📘 ইসলামে সর্বোত্তম > 📄 সম্পদ

📄 সম্পদ


১৩০. আবু উমামা আল্লাহর রাসূল ﷺ কে বলতে শুনেছেন:
(إِنَّ اللَّهَ عَزَّ وَجَلَّ قَدْ أَعْطَى كُلَّ ذِي حَقٌّ حَقَّهُ فَلَا وَصِيَّةَ لِوَارِثِ وَلَا تُنْفِقُ الْمَرْأَةُ شَيْئًا مِنْ بَيْتِهَا إِلَّا بِإِذْنِ زَوْجَهَا) - فَقِيلَ : يَا رَسُولَ اللهِ وَلَا الطَّعَامَ؟ قَالَ : ( ذَاكَ أَفْضَلُ أَمْوَالِنَا) ، ثُمَّ قَالَ : (الْعَوَرُ مُؤَدَاةٌ وَالْمِنْحَةُ مَرْدُودَةً وَالدِّينُ مَقْضَى وَالرَّعِيمُ غَارِمٌ)
অর্থ : 'মহান পরাক্রমশালী আল্লাহ তায়ালা প্রত্যেক অধিকারীকে তার পূর্ণ অধিকার অর্পণ করেছেন। সুতরাং কোন উত্তরাধিকারীর জন্য অসিয়ত (আরো সম্পদ প্রদানের নির্দেশ) দেয়া যাবে না। কোন মহিলার জন্য তাঁর স্বামীর সম্পদ থেকে তাঁর 'অনুমতি ব্যতীত ব্যয় করা উচিত নয়। তাঁকে জিজ্ঞেস করা হলো, হে আল্লাহর রাসূল খাদ্যশস্যও কি? উত্তরে তিনি বললেন: উহাই আমাদের সর্বোত্তম সম্পদ, অতঃপর তিনি আরো বলেন: ঋণ অবশ্যই পরিশোধ করতে হবে, উটনী যা দুগ্ধ পানের জন্য ধার করা হয়েছে তাও ফেরত দিতে হবে, ধার অবশ্যই ফেরত দিতে হবে, জামিনদার অবশ্যই দায়ী থাকবে।' (সুনানে আবু দাউদ খ-২, পৃ-১০১০-১০১১, নং ৩৫৫৮)

১৩১. আমর ইবন শুয়াইব এর প্রপিতামহ বর্ণনা করেন যে, এক ব্যক্তি নবী করীম ﷺ-এর নিকট এসে বললেন:
يَا رَسُولَ اللَّهِ إِنَّ لِي مَالاً وَوَلَدًا وَإِنَّ وَالِدِي يَحْتَاجُ مَالِي قَالَ : أَنْتَ وَمَالُكَ لِوَالِدِكَ . إِنَّ أَوْلَادَكُمْ مِنْ أَطْيَبِ كَسْبِكُمْ فَكُلُوا مِنْ كَسَبٍ أَوْلَادِكُمْ)
অর্থ : 'হে আল্লাহর রাসূল! আমার সম্পদ এবং সন্তান রয়েছে এবং আমার পিতার জন্য আমার কিছু সম্পদের প্রয়োজন। তিনি জবাব দিলেন 'তুমি এবং তোমার সম্পদ তোমার পিতার। বস্তুত তোমাদের সন্তানরা তোমাদের সর্বোত্তম অর্জন। সুতরাং তোমরা তোমাদের সন্তানদের অর্জন থেকে গ্রহণ করতে পারো।' (সুনানে আবু দাউদ, খ-২, পৃ-১০০২ নং ৩৫২৩)

