📘 ইসলামে সর্বোত্তম > 📄 বক্তৃতা

📄 বক্তৃতা


১৬১. সর্বশক্তিমান আল্লাহ বলেন:
وَمَنْ أَحْسَنُ قَوْلاً مِّمَّنْ دَعَا إِلَى اللَّهِ وَعَمِلَ صَالِحًا وَقَالَ إِنَّنِي مِنَ الْمُسْلِمِينَ .
অর্থঃ “তার কথার চেয়ে কার কথা উত্তম যে আল্লাহর দিকে আহ্বান (মানুষকে) করে, স্বয়ং সৎ কাজ করে এবং বলে 'আমি একজন মুসলিম।' (সূরা ফুসসিলাত-৪১:৩৩)

১৬২. আবু হুরাইরা (রা) থেকে বর্ণিত, প্রিয়নবী করীম ﷺ ইরশাদ করেন:
خَيْرُ الْكَلَامِ أَرْبَعَ ، لَا يَضُرُّكَ بِأَيِّهِنَّ بَدَأْتَ : سُبْحَانَ اللهِ ، وَالْحَمْدُ لِلَّهِ ، وَلَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ، وَاللَّهُ أَكْبَرُ
অর্থ: নিচের চারটি হলো সর্বোত্তম কালাম। এর যেকোন একটির দ্বারা শুরু করাতে কোন দোষ নেই।
সুবহানাল্লাহ (আল্লাহ পবিত্র), ওয়ালহামদু লিল্লাহ, (সকল প্রশংসা আল্লাহর), ওয়া লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ (আল্লাহ তায়ালা ব্যতীত ইবাদতের উপযুক্ত আর কোন মা'বুদ নেই।) ওয়াল্লাহু আকবার (আল্লাহ মহান)। (সহীহ মুসলিম, খ-৩, পৃ-১১৭০ নং ৫৩২৯) সুনানে আহমাদ, দেখুন : মিশকাতুল মাসাবীহ খ-১, পৃ-৪৮৬)

📘 ইসলামে সর্বোত্তম > 📄 অশ্রু

📄 অশ্রু


১৬৩. মুসাওয়ার ইবন মাখরামাহ এবং মারওয়ান বর্ণনা করেন যে, নবী করীম ﷺ ইরশাদ করেন:
أَحَبُّ الْحَدِيثِ إِلَى أَصْدَقُهُ .
অর্থ : 'আমার নিকট সবচেয়ে প্রিয় কথা হলো তা যা সবচেয়ে সত্য।' (সহীহ আল-বুখারী, খ-৩, পৃ-২৮৫-২৮৬, নং ৫০৩ এবং সুনানে আহমদ)

১৬৪. আবু উমামা বর্ণনা করেন, রাসূল ﷺ বলেন:
لَيْسَ شَيْءٍ أَحَبَّ إِلَى اللهِ مِنْ قَطْرَتَيْنِ وَأَثَرَيْنِ قَطْرَةٌ مِنْ دُمُوعِ فِي خَشْيَةِ اللهِ وَقَطْرَةٌ دَمٍ تُهَرَاقُ فِي سَبِيلِ اللَّهِ وَأَمَّا الْأَثَرُ فِي سَبِيلِ اللَّهِ وَأَثَرٌ فِي فَرِيضَةٍ مِنْ فَرَائِضِ اللَّهِ .
অর্থ : 'আল্লাহর নিকট দুটি ফোঁটা এবং দুটি চিহ্নের চাইতে প্রিয়তম আর বস্তু নেই। ক. একটি অশ্রুর ফোটা যা আল্লাহর ভয়ে পতিত হয়, খ. একটি রক্তের ফোঁটা যা আল্লাহর রাস্তায় ঝরে।
দু'টি চিহ্ন ক-একটি চিহ্ন যা আল্লাহর রাস্তায় অর্জিত হয়। খ. আরেকটি চিহ্ন যা আল্লাহর নির্ধারিত ফরয পালনের দ্বারা অর্জিত হয়। (সুনানে তিরমিজী, খ-২, পৃ-১৩৩, নং ১৩৬৩, দেখুন মিশকাতুল মাসাবীহ, খ-১, পৃ-৮১৪-৮১৫)

টিকাঃ
৯৭. আল্লাহর রাস্তায় আহত বা আঘাত প্রাপ্ত হয়ে চিহ্নিত হওয়া।
৯৮. যেমন সিজদা অথবা পায়ের ওপর ভর করে সালাতের মধ্যে বসার কারণে কপালে চামড়া কাল হয় বা কাল দাগ হওয়া। অনেকের পায়েও হয়।

