📄 সালাত
১১৭. উম্মে ফারওয়াহ এবং ইবন মাসউদ (রা) উভয়ে রাসূল ﷺ থেকে বর্ণনা করেছেন:
أَفْضَلُ الْأَعْمَالِ الصَّلَاةُ لِوَقْتِهَا .
অর্থ : 'সর্বোত্তম কাজ হলো নির্দিষ্ট সময়ে শুরুতে সালাত আদায় করা।' (বাইহাকী ফী শুয়াবিল ঈমান, সহীহ আল-বুখারী, খ-১, পৃ-৩০০-৩০১, নং ৫০৫, সহীহ মুসলিম, খ-১, পৃ- ৪৯, ৫০ নং ১৫২ এবং সুনানে আবু দাউদ খ-১, পৃ-১১১, নং ৪২৬, আরো দেখুন মিশকাতুল মাসাবীহ, খ-১, নং ১২৪)
১১৮. ইবন উমর (রা) বলেন যে, নবী করীম ﷺ ইরশাদ করেন:
أَفْضَلُ الصَّلَوَاتِ عِنْدَ اللهِ صَلاةُ الصُّبْحِ يَوْمَ الْجُمُعَةِ فِي جَمَاعَة
অর্থ: 'আল্লাহর নিকট সর্বোত্তম সালাত হলো জুমুয়ার দিনের ফজর সালাত যা জামায়াত সহকারে আদায় করা হয়।' (বায়হাকী ফী শুয়াবিল ঈমান, আবু নুয়াইম ফিল হিলইয়াল আউলিয়া, সুনানে ইবন মাজা, খ-২, পৃ-১৫০-১৫১, নং ৪২১)
১১৯. যায়দ বিন ছাবিত বর্ণনা করেন যে, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন:
أَفْضَلُ صَلَاتِكُمْ فِي بُيُوتِكُمْ إِلَّا الْمَكْتُوبَةَ .
অর্থ : 'তোমাদের সর্বোত্তম সালাত হলো যেগুলো ঘরে আদায় করা হয়, তবে ফরজ সালাত ছাড়া।' (সুনানে তিরমিযী, সহীহ আল-বুখারী, খ-১, পৃ- ৩৯১-৯২, নং ৬৯৮, সহীহ মুসলিম, খ-১, পৃ-৩৭৭, নং ১৭০৮, সুনানে আবু দাউদ, খ-১, পৃ-৩৭৯ নং ১৪৪২)
১২০. আবু হুরাইরা (রা) বর্ণনা করেন, রাসূল ﷺ ইরশাদ করেন:
أفْضَلُ الصَّلَاةِ بَعْدَ الْمَكْتُوبَةِ الصَّلَاةُ فِي جَوْفِ اللَّيْلِ، وَأَفْضَلُ الصِّيَامِ بَعْدَ شَهْرِ رَمَضَانُ شَهْرُ اللَّهِ الْمُحَرَّمُ
অর্থ : 'ফরয সালাতের পর সর্বোত্তম সালাত হলো মধ্যরাতের সালাত, রমযানের সাওম, এরপর সর্বোত্তম সাওম হলো মুহাররম মাসের সাওম।' (সহীহ মুসলিম, খ-২, পৃ-৫৬৯ নং ২৬১১, সুনানে আরবায়াতে, সুনানে আবু দাউদ, উল্লেখ করেছেন। আরো দেখুন: মিশকাতুল মাসাবীহ। খ-১, নং ৪৩৩)
১২১. জাবির (রা) থেকে বর্ণিত, নবী করীম ﷺ ইরশাদ করেন:
أفضَلُ الصَّلاةَ طُولُ الْقُنوت .
'সর্বোত্তম সালাত হলো দীর্ঘক্ষণ দাঁড়ানো সালাত।' (সহীহ মুসলিম খ-১, পৃ-৩৬৪, নং-১৬৫০, তিরিমিযী, ইবন মাজা, খ-২, পৃ-১৫০-৫১ নং ৪২১, মুসনাদে আহমাদ, আবু মুসা, আমর ইবন আবামা এবং উমাইর ইবন কাতাদাহ্ থেকে তাবারানী কবীরের মধ্যে উল্লেখ করেছেন। এরূপ হাদীস সুনানে আবু দাউদ, খ-১, পৃ-৩৪৮ নং ১৩২০-এ রয়েছে।)
১২২. ইবন আব্বাস (রা) থেকে বর্ণিত, রাসূল ﷺ ইরশাদ করেন,
خيَارُكُمْ أَلْيَنُكُمْ مَنَاكِبَ فِي الصَّلَاةِ .
