📘 ইসলাম ভঙ্গকারী বিষয়সমূহ > 📄 শিরকের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কথা-বার্তা

📄 শিরকের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কথা-বার্তা


কুরআনে যেসকল স্থনে শিরক শব্দটি বর্ণিত হয়েছে, সবগুলো স্থানেই শিরক দ্বারা উদ্দেশ্য হল- শিরক আল-আকবার। আর শিরক আল-আছুগার বা ছোট শিরক অর্থে শিরক শব্দটি ব্যবহৃত হয়েছে দুহীহ সুন্নাহ বা বিশুদ্ধ হাদীছগুলোতে।
এখানে অনেকগুলো কথা ও কাজ এমন আছে, যেগুলো শিরক আল-আকবার ও শিরক আল-আছুগার এর মাঝে যৌথভাবে বিদ্যমান। যে কথা ও কাজগুলো শিরক আল-আছুগারও হতে পারে আবার শিরক আল-আকবারও হতে পারে - সংশ্লিষ্ট কথার বক্তার ও কাজের কর্তার অন্তরে বিদ্যমান উদ্দেশ্য ও তার থেকে
প্রকাশিত কার্যক্রম-এর ভিত্তিতে। আর এই জাতীয় কথা-বার্তা ও কার্যসমূহ তাওহীদের সাথে সাংঘর্ষিক অথবা তাওহীদের বিশুদ্ধতাকে পঙ্কিল ও মলিন করে দেয়। তবে শরীয়ত এই জাতীয় সকল বক্তব্য ও কার্যসমূহ থেকে সাবধান করে দিয়েছে।
এই জাতীয় কিছু কথা-বার্তা ও কার্যসমুহের তালিকা নিম্নে উদ্ধৃত করা হল: ১- সন্তানদের কোনো অঙ্গে তামায়িম তথা মাদুলি বা তাবীয ঝুলানো কু- দৃষ্টি থেকে বাঁচার জন্য 0166 all, (تعليق التمائم على الأولاد اتقاء للعين)
তামায়িম-এর পরিচয়: প্রত্যেক এমন বস্তু, যা ব্যক্তির কোনো অঙ্গে বা কোনো বস্তুর উপর ঝুলিয়ে রাখা হয়। এটা শিরক এই কারণে যে, এটা গায়রুল্লাহ-এর সাথে প্রকৃত ও বিশুদ্ধ বিশ্বাসকে – যা শুধুমাত্র আল্লাহর জন্য নির্দিষ্ট – সংমিশ্রণ করা।
আব্দুল্লাহ বিন মাসউদ (১) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমি রসূল - ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -কে বলতে শুনেছি:
«إِنَّ الرُّقَى وَالسَّمَائِمَ وَالتَّوَلَةَ شِرْكٌ صحيح / أخرجه أحمد برقم (٣٦١٥), وأخرجه أبو داود برقم (۳۸৮৩)، وهذا لفظه.
নিশ্চয় ঝাড়ফুঁক, তাবিজ-মাদুলি ও জাদু-টোনা শিরক। ছুহীহ: মুসনাদে আহমাদ হা/৩৬১৫, আবু দাউদ হা/৩৮৮৩।
২- আংটি অথবা বিশেষ ধরনের সুতা পরিধান করা বিপদ অপসারণ বা প্রতিরহত করার লক্ষ্যে 0159, 1 (لبس الحلقة أو الخيط ونحوهما بقصد رفع البلاء أو دفعه)
এটাও শিরক এই কারণে যে, এটা গায়রুল্লাহ-এর সাথে প্রকৃত ও বিশুদ্ধ বিশ্বাসকে যা শুধুমাত্র আল্লাহর জন্য নির্দিষ্ট – সংমিশ্রণ করা।
৩- গাছপালা, পাথরসমূহ, কবরসমূহ ও নিদর্শন বা প্রাচীন ঐতিহ্যসমুহের দ্বারা বরকত কামনা করা 1669, 611 (التبرك بالأشجار والأحجار والقبور والآثار) )ونحوها। এটাও শিরক এই কারণে যে, এটা গায়রুল্লাহ-এর সাথে বরকত হাছিলের প্রকৃত ও বিশুদ্ধ বিশ্বাসকে যা শুধুমাত্র আল্লাহর জন্য নির্দিষ্ট সংমিশ্রণ করা।
৪- তাত্বয়্যুর বা অশুভ লক্ষণের প্রতি বিশ্বাস করা (الطير): তাত্বয়্যুর হল- বিশেষ কিছু পাখি, ব্যক্তিবর্গ, ভূ-খণ্ড অথবা বস্তুসমূহের দ্বারা অশুভ লক্ষণ গ্রহণ করা। এটা শিরক এই কারণে যে, আল্লাহ তা'আলার এমন সৃষ্টি- যে নিজেই নিজের উপকার বা ক্ষতির মালিক নয়- তার দ্বারা ক্ষতিসাধন হতে পারে এমন বিশ্বাসের মাধ্যমে গায়রুল্লাহের সাথে প্রকৃত বিশ্বাসকে সংমিশ্রণ করা। আর এটা শয়তানের কু-মন্ত্রণা ও অপপ্রচার, যা তাওয়াক্কুল-এর সাথে সাংঘর্ষিক। আনাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত, নাবী কারীম ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন: «لا عَدْوَى وَلَا طَيرَةَ، وَيُعْجِبُني الفَأْلُ: الكَلِمَةُ الحَسَنَة، الكلمة الطيبة». متفق عليه، أخرجه البخاري برقم (٥٧٥٦), ومسلم برقم (٢٢٢٤)، واللفظ له.
