📄 আল্লাহর যিকির
১৪৫. আয়িশা (রা) বর্ণনা করেন যে, নবী করীম ﷺ তাকে দেখলেন একজন মহিলা তার সঙ্গে (আসাদ গোত্রের মহিলা বলে সহীহ মুসলিম-এর খ-১, পৃ-৩৭৭, নং ১৯১০ এ উল্লেখ পাওয়া যায়)। রাসূল ﷺ জিজ্ঞেস করলেন তার পরিচয় কি? আয়িশা (রা) বললেন: তিনি অমুক অমুক এবং তাঁর দীর্ঘ সালাতের বিষয়ও উল্লেখ করলেন। তিনি অসম্মতভাবে উত্তর দিলেন:
مَهُ ، عَلَيْكُمْ بِمَا تُطِيقُونَ فَوَاللَّهِ لَا يَمَلُّ اللَّهُ حَتَّى تَمَلُّوا وَكَانَ أَحَبُّ الدِّينِ إِلَيْهِ مَادَامَ عَلَيْهِ صَاحِبُهُ .
অর্থঃ 'এমন কাজ কর যার বোঝা বহন করার ক্ষমতা তুমি রাখ। তোমরা ভাল কাজ করতে গিয়ে ক্লান্ত হলেও আল্লাহ তার প্রতিদান দিতে ক্লান্ত হন না। আল্লাহর নিকট দ্বীনের ঐ অংশ বেশি প্রিয় যে অংশ নিয়মিত করা হয়।' (সহীহ আল-বুখারী, খ-১, পৃ-৩৭, ৩৬, নং ৪১)
১৪৬. আব্দুল্লাহ ইবন বুসর (রা) বর্ণনা করেন যে, নবী করীম ﷺ ইরশাদ করেন:
خَيْرُ الْعَمَلِ أَنْ تُفَارِقَ الدُّنْيَا وَلِسَانُكَ رَطْبٌ مِّنْ ذِكْرِ اللَّهِ
অর্থঃ 'সর্বোত্তম আমল হল এমনভাবে দুনিয়া ত্যাগ করা যে, তোমার জিহ্বা যেন আল্লাহর যিকিরের দ্বারা তরতাজা থাকে।' (আবু নুয়াইম ফিল হিলইয়া, দেখুন : মিশকাতুল মাসাবীহ খ-১, পৃ-৪৭৯)
১৪৭. জাবির (রা) উল্লেখ করেন যে, নবী হযরত মুহাম্মাদ ﷺ ইরশাদ করেন:
أَفْضَلُ الذِّكْرِ : لاَ إِلَهَ إِلَّا اللهُ
অর্থ: 'সর্বোত্তম যিকির হলো- لَا إِلَهَ إِلَّا الله 'আল্লাহ ছাড়া আর কোন মাবুদ নাই।' (সুনানে তিরমিজী, নাসায়ী, ইবন মার্জা, হাকীম)
১৪৮. আবু যর (রা) থেকে বর্ণিত, আল্লাহর রাসূল ﷺ-কে জিজ্ঞেস করা হলো:
أَيُّ الْكَلَامِ أَفْضَلُ؟ قَالَ : مَا اصْطَفَى اللَّهُ لِمَلَائِكَتِهِ أَوْ لِعِبَادِهِ : سُبْحَانَ اللَّهِ وَبِحَمْدِهِ
অর্থ : 'সর্বোত্তম বাক্য কোনগুলো? তিনি উত্তর দিলেন, যে বাক্যগুলো আল্লাহ তাঁর বান্দা এবং ফেরেশতাদের জন্য বাছাই করেছেন, সেগুলো হলো سُبْحَانَ الله وَبِحَمْدِهِ, পবিত্রতা মহান আল্লাহর এবং প্রশংসা তাঁরই।' (সহীহ মুসলিম, খ-৪, পৃ-১৪২৯, নং ৬৫৮৬)
১৪৯. আইদার উম্মুল হাকাম অথবা দুবায়াহ, জুবাইর বিন আব্দুল মুত্তালিব এর কন্যা বর্ণনা করেন:
أصْحَابُ رَسُولِ اللهِ ﷺ سَبْيًّا فَذَهَبْتُ أَنَا وَأُخْتِى وَفَاطِمَةُ بِنْتُ رَسُولِ اللهِ فَشَكَوْنَا إِلَيْهِ مَا نَحْنُ فِيْهِ وَسَأَلْنَاهُ أَنْ يَأْمُرَ لَنَا بِشَيْءٍ مِنَ السَّبْيِ فَقَالَ رَسُولُ اللهِ ﷺ : سَبَقَكُنْ يَتَامَى بَدْرٍ ، لَكِنْ سَادَتُكُنَّ عَلَى مَا هُوَ خَيْرٌ لَكُنَّ مِنْ ذَلِكَ ، تُكَبِّرْنَ اللَّهَ عَلَى إِثْرِ كُلَّ صَلَاةٍ ثَلَاثًا وَثَلاثِينَ تَكْبِيرَةٌ وَثَلاثًا وَثَلاثِينَ تَسْبِيحَةٌ وَثَلاثًا وَثَلاثِينَ تَحْمِيدَةً وَلَا إِلَهَ إِلَّا اللهُ وَحْدَهُ لاَ شَرِيكَ لَهُ ، لَهُ الْمُلْكُ وَلَهُ الْحَمْدُ وَهُوَ عَلَى كُلِّ شَيْءٍ قَدِيرٌ) .
