📘 ইসলাম ভঙ্গকারী বিষয়সমূহ > 📄 গণকের নিকট গমনের বিধান

📄 গণকের নিকট গমনের বিধান


গণক ও এই জাতীয় ব্যক্তিদের নিকট গমনের তিনটি অবস্থা: প্রথম: গণকের নিকট যাওয়া অতঃপর তাকে সত্যায়ন না করে প্রশ্ন করা বা তাকে সত্যায়ন না করে মনোযোগ সহকারে তার কথা শ্রবণ করা কোনো টিভি চ্যানেল বা ভিডিও ক্লিপ-এর মাধ্যমে। এটা সম্পূর্ণ হারাম এবং এর শাস্তি হল- চল্লিশদিন পর্যন্ত এই ব্যক্তির (গমনকারী) ছুলাত কবুল করা হবে না। রসূল ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কোনো এক স্ত্রী তার থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন:
«مَنْ أَتَى عَرَّافًا فَسَأَلَهُ عَنْ شَيْءٍ لَمْ تُقْبَلْ لَهُ صَلَاةٌ أَرْبَعِينَ لَيْلَةً» أخرجه مسلم برقم .(۲۲۳۰)
"যে ব্যক্তি কোনো গণকের নিকট গমন করল অতঃপর তাকে কোনো বিষয়ে প্রশ্ন করল, চল্লিশদিন পর্যন্ত তার ছুলাত কবুল হবে না।" ছুহীহ মুসলিম হা/২২৩০।
দ্বিতীয়: গণকের নিকট গমন করা এবং তাকে প্রশ্ন করে তার কথাকে সত্যায়ন করা। এটা নিঃসন্দেহে কুফর:। আল্লাহ তা'আলার নিকট এই বিষয়ে আশ্রয় প্রার্থনা করছি।
আবু হুরায়রা () এর সূত্রে নাবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম - থেকে বর্ণিত, তিনি বলেছেন:
«مَنْ أَتَى كَاهِنًا أَوْ عَرَّافًا فَصَدِّقَهُ بِمَا يَقُولُ، فَقَدْ كَفَرَ بِمَا أُنْزِلَ عَلَى مُحَمَّدٍ – صلى الله عليه وسلم - صحيح أخرجه أحمد برقم (٩٥٣٦) وهذا لفظه، وأخرجه الحاكم برقم (١٥).
"যে ব্যক্তি কোনো গণক বা ভবিষ্যদ্বক্তার নিকট গমন করল, অতঃপর তার কথা বিশ্বাস করল, সে মুহাম্মাদ-হুল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর উপর নাযিল হওয়া শরীয়তকে অস্বীকার করল।" ছুহীহ: মুসনাদে আহমাদ হা/৯৫৩৬, হাকিম হা/১৫।
তৃতীয়: গণকের নিকট গমন করা অতঃপর তাকে প্রশ্ন করা মানুষকে তার অবস্থা হতে সাবধান করার জন্য। এই উদ্দেশ্যে গমন করাতে কোনো সমস্যা নেই। যেমনটি নাবী-হুল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম করেছেন ইবনু ছুয়্যাদের সঙ্গে।
ইবনু উমার ( থেকে বর্ণিত: أَنَّ عُمَرَ انْطَلَقَ فِي رَهْطٍ مِنْ أَصْحَابِ النَّبِيِّ - صلى الله عليه وسلم - مَعَ النَّبي - صلى الله عليه وسلم - قبل ابن صياد، حتَّى وَجَدُوهُ يَلْعَبُ مَعَ الغِلْمَانِ، عِنْدَ أَطْمِ بَنِي مَغَالَةَ، وَقَدْ قَارَبَ يومئذ ابن صياد يحتلم، فلم يشعر بشيء حتى ضرب النبي - صلى الله عليه وسلم – ظهره بيده، ثم قال النبي - صلى الله عليه وسلم -: «أَتَشْهَدُ أَنِّي رَسُولُ الله – صلى الله عليه وسلم ». فَنَظَرَ إِلَيْهِ ابْنُ صَيَادِ، فَقال : أَشْهَدُ أَنَّكَ رَسُولُ الأُمِّيِّينَ، فَقال ابن صياد للنبي - صلى الله عليه وسلم - : أَتَشْهَدُ أَنِّي رَسُولُ اللهِ؟ قَالَ لَهُ النَّبِيُّ - صلى الله عليه وسلم -: «آمنت بالله وَرُسُله». قال النبي - صلى الله عليه وسلم -: «مَاذَا تَرَى». قال ابن صياد: يَأْتيني صادق وَكَاذِبُ، قال النبي - صلى الله عليه وسلم -: «خَلِطَ عَلَيْكَ الْأَمْرُ». قالَ النَّبِيُّ - صلى الله عليه وسلم -: «إِنِّي قَدْ خَبَأْتُ لَكَ خَبِيئاً». قال ابن صياد : هُوَ الدخ، قال النبي - صلى الله عليه وسلم -: «اخْسَأ، فَلَنْ تَعْدُوَ قَدْرَكَ». قال عُمَرُ : يَا رَسُولَ اللَّهِ، ائْذَنْ لِي فِيهِ أَضْرِبْ عَنقَهُ، قال النبي - صلى الله عليه وسلم -: «إِنْ يَكُنْهُ فَلَنْ تُسَلِّطَ عَلَيْهِ، وَإِنْ لَمْ يَكُنْهُ فَلَا خَيْرَ لَكَ في قتله متفق عليه، أخرجه البخاري برقم (٣٠٥٥), واللفظ له، ومسلم برقم (۲۹৩০).
'উমার ইবনুল খাত্তাব ( একদল মানুষসহ রসূলুল্লাহ (ছল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সঙ্গে ইবনু সাইয়্যাদের কাছে গেলেন। তাকে বানী মাগালার কিল্লার কাছে একদল বালকের সাথে ক্রিড়ারত অবস্থায় পেলেন। তখন ইবনু সাইয়‍্যাদ বয়োঃপ্রাপ্ত হবার কাছাকাছি পৌছে গিয়েছিল। সে রসূলুল্লাহ (ছল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর আগমন টের পাওয়ার আগেই রসূলুল্লাহ (ছল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়া সাল্লাম) নিজ হাত দ্বারা তার পিঠে আঘাত করে বললেন, তুমি কি সাক্ষ্য দিচ্ছ যে, আমি আল্লাহর রসূল? এ কথা শুনে ইবনু সাইয়্যাদ তাঁর প্রতি তাকাল এবং বলল যে, আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আপনি উম্মীদের (নিরক্ষরদের)
রসূল। অতঃপর ইবনু সাইয়্যাদ রসূলুল্লাহ (ছল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়া সাল্লাম)- কে জিজ্ঞেস করল যে, আপনি কি সাক্ষ্য দেন যে, আমি আল্লাহর রসূল। রসূলুল্লাহ (ছল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তার কোন প্রত্যুত্তর দেননি। অধিকন্তু তিনি বললেন, আমি ঈমান এনেছি আল্লাহর প্রতি ও তাঁর রসূলদের প্রতি। তারপর রসূলুল্লাহ (ছল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাকে বললেনঃ তুমি কি দেখতে পাচ্ছ? ইবনু সাইয়্যাদ বলল, আমার নিকট একজন সত্যবাদী ও একজন মিথ্যাবাদী লোক আসে। এ কথা শুনে রসূলুল্লাহ (ছল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাকে বললেন, তোমার বিষয়টি এলোমেলো হয়ে গেছে। তোমাকে জিজ্ঞেস করার জন্য একটি কথা আমি মনে মনে লুক্কায়িত রেখেছি। শুনামাত্রই ইবনু সাইয়্যাদ বলল, তা হচ্ছে (আরবি) (ধোঁয়া)। তৎপর রসূলুল্লাহ (ছল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন: দূর হয়ে যা। তুই তোর সীমানা অতিক্রম করতে পারবি না। তারপর 'উমার ইবনুল খাত্তাব (রাঃ) বললেন, হে আল্লাহর রসূল! আমাকে ছেড়ে দিন। আমি তার গর্দান উড়িয়ে দেই। রসূলুল্লাহ (সা) বললেনঃ যদি সে প্রকৃতপক্ষেই দাজ্জাল হয়, তবে তো তাকে হত্যা করতে পারবে না। আর যদি সে দাজ্জাল না হয় তবে তাকে হত্যা করাতে কোন কল্যাণ নেই।" মুত্তাফাকুন আলাইহি, ছুহীহ বুখারী হা/৩০৫৫, ছুহীহ মুসলিম হা/২৯৩০

