📘 ইসলাম ভঙ্গকারী বিষয়সমূহ > 📄 ইসলাম ভঙ্গকারী ১০ টি বিষয়

📄 ইসলাম ভঙ্গকারী ১০ টি বিষয়


ইসলাম লঙ্ঘনের অনেকগুলো কারণ রয়েছে, যেগুলোকে দশটি কারণে সীমাবদ্ধ করা যায়।
প্রথম: আল্লাহ তা'আলার সাথে শিরক করা )الشرك بالله(।
আল্লাহ তা'আলা বলেন: {إِنَّ اللَّهَ لَا يَغْفِرُ أَنْ يُشْرَكَ بِهِ وَيَغْفِرُ مَا دُونَ ذَلِكَ لِمَنْ يَشَاءُ وَمَنْ يُشْرِكْ بِاللَّهِ فَقَدِ افْتَرَى إِثْمًا عَظِيمًا (٤٨)} [النساء: ٤٨].
নিঃসন্দেহে আল্লাহ তাকে ক্ষমা করেন না, যে লোক তাঁর সাথে শরীক করে। তিনি ক্ষমা করেন এর নিম্ন পর্যায়ের পাপ, যার জন্য তিনি ইচ্ছা করেন। আর যে লোক অংশীদার সাব্যস্ত করল আল্লাহর সাথে, সে যেন অপবাদ আরোপ করল। [আন নিসা: আয়াত নং ৪৮]
দ্বিতীয়: যে ব্যক্তি আল্লাহ তা'আলার মাঝে এবং তার মাঝে এমন মধ্যস্থ ব্যক্তিদের ব্যবধান রচনা করে, যাদের নিকট তারা প্রার্থনা করে, যাদের উপর পূর্ণরূপে ভরসা করে ويتوكل عليهم(এবং যাদের নিকট সুপারিশ কামনা করে ويسألهم الشفاعة), সে কাফের )فهو كافر(।
১) আল্লাহ তা'আলা বলেন: قُلْ أَفَرَأَيْتُمْ مَا تَدْعُونَ مِنْ دُونِ اللَّهِ إِنْ أَرَادَنِي اللَّهُ بِضُرٍّ هَلْ هُنَّ كَاشِفَاتُ ضُرِّهِ أَوْ أَرَادَنِي بِرَحْمَةٍ هَلْ هُنَّ مُمْسِكَاتُ رَحْمَتِهِ قُلْ حَسْبِيَ اللَّهُ عَلَيْهِ يَتَوَكَّلُ الْمُتَوَكِّلُونَ (۳۸)} [الزمر: ٣٨].
বলুন, তোমরা ভেবে দেখেছ কি, যদি আল্লাহ আমার অনিষ্ট করার ইচ্ছা করেন, তবে তোমরা আল্লাহ ব্যতীত যাদেরকে ডাক, তারা কি সে অনিষ্ট দূর করতে পারবে? অথবা তিনি আমার প্রতি রহমত করার ইচ্ছা করলে তারা কি সে রহমত রোধ করতে পারবে? বলুন, আমার পক্ষে আল্লাহই যথেষ্ট। নির্ভরকারীরা তাঁরই উপর নির্ভর করে। [আয-যুমার: আয়াত নং ৩৮]
২) আল্লাহ তা'আলা বলেন:
وَيَعْبُدُونَ مِنْ دُونِ اللَّهِ مَا لَا يَضُرُّهُمْ وَلَا يَنْفَعُهُمْ وَيَقُولُونَ هَؤُلَاءِ شُفَعَاؤُنَا عِنْدَ اللَّهِ قُلْ أَتُنَبِّئُونَ اللَّهَ بِمَا لَا يَعْلَمُ فِي السَّمَاوَاتِ وَلَا فِي الْأَرْضِ سُبْحَانَهُ وَتَعَالَى عَمَّا يُشْرِكُونَ [يونس : ١٨].(۱۸)
আর উপাসনা করে আল্লাহকে বাদ দিয়ে এমন বস্তুর, যা না তাদের কোন ক্ষতিসাধন করতে পারে, না লাভ এবং বলে, এরা তো আল্লাহর কাছে আমাদের সুপারিশকারী। তুমি বল, তোমরা কি আল্লাহকে এমন বিষয়ে অবহিত করছ, যে সম্পর্কে তিনি অবহিত নন আসমান ও যমীনের মাঝে? তিনি পুতঃপবিত্র ও মহান সে সমস্ত থেকে যাকে তোমরা শরীক করছ। [ইউনুস: আয়াত নং ১৮]
