📘 ইসলামে সর্বোত্তম > 📄 দুয়া

📄 দুয়া


১৫৭. আবু উমামাহ থেকে বর্ণিত যে, কেউ আল্লাহর রাসূলকে জিজ্ঞেস করলেন:
يَا رَسُولَ اللهِ ﷺ أَيُّ الدُّعَاءِ أَسْمَعُ؟ قَالَ : جَوْفَ اللَّيْلِ الْآخِرِ ودبرَ الصَّلَوَاتِ الْمَكْتُوبَاتِ .
অর্থ : 'হে আল্লাহর রাসূল! কোন দুয়া কবুল হওয়ার জন্য সর্বোত্তম? তিনি উত্তর দিলেন: 'ঐ দুয়া যেগুলো রাতের মধ্যভাগে (সাধারণত তাহাজ্জুদের পর) এবং ফরজ সালাতের পরে করা হয়।' (সুনানে তিরমিজী, খ-৩, পৃ-১৬৭-১৬৮, নং ২৭৮২, দেখুন : মিশকাতুল মাসাবীহ, খ-১ম পৃ-২৫৭)

১৫৮. জাবির (রা) থেকে বর্ণিত। রাসূল ইরশাদ করেনঃ
أَفْضَلُ الدُّعَاءِ : الْحَمْدُ لِلَّهِ
অর্থ : 'সর্বোত্তম দুয়া হলো اَلْحَمْدُ لله সব প্রশংসা মহান আল্লাহ তায়ালার জন্য।' (সুনানে তিরমিজী, নার্সায়ী, ইবন মাজা, হাকীম)

১৫৯. তালহা ইবন উবাইদ (রা) বর্ণনা করেন যে, নবী করীম ﷺ ইরশাদ করেন:
أفْضَلُ الدُّعَاءِ دُعَاءُ يَوْمِ عَرَفَةَ ، وَأَفْضَلُ مَا قُلْتُ أَنَا وَالنَّبِيُّونَ مِنْ قَبْلِي : لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ وَحْدَهُ لَا شَرِيكَ لَهُ .
অর্থ: 'সর্বোত্তম দুয়া হলো আরাফার দিনে দুয়া এবং সর্বোত্তম দুয়া হলো যা আমি এবং আমার পূর্ববর্তী নবীগণ বলেছেন তা হলোঃ
لا إلهَ إِلَّا اللهُ وَحْدَهُ لاَ شَرِيكَ لَهُ .
অর্থ: 'আল্লাহ তায়ালা ব্যতীত ইবাদতের উপযুক্ত আর কোন মাবুদ নেই, তিনি এক তাঁর কোন শরিক নেই।' (ইমাম মালিক, দেখুন: মিশকাতুল মাসাবীহ, খ-১, পৃ-৫৫৭)