১৩২. হযরত ছাওবান (রা) থেকে বর্ণিত যে, এ আয়াত-
وَالَّذِينَ يَكْنِزُونَ الذَّهَبَ وَالْفَضَّةَ وَلَا يُنْفِقُونَهَا فِي سَبِيلِ اللَّهِ فَبَشِّرْهُمْ بِعَذَابٍ أَلِيمٍ .
অর্থ: 'যারা স্বর্ণ-রৌপ্য পুঞ্জীভূত করে রাখে এবং আল্লাহর রাস্তায় তা ব্যয় করে না তাদেরকে যন্ত্রণাদায়ক শাস্তির দুঃসংবাদ দানকর।' (সূরা তাওবাহ : ৩৪)
অবতীর্ণ হয় যখন আমরা আল্লাহর রাসুলের সঙ্গে কোন এক সফরে ছিলাম। এবং কোন কোন সাহাবী বলেন, 'এ আয়াত তো স্বর্ণ-রৌপ্য সম্পর্কে অবতীর্ণ হয়েছে। আমরা যদি জানতাম কোন সম্পদ উত্তম, তাহলে আমরা তা অর্জন করতাম।' নবী করীম ﷺ ইরশাদ করেন:
أَفْضَلُهُ لِسَانٌ ذَاكِرٌ وَقَلْبٌ شَاكِرٌ وَزَوْجَةٌ مُؤْمِنَةٌ تَعِينُهُ عَلَى إِيْمَانِهِ .
অর্থ: 'সর্বোত্তম সম্পদগুলো হলো: আল্লাহকে স্মরণকারী জিহ্বা, কৃতজ্ঞ হৃদয় এবং ঈমানদার স্ত্রী যে তাঁর স্বামীর ঈমান বৃদ্ধির জন্য সর্বদা চেষ্টা করে।' (সুনানে তিরমিযী, খ-৩, পৃ-৫৫, ৫৬ নং ২৪৭০)

১৩৩. হযরত আনাস (রা) হতে বর্ণিত, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন:
لا يُؤْمِنُ أَحَدُكُمْ حَتَّى أَكُونَ أَحَبُّ إِلَيْهِ مِنْ وَالِدِهِ وَوَلَدِهِ وَالنَّاسِ أَجْمَعِينَ .
অর্থ: 'তোমাদের কেউ ততক্ষণ পর্যন্ত (পূর্ণ) ঈমানদার হবে না যতক্ষণ পর্যন্ত আমি তার পিতা, তার সন্তান ও সব মানুষের চাইতে প্রিয়তম না হব।' (সহীহ আল-বুখারী, খ-১, পৃ-২০ নং ১৪)

১৩৪. হযরত আনাস (রা) আরো বর্ণনা করেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন:
ثَلاثَ مَنْ كُنْ فِيْهِ وَجَدَ حَلَاوَةَ الْإِيْمَانِ أَنْ يَكُونَ اللَّهُ وَرَسُولُهُ اَحَبَّ إِلَيْهِ مِمَّا سِوَاهُمَا وَأَنْ يُحِبُّ الْمَرْءَ لَا يُحِبُّهُ إِلَّا لِلَّهِ وَأَنْ يَكْرَهُ أَنْ يَعُودَ فِي الْكُفْرِ كَمَا يَكْرَهُ أَنْ يُقْذَفَ فِي النَّارِ .
অর্থঃ 'যার মধ্যে তিনটি গুণ বিদ্যমান সে ঈমানের স্বাদ পেয়েছে-
ক. আল্লাহ এবং আল্লাহর রাসূল এতদুভয় ব্যতীত সকলের চাইতে প্রিয়তম।
খ. যেকোন ব্যক্তিকে শুধু আল্লাহর জন্যই ভালবাসে অন্য কোন কারণে নয়।
গ. সে কুফরীতে ফিরে যেতে তেমন অপছন্দ করে, আগুনে নিক্ষিপ্ত হতে যেমন অপছন্দ করে। (সহীহ আল-বুখারী, খ-১, পৃ-২৩-২৪, নং ২০, সুনানে আবু দাউদ, খ-১, পৃ-১৭৫ নং ৬৭৮)