তৃতীয়: যে ব্যক্তি মুশরিকদেরকে কাফের মনে করে না (من لم يكفر المشركين) বা তাদের কুফুরির ব্যাপারে সন্দিহান (أو شك في كفرهم) অথবা তাদের মতাদর্শকে সঠিক মনে করে (أو صحح مذهبهم), সে কাফের (فهو كافر)।
১) আল্লাহ তা'আলা বলেন:
قَدْ كَانَتْ لَكُمْ أُسْوَةٌ حَسَنَةٌ فِي إِبْرَاهِيمَ وَالَّذِينَ مَعَهُ إِذْ قَالُوا لِقَوْمِهِمْ إِنَّا بُرَآءُ مِنْكُمْ وَمِمَّا تَعْبُدُونَ مِنْ دُونِ اللَّهِ كَفَرْنَا بِكُمْ وَبَدَا بَيْنَنَا وَبَيْنَكُمُ الْعَدَاوَةُ وَالْبَغْضَاءُ أَبَدًا حَتَّى تُؤْمِنُوا بِاللَّهِ وَحْدَهُ} [الممتحنة: ٤].
তোমাদের জন্যে ইব্রাহীম ও তাঁর সঙ্গীগণের মধ্যে চমৎকার আদর্শ রয়েছে। তারা তাদের সম্প্রদায়কে বলেছিলঃ তোমাদের সাথে এবং তোমরা আল্লাহর পরিবর্তে যার এবাদত কর, তার সাথে আমাদের কোন সম্পর্ক নেই। আমরা তোমাদের মানি না। তোমরা এক আল্লাহর প্রতি বিশ্বাস স্থাপন না করলে তোমাদের মধ্যে ও আমাদের মধ্যে চিরশত্রুতা থাকবে। [আল মুম্তাহিনাহ্: আয়াত নং ৪]
২) আল্লাহ তা'আলা বলেন:
{لَا إِكْرَاهَ فِي الدِّينِ قَدْ تَبَيَّنَ الرُّشْدُ مِنَ الْغَيِّ فَمَنْ يَكْفُرْ بِالطَّاغُوتِ وَيُؤْمِنُ بِاللَّهِ فَقَدِ اسْتَمْسَكَ بِالْعُرْوَةِ الْوُثْقَى لَا انْفِصَامَ لَهَا وَاللَّهُ سَمِيعٌ عَلِيمٌ (٢٥٦)} [البقرة: ٢٥٦].
দীনের ব্যাপারে কোন জবরদস্তি বা বাধ্য-বাধকতা নেই। নিঃসন্দেহে হেদায়াত গোমরাহী থেকে পৃথক হয়ে গেছে। এখন যারা গোমরাহকারী 'তাগুত'দেরকে মানবে না এবং আল্লাহতে বিশ্বাস স্থাপন করবে, সে ধারণ করে নিয়েছে সুদৃঢ় হাতল যা ভাংবার নয়। আর আল্লাহ সবই শুনেন এবং জানেন। [আল বাকারা: আয়াত নং ২৫৬]
চতুর্থ: যে বিশ্বাস করে — মুহাম্মাদ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম — এর আদর্শের চেয়ে অন্যকারো আদর্শ উত্তম বা অন্যকারো বিধান তার বিধান থেকে উত্তম, তবে সে কাফের।
১) আল্লাহ তা'আলা বলেন: {فَلَا وَرَبِّكَ لَا يُؤْمِنُونَ حَتَّى يُحَكِّمُوكَ فِيمَا شَجَرَ بَيْنَهُمْ ثُمَّ لَا يَجِدُوا فِي أَنْفُسِهِمْ حَرَجًا مِمَّا قَضَيْتَ وَيُسَلِّمُوا تَسْلِيمًا (٦٥)} [النساء : ٦٥].