অর্থঃ 'তোমাদের মধ্যে' তারাই সর্বোত্তম, যাদের কাঁধ সালাতের মধ্যে নরম থাকে।' (সুনানে আবু দাউদ খ-১, পৃ-১৭৪, নং ৬৭২)
১২৩. ইবন উমার (রা) আল্লাহর রাসূল ﷺ থেকে বর্ণনা করেছেন:
لا تَمْنَعُوا نِسَاءَكُمُ الْمَسَاجِدَ وَبُيُوتُهُنَّ خَيْرٌ لَّهُنَّ
অর্থ : 'তোমাদের নারীদের মসজিদে গমন থেকে বাধা দিও না, তবে ঘরই তাদের জন্য উত্তম।' (সুনানে আবু দাউদ, খ-১, পৃ-১৪৯, নং ৫৬৭)
১২৪. উম্মে সালামাহ (রা) থেকে বর্ণিত, নবী করীম ﷺ ইরশাদ করেন:
خَيْرُ صَلَاةِ النِّسَاءِ فِي قَعْرِ بُيُوتِهِنَّ .
অর্থ: 'মহিলাদের সর্বোত্তম সালাত হলো তাদের ঘরে অভ্যন্তরের কক্ষের সালাত।' (মুসনাদে আহমাদ, আততাবারানী, অনুরূপ হাদীস সুনানে আবু দাউদ, খ-১, পৃ-১৫০, নং ৫৭০)
১২৫. আব্দুল্লাহ ইবন বুরাইদা (রা) হতে বর্ণিত যে, ইমরান ইবন হুসাইন নবী করীম ﷺ-কে কোন ব্যক্তির বসে সালাত আদায় করা সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলেন। তিনি উত্তর দিলেন:
صَلَاتُهُ قَائِمًا أَفْضَلُ مِنْ صَلَاتِهِ قَاعِدًا وَصَلَاتُهُ قَاعِدًا عَلَى النصف من صَلَاتِهِ قَائِمًا ، وَصَلَاتُهُ نَائِمًا عَلَى النِّصْفِ مِنْ صَلَاتِهِ قَاعِدًا .
অর্থ: 'দাঁড়িয়ে সালাত আদায় করা বসে সালাত আদায় করার চেয়ে উত্তম। আর বসে আদায় করা সালাতের ছাওয়াব দাঁড়িয়ে আদায় করা সালাতের অর্ধেক, শুয়ে আদায় করা সালাতের সাওয়াব বসে আদায় করা সালাতের অর্ধেক। (সহীহ আল-বুখারী, খ-২, পৃ-১২০, নং ২১৬, সুনানে আবু দাউদ, খ-১, পৃ-২৪৩, নং ৯৫১)
১২৬. ইবন আমর বর্ণনা করেন, নবী করীম ﷺ ইরশাদ করেছেনঃ
أَحَبُّ الصَّلاةِ إِلَى اللهِ صَلاةُ دَاوُدَ، كَانَ يَنَامُ نِصْفَ اللَّيْلِ، وَيَقُوْمُ ثُلُثَهُ، وَيَنَامُ سُدُسَهُ
অর্থ: 'আল্লাহ রাব্বুল আলামীন যে সালাত (নফল) সর্বাধিক পছন্দ করেন তা হলো দাউদ (আ)-এর সালাত। তিনি রাতের অর্ধেক ঘুমাতেন, তিন ভাগের এক ভাগ জাগতেন এবং অবশিষ্ট ছয় ভাগের এক ভাগ পুনরায় ঘুমাতেন।' (সুনানে আহমাদ, আবু দাউদ, খ-২, পৃ-৬৭৪, নং ২৪৪২, সুনানে নাসায়ী ইবন মাজাহ। সহীহ আল-বুখারী, খ-২, পৃ-১২৯ নং ২৩১, সহীহ মুসলিম, খ-২, পৃ-৬৫৫ নং ২৫৯৫)
১২৭. আবু হুরাইরা (রা) হতে বর্ণিত যে, আল্লাহর রাসূল ﷺ ইরশাদ করেন:
صَلاةُ الْجَمَاعَةِ أَفْضَلُ مِنْ صَلاةِ أَحَدِكُمْ وَحْدَهُ بِخَمْسَةِ وَعِشْرِينَ جُزْءًا
অর্থ : 'জামায়াতে সালাত আদায় করা একাকী সালাত আদায় করার চাইতে পঁচিশ গুণ সাওয়াব বেশি। (সহীহ মুসলিম খ-১, পৃ-৩১৪, নং ১৩৬০, সহীহ আল-বুখারী, খ-১, পৃ-৩৫১, নং ৬১৯, আবু সাঈদ খুদরী থেকে।)
১২৮. ইবন ওমর (রা) বর্ণনা করেন, আল্লাহর রাসূল ﷺ ইরশাদ করেনঃ
صَلَاةُ الْجَمَاعَةِ أَفْضَلُ مِنْ صَلَاةِ الْفَدِّ بِسَبْعِ وَعِشْرِينَ دَرَجَةً .