১৬০. জাবির (রা) হতে বর্ণিত যে, নবী করীম ﷺ তাদেরকে প্রায়ই সব কাজে ইস্তিখারা (ভাল বাছাই করার সালাত ও দুয়া) করার শিক্ষা দিতেন যেমনভাবে কোন সূরা শিক্ষা দিতেন। (তিনি বলতেন) যদি তোমাদের কেউ কোন বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে চায় সে যেন দু'রাকআত সালাত আদায় করে, অতঃপর বলবেঃ
اللَّهُمَّ إِنِّي أَسْتَخِيرُكَ بِعِلْمِكَ، وَأَسْتَقْدِرُكَ بِقُدْرَتِكَ ، وَأَسْأَلُكَ مِنْ فَضْلِكَ الْعَظِيمِ .
অর্থঃ 'হে আল্লাহ! আমি আমার জন্য যা ভাল হবে তার জন্য তোমার নিকট তোমার (অশেষ) জ্ঞান থেকে নির্দেশনা চাই, আমি তোমার (অশেষ) ক্ষমা থেকে সাহায্য চাই, আমি তোমার (অশেষ) রহমত থেকে তোমার রহমত চাই।'
فَإِنَّكَ تَقْدِرُ وَلَا أَقْدِرُ، وَتَعْلَمُ وَلَا أَعْلَمُ ، وَأَنْتَ عَلامُ الْغُيُوبِ .
অর্থঃ 'কেননা তুমি সক্ষম, আমি অক্ষম, তুমি জান, আমি জানি না, এবং তুমিই একমাত্র অদৃশ্য সম্পর্কে জ্ঞানী।'
اللَّهُمَّ إِنْ كُنْتَ تَعْلَمُ أَنَّ هَذَا الْأَمْرَ خَيْرٌ لِي فِي دِينِي وَمَعَاشِى وَعَاقِبَةِ أَمْرِى - أَوْ قَالَ : فِي عَاجِلِ أَمْرِي وَآجِلِهِ .
অর্থ : 'হে আল্লাহ! যদি আপনি এ কাজ আমার দ্বীন এবং জীবিকার জন্য এবং আমার ভবিষ্যতের জন্য ভাল মনে করেন।' (স্বল্প বা দীর্ঘমেয়াদী)
فَاقْدُرْهُ لِي وَيَسْرْهُ لِي ثُمَّ بَارِكْ لِي فِيهِ
অর্থঃ 'তাহলে তা আমার জন্য নির্ধারণ করে দিন এবং আমার জন্য তাকে সহজ করে দিন এবং এতে আমার ওপরে আপনার করুণা বর্ষণ করুন।'
وَإِنْ كُنْتَ تَعْلَمُ أَنَّ هَذَا الْأَمْرَ شَرٌّ لِي فِي دِينِي وَمَعَاشِي وَعَاقِبَةِ أمْرِي - أَوْ قَالَ : فِي عَاجِلِ أَمْرِي وَأَجِلِهِ
অর্থ : 'তবে যদি তুমি এটা আমার দ্বীন এবং জীবিকার জন্য এবং আমার ভবিষ্যতের জন্য (তা স্বল্প বা দীর্ঘমেয়াদী হোক) ক্ষতিকর মনে হয়।'
فَاصْرِقْهُ عَنِّى وَاصْرِفْنِي عَنْهُ ، وَاقْدُرْ لِي الْخَيْرَ حَيْثُ كَانَ ثُمَّ رَبِّنِي بِهِ .
অর্থ : 'তাহলে তাকে আমার থেকে দূরে সরিয়ে দিন এবং আমাকেও তা থেকে দূরে সরিয়ে নিন, এবং আমার জন্য তাই নির্ধারণ করুন যা আমার জন্য ভাল, যেখানেই তা থাকুক এবং তা নিয়ে আমাকে সন্তুষ্ট থাকার তাওফীক দান করুন।' (সহীহ আল-বুখারী, খ-৮, পৃ- ২৫৯-৬০ নং ৩৯১, সুনানে আবু দাউদ, নাসায়ী, তিরমিজী, ইবন মাজা, আহমাদ)

📘 ইসলামে সর্বোত্তম > 📄 বক্তৃতা

📄 বক্তৃতা


১৬১. সর্বশক্তিমান আল্লাহ বলেন:
وَمَنْ أَحْسَنُ قَوْلاً مِّمَّنْ دَعَا إِلَى اللَّهِ وَعَمِلَ صَالِحًا وَقَالَ إِنَّنِي مِنَ الْمُسْلِمِينَ .
অর্থঃ “তার কথার চেয়ে কার কথা উত্তম যে আল্লাহর দিকে আহ্বান (মানুষকে) করে, স্বয়ং সৎ কাজ করে এবং বলে 'আমি একজন মুসলিম।' (সূরা ফুসসিলাত-৪১:৩৩)

১৬২. আবু হুরাইরা (রা) থেকে বর্ণিত, প্রিয়নবী করীম ﷺ ইরশাদ করেন:
خَيْرُ الْكَلَامِ أَرْبَعَ ، لَا يَضُرُّكَ بِأَيِّهِنَّ بَدَأْتَ : سُبْحَانَ اللهِ ، وَالْحَمْدُ لِلَّهِ ، وَلَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ، وَاللَّهُ أَكْبَرُ
অর্থ: নিচের চারটি হলো সর্বোত্তম কালাম। এর যেকোন একটির দ্বারা শুরু করাতে কোন দোষ নেই।
সুবহানাল্লাহ (আল্লাহ পবিত্র), ওয়ালহামদু লিল্লাহ, (সকল প্রশংসা আল্লাহর), ওয়া লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ (আল্লাহ তায়ালা ব্যতীত ইবাদতের উপযুক্ত আর কোন মা'বুদ নেই।) ওয়াল্লাহু আকবার (আল্লাহ মহান)। (সহীহ মুসলিম, খ-৩, পৃ-১১৭০ নং ৫৩২৯) সুনানে আহমাদ, দেখুন : মিশকাতুল মাসাবীহ খ-১, পৃ-৪৮৬)

