📄 নবীর মসজিদ
১৩৫. আবু হুরাইরা (রা) নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করেন:
صَلاةٌ فِي مَسْجِدِى هَذَا أَفْضَلُ مِنْ أَلْفِ صَلَاةٍ فِيمَا سِوَاهُ إِلَّا الْمَسْجِدَ الْحَرَامَ
অর্থঃ 'আমার মসজিদে এক রাআত সালাত আদায় করা এ ছাড়া অন্য যে কোন মসজিদে সালাত আদায় করার চাইতে এক হাজার গুণ বেশি সাওয়াব, তবে মসজিদে হারাম ছাড়া।' (সহীহ মুসলিম, খ-২, পৃ-৬৯৭ নং ৩২০৯)
১৩৬. আনাস (রা) হতে বর্ণিত নবী করীম ﷺ ইরশাদ করেন:
أَفْضَلُ الْقُرْآنِ : الْحَمْدُ لِلَّهِ رَبِّ الْعَالَمِينَ .
অর্থ : 'কুরআনের সর্বোত্তম অংশ হলো, আলহামদু লিল্লাহি রাব্বিল আলামীন' (অর্থাৎ সূরা ফাতিহা) (হাকীম, আল বাইহাকী ফী শুয়াবিল ঈমান)
১৩৭. হযরত সা'দ (রা) থেকে বর্ণিত, নবী করীম ﷺ ইরশাদ করেন:
خَيْرُكُمْ مَنْ تَعَلَّمَ الْقُرْآنَ وَعَلَّمَهُ
অর্থ : 'তোমাদের মধ্যে সেই ব্যক্তি উত্তম যে কুরআন শিক্ষা করে এবং অপরকে শিক্ষা দেয়।' (সুনানে ইবন মাজা, আহমদ, দারেমী এবং সহীহ আল-বুখারী, খ-৬, পৃ-৫০১-২, নং ৫৪৫ এবং সুনানে তিরমিজী আলী এবং সুনানে আবু দাউদ, খ-১, পৃ-৩৮০ নং ১৪৪৭; আরো দেখুন : মিশকাতুল মাসাবীহ, খ-১, নং ৪৪৬)
১৩৮. আবু সাঈদ ইবন আল মুয়াল্লা থেকে বর্ণিত, নবী করীম ﷺ ইরশাদ করেন:
الْأَعَلَّمَنَّكَ أَعْظَمَ سُورَةٍ مِنَ الْقُرْآنِ أَوْ فِي الْقُرْآنِ قَبْلَ أَنْ أَخْرُجَ مِنَ الْمَسْجِدِ) قَالَ : قُلْتُ يَا رَسُولَ اللهِ ، قَوْلَكَ؟ قَالَ : (الْحَمْدُ لِلَّهِ رَبِّ الْعَالَمِينَ) وَهِيَ السَّبْعُ الْمَثَانِي الَّتِي أُوتِيتُ وَالْقُرْآنُ الْعَظِيمُ .
অর্থঃ 'আমি অবশ্যই তোমাকে কুরআনের একটি মহান সূরা এই মসজিদ ত্যাগ করার পূর্বে শিক্ষা দিব। (আমরা মসজিদ ত্যাগ করতে করতে) আমি বললাম : 'আপনার কথাটি কি? তিনি বললেন: উহা হলো الْحَمْدُ لِلَّهِ رَبِّ الْعَالَمِينَ - সব প্রশংসা আল্লাহর জন্য যিনি গোটা বিশ্ব জাহানের প্রভু। এ হলো সাতটি বারবার আবৃত্তিকৃত আয়াত এবং মহান কুরআন। (সহীহ আল-বুখারী, খ-৬, পৃ-৪৮৯-৯০, নং ৫২৮ সুনানে আবু দাউদ খ-১, পৃ-৩৮২, নং ১৪৫৩)
১৩৯. উবাই ইবন কাব (রা) বর্ণনা করেন, আল্লাহর রাসূল ﷺ ইরশাদ করেছেন:
(أَبَا الْمُنْذِرِ، أَيُّ أَيَةٍ مَعَكَ مِنْ كِتَابِ اللَّهِ أَعْظَمُ؟ قَالَ : قُلْتُ اللهُ وَرَسُولُهُ أَعْلَمُ ، قَالَ : أَبَا الْمُنْذِرِ، أَيُّ أَيَةٍ مَعَكَ مِنْ كِتَابِ اللَّهِ أَعْظَمُ؟ قَالَ : قُلْتُ : اللَّهُ لَا إِلَهَ إِلَّا هُوَ الْحَيُّ الْقَيُّومُ . قَالَ : فَضَرَبَ فِي صَدْرِى وَقَالَ : لِيَهْنَ لَكَ أَبَا الْمُنْذِرِ الْعِلْمُ
অর্থ : 'হে আবুল মুনজির (উবাই ইবন কাব (রা)-এর প্রচলিত নাম) আল্লাহর কুরআনের সবচেয়ে মহান আয়াত কোনটি? আমি উত্তর দিলাম, আল্লাহ এবং রাসূলই ভাল জানেন।' তিনি পুনরায় বললেন, হে আবুল মুনযির! আল্লাহর কিতাবের সবচেয়ে মহান আয়াত কোনটি? আমি উত্তরে বললামঃ
اللهُ لَا إِلَهَ إِلَّا هُوَ الْحَيُّ الْقَيُّومُ .