সংক্রমণ ও অশুভ লক্ষণ বলতে কিছু নেই। তবে শুভ লক্ষণ: সুন্দর কথা ও উত্তম সংবাদ আমাকে অভিভূত করে। মুত্তাফাকুন আলাইহি, বুখারী হা/৫৭৫৬, মুসলিম হা/২২২৪।
৫- যাদু-টোনা (السحر): যাদুবিদ্যা হল এমন শাস্ত্র, যার উপায়-উপকরণ অন্যন্ত নিগূঢ় ও রহস্যময়।
যাদুবিদ্যা হল- ঝাড়ফুঁক, দৃঢ় সংকল্প, উচ্চারণযোগ্য বাক্য ও ঔষধসমূহ, যেগুলোর দ্বারা শরীরে ও মস্তিষ্কে এমন প্রভাব বিস্তার করা যায়, যেই প্রভাবের ফলে অসুস্থ করা, হত্যা করা এমনকি ব্যক্তি ও তার স্ত্রীর মাঝে বিচ্ছেদ করানো যায়। যাদু কফুরি কর্ম। কারণ, এর দ্বারা গায়রুল্লাহ তথা শয়তানদের সাথে প্রকৃত ও বিশুদ্ধ বিশ্বাসকে সংমিশ্রণ করা হয় এবং এই কাজে ক্ষেত্রবিশেষে ইলমুল গায়েব বা অদৃশ্যের জ্ঞান জানার দাবি করা হয়।
আল্লাহ তা'আলা বলেন: {وَمَا كَفَرَ سُلَيْمَانُ وَلَكِنَّ الشَّيَاطِينَ كَفَرُوا يُعَلِّمُونَ النَّاسِ السِّحْرَ} [البقرة: ١٠٢].
সুলায়মান কুফর করেনি; শয়তানরাই কুফর করেছিল। তারা মানুষকে জাদুবিদ্যা তা শিক্ষা দিত। আল বাকারা: আয়াত ১০২।
৬- ভবিষৎ গণনা করা (الكهانة): ভাগ্য গণনা হল- অদৃশ্যের জ্ঞান জানার দাবি করা। যেমন- পৃথিবীতে অচিরেই কী ঘটতে যাচ্ছে এমন বিষয়ে - শয়তানদের সূত্রে বা ভিত্তিতে ভবিষ্যদ্বানী করা।
জ্যোতিষী: জ্যোতিষী হল- যে ঘটে যাওয়া ঘটনাসমূহ জানার দাবি করে। এটা শিরক এই কারণে যে, এতে গায়রুল্লাহের ঘনিষ্ঠতা অর্জন করতে হয় ও অদৃশ্যের ঐ জ্ঞান যা আল্লাহ তা'আলার জন্য নির্ধারিত জানার ক্ষেত্রে আল্লাহ তা'আলার সমকক্ষ হওয়ার দাবি করা হয়। সুতরাং যে ভবিষ্যৎ গণনা কারী বা জ্যোতিষীর নিকট গমন করল, আল্লাহ তা'আলা তার চল্লিশ দিনের ছলাত কবুল করবেন না। আর উক্ত গমন কারী ব্যক্তি যদি তাকে বিশ্বাস করে, তবে সে মুহাম্মদ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর উপর নাযিলকৃত শরীয়তকে অস্বীকার করল।
১) নাবী কারীম - ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর স্ত্রীগণের- রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুন্না মধ্য হতে কোনো এক স্ত্রী নাবী কারীম ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন:
«مَنْ أَتَى عَرَافاً فَسَأَلَهُ عَنْ شَيْءٍ لَمْ تُقْبَلْ لَهُ صَلَاةُ أَرْبَعِينَ لَيْلَةً». أخرجه مسلم برقم .(۲۲۳۰)
যে ব্যক্তি কোনো জ্যোতিষীর নিকট এসে কোনো বিষয়ে তাকে জিজ্ঞাসা করল, চল্লিশ রাত পর্যন্ত তার ছলাত ক্ববূল করা হবে না। ছুহীহ মুসলিম হা/২২৩০
২) আবু হুরায়রা () থেকে বর্ণিত, তিনি নাবী কারীম ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন:
«مَنْ أَتَى كَاهِناً أَوْ عَرَّافاً فَصَدِّقَهُ بِمَا يَقُولُ، فَقَدْ كَفَرَ بِمَا أُنْزِلَ عَلَى مُحَمَّدٍ – صلى الله عليه وسلم - » صحيح أخرجه أحمد برقم (٩٥٣٦), وهذا لفظه، وأخرجه الحاكم برقم .(١٥)
