📘 ইসলামে সর্বোত্তম > 📄 ইবাদতকারী

📄 ইবাদতকারী


১৮১. জাবির (রা) বর্ণনা করেন, নবী কারীম ﷺ ইরশাদ করেন:
أَحَبُّ الْعِبَادِ إِلَى اللَّهِ تَعَالَى أَنْفَعُهُمْ لِعِبَالِهِ
অর্থ: 'মহান আল্লাহ তায়ালার সবচেয়ে প্রিয়তম বান্দা হলো তারা যারা তাঁর পরিবার [অর্থাৎ আল্লাহর সৃষ্টিকুলের] এর প্রতি বেশি উপকারী।' (ইমাম আহমদ ফি কিতাবুয যুহদ, আত্তাবারানী ফী রওদাতুন নাদীর।)

📘 ইসলামে সর্বোত্তম > 📄 জমজম

📄 জমজম


১৮২. ইবন আব্বাস (রা) বর্ণনা করেন যে, নবী করীম ﷺ ইরশাদ করেনঃ
خَيْرُ مَاءِ وَجْهِ الْأَرْضِ مَاءُ زَمْزَمَ، فِيهِ طَعَامُ مِنَ الطَّعْمِ وَشِفَاء من السقم .
অর্থ: 'পৃথিবীর উপরিভাগের সর্বোত্তম পানি হলো জমজম কূপের পানি, এর মধ্যে খাদ্যের গুণাবলি এবং রোগের চিকিৎসা বিদ্যমান।' (ইবন হিব্বান তাঁর সহীহ এবং তায়ালেসী)