📘 ইসলামে সর্বোত্তম > 📄 অশ্রু

📄 অশ্রু


১৬৩. মুসাওয়ার ইবন মাখরামাহ এবং মারওয়ান বর্ণনা করেন যে, নবী করীম ﷺ ইরশাদ করেন:
أَحَبُّ الْحَدِيثِ إِلَى أَصْدَقُهُ .
অর্থ : 'আমার নিকট সবচেয়ে প্রিয় কথা হলো তা যা সবচেয়ে সত্য।' (সহীহ আল-বুখারী, খ-৩, পৃ-২৮৫-২৮৬, নং ৫০৩ এবং সুনানে আহমদ)

১৬৪. আবু উমামা বর্ণনা করেন, রাসূল ﷺ বলেন:
لَيْسَ شَيْءٍ أَحَبَّ إِلَى اللهِ مِنْ قَطْرَتَيْنِ وَأَثَرَيْنِ قَطْرَةٌ مِنْ دُمُوعِ فِي خَشْيَةِ اللهِ وَقَطْرَةٌ دَمٍ تُهَرَاقُ فِي سَبِيلِ اللَّهِ وَأَمَّا الْأَثَرُ فِي سَبِيلِ اللَّهِ وَأَثَرٌ فِي فَرِيضَةٍ مِنْ فَرَائِضِ اللَّهِ .
অর্থ : 'আল্লাহর নিকট দুটি ফোঁটা এবং দুটি চিহ্নের চাইতে প্রিয়তম আর বস্তু নেই। ক. একটি অশ্রুর ফোটা যা আল্লাহর ভয়ে পতিত হয়, খ. একটি রক্তের ফোঁটা যা আল্লাহর রাস্তায় ঝরে।
দু'টি চিহ্ন ক-একটি চিহ্ন যা আল্লাহর রাস্তায় অর্জিত হয়। খ. আরেকটি চিহ্ন যা আল্লাহর নির্ধারিত ফরয পালনের দ্বারা অর্জিত হয়। (সুনানে তিরমিজী, খ-২, পৃ-১৩৩, নং ১৩৬৩, দেখুন মিশকাতুল মাসাবীহ, খ-১, পৃ-৮১৪-৮১৫)

টিকাঃ
৯৭. আল্লাহর রাস্তায় আহত বা আঘাত প্রাপ্ত হয়ে চিহ্নিত হওয়া।
৯৮. যেমন সিজদা অথবা পায়ের ওপর ভর করে সালাতের মধ্যে বসার কারণে কপালে চামড়া কাল হয় বা কাল দাগ হওয়া। অনেকের পায়েও হয়।

📘 ইসলামে সর্বোত্তম > 📄 সাক্ষ্য

📄 সাক্ষ্য


১৬৫. জায়দ বিন খালিদ উল্লেখ করেন যে, নবী করীম ﷺ ইরশাদ করেন:
خَيْرُ الشَّهَادَةِ مَا شَهِدَ بِهِ صَاحِبُهُ قَبْلَ أَنْ يُسْأَلَ .. لا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ وَحْدَهُ لَا شَرِيكَ لَهُ
অর্থ: 'সর্বোত্তম সাক্ষ্য হলো ঐ ব্যক্তির সাক্ষ্য যাকে চাওয়ার পূর্বেই সাক্ষ্য দেয়।' (সহীহ মুসলিম, খ-৩, পৃ-৯৩১, নং ৪২৬৮, সুনানে আবু দাউদ, খ-৩, পৃ-১০২০-১০২১ নং ৩৫৮৯, মুয়াত্তা ইমাম মালিক, পৃ-৩১৩ নং ১৩৯৫, আরো দেখুন : মিশকাতুল মাসাবীহ, খ-১, পৃ-৮০)

টিকাঃ
৯৯. এ সাক্ষ্য হলো ন্যায়বিচারের প্রয়োজনে চাওয়ার পূর্বে যে সাক্ষ্য দেয়া হয় ব্যক্তির নিকট চাওয়ার পূর্বেই। এটা আল্লাহর নিট পছন্দনীয় এ সাক্ষ্য দেয়া পূর্ববর্তী ৬২ নং হাদীসের সাক্ষ্য দেয়ার বিপরীত। তা ছিল মিথ্যা সাক্ষ্য দেয়া। উলামা হযরত অন্য ব্যাখ্যাও দিয়েছেন। দেখুন: ফতহুল বারী, খ-৭, পৃ-১০৪, ১০৫)

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00