অতএব, তোমার পালনকর্তার কসম, সে লোক ঈমানদার হবে না, যতক্ষণ না তাদের মধ্যে সৃষ্ট বিবাদের ব্যাপারে তোমাকে ন্যায়বিচারক বলে মনে না করে। অতঃপর তোমার মীমাংসার ব্যাপারে নিজের মনে কোন রকম সংকীর্ণতা পাবে না এবং তা হৃষ্টচিত্তে কবুল করে নেবে। [আন নিসা: আয়াত নং ৬৫]
২) আল্লাহ তা'আলা বলেন: {وَمَنْ يَبْتَغِ غَيْرَ الْإِسْلَامِ دِينًا فَلَنْ يُقْبَلَ مِنْهُ وَهُوَ فِي الْآخِرَةِ مِنَ الْخَاسِرِينَ (٨٥)} [آل عمران : ٨٥] .
যে লোক ইসলাম ছাড়া অন্য কোন দীন তালাশ করে, কস্মিণকালেও তা গ্রহণ করা হবে না এবং আখেরাতে সে হবে ক্ষতিগ্রস্ত। [আলে ইমরান: আয়াত নং ৮৫]
পঞ্চম: যে ব্যক্তি রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর আনীত কোনো বিধানের প্রতি ঘৃণা পোষণ করে – যদিও তার প্রতি সে আমল করে থাকে – তবে সে কুফরী করল।
১) আল্লাহ তা'আলা বলেন: {وَالَّذِينَ كَفَرُوا فَتَعْسًا لَهُمْ وَأَضَلَّ أَعْمَالَهُمْ (۸) ذَلِكَ بِأَنَّهُمْ كَرِهُوا مَا أَنْزَلَ اللَّهُ فَأَحْبَطَ أَعْمَالَهُمْ (۹)} [محمد : ۸ - ۹] .
আর যারা কাফের, তাদের জন্যে আছে দুর্গতি এবং তিনি তাদের কর্ম বিনষ্ট করে দিবেন। এটা এজন্যে যে, আল্লাহ যা নাযিল করেছেন, তারা তা পছন্দ করে না। অতএব, আল্লাহ তাদের কর্ম ব্যর্থ করে দিবেন। [মুহাম্মাদ: আয়াত নং ৮-৯]
২) আল্লাহ তা'আলা বলেন: { ذَلِكَ بِأَنَّهُمُ اتَّبَعُوا مَا أَسْخَطَ اللَّهَ وَكَرِهُوا رِضْوَانَهُ فَأَحْبَطَ أَعْمَالَهُمْ (۲۸)} [محمد : ۲۸] .
এটা এজন্যে যে, তারা সেই বিষয়ের অনুসরণ করে, যা আল্লাহর অসন্তোষ সৃষ্টি করে এবং আল্লাহর সন্তুষ্টিকে অপছন্দ করে। ফলে তিনি তাদের কর্মসমূহ ব্যর্থ করে দেন। [মুহাম্মাদ: আয়াত নং ২৮]
ষষ্ঠ: যে ব্যক্তি রসূল - ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম - এর আনীত কোনো একটি বিধানের বা তার ছওয়াব বা শাস্তির প্রতি ঠাট্টা বিদ্রুপ করে, সে কুফুরি করল।
১) আল্লাহ তা'আলা বলেন: {وَلَئِنْ سَأَلْتَهُمْ لَيَقُولُنَّ إِنَّمَا كُنَّا نَخُوضُ وَنَلْعَبُ قُلْ أَبِاللَّهِ وَآيَاتِهِ وَرَسُولِهِ كُنْتُمْ تَسْتَهْزِئُونَ (٦٥) لَا تَعْتَذِرُوا قَدْ كَفَرْتُمْ بَعْدَ إِيمَانِكُمْ إِنْ نَعْفُ عَنْ طَائِفَةٍ مِنْكُمْ نُعَذِّبْ طَائِفَةً بِأَنَّهُمْ كَانُوا مُجْرِمِينَ (٦٦)} [التوبة : ٦٥ - ٦٦].