টিকাঃ
১১২. রাসূল ﷺ এর এ বর্ণনা এ নির্দেশনা দেয় যে, দুয়া এক ধরনের মুনাজাত প্রকারের ইবাদত। ফলে যদি কেউ আল্লাহ ছাড়া অন্য কারো নিকট দুয়া করে, তাহলে প্রকৃতপক্ষে সে শিরক করে। আর শিরক প্রসঙ্গে মহান আল্লাহ ঘোষণা করেন:
إِنَّ اللَّهَ لَا يَغْفِرُ أَنْ يُشْرَكَ بِهِ وَيَغْفِرُ مَا دُونَ ذَلِكَ لِمَنْ يَشَاء .
অর্থ: 'নিশ্চয়ই আল্লাহ তার সঙ্গে শরিক করা হলে তা ক্ষমা করেন না এবং এ ছাড়া যাকে ইচ্ছা ক্ষমা করেন।'
কুরআন-হাদীস থেকে একথা সুস্পষ্টভাবে প্রমাণিত যে, শিরক হল সবচেয়ে বড় গুনাহ।
১১৩. এই বর্ণনা মূলত زَوَائِدُ الزهد (জাওয়িদুয যুহদ) কিতাবে পাওয়া যায়। যাতে ঐ বিষয়ের ওপর ইমাম আহমদের পুত্র আব্দুল্লাহর সংগ্রহ রয়েছে। যাতে তাঁর পিতার সংগ্রহ كتاب الزهد (কিতাবুয যুহদ) অন্তর্ভুক্ত নয়।
১১৪. একটি ঝর্ণা। যা অলৌকিকভাবে মক্কার মরুভূমির সমতল ভূমিতে উদয় হয়েছে, যেখানে ইবরাহীম (আ) তদীয় স্ত্রী বিবি হাজেরাকে তার শিশুপুত্র ইসমাঈল (আ)সহ আল্লাহর নির্দেশে রেখে আসেন। زَمَزَمَة (জমজমাহ) আরবি শব্দ যার অর্থ 'প্রচুর পানি'। পানির কারণে আরবীয় জুরহুম গোত্র সেখানে অবস্থান গ্রহণ করেন এবং এর পাশে একটি কূপ খনন করেন। এরপরে ইবরাহীম (আ) সেখানে আসেন এবং ইবাদতের প্রথম গৃহ কাবা শরীফ জমজমের পাশে তৈরি করেন। পরবর্তীতে যুরহম গোত্রের লোকেরা কূপটি ভরাট করে ফেলে এবং বহু শতবর্ষ পরে রাসূল ﷺ এর দাদা আব্দুল মুত্তালিব স্বপ্নে দেখেন তাকে বলা হচ্ছে যমযম কূপ খনন কর। এভাবে একাধিকবার স্বপ্ন দেখার পর তিনি প্রশ্ন করলেন: 'কোথায়?' উত্তর আসলোঃ 'রক্ত এবং গোবরের মাঝখানে।' সকাল বেলা তিনি তার পুত্রদের নিয়ে যমযম কূপ খননের প্রচেষ্টায় লেগে গেলেন, অথচ জায়গাটি নির্ণয় করা সম্ভব হলো না। ইতোমধ্যে পার্শ্ববর্তী এক স্থান থেকে আধা জবাইকৃত আহত একটি উট এসে সেখানে পড়ল। পিছনে ছুটে আসা লোকেরা ওখানেই উটটিকে জবাই করল। ফলে রক্ত ঝরল এবং উটের পায়খানাও হলো এর দ্বারা যমযম কূপের স্থান নির্ধারিত হয়ে গেল এবং রক্ত ও গোবরের মাঝখানে যমযম পুনঃখনন হলো।
খননকার্য শেষ হবার পর পানির অধিকার নিয়ে পুনরায় বেঁধে গেল বচসা। এ বচসা যখন একটা চরম রূপ ধারণ করতে লাগল তখন প্রস্তাব পেশ করা হলো যে, কোন গণকের নিকট থেকে এ বিষয়ে ফায়সালা নিয়ে আসা হোক। এ বিষয়ে একমত হবার পর বিখ্যাত এক মহিলা গণকের নিকট যাবার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। বিশাল মরুভূমি পাড়ি দেবার সময় আব্দুল মুত্তালিবের নিজেদের লোকদের পানির প্রচণ্ড অভাব দেখা দিল। অন্যদের নিকট পানি চাওয়া হলে সংকটের আশঙ্কায় তারা পানি দিতে অস্বীকার করলেন এমতবস্থায় আব্দুল মুত্তালিব সকলকে নিজ নিজ কবর খোড়ার নির্দেশ দিলেন, তিনি বললেন যিনি মারা যাবেন তাকে কবরে শুইয়ে দেয়া হবে এবং সর্বশেষ মাত্র একজন হয়তো ওপরে পড়ে থাকবে বাকিদের লাশ বিকৃতির হাত থেকে রক্ষা পাবে। কবর খোড়া শেষ হলে আব্দুল মুত্তালিব এভাবে বসে বসে মৃত্যুর প্রহর গোনার চাইতে সচেষ্ট হওয়ার জন্য কাফেলাকে যাত্রার নির্দেশ দিলেন। যাত্রা শুরু হলেই নেতার উটের পায়ের নিচ থেকে পানির ফোয়ারা বের হতে দেখা গেল। কাফেলার সবাই 'আল্লাহু আকবার' ধ্বনি করে উঠলেন। এ ধ্বনি শুনে ফিরে যাওয়া লোকেরা এদিকে মনোযোগ দিলেন। তখন আব্দুল মুত্তালিব তাদেরকে ডেকে বললেন: আল্লাহ আমাদের পানি দিয়েছেন তোমরা এ থেকে পানি নিয়ে নাও। তাঁরা ফিরে এসে পানি নিয়ে নিলেন এবং আব্দুল মুত্তালিবকে বললেন- হে আব্দুল মুত্তালিব আমাদের ফায়সালা হয়ে গেছে, আমাদের আর গণকের নিকট যাবার প্রয়োজন নেই, চলুন আমরা ফিরে যাই। আপনি এই মুহূর্তে যেমন আমাদের পানি দিয়েছেন, সেরূপভাবে যমযমের পানি আমাদের দিবেন এটা স্বাভাবিক। এ কঠিন বিপদে আব্দুল মুত্তালিব তাঁর একটি ছেলে কুরবানি দেবার মান্নত করেছিলেন। (সীরাতে ইবন হিশাম সংক্ষেপিত।)

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00