📘 ইসলাম ভঙ্গকারী বিষয়সমূহ > 📄 শিরক আল-আছগার এর বিধান

📄 শিরক আল-আছগার এর বিধান


শিরক আল-আছগার দীন থেকে বহিষ্কার করে না, কিন্তু তাওহীদের মাত্রাকে কমিয়ে দেয়। এই শিরকে লিপ্ত ব্যক্তি চিরকাল জাহান্নামে অবস্থান করবে না, বরং তার অপরাধ অনুযায়ী শাস্তি প্রদান করার পর তাকে জাহান্নাম থেকে বের করে আনা হবে। আবার কখনো বা কারো ক্ষেত্রে আল্লাহ তা'আলা চাইলে পূর্ণ ক্ষমা ঘোষণা করতে পারেন, ফলে তাকে কখনোই জাহান্নামে প্রবেশ করানো হবে না।
শিরক আল-আছগার সকল আমলকে নস্যাৎ করে না, বরং নির্দিষ্টভাবে যেই আমলের সাথে তার সংমিশ্রণ ঘটে সেই আমলকেই নস্যাৎ করে। এই শিরক হত্যাকে বৈধ করে না এবং সম্পদ বাজেয়াপ্ত করার অনুমতিও দেয় না, যেমনটা শিরক আল-আকবার দিয়ে থাকে। এই শিরকে লিপ্ত ব্যক্তির বিধান হল একত্ববাদে বিশ্বাসী পাপাচারদের ন্যায়। কখনো কখনো শিরক আল-আছগার শিরক আল-আকবার এর রূপ ধারণ করে এই শিরকে লিপ্ত ব্যক্তির অন্তরে বিদ্যমান নিয়্যাতের অবস্থানুযায়ী। সুতরাং একজন মুসলিমের জন্য সর্বপ্রকার শিরক থেকে সম্পূর্ণভাবে সাবধান থাকা ওয়াজিব।

📘 ইসলাম ভঙ্গকারী বিষয়সমূহ > 📄 শিরকের ভয়াবহতা

📄 শিরকের ভয়াবহতা


১-আল্লাহ তা'আলার সাথে শিরক করা মহা যুলুম। কারণ, তা আল্লাহ তা'আলার জন্য নির্দিষ্ট বৈশিষ্ট্য - তাওহীদ - এর প্রতি অবিচার অন্যায়মূলক কাজ। তাওহীদ হল- ন্যায়ের সর্বোচ্চ পর্যায়, আর শিরক হল- অন্যায়ের সর্বশেষ সীমা ও সর্বাধিক নিকৃষ্ট কর্ম। কারণ, শিরক হল সৃষ্টিজগতের রব মহান আল্লাহর শানে নিন্দা ও দুর্নাম করা, তার আনুগত্য থেকে অহংকার করে মুখ ফিরিয়ে নেয়া, তার প্রকৃত অধিকারকে অন্যের জন্য ধার্য করা এবং অন্যকে তার সমতুল্য করা, যা থেকে আল্লাহ তা'আলা অনেক অনেক উর্দ্ধে। আর শিরকের এই ভয়াবহ অন্যায়ের কারণেই যে আল্লাহ তা'আলার সাথে মুশরিক হয়ে সাক্ষাৎ করবে, আল্লাহ তা'আলা তাকে ক্ষমা করবে না। যেমনটি আল্লাহ তাআ'লা বলেন:
إِنَّ اللَّهَ لَا يَغْفِرُ أَنْ يُشْرَكَ به ويَغْفِرُ مَا دُونَ ذَلكَ لمَن يَشَاءُ وَمَنْ يُشْرِكْ بِاللَّهِ فَقَد افترى إنما عظيما (٤٨)} [النساء: ٤٨]
নিঃসন্দেহে আল্লাহ তাকে ক্ষমা করেন না, যে লোক তাঁর সাথে শরীক করে। তিনি ক্ষমা করেন এর নিম্ন পর্যায়ের পাপ, যার জন্য তিনি ইচ্ছা করেন। আর যে লোক অংশীদার সাব্যস্ত করল আল্লাহর সাথে, সে যেন অপবাদ আরোপ করল। [আন নিসা: আয়াত নং ৪৮]
২- আল্লাহ তা'আলার সাথে শিরক করা সর্বোচ্চ গুনাহ। সুতরাং যে গায়রুল্লাহের ইবাদত করল, সে ইবাদতকে তার অনুপযোগী স্থানে রাখল এবং ইবাদতকে তার অযোগ্য দাবিদারের জন্য ধার্য করল। আর এটা মহা অন্যায়।
যেমনটি আল্লাহ তাআ'লা বলেন: {وَإِذْ قَالَ لُقْمَانُ لِابْنِهِ وَهُوَ يَعِظُهُ يَا بُنَيَّ لَا تُشْرِكْ بِاللَّهِ إِنَّ الشَّرْكَ لَظُلْمٌ عَظِيمٌ (۱۳)} [ لقمان: ۱۳].