যে ব্যক্তি কোনো ভাগ্য গণনা কারী বা জ্যোতিষীর নিকট গমন করল, অতঃপর তার কথায় বিশ্বাস করল, সে মুহাম্মাদ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর উপর নাজিলকৃত শরীয়তকে অস্বীকার করল। ছুহীহ: মুসনাদে আহমাদ হা/৯৫৩৬, হাকিম হা/১৫।
৭- জ্যোতিষশাস্ত্র বা নক্ষত্রবিদ্যা চর্চা করা (التنجيم) :
নক্ষত্ররাজির সাহায্যে নক্ষত্রীয় কক্ষপথকে নিরীক্ষণ করে পৃথিবীতে চলমান ঘটনাগুলোর বিশ্লেষণ করা।
যেমন-ঝড়ো আবহাওয়া, বৃষ্টিবর্ষণ, বিভিন্নপ্রকার রোগ, মানুষের মৃত্যু, ঠাণ্ডা ও শৈত্য আবহাওয়া, পণ্যের মূল্যের পরিবর্তন -এগুলোর সময় নির্ণয় করা। এজাতীয় কাজ শিরক এই কারণে যে আল্লাহ তা'আলার অংশীদারকে বিশ্বপরিচালনার ও ইলমুল গায়েব এর অধিকারী মনে করা হয়।
ইবনু আব্বাস() থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন:
«مَنِ اقْتَبَسَ عِلْماً مِنَ النُّجُومِ اقْتَبَسَ شُعْبَةً مِنَ السِّحْرِ زَادَ مَا زَادَ». صحيح أخرجه أحمد برقم (۲۰۰۰), وأخرجه أبو داود برقم (٣٩٠٥)، وهذا لفظه.
"যে ব্যক্তি نক্ষত্র পর্যবেক্ষণ বিদ্যার কোনো একটি শাখার জ্ঞান আহরণ করল, সে যাদুবিদ্যার একটি শাখা আহরণ করল। নক্ষত্র পর্যবেক্ষণ বিদ্যা অর্জনের ক্ষেত্রে সে যত বেশী অগ্রসর হবে, যাদুবিদ্যারও ততই নিকটবর্তী হবে।" ছুহীহ: মুসনাদে আহমাদ হা/২০০০, আবূ দাউদ হা/৩৯০৫।
৮-নক্ষত্ররাজির মাধ্যমে বৃষ্টি প্রার্থনা করা:)الاستسقاء بالنجوم
নক্ষত্ররাজির মাধ্যমে বৃষ্টি প্রার্থনা করার অর্থ হল- বৃষ্টিবর্ষণকে কোনো তারকার উদয় বা অস্ত যাওয়ার সঙ্গে সম্পৃক্ত করা। যেমন এই কথা বলা- অমুক অমুক তারকার কারণে আমাদেরকে বৃষ্টি দেয়া হয়েছে। সুতরাং বৃষ্টিবর্ষণকে আল্লাহ তা'আলার দিকে সম্পৃক্ত না করে কোনো তারকার দিকে সম্পৃক্ত করা শিরক। কারণ, বৃষ্টিবর্ষণ আল্লাহ তা'আলার হাতে, কোনো তারকা বা অন্যকারো হাতে নয়।
১- যায়েদ বিন খালেদ আল যুহানী () থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন:
صَلَّى لَنَا رَسُولُ الله - صلى الله عليه وسلم - صَلاةَ الصُّبْحِ بالحديبية عَلَى إِثْرِ سَمَاءِ كَانَتْ مِنَ اللَّيْلَةِ، فَلَمَّا انْصَرَفَ أَقْبَلَ عَلَى النَّاسِ فَقَالَ: «هَلْ تَذَرُونَ مَاذَا قَالَ رَبُّكُمْ؟» قَالُوا: اللَّهُ وَرَسُولُهُ أَعْلَمُ، قال: «أَصْبَحَ مِنْ عِبَادِي مُؤْمِنٌ بِي وَكَافِرٌ، فَأَمَّا مَنْ قَالَ: مُطَرْنَا بِفَضْلِ اللهِ وَرَحْمَتِهِ، فَذَلكَ مُؤْمِنٌ بِي وَكَافِرُ بالكوكب، وَأَمَّا مَنْ قَالَ: بِنَوْءِ كَذَا وَكَذَا،
فَذَلِكَ كَافِرُ بِي وَمُؤْمِنُ بالكوكب». متفق عليه أخرجه البخاري برقم (٨٤٦), واللفظ له، ومسلم برقم (۷۱).