টিকাঃ
৮৩. উত্তরাধিকার বণ্টন নীতিমালা কুরআন-হাদীসে বিধৃত হয়েছে। উত্তরাধিকারীদের সম্পদের (অর্থাৎ মৃত ব্যক্তির রেখে যাওয়া সম্পদের) এক-তৃতীয়াংশ পর্যন্ত দান করা জায়েয, তাদের জন্য যারা কুরআন-হাদীসের বিধানানুপাতে উত্তরাধিকার নয়। এ হাদীস অনুযায়ী কোন উত্তরাধিকারীকে বঞ্চিত করা হয় এমন অসিয়ত অবৈধ। বাতিল।
৮৪. যদি স্বামীর তার পরিবারের জন্য ব্যয় করার যথেষ্ট সামর্থ্য থাকা সত্ত্বেও তা করতে অস্বীকার করে, ইসলামি বিধান তার স্ত্রীকে তার অনুমতি ব্যতিরেকে ও অজ্ঞাতসারে কিছু অর্থ খরচ করার অনুমতি দান করে। আয়েশা (রা) থেকে বর্ণিত যে, হিন্দ বিনত উতবা (আবু সুফিয়ানের স্ত্রী) রাসূল ﷺ এর নিকট আসলেন এবং বললেনঃ হে আল্লাহর রাসূল, অবশ্যই আবু সুফিয়ান একজন কৃপণ ব্যক্তি, সে আমাকে ও আমার সন্তানকে যথেষ্ট দেয় না, তবে আমি তার সম্পদ থেকে তার অজ্ঞাতসারে যা নেই, আমি কি ভুল করছি? নবী করীম ﷺ উত্তর দিলেনঃ তুমি তার সম্পদ থেকে তোমার এবং তোমার পুত্রের প্রয়োজন মত গ্রহণ কর। (সহীহ আল-বুখারী, খ-৭, পৃ-২০৮ নং ২৭২)
৮৫. এখানে দান করার ক্ষেত্রে অপচয় করতে নিষেধ করা হয়েছে। আয়েশা (রা) রাসূল ﷺ-কে বলতে শুনেছে: যখন কোন মহিলা তার স্বামীর খাদ্যশস্য দান করে, কোনরূপ ক্ষতি বা অপচয় না করে তাহলে এখানে সেই মহিলা তার দানের সাওয়াব পাবে এবং পুরুষ তার সম্পদ অর্জনের সাওয়াব পাবে। এরূপভাবে যেকোন আমানতদার। (সহীহ মুসলিম, খ-২, পৃ-৪৯০ নং ২২৩২-২২৩৩)
৮৬. মূল আরবিতে منحة শব্দটি এসেছে, যার দ্বারা উটনী অথবা অন্য কোন মাদী প্রাণী দুধ খাবার জন্য ধার আনা বুঝায়। এটা নির্দিষ্ট একটা সময়ের জন্য। অন্য অর্থেও তা ব্যবহৃত হতে পারে। (যেমন: গাছ ফলের জন্য, জমি ফসলের জন্য। এগুলো ব্যবহারের পর ফেরত দিতে হবে।)
৮৭. আমর (র)-এর প্রপিতামহ ছিলেন প্রিয়নবী ﷺ এর বিখ্যাত সাহাবী আব্দুল্লাহ ইবন আমর ইবনুল আস।'
৮৮. এই সুন্নাহর কোন কোন ভাষ্যে বর্ণনাকারী বলেন, 'আমার পিতা আমার সম্পদ ভোগ করছেন।' উভয় ভাষ্যে একথা প্রমাণিত যে, পিতা-মাতার প্রয়োজন হলে সন্তানের দায়িত্ব হলো তাদের ভরণ-পোষণ প্রদান করা। এ হাদীসকে শাব্দিক অর্থে গ্রহণ করা যাবে না। অন্যথা, পিতা-মাতা সন্তানকে বিক্রি করতে পারতেন, যা কিনা সাধারণ জ্ঞানের দ্বারাই নিষিদ্ধ। এ হাদীস দ্বারা হাম্বলী মাজহাবের লোকরা দলিল প্রদান করেন যে, পিতা তার কন্যার মাহরানার একটা অংশ গ্রহণ করতে পারেন। (দেখুন: আল মুগনী, খ-১০, পৃ-১১৮-১২০০ যদিও এটা কোন মানদণ্ড নয়। তবে তিনি যদি আর্থিকভাবে দুর্বল হন তাহলে সে কথা আলাদা।
৮৯. আবু হুরাইরাহ (রা) হতে আরো বর্ণিত, নবী করীম (স) ইরশাদ করেন: সত্যিকার সম্পদ অর্থের দ্বারা নয় বরং সন্তুষ্টির দ্বারা পরিমাপযোগ্য। (সহীহ আল বুখারী, খ-৮, পৃ- ৩০৪ নং ৪৫৩, স্ত্রীকে সম্পদ বলা উপমা স্বরূপ।