যখন লোকমান উপদেশচ্ছলে তার পুত্রকে বললঃ হে বৎস, আল্লাহর সাথে শরীক করো না। নিশ্চয় আল্লাহর সাথে শরীক করা মহা অন্যায়। [লোকমান: আয়াত নং ১৩]
৩- শিরক আল-আকবার দীন থেকে বহিষ্কার করে দেয়। সমস্ত আমল নষ্ট করে দেয়। হত্যা বৈধ ও সম্পদ বাজেয়াপ্ত করার অনুমতি দেয়। চিরস্থায়ী ধ্বংস ও বিনাশকে আবশ্যক করে। এই শিরক সবচেয়ে বড় কাবীরা গুনাহ। এই শিরকে লিপ্ত ব্যক্তি জান্নাত থেকে বঞ্চিত, চিরস্থায়ী জাহান্নামী। আর তার ধ্বংস, বিনাশ ও ব্যর্থতার জন্য এতটুকুই যথেষ্ট।
১) আল্লাহ তা'আলা বলেন: {وَلَقَدْ أُوحِيَ إِلَيْكَ وَإِلَى الَّذِينَ مِنْ قَبْلِكَ لَئِنْ أَشْرَكْتَ لَيَحْبَطَنَّ عَمَلُكَ وَلَتَكُونَنَّ مِنَ الْخَاسِرِينَ (٦٥) بَلِ اللَّهَ فَاعْبُدْ وَكُنْ مِنَ الشَّاكِرِينَ (٦٦)} [الزمر: ٦٥ - ٦٦].
আপনার প্রতি এবং আপনার পূর্ববর্তীদের পতি প্রত্যাদেশ হয়েছে, যদি আল্লাহর শরীক স্থির করেন, তবে আপনার কর্ম নিষ্ফল হবে এবং আপনি ক্ষতিগ্রস্তদের একজন হবেন। বরং আল্লাহরই এবাদত করুন এবং কৃতজ্ঞদের অন্তর্ভুক্ত থাকুন। [আয-যুমার: আয়াত নং ৬৫-৬৬]
২) আল্লাহ তা'আলা বলেন: {فَإِذَا انْسَلَخَ الْأَشْهُرُ الْحُرُمُ فَاقْتُلُوا الْمُشْرِكِينَ حَيْثُ وَجَدْتُمُوهُمْ وَخُذُوهُمْ وَاحْصُرُوهُمْ وَاقْعُدُوا لَهُمْ كُلِّ مَرْصَدٍ فَإِنْ تَابُوا وَأَقَامُوا الصَّلَاةَ وَآتُوا الزَّكَاةَ فَخَلُّوا سَبِيلَهُمْ إِنَّ اللَّهَ غَفُورٌ رَحِيمٌ (٥)} [التوبة: ٥].
অতঃপর নিষিদ্ধ মাস অতিবাহিত হলে মুশরিকদের হত্যা কর যেখানে তাদের পাও, তাদের বন্দী কর এবং অবরোধ কর। আর প্রত্যেক ঘাঁটিতে তাদের সন্ধানে ওঁৎ পেতে বসে থাক। কিন্তু যদি তারা তওবা করে, নামায কায়েম করে, যাকাত আদায় করে, তবে তাদের পথ ছেড়ে দাও। নিশ্চয় আল্লাহ অতি ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু। [আত তাওবাহ্: আয়াত নং-৫]
৩) আল্লাহ তা'আলা বলেন:
إِنَّهُ مَنْ يُشْرِكْ بِاللَّهِ فَقَدْ حَرَّمَ اللَّهُ عَلَيْهِ الْجَنَّةَ وَمَأْوَاهُ النَّارُ وَمَا لِلظَّالِمِينَ مِنْ أَنْصَارِ [المائدة: ٧٢].{۷۲}
নিশ্চয় যে ব্যক্তি আল্লাহর সাথে অংশীদার স্থির করে, আল্লাহ তার জন্যে জান্নাত হারাম করে দেন। এবং তার বাসস্থান হয় জাহান্নাম। অত্যাচারীদের কোন সাহায্যকারী নেই। [আল মায়িদাহ: আয়াত নং ৭২]
৪) আবু হুরায়রা ( থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন:
«أُمَرْتُ أَنْ أَقَاتِلَ النَّاسِ حَتَّى يَقُولُوا : لا إِلَهَ إلا اللهُ، فَمَنْ قَالَ: لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ فَقَدْ عَصَمَ مني ماله ونفسه إلا بحقه، وحسابه على الله». متفق عليه، أخرجه البخاري برقم (۱۳۹۹), ومسلم برقم (۲۰)
আমি মানব জাতির বিরুদ্ধে যুদ্ধের জন্য আদিষ্ট হয়েছি, যতক্ষণ পর্যন্ত তারা লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহু-এর স্বীকৃতি না দিবে। সুতরাং যে লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহু বলল, সে আমার থেকে তার জীবন ও সম্পদের নিরাপত্তা অর্জন করে নিল। তবে লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহু এর সথে সংশ্লিষ্ট কোনো রুকন ভঙ্গ করলে এই নিরাপত্তা প্রযোজ্য নয়। আর তাদের হিসাব হবে আল্লাহ তা'আলার নিকট। মুত্তাফাকুন আলাইহি, ছুহীহ বুখারী হা/১৩৯৯, ছুহীহ মুসিলিম হা/২০।
৫) আবু বাকরাহ থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: নাবী কারীম ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন:
«ألا أنبئكم بأكبر الكبائر». ثلاثاً، قالوا : بَلَى يَا رَسُولَ الله، قال: «الإِشْرَاكُ بالله، وعقوق الوالدين - وجلس وكان متكئاً، فقال - ألا وقول الزور». قَالَ: فَمَا زَالَ يكررها حتى قلنا: ليته سكت. متفق عليه، أخرجه البخاري برقم (٢٦٥٤), واللفظ له، ومسلم برقم (۸۷).