📘 ইসলামে সর্বোত্তম > 📄 সাক্ষ্য

📄 সাক্ষ্য


১৬৫. জায়দ বিন খালিদ উল্লেখ করেন যে, নবী করীম ﷺ ইরশাদ করেন:
خَيْرُ الشَّهَادَةِ مَا شَهِدَ بِهِ صَاحِبُهُ قَبْلَ أَنْ يُسْأَلَ .. لا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ وَحْدَهُ لَا شَرِيكَ لَهُ
অর্থ: 'সর্বোত্তম সাক্ষ্য হলো ঐ ব্যক্তির সাক্ষ্য যাকে চাওয়ার পূর্বেই সাক্ষ্য দেয়।' (সহীহ মুসলিম, খ-৩, পৃ-৯৩১, নং ৪২৬৮, সুনানে আবু দাউদ, খ-৩, পৃ-১০২০-১০২১ নং ৩৫৮৯, মুয়াত্তা ইমাম মালিক, পৃ-৩১৩ নং ১৩৯৫, আরো দেখুন : মিশকাতুল মাসাবীহ, খ-১, পৃ-৮০)

টিকাঃ
৯৯. এ সাক্ষ্য হলো ন্যায়বিচারের প্রয়োজনে চাওয়ার পূর্বে যে সাক্ষ্য দেয়া হয় ব্যক্তির নিকট চাওয়ার পূর্বেই। এটা আল্লাহর নিট পছন্দনীয় এ সাক্ষ্য দেয়া পূর্ববর্তী ৬২ নং হাদীসের সাক্ষ্য দেয়ার বিপরীত। তা ছিল মিথ্যা সাক্ষ্য দেয়া। উলামা হযরত অন্য ব্যাখ্যাও দিয়েছেন। দেখুন: ফতহুল বারী, খ-৭, পৃ-১০৪, ১০৫)

📘 ইসলামে সর্বোত্তম > 📄 সময়

📄 সময়


১৬৬. আমর ইবন আবসাহ রাসূল ﷺ কে বলতে শুনেছেন এভাবেঃ
أفْضَلُ السَّاعَاتِ جَوْفُ اللَّيْلِ الْأَخِيرِ .
অর্থঃ “সর্বোত্তম সময় হলো (নফল সালাতের) রাতের শেষ ভাগ।” (তাবারানী ফিল কবীর, দেখুন: মিশকাতুল মাসাবীহ খ-১, পৃ-১৫-১৬)

১৬৭. জাবির (রা) নবী করীম ﷺ থেকে বলতে শুনেছেন:
إِنْ أَحْسَنَ مَا دَخَلَ الرَّجُلُ عَلَى أَهْلِهِ إِذَا قَدِمَ مِنْ سَفَرٍ أَوَّلَ اللَّيْلِ
অর্থ : 'কোন সফর থেকে কোন ব্যক্তির, তার নিজ পরিবারের নিকট ফিরে আসার সর্বোত্তম সময় হলো রাতের শুরুতে।' (সহীহ আল-বুখারী, মুসলিম, সুনানে আবু দাউদ, খ-২, পৃ-৭৭৯, নং ২৭৭২)

টিকাঃ
১০০. আবশ্যিক ভোরের সালাত, সালাতুল ফজর খুবই কষ্টকর কারণ তাকে শক্তিশালী প্রাকৃতিক চাহিদা ঘুমের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতে হয়। আর রাতের শেষভাগে তাহাজ্জুদ সালাতের জন্য জাগরিত হওয়া আরো কঠিন কাজ। আর বেশি কঠিন বলেই এ সময়ের গুরুত্ব সর্বাধিক। এ সময়ে জাগরিত হয়ে ইবাদত করা, মাগফিরাত কামনা করা, আল্লাহকে স্মরণ করে অশ্রুপাত করা আল্লাহর প্রিয় হওয়ার সর্বোত্তম পথ।
১০১. নবী করীম ﷺ স্বামীদের অনেক রাত্রে তাদের বাড়িতে ফেরার অনুমতি দান করেন নি যাতে তারা তাদের স্ত্রীদের অপ্রস্তুত অবস্থায় না পায় (সুনানে আবু দাউদ হাদীস নং-২৭৭০ এবং ২৭৭২) পুরুষদের সঠিক সময়ে সকাল অথবা সন্ধ্যায় ফিরে আসার জন্য বিলম্ব করা উচিত। নারীদের উৎসাহিত করা হয়েছে যাতে তারা তাদের স্বামীদের উষ্ণ অভ্যর্থনা জানাতে পারে যাতে তাদের মধ্যে রোমান্টিক অনুভূতি জীবন্ত থাকে। এ হাদীস থেকে পরিষ্কার হয়ে গেল যে, পুরুষদের সফর থেকে ঘরে ফেরার উপযুক্ত সময় সূর্যাস্তের পরপর যখন মহিলারা ঘুমানোর পূর্বে বিশ্রামে থাকে, তারা স্বামীদের স্বাগতম জানাতে পারে।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00