📘 ইসলাম ভঙ্গকারী বিষয়সমূহ > 📄 যাদুকর ও গণকদের ফিতনা

📄 যাদুকর ও গণকদের ফিতনা


যাদুকর, জ্যোতিষী ও গণকদের নিকট গমন করা ঈমানভঙ্গের অন্যতম কারণ। আর আল্লাহ তা'আলা স্বীয় বান্দাদেরকে পরীক্ষা করার ক্ষেত্রবিশেষের জন্য তাদেরকে সঠিকতা দান করে থাকেন, কিন্তু মানুষ সেই সঠিকতার প্রভাবে ধোঁকায় পতিত হয়। আর এদের প্রত্যেকের কর্মকাণ্ডই বান্দাদের জন্য ফিতনা ও পরীক্ষা।
১-আল্লাহ তা'আলা বলেন:
{وَنَبْلُوكُم بِالشَّرِّ وَالْخَيْرِ فِتْنَةً وَإِلَيْنَا تُرْجَعُونَ (٣٥)} [الأنبياء: ٣٥].
"আর আমি তোমাদেরকে অনিষ্ট ও কল্যাণের ফিতনা দ্বারা পরীক্ষা করব।" (সূরা আল আম্বিয়া: ৩৫)
২-নাবী-হুল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম- এর স্ত্রী আয়েশা () থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন আমি রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছি:
«إِنَّ المَلائِكَةَ تَنزِلُ في العنان، وهو السَّحَابُ، فَتَذْكُرُ الأمْرَ قُضِيَ فِي السَّمَاءِ، فَتَسْتَرِقُ الشَّيَاطِينُ السَّمْعَ فَتَسْمَعُه، فتوحيه إلى الكهان، فَيَكْذِبُونَ معها مائة كذبة من عند أنفسهم» متفق عليه، أخرجه البخاري برقم (۳۲۱۰), واللفظ له، ومسلم برقم (۲২2৮).
"নিশ্চয় মালাইকা-ফেরেশতারা যখন আনান তথা মেঘের মাঝে অবতরণ করেন অতঃপর তারা আসমানে ধার্যকৃত অদৃষ্টের ব্যাপারে আলোচনা করতে থাকেন, তখন শয়তানরা তাদের কথোপকথন চুরি করে শুনে তা গণকদেরকে অবহিত করে অতঃপর তারা নিজেদের থেকে আরো একশটি মিথ্যা তার সঙ্গে জুড়ে দেয়।" মুত্তাফাকুন আলাইহি, ছুহীহ বুখারী হা/৩২১০, মুসলিম হা/২২২৮।

📘 ইসলাম ভঙ্গকারী বিষয়সমূহ > 📄 মৃত ও অদৃশ্যব্যক্তিদের নিকট সাহায্য প্রার্থনা করার বিধান