আমি কি তোমাদেরকে তিনটি সর্বোচ্চ কাবীরা গুনাহ সম্পর্কে সংবাদ দিব না? সাহাবাগণ বললেন: অবশ্যই হে আল্লাহর রসূল! তিনি বললেন: আল্লাহ তা'আলার সাথে অংশীদার সাব্যস্ত করা, মা-বাবার বিরুদ্ধাচারণ করা, তিনি হেলান দিয়ে বসলেন অতঃপর বললেন: সাবধান মিথ্যা কথা থেকে। বর্ণনাকারী
বলেন: তিনি বারবার এই কথাটা বলেই যাচ্ছিলেন। অবশেষে আমরা বললাম: যদি তিনি চুপ করতেন। মুত্তাফাকুন আলাইহি, দুহীহ বুখারী হা/২৬৫৪, দুহীহ মুসিলিম হা/৮৭।

📘 ইসলাম ভঙ্গকারী বিষয়সমূহ > 📄 ত্বগূত-এর বিধান

📄 ত্বগূত-এর বিধান


ত্বগৃত-এর সংজ্ঞা: প্রত্যেক এমন উপাস্য, অনুসৃত ও মান্যবর ব্যক্তি বা বস্তু, যার দ্বারা বান্দা তার ইবাদতের ক্ষেত্রে বাড়াবাড়ি বা সীমালঙ্ঘন করে থাকে।
উপাস্য-এর উদাহরণ: মূর্তি ও প্রতিমাসমূহ।
অনুসৃত-এর উদাহরণ: জ্যোতিষীবৃন্দ ও পাপী আলেমসমাজ।
মান্যবর ব্যক্তিদের উদাহরণ: রাষ্ট্রীয় নেতৃবৃন্দ ও শাসকগোষ্ঠী, যারা আল্লাহ তা'আলার আনুগত্যের সীমা থেকে বের হয়ে গিয়েছে।
ত্বগৃতগোষ্ঠির পরিচয়: ত্বগৃতের সংখ্যা অনেক হলেও তাদের নেতৃত্বে রয়েছে পাঁচ ধরনের:
১- ইবলীস, আল্লাহ তা'আলা আমাদেরকে তার থেকে রক্ষা করুন।
২- এমন ব্যক্তি যার উপাসনা করা হয় এবং সে এই উপাসনার উপর সন্তুষ্ট থাকে।
৩- যে মানুষকে নিজের ইবাদতের দিকে আহবান করে।
৪- যে আংশিক গায়েব জানার দাবি করে।
৫- যে আল্লাহ তা'আলা কর্তৃক নাযিলকৃত বিধানের পরিবর্তে অন্য বিধান বা আইনের সাহায্যে বিচারের মীমাংসা করে।
সুতরাং একজন মুসলিমের জন্য ওয়াজিব হল- আল্লাহ তা'আলার নাযিলকৃত বিধান মেনে চলা এবং ত্বগৃতকে অস্বীকার করা।
১) আল্লাহ তা'আলা বলেন: {اللَّهُ وَلِيُّ الَّذِينَ آمَنُوا يُخْرِجُهُمْ مِنَ الظُّلُمَاتِ إِلَى النُّورِ وَالَّذِينَ كَفَرُوا أَوْلِيَاؤُهُمُ الطَّاغُوتُ يُخْرِجُونَهُمْ مِنَ النُّورِ إِلَى الظُّلُمَاتِ أُولَئِكَ أَصْحَابُ النَّارِ هُمْ فِيهَا خَالِدُونَ} [البقرة: ٢٥٧].