'আল্লাহ, তিনি ছাড়া আর কোন মাবুদ নেই, তিনি চিরঞ্জীব ও চিরস্থায়ী।' (সূরা আল বাকারা-২৫৫, সহীহ মুসলিম, খ-২, পৃ-৩৮৭, নং ১৭৬৮, সুনানে আবু দাউদ, খ-১, পৃ-৩৮২, ৩৮৩, নং ১৪৫৫)
১৪০. উকবাহ ইবন আমির (রা) বর্ণনা করেন যে, যখন তিনি রাসূল ﷺ এর উটনী চরাচ্ছিলেন, তিনি তাকে বললেন:
(يَا عُقْبَةُ أَلا أُعَلِّمُكَ خَيْرَ سُورَتَيْنِ قُرِئَنَا ؟ فَعَلْمَنِي (قُلْ اَعُوذُ بِرَبِّ الْفَلَقِ) وَ (قُلْ أَعُوذُ بِرَبِّ النَّاسِ، قَالَ : فَلَمْ يَرَنِي سُرِرْتُ بِهِمَا جِدًا ، فَلَمَّا نَزَلَ لِصَلَاةِ الصُبْحِ صَلَّى بِهِمَا صَلَاةَ الصُّبْحِ لِلنَّاسِ فَلَمَّا فَرَغَ رَسُولُ اللهِ ﷺ مِنَ الصَّلَاةِ الْتَفَتَ إِلَى فَقَالَ : يَا عُقْبَةُ كَيْفَ رَأَيْتَ؟
অর্থ : 'হে উকবাহ! আমি কি তোমাকে এ যাবতকালের তিলাওয়াতকৃত সর্বোত্তম দুটি সূরা শিক্ষা দিব না? অতঃপর তিনি আমাকে শিক্ষা দিলেন: قل أَعُوذُ بِرَبِّ الْفَلَقِ قُلْ أَعُوذُ بِرَبِّ النَّاسِ অর্থ : "বলুন! আমি ভোরের প্রভুর কাছে আশ্রয় চাই এবং বলুন: আমি মানুষের প্রভুর নিকট আশ্রয় চাই।' তিনি এ ব্যাপারে আমাকে খুব খুশি পেলেন না। যখন তিনি সালাতুল ফজর আদায়ের জন্য উট থেকে নামলেন এবং এ দুটি সূরা দিয়ে সালাত আদায় এবং ইমামতি করলেন। সালাত সমাপ্ত করার পর আল্লাহর রাসূল আমার দিকে ফিরলেন এবং বললেন: 'হে উকবা তুমি এ সম্পর্কে কি মনে কর?' (সুনানে আবু দাউদ, খ-১, পৃ-৩৮৩, নং ১৪৫৭)
টিকাঃ
৯০. নবী করীম ﷺ এর মসজিদে সালাতের অধিক ছওয়াব হবার মূল কারণ মসজিদের মর্যাদা। যদিও তিনি যখন এ হাদীসের বাণী শুনাচ্ছিলেন তখন তার কবর হয় নি, এবং ইন্তিকালের পরও তার কবর মসজিদের অন্তর্ভুক্ত ছিল না বরং তার কবর ছিল হযরত আয়েশা (রা)-এর ঘরের মধ্যে। পরবর্তীতে মসজিদ বর্ধনের ফলে কবর মুবারক মসজিদের মধ্যে পড়েছে। কবরের স্থানে সালাত আদায় করা নিষেধ। জুনদব ইবন আব্দুল্লাহ্ (রা) বর্ণনা করেন যে, রাসূল ﷺ এর ইন্তিকালের পাঁচদিন পূর্বে তিনি তাঁর নিকট থেকে বলতে শুনেছেন: পূর্ববর্তী নবীর উম্মতগণ তাদের নবীদের কবরকে ইবাদতের স্থান বানিয়েছিল, তোমরা কবরকে ইবাদতখানা বানিও না, আমি কঠিনভাবে এরূপ করতে নিষেধ করছি। (সহীহ মুসলিম, খ-১, পৃ-২৬৯ নং ১০৮৩)
