📄 সম্ভাষণ
৬৩. সর্বশক্তিমান আল্লাহ বলেন:
وإذا حُبِّيْتُمْ بِتَحِيَّةٍ فَحَيُّوا بِأَحْسَنَ مِنْهَا أَوْ رُدُّوهَا إِنَّ اللَّهَ كَانَ عَلَى كُلِّ شَيْءٍ حَسِيبًا .
অর্থ: 'যখন তোমাদেরকে সম্বোধন করা হয় তখন তোমরা উত্তমরূপে তার প্রত্যুত্তর দাও, অথবা তার মত সম্ভাষণ কর। নিশ্চয়ই আল্লাহ সব কিছুর হিসাব গ্রহণ করবেন।' (সূরা আন নিসা-৪:৮৬)
৬৪. সর্বশক্তিমান আল্লাহ ইরশাদ করেনঃ
يَأَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا لَا تَدْخُلُوا بُيُوتًا غَيْرَ بُيُوتِكُمْ حَتَّى تَسْتَأْنِسُوا وَتُسَلِّمُوا عَلَى أَهْلِهَا ذَلِكُمْ خَيْرٌ لَّكُمْ لَعَلَّكُمْ تَذَكَّرُونَ .
অর্থ : 'হে ঈমানদারগণ! তোমরা তোমাদের ছাড়া অন্যের গৃহে তার অনুমতি গ্রহণ ও সম্ভাষণ না দিয়ে প্রবেশ কর না। এটা তোমাদের জন্য উত্তম। আশা করা যায় যে, তোমরা তা উপলব্ধি করতে পারবে।' (সূরা আন নূর- ২৪: ২৭)
টিকাঃ
৪৮. রাসূল ﷺ وَعَلَيْكُمْ 'তোমাদের প্রতিও' বলার শিক্ষা দিয়েছেন। এর দ্বারা যে যেমনভাবে সম্ভাষণ করবে তাকে সমদান দেবার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। যেমন অনেকে 'ঘাম' বা 'বিষ' শব্দ ব্যবহার করত তার উপযুক্ত জবাব এর মধ্যে রয়েছে।
৪৯. মানুষের গোপনীয়তার অধিকার সম্পর্কে।
📄 হজ
৬৫. হযরত ইবন উমর, আবু বকর এবং ইবন মাসউদ (রা) থেকে বর্ণিত, রাসূল ﷺ ইরশাদ করেন:
أَفْضَلُ الْحَجَّ الْحَجَّ وَالنَّج .
অর্থঃ 'সর্বোত্তম হজ (অংশ) হলো কণ্ঠস্বর উচ্চ করা (তালবিয়া পাঠ করার সময়) এবং তার পরবর্তী কাজ (কুরবানিকৃত পশুর রক্ত প্রবাহিত করা)।' (সুনানে তিরমিজী, ইবন মাজা এবং আবু ইয়ালা)
৬৬. ইবন আব্বাস (রা)-কে বলতে শোনা গেছে,
كَانَ أَهْلُ الْيَمَنِ يَحُجُونَ وَلَا يَتَزَوَّدُونَ وَيَقُولُونَ نَحْنُ الْمُتَوَكِّلُونَ فَإِذَا قَدِمُوا مَكَّةَ سَأَلُوا النَّاسَ فَأَنْزَلَ اللهُ تَعَالَى . وَتَزَوَّدُوا فَإِنَّ خَيْرَ الزَّادِ التَّقْوى .
অর্থ: 'ইয়েমেনের লোকেরা হজ করতে আসার সময় তাদের পাথেয় সঙ্গে আনত না। তারা বলত আমরা আল্লাহর ওপর ভরসা করছি। ফলে তারা মক্কায় পৌঁছানোর পর লোকদের নিকট ভিক্ষা করত। এরপর মহান আল্লাহ নিম্নোক্ত আয়াত অবতীর্ণ করেন (ভাবার্থ) তোমরা তোমাদের সঙ্গে পাথেয় গ্রহণ কর, যদিও সর্বোত্তম পাথেয় হলো আল্লাহর ভয়। (সহীহ আল-বুখারী, খ-২, পৃ-৩৪৮, ৩৪৯ নং ৫৯৮, সুনানে আবু দাউদ, খ-২, পৃ-৪৫৪নং ১৭২৬)
টিকাঃ
৫০. (সূরা আলহাজ্জ- ২২: ৩৭) আল্লাহ বলেন- لَنْ يَنَالُ الله
'তাদের গোস্ত বা রক্ত আল্লাহর নিকট পৌঁছায় না বরং তোমাদের আল্লাহ ভীতিই পৌঁছায়।
৫১. সূরা আল-বাকারা (২: ১৯৭) এ হাদীস থেকে স্পষ্ট বুঝা যায় যে, প্রয়োজনীয় উপকরণ সংগ্রহ করে তারপর আল্লাহর ওপর ভরসা করতে হবে।
📄 হিজরত
৬৭. ইবন উমার (রা) থেকে বর্ণিত, নবী করীম ﷺ ইরশাদ করেন:
أَفْضَلُ الْمُهَاجِرِينَ مَنْ هُجَرَ مَا نَهَى اللَّهُ تَعَالَى عَنْهُ، وَأَفْضَلُ الْجِهَادِ مَنْ جَاهَدَ نَفْسَهُ فِي ذَاتِ اللَّهِ عَزَّ وَجَلَّ
অর্থ : 'সর্বোত্তম মুহাজির (ত্যাগী) হলো ঐ ব্যক্তি যে আল্লাহর নিষিদ্ধ কার্যাবলি ত্যাগ করেছে, সর্বোত্তম জিহাদ (সংগ্রাম) হলো যে ব্যক্তি মহান ও পরাক্রমশালী আল্লাহর জন্য নিজ প্রবৃত্তি ও চাহিদার বিরুদ্ধে সংগ্রাম করে।' (আত্তাবারানী আল-কাবীর, এর এক অংশ বুখারীতে রয়েছে। সহীহ আল-বুখারী, খ-১, পৃ-১৮ নং ৯, সুনানে আবু দাউদ, খ-২, পৃ-৬৮৫, ৬৮৬, নং ২৪৭৫, দেখুন মিশকাতুল মাসাবীহ, খ-১, পৃ-১৫, ১৬ এবং খ-১, পৃ-৮১৩, ৮১৪)
📄 কৃপণতা
৬৮. মহান আল্লাহ আরো বলেনঃ
وَلَا تَحْسَبَنَّ الَّذِينَ يَبْخَلُونَ بِمَا أَتَاهُمُ اللَّهُ مِنْ فَضْلِهِ هُوَ خَيْرٌ لَّهُمْ بَلْ هُوَ شَرٌّ لَّهُمْ سَيُطَوَّقُوْنَ مَا يَخِلُوا بِهِ يَوْمَ الْقِيَامَةِ .
অর্থ : 'ঐ সব কৃপণ লোক যাদেরকে আল্লাহ তায়ালা সম্পদ দিয়েছেন নিজ অনুগ্রহে এবং তা আঁকড়ে ধরে আছে একে তারা যেন নিজেদের জন্য উত্তম মনে না করে বরং এটা হলো তাদের জন্য খারাপ। কেননা তাদের এই কৃপণতার সম্পদ কিয়ামতের দিন তাদের ঘাড়ে চাপিয়ে উঠানো হবে।' (সূরা আলে -ইমরান- ৩: ১৮০)