যারা ঈমান এনেছে, আল্লাহ তাদের অভিভাবক। তাদেরকে তিনি বের করে আনেন অন্ধকার থেকে আলোর দিকে। আর যারা কুফরী করে তাদের অভিভাবক হচ্ছে তাগুত। তারা তাদেরকে আলো থেকে বের করে অন্ধকারের দিকে নিয়ে যায়। এরাই হলো দোযখের অধিবাসী, চিরকাল তারা সেখানেই থাকবে। [আল বাকারা: আয়াত নং ২৫৭]
২) আল্লাহ তা'আলা বলেন: {وَلَقَدْ بَعَثْنَا فِي كُلِّ أُمَّةٍ رَسُولًا أَنِ اعْبُدُوا اللهَ وَاجْتَنِبُوا الطَّاغُوتَ} [النحل: ٣٦]. আমি প্রত্যেক উম্মতের মধ্যেই রাসূল প্রেরণ করেছি এই মর্মে যে, তোমরা আল্লাহর এবাদত কর এবং তাগুত বর্জন করো। [আন নাহল: আয়াত নং ৩৬]
৩) আল্লাহ তা'আলা বলেন: {وَالَّذِينَ اجْتَنِبُوا الطَّاغُوتَ أَنْ يَعْبُدُوهَا وَأَنَابُوا إِلَى اللَّه لَهُمُ الْبُشْرَى فَبَشِّرْ عِبَادِ (۱۷) الَّذِينَ يَسْتَمِعُونَ الْقَوْلَ فَيَتَّبِعُونَ أَحْسَنَهُ أُولَئِكَ الَّذِينَ هَدَاهُمُ اللَّهُ وَأُولَئِكَ هُمْ أُولُو الْأَلْبَابِ (۱۸)} [الزمر : ۱۷ - ۱۸] .
যারা শয়তানী শক্তির পূজা-অর্চনা থেকে দূরে থাকে এবং আল্লাহ অভিমুখী হয়, তাদের জন্যে রয়েছে সুসংবাদ। অতএব, সুসংবাদ দিন আমার বান্দাদেরকে, যারা মনোনিবেশ সহকারে কথা শুনে, অতঃপর যা উত্তম, তার অনুসরণ করে। তাদেরকেই আল্লাহ সৎপথ প্রদর্শন করেন এবং তারাই বুদ্ধিমান। [আয-যুমার: আয়াত নং ১৭-১৮]

📘 ইসলাম ভঙ্গকারী বিষয়সমূহ > 📄 শিরকের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কথা-বার্তা

📄 শিরকের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কথা-বার্তা


কুরআনে যেসকল স্থনে শিরক শব্দটি বর্ণিত হয়েছে, সবগুলো স্থানেই শিরক দ্বারা উদ্দেশ্য হল- শিরক আল-আকবার। আর শিরক আল-আছুগার বা ছোট শিরক অর্থে শিরক শব্দটি ব্যবহৃত হয়েছে দুহীহ সুন্নাহ বা বিশুদ্ধ হাদীছগুলোতে।
এখানে অনেকগুলো কথা ও কাজ এমন আছে, যেগুলো শিরক আল-আকবার ও শিরক আল-আছুগার এর মাঝে যৌথভাবে বিদ্যমান। যে কথা ও কাজগুলো শিরক আল-আছুগারও হতে পারে আবার শিরক আল-আকবারও হতে পারে - সংশ্লিষ্ট কথার বক্তার ও কাজের কর্তার অন্তরে বিদ্যমান উদ্দেশ্য ও তার থেকে
প্রকাশিত কার্যক্রম-এর ভিত্তিতে। আর এই জাতীয় কথা-বার্তা ও কার্যসমূহ তাওহীদের সাথে সাংঘর্ষিক অথবা তাওহীদের বিশুদ্ধতাকে পঙ্কিল ও মলিন করে দেয়। তবে শরীয়ত এই জাতীয় সকল বক্তব্য ও কার্যসমূহ থেকে সাবধান করে দিয়েছে।
এই জাতীয় কিছু কথা-বার্তা ও কার্যসমুহের তালিকা নিম্নে উদ্ধৃত করা হল: ১- সন্তানদের কোনো অঙ্গে তামায়িম তথা মাদুলি বা তাবীয ঝুলানো কু- দৃষ্টি থেকে বাঁচার জন্য 0166 all, (تعليق التمائم على الأولاد اتقاء للعين)
তামায়িম-এর পরিচয়: প্রত্যেক এমন বস্তু, যা ব্যক্তির কোনো অঙ্গে বা কোনো বস্তুর উপর ঝুলিয়ে রাখা হয়। এটা শিরক এই কারণে যে, এটা গায়রুল্লাহ-এর সাথে প্রকৃত ও বিশুদ্ধ বিশ্বাসকে – যা শুধুমাত্র আল্লাহর জন্য নির্দিষ্ট – সংমিশ্রণ করা।
আব্দুল্লাহ বিন মাসউদ (১) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমি রসূল - ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -কে বলতে শুনেছি:
«إِنَّ الرُّقَى وَالسَّمَائِمَ وَالتَّوَلَةَ شِرْكٌ صحيح / أخرجه أحمد برقم (٣٦١٥), وأخرجه أبو داود برقم (۳۸৮৩)، وهذا لفظه.
