📘 ইসলামে সর্বোত্তম > 📄 ইসলাম

📄 ইসলাম


৭২. ইবন আমর (রা) থেকে বর্ণিত, হযরত মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন:
أَفْضَلُ الْمُؤْمِنِينَ إِسْلَامًا مَنْ سَلِمَ الْمُسْلِمُونَ مِنْ لِسَانِهِ وَيَدِهِ .
অর্থ: 'সর্বোত্তম ঈমানদার হলো ইসলামের দৃষ্টিতে ঐ ব্যক্তি যার জিহবা এবং হাতের হতে অন্য মুসলমানগণ নিরাপদ থাকে।' (আততাবারানী ফিল কাবীর, সহীহ আল-বুখারী, খ-১, পৃ-১৮ নং৯, সহীহ মুসলিম, খ-১, পৃ-২৯ নং ৬৪, সুনানে আবু দাউদ, খ-২, পৃ-৬৮৫, ৬৮৬, নং-২৪৭৫, আরো দেখুন মিল্কাতুল মাসাবীহ, খ-১, পৃ-৮১৩, ৮১৪)

৭৩. ইবনে আব্বাস (রা) উল্লেখ করেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন:
أَفْضَلُ الْإِسْلَامِ الْحَنَفِيَّةِ السَّمْحَةُ .
অর্থ: 'সর্বোত্তম ইসলাম হলো সহজ পথ, যে কোন ধরনের কাঠিন্য মুক্ত।' (তাবারানী, আল-মুজামুল আওমাত)

৭৪. আবু হুরাইরাহ (রা) বলেন, রাসূল ﷺ ইরশাদ করেন:
خِيَارُكُمْ فِي الْجَاهِلِيَّةِ، خِيَارُكُمْ فِي الْإِسْلَامِ إِذَا فَقُهُوا -
অর্থ: 'তোমাদের মধ্যে যারা জাহেলিয়াতের (ইসলাম গ্রহণের পূর্বে) সময় উত্তম ছিল তারা ইসলাম গ্রহণের পরেও উত্তম যদি তারা দ্বীনের বুঝ সঠিকভাবে গ্রহণ করে।' (সহীহ আল-বুখারী, খ-৪, পৃ. ৩৮৮ নং ৫৯৩, সহীহ মুসলিম, খ-৪, পৃ. ১২৬৭ নং ৫৮৬২)

৭৫. আব্দুল্লাহ ইবন আমর (রা) বলেন যে, একজন লোক আল্লাহর রাসূলকে জিজ্ঞেস করলেনঃ
أيُّ الإِسْلاَمِ خَيْرٌ؟ قَالَ : (تُطْعِمُ الطَّعَامَ، وَتُقْرِأُ السَّلَامَ عَلَى مَنْ عَرَفْتَ وَمَنْ لَمْ تَعْرِف).
অর্থ : 'ইসলামের কোন বিষয়টি উত্তম? রাসূল ﷺ উত্তরে বললেনঃ (মানুষকে) খাদ্য খাওয়াবে, তুমি যাকে চিন আর না চিন তাকে সালাম দিবে।' (মুসলিম, সুনানে আবু দাউদ, খ-৩, পৃ-১৪৩৪ নং ৫১৭৫)

টিকাঃ
৫৫. মুমিনদের মধ্যে সর্বোত্তম। কখনো একবচনও ব্যবহৃত হয়েছে। উদ্দেশ্য একই।

📘 ইসলামে সর্বোত্তম > 📄 জিহাদ

📄 জিহাদ


৭৬. মহান আল্লাহ বলেন:
وَلَئِنْ قُتِلْتُمْ فِي سَبِيلِ اللهِ أَوْ مُتُّمْ لَمَغْفِرَةٌ مِّنَ اللَّهِ وَرَحْمَةً خَيْرٌ مِّمَّا يَجْمَعُونَ
অর্থ : 'যদি আল্লাহর রাস্তায় শাহাদাতবরণ কর অথবা মারা যাও তাহলে অবশ্যই তোমাদের জন্য আল্লাহর যে ক্ষমা ও দয়া তা তাদের সঞ্চিত পার্থিব সম্পদের চেয়ে অনেক ভাল।' (সূরা আলে ইমরান- ৩: ১৫৭)

