অতঃপর তারা নিজেদের থেকে আরো একশটি মিথ্যা তার সঙ্গে জুড়ে দেয়।" মুত্তাফাকুন আলাইহি, ছুহীহ বুখারী হা/৩২১০, মুসলিম হা/২২২৮।
📄 মৃত ও অদৃশ্যব্যক্তিদের নিকট সাহায্য প্রার্থনা করার বিধান
মৃতব্যক্তি ও অদৃশ্যব্যক্তিদের নিকট সাহায্য প্রার্থনা করা ও তাদের নিকট দু'আ করা প্রত্যেকটিই শিরক, যা আল্লাহ তা'আলা ও তার রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হারাম করেছেন। আর এগুলো হল- মূর্তিপুজারীদের মূর্তিপুজার ন্যায়, যারা মূলত শয়তানের ইবাদত করে। যার নিকট প্রার্থনা করা হয়, শয়তান তার আকৃতিতে তাদের সামনে উপস্থিত হয়, তাদেরকে রূহানীভাবে সম্বোধন করে এবং তাদের আংশিক চাহিদা পূরণ করে। যেমন শয়তান মূর্তিগুলোর মাঝে প্রবেশ করে তাদের পূজারীদের সাথে কথা বলে এবং তাদের আংশিক চাহিদা পূর্ণ করে দেয়। আর মূর্খব্যক্তি মনে করে যে, এটা তার শায়েখের কারিশমা। আর এটাই মূর্তিপূজার সবচেয়ে বড় কারণ। এমনিভাবে গণক ও জ্যোতিষীদের সঙ্গেও শয়তান অবস্থান করে। কারণ, তাদের মধ্যে কুফর, ফাসেক্বী ও নাফরমানী বিদ্যমান। ফলে তাদের থেকে বিভিন্নপ্রকার শয়তানী সাধনা প্রকাশিত হয় এবং সে অনুপাতে তারা শক্তি সঞ্চয় করে থাকে, যার দ্বারা তারা মুক্তবাতাসে উড়া ও বিভিন্ন অদৃশ্যের বিষয়ে সংবাদ প্রদানে সক্ষম হয় এবং শয়তানরা তাদের নিকট সম্পদ ও খাদ্য নিয়ে আসে। সুতরাং শয়তানী সাধনাসমূহ থেকে তারা শয়তানকে রাজি করানোর আনুপাতিক হারে মর্যাদা ও পদ অর্জন করে থাকে।
১-আল্লাহ তা'আলা বলেন:
{ وَمَنْ أَضَلُّ مِمَّنْ يَدْعُو مِنْ دُونِ اللَّهِ مَنْ لَا يَسْتَجِيبُ لَهُ إِلَى يَوْمِ الْقِيَامَةِ وَهُمْ عَنْ دُعَائِهِمْ غَافِلُونَ (٥) وَإِذَا حُشِرَ النَّاسُ كَانُوا لَهُمْ أَعْدَاءً وَكَانُوا بِعِبَادَتِهِمْ كَافِرِينَ (٦)} [الأحقاف: ٥ - ٦] .
"ঐ ব্যক্তির চেয়ে পথভ্রষ্ট আর কে হতে পারে যে, আল্লাহকে বাদ দিয়ে অন্যদের নিকট প্রার্থনা করে, যারা তার ডাকে ককীয়ামত পর্যন্ত সাড়া দিতে সক্ষম নয়। কেননা, তারা তাদের প্রার্থনা থেকে সপমূর্ণ গাফেল। আর যখন সকল মানুষকে হাশরের মাঠে একত্রিত করা হবে, তারাই তাদের শত্রুতে পরিণত হবে এবং তাদের ইবাদতকে তারা অস্বীকার করবে।" (সূরা আল আহক্বাফ: ৫-৬)
২-আল্লাহ তা'আলা বলেন:
{هَلْ أُنَبِّئُكُمْ عَلَى مَنْ تَنَزَّلُ الشَّيَاطِينُ (۲۲۱) تَنَزَّلُ عَلَى كُلِّ أَفَاكَ أَثِيمٍ (۲۲۲) يُلْقُونَ السمع وأكْثَرُهُمْ كَاذِبُونَ (۲۲۳)} [الشعراء: ۲۲۱ – ۲۲۳] .