নিশ্চয় ঝাড়ফুঁক, তাবিজ-মাদুলি ও জাদু-টোনা শিরক। ছুহীহ: মুসনাদে আহমাদ হা/৩৬১৫, আবু দাউদ হা/৩৮৮৩।
২- আংটি অথবা বিশেষ ধরনের সুতা পরিধান করা বিপদ অপসারণ বা প্রতিরহত করার লক্ষ্যে 0159, 1 (لبس الحلقة أو الخيط ونحوهما بقصد رفع البلاء أو دفعه)
এটাও শিরক এই কারণে যে, এটা গায়রুল্লাহ-এর সাথে প্রকৃত ও বিশুদ্ধ বিশ্বাসকে যা শুধুমাত্র আল্লাহর জন্য নির্দিষ্ট – সংমিশ্রণ করা।
৩- গাছপালা, পাথরসমূহ, কবরসমূহ ও নিদর্শন বা প্রাচীন ঐতিহ্যসমুহের দ্বারা বরকত কামনা করা 1669, 611 (التبرك بالأشجار والأحجار والقبور والآثار) )ونحوها। এটাও শিরক এই কারণে যে, এটা গায়রুল্লাহ-এর সাথে বরকত হাছিলের প্রকৃত ও বিশুদ্ধ বিশ্বাসকে যা শুধুমাত্র আল্লাহর জন্য নির্দিষ্ট সংমিশ্রণ করা।
৪- তাত্বয়্যুর বা অশুভ লক্ষণের প্রতি বিশ্বাস করা (الطير): তাত্বয়্যুর হল- বিশেষ কিছু পাখি, ব্যক্তিবর্গ, ভূ-খণ্ড অথবা বস্তুসমূহের দ্বারা অশুভ লক্ষণ গ্রহণ করা। এটা শিরক এই কারণে যে, আল্লাহ তা'আলার এমন সৃষ্টি- যে নিজেই নিজের উপকার বা ক্ষতির মালিক নয়- তার দ্বারা ক্ষতিসাধন হতে পারে এমন বিশ্বাসের মাধ্যমে গায়রুল্লাহের সাথে প্রকৃত বিশ্বাসকে সংমিশ্রণ করা। আর এটা শয়তানের কু-মন্ত্রণা ও অপপ্রচার, যা তাওয়াক্কুল-এর সাথে সাংঘর্ষিক। আনাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত, নাবী কারীম ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন: «لا عَدْوَى وَلَا طَيرَةَ، وَيُعْجِبُني الفَأْلُ: الكَلِمَةُ الحَسَنَة، الكلمة الطيبة». متفق عليه، أخرجه البخاري برقم (٥٧٥٦), ومسلم برقم (٢٢٢٤)، واللفظ له.
সংক্রমণ ও অশুভ লক্ষণ বলতে কিছু নেই। তবে শুভ লক্ষণ: সুন্দর কথা ও উত্তম সংবাদ আমাকে অভিভূত করে। মুত্তাফাকুন আলাইহি, বুখারী হা/৫৭৫৬, মুসলিম হা/২২২৪।
৫- যাদু-টোনা (السحر): যাদুবিদ্যা হল এমন শাস্ত্র, যার উপায়-উপকরণ অন্যন্ত নিগূঢ় ও রহস্যময়।
যাদুবিদ্যা হল- ঝাড়ফুঁক, দৃঢ় সংকল্প, উচ্চারণযোগ্য বাক্য ও ঔষধসমূহ, যেগুলোর দ্বারা শরীরে ও মস্তিষ্কে এমন প্রভাব বিস্তার করা যায়, যেই প্রভাবের ফলে অসুস্থ করা, হত্যা করা এমনকি ব্যক্তি ও তার স্ত্রীর মাঝে বিচ্ছেদ করানো যায়। যাদু কফুরি কর্ম। কারণ, এর দ্বারা গায়রুল্লাহ তথা শয়তানদের সাথে প্রকৃত ও বিশুদ্ধ বিশ্বাসকে সংমিশ্রণ করা হয় এবং এই কাজে ক্ষেত্রবিশেষে ইলমুল গায়েব বা অদৃশ্যের জ্ঞান জানার দাবি করা হয়।
আল্লাহ তা'আলা বলেন: {وَمَا كَفَرَ سُلَيْمَانُ وَلَكِنَّ الشَّيَاطِينَ كَفَرُوا يُعَلِّمُونَ النَّاسِ السِّحْرَ} [البقرة: ١٠٢].