📄 মৃত ও অদৃশ্যব্যক্তিদের নিকট সাহায্য প্রার্থনা করার বিধান


মৃতব্যক্তি ও অদৃশ্যব্যক্তিদের নিকট সাহায্য প্রার্থনা করা ও তাদের নিকট দু'আ করা প্রত্যেকটিই শিরক, যা আল্লাহ তা'আলা ও তার রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হারাম করেছেন। আর এগুলো হল- মূর্তিপুজারীদের মূর্তিপুজার ন্যায়, যারা মূলত শয়তানের ইবাদত করে। যার নিকট প্রার্থনা করা হয়, শয়তান তার আকৃতিতে তাদের সামনে উপস্থিত হয়, তাদেরকে রূহানীভাবে সম্বোধন করে এবং তাদের আংশিক চাহিদা পূরণ করে। যেমন শয়তান মূর্তিগুলোর মাঝে প্রবেশ করে তাদের পূজারীদের সাথে কথা বলে এবং তাদের আংশিক চাহিদা পূর্ণ করে দেয়। আর মূর্খব্যক্তি মনে করে যে, এটা তার শায়েখের কারিশমা। আর এটাই মূর্তিপূজার সবচেয়ে বড় কারণ। এমনিভাবে গণক ও জ্যোতিষীদের সঙ্গেও শয়তান অবস্থান করে। কারণ, তাদের মধ্যে কুফর, ফাসেক্বী ও নাফরমানী বিদ্যমান। ফলে তাদের থেকে বিভিন্নপ্রকার শয়তানী সাধনা প্রকাশিত হয় এবং সে অনুপাতে তারা শক্তি সঞ্চয় করে থাকে, যার দ্বারা তারা মুক্তবাতাসে উড়া ও বিভিন্ন অদৃশ্যের বিষয়ে সংবাদ প্রদানে সক্ষম হয় এবং শয়তানরা তাদের নিকট সম্পদ ও খাদ্য নিয়ে আসে। সুতরাং শয়তানী সাধনাসমূহ থেকে তারা শয়তানকে রাজি করানোর আনুপাতিক হারে মর্যাদা ও পদ অর্জন করে থাকে।
১-আল্লাহ তা'আলা বলেন:
{ وَمَنْ أَضَلُّ مِمَّنْ يَدْعُو مِنْ دُونِ اللَّهِ مَنْ لَا يَسْتَجِيبُ لَهُ إِلَى يَوْمِ الْقِيَامَةِ وَهُمْ عَنْ دُعَائِهِمْ غَافِلُونَ (٥) وَإِذَا حُشِرَ النَّاسُ كَانُوا لَهُمْ أَعْدَاءً وَكَانُوا بِعِبَادَتِهِمْ كَافِرِينَ (٦)} [الأحقاف: ٥ - ٦] .
"ঐ ব্যক্তির চেয়ে পথভ্রষ্ট আর কে হতে পারে যে, আল্লাহকে বাদ দিয়ে অন্যদের নিকট প্রার্থনা করে, যারা তার ডাকে ককীয়ামত পর্যন্ত সাড়া দিতে সক্ষম নয়। কেননা, তারা তাদের প্রার্থনা থেকে সপমূর্ণ গাফেল। আর যখন সকল মানুষকে হাশরের মাঠে একত্রিত করা হবে, তারাই তাদের শত্রুতে পরিণত হবে এবং তাদের ইবাদতকে তারা অস্বীকার করবে।" (সূরা আল আহক্বাফ: ৫-৬)
২-আল্লাহ তা'আলা বলেন:
{هَلْ أُنَبِّئُكُمْ عَلَى مَنْ تَنَزَّلُ الشَّيَاطِينُ (۲۲۱) تَنَزَّلُ عَلَى كُلِّ أَفَاكَ أَثِيمٍ (۲۲۲) يُلْقُونَ السمع وأكْثَرُهُمْ كَاذِبُونَ (۲۲۳)} [الشعراء: ۲۲۱ – ۲۲۳] .
"আমি কি তোমাদেরকে ঐ সকল ব্যক্তির সম্পর্কে সংবাদ দিব, যাদের উপর শয়তান ভর করে? শয়তান প্রত্যেক অপবাদ দানকারী পাপাচারের উপর ভর করে। শয়তানরা তাদের চুরি করে শোনা কথাটি তাদের হৃদয়ে প্রবিষ্ট করে দেয় আর তাদের (যাদের উপর শয়তানরা ভর করে) অধিকাংশই হল মিথ্যাবাদী।" (সূরা আশ শু'আরা: ২২১-২২৩)