অর্থ : 'জামায়াতে সালাত আদায় করা একাকী সালাত আদায় করার চাইতে সাতাশ গুণ সাওয়াব বেশি।' (সহীহ আল-বুখারী, খ-১, পৃ-৩৫১ নং ৬১৮, সহীহ মুসলিম খ-১, পৃ-৩১৫, নং ১৩৬৫)
১২৯. আবু জুহাইম তিনি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে এমন এক ব্যক্তি সম্পর্কে বলতে শুনেছেন যিনি সালাত আদায়কারীর সামনে দিয়ে অতিক্রম করছিলেন:
لَوْ يَعْلَمُ الْمَارُ بَيْنَ يَدَيِ الْمُصَلَّى مَاذَا عَلَيْهِ لَكَانَ أَنْ يَقِفَ اَرْبَعِينَ خَيْرٌ لَّهُ مِنْ أَنْ يَمُر بَيْنَ يَدَيْهِ . قَالَ أَبُو النَّضْرِ : لَا أَدْرِى قَالَ أَرْبَعِينَ يَوْمًا أَوْ شَهْرًا أَوْ سَنَةً .
অর্থ: 'সালাত আদায়কারীর সামনে দিয়ে অতিক্রমকারী ব্যক্তি যদি তার কি পরিমাণ পাপ হয় এ সম্পর্কে জানত, তাহলে সে সামনে দিয়ে অতিক্রম করার চাইতে চল্লিশ [......] পর্যন্ত অপেক্ষা করত। বর্ণনাকারী আবুন নদর বলেন: আমি নিশ্চিত নই তিনি চল্লিশ দিন, মাস বা বছর বলেছেন।' (সহীহ আল-বুখারী, খ-১, পৃ-২৯০-২৯৯, নং ৪৮৯, সহীহ মুসলিম খ-১, পৃ-২৬১ নং ১০২৭)
টিকাঃ
৭৬. অন্য বর্ণনায় হযরত যায়দ (রা) রাসূল ﷺ এর এ উক্তি উল্লেখ করেছেন: কোন ব্যক্তি তার ঘরে যে নামায আদায় করে তা আমার মসজিদে আদায় করা সালাতের চেয়ে উত্তম, তবে ফরয সালাত ব্যতীত। (সুনানে আবু দাউদ, খ-১, প-২৬৮, নং-১০৩৯। এ সব হাদীসে নফল সালাত ঘরে পড়তে উৎসাহিত করা হয়েছে।) কেননা রাসূল ﷺ ইরশাদ করেছেন যে, তাঁর মসজিদে সালাত আদায় করা অন্য স্থানের চাইতে ১০০০ গুণ সওয়াব বেশি।
৭৭. এ বর্ণনার ভিত্তিতে, পণ্ডিতগণ এ মত পোষণ করেন, নফল কম রাকআতে বেশি তিলাওয়াত বেশি রাকআতে কম তিলাওয়াতের চাইতে উত্তম। (যদিও সালাতে মনোযোগ ও আন্তরিকতাই মূল বিবেচ্য বিষয়।)
৭৮. আরবি প্রবাদ 'নরম কাঁধ' অর্থ তারা তাদের দেহকে শক্ত করে না, এমনভাবে যাতে অন্যদের কষ্ট হয় অর্থাৎ তাদের পাশে যারা সালাত আদায় করে এবং তাদের কেউ নাড়াতে চাইলে সহজে নড়ে, কাতার সোজা করার ক্ষেত্রে সহযোগিতা করে।
৭৯. এ ধরনের হাদীস বুখারী এবং মুসলিম শরীফেও পাওয়া যায়। এটাও উল্লেখ্য যে, রাসূল ﷺ এ শর্ত দিয়েছেন যে, তারা সুগন্ধি ব্যবহার করে যেন মসজিদে না যায়। (সুনানে আবু দাউদ খ-১, পৃ-১৪৯ নং ৫৬৫)
৮০. নারীদের ক্ষেত্রে, এ হাদীসের ভিত্তিতে এবং এরূপ অন্যান্য হাদীসের ভিত্তিতে, মসজিদে সালাত আদায় কোন বাড়তি ছাওয়াব নেই।
৮১. এ হাদীসে পরিষ্কারভাবে বুঝা যায় যে, কিছু সুন্নত নামায বসে আদায় করা অযৌক্তিক, যে ব্যক্তি দাঁড়িয়ে পড়তে পারে। নবী করীম ﷺ এর থেকে এ ধরনের আমল প্রমাণিত নেই, তবে তিনি পীড়িত অবস্থায় কখনো কখনো এরূপ করেছেন এবং তাঁর জীবনের শেষ সময়গুলোতে যখন ওজন কমে তিনি বৃদ্ধ বয়স অনুভব করতে পারছিলেন। এ সব আমল দ্বারা অসুস্থ ও দুর্বল লোকেরা দলিল গ্রহণ করতে পারেন। অন্যথায় স্বাভাবিক অবস্থায় এরূপ করা শুধু তার পক্ষেই সম্ভব, যিনি স্বেচ্ছায় আধা ব্যবসায় পূর্ণ পুঁজি খাটাতে চান।