অর্থঃ 'আল্লাহর রাসূলের কন্যা ফাতিমা, আমি এবং আমার বোন আমরা এ তিনজন রাসূল ﷺ এর নিকট গেলাম এবং আমাদের অবস্থা তাঁর নিকট বর্ণনা করলাম। আমরা তাঁর নিকট কিছু নির্দেশনা চাইলাম যাতে আমরা ক্রীতদাস হিসেবে কিছু যুদ্ধবন্দী পেতে পারি। আল্লাহর রাসূল বললেন বদর যুদ্ধের শহীদানদের এতিমগণ এসেছিলেন তোমাদের পূর্বে (এবং তারা যুদ্ধবন্দী চেয়েছিলেন।
তবে আমি তোমাদের এর চেয়ে ভাল জিনিসের সন্ধান দেব। প্রত্যেক সালাতের পরে আল্লাহু আকবার ৩৩ বার, সুবহানাল্লাহ (আল্লাহ পবিত্র) ৩৩ বার, আলহামদুলিল্লাহ (সকল প্রশংসা আল্লাহর) ৩৩ বার এবং লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াহদাহু লা শারীকা লাহু লাহুল মুলকু ওয়া লাহুল হামদু ওয়া হুয়া আলা কুল্লি শাইয়িন কাদীর (আল্লাহ ছাড়া ইবাদতের উপযুক্ত আর কোন মা'বুদ নাই, তিনি এক তাঁর কোন শরিক নেই, রাজত্ব তাঁর, প্রশংসা সবই তাঁর এবং তিনি সবার ওপর ক্ষমতাবান।)' একবার পড়বে। (সুনানে আবু দাউদ, খ-২, পৃ-৮৪৬, নং ২৯৮১)
১৫০. আবু হুরাইরা (রা) থেকে বর্ণিত, মদিনায় হিজরত করে আসা দরিদ্র লোকেরা আল্লাহর রাসূল ﷺ-এর নিকট এসে বললেন:
ذَهَبَ أَهْلُ الذُّنُوْرِ بِالدَّرَجَاتِ الْعُلى وَالنَّعِيمِ الْمُقِيمِ ، فَقَالَ : ( وَمَا ذَاكَ؟ قَالُوا يُصَلُّونَ كَمَا نُصَلِّي وَيَصُومُونَ كَمَا نَصُومُ وَيَتَصَدَّقُونَ وَلَا نَتَصَدَّقُ وَيُعْتِقُونَ وَلَا نُعْتِقُ . فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ : (أَفَلا أُعَلِّمُكُمْ شَيْئًا تُدْرِكُونَ بِهِ مَنْ سَبَقَكُمْ وَتَسْبِقُونَ بِهِ مَنْ بَعْدَكُمْ وَلَا يَكُونُ أَحَدٌ أَفْضَلَ مِنْكُمْ إِلَّا مَنْ صَنَعَ مِثْلَ مَا صَنَعْتُمْ؟ قَالُوا : بَلَى يَا رَسُولَ اللهِ . قَالَ : (تُسَبِّحُونَ وَتُكَبِّرُونَ وَتَحْمَدُونَ دُبُرَ كُلَّ صَلَاةٍ ثَلَاثًا وَثَلاثِينَ مَرَّةً)
অর্থ : 'সম্পদশালী লোকেরা জান্নাতের সর্বোচ্চ স্তরে প্রবেশ করল এবং অসীম আনন্দ লাভ করল। তিনি জিজ্ঞেস করলেন, 'তারা কিভাবে তা করল?” তারা উত্তর দিলেন, 'তারা আমাদের মতই সালাত আদায় করেন এবং আমাদের মতোই সিয়াম পালন করেন, তদুপরি তারা যাকাত প্রদান করেন অথচ আমরা তা পারি না। তাঁরা দাস মুক্ত করেন অথচ আমরা তা পারি না। আল্লাহর রাসূল ﷺ বললেন,