আর যদি তুমি তাদের কাছে জিজ্ঞেস কর, তবে তারা বলবে, আমরা তো কথার কথা বলছিলাম এবং কৌতুক করছিলাম। আপনি বলুন, তোমরা কি আল্লাহর সাথে, তাঁর হুকুম আহকামের সাথে এবং তাঁর রসূলের সাথে ঠাট্টা করছিলে? ছলনা কর না, তোমরা যে কাফের হয়ে গেছ ঈমান প্রকাশ করার পর। তোমাদের মধ্যে কোন কোন লোককে যদি আমি ক্ষমা করে দেইও, তবে অবশ্য কিছু লোককে আযাবও দেব। কারণ, তারা ছিল গোনাহগার। [আত তাওবাহ্: আয়াত নং ৬৫-৬৬]
২) আল্লাহ তা'আলা বলেন: { وَقَدْ نَزَّلَ عَلَيْكُمْ فِي الْكِتَابِ أَنْ إِذَا سَمِعْتُمْ آيَاتِ اللَّهِ يُكْفَرُ بِهَا وَيُسْتَهْزَأُ بِهَا فَلَا تَقْعُدُوا مَعَهُمْ حَتَّى يَخُوضُوا فِي حَدِيثٍ غَيْرِهِ إِنَّكُمْ إِذًا مِثْلُهُمْ إِنَّ اللَّهَ جَامِعُ الْمُنَافِقِينَ وَالْكَافِرِينَ في جَهَنَّمَ جَمِيعًا (١٤٠)} [النساء : ١٤٠] .
আর কোরআনের মাধ্যমে তোমাদের প্রতি এই হুকুম জারি করে দিয়েছেন যে, যখন আল্লাহ তা'আলার আয়াতসমূহের প্রতি অস্বীকৃতি জ্ঞাপন ও বিদ্রুপ হতে শুনবে, তখন তোমরা তাদের সাথে বসবে না, যতক্ষণ না তারা প্রসঙ্গান্তরে চলে যায়। তা না হলে তোমরাও তাদেরই মত হয়ে যাবে। আল্লাহ দোযখের মাঝে মুনাফেক ও কাফেরদেরকে একই জায়গায় সমবেত করবেন। [আন নিসা: আয়াত নং ১৪০]
সপ্তম: যে ব্যক্তি এই কথা বিশ্বাস করে যে, কিছু মানুষের জন্য মুহাম্মাদ - ইস্তাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম - এর শরীয়তের সীমা লঙ্ঘনের অধিকার রাখে, সে কাফের।
১) আল্লাহ তা'আলা বলেন:
وَأَنَّ هَذَا صِرَاطِي مُسْتَقِيمًا فَاتَّبِعُوهُ وَلَا تَتَّبِعُوا السُّبُلَ فَتَفَرَّقَ بِكُمْ عَنْ سَبِيلِهِ ذَلِكُمْ وَصَّاكُمْ بِهِ لَعَلَّكُمْ تَتَّقُونَ (١٥٣)} [الأنعام: ١٥٣].
তোমাদেরকে এ নির্দেশ দিয়েছেন, যেন তোমরা উপদেশ গ্রহণ কর। নিশ্চিত এটি আমার সরল পথ। অতএব, এ পথে চল এবং অন্যান্য পথে চলো না। তা হলে সেসব পথ তোমাদেরকে তাঁর পথ থেকে বিচ্ছিন্ন করে দিবে। তোমাদেরকে এ নির্দেশ দিয়েছেন, যাতে তোমরা সংযত হও। [আল আনআম: আয়াত নং ১৫৩]
২) আল্লাহ তা'আলা বলেন:
وَمَنْ يُشَاقِقِ الرَّسُولَ مِنْ بَعْدِ مَا تَبَيَّنَ لَهُ الْهُدَى وَيَتَّبِعْ غَيْرَ سَبِيلِ الْمُؤْمِنِينَ نُوَلِّهِ مَا تَوَلَّى وَنُصْلِهِ جَهَنَّمَ وَسَاءَتْ مَصِيرًا (١١٥)} [النساء : ١١٥].
যে কেউ রসূলের বিরুদ্ধাচারণ করে, তার কাছে সরল পথ প্রকাশিত হওয়ার পর এবং সব মুসলমানের অনুসৃত পথের বিরুদ্ধে চলে, আমি তাকে ঐ দিকেই ফেরাব যে দিক সে অবলম্বন করেছে এবং তাকে জাহান্নামে নিক্ষেপ করব। আর তা নিকৃষ্টতর গন্তব্যস্থান। [আন নিসা: আয়াত নং ১১৫]
অষ্টম: আল্লাহ তা'আলার দীন থেকে অবজ্ঞার সাথে এমনভাবে মুখ ফিরিয়ে নেয়া, যে তা শিক্ষার প্রতি এবং আমলের প্রতি কোনো প্রকার গুরুত্বই না থাকে।
১) আল্লাহ তা'আলা বলেন: {وَمَنْ أَظْلَمُ مِمَّنْ ذُكِّرَ بِآيَاتِ رَبِّهِ ثُمَّ أَعْرَضَ عَنْهَا إِنَّا مِنَ الْمُجْرِمِينَ مُنْتَقِمُونَ (۲۲)}
[السجدة : ٢٢].