৮২. ইবন হাজার এর মতে, উচ্চৈঃস্বরে আদায়কৃত সালাতে ২৭ গুণ সওয়াব এবং নিম্নস্বরে আদায়কৃত সালাতের (জোহর-আছর) সাওয়াব ২৫ গুণ (ফতহুল বারী)।
📄 সম্পদ
১৩০. আবু উমামা আল্লাহর রাসূল ﷺ কে বলতে শুনেছেন:
(إِنَّ اللَّهَ عَزَّ وَجَلَّ قَدْ أَعْطَى كُلَّ ذِي حَقٌّ حَقَّهُ فَلَا وَصِيَّةَ لِوَارِثِ وَلَا تُنْفِقُ الْمَرْأَةُ شَيْئًا مِنْ بَيْتِهَا إِلَّا بِإِذْنِ زَوْجَهَا) - فَقِيلَ : يَا رَسُولَ اللهِ وَلَا الطَّعَامَ؟ قَالَ : ( ذَاكَ أَفْضَلُ أَمْوَالِنَا) ، ثُمَّ قَالَ : (الْعَوَرُ مُؤَدَاةٌ وَالْمِنْحَةُ مَرْدُودَةً وَالدِّينُ مَقْضَى وَالرَّعِيمُ غَارِمٌ)
অর্থ : 'মহান পরাক্রমশালী আল্লাহ তায়ালা প্রত্যেক অধিকারীকে তার পূর্ণ অধিকার অর্পণ করেছেন। সুতরাং কোন উত্তরাধিকারীর জন্য অসিয়ত (আরো সম্পদ প্রদানের নির্দেশ) দেয়া যাবে না। কোন মহিলার জন্য তাঁর স্বামীর সম্পদ থেকে তাঁর 'অনুমতি ব্যতীত ব্যয় করা উচিত নয়। তাঁকে জিজ্ঞেস করা হলো, হে আল্লাহর রাসূল খাদ্যশস্যও কি? উত্তরে তিনি বললেন: উহাই আমাদের সর্বোত্তম সম্পদ, অতঃপর তিনি আরো বলেন: ঋণ অবশ্যই পরিশোধ করতে হবে, উটনী যা দুগ্ধ পানের জন্য ধার করা হয়েছে তাও ফেরত দিতে হবে, ধার অবশ্যই ফেরত দিতে হবে, জামিনদার অবশ্যই দায়ী থাকবে।' (সুনানে আবু দাউদ খ-২, পৃ-১০১০-১০১১, নং ৩৫৫৮)
১৩১. আমর ইবন শুয়াইব এর প্রপিতামহ বর্ণনা করেন যে, এক ব্যক্তি নবী করীম ﷺ-এর নিকট এসে বললেন:
يَا رَسُولَ اللَّهِ إِنَّ لِي مَالاً وَوَلَدًا وَإِنَّ وَالِدِي يَحْتَاجُ مَالِي قَالَ : أَنْتَ وَمَالُكَ لِوَالِدِكَ . إِنَّ أَوْلَادَكُمْ مِنْ أَطْيَبِ كَسْبِكُمْ فَكُلُوا مِنْ كَسَبٍ أَوْلَادِكُمْ)
অর্থ : 'হে আল্লাহর রাসূল! আমার সম্পদ এবং সন্তান রয়েছে এবং আমার পিতার জন্য আমার কিছু সম্পদের প্রয়োজন। তিনি জবাব দিলেন 'তুমি এবং তোমার সম্পদ তোমার পিতার। বস্তুত তোমাদের সন্তানরা তোমাদের সর্বোত্তম অর্জন। সুতরাং তোমরা তোমাদের সন্তানদের অর্জন থেকে গ্রহণ করতে পারো।' (সুনানে আবু দাউদ, খ-২, পৃ-১০০২ নং ৩৫২৩)
১৩২. হযরত ছাওবান (রা) থেকে বর্ণিত যে, এ আয়াত-
وَالَّذِينَ يَكْنِزُونَ الذَّهَبَ وَالْفَضَّةَ وَلَا يُنْفِقُونَهَا فِي سَبِيلِ اللَّهِ فَبَشِّرْهُمْ بِعَذَابٍ أَلِيمٍ .
অর্থ: 'যারা স্বর্ণ-রৌপ্য পুঞ্জীভূত করে রাখে এবং আল্লাহর রাস্তায় তা ব্যয় করে না তাদেরকে যন্ত্রণাদায়ক শাস্তির দুঃসংবাদ দানকর।' (সূরা তাওবাহ : ৩৪)
অবতীর্ণ হয় যখন আমরা আল্লাহর রাসুলের সঙ্গে কোন এক সফরে ছিলাম। এবং কোন কোন সাহাবী বলেন, 'এ আয়াত তো স্বর্ণ-রৌপ্য সম্পর্কে অবতীর্ণ হয়েছে। আমরা যদি জানতাম কোন সম্পদ উত্তম, তাহলে আমরা তা অর্জন করতাম।' নবী করীম ﷺ ইরশাদ করেন:
أَفْضَلُهُ لِسَانٌ ذَاكِرٌ وَقَلْبٌ شَاكِرٌ وَزَوْجَةٌ مُؤْمِنَةٌ تَعِينُهُ عَلَى إِيْمَانِهِ .
