📄 প্রজ্ঞা
১৬৯. মহান আল্লাহ বলেন:
يُؤْتِي الْحِكْمَةَ مَنْ يَشَاءُ وَمَنْ يُؤْتَ الْحِكْمَةَ فَقَدْ أُوتِيَ خَيْرًا كَثِيرًا .
অর্থঃ 'তিনি যাকে খুশী তাকে প্রজ্ঞা দান করেন এবং যাকেই প্রজ্ঞা দান করা হয়, তাকে প্রভূত কল্যাণ দান করা হয়।' (সূরা আল-বাক্বারা- ২ঃ ২৬৯)
📄 বিতর
১৭০. যাইদ ইবনে খালিদ বর্ণনা করেন যে, নবী করীম ﷺ ইরশাদ করেন
خَيْرُ الشُّهُودِ مَنْ أَدَّ شَهَادَتَهُ قَبْلَ أَنْ يُسْأَلَهَا
অর্থ: সর্বোত্তম সাক্ষ্যদাতা যে, চাওয়ার আগে সাক্ষ্য দেয়।
১৭১. জাবির (রা) বর্ণনা করেন, রাসূল ﷺ ইরশাদ করেন:
مَنْ خَافَ أَنْ لَا يَقُومَ مِنْ أَخِرِ اللَّيْلِ فَلْيُوتِرُ أَوَّلَهُ وَمَنْ طَمِعَ أَنْ يَقُومَ آخِرَهُ فَلْيُوتِرُ آخِرَ اللَّيْلَ فَإِنَّ صَلَاةَ آخِرِ اللَّيْلِ مَشْهُودَةٌ وَذَلِكَ أَفْضَلُ .
অর্থঃ “যে ভয় পায় যে, সে রাতের শেষ ভাগে জাগ্রত হতে পারবে না, সে যেন রাতের প্রথম ভাগেই বিতর পড়ে নেয়। আর যে ব্যক্তি শেষভাগে জাগ্রহ হওয়ার আশাকরে, সে যেন রাতের শেষ ভাগে বিতর আদায় করে, কেননা শেষ রাতের সালাতের সাক্ষ্য প্রদান করা হয় এবং তা উত্তম।” (সহীহ মুসলিম, খ-১, পৃ-৩৬৪, নং ১৬৫০)
📄 নারী
১৭২. মহান আল্লাহ ইরশাদ করেন-
وَلَا تَنْكِحُوا الْمُشْرِكَاتِ حَتَّى يُؤْمِنَّ وَلَامَةٌ مُؤْمِنَةٌ خَيْرٌ مِنْ مُشْرِكَةٍ وَلَوْ أَعْجَبَتْكُمْ .
অর্থ: 'মুশরিক নারীদের বিয়ে কোরোনা যতক্ষণ না তারা ঈমানদার হয়। বস্তুত একজন ঈমানদার ক্রীতদাসী নারী মুশরিক (স্বাধীন) নারীর চাইতেও উত্তম যদিও সে তোমাদেরকে চমৎকৃত করে।' (সূরা আল-বাকারা- ২: ২২১)
১৭৩. মহান আল্লাহ আরো বলেনঃ
وَلَا نِسَاءٌ مِنْ نِسَاءٍ عَسَى أَنْ يَكُنَّ خَيْرًا مِنْهُنَّ
অর্থ: 'নারীদের অপর নারীদের উপহাস করা উচিত নয়, কেননা উপহাস কারীদের চাইতে উপহাসকৃতরা উত্তমও হতে পারে।' (সূরা আল-হুজুরাত- ৪৯ : ১১)
১৭৪. ইবন আব্বাস (রা) বলেন যে, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন:
أَفْضَلُ نِسَاءِ أَهْلِ الْجَنَّةِ خَدِيجَةُ بِنْتُ خُوَيْلِدٍ ، وَفَاطِمَةُ بِنْتُ مُحَمَّدٍ ، وَمَرْيَمُ بِنْتُ عِمْرَانَ وَاسِيَةٌ بِنْتُ مُزَاحِمٍ ، امْرَأَةٌ فِرْعَوْنَ .
