📄 বন্ধু
৬০. হযরত ইবনে আব্বাস (রা) থেকে বর্ণিত যে, যে অসুস্থতায় নবী করীম ﷺ ইন্তিকাল করেন, তিনি মাথায় একখানি কাপড় বেঁধে বের হয়ে আসলেন এবং মিম্বরের ওপর বসলেন। এরপর তিনি আল্লাহর গুণকীর্তন ও প্রশংসা করলেন, একথা বলে:
إِنَّهُ لَيْسَ مِنَ النَّاسِ أَحَدٌ أَمَنْ عَلَى فِي نَفْسِهِ وَمَالِهِ مِنْ أَبِي بَكْرِ بْنِ أَبِي قُحَافَةَ وَلَوْ كُنْتُ مُتَّخِذَا مِنَ النَّاسِ خَلِيلاً لا تَخَذْتُ أَبَا بَكْرٍ خَلِيلاً وَلكِنْ خُلَّةُ الإِسْلامِ أَفْضَلُ .
অর্থ : 'বাস্তবে এমন কেউ নেই যিনি তাঁর জান-মাল আবু বকর ইবন কুহাফার চাইতে আমাকে বেশি দিয়েছেন। যদি আমি কাউকে আমার ব্যক্তিগত ও ঘনিষ্ঠ বন্ধু হিসেবে গ্রহণ করতাম তাহলে তিনি হতেন আবু বকর (রা); তবে ইসলামের ভিত্তিতে যে বন্ধুত্ব তাই ভাল।' (সহীহুল বুখারী, খ-৫, পৃ-৫, ৬ নং ৬)
📄 মজলিস
৬১. আবু সায়ীদ বর্ণনা করেন, রাসূল ﷺ ইরশাদ করেন:
خَيْرُ الْمَجَالِسِ أَوْ سَعُهَا
অর্থ : 'সর্বোত্তম মজলিশগুলো হলো যেগুলোতে বসার জন্য প্রশস্ত ব্যবস্থা রয়েছে।' (সুনানে আবু দাউদ, খ-৩, পৃ-১৩৪৭ নং ৪৮০২, সুনানে আহমদ, ইমাম বুখারী আদাবুল মুফরাদে, মিশকাতুল মাসাবীহ, খ-২, নং ৯৮৭-৮)
📄 প্রজন্ম
৬২. ইমরান ইবন হুসাইন (রা) বর্ণনা করেন, নবী করীম ﷺ ইরশাদ করেন:
خَيْرُ النَّاسِ قَرْنِي، ثُمَّ الَّذِينَ يَلُونَهُمْ، ثُمَّ الَّذِينَ يَلُونَهُمْ ، ثُمَّ يَأْتِي مِنْ بَعْدِهِمْ قَوْمٌ يَتَسَمَّنُونَ، وَيُحِبُّونَ السَّمَنَ، يَعْطُونَ الشَّهَادَةَ قَبْلَ أَنْ يُسْأَلُوهَا
অর্থ : 'সর্বোত্তম মানুষ হলো আমার প্রজন্ম, এরপর হলো পরবর্তী প্রজন্ম, এরপর হলো পরবর্তী প্রজন্মের লোকেরা। এরপর এমন লোকের আগমন হবে যারা হবে লোভী এবং তারা নিজেদের অত্যধিক ভালবাসবে। তারা সাক্ষ্য চাওয়ার আগেই দিয়ে দিবে।' (সুনানে তিরমিজী, হাকীম, সুনানে আবু দাউদ, খ-৩, পৃ-১৩০৬, ১৩০৭ নং ৪৬৪০) সহীহ মুসলিম, খ-৪, পৃ-১৩৪৬, নং-৬১৫৪ আবু হুরাইরাহ (রা) থেকে। আরো দেখুন মিশকাতুল মাসাবীহ, খ-২, নং ১৩১৮)
টিকাঃ
৪৫. এ বর্ণনার দ্বারা এটা বুঝায় না যে, প্রত্যেক প্রজন্মের প্রতিজন ব্যক্তি তার পরবর্তী প্রজন্মের প্রত্যেক ব্যক্তির চেয়ে উত্তম। বরং গড় মান বলা হয়েছে।
৪৬. খাবার ব্যাপারে অধিক গ্রহণ হলো পাপ, এটা লোভের প্রকাশ। সঠিকভাবে রোযা পালনের মাধ্যমে এ রোগের চিকিৎসা সম্ভব। রাসূল ﷺ মধ্যম পরিমাণ খাবার গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছেন।
৪৭. অর্থাৎ মিথ্যা সাক্ষ্য দেয়া।
📄 সম্ভাষণ
৬৩. সর্বশক্তিমান আল্লাহ বলেন:
وإذا حُبِّيْتُمْ بِتَحِيَّةٍ فَحَيُّوا بِأَحْسَنَ مِنْهَا أَوْ رُدُّوهَا إِنَّ اللَّهَ كَانَ عَلَى كُلِّ شَيْءٍ حَسِيبًا .
অর্থ: 'যখন তোমাদেরকে সম্বোধন করা হয় তখন তোমরা উত্তমরূপে তার প্রত্যুত্তর দাও, অথবা তার মত সম্ভাষণ কর। নিশ্চয়ই আল্লাহ সব কিছুর হিসাব গ্রহণ করবেন।' (সূরা আন নিসা-৪:৮৬)
৬৪. সর্বশক্তিমান আল্লাহ ইরশাদ করেনঃ
يَأَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا لَا تَدْخُلُوا بُيُوتًا غَيْرَ بُيُوتِكُمْ حَتَّى تَسْتَأْنِسُوا وَتُسَلِّمُوا عَلَى أَهْلِهَا ذَلِكُمْ خَيْرٌ لَّكُمْ لَعَلَّكُمْ تَذَكَّرُونَ .
অর্থ : 'হে ঈমানদারগণ! তোমরা তোমাদের ছাড়া অন্যের গৃহে তার অনুমতি গ্রহণ ও সম্ভাষণ না দিয়ে প্রবেশ কর না। এটা তোমাদের জন্য উত্তম। আশা করা যায় যে, তোমরা তা উপলব্ধি করতে পারবে।' (সূরা আন নূর- ২৪: ২৭)
টিকাঃ
৪৮. রাসূল ﷺ وَعَلَيْكُمْ 'তোমাদের প্রতিও' বলার শিক্ষা দিয়েছেন। এর দ্বারা যে যেমনভাবে সম্ভাষণ করবে তাকে সমদান দেবার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। যেমন অনেকে 'ঘাম' বা 'বিষ' শব্দ ব্যবহার করত তার উপযুক্ত জবাব এর মধ্যে রয়েছে।
৪৯. মানুষের গোপনীয়তার অধিকার সম্পর্কে।