৯১. সুরা আল-হিজর থেকে উদ্ধৃত (১৫:৮৭)
৯২. এখানে রাসূল ﷺ যে বড়ত্বের কথা বলছেন তা হলো এগুলো তিলাওয়াতের মাধ্যমে অধিক সাওয়াব লাভ করা। অন্যথায় কুরআনের এক অংশের শ্রেষ্ঠত্ব বর্ণনার দ্বারা অন্য অংশের ঘাটতি দেখা যায় যা আল্লাহর কালামের ব্যাপারে খাটে না। (শারহ নব্বী, খ-৩, পৃ-৩৫৪)
📄 সন্ধি
১৪১. আবুদ্ দারদা (রা) বলেন, রাসূল ﷺ ইরশাদ করেন:
( أَلَا أُخْبِرُكُمْ بِأَفْضَلَ مِنْ دَرَجَةِ الصِّيَامِ وَالصَّلاةِ وَالصَّدَقَة؟) قَالُوا : بلى . قَالَ : صَلاحُ ذَاتِ الْبَيْنِ فَإِنَّ فَسَادَ ذَاتِ الْبَيْنِ هِيَ الْحَالِقَةُ
অর্থঃ 'আমি কি তোমাদের সিয়াম, সালাত এবং সদকার চেয়েও মর্যাদার (ও সাওয়াব) দিক দিয়ে উত্তম এমন কিছুর সন্ধান দিব না? তারা বললেন : 'অবশ্যই।' তিনি তখন বললেন: মানুষের মধ্যে মিলমিশের (সন্ধি) ব্যবস্থা করা। কেননা দু'জনের মধ্যে সম্পর্ক ছিন্ন করা ধ্বংসের মূল।' (সুনানে তিরমিজী, আবু দাউদ, খ-১, পৃ-১৩৭০, নং ৪৯০১, সুনানে তিরমিজী খ-২, পৃ-৩০৭, নং ২০৩৭)
📄 দ্বীন
১৪২. মহান আল্লাহ বলেন:
وَمَنْ أَحْسَنُ دِينَا مِمَّنْ أَسْلَمَ وَجْهَهُ لِلَّهِ وَهُوَ مُحْسِنٌ وَاتَّبَعَ مِلَّةَ إِبْرَاهِيمَ حَنِيفًا وَاتَّخَذَ اللَّهُ إِبْرَاهِيمَ خَلِيلاً .
অর্থ: 'দ্বীনের দিক দিয়ে তার চেয়ে আর কে উত্তম হতে পারে যে ব্যক্তি নিরঙ্কুশভাবে আল্লাহর নিকট আত্মসমর্পণ করছে, এবং সে সৎকর্মশীল, আর ইবরাহীমের ধর্মের অন্তর্ভুক্ত হয়েছে সঠিকভাবে, আল্লাহ রাব্বুল আলামীন ইবরাহীম (আ)-কে তার প্রিয়তম বন্ধু হিসেবে গ্রহণ করেছেন। (সূরা নিসা-৪: ১২৫)
১৪৩. সাদ (রা) বর্ণনা করে, নবী করীম ﷺ ইরশাদ করেন:
خَيْرٌ دِينَكُمُ الْوَرَعُ .