অর্থ : 'জান্নাতের সর্বোত্তম নারীগণ হলেন খাদীজা বিনতে খুয়াইলিদ, ফাতিমা বিনতে মুহাম্মাদ, মারইয়াম বিনতে ইমরান আসিয়া বিনতে মুজাহিম- ফিরআউনের স্ত্রী। (সুনানে আহমাদ, হাকীম, আত্তাবারানী ফিল কবীর, মিশকাতুল মাসাবীহ, খ-২, নং ১৩৬১)
১৭৫. আব্দুল্লাহ ইবন আমর বর্ণনা করেন যে, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন:
إِنَّمَا الدُّنْيَا مَتَاعٌ وَلَيْسَ مِنْ مَتَاعِ الدُّنْيَا شَيْءٍ أَفْضَلَ مِنَ الْمَرَأَةِ الصَّالِحَةِ .
অর্থ: 'দুনিয়া (সন্তুষ্টির) সম্পদ, এবং সর্বোত্তম সম্পদ হলো দ্বীনদার স্ত্রী।” (সহীহ মুসলিম, খ-২, পৃ ৭৫২ নং ৩৪৬৫) ইবন মাজাহ)
১৭৬. সালমান ইবন ইয়ামার (রা) থেকে বর্ণিত নবী করীম ﷺ ইরশাদ করেন : خَيْرُ نِسَائِكُمُ الْوَلُودُ الْوَدُودُ
অর্থঃ “তোমাদের সর্বোত্তম স্ত্রীগণ হলেন যারা অধিক সন্তানদাত্রী এবং ভালবাসায় অগ্রগামী। " (ইবনুস সাকান, আল-বাগাভী, আন নাসায়ী মাকাল ইবন ইয়াসার থেকে।)
১৭৭. আবু হুরাইরা (রা) রাসূল ﷺ কে বলতে শুনেছেন, তিনি বলেন:
خَيْرُ نِسَاء رَكِبْنَ الْإِبِلَ صَالِحُ نِسَاءِ قَرَيْشٍ أَحْنَاهُ عَلَى وَلَدٍ فِي صِغَرِهِ وَأَرْعَاهُ عَلَى زَوْجٍ فِي ذَاتِ يَدِهِ .
অর্থ: 'সর্বোত্তম নারী হলো কুরাইশ বংশের দ্বীনদার মহিলা যারা উটনীতে আরোহণ করতে পারে। তারা শিশুদের প্রতি অত্যন্ত স্নেহশীল এবং তাদের স্বামীদের সম্পদের সর্বোৎকৃষ্ট হিফাযতকারী।' (সহীহ আল-বুখারী, খ-৭, পৃ-১২, ১৩ নং ১৯)
১৭৮. হযরত আবু হুরাইরাহ (রা) থেকে বর্ণিত যে, রাসূল ﷺ কে জিজ্ঞেস করা হয়েছিল:
قِيلَ لِرَسُولِ اللهِ ﷺ : أَيُّ النِّسَاءِ خَيْرٌ؟ قَالَ : (الَّتِي تَسُرُّهُ إِذَا نَظَرَ، وَتُطِيعُهُ إِذَا أَمَرَ، وَلَا تُخَالِفُهُ فِي نَفْسِهَا وَلَا مَالِهَا بِمَا يَكْرَهُ .
অর্থঃ 'নারীদের মধ্যে কারা সর্বোত্তম?' তিনি উত্তর দিলেন যে নারীর দিকে তাকালে তার স্বামী আনন্দিত হয়, যখন তাকে কোন আদেশ করা হয় তখন তা পালন করে এবং তার স্বামীর অসন্তুষ্টির ভয়ে তার নিজের সত্তা ও সম্পদের ব্যাপারে স্বামীর বিরোধিতা করে না।' (সুনানে নাসায়ী, বায়হাকী ফী শুয়াবিল ঈমান, মিশকাতুল মাসাবীহ, খ-২, পৃ- ৯৭২, নং ৩২৭২)
টিকাঃ