"একদা রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদেরকে নিয়ে হুদায়বিয়াতে ফজরের নামায আদায় করলেন-বিগত রাতের বৃষ্টি হওয়ার পরে। অতঃপর সালাম ফিরিয়ে তিনি আমাদের দিকে মুখ ফিরিয়ে বললেন, তোমরা কি জান যে, তোমাদের রব কী বলেছেন? তারা বললেন, আল্লাহ ও তার রসূল ই ভালো জানেন। তিনি বলেছেন: আমার বান্দাদের মধ্যে অনেকে আমার প্রতি ঈমানদার আবার অনেকে কাফের হয়ে সকালে জাগ্রত হয়েছে। যে বলেছে: আমাদেরকে আল্লাহ তা'আলার করুণা ও অনুগ্রহে বৃষ্টি প্রদান করা হয়েছে, সে আমার প্রটি বিশ্বাসকারী ও তারকাকে অস্বীকারকারী। আর যে বলেছে: আমাদেরকে বৃষ্টি প্রদান করা হয়েছে অমুক অমুক তারকার কারণে, সে আমাকে অস্বীকারকারী এবং তারকার প্রতি বিশ্বাসকারী।" মুত্তাফাকুন আলাইহি, বুখারী হা/৮৪৬, মুসলিম হা/৭১
২-আবু মালেক আল আশ'আরী () থেকে বর্ণিত, নাবী কারীম ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন:
أربع فِي أُمَّتِي مِنْ أَمْرِ الجَاهِلِيَّةِ، لا يَتْرُكُونَهُنَّ الفَخْرُ فِي الْأَحْسَابِ، وَالطَّعْنُ فِي الأنساب، والاستسقاء بالنجوم، والنِّيَاحَةُ». أخرجه مسلم برقم (٩٣٤).
"আমার উম্মতের মধ্যে জাহিলীয়্যাতের চারটি স্বভাব অবশিষ্ট থাকবে, যা তারা পরিত্যাগ করবে না: বংশ মর্যাদা নিয়ে অহংকার করা, ব্যক্তির পূর্বসূরীদের সমালোচনা করা, নক্ষত্ররাজির মাধ্যমে বৃষ্টি প্রার্থনা করা এবং বিলাপ করা।" ছুহীহ মুসলিম হা/৯৩৪
৯-নি'আমতসমুহের সম্বন্ধ গায়রুল্লাহের দিকে করা )نسبة النعم إلى غير الله( : যেহেতু সকল নি'আমত আল্লাহ তা'আলার পক্ষ থেকে আসে, বিধায় যে ব্যক্তি নি'আমতসমূহ গায়রুল্লাহের দিকে সম্পৃক্ত করল, সে মুশরিক। যেমন: কেউ সম্পদ বা সুস্থতা অর্জনের নি'আমতকে অমুক বা অমুকের দিকে সম্পৃক্ত করল বা স্থলপথ, জলপথ ও আকাশপথে ভ্রমণ ও নিরাপদে চলার নি'আমতকে চালক, মাঝি ও পাইলটের দিকে সম্পৃক্ত করল। অথবা স্বাচ্ছন্দ্য অর্জন ও বিপদাপদ নিষ্পত্তির সম্পৃক্ততা সরকার, বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ বা কোনো নেতার দিকে সম্পৃক্ত করল ইত্যাদি। সুতরাং সকল নি'আমত একমাত্র আল্লাহ তা'আলার দিকে
সম্পৃক্ত করা ওয়াজিব। আর যে বিষয়গুলো কোনো কোনো মাখলুকের হাতে সংঘটিত হয়, তা কখনো ফলদায়ক হয় কখনো হয় না, কখনো বাস্তবায়িত হয় কখনো হয় না।
১- আল্লাহ তা'আলা বলেন: {وَمَا بِكُمْ مِنْ نِعْمَةٍ فَمِنَ اللَّهِ ثُمَّ إِذَا مَسَّكُمُ الضُّرُّ فَإِلَيْهِ تَجْأَرُونَ (٥٣) ثُمَّ إِذَا كَشَفَ الضُّرَّ عَنْكُمْ إِذَا فَرِيقٌ مِنْكُمْ بِرَبِّهِمْ يُشْرِكُونَ (٥٤) لِيَكْفُرُوا بِمَا آتَيْنَاهُمْ فَتَمَتَّعُوا فَسَوْفَ تَعْلَمُونَ (٥٥)} [النحل: ٥٣ - ٥٥].