অর্থ : 'তোমাদের দ্বীনের সর্বোত্তম অংশ হলো সচেতনতা (আল্লাহর ভয় এবং অসন্তুষ্টি সম্পর্কে সজাগ থাকা।) (হাকীম ও দায়লামী)
১৪৪. মিহজান ইবন আলআদরা থেকে বর্ণিত, রাসূল ﷺ ইরশাদ করেনঃ
خَيْرٌ دِينِكُمْ أَيْسَرَه .
অর্থ : 'তোমাদের সর্বোত্তম দ্বীন হলো সহজ পথ।' (সুনানে আহমদ, আত্-তাবারানী)
টিকাঃ
৯৩. নবী ইবরাহীম (আ)-এর দ্বীন হলো ইসলাম যেমন আল-কুরআনের ঘোষণা:
مَا كَانَ إِبْرَاهِمُ يَهُودِيًا وَلَا نَصْرَانِيًّا وَلَكِنْ كَانَ حَنِيفًا مُسْلِمًا وَمَا كَانَ مِنَ الْمُشْرِكِينَ
অর্থ: 'ইবরাহীম ইহুদি খ্রিস্টান ছিলেন না বরং তিনি ছিলেন খাঁটি মুসলিম। তিনি মুশরিকদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন না। (৩ঃ ৬৭)
৯৪. আল্লাহ তায়ালা আল-কুরআনে বলেন- -وَمَا جَعَلَ عَلَيْكُمْ فِي الدين من حرج
(২২ঃ ৭৮) - তিনি তোমাদের জন্য দ্বীনের মধ্যে কোন জিনিসকে কঠিন করেন নি এবং নবী করীম ﷺ ইরশাদ করেন, দ্বীন হলো সহজ, এবং যে-ই দ্বীনের ব্যাপারে অতিরিক্ত বোঝা চাপিয়ে নেয়, সেই পরাজিত হয়। (সহীহ আল-বুখারী, খ-১, পৃ-৩৪ নং ৩৮) নবী করীম ﷺ-এর স্ত্রী আয়েশা (রা) বলেন: যখনই নবী করীম ﷺ কে দুটি বিষয়ের ইখতিয়ার দেয়া হয়েছে, তিনি সহজতর পথটি বেছে নিয়েছেন। (সহীহ আল-বুখারী, খ-৪, পৃ-৪৯১, নং ৭৬০, সহীহ মুসলিম খ-৪, পৃ-১২৪৬, নং ২৫২, সুনানে আবু দাউদ, খ-৩, পৃ-১৩৪১, নং ৪৭৬৭)
📄 আল্লাহর যিকির
১৪৫. আয়িশা (রা) বর্ণনা করেন যে, নবী করীম ﷺ তাকে দেখলেন একজন মহিলা তার সঙ্গে (আসাদ গোত্রের মহিলা বলে সহীহ মুসলিম-এর খ-১, পৃ-৩৭৭, নং ১৯১০ এ উল্লেখ পাওয়া যায়)। রাসূল ﷺ জিজ্ঞেস করলেন তার পরিচয় কি? আয়িশা (রা) বললেন: তিনি অমুক অমুক এবং তাঁর দীর্ঘ সালাতের বিষয়ও উল্লেখ করলেন। তিনি অসম্মতভাবে উত্তর দিলেন:
مَهُ ، عَلَيْكُمْ بِمَا تُطِيقُونَ فَوَاللَّهِ لَا يَمَلُّ اللَّهُ حَتَّى تَمَلُّوا وَكَانَ أَحَبُّ الدِّينِ إِلَيْهِ مَادَامَ عَلَيْهِ صَاحِبُهُ .
