📄 শুক্রবার
৫৮. আবু হুরাইরা (রা) থেকে বর্ণিত, নবী করীম ﷺ ইরশাদ করেন:
خَيْرُ يَوْمٍ طَلَعَتْ فِيْهِ الشَّمْسُ يَوْمُ الْجُمُعَةِ، فِيهِ خُلِقَ آدَمُ، وَفِيهِ أُهْبِطَ وَتِيْبَ عَلَيْهِ، وَفِيهِ قُبِضَ، وَفِيهِ تَقُومُ السَّاعَةُ ، مَا عَلَى الْأَرْضِ مِنْ دَابَّةٍ إِلَّا وَهِيَ تُصْبِحُ يَوْمَ الْجُمُعَةِ مُصِيخَةٌ، حَتَّى تطلُعَ الشَّمْسُ شَفَقًا مِنَ السَّاعَةِ، إِلَّا ابْنَ آدَمَ، وَفِيهِ لاَ يُصَادِقُهَا عَبْدٌ مُؤْمِنٌ وَهُوَ فِي الصَّلَاةِ يَسْأَلُ اللَّهَ شَيْئًا إِلَّا أَعْطَاهُ إِيَّاهُ .
অর্থঃ 'যে দিনে সূর্যোদয় হয় তার মধ্যে সর্বোত্তম দিন হল শুক্রবার, এ দিনে আদম (আ)-কে সৃষ্টি করা হয়েছিল, ঐ দিনে তাঁকে জান্নাতে প্রবেশ করানো হয়, এদিনে তিনি জান্নাত ত্যাগ করেন, এদিনে তাঁকে ক্ষমা করা হয়, এ দিনে তিনি মারা যান, এ দিনেই চূড়ান্ত দিন (কিয়ামত) হবে। পৃথিবীর সব সৃষ্টি, আদম সন্তান ছাড়া শুক্রবারের চূড়ান্ত সূর্যোদয়ের সময় জান্নাত হবে এবং শুক্রবারের একটা সময় আছে যখন আল্লাহ মুমিন বান্দার দুয়া কবুল করেন, যদি মুমিন বান্দা ঐ সময় নামাযের মধ্যে থাকে। (সুনানে আবু দাউদ, খ-১, পৃ-২৬৯, নং ১০৪১, সহীহ মুসলিম, খ-২, পৃ-৪০৫, নং ১৮৫৬-৭, পৃ-৪০৪ নং ১৮৪৯-৫০, মিশকাতুল মাসাবীহ, খ-১, নং২৮৫)
৫৯. সামুরা (রা) থেকে বর্ণিত, নবী করীম ﷺ ইরশাদ করেন:
مَنْ تَوَضَّأَ يَوْمَ الْجُمُعَةِ فَبِهَا وَنِعْمَتْ، وَمَنِ اغْتَسَلَ فَهُوَ أَفْضَلُ .
অর্থ: 'যে জুমুয়ার দিনে অজু করে তা তার জন্য উত্তম, আর যে ব্যক্তি গোসল করে তা তার জন্য সর্বোত্তম।' (সুনানে আবু দাউদ, খ-১, পৃ-৯৩ নং ৩৫৪)
টিকাঃ
৪১. চূড়ান্ত সময় শুক্রবারের সূর্যোদয়ের পূর্বে শুরু হবে। ফলে সব সৃষ্টি ভীত-বিহ্বল হয়ে জাগ্রত হবে।
৪২. সহীহ মুসলিমের বর্ণনাসমূহে বুঝা যায় যে, এ সময়টি খুবই সংকীর্ণ এবং অজ্ঞাত যেমন লাইলাতুল কদর এর সময় অজ্ঞাত। বেশিরভাগ আলেম ঐ সময় আছর থেকে মাগরিবের বলে অনুমান করেছেন। (সূর্যাস্ত পর্যন্ত)
৪৩. নবী করীম ﷺ বিশেষভাবে বর্ণনা করেছেন যে, প্রার্থনা হবে শুক্রবারের বিধিবদ্ধ সালাতে। সেই প্রার্থনা সিজদার মধ্যে হতে পারে যেমন রাসূল (সা) অন্য হাদীসে ইরশাদ করেন প্রার্থনার সর্বোত্তম সময় হলো সিজদা। যদিও রাসূল ﷺ সর্বাবস্থায় প্রার্থনা করেছেন।
📄 বন্ধু
৬০. হযরত ইবনে আব্বাস (রা) থেকে বর্ণিত যে, যে অসুস্থতায় নবী করীম ﷺ ইন্তিকাল করেন, তিনি মাথায় একখানি কাপড় বেঁধে বের হয়ে আসলেন এবং মিম্বরের ওপর বসলেন। এরপর তিনি আল্লাহর গুণকীর্তন ও প্রশংসা করলেন, একথা বলে:
إِنَّهُ لَيْسَ مِنَ النَّاسِ أَحَدٌ أَمَنْ عَلَى فِي نَفْسِهِ وَمَالِهِ مِنْ أَبِي بَكْرِ بْنِ أَبِي قُحَافَةَ وَلَوْ كُنْتُ مُتَّخِذَا مِنَ النَّاسِ خَلِيلاً لا تَخَذْتُ أَبَا بَكْرٍ خَلِيلاً وَلكِنْ خُلَّةُ الإِسْلامِ أَفْضَلُ .