'আমি কি তোমাদের এমন কিছু শিক্ষা দিব না, যার মাধ্যমে তোমরা তাদের ধরতে পারবে যারা তোমাদের অতিক্রম করছে? এবং তোমাদের পিছনে যারা রয়েছে তাদেরও অতিক্রম করছে এবং কেউই তোমাদেরকে অতিক্রম করতে পারবে না শুধু তারা ছাড়া যারা এ আমল করবে?' তারা বললেন: অবশ্যই, হে আল্লাহর রাসূল!' তিনি বললেন: প্রত্যেক সালাতের পরে তোমরা আল্লাহু আকবার (আল্লাহ মহান) ৩৩ বার, সুবহানাল্লাহ (আল্লাহ পূত-পবিত্র) ৩৩ বার, আলহামদু লিল্লাহ (সব প্রশংসা আল্লাহর) ৩৩ বার পড়বে।” (সহীহ আল-বুখারী, খ-৮, পৃ-৯৯২, ২৩০, নং ৩৪১)
১৫১. শাদ্দাদ ইবন আওস (রা) বর্ণনা করেন, রাসূল ﷺ ইরশাদ করেন:
سَيِّدُ الْاِسْتِغْفَارِ أَنْ تَقُولَ اللَّهُمَّ أَنْتَ رَبِّي لَا إِلَهَ إِلَّا أَنْتَ ، خَلَقْتَنِي وَأَنَا عَبْدُكَ وَأَنَا عَلَى عَهْدِكَ وَوَعْدِكَ مَا اسْتَطَعْتُ أَعُوذُ بِكَ مِنْ شَرِّ مَا صَنَعْتُ أَبُوءُ لَكَ بِنِعْمَتِكَ عَلَى وَأَبُوءُ بِذَنْبِي فَاغْفِرْ لِي فَإِنَّهُ لَا يَغْفِرُ الذُّنُوبَ إِلَّا أَنْتَ . قَالَ : (وَمَنْ قَالَهَا مِنَ النَّهَارِ مُوقِنَا بِهَا فَمَاتَ مِنْ يَوْمِهِ قَبْلَ أَنْ يُمْسِيَ فَهُوَ مِنْ أَهْلِ الْجَنَّةِ وَمَنْ قَالَهَا مِنْ اللَّيْلِ وَهُوَ مُوقِنٌ بِهَا فَمَاتَ قَبْلَ أَنْ يُصْبِحَ فَهُوَ مِنْ أَهْلِ الْجَنَّةِ
'ক্ষমা প্রার্থনার সর্বোত্তম বিনয়ের ভাষা হলো- اللَّهُمَّ أَنْتَ ..... الا أَنْتَ
অর্থ : 'হে আল্লাহ আপনি আমার প্রভু। আপনি ছাড়া আর কোন মাবুদ নেই। আপনি আমাকে সৃষ্টি করেছেন এবং আমি আপনার অঙ্গীকার ও ওয়াদায় আবদ্ধ। আমি আমার কৃত খারাপ কাজ থেকে আপনার আশ্রয় চাই। আপনার সমীপে আমি আপনার প্রদত্ত করুণাসমূহের স্বীকৃতি দেই এবং আমি আপনার নিকট কৃত আমার গুনাহসমূহের স্বীকৃতি দেই। সুতরাং আমাকে ক্ষমা করুন, নিশ্চয়ই আপনি ব্যতীত কেউ গুনাহ ক্ষমা করতে পারে না। এরপর রাসূল ﷺ আরো বলেন: যেকোন ব্যক্তি পরিপূর্ণ ঈমানের সাথে সকাল বেলা এ দুয়া পড়বে এবং দিনের মধ্যে মারা যাবে, অথবা সন্ধ্যার সময় পরিপূর্ণ ঈমানের সাথে পড়বে এবং পরবর্তী সকালের পূর্বে মারা যাবে সে জান্নাতবাসীদের অন্তর্ভুক্ত হবে। (সহীহ আল-বুখারী, খ-৮, পৃ-২১২-২১৩, নং ৩১৮, সুনানে আবু দাউদ, খ-৩, পৃ-১৪০৭, নং ৫০৫২) তিরমিজী।