সুলায়মান কুফর করেনি; শয়তানরাই কুফর করেছিল। তারা মানুষকে জাদুবিদ্যা তা শিক্ষা দিত। আল বাকারা: আয়াত ১০২।
৬- ভবিষৎ গণনা করা (الكهانة): ভাগ্য গণনা হল- অদৃশ্যের জ্ঞান জানার দাবি করা। যেমন- পৃথিবীতে অচিরেই কী ঘটতে যাচ্ছে এমন বিষয়ে - শয়তানদের সূত্রে বা ভিত্তিতে ভবিষ্যদ্বানী করা।
জ্যোতিষী: জ্যোতিষী হল- যে ঘটে যাওয়া ঘটনাসমূহ জানার দাবি করে। এটা শিরক এই কারণে যে, এতে গায়রুল্লাহের ঘনিষ্ঠতা অর্জন করতে হয় ও অদৃশ্যের ঐ জ্ঞান যা আল্লাহ তা'আলার জন্য নির্ধারিত জানার ক্ষেত্রে আল্লাহ তা'আলার সমকক্ষ হওয়ার দাবি করা হয়। সুতরাং যে ভবিষ্যৎ গণনা কারী বা জ্যোতিষীর নিকট গমন করল, আল্লাহ তা'আলা তার চল্লিশ দিনের ছলাত কবুল করবেন না। আর উক্ত গমন কারী ব্যক্তি যদি তাকে বিশ্বাস করে, তবে সে মুহাম্মদ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর উপর নাযিলকৃত শরীয়তকে অস্বীকার করল।
১) নাবী কারীম - ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর স্ত্রীগণের- রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুন্না মধ্য হতে কোনো এক স্ত্রী নাবী কারীম ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন:
«مَنْ أَتَى عَرَافاً فَسَأَلَهُ عَنْ شَيْءٍ لَمْ تُقْبَلْ لَهُ صَلَاةُ أَرْبَعِينَ لَيْلَةً». أخرجه مسلم برقم .(۲۲۳۰)
যে ব্যক্তি কোনো জ্যোতিষীর নিকট এসে কোনো বিষয়ে তাকে জিজ্ঞাসা করল, চল্লিশ রাত পর্যন্ত তার ছলাত ক্ববূল করা হবে না। ছুহীহ মুসলিম হা/২২৩০
২) আবু হুরায়রা () থেকে বর্ণিত, তিনি নাবী কারীম ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন:
«مَنْ أَتَى كَاهِناً أَوْ عَرَّافاً فَصَدِّقَهُ بِمَا يَقُولُ، فَقَدْ كَفَرَ بِمَا أُنْزِلَ عَلَى مُحَمَّدٍ – صلى الله عليه وسلم - » صحيح أخرجه أحمد برقم (٩٥٣٦), وهذا لفظه، وأخرجه الحاكم برقم .(١٥)
যে ব্যক্তি কোনো ভাগ্য গণনা কারী বা জ্যোতিষীর নিকট গমন করল, অতঃপর তার কথায় বিশ্বাস করল, সে মুহাম্মাদ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর উপর নাজিলকৃত শরীয়তকে অস্বীকার করল। ছুহীহ: মুসনাদে আহমাদ হা/৯৫৩৬, হাকিম হা/১৫।
৭- জ্যোতিষশাস্ত্র বা নক্ষত্রবিদ্যা চর্চা করা (التنجيم) :
নক্ষত্ররাজির সাহায্যে নক্ষত্রীয় কক্ষপথকে নিরীক্ষণ করে পৃথিবীতে চলমান ঘটনাগুলোর বিশ্লেষণ করা।
যেমন-ঝড়ো আবহাওয়া, বৃষ্টিবর্ষণ, বিভিন্নপ্রকার রোগ, মানুষের মৃত্যু, ঠাণ্ডা ও শৈত্য আবহাওয়া, পণ্যের মূল্যের পরিবর্তন -এগুলোর সময় নির্ণয় করা। এজাতীয় কাজ শিরক এই কারণে যে আল্লাহ তা'আলার অংশীদারকে বিশ্বপরিচালনার ও ইলমুল গায়েব এর অধিকারী মনে করা হয়।
ইবনু আব্বাস() থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন:
«مَنِ اقْتَبَسَ عِلْماً مِنَ النُّجُومِ اقْتَبَسَ شُعْبَةً مِنَ السِّحْرِ زَادَ مَا زَادَ». صحيح أخرجه أحمد برقم (۲۰۰۰), وأخرجه أبو داود برقم (٣٩٠٥)، وهذا لفظه.