অর্থঃ 'এমন কাজ কর যার বোঝা বহন করার ক্ষমতা তুমি রাখ। তোমরা ভাল কাজ করতে গিয়ে ক্লান্ত হলেও আল্লাহ তার প্রতিদান দিতে ক্লান্ত হন না। আল্লাহর নিকট দ্বীনের ঐ অংশ বেশি প্রিয় যে অংশ নিয়মিত করা হয়।' (সহীহ আল-বুখারী, খ-১, পৃ-৩৭, ৩৬, নং ৪১)
১৪৬. আব্দুল্লাহ ইবন বুসর (রা) বর্ণনা করেন যে, নবী করীম ﷺ ইরশাদ করেন:
خَيْرُ الْعَمَلِ أَنْ تُفَارِقَ الدُّنْيَا وَلِسَانُكَ رَطْبٌ مِّنْ ذِكْرِ اللَّهِ
অর্থঃ 'সর্বোত্তম আমল হল এমনভাবে দুনিয়া ত্যাগ করা যে, তোমার জিহ্বা যেন আল্লাহর যিকিরের দ্বারা তরতাজা থাকে।' (আবু নুয়াইম ফিল হিলইয়া, দেখুন : মিশকাতুল মাসাবীহ খ-১, পৃ-৪৭৯)
১৪৭. জাবির (রা) উল্লেখ করেন যে, নবী হযরত মুহাম্মাদ ﷺ ইরশাদ করেন:
أَفْضَلُ الذِّكْرِ : لاَ إِلَهَ إِلَّا اللهُ
অর্থ: 'সর্বোত্তম যিকির হলো- لَا إِلَهَ إِلَّا الله 'আল্লাহ ছাড়া আর কোন মাবুদ নাই।' (সুনানে তিরমিজী, নাসায়ী, ইবন মার্জা, হাকীম)
১৪৮. আবু যর (রা) থেকে বর্ণিত, আল্লাহর রাসূল ﷺ-কে জিজ্ঞেস করা হলো:
أَيُّ الْكَلَامِ أَفْضَلُ؟ قَالَ : مَا اصْطَفَى اللَّهُ لِمَلَائِكَتِهِ أَوْ لِعِبَادِهِ : سُبْحَانَ اللَّهِ وَبِحَمْدِهِ
অর্থ : 'সর্বোত্তম বাক্য কোনগুলো? তিনি উত্তর দিলেন, যে বাক্যগুলো আল্লাহ তাঁর বান্দা এবং ফেরেশতাদের জন্য বাছাই করেছেন, সেগুলো হলো سُبْحَانَ الله وَبِحَمْدِهِ, পবিত্রতা মহান আল্লাহর এবং প্রশংসা তাঁরই।' (সহীহ মুসলিম, খ-৪, পৃ-১৪২৯, নং ৬৫৮৬)
১৪৯. আইদার উম্মুল হাকাম অথবা দুবায়াহ, জুবাইর বিন আব্দুল মুত্তালিব এর কন্যা বর্ণনা করেন:
أصْحَابُ رَسُولِ اللهِ ﷺ سَبْيًّا فَذَهَبْتُ أَنَا وَأُخْتِى وَفَاطِمَةُ بِنْتُ رَسُولِ اللهِ فَشَكَوْنَا إِلَيْهِ مَا نَحْنُ فِيْهِ وَسَأَلْنَاهُ أَنْ يَأْمُرَ لَنَا بِشَيْءٍ مِنَ السَّبْيِ فَقَالَ رَسُولُ اللهِ ﷺ : سَبَقَكُنْ يَتَامَى بَدْرٍ ، لَكِنْ سَادَتُكُنَّ عَلَى مَا هُوَ خَيْرٌ لَكُنَّ مِنْ ذَلِكَ ، تُكَبِّرْنَ اللَّهَ عَلَى إِثْرِ كُلَّ صَلَاةٍ ثَلَاثًا وَثَلاثِينَ تَكْبِيرَةٌ وَثَلاثًا وَثَلاثِينَ تَسْبِيحَةٌ وَثَلاثًا وَثَلاثِينَ تَحْمِيدَةً وَلَا إِلَهَ إِلَّا اللهُ وَحْدَهُ لاَ شَرِيكَ لَهُ ، لَهُ الْمُلْكُ وَلَهُ الْحَمْدُ وَهُوَ عَلَى كُلِّ شَيْءٍ قَدِيرٌ) .