যে ব্যক্তিকে তার পালনকর্তার আয়াতসমূহ দ্বারা উপদেশ দান করা হয়, অতঃপর সে তা থেকে মুখ ফিরিয়ে নেয়, তার চেয়ে যালেম আর কে? আমি অপরাধীদেরকে শাস্তি দেব। [আস সাজদাহ্: আয়াত নং ২২]
২) আল্লাহ তা'আলা বলেন: {وَلَقَدْ ذَرَأْنَا لِجَهَنَّمَ كَثِيرًا مِنَ الْجِنِّ وَالْإِنْسِ لَهُمْ قُلُوبٌ لَا يَفْقَهُونَ بِهَا وَلَهُمْ أَعْيُنٌ لَا يُبْصِرُونَ بِهَا وَلَهُمْ آذَانٌ لَا يَسْمَعُونَ بِهَا أُولَئِكَ كَالْأَنْعَامِ بَلْ هُمْ أَضَلُّ أُولَئِكَ هُمُ الْغَافِلُونَ (۱۷۹)} [الأعراف: ۱۷۹].
আর আমি সৃষ্টি করেছি দোযখের জন্য বহু জ্বিন ও মানুষ। তাদের অন্তর রয়েছে, তার দ্বারা বিবেচনা করে না, তাদের চোখ রয়েছে, তার দ্বারা দেখে না, আর তাদের কান রয়েছে, তার দ্বারা শোনে না। তারা চতুষ্পদ জন্তুর মত; বরং তাদের চেয়েও নিকৃষ্টতর। তারাই হল গাফেল, শৈথিল্যপরায়ণ। [আল আ'রাফ: আয়াত নং ১৭৯]
নবম: মুশরিকদের পৃষ্ঠপোষকতা করা এবং তাদেরকে মুসলিমদের বিরুদ্ধে সহযোগীতা ও সমর্থন দেয়া।
১) আল্লাহ তা'আলা বলেন: {يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا لَا تَتَّخِذُوا الْيَهُودَ وَالنَّصَارَى أَوْلِيَاءَ بَعْضُهُمْ أَوْلِيَاءُ بَعْضٍ وَمَنْ يَتَوَلَّهُمْ مِنْكُمْ فَإِنَّهُ مِنْهُمْ إِنَّ اللَّهَ لَا يَهْدِي الْقَوْمَ الظَّالِمِينَ (٥١)} [المائدة : ٥١] .
হে মুমিণগণ! তোমরা ইহুদী ও খ্রীষ্টানদেরকে বন্ধু হিসাবে গ্রহণ করো না। তারা একে অপরের বন্ধু। তোমাদের মধ্যে যে তাদের সাথে বন্ধুত্ব করবে, সে তাদেরই অন্তর্ভুক্ত। আল্লাহ জালেমদেরকে পথ প্রদর্শন করেন না। [আল মায়িদাহ: আয়াত নং ৫১]
২) আল্লাহ তা'আলা বলেন: {لَا يَتَّخِذِ الْمُؤْمِنُونَ الْكَافِرِينَ أَوْلِيَاءَ مِنْ دُونِ الْمُؤْمِنِينَ وَمَنْ يَفْعَلْ ذَلِكَ فَلَيْسَ مِنَ اللَّهِ فِي شَيْءٍ إِلَّا أَنْ تَتَّقُوا مِنْهُمْ تُقَاةً وَيُحَذِّرُكُمُ اللَّهُ نَفْسَهُ وَإِلَى اللَّهِ الْمَصِيرُ (۲۸)} [آل عمران : ۲۸].