📘 ইসলামে সর্বোত্তম > 📄 নবীর মসজিদ

📄 নবীর মসজিদ


১৩৫. আবু হুরাইরা (রা) নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করেন:
صَلاةٌ فِي مَسْجِدِى هَذَا أَفْضَلُ مِنْ أَلْفِ صَلَاةٍ فِيمَا سِوَاهُ إِلَّا الْمَسْجِدَ الْحَرَامَ
অর্থঃ 'আমার মসজিদে এক রাআত সালাত আদায় করা এ ছাড়া অন্য যে কোন মসজিদে সালাত আদায় করার চাইতে এক হাজার গুণ বেশি সাওয়াব, তবে মসজিদে হারাম ছাড়া।' (সহীহ মুসলিম, খ-২, পৃ-৬৯৭ নং ৩২০৯)

১৩৬. আনাস (রা) হতে বর্ণিত নবী করীম ﷺ ইরশাদ করেন:
أَفْضَلُ الْقُرْآنِ : الْحَمْدُ لِلَّهِ رَبِّ الْعَالَمِينَ .
অর্থ : 'কুরআনের সর্বোত্তম অংশ হলো, আলহামদু লিল্লাহি রাব্বিল আলামীন' (অর্থাৎ সূরা ফাতিহা) (হাকীম, আল বাইহাকী ফী শুয়াবিল ঈমান)

১৩৭. হযরত সা'দ (রা) থেকে বর্ণিত, নবী করীম ﷺ ইরশাদ করেন:
خَيْرُكُمْ مَنْ تَعَلَّمَ الْقُرْآنَ وَعَلَّمَهُ
অর্থ : 'তোমাদের মধ্যে সেই ব্যক্তি উত্তম যে কুরআন শিক্ষা করে এবং অপরকে শিক্ষা দেয়।' (সুনানে ইবন মাজা, আহমদ, দারেমী এবং সহীহ আল-বুখারী, খ-৬, পৃ-৫০১-২, নং ৫৪৫ এবং সুনানে তিরমিজী আলী এবং সুনানে আবু দাউদ, খ-১, পৃ-৩৮০ নং ১৪৪৭; আরো দেখুন : মিশকাতুল মাসাবীহ, খ-১, নং ৪৪৬)

১৩৮. আবু সাঈদ ইবন আল মুয়াল্লা থেকে বর্ণিত, নবী করীম ﷺ ইরশাদ করেন:
الْأَعَلَّمَنَّكَ أَعْظَمَ سُورَةٍ مِنَ الْقُرْآنِ أَوْ فِي الْقُرْآنِ قَبْلَ أَنْ أَخْرُجَ مِنَ الْمَسْجِدِ) قَالَ : قُلْتُ يَا رَسُولَ اللهِ ، قَوْلَكَ؟ قَالَ : (الْحَمْدُ لِلَّهِ رَبِّ الْعَالَمِينَ) وَهِيَ السَّبْعُ الْمَثَانِي الَّتِي أُوتِيتُ وَالْقُرْآنُ الْعَظِيمُ .
অর্থঃ 'আমি অবশ্যই তোমাকে কুরআনের একটি মহান সূরা এই মসজিদ ত্যাগ করার পূর্বে শিক্ষা দিব। (আমরা মসজিদ ত্যাগ করতে করতে) আমি বললাম : 'আপনার কথাটি কি? তিনি বললেন: উহা হলো الْحَمْدُ لِلَّهِ رَبِّ الْعَالَمِينَ - সব প্রশংসা আল্লাহর জন্য যিনি গোটা বিশ্ব জাহানের প্রভু। এ হলো সাতটি বারবার আবৃত্তিকৃত আয়াত এবং মহান কুরআন। (সহীহ আল-বুখারী, খ-৬, পৃ-৪৮৯-৯০, নং ৫২৮ সুনানে আবু দাউদ খ-১, পৃ-৩৮২, নং ১৪৫৩)