অর্থঃ 'আল্লাহর রাসূলের কন্যা ফাতিমা, আমি এবং আমার বোন আমরা এ তিনজন রাসূল ﷺ এর নিকট গেলাম এবং আমাদের অবস্থা তাঁর নিকট বর্ণনা করলাম। আমরা তাঁর নিকট কিছু নির্দেশনা চাইলাম যাতে আমরা ক্রীতদাস হিসেবে কিছু যুদ্ধবন্দী পেতে পারি। আল্লাহর রাসূল বললেন বদর যুদ্ধের শহীদানদের এতিমগণ এসেছিলেন তোমাদের পূর্বে (এবং তারা যুদ্ধবন্দী চেয়েছিলেন।
তবে আমি তোমাদের এর চেয়ে ভাল জিনিসের সন্ধান দেব। প্রত্যেক সালাতের পরে আল্লাহু আকবার ৩৩ বার, সুবহানাল্লাহ (আল্লাহ পবিত্র) ৩৩ বার, আলহামদুলিল্লাহ (সকল প্রশংসা আল্লাহর) ৩৩ বার এবং লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াহদাহু লা শারীকা লাহু লাহুল মুলকু ওয়া লাহুল হামদু ওয়া হুয়া আলা কুল্লি শাইয়িন কাদীর (আল্লাহ ছাড়া ইবাদতের উপযুক্ত আর কোন মা'বুদ নাই, তিনি এক তাঁর কোন শরিক নেই, রাজত্ব তাঁর, প্রশংসা সবই তাঁর এবং তিনি সবার ওপর ক্ষমতাবান।)' একবার পড়বে। (সুনানে আবু দাউদ, খ-২, পৃ-৮৪৬, নং ২৯৮১)
১৫০. আবু হুরাইরা (রা) থেকে বর্ণিত, মদিনায় হিজরত করে আসা দরিদ্র লোকেরা আল্লাহর রাসূল ﷺ-এর নিকট এসে বললেন:
ذَهَبَ أَهْلُ الذُّنُوْرِ بِالدَّرَجَاتِ الْعُلى وَالنَّعِيمِ الْمُقِيمِ ، فَقَالَ : ( وَمَا ذَاكَ؟ قَالُوا يُصَلُّونَ كَمَا نُصَلِّي وَيَصُومُونَ كَمَا نَصُومُ وَيَتَصَدَّقُونَ وَلَا نَتَصَدَّقُ وَيُعْتِقُونَ وَلَا نُعْتِقُ . فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ : (أَفَلا أُعَلِّمُكُمْ شَيْئًا تُدْرِكُونَ بِهِ مَنْ سَبَقَكُمْ وَتَسْبِقُونَ بِهِ مَنْ بَعْدَكُمْ وَلَا يَكُونُ أَحَدٌ أَفْضَلَ مِنْكُمْ إِلَّا مَنْ صَنَعَ مِثْلَ مَا صَنَعْتُمْ؟ قَالُوا : بَلَى يَا رَسُولَ اللهِ . قَالَ : (تُسَبِّحُونَ وَتُكَبِّرُونَ وَتَحْمَدُونَ دُبُرَ كُلَّ صَلَاةٍ ثَلَاثًا وَثَلاثِينَ مَرَّةً)
অর্থ : 'সম্পদশালী লোকেরা জান্নাতের সর্বোচ্চ স্তরে প্রবেশ করল এবং অসীম আনন্দ লাভ করল। তিনি জিজ্ঞেস করলেন, 'তারা কিভাবে তা করল?” তারা উত্তর দিলেন, 'তারা আমাদের মতই সালাত আদায় করেন এবং আমাদের মতোই সিয়াম পালন করেন, তদুপরি তারা যাকাত প্রদান করেন অথচ আমরা তা পারি না। তাঁরা দাস মুক্ত করেন অথচ আমরা তা পারি না। আল্লাহর রাসূল ﷺ বললেন,