অর্থ: 'সর্বোত্তম সম্পদগুলো হলো: আল্লাহকে স্মরণকারী জিহ্বা, কৃতজ্ঞ হৃদয় এবং ঈমানদার স্ত্রী যে তাঁর স্বামীর ঈমান বৃদ্ধির জন্য সর্বদা চেষ্টা করে।' (সুনানে তিরমিযী, খ-৩, পৃ-৫৫, ৫৬ নং ২৪৭০)
১৩৩. হযরত আনাস (রা) হতে বর্ণিত, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন:
لا يُؤْمِنُ أَحَدُكُمْ حَتَّى أَكُونَ أَحَبُّ إِلَيْهِ مِنْ وَالِدِهِ وَوَلَدِهِ وَالنَّاسِ أَجْمَعِينَ .
অর্থ: 'তোমাদের কেউ ততক্ষণ পর্যন্ত (পূর্ণ) ঈমানদার হবে না যতক্ষণ পর্যন্ত আমি তার পিতা, তার সন্তান ও সব মানুষের চাইতে প্রিয়তম না হব।' (সহীহ আল-বুখারী, খ-১, পৃ-২০ নং ১৪)
১৩৪. হযরত আনাস (রা) আরো বর্ণনা করেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন:
ثَلاثَ مَنْ كُنْ فِيْهِ وَجَدَ حَلَاوَةَ الْإِيْمَانِ أَنْ يَكُونَ اللَّهُ وَرَسُولُهُ اَحَبَّ إِلَيْهِ مِمَّا سِوَاهُمَا وَأَنْ يُحِبُّ الْمَرْءَ لَا يُحِبُّهُ إِلَّا لِلَّهِ وَأَنْ يَكْرَهُ أَنْ يَعُودَ فِي الْكُفْرِ كَمَا يَكْرَهُ أَنْ يُقْذَفَ فِي النَّارِ .
অর্থঃ 'যার মধ্যে তিনটি গুণ বিদ্যমান সে ঈমানের স্বাদ পেয়েছে-
ক. আল্লাহ এবং আল্লাহর রাসূল এতদুভয় ব্যতীত সকলের চাইতে প্রিয়তম।
খ. যেকোন ব্যক্তিকে শুধু আল্লাহর জন্যই ভালবাসে অন্য কোন কারণে নয়।
গ. সে কুফরীতে ফিরে যেতে তেমন অপছন্দ করে, আগুনে নিক্ষিপ্ত হতে যেমন অপছন্দ করে। (সহীহ আল-বুখারী, খ-১, পৃ-২৩-২৪, নং ২০, সুনানে আবু দাউদ, খ-১, পৃ-১৭৫ নং ৬৭৮)
টিকাঃ
৮৩. উত্তরাধিকার বণ্টন নীতিমালা কুরআন-হাদীসে বিধৃত হয়েছে। উত্তরাধিকারীদের সম্পদের (অর্থাৎ মৃত ব্যক্তির রেখে যাওয়া সম্পদের) এক-তৃতীয়াংশ পর্যন্ত দান করা জায়েয, তাদের জন্য যারা কুরআন-হাদীসের বিধানানুপাতে উত্তরাধিকার নয়। এ হাদীস অনুযায়ী কোন উত্তরাধিকারীকে বঞ্চিত করা হয় এমন অসিয়ত অবৈধ। বাতিল।
৮৪. যদি স্বামীর তার পরিবারের জন্য ব্যয় করার যথেষ্ট সামর্থ্য থাকা সত্ত্বেও তা করতে অস্বীকার করে, ইসলামি বিধান তার স্ত্রীকে তার অনুমতি ব্যতিরেকে ও অজ্ঞাতসারে কিছু অর্থ খরচ করার অনুমতি দান করে। আয়েশা (রা) থেকে বর্ণিত যে, হিন্দ বিনত উতবা (আবু সুফিয়ানের স্ত্রী) রাসূল ﷺ এর নিকট আসলেন এবং বললেনঃ হে আল্লাহর রাসূল, অবশ্যই আবু সুফিয়ান একজন কৃপণ ব্যক্তি, সে আমাকে ও আমার সন্তানকে যথেষ্ট দেয় না, তবে আমি তার সম্পদ থেকে তার অজ্ঞাতসারে যা নেই, আমি কি ভুল করছি? নবী করীম ﷺ উত্তর দিলেনঃ তুমি তার সম্পদ থেকে তোমার এবং তোমার পুত্রের প্রয়োজন মত গ্রহণ কর। (সহীহ আল-বুখারী, খ-৭, পৃ-২০৮ নং ২৭২)