১৩৯. উবাই ইবন কাব (রা) বর্ণনা করেন, আল্লাহর রাসূল ﷺ ইরশাদ করেছেন:
(أَبَا الْمُنْذِرِ، أَيُّ أَيَةٍ مَعَكَ مِنْ كِتَابِ اللَّهِ أَعْظَمُ؟ قَالَ : قُلْتُ اللهُ وَرَسُولُهُ أَعْلَمُ ، قَالَ : أَبَا الْمُنْذِرِ، أَيُّ أَيَةٍ مَعَكَ مِنْ كِتَابِ اللَّهِ أَعْظَمُ؟ قَالَ : قُلْتُ : اللَّهُ لَا إِلَهَ إِلَّا هُوَ الْحَيُّ الْقَيُّومُ . قَالَ : فَضَرَبَ فِي صَدْرِى وَقَالَ : لِيَهْنَ لَكَ أَبَا الْمُنْذِرِ الْعِلْمُ
অর্থ : 'হে আবুল মুনজির (উবাই ইবন কাব (রা)-এর প্রচলিত নাম) আল্লাহর কুরআনের সবচেয়ে মহান আয়াত কোনটি? আমি উত্তর দিলাম, আল্লাহ এবং রাসূলই ভাল জানেন।' তিনি পুনরায় বললেন, হে আবুল মুনযির! আল্লাহর কিতাবের সবচেয়ে মহান আয়াত কোনটি? আমি উত্তরে বললামঃ
اللهُ لَا إِلَهَ إِلَّا هُوَ الْحَيُّ الْقَيُّومُ .
'আল্লাহ, তিনি ছাড়া আর কোন মাবুদ নেই, তিনি চিরঞ্জীব ও চিরস্থায়ী।' (সূরা আল বাকারা-২৫৫, সহীহ মুসলিম, খ-২, পৃ-৩৮৭, নং ১৭৬৮, সুনানে আবু দাউদ, খ-১, পৃ-৩৮২, ৩৮৩, নং ১৪৫৫)

১৪০. উকবাহ ইবন আমির (রা) বর্ণনা করেন যে, যখন তিনি রাসূল ﷺ এর উটনী চরাচ্ছিলেন, তিনি তাকে বললেন:
(يَا عُقْبَةُ أَلا أُعَلِّمُكَ خَيْرَ سُورَتَيْنِ قُرِئَنَا ؟ فَعَلْمَنِي (قُلْ اَعُوذُ بِرَبِّ الْفَلَقِ) وَ (قُلْ أَعُوذُ بِرَبِّ النَّاسِ، قَالَ : فَلَمْ يَرَنِي سُرِرْتُ بِهِمَا جِدًا ، فَلَمَّا نَزَلَ لِصَلَاةِ الصُبْحِ صَلَّى بِهِمَا صَلَاةَ الصُّبْحِ لِلنَّاسِ فَلَمَّا فَرَغَ رَسُولُ اللهِ ﷺ مِنَ الصَّلَاةِ الْتَفَتَ إِلَى فَقَالَ : يَا عُقْبَةُ كَيْفَ رَأَيْتَ؟
অর্থ : 'হে উকবাহ! আমি কি তোমাকে এ যাবতকালের তিলাওয়াতকৃত সর্বোত্তম দুটি সূরা শিক্ষা দিব না? অতঃপর তিনি আমাকে শিক্ষা দিলেন: قل أَعُوذُ بِرَبِّ الْفَلَقِ قُلْ أَعُوذُ بِرَبِّ النَّاسِ অর্থ : "বলুন! আমি ভোরের প্রভুর কাছে আশ্রয় চাই এবং বলুন: আমি মানুষের প্রভুর নিকট আশ্রয় চাই।' তিনি এ ব্যাপারে আমাকে খুব খুশি পেলেন না। যখন তিনি সালাতুল ফজর আদায়ের জন্য উট থেকে নামলেন এবং এ দুটি সূরা দিয়ে সালাত আদায় এবং ইমামতি করলেন। সালাত সমাপ্ত করার পর আল্লাহর রাসূল আমার দিকে ফিরলেন এবং বললেন: 'হে উকবা তুমি এ সম্পর্কে কি মনে কর?' (সুনানে আবু দাউদ, খ-১, পৃ-৩৮৩, নং ১৪৫৭)