১০২. নবী করীম ﷺ এর প্রথমা স্ত্রী। তিনি মক্কার একজন ধনাঢ্য মহিলা ও সম্ভ্রান্ত ব্যবসায়ী ছিলেন। রাসূল ﷺ এর বিশ্বস্ততার খ্যাতি শুনে তিনি তাঁকে তাঁর ব্যবসা পরিচালনার দায়িত্বার্পণ করেন। তাঁর আর্থিক বিষয়াদি পরিচালনায় রাসূল ﷺ এর সততা পর্যবেক্ষণের পর তিনি তাঁর নিকট বিয়ের প্রস্তাব পাঠান। হযরত মুহাম্মাদ ﷺ ঐ সময়ে ২৫ বছর বয়সের যুবক হওয়া সত্ত্বেও তাঁর চেয়ে ১৫ বছরের বেশি বয়স্কা বিধবা মহিলার প্রস্তাব গ্রহণ করেন। এর ১৫ বছর পর যখন তিনি অহী লাভ করেন তখন খাদীজা (রা) প্রথম তাঁকে বিশ্বাস করেন (ঈমান আনেন) এবং তাঁকে সমর্থন করেন। কুরাইশ কর্তৃক অর্থনৈতিক ও সামাজিক বয়কটের সংকটময় সময়ে তিনি পঁয়ষট্টি বছর বয়সে মক্কায় ইন্তিকাল করেন। তাঁর ঔরসে রাসূল ﷺ এর দু'সন্তান আল-কাসিম এবং আত্তাইয়িব জন্ম নেন এবং শিশুকালেই ইন্তিকাল করেন। এ ছাড়াও চার কন্যা জয়নাব, রুকাইয়া, উম্মে কুলসুম এবং ফাতিমা (রা) তাঁর সন্তান যাঁরা রাসূল ﷺ এর বংশপরিচয় বহন করেছেন।
১০৩. নবী করীম ﷺ এর কন্যাদের মধ্যে সর্বকনিষ্ঠ। রাসূল ﷺ এর চাচাত ভাই আলী ইবন আবু তালিব (রা)-এর সঙ্গে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন। তাঁর পিতা-মাতা এবং দাদা মারা যাবার পর রাসূল ﷺ তাঁকে লালন-পালন করেন। তিনি ৬৩৩ খ্রি. রাসূল ﷺ-এর ইন্তিকালের মাত্র কয়েকমাস পরে মদিনায় ইন্তিকাল করেন। তিনি দু'পুত্র হাসান এবং হুসাইন এবং দু'কন্যা জয়নাব এবং উম্মে কুলসুমদের রেখে যান।
১০৪. ঈসা (আ)-এর মাতা। তাঁকে ইমরানের কন্যা বলে উল্লেখ করা হয়। আল-কুরআনে ৬৬ : ১২, এবং ১৯ : ২৮ এ হারুন এর বোন। এবং তাঁর মাকে ইমরানের স্ত্রী বলে ৩ঃ ৩৫ সম্বোধন করা হয়েছে। ইমরানের ঘরে মুসা এবং হারুন নামে দু'জন নবী যার পিতা ছিলেন ইমরান (বাইবেলের Amran) হারুনের পরবর্তী বংশধর ছিলেন ইসরাঈলের পাদরী সম্প্রদায়। এভাবে রঞ্জিত যোহন, যাদের পিতা-মাতা একই বংশের। এভাবে মারইয়ামকে ইমরানের কন্যা উল্লেখ করা শাব্দিক দিকে নয় বরং রূপান্তরিক। অতীত কালে কোন ব্যক্তিকে তার পূর্ববর্তী প্রসিদ্ধ কোন ব্যক্তির সাথে জুড়ে উল্লেখ করা হত।
১০৫. যে ফিরআউনের নিকট ঈসা (আ) প্রেরিত হয়েছিলেন এবং যার সঙ্গে তিনি যুদ্ধ করেছিলেন তাঁর স্ত্রী। আল-কুরআনে তাঁকে অত্যুচ্চ মানে ঈমানদার বলে উল্লেখ করা হয়েছে। (৬৬: ১১) তাফসীরে উল্লেখ করা হয়েছে যে, ঈমান আনার অপরাধে ফিরআউন তাঁকে শাস্তি দিয়ে হত্যা করে। (তাফসীরে ইবন কাছীর, খ-৪, পৃ-৪২০)
১০৬. রাসূল আরো বলেন: নারীদের ৪টি গুণের কারণে বিয়ে করা হয়: তাদের সম্পদ, বংশ মর্যাদা, সৌন্দর্য এবং দ্বীনদারী। তুমি ধার্মিক দেখে বিয়ে কর তাহলে তুমি সন্তুষ্ট হতে পারবে। (সহীহ আল-বুখারী, খ-৭, পৃ- ১৮-১৯ নং ২৭, সহীহ মুসলিম, খ-২, পৃ-৭৪৯ নং ৩৪৫৭, সুনানে আবু দাউদ খ-২, পৃ-৫৪৪-৫৪৫ নং ২০৪২)