৭৭. হযরত আনাস এবং ইবন মাসউদ (রা) বর্ণনা করেন যে, নবী করীম ﷺ ইরশাদ করেন:
أَفْضَلُ الْأَعْمَالِ الصَّلاَةُ لِوَقْتِهَا ، وَبِرَ الْوَالِدَيْنِ، وَالْجِهَادُ فِي سَبِيلِ اللَّهِ .
অর্থ : 'সর্বোত্তম কাজ হলো সময়মত সালাত আদায় করা (অর্থাৎ প্রথম সময়ে) পিতা-মাতার সাথে সদ্ব্যবহার করা, আল্লাহর পথে জিহাদ করা।' (সহীহ আল-বুখারী, খ-১, পৃ-৩০০, ৩০১ নং ৫০৫, সহীহ মুসলিম, খ-১, পৃ-৪৯, ৫০, নং-১৫২)

৭৮. হযরত আবু সায়ীদ, আবু উমামাহ এবং তারিক ইবন শিহাব সকলে নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে উক্তি উদ্ধৃত করেছেন:
أَفْضَلُ الْجِهَادِ كَلِمَةٌ حَقِّ عِنْدَ سُلْطَانٍ جَائِرٍ
অর্থঃ 'সর্বোত্তম জিহাদ হলো অত্যাচারী শাসকের সামনে সত্য কথা বলা।' (ইবন মাজাহ্, সুনানে আহমাদ ও নাসায়ী, সুনানে আবু দাউদ খ-৩, পৃ-২০৯, নং ৪৩৩০, মিশকাতুল মাসাবীহ, খ-১, পৃ-৭৮৭)

৭৯. ইবন আমর (রা) হতে বর্ণিত যে, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন:
أَفْضَلُ الْجِهَادِ مَنْ جَاهَدَ نَفْسَهُ فِي ذَاتِ اللهِ عَزَّ وَجَلَّ .
অর্থ: 'সর্বোত্তম জিহাদ হল সুমহান ও পরাক্রমশালী আল্লাহ তায়ালার জন্য কোন ব্যক্তি তার নিজের বিরুদ্ধে সংগ্রাম করা।' (আত্তাবারানী ফিল কাবীর, দেখুন মিশকাতুল মাসাবীহ, খ-১, পৃ.-১৫ ও ১৬)

৮০. আবু যর (রা) আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছেনঃ
أَفْضَلُ الْجِهَادِ أَنْ يُجَاهِدَ الرَّجُلُ نَفْسَهُ وَهَوَاهُ
অর্থঃ 'সর্বোত্তম জিহাদ হলো, কোন ব্যক্তি তার নিজ সত্তা ও ইচ্ছার বিরুদ্ধে জিহাদ করা।' (আদ্‌ দায়লামী, আবু নায়ীম, ইবন নাজ্জার)

৮১. হযরত আয়িশা (রা) থেকে বর্ণিত, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন:
يَا رَسُولَ اللَّهِ نَرَى الْجِهَادَ أَفْضَلَ الْعَمَلِ أَفَلَا نُجَاهِدُ؟ قَالَ : (لا) لَكُنَّ أَفْضَلُ الْجِهَادِ حَجَّ مَبْرُورٌ)
অর্থ : 'হে আল্লাহর রাসূল, আমরা জিহাদকে সর্বোত্তম কাজ মনে করি, আমরা কি জিহাদ করব না? তিনি ﷺ উত্তর দিলেন, 'না'। (মহিলাদের) সর্বোত্তম জিহাদ হল حج مبرور (হাজ্জে মাবরূর) বা কবুল হজ। (সহীহ আল-বুখারী, খ-২, পৃ-৩৪৭, নং ৫৯৫)