📘 ইসলাম ভঙ্গকারী বিষয়সমূহ > 📄 মুশরিকদের উপাস্য

📄 মুশরিকদের উপাস্য


যেসকল মুশরিককে আল্লাহ তা'আলা ও তার রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম- শিরকের বিশেষণে বিশেষায়িত করেছেন তারা মূলত দুই প্রকার: নূহ (আলাইহিস সালাম) এর জাতি ও ইবরাহীম (আলাইহিস সালাম) এর জাতি।
নূহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর জাতির শিরক ছিল যমীন কেন্দ্রিক। তারা নেককার ব্যক্তিদের কবরের নিকট বসে ধ্যান করত এবং তাদের কবরের নিকট বসে আল্লাহর নিকট দু'আ করত। এরপর শয়তান তাদের আমলকে তাদের
নিকট সুসজ্জিত করে তুলল, ফলে তারা তাদের মূর্তি তৈরী করল। অতঃপর শয়তান তাদেরকে এগুলোর ইবাদতের আদেশ দিল।
আর ইবরাহীম-হুল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর জাতির শিরক ছিল আসমান কেন্দ্রিক। তারা নক্ষত্ররাজি, সূর্য ও চন্দ্রের ইবাদত করত। অতঃপর শয়তান - উক্ত বস্তুগুলোকে সুপারিশকারী হিসেবে গ্রহণ করাকে – তাদের সামনে সুসজ্জিত করতে তুলল এবং তাদেরকে উক্ত বস্তুগুলোর ইবাদত করার আদেশ দিল। সুতরাং তাদের প্রত্যেকে এবং এদের প্রত্যেকেই মুশরিক। দৃশ্যমান মাখলুকের আকৃতিতে তাদেরকে তারা অবলোকন করে। কারণ, শয়তানরা তাদেরকে সম্বোধন করে, বিভিন্ন ক্ষেত্রে তাদেরকে সহপযোগীতা করে এবং মানবীয় আকৃতিতে তারা তাদের সামনে উপস্থিত হয়, ফলে তারা তাদেরকে তাদের চক্ষু দ্বারা দেখতে পায়। আর জ্বিনরাও মানুষের মত। তাদের মধ্যেও কাফের ও মুমিন আছে। আর শয়তানরা বন্ধুত্ব স্থাপন করে ও উপকার করে, যারা শিরক, কুফর:, ফাসেক্বী ও নাফরমানী করে।
১-আল্লাহ তা'আলা বলেন:
{يَوْمَ يَحْشُرُهُمْ جَمِيعًا ثُمَّ يَقُولُ لِلْمَلَائِكَةِ أَهْؤُلَاءِ إِيَّاكُمْ كَانُوا يَعْبُدُونَ (٤٠) قَالُوا سبحانك أنت ولينا من دونهم بل كانوا يعبدون الجن أكثرهم بهم مؤمنون (٤١)} [سبأ: ٤٠ - ٤١] .
"যেদিন তাদের সকলকে তিনি একত্রিত করবেন, অতঃপর মালাইকা- ফেরেশতাদেরকে বলবেন এরাই কি তোমাদেরকে পূজা করত? তারা বলবে – নিশ্চয় আপনি মহান – একমাত্র আপনিই আমাদের অভিভাবক ও মা'বুদ, তারা বরং জ্বিনদের পূজা করত। এদের অধিকাংশই তাদের প্রতি ঈমান রাখে।" (আস সাবা: ৪০-৪১)
২-আল্লাহ তা'আলা বলেন:
{أَلَمْ أَعْهَدْ إِلَيْكُمْ يَا بَنِي آدَمَ أَنْ لَا تَعْبُدُوا الشَّيْطَانَ إِنَّهُ لَكُمْ cَدُوٌّ مُبِينٌ (٦٠) وَأَنِ اعْبُدُونِي هَذَا صِرَاطٍ مُسْتَقِيمٌ (٦١) وَلَقَدْ أَضَلَّ مِنْكُمْ جِبِلًا كَثِيرًا أَفَلَمْ تَكُونُوا تَعْقِلُونَ (٦٢)} [يس: ٦٠ .[٦٢ -
"হে আদমসন্তানগণ, আমি কি তোমাদের থেকে এই মর্মে অঙ্গীকার গ্রহণ করিনি যে, তোমরা শয়তানের ইবাদত করবে না, নিশ্চয় সে তোমাদের প্রকাশ্য
শত্রু। আর তোমরা শুধুমাত্র আমার ইবাদত করবে, এটাই সরল রাস্তা। সে তোমাদেরই মধ্য হতে অনেকগুলো একটি সম্প্রদায়কে দিশেহারা করেছে, এরপরেও কি তোমরা বিবেচনা করবে না?" [সূরা ইয়াসিন: ৬০-৬২]

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00