৮৫. এখানে দান করার ক্ষেত্রে অপচয় করতে নিষেধ করা হয়েছে। আয়েশা (রা) রাসূল ﷺ-কে বলতে শুনেছে: যখন কোন মহিলা তার স্বামীর খাদ্যশস্য দান করে, কোনরূপ ক্ষতি বা অপচয় না করে তাহলে এখানে সেই মহিলা তার দানের সাওয়াব পাবে এবং পুরুষ তার সম্পদ অর্জনের সাওয়াব পাবে। এরূপভাবে যেকোন আমানতদার। (সহীহ মুসলিম, খ-২, পৃ-৪৯০ নং ২২৩২-২২৩৩)
৮৬. মূল আরবিতে منحة শব্দটি এসেছে, যার দ্বারা উটনী অথবা অন্য কোন মাদী প্রাণী দুধ খাবার জন্য ধার আনা বুঝায়। এটা নির্দিষ্ট একটা সময়ের জন্য। অন্য অর্থেও তা ব্যবহৃত হতে পারে। (যেমন: গাছ ফলের জন্য, জমি ফসলের জন্য। এগুলো ব্যবহারের পর ফেরত দিতে হবে।)
৮৭. আমর (র)-এর প্রপিতামহ ছিলেন প্রিয়নবী ﷺ এর বিখ্যাত সাহাবী আব্দুল্লাহ ইবন আমর ইবনুল আস।'
৮৮. এই সুন্নাহর কোন কোন ভাষ্যে বর্ণনাকারী বলেন, 'আমার পিতা আমার সম্পদ ভোগ করছেন।' উভয় ভাষ্যে একথা প্রমাণিত যে, পিতা-মাতার প্রয়োজন হলে সন্তানের দায়িত্ব হলো তাদের ভরণ-পোষণ প্রদান করা। এ হাদীসকে শাব্দিক অর্থে গ্রহণ করা যাবে না। অন্যথা, পিতা-মাতা সন্তানকে বিক্রি করতে পারতেন, যা কিনা সাধারণ জ্ঞানের দ্বারাই নিষিদ্ধ। এ হাদীস দ্বারা হাম্বলী মাজহাবের লোকরা দলিল প্রদান করেন যে, পিতা তার কন্যার মাহরানার একটা অংশ গ্রহণ করতে পারেন। (দেখুন: আল মুগনী, খ-১০, পৃ-১১৮-১২০০ যদিও এটা কোন মানদণ্ড নয়। তবে তিনি যদি আর্থিকভাবে দুর্বল হন তাহলে সে কথা আলাদা।
৮৯. আবু হুরাইরাহ (রা) হতে আরো বর্ণিত, নবী করীম (স) ইরশাদ করেন: সত্যিকার সম্পদ অর্থের দ্বারা নয় বরং সন্তুষ্টির দ্বারা পরিমাপযোগ্য। (সহীহ আল বুখারী, খ-৮, পৃ- ৩০৪ নং ৪৫৩, স্ত্রীকে সম্পদ বলা উপমা স্বরূপ।
📄 নবীর মসজিদ
১৩৫. আবু হুরাইরা (রা) নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করেন:
صَلاةٌ فِي مَسْجِدِى هَذَا أَفْضَلُ مِنْ أَلْفِ صَلَاةٍ فِيمَا سِوَاهُ إِلَّا الْمَسْجِدَ الْحَرَامَ
অর্থঃ 'আমার মসজিদে এক রাআত সালাত আদায় করা এ ছাড়া অন্য যে কোন মসজিদে সালাত আদায় করার চাইতে এক হাজার গুণ বেশি সাওয়াব, তবে মসজিদে হারাম ছাড়া।' (সহীহ মুসলিম, খ-২, পৃ-৬৯৭ নং ৩২০৯)
১৩৬. আনাস (রা) হতে বর্ণিত নবী করীম ﷺ ইরশাদ করেন:
أَفْضَلُ الْقُرْآنِ : الْحَمْدُ لِلَّهِ رَبِّ الْعَالَمِينَ .