টিকাঃ
৯০. নবী করীম ﷺ এর মসজিদে সালাতের অধিক ছওয়াব হবার মূল কারণ মসজিদের মর্যাদা। যদিও তিনি যখন এ হাদীসের বাণী শুনাচ্ছিলেন তখন তার কবর হয় নি, এবং ইন্তিকালের পরও তার কবর মসজিদের অন্তর্ভুক্ত ছিল না বরং তার কবর ছিল হযরত আয়েশা (রা)-এর ঘরের মধ্যে। পরবর্তীতে মসজিদ বর্ধনের ফলে কবর মুবারক মসজিদের মধ্যে পড়েছে। কবরের স্থানে সালাত আদায় করা নিষেধ। জুনদব ইবন আব্দুল্লাহ্ (রা) বর্ণনা করেন যে, রাসূল ﷺ এর ইন্তিকালের পাঁচদিন পূর্বে তিনি তাঁর নিকট থেকে বলতে শুনেছেন: পূর্ববর্তী নবীর উম্মতগণ তাদের নবীদের কবরকে ইবাদতের স্থান বানিয়েছিল, তোমরা কবরকে ইবাদতখানা বানিও না, আমি কঠিনভাবে এরূপ করতে নিষেধ করছি। (সহীহ মুসলিম, খ-১, পৃ-২৬৯ নং ১০৮৩)
৯১. সুরা আল-হিজর থেকে উদ্ধৃত (১৫:৮৭)
৯২. এখানে রাসূল ﷺ যে বড়ত্বের কথা বলছেন তা হলো এগুলো তিলাওয়াতের মাধ্যমে অধিক সাওয়াব লাভ করা। অন্যথায় কুরআনের এক অংশের শ্রেষ্ঠত্ব বর্ণনার দ্বারা অন্য অংশের ঘাটতি দেখা যায় যা আল্লাহর কালামের ব্যাপারে খাটে না। (শারহ নব্বী, খ-৩, পৃ-৩৫৪)

📘 ইসলামে সর্বোত্তম > 📄 সন্ধি

📄 সন্ধি


১৪১. আবুদ্ দারদা (রা) বলেন, রাসূল ﷺ ইরশাদ করেন:
( أَلَا أُخْبِرُكُمْ بِأَفْضَلَ مِنْ دَرَجَةِ الصِّيَامِ وَالصَّلاةِ وَالصَّدَقَة؟) قَالُوا : بلى . قَالَ : صَلاحُ ذَاتِ الْبَيْنِ فَإِنَّ فَسَادَ ذَاتِ الْبَيْنِ هِيَ الْحَالِقَةُ
অর্থঃ 'আমি কি তোমাদের সিয়াম, সালাত এবং সদকার চেয়েও মর্যাদার (ও সাওয়াব) দিক দিয়ে উত্তম এমন কিছুর সন্ধান দিব না? তারা বললেন : 'অবশ্যই।' তিনি তখন বললেন: মানুষের মধ্যে মিলমিশের (সন্ধি) ব্যবস্থা করা। কেননা দু'জনের মধ্যে সম্পর্ক ছিন্ন করা ধ্বংসের মূল।' (সুনানে তিরমিজী, আবু দাউদ, খ-১, পৃ-১৩৭০, নং ৪৯০১, সুনানে তিরমিজী খ-২, পৃ-৩০৭, নং ২০৩৭)