"আমি কি তোমাদেরকে ঐ সকল ব্যক্তির সম্পর্কে সংবাদ দিব, যাদের উপর শয়তান ভর করে? শয়তান প্রত্যেক অপবাদ দানকারী পাপাচারের উপর ভর করে। শয়তানরা তাদের চুরি করে শোনা কথাটি তাদের হৃদয়ে প্রবিষ্ট করে দেয় আর তাদের (যাদের উপর শয়তানরা ভর করে) অধিকাংশই হল মিথ্যাবাদী।" (সূরা আশ শু'আরা: ২২১-২২৩)
📄 মুশরিকদের উপাস্য
যেসকল মুশরিককে আল্লাহ তা'আলা ও তার রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম- শিরকের বিশেষণে বিশেষায়িত করেছেন তারা মূলত দুই প্রকার: নূহ (আলাইহিস সালাম) এর জাতি ও ইবরাহীম (আলাইহিস সালাম) এর জাতি।
নূহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর জাতির শিরক ছিল যমীন কেন্দ্রিক। তারা নেককার ব্যক্তিদের কবরের নিকট বসে ধ্যান করত এবং তাদের কবরের নিকট বসে আল্লাহর নিকট দু'আ করত। এরপর শয়তান তাদের আমলকে তাদের
নিকট সুসজ্জিত করে তুলল, ফলে তারা তাদের মূর্তি তৈরী করল। অতঃপর শয়তান তাদেরকে এগুলোর ইবাদতের আদেশ দিল।
আর ইবরাহীম-হুল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর জাতির শিরক ছিল আসমান কেন্দ্রিক। তারা নক্ষত্ররাজি, সূর্য ও চন্দ্রের ইবাদত করত। অতঃপর শয়তান - উক্ত বস্তুগুলোকে সুপারিশকারী হিসেবে গ্রহণ করাকে – তাদের সামনে সুসজ্জিত করতে তুলল এবং তাদেরকে উক্ত বস্তুগুলোর ইবাদত করার আদেশ দিল। সুতরাং তাদের প্রত্যেকে এবং এদের প্রত্যেকেই মুশরিক। দৃশ্যমান মাখলুকের আকৃতিতে তাদেরকে তারা অবলোকন করে। কারণ, শয়তানরা তাদেরকে সম্বোধন করে, বিভিন্ন ক্ষেত্রে তাদেরকে সহপযোগীতা করে এবং মানবীয় আকৃতিতে তারা তাদের সামনে উপস্থিত হয়, ফলে তারা তাদেরকে তাদের চক্ষু দ্বারা দেখতে পায়। আর জ্বিনরাও মানুষের মত। তাদের মধ্যেও কাফের ও মুমিন আছে। আর শয়তানরা বন্ধুত্ব স্থাপন করে ও উপকার করে, যারা শিরক, কুফর:, ফাসেক্বী ও নাফরমানী করে।
১-আল্লাহ তা'আলা বলেন:
{يَوْمَ يَحْشُرُهُمْ جَمِيعًا ثُمَّ يَقُولُ لِلْمَلَائِكَةِ أَهْؤُلَاءِ إِيَّاكُمْ كَانُوا يَعْبُدُونَ (٤٠) قَالُوا سبحانك أنت ولينا من دونهم بل كانوا يعبدون الجن أكثرهم بهم مؤمنون (٤١)} [سبأ: ٤٠ - ٤١] .