অর্থ : 'কুরআনের সর্বোত্তম অংশ হলো, আলহামদু লিল্লাহি রাব্বিল আলামীন' (অর্থাৎ সূরা ফাতিহা) (হাকীম, আল বাইহাকী ফী শুয়াবিল ঈমান)
১৩৭. হযরত সা'দ (রা) থেকে বর্ণিত, নবী করীম ﷺ ইরশাদ করেন:
خَيْرُكُمْ مَنْ تَعَلَّمَ الْقُرْآنَ وَعَلَّمَهُ
অর্থ : 'তোমাদের মধ্যে সেই ব্যক্তি উত্তম যে কুরআন শিক্ষা করে এবং অপরকে শিক্ষা দেয়।' (সুনানে ইবন মাজা, আহমদ, দারেমী এবং সহীহ আল-বুখারী, খ-৬, পৃ-৫০১-২, নং ৫৪৫ এবং সুনানে তিরমিজী আলী এবং সুনানে আবু দাউদ, খ-১, পৃ-৩৮০ নং ১৪৪৭; আরো দেখুন : মিশকাতুল মাসাবীহ, খ-১, নং ৪৪৬)
১৩৮. আবু সাঈদ ইবন আল মুয়াল্লা থেকে বর্ণিত, নবী করীম ﷺ ইরশাদ করেন:
الْأَعَلَّمَنَّكَ أَعْظَمَ سُورَةٍ مِنَ الْقُرْآنِ أَوْ فِي الْقُرْآنِ قَبْلَ أَنْ أَخْرُجَ مِنَ الْمَسْجِدِ) قَالَ : قُلْتُ يَا رَسُولَ اللهِ ، قَوْلَكَ؟ قَالَ : (الْحَمْدُ لِلَّهِ رَبِّ الْعَالَمِينَ) وَهِيَ السَّبْعُ الْمَثَانِي الَّتِي أُوتِيتُ وَالْقُرْآنُ الْعَظِيمُ .
অর্থঃ 'আমি অবশ্যই তোমাকে কুরআনের একটি মহান সূরা এই মসজিদ ত্যাগ করার পূর্বে শিক্ষা দিব। (আমরা মসজিদ ত্যাগ করতে করতে) আমি বললাম : 'আপনার কথাটি কি? তিনি বললেন: উহা হলো الْحَمْدُ لِلَّهِ رَبِّ الْعَالَمِينَ - সব প্রশংসা আল্লাহর জন্য যিনি গোটা বিশ্ব জাহানের প্রভু। এ হলো সাতটি বারবার আবৃত্তিকৃত আয়াত এবং মহান কুরআন। (সহীহ আল-বুখারী, খ-৬, পৃ-৪৮৯-৯০, নং ৫২৮ সুনানে আবু দাউদ খ-১, পৃ-৩৮২, নং ১৪৫৩)
১৩৯. উবাই ইবন কাব (রা) বর্ণনা করেন, আল্লাহর রাসূল ﷺ ইরশাদ করেছেন:
(أَبَا الْمُنْذِرِ، أَيُّ أَيَةٍ مَعَكَ مِنْ كِتَابِ اللَّهِ أَعْظَمُ؟ قَالَ : قُلْتُ اللهُ وَرَسُولُهُ أَعْلَمُ ، قَالَ : أَبَا الْمُنْذِرِ، أَيُّ أَيَةٍ مَعَكَ مِنْ كِتَابِ اللَّهِ أَعْظَمُ؟ قَالَ : قُلْتُ : اللَّهُ لَا إِلَهَ إِلَّا هُوَ الْحَيُّ الْقَيُّومُ . قَالَ : فَضَرَبَ فِي صَدْرِى وَقَالَ : لِيَهْنَ لَكَ أَبَا الْمُنْذِرِ الْعِلْمُ
অর্থ : 'হে আবুল মুনজির (উবাই ইবন কাব (রা)-এর প্রচলিত নাম) আল্লাহর কুরআনের সবচেয়ে মহান আয়াত কোনটি? আমি উত্তর দিলাম, আল্লাহ এবং রাসূলই ভাল জানেন।' তিনি পুনরায় বললেন, হে আবুল মুনযির! আল্লাহর কিতাবের সবচেয়ে মহান আয়াত কোনটি? আমি উত্তরে বললামঃ
اللهُ لَا إِلَهَ إِلَّا هُوَ الْحَيُّ الْقَيُّومُ .