'আমি কি তোমাদের এমন কিছু শিক্ষা দিব না, যার মাধ্যমে তোমরা তাদের ধরতে পারবে যারা তোমাদের অতিক্রম করছে? এবং তোমাদের পিছনে যারা রয়েছে তাদেরও অতিক্রম করছে এবং কেউই তোমাদেরকে অতিক্রম করতে পারবে না শুধু তারা ছাড়া যারা এ আমল করবে?' তারা বললেন: অবশ্যই, হে আল্লাহর রাসূল!' তিনি বললেন: প্রত্যেক সালাতের পরে তোমরা আল্লাহু আকবার (আল্লাহ মহান) ৩৩ বার, সুবহানাল্লাহ (আল্লাহ পূত-পবিত্র) ৩৩ বার, আলহামদু লিল্লাহ (সব প্রশংসা আল্লাহর) ৩৩ বার পড়বে।” (সহীহ আল-বুখারী, খ-৮, পৃ-৯৯২, ২৩০, নং ৩৪১)
১৫১. শাদ্দাদ ইবন আওস (রা) বর্ণনা করেন, রাসূল ﷺ ইরশাদ করেন:
سَيِّدُ الْاِسْتِغْفَارِ أَنْ تَقُولَ اللَّهُمَّ أَنْتَ رَبِّي لَا إِلَهَ إِلَّا أَنْتَ ، خَلَقْتَنِي وَأَنَا عَبْدُكَ وَأَنَا عَلَى عَهْدِكَ وَوَعْدِكَ مَا اسْتَطَعْتُ أَعُوذُ بِكَ مِنْ شَرِّ مَا صَنَعْتُ أَبُوءُ لَكَ بِنِعْمَتِكَ عَلَى وَأَبُوءُ بِذَنْبِي فَاغْفِرْ لِي فَإِنَّهُ لَا يَغْفِرُ الذُّنُوبَ إِلَّا أَنْتَ . قَالَ : (وَمَنْ قَالَهَا مِنَ النَّهَارِ مُوقِنَا بِهَا فَمَاتَ مِنْ يَوْمِهِ قَبْلَ أَنْ يُمْسِيَ فَهُوَ مِنْ أَهْلِ الْجَنَّةِ وَمَنْ قَالَهَا مِنْ اللَّيْلِ وَهُوَ مُوقِنٌ بِهَا فَمَاتَ قَبْلَ أَنْ يُصْبِحَ فَهُوَ مِنْ أَهْلِ الْجَنَّةِ
'ক্ষমা প্রার্থনার সর্বোত্তম বিনয়ের ভাষা হলো- اللَّهُمَّ أَنْتَ ..... الا أَنْتَ
অর্থ : 'হে আল্লাহ আপনি আমার প্রভু। আপনি ছাড়া আর কোন মাবুদ নেই। আপনি আমাকে সৃষ্টি করেছেন এবং আমি আপনার অঙ্গীকার ও ওয়াদায় আবদ্ধ। আমি আমার কৃত খারাপ কাজ থেকে আপনার আশ্রয় চাই। আপনার সমীপে আমি আপনার প্রদত্ত করুণাসমূহের স্বীকৃতি দেই এবং আমি আপনার নিকট কৃত আমার গুনাহসমূহের স্বীকৃতি দেই। সুতরাং আমাকে ক্ষমা করুন, নিশ্চয়ই আপনি ব্যতীত কেউ গুনাহ ক্ষমা করতে পারে না। এরপর রাসূল ﷺ আরো বলেন: যেকোন ব্যক্তি পরিপূর্ণ ঈমানের সাথে সকাল বেলা এ দুয়া পড়বে এবং দিনের মধ্যে মারা যাবে, অথবা সন্ধ্যার সময় পরিপূর্ণ ঈমানের সাথে পড়বে এবং পরবর্তী সকালের পূর্বে মারা যাবে সে জান্নাতবাসীদের অন্তর্ভুক্ত হবে। (সহীহ আল-বুখারী, খ-৮, পৃ-২১২-২১৩, নং ৩১৮, সুনানে আবু দাউদ, খ-৩, পৃ-১৪০৭, নং ৫০৫২) তিরমিজী।
১৫২. আনাস ইবন মালিক (রা) নবী করীম ﷺ থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন:
كُلُّ ابْنِ آدَمَ خَطَّاءٌ وَخَيْرُ الْخَطَّائِينَ : التَّوَّابُونَ
অর্থ: 'প্রত্যেক আদম সন্তানই ভুলপ্রবণ, তবে তাদের মধ্যে উত্তম হলো যারা সর্বদা অনুতপ্ত হয় (তওবা করে)।' (সুনানে ইবনে মাজা, তিরমিজী, খ-২, পৃ-৩০৫, নং ২০২৯)
টিকাঃ
৯৫. নবী করীম ﷺ কিছু যুদ্ধবন্দীদেরকে ক্রীতদাস হিসেবে বদর যুদ্ধের শহীদানদের এতিমদের দিয়েছিলেন।