"যেদিন তাদের সকলকে তিনি একত্রিত করবেন, অতঃপর মালাইকা- ফেরেশতাদেরকে বলবেন এরাই কি তোমাদেরকে পূজা করত? তারা বলবে – নিশ্চয় আপনি মহান – একমাত্র আপনিই আমাদের অভিভাবক ও মা'বুদ, তারা বরং জ্বিনদের পূজা করত। এদের অধিকাংশই তাদের প্রতি ঈমান রাখে।" (আস সাবা: ৪০-৪১)
২-আল্লাহ তা'আলা বলেন:
{أَلَمْ أَعْهَدْ إِلَيْكُمْ يَا بَنِي آدَمَ أَنْ لَا تَعْبُدُوا الشَّيْطَانَ إِنَّهُ لَكُمْ cَدُوٌّ مُبِينٌ (٦٠) وَأَنِ اعْبُدُونِي هَذَا صِرَاطٍ مُسْتَقِيمٌ (٦١) وَلَقَدْ أَضَلَّ مِنْكُمْ جِبِلًا كَثِيرًا أَفَلَمْ تَكُونُوا تَعْقِلُونَ (٦٢)} [يس: ٦٠ .[٦٢ -
"হে আদমসন্তানগণ, আমি কি তোমাদের থেকে এই মর্মে অঙ্গীকার গ্রহণ করিনি যে, তোমরা শয়তানের ইবাদত করবে না, নিশ্চয় সে তোমাদের প্রকাশ্য
শত্রু। আর তোমরা শুধুমাত্র আমার ইবাদত করবে, এটাই সরল রাস্তা। সে তোমাদেরই মধ্য হতে অনেকগুলো একটি সম্প্রদায়কে দিশেহারা করেছে, এরপরেও কি তোমরা বিবেচনা করবে না?" [সূরা ইয়াসিন: ৬০-৬২]
📄 আল্লাহ তা‘আলা ও তার বান্দাদের মাঝে মাধ্যমসমূহ তৈরী করার বিধান
মানুষ ও রাজা-বাদশাদের মাঝে মধ্যস্থতা নিয়োজিত করা হয় তিনটি কারণে:
প্রথম কারণ: রাজা-বাদশাদেরকে ঐ সকল মানুষের অবস্থার সংবাদ দেয়ার জন্য, যাদের ব্যাপারে তারা জানে না। অথচ আল্লাহ তা'আলা তাদের মত নয়। কেননা, তিনি সর্ব শ্রোতা সর্ব দ্রষ্টা সবকিছু জানেন। বিধায় তিনি কারো মুখাপেক্ষী নন।
দ্বিতীয় কারণ: বাদশা কখনো স্বীয় প্রজাদের ব্যাপারে সঠিক পদক্ষেপ গ্রহণ ও স্বীয় শত্রুদের দমনে অপারগ হয়ে যান। ফলে তার দুর্বলতা ও অপারগতার কারণে তিনি সহযোগী নিয়োগ দেন। অথচ আল্লাহ তা'আলা হলেন- স্বয়ংসম্পূর্ণ ও সর্বশক্তিমান। তিনি ব্যতীত সকলেই তার নিকট মুখাপেক্ষী। বিধায় তার কোনো সহযোগীর প্রয়োজন নেই।