"যে ব্যক্তি نক্ষত্র পর্যবেক্ষণ বিদ্যার কোনো একটি শাখার জ্ঞান আহরণ করল, সে যাদুবিদ্যার একটি শাখা আহরণ করল। নক্ষত্র পর্যবেক্ষণ বিদ্যা অর্জনের ক্ষেত্রে সে যত বেশী অগ্রসর হবে, যাদুবিদ্যারও ততই নিকটবর্তী হবে।" ছুহীহ: মুসনাদে আহমাদ হা/২০০০, আবূ দাউদ হা/৩৯০৫।
৮-নক্ষত্ররাজির মাধ্যমে বৃষ্টি প্রার্থনা করা:)الاستسقاء بالنجوم
নক্ষত্ররাজির মাধ্যমে বৃষ্টি প্রার্থনা করার অর্থ হল- বৃষ্টিবর্ষণকে কোনো তারকার উদয় বা অস্ত যাওয়ার সঙ্গে সম্পৃক্ত করা। যেমন এই কথা বলা- অমুক অমুক তারকার কারণে আমাদেরকে বৃষ্টি দেয়া হয়েছে। সুতরাং বৃষ্টিবর্ষণকে আল্লাহ তা'আলার দিকে সম্পৃক্ত না করে কোনো তারকার দিকে সম্পৃক্ত করা শিরক। কারণ, বৃষ্টিবর্ষণ আল্লাহ তা'আলার হাতে, কোনো তারকা বা অন্যকারো হাতে নয়।
১- যায়েদ বিন খালেদ আল যুহানী () থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন:
صَلَّى لَنَا رَسُولُ الله - صلى الله عليه وسلم - صَلاةَ الصُّبْحِ بالحديبية عَلَى إِثْرِ سَمَاءِ كَانَتْ مِنَ اللَّيْلَةِ، فَلَمَّا انْصَرَفَ أَقْبَلَ عَلَى النَّاسِ فَقَالَ: «هَلْ تَذَرُونَ مَاذَا قَالَ رَبُّكُمْ؟» قَالُوا: اللَّهُ وَرَسُولُهُ أَعْلَمُ، قال: «أَصْبَحَ مِنْ عِبَادِي مُؤْمِنٌ بِي وَكَافِرٌ، فَأَمَّا مَنْ قَالَ: مُطَرْنَا بِفَضْلِ اللهِ وَرَحْمَتِهِ، فَذَلكَ مُؤْمِنٌ بِي وَكَافِرُ بالكوكب، وَأَمَّا مَنْ قَالَ: بِنَوْءِ كَذَا وَكَذَا،
فَذَلِكَ كَافِرُ بِي وَمُؤْمِنُ بالكوكب». متفق عليه أخرجه البخاري برقم (٨٤٦), واللفظ له، ومسلم برقم (۷۱).
"একদা রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদেরকে নিয়ে হুদায়বিয়াতে ফজরের নামায আদায় করলেন-বিগত রাতের বৃষ্টি হওয়ার পরে। অতঃপর সালাম ফিরিয়ে তিনি আমাদের দিকে মুখ ফিরিয়ে বললেন, তোমরা কি জান যে, তোমাদের রব কী বলেছেন? তারা বললেন, আল্লাহ ও তার রসূল ই ভালো জানেন। তিনি বলেছেন: আমার বান্দাদের মধ্যে অনেকে আমার প্রতি ঈমানদার আবার অনেকে কাফের হয়ে সকালে জাগ্রত হয়েছে। যে বলেছে: আমাদেরকে আল্লাহ তা'আলার করুণা ও অনুগ্রহে বৃষ্টি প্রদান করা হয়েছে, সে আমার প্রটি বিশ্বাসকারী ও তারকাকে অস্বীকারকারী। আর যে বলেছে: আমাদেরকে বৃষ্টি প্রদান করা হয়েছে অমুক অমুক তারকার কারণে, সে আমাকে অস্বীকারকারী এবং তারকার প্রতি বিশ্বাসকারী।" মুত্তাফাকুন আলাইহি, বুখারী হা/৮৪৬, মুসলিম হা/৭১
২-আবু মালেক আল আশ'আরী () থেকে বর্ণিত, নাবী কারীম ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন:
أربع فِي أُمَّتِي مِنْ أَمْرِ الجَاهِلِيَّةِ، لا يَتْرُكُونَهُنَّ الفَخْرُ فِي الْأَحْسَابِ، وَالطَّعْنُ فِي الأنساب، والاستسقاء بالنجوم، والنِّيَاحَةُ». أخرجه مسلم برقم (٩٣٤).