'আল্লাহ, তিনি ছাড়া আর কোন মাবুদ নেই, তিনি চিরঞ্জীব ও চিরস্থায়ী।' (সূরা আল বাকারা-২৫৫, সহীহ মুসলিম, খ-২, পৃ-৩৮৭, নং ১৭৬৮, সুনানে আবু দাউদ, খ-১, পৃ-৩৮২, ৩৮৩, নং ১৪৫৫)
১৪০. উকবাহ ইবন আমির (রা) বর্ণনা করেন যে, যখন তিনি রাসূল ﷺ এর উটনী চরাচ্ছিলেন, তিনি তাকে বললেন:
(يَا عُقْبَةُ أَلا أُعَلِّمُكَ خَيْرَ سُورَتَيْنِ قُرِئَنَا ؟ فَعَلْمَنِي (قُلْ اَعُوذُ بِرَبِّ الْفَلَقِ) وَ (قُلْ أَعُوذُ بِرَبِّ النَّاسِ، قَالَ : فَلَمْ يَرَنِي سُرِرْتُ بِهِمَا جِدًا ، فَلَمَّا نَزَلَ لِصَلَاةِ الصُبْحِ صَلَّى بِهِمَا صَلَاةَ الصُّبْحِ لِلنَّاسِ فَلَمَّا فَرَغَ رَسُولُ اللهِ ﷺ مِنَ الصَّلَاةِ الْتَفَتَ إِلَى فَقَالَ : يَا عُقْبَةُ كَيْفَ رَأَيْتَ؟
অর্থ : 'হে উকবাহ! আমি কি তোমাকে এ যাবতকালের তিলাওয়াতকৃত সর্বোত্তম দুটি সূরা শিক্ষা দিব না? অতঃপর তিনি আমাকে শিক্ষা দিলেন: قل أَعُوذُ بِرَبِّ الْفَلَقِ قُلْ أَعُوذُ بِرَبِّ النَّاسِ অর্থ : "বলুন! আমি ভোরের প্রভুর কাছে আশ্রয় চাই এবং বলুন: আমি মানুষের প্রভুর নিকট আশ্রয় চাই।' তিনি এ ব্যাপারে আমাকে খুব খুশি পেলেন না। যখন তিনি সালাতুল ফজর আদায়ের জন্য উট থেকে নামলেন এবং এ দুটি সূরা দিয়ে সালাত আদায় এবং ইমামতি করলেন। সালাত সমাপ্ত করার পর আল্লাহর রাসূল আমার দিকে ফিরলেন এবং বললেন: 'হে উকবা তুমি এ সম্পর্কে কি মনে কর?' (সুনানে আবু দাউদ, খ-১, পৃ-৩৮৩, নং ১৪৫৭)
টিকাঃ
৯০. নবী করীম ﷺ এর মসজিদে সালাতের অধিক ছওয়াব হবার মূল কারণ মসজিদের মর্যাদা। যদিও তিনি যখন এ হাদীসের বাণী শুনাচ্ছিলেন তখন তার কবর হয় নি, এবং ইন্তিকালের পরও তার কবর মসজিদের অন্তর্ভুক্ত ছিল না বরং তার কবর ছিল হযরত আয়েশা (রা)-এর ঘরের মধ্যে। পরবর্তীতে মসজিদ বর্ধনের ফলে কবর মুবারক মসজিদের মধ্যে পড়েছে। কবরের স্থানে সালাত আদায় করা নিষেধ। জুনদব ইবন আব্দুল্লাহ্ (রা) বর্ণনা করেন যে, রাসূল ﷺ এর ইন্তিকালের পাঁচদিন পূর্বে তিনি তাঁর নিকট থেকে বলতে শুনেছেন: পূর্ববর্তী নবীর উম্মতগণ তাদের নবীদের কবরকে ইবাদতের স্থান বানিয়েছিল, তোমরা কবরকে ইবাদতখানা বানিও না, আমি কঠিনভাবে এরূপ করতে নিষেধ করছি। (সহীহ মুসলিম, খ-১, পৃ-২৬৯ নং ১০৮৩)
৯১. সুরা আল-হিজর থেকে উদ্ধৃত (১৫:৮৭)
৯২. এখানে রাসূল ﷺ যে বড়ত্বের কথা বলছেন তা হলো এগুলো তিলাওয়াতের মাধ্যমে অধিক সাওয়াব লাভ করা। অন্যথায় কুরআনের এক অংশের শ্রেষ্ঠত্ব বর্ণনার দ্বারা অন্য অংশের ঘাটতি দেখা যায় যা আল্লাহর কালামের ব্যাপারে খাটে না। (শারহ নব্বী, খ-৩, পৃ-৩৫৪)
📄 সন্ধি
১৪১. আবুদ্ দারদা (রা) বলেন, রাসূল ﷺ ইরশাদ করেন:
( أَلَا أُخْبِرُكُمْ بِأَفْضَلَ مِنْ دَرَجَةِ الصِّيَامِ وَالصَّلاةِ وَالصَّدَقَة؟) قَالُوا : بلى . قَالَ : صَلاحُ ذَاتِ الْبَيْنِ فَإِنَّ فَسَادَ ذَاتِ الْبَيْنِ هِيَ الْحَالِقَةُ
অর্থঃ 'আমি কি তোমাদের সিয়াম, সালাত এবং সদকার চেয়েও মর্যাদার (ও সাওয়াব) দিক দিয়ে উত্তম এমন কিছুর সন্ধান দিব না? তারা বললেন : 'অবশ্যই।' তিনি তখন বললেন: মানুষের মধ্যে মিলমিশের (সন্ধি) ব্যবস্থা করা। কেননা দু'জনের মধ্যে সম্পর্ক ছিন্ন করা ধ্বংসের মূল।' (সুনানে তিরমিজী, আবু দাউদ, খ-১, পৃ-১৩৭০, নং ৪৯০১, সুনানে তিরমিজী খ-২, পৃ-৩০৭, নং ২০৩৭)