তৃতীয় কারণ: কখনো বাদশাহ একান্তই বিশেষ চালিকা শক্তির ব্যবস্থাপনা ব্যতীত স্বীয় প্রজাদের উপকার করেন না। যখন তাকে তার প্রজাদের নেতৃবৃন্দ অনুরোধ করেন, তখনি কেবল স্বীয় প্রজাদের উপকার করার পরিকল্পনা তার মধ্যে জাগ্রত হয়ে ওঠে এবং তাদের সুপারিশ কবুল করেন তাদের নিকট স্বীয় স্বার্থ বিদ্যমান থাকার কারণে বা তাদেরকে ভয় করার কারণে বা তার প্রতি তাদের ইহসান থাকার জারণে। অথচ আল্লাহ তা'আলা কারোর নিকট কোনোকিছু আশা করেন না, কাউকে ভয় করেন না এবং কারো নিকট মুখাপেক্ষী নন। বরং তিনি মহাধনী সকল ত্রুটি থেকে সম্পূর্ণ মুক্ত, সকল বস্তুর রব ও মালিক। তিনি স্বীয় বান্দাদের প্রতি সন্তানের প্রতি জননী মাতার চেয়েও অধিক দয়ালু। তিনি যা চান, তাই হয়। যা চান না, তা হয়না। সুতরাং আমাদের রব কোনো শিক্ষকের মুখাপেক্ষী নন। কেননা, তিনি সর্ববিষয়ে জ্ঞানী। তার কোনো সহযোগীর প্রয়োজন নেই। কেননা, তিনি সকল বস্তুর উপর সর্বময় ক্ষমতার অধিকারী। স্বীয় বান্দাদেরকে ইহসান করার জন্য তার নিকট কোনো সুপারিশকারী থাকার প্রয়োজন নেই। কারণ, তিনি মহাধনী, সর্বাধিক মহান ও
সর্বোচ্চ দয়ালু। সুতরাং যে মূর্তি ও প্রতিমাসমূহকে আল্লাহ ও তার বান্দাদের মাঝে মাধ্যম হিসেবে গ্রহণ করে, সে মুশরিক।
১-আল্লাহ তা'আলা বলেন: {وَيَعْبُدُونَ مِنْ دُونِ اللَّهِ مَا لَا يَضُرُّهُمْ وَلَا يَنفَعُهُمْ وَيَقُولُونَ هَؤُلَاءِ شُفَعَاؤُنَا عِنْدَ اللَّهِ قُلْ أَتُنَبِّئُونَ اللَّهَ بِمَا لَا يَعْلَمُ فِي السَّمَاوَاتِ وَلَا فِي الْأَرْضِ سُبْحَانَهُ وَتَعَالَى عَمَّا يُشْرِكُونَ} [يونس: ١٨] (۱۸)
"তারা আল্লাহ তা'আলাকে বাদ দিয়ে অন্যদের পূজা করে, যারা তাদের উপকার-ক্ষতি কোনোটাই করতে পারেনা। আর তারা বলে যে, এরাই হল আল্লাহর নিকট আমাদের জন্য সুপারিশকারী। বলুন, তোমরা কি আল্লাহ তা'আলাকে মহাবিশ্ব ও পৃথিবীর এমন কোনো বিষয়য়ের সংবাদ দিচ্ছ, যে বিষয়ে আল্লাহ তা'আলা জানেন না? তিনি সর্বপ্রকার ত্রুটি-বিচ্যুতি থেকে মুক্ত, তিনি তাদের অংশীদারদের চেয়েও অনেক অনেক উর্ধ্বে।" [সূরা ইউনুস: ১৮]
২-আল্লাহ তা'আলা বলেন: {قُلْ أَرَأَيْتُمْ مَا تَدْعُونَ مِنْ دُونِ اللَّهِ أَرُونِي مَاذَا خَلَقُوا مِنَ الْأَرْضِ أَمْ لَهُمْ شِرْكٌ فِي السَّمَاوَاتِ ائْتُونِي بِكِتَابٍ مِنْ قَبْلِ هَذَا أَوْ أَثَارَةٍ مِنْ عِلْمٍ إِنْ كُنْتُمْ صَادِقِينَ (٤)} [الأحقاف: ٤] .