মুমিনগন যেন অন্য মুমিনকে ছেড়ে কেন কাফেরকে বন্ধুরূপে গ্রহণ না করে। যারা এরূপ করবে আল্লাহর সাথে তাদের কেন সম্পর্ক থাকবে না। তবে যদি তোমরা তাদের পক্ষ থেকে কোন অনিষ্টের আশঙ্কা কর, তবে তাদের সাথে সাবধানতার সাথে থাকবে আল্লাহ তা'আলা তাঁর সম্পর্কে তোমাদের সতর্ক করেছেন। এবং সবাই কে তাঁর কাছে ফিরে যেতে হবে। [আলে ইমরান: আয়াত নং ২৮]
দশম: যাদু-টোনা করা এবং এর মাধ্যমে কাউকে বিপদে নিপতিত করা আবার কাউকে সহানুভূতি দেখানো। যে ব্যক্তি এমন কর্ম সাধন করে অথবা এমন কর্মের প্রতি সন্তুষ্ট হয়, সে কুফরী করল।
১) আল্লাহ তা'আলা বলেন: {وَاتَّبَعُوا مَا تَتْلُو الشَّيَاطِينُ عَلَى مُلْكِ سُلَيْمَانَ وَمَا كَفَرَ سُلَيْمَانُ وَلَكِنَّ الشَّيَاطِينَ كَفَرُوا يُعَلِّمُونَ النَّاسَ السِّحْرَ وَمَا أُنزِلَ عَلَى الْمَلَكَيْنِ بِبَابِلَ هَارُوتَ وَمَارُوتَ وَمَا يُعَلِّمَانِ مِنْ أَحَدٍ حَتَّى يَقُولَا إِنَّمَا نَحْنُ فِتْنَةٌ فَلَا تَكْفُرْ فَيَتَعَلَّمُونَ مِنْهُمَا مَا يُفَرِّقُونَ بِهِ بَيْنَ الْمَرْءِ وَزَوْجِهِ وَمَا هُمْ بِضَارِّينَ بِهِ مِنْ أَحَدٍ إِلَّا بِإِذْنِ اللَّهِ وَيَتَعَلَّمُونَ مَا يَضُرُّهُمْ وَلَا يَنْفَعُهُمْ وَلَقَدْ عَلِمُوا لَمَنِ اشْتَرَاهُ مَا لَهُ فِي الْآخِرَةِ مِنْ خَلَاقٍ وَلَبِئْسَ مَا شَرَوْا بِهِ أَنْفُسَهُمْ لَوْ كَانُوا يَعْلَمُونَ} [البقرة : ١٠٢].
তারা ঐ শাস্ত্রের অনুসরণ করল, যা সুলায়মানের রাজত্ব কালে শয়তানরা আবৃত্তি করত। সুলায়মান কুফর করেনি; শয়তানরাই কুফর করেছিল। তারা মানুষকে জাদুবিদ্যা এবং বাবেল শহরে হারুত ও মারুত দুই মালাইকা-ফেরেশতাদ্বয়ের প্রতি যা অবতীর্ণ হয়েছিল, তা শিক্ষা দিত। তারা উভয়ই একথা না বলে কাউকে শিক্ষা দিত না যে, আমরা পরীক্ষার জন্য; কাজেই তুমি কাফের হয়ো না। অতঃপর তারা তাদের কাছ থেকে এমন জাদু শিখত, যদ্বারা স্বামী ও স্ত্রীর মধ্যে বিচ্ছেদ ঘটে। তারা আল্লাহর আদেশ ছাড়া তদ্দ্বারা কারও অনিষ্ট করতে পারত
না। যা তাদের ক্ষতি করে এবং উপকার না করে, তারা তাই শিখে। তারা ভালরূপে জানে যে, যে কেউ জাদু অবলম্বন করে, তার জন্য পরকালে কোন অংশ নেই। যার বিনিময়ে তারা আত্মবিক্রয় করেছে, তা খুবই মন্দ যদি তারা জানত। [আল বাকারা: আয়াত নং ১০২]
২) আল্লাহ তা'আলা বলেন:
{وَأَلْقِ مَا فِي يَمِينِكَ تَلْقَفْ مَا صَنَعُوا إِنَّمَا صَنَعُوا كَيْدُ سَاحِرٍ وَلَا يُفْلِحُ السَّاحِرُ حَيْثُ أَتَى (٦٩)} [طه: ٦৯] .