১৫২. আনাস ইবন মালিক (রা) নবী করীম ﷺ থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন:
كُلُّ ابْنِ آدَمَ خَطَّاءٌ وَخَيْرُ الْخَطَّائِينَ : التَّوَّابُونَ
অর্থ: 'প্রত্যেক আদম সন্তানই ভুলপ্রবণ, তবে তাদের মধ্যে উত্তম হলো যারা সর্বদা অনুতপ্ত হয় (তওবা করে)।' (সুনানে ইবনে মাজা, তিরমিজী, খ-২, পৃ-৩০৫, নং ২০২৯)
টিকাঃ
৯৫. নবী করীম ﷺ কিছু যুদ্ধবন্দীদেরকে ক্রীতদাস হিসেবে বদর যুদ্ধের শহীদানদের এতিমদের দিয়েছিলেন।
📄 পুরস্কার
১৫৩. আবু হুরাইরা (রা) থেকে বর্ণিত রাসূল ﷺ ইরশাদ করেন:
الأبعدُ فَالْأَبْعَدُ مِنَ الْمَسْجِدِ أَعْظَمُ أَجْرًا
অর্থঃ “মসজিদ থেকে বেশি দূরবর্তী ব্যক্তি, সওয়াবের দিক দিয়ে বেশী।” (সুনানে আবু দাউদ, খ-১, পৃ-১৪৬, নং ৫৫৬)
টিকাঃ
৯৬. অন্য হাদীসে রয়েছে যে ব্যক্তি জামায়াতে শরিক হওয়ার জন্য মসজিদের দিকে হাটে তার প্রতি পদক্ষেপে নেকী হয়। অতএব, মূলনীতি অনুযায়ী কাজের কষ্ট অনুযায়ী তার নেকী হয়, মসজিদের দূরত্ব যত হয় তার নেকীও তত। এতে অবশ্য এটা করা যাবে না যে, দুটি মসজিদের মধ্যে দূরেরটা বেছে নেয়া। আয়িশা (রা) থেকে বর্ণিত দুটি বৈধ কাজের মধ্যে রাসূল ﷺ সহজতরটি বেছে নিতেন। (সহীহ আল বুখারী, খ-৪, পৃ-৪৯১, নং ৭৬০, সহীহ মুসলিম, খ-৪, পৃ-১২৪৬, নং ৫৭৫২, সুনানে আবু দাউদ, খ-৩, পৃ-১৩৪১, নং ৪৭৬৭)
📄 কাতার
১৫৪. আবু হুরাইরা (রা) আল্লাহর রাসূল ﷺ থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেনঃ
خَيْرُ صُفُوفِ الرِّجَالِ أَولَهَا ، وَشَرِّهَا أَخِرُهَا ، وَخَيْرُ صُفُوفِ النِّسَاءِ أَخِرُهَا ، وَشَرِّهَا أَولُهَا
অর্থ: 'পুরুষের জন্য সালাতের সর্বোত্তম কাতার হলো ১ম কাতার এবং কম উত্তম হলো শেষ কাতার এবং মহিলাদের সর্বোত্তম কাতার হলো শেষ কাতার এবং কম উত্তম কাতার হলো প্রথম কাতার।' (সহীহ মুসলিম, খ-১, পৃ. ২৩৯, নং ৮৮, সুনানে আবু দাউদ, খ-১, পৃ-১৭৫ নং ৬৭৮, সুনানে ইবন মাজা, খ-২, পৃ-১০২, নং-১০০০, ১০০১ এবং মিশকাতুল মাসাবীহ, খ-১, পৃ-২২৪)।
📄 উপহাস
১৫৫. মহান আল্লাহ বলেন:
يَأَيُّهَا الَّذِينَ ءَامَنُوا لَا يَسْخَرْ قَوْمٌ مِنْ قَوْمٍ عَسَى أَنْ يَكُونُوا خَيْرًا مِنْهُمْ .
অর্থ : 'হে ঈমানদারগণ! তোমরা একদল অন্য দলকে উপহাস করো না, প্রথম দল দ্বিতীয় দলের চাইতে উত্তমও হতে পারে।' (সূরা আল-হুজুরাত- ৪৯ : ১১)