"তোমাদের কাছে যে সমস্ত নি'আমত আছে, তা আল্লাহরই পক্ষ থেকে। অতঃপর তোমরা যখন দুঃখে-কষ্টে পতিত হও, তখন তাঁরই নিকট কান্নাকাটি কর। এরপর যখন আল্লাহ তোমাদের কষ্ট দূরীভূত করে দেন, তখনই তোমাদের একদল স্বীয় পালনকর্তার সাথে অংশীদার সাব্যস্ত করতে থাকে। যাতে ঐ নেয়ামত অস্বীকার করে, যা আমি তাদেরকে দিয়েছি। অতএব মজা ভোগ করে নাও, সত্বরই তোমরা জানতে পারবে।" (সূরা আন-নাহল: ৫৩-৫৫)
১০-গায়রুল্লাহের জন্য জবেহ করা (الذبح لغير الله) :
উদাহরণস্বরূপ: জ্বীন, ওলী, শয়তান অথবা এ জাতীয় গায়রুল্লাহের জন্য জবেহ করা। এগুলোর প্রত্যেকটিই শিরক। কারণ, জবেহ করা একটি ইবাদত, যা আল্লাহ ছাড়া অন্যকারো জন্য পালন করা জায়েয নয়। যে ব্যক্তি গায়রুল্লাহের জন্য জবেহ করল, তার জবেহকৃত পশু (আহার করা) হারাম। কারণ, এই পশুটি গায়রুল্লাহের নামে উৎসর্গীত পশুসমূহের অন্তর্ভুক্ত এবং মুরতাদ ব্যক্তি কর্তৃক জবেহকৃত। বিধায়, তা ভক্ষণ করা জায়েয নয়, যদিও তাতে (জবেহ করার সময়) আল্লাহর নাম নেয়া হয়েছে। আর বান্দা স্বীয় প্রতিটি আমল শুধুমাত্র আল্লাহ তা'আলার জন্য সম্পাদন করবে – এই ব্যাপারে সে আদিষ্ট। যেমনটি আল্লাহ তা'আলা বলেন:
{قُلْ إِنَّ صَلَاتِي وَنُسُكِي وَمَحْيَايَ وَمَمَاتِي لِلَّهِ رَبِّ الْعَالَمِينَ (١٦٢) لَا شَرِيكَ لَهُ وَبِذَلِكَ أمرتُ وَأَنَا أَوَّلُ الْمُسْلِمِينَ (١٦٣)} [الأنعام: ١٦٢ - ١٦٣].
"আপনি বলুন, নিশ্চয় আমার ছুলাত, আমার কুরবানী, আমার জীবন ও আমার মৃত্যু একমাত্র সমস্ত জাহানের রব আল্লাহ তা'আলার জন্য। যার কোনো
অংশীদার নেই, এই ব্যাপারেই আমি আদিষ্ট হয়েছি। আর আমিই প্রথম মুসলিম।” (সূরা আল-আন'আম: ১৬২-১৬৩)

📘 ইসলাম ভঙ্গকারী বিষয়সমূহ > 📄 গণকের নিকট গমনের বিধান

📄 গণকের নিকট গমনের বিধান


গণক ও এই জাতীয় ব্যক্তিদের নিকট গমনের তিনটি অবস্থা: প্রথম: গণকের নিকট যাওয়া অতঃপর তাকে সত্যায়ন না করে প্রশ্ন করা বা তাকে সত্যায়ন না করে মনোযোগ সহকারে তার কথা শ্রবণ করা কোনো টিভি চ্যানেল বা ভিডিও ক্লিপ-এর মাধ্যমে। এটা সম্পূর্ণ হারাম এবং এর শাস্তি হল- চল্লিশদিন পর্যন্ত এই ব্যক্তির (গমনকারী) ছুলাত কবুল করা হবে না। রসূল ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কোনো এক স্ত্রী তার থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন:
«مَنْ أَتَى عَرَّافًا فَسَأَلَهُ عَنْ شَيْءٍ لَمْ تُقْبَلْ لَهُ صَلَاةٌ أَرْبَعِينَ لَيْلَةً» أخرجه مسلم برقم .(۲۲۳۰)
"যে ব্যক্তি কোনো গণকের নিকট গমন করল অতঃপর তাকে কোনো বিষয়ে প্রশ্ন করল, চল্লিশদিন পর্যন্ত তার ছুলাত কবুল হবে না।" ছুহীহ মুসলিম হা/২২৩০।
দ্বিতীয়: গণকের নিকট গমন করা এবং তাকে প্রশ্ন করে তার কথাকে সত্যায়ন করা। এটা নিঃসন্দেহে কুফর:। আল্লাহ তা'আলার নিকট এই বিষয়ে আশ্রয় প্রার্থনা করছি।
আবু হুরায়রা () এর সূত্রে নাবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম - থেকে বর্ণিত, তিনি বলেছেন:
«مَنْ أَتَى كَاهِنًا أَوْ عَرَّافًا فَصَدِّقَهُ بِمَا يَقُولُ، فَقَدْ كَفَرَ بِمَا أُنْزِلَ عَلَى مُحَمَّدٍ – صلى الله عليه وسلم - صحيح أخرجه أحمد برقم (٩٥٣٦) وهذا لفظه، وأخرجه الحاكم برقم (١٥).
