📄 ঈমান
৪৯. আবু যার (রা) নবী করীম ﷺ থেকে উল্লেখ করেন:
أَفْضَلُ الْعَمَلِ إِيْمَانُ بِاللَّهِ وَجِهَادٌ فِي سَبِيلِ اللَّهِ
অর্থঃ 'সর্বোত্তম কাজ হলো আল্লাহর প্রতি ঈমান আনা এবং আল্লাহর রাস্তায় জিহাদ করা।' (ইবন হিব্বান, সহীহ আল-বুখারী, খ-৩, পৃ-৪১৯-২০, নং ৬৯৪) সহীহ মুসলিম খ-১, পৃ-৪৯, নং ২৪৯, মিশকাতুল মাসাবীহ।
৫০. উকবা বিন আমির (রা) হতে বর্ণিত, হযরত মুহাম্মাদ ﷺ ইরশাদ করেন:
أَفْضَلُ الْمُؤْمِنِينَ إِيْمَانًا أَحْسَنُهُمْ خُلُقًا .
অর্থ: 'ঈমানের দিক দিয়ে সর্বোত্তম ঐ ব্যক্তি যিনি চরিত্রের দিক দিয়ে সর্বোত্তম।' (আততাবারানী ফিল কবীর, মিশকাতুল মাসাবীহ, খ-১, পৃ-১৫ ও ১৬)
৫১. মাকাল ইবন ইয়াসার এবং উমাইর ইবন আল লাইছী আল্লাহর রাসূলকে বলতে শুনেছেন:
أَفْضَلُ الْإِيْمَانِ الصَّبْرُ وَالسَّمَاحَةُ
অর্থঃ 'সর্বোত্তম ঈমান হলো ধৈর্য এবং সহিষ্ণুতা।' (দায়লামী, আল-বুখারী ফিত্ তারীখ আমর ইবন আবাসা থেকে, আহমাদ এবং বায়হাকী থেকেও বর্ণিত।)
৫২. হযরত আবু হুরাইরা (রা) আল্লাহর নবীকে বলতে শুনেছেনঃ
الإيمَانُ بِضْعَ وَسَبْعُونَ أَفْضَلُهَا قَوْلُ لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ وَأَدْنَاهَا إِمَاطَةُ الْعَظْمِ عَنِ الطَّرِيقِ وَالْحَيَاءُ شُعْبَةٌ مِنَ الْإِيْمَانِ .
অর্থ: 'ঈমানের সত্তরটিরও বেশি শাখা-প্রশাখা রয়েছে, সর্বোত্তম শাখা হলো এ ঘোষণা দেয়া যে, আল্লাহ ছাড়া ইবাদতের উপযুক্ত আর কোন মাবুদ নেই, নিম্নতম শাখা হলো, রাস্তা থেকে হাড় সরিয়ে ফেলা, এবং লজ্জা ঈমানের একটি শাখা।' (সহীহ আল-বুখারী, মুসলিম, ইবন মাজাহ ও আবু দাউদ (আবু দাউদ খ-৩, পৃ-১৩১১ নং ৪৬৫৯)
টিকাঃ
৩৫. পূর্ববর্তী ৭নং বর্ণনাটি 'সর্বোত্তম চরিত্রের অধিকারীরা সর্বোত্তম ঈমানদার' বেশি প্রচলিত।
৩৬. এ শব্দগুলো আবু দাউদ এর বেশিরভাগ গ্রন্থে ৫১। শব্দটি উল্লেখ আছে, যার অর্থ বিরক্তিকর অথবা কষ্টদায়ক জিনিস।
📄 সাওম
৫৩. আবু উমামাহ (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি আল্লাহর রাসূলকে জিজ্ঞেস করেন:
أَيُّ الْعَمَلِ أَفْضَلُ؟ قَالَ : (عَلَيْكَ بِالصَّوْمِ فَإِنَّهُ لَا عِدْلَ لَهُ)
অর্থ : 'কোন কাজ উত্তম?' তিনি উত্তর দিলেন 'রোযা রাখা, কারণ এর সমান কিছুই নেই।' (সহীহ সুনানে নাসায়ী, খ-২, পৃ-৪৭৬ নং ২০৯৯, মিশকাতুল মাসাবীহ খ-১, পৃ-৮১৩-৪)
৫৪. জুনদুব (রা) বর্ণনা করেন, নবী কারীম ﷺ বলেন:
أَفْضَلُ الصِّيَامِ بَعْدَ رَمَضَانَ الشَّهْرُ الَّذِي تَدْعُونَهُ الْمُحَرَّمَ
অর্থ: 'রমযানের পরে সর্বোত্তম রোজা হলো তোমরা যাকে 'মহররম' বল (তার রোযা)।' (সুনানে নাসায়ী, সহীহুল মুসলিম, খ-২, পৃ-৫৬৯ নং ২৬১১, সুনানে আবু দাউদ, খ-২, পৃ-৬৬৮ নং ২৪২৩, মিশকাতুল মাসাবীহ, খ-১, নং ৪৩৩)
كَانَ أَحَبُّ الشُّهُورِ إِلَى رَسُولِ اللهِ ﷺ أَنْ يَصُومَهُ شَعْبَانُ، ثُمَّ يَصِلُهُ بِرَمَضَانَ .