📘 ইসলামে সর্বোত্তম > 📄 দ্বীন

📄 দ্বীন


১৪২. মহান আল্লাহ বলেন:
وَمَنْ أَحْسَنُ دِينَا مِمَّنْ أَسْلَمَ وَجْهَهُ لِلَّهِ وَهُوَ مُحْسِنٌ وَاتَّبَعَ مِلَّةَ إِبْرَاهِيمَ حَنِيفًا وَاتَّخَذَ اللَّهُ إِبْرَاهِيمَ خَلِيلاً .
অর্থ: 'দ্বীনের দিক দিয়ে তার চেয়ে আর কে উত্তম হতে পারে যে ব্যক্তি নিরঙ্কুশভাবে আল্লাহর নিকট আত্মসমর্পণ করছে, এবং সে সৎকর্মশীল, আর ইবরাহীমের ধর্মের অন্তর্ভুক্ত হয়েছে সঠিকভাবে, আল্লাহ রাব্বুল আলামীন ইবরাহীম (আ)-কে তার প্রিয়তম বন্ধু হিসেবে গ্রহণ করেছেন। (সূরা নিসা-৪: ১২৫)

১৪৩. সাদ (রা) বর্ণনা করে, নবী করীম ﷺ ইরশাদ করেন:
خَيْرٌ دِينَكُمُ الْوَرَعُ .
অর্থ : 'তোমাদের দ্বীনের সর্বোত্তম অংশ হলো সচেতনতা (আল্লাহর ভয় এবং অসন্তুষ্টি সম্পর্কে সজাগ থাকা।) (হাকীম ও দায়লামী)

১৪৪. মিহজান ইবন আলআদরা থেকে বর্ণিত, রাসূল ﷺ ইরশাদ করেনঃ
خَيْرٌ دِينِكُمْ أَيْسَرَه .
অর্থ : 'তোমাদের সর্বোত্তম দ্বীন হলো সহজ পথ।' (সুনানে আহমদ, আত্-তাবারানী)

টিকাঃ
৯৩. নবী ইবরাহীম (আ)-এর দ্বীন হলো ইসলাম যেমন আল-কুরআনের ঘোষণা:
مَا كَانَ إِبْرَاهِمُ يَهُودِيًا وَلَا نَصْرَانِيًّا وَلَكِنْ كَانَ حَنِيفًا مُسْلِمًا وَمَا كَانَ مِنَ الْمُشْرِكِينَ
অর্থ: 'ইবরাহীম ইহুদি খ্রিস্টান ছিলেন না বরং তিনি ছিলেন খাঁটি মুসলিম। তিনি মুশরিকদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন না। (৩ঃ ৬৭)
৯৪. আল্লাহ তায়ালা আল-কুরআনে বলেন- -وَمَا جَعَلَ عَلَيْكُمْ فِي الدين من حرج
(২২ঃ ৭৮) - তিনি তোমাদের জন্য দ্বীনের মধ্যে কোন জিনিসকে কঠিন করেন নি এবং নবী করীম ﷺ ইরশাদ করেন, দ্বীন হলো সহজ, এবং যে-ই দ্বীনের ব্যাপারে অতিরিক্ত বোঝা চাপিয়ে নেয়, সেই পরাজিত হয়। (সহীহ আল-বুখারী, খ-১, পৃ-৩৪ নং ৩৮) নবী করীম ﷺ-এর স্ত্রী আয়েশা (রা) বলেন: যখনই নবী করীম ﷺ কে দুটি বিষয়ের ইখতিয়ার দেয়া হয়েছে, তিনি সহজতর পথটি বেছে নিয়েছেন। (সহীহ আল-বুখারী, খ-৪, পৃ-৪৯১, নং ৭৬০, সহীহ মুসলিম খ-৪, পৃ-১২৪৬, নং ২৫২, সুনানে আবু দাউদ, খ-৩, পৃ-১৩৪১, নং ৪৭৬৭)

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00