"যে ব্যক্তি কোনো গণক বা ভবিষ্যদ্বক্তার নিকট গমন করল, অতঃপর তার কথা বিশ্বাস করল, সে মুহাম্মাদ-হুল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর উপর নাযিল হওয়া শরীয়তকে অস্বীকার করল।" ছুহীহ: মুসনাদে আহমাদ হা/৯৫৩৬, হাকিম হা/১৫।
তৃতীয়: গণকের নিকট গমন করা অতঃপর তাকে প্রশ্ন করা মানুষকে তার অবস্থা হতে সাবধান করার জন্য। এই উদ্দেশ্যে গমন করাতে কোনো সমস্যা নেই। যেমনটি নাবী-হুল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম করেছেন ইবনু ছুয়্যাদের সঙ্গে।
ইবনু উমার ( থেকে বর্ণিত: أَنَّ عُمَرَ انْطَلَقَ فِي رَهْطٍ مِنْ أَصْحَابِ النَّبِيِّ - صلى الله عليه وسلم - مَعَ النَّبي - صلى الله عليه وسلم - قبل ابن صياد، حتَّى وَجَدُوهُ يَلْعَبُ مَعَ الغِلْمَانِ، عِنْدَ أَطْمِ بَنِي مَغَالَةَ، وَقَدْ قَارَبَ يومئذ ابن صياد يحتلم، فلم يشعر بشيء حتى ضرب النبي - صلى الله عليه وسلم – ظهره بيده، ثم قال النبي - صلى الله عليه وسلم -: «أَتَشْهَدُ أَنِّي رَسُولُ الله – صلى الله عليه وسلم ». فَنَظَرَ إِلَيْهِ ابْنُ صَيَادِ، فَقال : أَشْهَدُ أَنَّكَ رَسُولُ الأُمِّيِّينَ، فَقال ابن صياد للنبي - صلى الله عليه وسلم - : أَتَشْهَدُ أَنِّي رَسُولُ اللهِ؟ قَالَ لَهُ النَّبِيُّ - صلى الله عليه وسلم -: «آمنت بالله وَرُسُله». قال النبي - صلى الله عليه وسلم -: «مَاذَا تَرَى». قال ابن صياد: يَأْتيني صادق وَكَاذِبُ، قال النبي - صلى الله عليه وسلم -: «خَلِطَ عَلَيْكَ الْأَمْرُ». قالَ النَّبِيُّ - صلى الله عليه وسلم -: «إِنِّي قَدْ خَبَأْتُ لَكَ خَبِيئاً». قال ابن صياد : هُوَ الدخ، قال النبي - صلى الله عليه وسلم -: «اخْسَأ، فَلَنْ تَعْدُوَ قَدْرَكَ». قال عُمَرُ : يَا رَسُولَ اللَّهِ، ائْذَنْ لِي فِيهِ أَضْرِبْ عَنقَهُ، قال النبي - صلى الله عليه وسلم -: «إِنْ يَكُنْهُ فَلَنْ تُسَلِّطَ عَلَيْهِ، وَإِنْ لَمْ يَكُنْهُ فَلَا خَيْرَ لَكَ في قتله متفق عليه، أخرجه البخاري برقم (٣٠٥٥), واللفظ له، ومسلم برقم (۲۹৩০).
