📄 কাউকে কাফের বলার বিধান
যে ব্যক্তি তাওহীদ জানার পরেও সে অনুযায়ী আমল করল না, সে বিদ্রোহী কাফের। যেমন- ইবলীস, ফির'আউন ও তাদের ন্যায় অন্যান্যরা।
আর যদি বাহ্যিকভাবে তাওহীদের উপর আমল করে, কিন্তু অন্তর থেকে তা বিশ্বাস না করে, তবে সে মুনাফিক্ব। আর মুনাফিক্ব প্রকৃতপক্ষে কাফেরের চেয়েও নিকৃষ্ট। কুফরী কর্ম করে এমন প্রত্যেককেই কাফের বলা যাবে না, যতক্ষণ পর্যন্ত তাকে কাফের বলার ব্যাপারে সকল শর্ত প্রমাণিত হয় এবং কাফের বলার সকল প্রতিবন্ধকতা ও অন্তরায় দূর হয়ে যায়।
যাকে আল্লাহ তা'আলা ও তার রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কাফের বলেছেন এবং তার উপর প্রমাণ প্রতিষ্ঠিত হয়েছে, সে কাফের। আর যাকে আল্লাহ তা'আলা ও তার রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কাফের বলেননি অথবা তার উপর প্রমাণ প্রতিষ্ঠিত হয়নি, তাকে কাফের বলা যাবে না। অনেক নও মুসলিম এমন আছেন, যারা কুফরী কাজ করেন, কিন্তু জানেন না যে, এই কাজটা কুফরী। আবার কখনো কোনো বিধানকে অপব্যাখ্যার আশ্রয় নিয়ে অস্বীকার করে বসেন, কিন্তু যখনই সত্যটা জানতে পাতেন, ফিরে আসেন।
সুতরাং অত্যাবশ্যক কর্তব্য হল লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য থাকতে হবে- সত্য বর্ণনা করা ও বাতিলকে নস্যাৎ করা ন্যায় ও ইনসাফের সহিত, দু'আ করা ও দয়া করা, যাতে দীনের পুরোটাই একমাত্র আল্লাহ তা'আলার জন্য প্রতিষ্ঠিত হয়ে যায়। উক্ত বিষয়টির প্রতি লক্ষ্য রেখেই আমরা কর্মকে কুফরী বলা এবং কর্তাকে কুফরী বলার মাঝে পার্থক্য বিধান করব।
অতএব, আমরা বলব: যে ব্যক্তি এমনটি করে, সে কাফের এবং যে ব্যক্তি এমনটি বলে, সে কাফের। কিন্তু সুনিদিষ্টভাবে এমন বক্তব্যের বক্তা বা এমন কাজের কর্তাকে আমরা কাফের বলব না, যতক্ষণ পর্যন্ত তার উপর উক্ত বক্তব্য বা কর্মটি কুফরী হওয়ার ব্যাপারে দলীল প্রতিষ্ঠা করা হয়। আর যার উপর সংশ্লিষ্ট বক্তব্য বা কর্মের কুফরী হওয়ার ব্যাপারে দলীল প্রতিষ্ঠা করা হয়নি, তাকে কাফের বলা যাবে না। বিধায়, একজন মুমিন যখন আল্লাহ তা'আলাকে ভয় করবে, কিন্তু সে - মানুষের শরীর বিক্ষিপ্ত কণায় পরিণত হওয়ার পরে পুনরুত্থানের ক্ষমতার বিষয়ে – সংশয়ে পতিত হবে তার মূর্খতার কারণে, তাহলে আল্লাহ তা'আলা
তাকে ক্ষমা করে দিবেন যদিও সে এমন বিশ্বাস অন্তরে ধারণ করেছে, যা তাকে কাফের বলার জন্য যথেষ্ট।
আবু হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি নাবী কারীম ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করেন,
«أَسْرَفَ رَجُلٌ عَلَى نَفْسِهِ فَلَمَّا حَضَرَهُ المَوْتُ أَوْصَى بَنِيهِ فَقَالَ: إِذَا أَنَا مُتُّ فَأَحْرِقُونِي، ثُمَّ اسْحَقُونِي، ثُمَّ اذْرُونِي فِي الرِّيحِ فِي البَحْرِ ، فَوَاللهِ! لَئِنْ قَدَرَ عَلَيَّ رَبِّي لَيُعَذِّبُنِي عَذَاباً مَا عَذِّبَهُ بِهِ أَحَداً قَالَ: فَفَعَلُوا ذَلكَ به، فَقَالَ لِلأَرْض : أدي مَا أَخَذْتَ فَإِذَا هُوَ قَائِمٌ فَقَالَ لَهُ: مَا حَمَلَكَ عَلَى مَا صَنَعْتَ فَقَالَ : خَشْيَتُكَ، يَا رَبِّ أَوْ قَالَ: مَخَافَتُكَ فَـ فغفر له بذلك». متفق عليه
তিনি বলেন: একদা এক ব্যক্তি তার মৃত্যুশয্যায় নিজের ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নিয়ে স্বীয় সন্তানদেরকে অছীয়ত করল যে, আমার মৃত্যুর পর তোমরা আমার শরীর জ্বালিয়ে পুড়িয়ে সমুদ্রের বাতাসে উড়িয়ে দিবে। আল্লাহর শপথ! যদি আমার রব আমাকে জীবিত করতে পারেন, তবে তিনি আমাকে এমন কঠোর শাস্তি দিবেন, যেই শাস্তি তিনি আর কাউকে দেননি। তিনি বলেন: তার সন্তানরা তার সাথে তাই করল, যা সে বলেছিল। আল্লাহ তা'আলা যমীনকে বললেন: যা গর্ভে ধারণ করেছ, তা গর্ভ থেকে বের করে দাও। তখন উক্ত ব্যক্তি যমীন থেকে উঠে দাঁড়াল। আল্লাহ তা'আলা তাকে বললেন: এমন কাজ তুমি কেনো করলে? সে বলল: হে আমার রব! আপনাকে ভয় করে অথবা বললেন: আপনার প্রতি সন্ত্রস্ত হয়ে। তখন আল্লাহ তা'আলা তাকে এই ভয়ের বিনিময়ে ক্ষমা করে দিলেন। মুত্তাফাকুন আলাইহি, ছুহীহ বুখারী হা/৩৪৮১, ছুহীহ মুসলিম হা/২৭৫৬।