টিকাঃ
৫৬. খাদ্য খাওয়ানোর অর্থ হলো খাবারের সঙ্গে অন্যকে শরিক করা। দরিদ্রদের খাদ্যদানকে কুরআনে উৎসাহিত করা হয়েছে (৬৯:৩৪, ৭৬:৮-৯) এবং একে ঈমানের চিহ্ন হিসেবে গণ্য করা হয়েছে। প্রতিবেশীর সঙ্গে খাদ্য ভাগ করে খাওয়ার ব্যাপারেও নবী করীম ﷺ অত্যন্ত গুরুত্বারোপ করেছেন। ইবন আব্বাস (রা) বর্ণিত হাদীস থেকে জানা যায় নবী করীম ﷺ ইরশাদ করেন: 'যে ব্যক্তি পেট পুরে আহার করে অথচ তার প্রতিবেশী অভুক্ত থাকে সেই ব্যক্তি ঈমানদার নয়।' তাবারানী এবং আল-হাকীম (মিশকাতুল মাসাবীহ, খ-২, পৃ-১০৩৮)
৫৭. 'জিহাদ' মৌলিকভাবে মুসলিম রাষ্ট্রকে রক্ষার জন্য অথবা বাধাহীনভাবে ইসলামকে প্রচার করার জন্য সামরিক সংগ্রাম বা প্রচেষ্টা যেহেতু এ শব্দের শাব্দিক অর্থ চেষ্টা প্রচেষ্টা চালান সেহেতু এটা যেকোন ধরনের শয়তানী কাজকর্মের বিরুদ্ধে শক্তি ব্যয় বা খাটানো অর্থেও ব্যবহৃত হয় যদিও তা কোন একক ব্যক্তির প্রচেষ্টায় হোক না কেন। বলার জন্য বিশেষ ধরনের সাহস প্রয়োজন। কেননা এমতবস্থায় ব্যক্তি সাধারণত নিরস্ত্র থাকে। অথচ শাসক তখন সশস্ত্র প্রহরায় থাকে এবং তার চাটুকাররা বক্তাকে অপরাধী প্রমাণ করার জন্য জনগণকে বুঝানোর চেষ্টা করে। সামরিক যুদ্ধে একজন (বাদশাহ) সশস্ত্র থাকে এবং সশস্ত্র সঙ্গীদের দ্বারা পরিবেষ্টিত থাকে। সুতরাং সে সময় অবশ্যই মানসিক সমর্থনের বিষয়াদি থাকে। এমতবস্থায় সত্য কথা বলা আর নিজেকে শাহাদাতের জন্য পেশ করা সমার্থক বটে। এজন্যই একে সর্বোত্তম জিহাদ বলা হয়েছে।)
৫৮. 'কবুল হজ' অর্থাৎ যে হজ আল্লাহর নিকট গ্রহণীয় হয়েছে, যে হজ্জে খেলাফ ও হারাম কোন কাজ করা হয় নি। এ ধরনের হজ দ্বারা পাপ মোচন হয়। আবু হুরাইরাহ্ (রা) থেকে বর্ণিত, আল্লাহর রাসূল ইরশাদ করেন: যে ব্যক্তিই আল্লাহর ঘরের হজ করবে স্ত্রী সহবাস বা কোনরূপ পাপ কাজ ছাড়াই, সে এমনভাবে হজ থেকে নিষ্পাপ হয়ে ফিরে আসবে যেন তার মাতা তাকে এইমাত্র জন্ম দান করেছেন।' সহীহ আল-বুখারী, খ-৩, পৃ-২৭, নং ৪৫ এবং ৪৬) হজের ইহ্রাম বাঁধার পর এবং রোযা রাখা অবস্থায় স্ত্রী সহবাস করা হারাম। রাসূল ﷺ কিছু নারীকে যুদ্ধের ময়দানে যাওয়ার অনুমতি দিয়েছেন। এর বেশিরভাগই আহত সৈন্যদের সেবা শুশ্রূষা করতেন, যেমন খায়বারের যুদ্ধে গিফারী গোত্রের মহিলারা করেছেন। কিছু কিছু মহিলা সরাসরি যুদ্ধে অংশ গ্রহণ করেছেন, উদাহরণস্বরূপ উম্মে উমারা, নুসাইবা বিনতে কাব, রাসূল ﷺ এর প্রতিরক্ষায় ওহুদ যুদ্ধে ভূমিকা পালন করেছেন। । উম্মে সুলাইমান বিনতে মিলহান ওহুদ এবং হুনায়ন যুদ্ধে সশস্ত্র অবস্থায় অংশগ্রহণ করেন। আসমা বিনতে ইয়াযীদ ইয়ারমুকের যুদ্ধে নয় জন আরব নেতাকে হত্যা করেছিলেন।