তোমার ডান হাতে যা আছে তুমি তা নিক্ষেপ কর। এটা যা কিছু তারা করেছে তা গ্রাস করে ফেলবে। তারা যা করেছে তা তো কেবল যাদুকরের কলাকৌশল। [ত্বোয়াহ: আয়াত নং ৬৯]
এটা ইসলাম ভঙ্গের সবচে বড়, সবচেয়ে বিপজ্জনক এবং সর্বাধিক সংঘটিত কারণ। উল্লিখিত লঙ্ঘনকারী কারণসমূহের মধ্যে কোনো পার্থক্য নেই ঠাট্টা- রসিকতা কারী, গুরুগম্ভীর ও ভীতসন্ত্রস্ত ব্যক্তির মাঝে। তবে চাপপ্রয়োগ কৃত ব্যক্তি এই বিধানের আওতাভুক্ত নয়। আর চাপপ্রয়োগ কথা ও কর্ম উভয়টির দ্বারাই হতে পারে।
আল্লাহ তা'আলা বলেন:
مَنْ كَفَرَ بِاللَّهِ مِنْ بَعْدِ إِيمَانِهِ إِلَّا مَنْ أُكْرِهَ وَقَلْبُهُ مُطْمَئِنَّ بِالْإِيمَانِ وَلَكِنْ مَنْ شَرَحَ بِالْكُفْرِ صَدْرًا فَعَلَيْهِمْ غَضَبٌ مِنَ اللَّهِ وَلَهُمْ عَذَابٌ عَظِيمٌ (١٠٦)} [النحل : ١٠٦].
যার উপর জবরদস্তি করা হয় এবং তার অন্তর বিশ্বাসে অটল থাকে সে ব্যতীত যে কেউ বিশ্বাসী হওয়ার পর আল্লাহতে অবিশ্বাসী হয় এবং কুফরীর জন্য মন উম্মুক্ত করে দেয় তাদের উপর আপতিত হবে আল্লাহর গযব এবং তাদের জন্যে রয়েছে শাস্তি। [আন নাহল: আয়াত নং ১০৬]

📘 ইসলাম ভঙ্গকারী বিষয়সমূহ > 📄 কাউকে কাফের বলার বিধান

📄 কাউকে কাফের বলার বিধান


যে ব্যক্তি তাওহীদ জানার পরেও সে অনুযায়ী আমল করল না, সে বিদ্রোহী কাফের। যেমন- ইবলীস, ফির'আউন ও তাদের ন্যায় অন্যান্যরা।
আর যদি বাহ্যিকভাবে তাওহীদের উপর আমল করে, কিন্তু অন্তর থেকে তা বিশ্বাস না করে, তবে সে মুনাফিক্ব। আর মুনাফিক্ব প্রকৃতপক্ষে কাফেরের চেয়েও নিকৃষ্ট। কুফরী কর্ম করে এমন প্রত্যেককেই কাফের বলা যাবে না, যতক্ষণ পর্যন্ত তাকে কাফের বলার ব্যাপারে সকল শর্ত প্রমাণিত হয় এবং কাফের বলার সকল প্রতিবন্ধকতা ও অন্তরায় দূর হয়ে যায়।
যাকে আল্লাহ তা'আলা ও তার রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কাফের বলেছেন এবং তার উপর প্রমাণ প্রতিষ্ঠিত হয়েছে, সে কাফের। আর যাকে আল্লাহ তা'আলা ও তার রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কাফের বলেননি অথবা তার উপর প্রমাণ প্রতিষ্ঠিত হয়নি, তাকে কাফের বলা যাবে না। অনেক নও মুসলিম এমন আছেন, যারা কুফরী কাজ করেন, কিন্তু জানেন না যে, এই কাজটা কুফরী। আবার কখনো কোনো বিধানকে অপব্যাখ্যার আশ্রয় নিয়ে অস্বীকার করে বসেন, কিন্তু যখনই সত্যটা জানতে পাতেন, ফিরে আসেন।
সুতরাং অত্যাবশ্যক কর্তব্য হল লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য থাকতে হবে- সত্য বর্ণনা করা ও বাতিলকে নস্যাৎ করা ন্যায় ও ইনসাফের সহিত, দু'আ করা ও দয়া করা, যাতে দীনের পুরোটাই একমাত্র আল্লাহ তা'আলার জন্য প্রতিষ্ঠিত হয়ে যায়। উক্ত বিষয়টির প্রতি লক্ষ্য রেখেই আমরা কর্মকে কুফরী বলা এবং কর্তাকে কুফরী বলার মাঝে পার্থক্য বিধান করব।