"আমার উম্মতের মধ্যে জাহিলীয়্যাতের চারটি স্বভাব অবশিষ্ট থাকবে, যা তারা পরিত্যাগ করবে না: বংশ মর্যাদা নিয়ে অহংকার করা, ব্যক্তির পূর্বসূরীদের সমালোচনা করা, নক্ষত্ররাজির মাধ্যমে বৃষ্টি প্রার্থনা করা এবং বিলাপ করা।" ছুহীহ মুসলিম হা/৯৩৪
৯-নি'আমতসমুহের সম্বন্ধ গায়রুল্লাহের দিকে করা )نسبة النعم إلى غير الله( : যেহেতু সকল নি'আমত আল্লাহ তা'আলার পক্ষ থেকে আসে, বিধায় যে ব্যক্তি নি'আমতসমূহ গায়রুল্লাহের দিকে সম্পৃক্ত করল, সে মুশরিক। যেমন: কেউ সম্পদ বা সুস্থতা অর্জনের নি'আমতকে অমুক বা অমুকের দিকে সম্পৃক্ত করল বা স্থলপথ, জলপথ ও আকাশপথে ভ্রমণ ও নিরাপদে চলার নি'আমতকে চালক, মাঝি ও পাইলটের দিকে সম্পৃক্ত করল। অথবা স্বাচ্ছন্দ্য অর্জন ও বিপদাপদ নিষ্পত্তির সম্পৃক্ততা সরকার, বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ বা কোনো নেতার দিকে সম্পৃক্ত করল ইত্যাদি। সুতরাং সকল নি'আমত একমাত্র আল্লাহ তা'আলার দিকে
সম্পৃক্ত করা ওয়াজিব। আর যে বিষয়গুলো কোনো কোনো মাখলুকের হাতে সংঘটিত হয়, তা কখনো ফলদায়ক হয় কখনো হয় না, কখনো বাস্তবায়িত হয় কখনো হয় না।
১- আল্লাহ তা'আলা বলেন: {وَمَا بِكُمْ مِنْ نِعْمَةٍ فَمِنَ اللَّهِ ثُمَّ إِذَا مَسَّكُمُ الضُّرُّ فَإِلَيْهِ تَجْأَرُونَ (٥٣) ثُمَّ إِذَا كَشَفَ الضُّرَّ عَنْكُمْ إِذَا فَرِيقٌ مِنْكُمْ بِرَبِّهِمْ يُشْرِكُونَ (٥٤) لِيَكْفُرُوا بِمَا آتَيْنَاهُمْ فَتَمَتَّعُوا فَسَوْفَ تَعْلَمُونَ (٥٥)} [النحل: ٥٣ - ٥٥].
"তোমাদের কাছে যে সমস্ত নি'আমত আছে, তা আল্লাহরই পক্ষ থেকে। অতঃপর তোমরা যখন দুঃখে-কষ্টে পতিত হও, তখন তাঁরই নিকট কান্নাকাটি কর। এরপর যখন আল্লাহ তোমাদের কষ্ট দূরীভূত করে দেন, তখনই তোমাদের একদল স্বীয় পালনকর্তার সাথে অংশীদার সাব্যস্ত করতে থাকে। যাতে ঐ নেয়ামত অস্বীকার করে, যা আমি তাদেরকে দিয়েছি। অতএব মজা ভোগ করে নাও, সত্বরই তোমরা জানতে পারবে।" (সূরা আন-নাহল: ৫৩-৫৫)
১০-গায়রুল্লাহের জন্য জবেহ করা (الذبح لغير الله) :
উদাহরণস্বরূপ: জ্বীন, ওলী, শয়তান অথবা এ জাতীয় গায়রুল্লাহের জন্য জবেহ করা। এগুলোর প্রত্যেকটিই শিরক। কারণ, জবেহ করা একটি ইবাদত, যা আল্লাহ ছাড়া অন্যকারো জন্য পালন করা জায়েয নয়। যে ব্যক্তি গায়রুল্লাহের জন্য জবেহ করল, তার জবেহকৃত পশু (আহার করা) হারাম। কারণ, এই পশুটি গায়রুল্লাহের নামে উৎসর্গীত পশুসমূহের অন্তর্ভুক্ত এবং মুরতাদ ব্যক্তি কর্তৃক জবেহকৃত। বিধায়, তা ভক্ষণ করা জায়েয নয়, যদিও তাতে (জবেহ করার সময়) আল্লাহর নাম নেয়া হয়েছে। আর বান্দা স্বীয় প্রতিটি আমল শুধুমাত্র আল্লাহ তা'আলার জন্য সম্পাদন করবে – এই ব্যাপারে সে আদিষ্ট। যেমনটি আল্লাহ তা'আলা বলেন:
{قُلْ إِنَّ صَلَاتِي وَنُسُكِي وَمَحْيَايَ وَمَمَاتِي لِلَّهِ رَبِّ الْعَالَمِينَ (١٦٢) لَا شَرِيكَ لَهُ وَبِذَلِكَ أمرتُ وَأَنَا أَوَّلُ الْمُسْلِمِينَ (١٦٣)} [الأنعام: ١٦٢ - ١٦٣].
"আপনি বলুন, নিশ্চয় আমার ছুলাত, আমার কুরবানী, আমার জীবন ও আমার মৃত্যু একমাত্র সমস্ত জাহানের রব আল্লাহ তা'আলার জন্য। যার কোনো
অংশীদার নেই, এই ব্যাপারেই আমি আদিষ্ট হয়েছি। আর আমিই প্রথম মুসলিম।” (সূরা আল-আন'আম: ১৬২-১৬৩)

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00