'উমার ইবনুল খাত্তাব ( একদল মানুষসহ রসূলুল্লাহ (ছল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সঙ্গে ইবনু সাইয়্যাদের কাছে গেলেন। তাকে বানী মাগালার কিল্লার কাছে একদল বালকের সাথে ক্রিড়ারত অবস্থায় পেলেন। তখন ইবনু সাইয়‍্যাদ বয়োঃপ্রাপ্ত হবার কাছাকাছি পৌছে গিয়েছিল। সে রসূলুল্লাহ (ছল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর আগমন টের পাওয়ার আগেই রসূলুল্লাহ (ছল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়া সাল্লাম) নিজ হাত দ্বারা তার পিঠে আঘাত করে বললেন, তুমি কি সাক্ষ্য দিচ্ছ যে, আমি আল্লাহর রসূল? এ কথা শুনে ইবনু সাইয়্যাদ তাঁর প্রতি তাকাল এবং বলল যে, আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আপনি উম্মীদের (নিরক্ষরদের)
রসূল। অতঃপর ইবনু সাইয়্যাদ রসূলুল্লাহ (ছল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়া সাল্লাম)- কে জিজ্ঞেস করল যে, আপনি কি সাক্ষ্য দেন যে, আমি আল্লাহর রসূল। রসূলুল্লাহ (ছল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তার কোন প্রত্যুত্তর দেননি। অধিকন্তু তিনি বললেন, আমি ঈমান এনেছি আল্লাহর প্রতি ও তাঁর রসূলদের প্রতি। তারপর রসূলুল্লাহ (ছল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাকে বললেনঃ তুমি কি দেখতে পাচ্ছ? ইবনু সাইয়্যাদ বলল, আমার নিকট একজন সত্যবাদী ও একজন মিথ্যাবাদী লোক আসে। এ কথা শুনে রসূলুল্লাহ (ছল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাকে বললেন, তোমার বিষয়টি এলোমেলো হয়ে গেছে। তোমাকে জিজ্ঞেস করার জন্য একটি কথা আমি মনে মনে লুক্কায়িত রেখেছি। শুনামাত্রই ইবনু সাইয়্যাদ বলল, তা হচ্ছে (আরবি) (ধোঁয়া)। তৎপর রসূলুল্লাহ (ছল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন: দূর হয়ে যা। তুই তোর সীমানা অতিক্রম করতে পারবি না। তারপর 'উমার ইবনুল খাত্তাব (রাঃ) বললেন, হে আল্লাহর রসূল! আমাকে ছেড়ে দিন। আমি তার গর্দান উড়িয়ে দেই। রসূলুল্লাহ (সা) বললেনঃ যদি সে প্রকৃতপক্ষেই দাজ্জাল হয়, তবে তো তাকে হত্যা করতে পারবে না। আর যদি সে দাজ্জাল না হয় তবে তাকে হত্যা করাতে কোন কল্যাণ নেই।" মুত্তাফাকুন আলাইহি, ছুহীহ বুখারী হা/৩০৫৫, ছুহীহ মুসলিম হা/২৯৩০

📘 ইসলাম ভঙ্গকারী বিষয়সমূহ > 📄 যাদুকর ও গণকদের ফিতনা

📄 যাদুকর ও গণকদের ফিতনা


যাদুকর, জ্যোতিষী ও গণকদের নিকট গমন করা ঈমানভঙ্গের অন্যতম কারণ। আর আল্লাহ তা'আলা স্বীয় বান্দাদেরকে পরীক্ষা করার ক্ষেত্রবিশেষের জন্য তাদেরকে সঠিকতা দান করে থাকেন, কিন্তু মানুষ সেই সঠিকতার প্রভাবে ধোঁকায় পতিত হয়। আর এদের প্রত্যেকের কর্মকাণ্ডই বান্দাদের জন্য ফিতনা ও পরীক্ষা।
১-আল্লাহ তা'আলা বলেন:
{وَنَبْلُوكُم بِالشَّرِّ وَالْخَيْرِ فِتْنَةً وَإِلَيْنَا تُرْجَعُونَ (٣٥)} [الأنبياء: ٣٥].
"আর আমি তোমাদেরকে অনিষ্ট ও কল্যাণের ফিতনা দ্বারা পরীক্ষা করব।" (সূরা আল আম্বিয়া: ৩৫)
২-নাবী-হুল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম- এর স্ত্রী আয়েশা () থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন আমি রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছি:
«إِنَّ المَلائِكَةَ تَنزِلُ في العنان، وهو السَّحَابُ، فَتَذْكُرُ الأمْرَ قُضِيَ فِي السَّمَاءِ، فَتَسْتَرِقُ الشَّيَاطِينُ السَّمْعَ فَتَسْمَعُه، فتوحيه إلى الكهان، فَيَكْذِبُونَ معها مائة كذبة من عند أنفسهم» متفق عليه، أخرجه البخاري برقم (۳۲۱۰), واللفظ له، ومسلم برقم (۲২2৮).