১০৭. বিয়ের পাত্র/পাত্রী নির্বাচনে নারী-পুরুষকে বেশি সন্তান দানে সক্ষম উর্বর দেখার প্রতি উৎসাহিত করা হয়েছে। এভাবে তার পরিবারের উভয় দিক চিনে নিতে বলা হয়েছে। যেমন কোন নারীর অধিক সন্তান হলে ধরে নেয়া যেতে পারে যে, তার সন্তানও অনুরূপ অধিক সন্তান জন্মদানে সক্ষম হবে। বিয়ের পর যদি এরূপ নারী সন্তান দানে সক্ষম না হয় তাহলে এটা হলো তাকদীর যা স্বামীকে মেনে নিতে হবে। যদি চিকিৎসা অথবা অন্য কোনভাবেও সেই স্ত্রী সন্তান গ্রহণে সক্ষম না হয় তাহলে ঐ স্বামী দ্বিতীয় স্ত্রী গ্রহণ করতে পারে যেমন নবী হযরত ইবরাহীম (আ) করেছিলেন, যদি তিনি আর্থিকভাবে একাধিক ঘর দেবার সামর্থ্য রাখেন। নারীর ক্ষেত্রে হয়তো তিনি কারো সন্তান লালন-পালন করতে পারেন অথবা স্বামীকে তালাক দিতে পারেন যদি তিনি তার মাতৃত্বকে দমন করতে সক্ষম না হন।
দ্বিতীয় গুণ যা হলো স্নেহ-ভালবাসা, এটা শিশু লালন-পালনের জন্য খুবই জরুরি। স্নেহশীল মা তার শিশুকে যথাযথ বেড়ে উঠার ক্ষেত্রে যে যত্ন দেয়া প্রয়োজন তা দিতে কখনো পিছপা হন না। তার মর্যাদাবোধ এবং কোমলতা শিশুদের ব্যক্তিত্বের ওপর প্রভাব ফেলবে। ফলে পুরুষদের শিশুদের জন্য উপযুক্ত মা খুঁজতে উৎসাহিত করা হয়েছে এবং এটা শুধু আধ্যাত্মিক বিষয়ের সাথে সংশ্লিষ্ট নয় বরং তা বাস্তব এবং মনস্তাত্ত্বিকও বটে।
১০৮. মক্কার মূল বংশের অন্তর্গত কুরাইশ বংশ, নবী মুহাম্মাদ ﷺ এই বংশের হাশেমী শাখার ছিলেন।
১০৯. এ বর্ণনায় মুসলিম নারীর দুটি ভাল গুণের উল্লেখ পাওয়া যায়, বিয়ের ক্ষেত্রে যা বিবেচনা করা উচিত। ক. শিশুদের প্রতি দয়া। খ. স্বামীদের সম্পদের প্রতি দায়িত্ববোধ।
এ গুণগুলো বিয়েপূর্ব আলোচনা অথবা পারিবারিক অবস্থার খোঁজ-খবর এর মধ্যে জেনে নিতে হবে।
১১০. সে সর্বদা স্বামীর সামনে হাসিমুখ থাকে, বিশেষ করে যখন কাজ অথবা সফর থেকে বাড়ি ফিরে আসে তখন।
১১১. তবে সে যদি হারাম কাজের আদেশ দেয় তা পালন করবে না। কেননা-
لا طَاعَةَ لِمَخْلُوقٍ فِي مَعْصِيَةِ الْخَالِقِ .
অর্থ : 'স্রষ্টার বিরোধিতা হয় এমন কোন ক্ষেত্রে কোন সৃষ্টির আনুগত্য করা যাবে না।' চাই সে স্বামী, সন্তান, পিতা-মাতা যে-ই হোক না কেন। এছাড়া যতক্ষণ পর্যন্ত ঐ স্বামী হালাল কাজের নির্দেশ দিবে, তাকে তা পালন করতে হবে, যদিও তার ব্যক্তিগত অপছন্দের বিষয় হোক না কেন। এটা অগ্রাধিকার যোগ্য যে, স্বামী-স্ত্রী তাদের পারস্পরিক পছন্দ অপছন্দের বিষয়গুলো জানিয়ে রাখবেন যাতে যেকোন ধরনের অসহিষ্ণু অবস্থা এড়িয়ে চলা যায়।
📄 কথা
১৭৯. মহান আল্লাহ ইরশাদ করেনঃ
قَوْلُ مَعْرُوفٌ وَمَغْفِرَةٌ خَيْرٌ مِّنْ صَدَقَةٍ يَتْبَعُهَا أَذِى
অর্থ: 'সুন্দর কথা এবং ত্রুটি মার্জনা করা, দান করে কষ্ট দেয়ার চাইতে ভাল।' (সূরা আল বাকারা- ২: ২৬৩)