অতএব, আমরা বলব: যে ব্যক্তি এমনটি করে, সে কাফের এবং যে ব্যক্তি এমনটি বলে, সে কাফের। কিন্তু সুনিদিষ্টভাবে এমন বক্তব্যের বক্তা বা এমন কাজের কর্তাকে আমরা কাফের বলব না, যতক্ষণ পর্যন্ত তার উপর উক্ত বক্তব্য বা কর্মটি কুফরী হওয়ার ব্যাপারে দলীল প্রতিষ্ঠা করা হয়। আর যার উপর সংশ্লিষ্ট বক্তব্য বা কর্মের কুফরী হওয়ার ব্যাপারে দলীল প্রতিষ্ঠা করা হয়নি, তাকে কাফের বলা যাবে না। বিধায়, একজন মুমিন যখন আল্লাহ তা'আলাকে ভয় করবে, কিন্তু সে - মানুষের শরীর বিক্ষিপ্ত কণায় পরিণত হওয়ার পরে পুনরুত্থানের ক্ষমতার বিষয়ে – সংশয়ে পতিত হবে তার মূর্খতার কারণে, তাহলে আল্লাহ তা'আলা
তাকে ক্ষমা করে দিবেন যদিও সে এমন বিশ্বাস অন্তরে ধারণ করেছে, যা তাকে কাফের বলার জন্য যথেষ্ট।
আবু হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি নাবী কারীম ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করেন,
«أَسْرَفَ رَجُلٌ عَلَى نَفْسِهِ فَلَمَّا حَضَرَهُ المَوْتُ أَوْصَى بَنِيهِ فَقَالَ: إِذَا أَنَا مُتُّ فَأَحْرِقُونِي، ثُمَّ اسْحَقُونِي، ثُمَّ اذْرُونِي فِي الرِّيحِ فِي البَحْرِ ، فَوَاللهِ! لَئِنْ قَدَرَ عَلَيَّ رَبِّي لَيُعَذِّبُنِي عَذَاباً مَا عَذِّبَهُ بِهِ أَحَداً قَالَ: فَفَعَلُوا ذَلكَ به، فَقَالَ لِلأَرْض : أدي مَا أَخَذْتَ فَإِذَا هُوَ قَائِمٌ فَقَالَ لَهُ: مَا حَمَلَكَ عَلَى مَا صَنَعْتَ فَقَالَ : خَشْيَتُكَ، يَا رَبِّ أَوْ قَالَ: مَخَافَتُكَ فَـ فغفر له بذلك». متفق عليه
তিনি বলেন: একদা এক ব্যক্তি তার মৃত্যুশয্যায় নিজের ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নিয়ে স্বীয় সন্তানদেরকে অছীয়ত করল যে, আমার মৃত্যুর পর তোমরা আমার শরীর জ্বালিয়ে পুড়িয়ে সমুদ্রের বাতাসে উড়িয়ে দিবে। আল্লাহর শপথ! যদি আমার রব আমাকে জীবিত করতে পারেন, তবে তিনি আমাকে এমন কঠোর শাস্তি দিবেন, যেই শাস্তি তিনি আর কাউকে দেননি। তিনি বলেন: তার সন্তানরা তার সাথে তাই করল, যা সে বলেছিল। আল্লাহ তা'আলা যমীনকে বললেন: যা গর্ভে ধারণ করেছ, তা গর্ভ থেকে বের করে দাও। তখন উক্ত ব্যক্তি যমীন থেকে উঠে দাঁড়াল। আল্লাহ তা'আলা তাকে বললেন: এমন কাজ তুমি কেনো করলে? সে বলল: হে আমার রব! আপনাকে ভয় করে অথবা বললেন: আপনার প্রতি সন্ত্রস্ত হয়ে। তখন আল্লাহ তা'আলা তাকে এই ভয়ের বিনিময়ে ক্ষমা করে দিলেন। মুত্তাফাকুন আলাইহি, ছুহীহ বুখারী হা/৩৪৮১, ছুহীহ মুসলিম হা/২৭৫৬।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00