অর্থ : 'বাস্তবে এমন কেউ নেই যিনি তাঁর জান-মাল আবু বকর ইবন কুহাফার চাইতে আমাকে বেশি দিয়েছেন। যদি আমি কাউকে আমার ব্যক্তিগত ও ঘনিষ্ঠ বন্ধু হিসেবে গ্রহণ করতাম তাহলে তিনি হতেন আবু বকর (রা); তবে ইসলামের ভিত্তিতে যে বন্ধুত্ব তাই ভাল।' (সহীহুল বুখারী, খ-৫, পৃ-৫, ৬ নং ৬)
📄 মজলিস
৬১. আবু সায়ীদ বর্ণনা করেন, রাসূল ﷺ ইরশাদ করেন:
خَيْرُ الْمَجَالِسِ أَوْ سَعُهَا
অর্থ : 'সর্বোত্তম মজলিশগুলো হলো যেগুলোতে বসার জন্য প্রশস্ত ব্যবস্থা রয়েছে।' (সুনানে আবু দাউদ, খ-৩, পৃ-১৩৪৭ নং ৪৮০২, সুনানে আহমদ, ইমাম বুখারী আদাবুল মুফরাদে, মিশকাতুল মাসাবীহ, খ-২, নং ৯৮৭-৮)
📄 প্রজন্ম
৬২. ইমরান ইবন হুসাইন (রা) বর্ণনা করেন, নবী করীম ﷺ ইরশাদ করেন:
خَيْرُ النَّاسِ قَرْنِي، ثُمَّ الَّذِينَ يَلُونَهُمْ، ثُمَّ الَّذِينَ يَلُونَهُمْ ، ثُمَّ يَأْتِي مِنْ بَعْدِهِمْ قَوْمٌ يَتَسَمَّنُونَ، وَيُحِبُّونَ السَّمَنَ، يَعْطُونَ الشَّهَادَةَ قَبْلَ أَنْ يُسْأَلُوهَا
অর্থ : 'সর্বোত্তম মানুষ হলো আমার প্রজন্ম, এরপর হলো পরবর্তী প্রজন্ম, এরপর হলো পরবর্তী প্রজন্মের লোকেরা। এরপর এমন লোকের আগমন হবে যারা হবে লোভী এবং তারা নিজেদের অত্যধিক ভালবাসবে। তারা সাক্ষ্য চাওয়ার আগেই দিয়ে দিবে।' (সুনানে তিরমিজী, হাকীম, সুনানে আবু দাউদ, খ-৩, পৃ-১৩০৬, ১৩০৭ নং ৪৬৪০) সহীহ মুসলিম, খ-৪, পৃ-১৩৪৬, নং-৬১৫৪ আবু হুরাইরাহ (রা) থেকে। আরো দেখুন মিশকাতুল মাসাবীহ, খ-২, নং ১৩১৮)
টিকাঃ
৪৫. এ বর্ণনার দ্বারা এটা বুঝায় না যে, প্রত্যেক প্রজন্মের প্রতিজন ব্যক্তি তার পরবর্তী প্রজন্মের প্রত্যেক ব্যক্তির চেয়ে উত্তম। বরং গড় মান বলা হয়েছে।
৪৬. খাবার ব্যাপারে অধিক গ্রহণ হলো পাপ, এটা লোভের প্রকাশ। সঠিকভাবে রোযা পালনের মাধ্যমে এ রোগের চিকিৎসা সম্ভব। রাসূল ﷺ মধ্যম পরিমাণ খাবার গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছেন।
৪৭. অর্থাৎ মিথ্যা সাক্ষ্য দেয়া।