📘 ইসলামে সর্বোত্তম > 📄 ভ্রমণ

📄 ভ্রমণ


৮২. জাবির (রা) থেকে বর্ণিত, রাসূল ﷺ ইরশাদ করেন:
خيْرُ مَا رُكِبَتْ إِلَيْهِ الرَّوَاحِلُ مَسْجِدِى هَذَا وَالْبَيْتُ الْعَتِيقُ.
অর্থঃ "আরোহণ করার সর্বোত্তম স্থান হলো আমার এই মসজিদ এবং প্রাচীন ঘর।”

টিকাঃ
৫৯. অর্থাৎ কাবা শরীফ। হযরত ইবরাহীম এবং তদীয় পুত্র ইসমাঈল (আ) কর্তৃক ইবাদতের জন্য তৈরি প্রথম ঘর। রাসূল ﷺ তিনটি মসজিদ ছাড়া অন্য কোন স্থানে ধর্মীয় উদ্দেশ্যে সফর করতে নিষেধ করেছেন। সেগুলো হলো- ১. মসজিদে হারাম, মক্কার মসজিদ, ২. মসজিদে রাসূল, নবীর মসজিদ মদিনায়, ৩. মসজিদুল আকসা, জেরুসালেমের মসজিদ। (সহীহ আল-বুখারী, খ-২, পৃ-১৫৭ নং ২৮১)

📘 ইসলামে সর্বোত্তম > 📄 নেতৃবৃন্দ

📄 নেতৃবৃন্দ


৮৩. আওফ ইবন মালিক বর্ণনা করেন, নবী করীম ﷺ ইরশাদ করেন:
خِيَارُ أَئِمَّتِكُمُ الَّذِينَ تُحِبُّونَهُمْ وَيُحِبُّونَكُمْ، وَتُصَلُّونَ عَلَيْهِمْ وَيُصَلُّونَ عَلَيْكُمْ، وَشِرَارُ أَئِمَّتِكُمُ الَّذِينَ تُبْغِضُونَهُمْ وَيُبْغِضُونَكُمْ وَتَلْعَنُونَهُمْ وَيَلْعَنُونَكُمْ
অর্থ : 'তোমাদের মধ্যে সর্বোত্তম নেতাগণ হলেন তারা যাদের তোমরা ভালবাস, তারাও তোমাদের ভালবাসেন, তোমরা তাদের জন্য দুয়া কর তারা তোমাদের জন্য দুয়া করেন। তোমাদের মধ্যে খারাপ নেতাগণ হলো তারা যাদের প্রতি তোমরা অসন্তুষ্ট, তারাও তোমাদের প্রতি অসন্তুষ্ট, তোমরা তাদের অভিশাপ দেও এবং তারাও তোমাদের অভিশাপ দেয়।' (সহীহ মুসলিম, খ-৩, পৃ-১০৩৩, নং ৪৫৭৩, দেখুন, মিশকাতুল মাসাবীহ, খ-১, পৃ-৭৮১, ৭৮২)

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00