"নিশ্চয় মালাইকা-ফেরেশতারা যখন আনান তথা মেঘের মাঝে অবতরণ করেন অতঃপর তারা আসমানে ধার্যকৃত অদৃষ্টের ব্যাপারে আলোচনা করতে থাকেন, তখন শয়তানরা তাদের কথোপকথন চুরি করে শুনে তা গণকদেরকে অবহিত করে অতঃপর তারা নিজেদের থেকে আরো একশটি মিথ্যা তার সঙ্গে জুড়ে দেয়।" মুত্তাফাকুন আলাইহি, ছুহীহ বুখারী হা/৩২১০, মুসলিম হা/২২২৮।

📘 ইসলাম ভঙ্গকারী বিষয়সমূহ > 📄 মৃত ও অদৃশ্যব্যক্তিদের নিকট সাহায্য প্রার্থনা করার বিধান

📄 মৃত ও অদৃশ্যব্যক্তিদের নিকট সাহায্য প্রার্থনা করার বিধান


মৃতব্যক্তি ও অদৃশ্যব্যক্তিদের নিকট সাহায্য প্রার্থনা করা ও তাদের নিকট দু'আ করা প্রত্যেকটিই শিরক, যা আল্লাহ তা'আলা ও তার রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হারাম করেছেন। আর এগুলো হল- মূর্তিপুজারীদের মূর্তিপুজার ন্যায়, যারা মূলত শয়তানের ইবাদত করে। যার নিকট প্রার্থনা করা হয়, শয়তান তার আকৃতিতে তাদের সামনে উপস্থিত হয়, তাদেরকে রূহানীভাবে সম্বোধন করে এবং তাদের আংশিক চাহিদা পূরণ করে। যেমন শয়তান মূর্তিগুলোর মাঝে প্রবেশ করে তাদের পূজারীদের সাথে কথা বলে এবং তাদের আংশিক চাহিদা পূর্ণ করে দেয়। আর মূর্খব্যক্তি মনে করে যে, এটা তার শায়েখের কারিশমা। আর এটাই মূর্তিপূজার সবচেয়ে বড় কারণ। এমনিভাবে গণক ও জ্যোতিষীদের সঙ্গেও শয়তান অবস্থান করে। কারণ, তাদের মধ্যে কুফর, ফাসেক্বী ও নাফরমানী বিদ্যমান। ফলে তাদের থেকে বিভিন্নপ্রকার শয়তানী সাধনা প্রকাশিত হয় এবং সে অনুপাতে তারা শক্তি সঞ্চয় করে থাকে, যার দ্বারা তারা মুক্তবাতাসে উড়া ও বিভিন্ন অদৃশ্যের বিষয়ে সংবাদ প্রদানে সক্ষম হয় এবং শয়তানরা তাদের নিকট সম্পদ ও খাদ্য নিয়ে আসে। সুতরাং শয়তানী সাধনাসমূহ থেকে তারা শয়তানকে রাজি করানোর আনুপাতিক হারে মর্যাদা ও পদ অর্জন করে থাকে।
১-আল্লাহ তা'আলা বলেন:
{ وَمَنْ أَضَلُّ مِمَّنْ يَدْعُو مِنْ دُونِ اللَّهِ مَنْ لَا يَسْتَجِيبُ لَهُ إِلَى يَوْمِ الْقِيَامَةِ وَهُمْ عَنْ دُعَائِهِمْ غَافِلُونَ (٥) وَإِذَا حُشِرَ النَّاسُ كَانُوا لَهُمْ أَعْدَاءً وَكَانُوا بِعِبَادَتِهِمْ كَافِرِينَ (٦)} [الأحقاف: ٥ - ٦] .
"ঐ ব্যক্তির চেয়ে পথভ্রষ্ট আর কে হতে পারে যে, আল্লাহকে বাদ দিয়ে অন্যদের নিকট প্রার্থনা করে, যারা তার ডাকে ককীয়ামত পর্যন্ত সাড়া দিতে সক্ষম নয়। কেননা, তারা তাদের প্রার্থনা থেকে সপমূর্ণ গাফেল। আর যখন সকল মানুষকে হাশরের মাঠে একত্রিত করা হবে, তারাই তাদের শত্রুতে পরিণত হবে এবং তাদের ইবাদতকে তারা অস্বীকার করবে।" (সূরা আল আহক্বাফ: ৫-৬)
২-আল্লাহ তা'আলা বলেন:
{هَلْ أُنَبِّئُكُمْ عَلَى مَنْ تَنَزَّلُ الشَّيَاطِينُ (۲۲۱) تَنَزَّلُ عَلَى كُلِّ أَفَاكَ أَثِيمٍ (۲۲۲) يُلْقُونَ السمع وأكْثَرُهُمْ كَاذِبُونَ (۲۲۳)} [الشعراء: ۲۲۱ – ۲۲۳] .
"আমি কি তোমাদেরকে ঐ সকল ব্যক্তির সম্পর্কে সংবাদ দিব, যাদের উপর শয়তান ভর করে? শয়তান প্রত্যেক অপবাদ দানকারী পাপাচারের উপর ভর করে। শয়তানরা তাদের চুরি করে শোনা কথাটি তাদের হৃদয়ে প্রবিষ্ট করে দেয় আর তাদের (যাদের উপর শয়তানরা ভর করে) অধিকাংশই হল মিথ্যাবাদী।" (সূরা আশ শু'আরা: ২২১-২২৩)

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00