"আপনি বলুন, তোমরা কি ভেবে দেখেছ, আল্লাহকে বাদ দিয়ে তোমরা যাদের উপাসনা কর, আমাকে দেখাওতো তারা পৃথিবির কী সৃষ্টি করেছে, আর না মহাবিশ্বে তাদের কোনো অঙ্গশীদারিত্ব আছে? এই কিতাবের পূর্বে নাযিল হওয়া কোনো কিতাব অথবা পরম্পরাগত কোনো বিদ্যা আমার সামনে উপস্থিত কর, যদি তোমরা সত্যবাদী হয়ে থাক।" [সূরা আল আহক্বাফ: ৪]
৩-আল্লাহ তা'আলা বলেন: {قُلِ ادْعُوا الَّذِينَ زَعَمْتُمْ مِنْ دُونِ اللَّهِ لَا يَمْلِكُونَ مِثْقَالَ ذَرَّةٍ فِي السَّمَاوَاتِ وَلَا فِي الْأَرْضِ وَمَا لَهُمْ فِيهِمَا مِنْ شَرْك وَمَا لَهُ مِنْهُمْ مِنْ ظَهِيرِ (۲۲) وَلَا تَنْفَعُ الشَّفَاعَةُ عِنْدَهُ إِلَّا لِمَنْ أَذِنَ لَهُ حَتَّى إِذَا فُزِّعَ عَنْ قُلُوبِهِمْ قَالُوا مَاذَا قَالَ رَبُّكُمْ قَالُوا الْحَقِّ وَهُوَ الْعَلِيُّ الْكَبِيرُ (۲۳)} [سبأ: ۲۲ - ۲۳].
বলুন, তোমরা তাদেরকে আহবান কর, যাদেরকে উপাস্য মনে করতে আল্লাহ ব্যতীত। তারা নভোমণ্ডল ও ভূমণ্ডলের অনু পরিমাণ কোন কিছুর মালিক নয়, এতে তাদের কোন অংশও নেই এবং তাদের কেউ আল্লাহর সহায়কও নয়। যার জন্যে অনুমতি দেয়া হয়, তার জন্যে ব্যতীত আল্লাহর কাছে কারও সুপারিশ ফলপ্রসূ হবে না। যখন তাদের মন থেকে ভয়-ভীতি দূর হয়ে যাবে, তখন তারা পরস্পরে বলবে, তোমাদের পালনকর্তা কি বললেন? তারা বলবে, তিনি সত্য বলেছেন এবং তিনিই সবার উপরে মহান। [সূরা সাবা: ২২-২৩]
শিরকের অসারতা
কুফর ও শিরক-এর প্রত্যেকটিই বাতিল ও সর্বোচ্চ যুলুম। কুফুরির উপর একমাত্র নিজের ব্যাপারে অজ্ঞ, আল্লাহ তা'আলার সত্তা, তার নামসমূহ ও গুণাবলীর ব্যাপারে অজ্ঞ ও তার দীন ও শরীয়তের ব্যাপারে অজ্ঞ ব্যক্তিই অটল থাকে। তাওহীদ সম্পূর্ণটাই হক্ব (সত্য ও বাস্তবমুখী) এবং শিরকের সম্পূর্ণটাই বাতিল তথা অবাস্তব ও ভুয়া।
১-আল্লাহ তা'আলা বলেন:
{ ذَلِكُمُ اللَّهُ رَبُّكُمْ لَهُ الْمُلْكُ وَالَّذِينَ تَدْعُونَ مِنْ دُونِهِ مَا يَمْلِكُونَ مِنْ قِطْمِيرٍ (۱۳) إِنْ تَدْعُوهُمْ لَا يَسْمَعُوا دُعَاءَكُمْ وَلَوْ سَمِعُوا مَا اسْتَجَابُوا لَكُمْ وَيَوْمَ الْقِيَامَةِ يَكْفُرُونَ بشرككُمْ وَلَا ينبئك مثل خبير (١٤)} [فاطر: ١٣ - ١٤].
"তিনি আল্লাহই একমাত্র তোমাদের রব, সমস্ত কিছুর সার্বভৌমত্ব একমাত্র তারই। তোমরা তাকে বাদ দিয়ে যাদের উপাসনা কর, তারা সামান্য একটি খেজুরের আঁটিরও মালিক নয়। তোমরা যখন তাদেরকে ডাক, তারা তোমাদের ডাক শুনে না। আর যদিওবা শুনে, তথাপি তোমাদের ডাকে সাড়া দিতে পারে না। ক্বীয়ামতের দিন তারাই তোমাদের এই শিরককে অস্বীকার করবে। বস্তুতঃ মহান সংবাদ দাতা আল্লাহর ন্যায় আর কেউ তোমাকে এই ব্যাপারে অবহিত করতে পারবে না।" [সূরা আল ফাত্বির: ১৩-১৪]
২-আল্লাহ তা'আলা বলেন:
{قُلْ أَرَأَيْتُمْ شُرَكَاءَكُمُ الَّذِينَ تَدْعُونَ مِنْ دُونِ اللَّهِ أَرُونِي مَاذَا خَلَقُوا مِنَ الْأَرْضِ أَمْ لَهُمْ شِرْكُ فِي السَّمَاوَاتِ أَمْ آتَيْنَاهُمْ كِتَابًا فَهُمْ عَلَى بَيِّنَتْ مِنْهُ بَلْ إِنْ يَعِدُ الظَّالِمُونَ بَعْضُهُمْ بَعْضًا إِلَّا غُرُورًا (٤٠)} [فاطر: ٤٠].
"আপনি বলুন, তোমরা কি তোমাদের সেই শরীকদের কথা ভেবে দেখেছ, যাদেরকে আল্লাহর পরিবর্তে তোমরা ডাক? তারা পৃথিবীতে কিছু সৃষ্টি করে থাকলে তা আমাকে দেখাও। না মহাবিশ্ব সৃষ্টিতে তাদের কোনো অংশ আছে আর না আমি তাদেরকে কোনো কিতাব দিয়েছি, যে কিতাবের প্রমাণের উপর তারা প্রতিষ্ঠিত রয়েছে? বরং জালেমরা একে অপরের সাথে শুধুই প্রতারণামূলক অঙ্গীকার করে থাকে।" [সূরা আল ফাত্বির: ৪০]
৩-আল্লাহ তা'আলা বলেন:
{وَاتَّخَذُوا مِنْ دُونِهِ آلِهَةً لَا يَخْلُقُونَ شَيْئًا وَهُمْ يُخْلَقُونَ وَلَا يَمْلِكُونَ لِأَنْفُسِهِمْ ضَرًّا وَلَا نَفْعًا وَلَا يَمْلِكُونَ مَوْتًا وَلَا حَيَاةً وَلَا نُشُورًا (۳)} [الفرقان: ٣].
"তারা তার পরিবর্তে কত উপাস্য গ্রহণ করেছে, যারা নিজেরাই সৃষ্টি কোনোকিছু সৃষ্টি করার ক্ষমতা রাখে না, তারা নিজেদের ভাল-মন্দ কোনটাই করতে পারে না এবং তারা জীবন, মৃত্যু ও পুনরুজ্জীবন কোনোটারই মালিক নয়।" [সূরা আল ফুরক্বান: ৩]
৪-আল্লাহ তা'আলা বলেন:
{ذَلكَ بِأَنَّ اللَّهَ هُوَ الْحَقُّ وَأَنَّ مَا يَدْعُونَ مِنْ دُونِهِ الْبَاطِلُ وَأَنَّ اللَّهَ هُوَ الْعَلِيُّ الْكَبِيرُ (۳۰)} [لقمان: ۳০].
এটাই প্রমাণ যে, আল্লাহ-ই সত্য এবং আল্লাহ ব্যতীত তারা যাদের পূজা করে সব মিথ্যা। আল্লাহ সর্বোচ্চ, মহান। [সূরা লুকমান: ৩০]