অর্থ: 'আল্লাহর রাসূল ﷺ যে মাসকে (নফল) রোযার জন্য সর্বাধিক পছন্দ করতেন তা হলো শাবান, এরপর তিনি তাকে রমযানের সঙ্গে মিলাতেন।' (সুনানে আবু দাউদ খ-২, পৃ-৬৬৮, নং২৪২৫)
৫৬. ইবন আমর (রা) বর্ণনা করেন যে, নবী হযরত মুহাম্মাদ ﷺ ইরশাদ করেন:
أفْضَلُ الصَّوْمِ صَوْمُ أَخِي دَاوُدَ، كَانَ يَصُومُ يَوْمًا وَيُفْطِرُ يَوْمًا وَلَا يَفِرُّ إِذَا لاقى .
অর্থ: 'সর্বোত্তম (নফল) রোযা হল আমার ভাই দাউদ (নবী আ.)-এর রোযা, যিনি একদিন পর একদিন রোযা রাখতেন এবং তিনি যুদ্ধের ময়দানে শত্রুর মুকাবিলায় কখনো পলায়ন করেন নি।' (সুনানে তিরমিজী, সুনানে নাসায়ী, সহীহুল বুখারী, খ-৩, পৃ-১১৩-৪, নং ২০০, সহীহ মুসলিম খ-২, পৃ- ৫৬৫ নং ২৫৯৫, সুনানে আবু দাউদ, খ-২, পৃ-৬৭৪, নং-২৪৪২, মিশকাতুল মাসাবীহ খ-১, পৃ-৪৩৫-৬)
টিকাঃ
৩৭. নবী করীম ﷺ তাঁর সাহাবীদের চান্দ্র বছরের প্রথম মাস অর্থাৎ মহররমে বিশেষ করে প্রথম ১০ দিনে রোযা রাখার প্রতি জোর দিয়েছেন। যে ১০ দিনে রোযা মুসলমানদের ওপর মাহে রমাদানের রোযার পূর্বে ফরয ছিল অবশ্য তিনি ৮ম মাস অর্থাৎ শাবানের রোযাও গুরুত্ব সহকারে রাখতেন। তবে চাপ পড়ার ভয়ে সাহাবীদের উৎসাহ দিতেন না।
৩৮. ইমাম বুখারী (র) আয়িশা (রা) থেকে এ বিষয়ে দুটি বর্ণনা উল্লেখ করেছেন। ক. রাসূল ﷺ পূর্ণ রমযানই রোযা রাখতেন, খ. অন্য বর্ণনায় তিনি মাহে রমাদান ছাড়া অন্য কোন মাসে রাসূল ﷺ কে পূর্ণ মাস রোযা রাখতে দেখেন নি'। ইবন হাজার (র) বলেন যে, প্রথমটি দ্বিতীয়টির চাইতে কম বিশেষ। (ফতহুল বারী, খ-৫, পৃ-৭৪৪) তিনি বিরতিহীনভাবে শাবান ও রমাদানের পূর্ণ রোযা রাখতেন। এ আমল যেহেতু অন্যদের করতে নিষেধ করেছেন, তাই তা তার জন্য খাস। (দেখুন সহীহ আল বুখারী খ-৩, পৃ-৭৫-৭৬ নং ১৩৮, সহীহ মুসলিম, খ-২, পৃ-৫২৭ নং ২৩৮২)
📄 ঈদ
৫৭. আনাস (রা) বর্ণনা করেন যে, যখন নবী করীম ﷺ মদিনায় আগমন করেন, জাহেলিয়াতের যুগে মদীনার লোকেরা দুই দিন খেলাধুলা করে কাটাত। তিনি তাদের বলেন:
كَانَ لَكُمْ يَوْمَانِ تَلْعَبُونَ فِيهِمَا وَقَدْ أَبْدَلَكُمُ اللهُ بِهِمَا خَيْرًا مِنْهُمَا يَوْمَ الْفِطْرِ وَيَوْمَ الْأَضْحَى
অর্থ : 'তোমাদের দুটি দিন ছিল যাতে তোমরা খেলাধুলা করতে, কিন্তু আল্লাহ তার চেয়ে উত্তম জিনিস দিয়ে সেগুলোকে বদল করেছেন। তা হল-
ক. কুরবানির উৎসব – ঈদুল আজহা,
খ. রোযা শেষের উৎসব- ঈদুল ফিতর। (সুনানে নাসায়ী, খ-৩, পৃ-৪৭৯, নং ৭২৮)
টিকাঃ
৩৯. জাহেলিয়াত শাব্দিক অর্থ “অন্ধকার যুগ” রাসূল ﷺ এর আগমনের পূর্বে আরবের সময়কে নির্দেশক।
৪০. এ হাদীস দ্বারা এ দুই ঈদ ছাড়া সব ধরনের বার্ষিক অনুষ্ঠান বাতিল বলে প্রতীয়মান হয়। (যেমন: জন্ম দিবস, জাতীয় দিবস, গোত্রীয় অনুষ্ঠান, নববর্ষ, এপ্রিল ফুল, মাতৃদিবস ইত্যাদি।)
📄 শুক্রবার
৫৮. আবু হুরাইরা (রা) থেকে বর্ণিত, নবী করীম ﷺ ইরশাদ করেন:
خَيْرُ يَوْمٍ طَلَعَتْ فِيْهِ الشَّمْسُ يَوْمُ الْجُمُعَةِ، فِيهِ خُلِقَ آدَمُ، وَفِيهِ أُهْبِطَ وَتِيْبَ عَلَيْهِ، وَفِيهِ قُبِضَ، وَفِيهِ تَقُومُ السَّاعَةُ ، مَا عَلَى الْأَرْضِ مِنْ دَابَّةٍ إِلَّا وَهِيَ تُصْبِحُ يَوْمَ الْجُمُعَةِ مُصِيخَةٌ، حَتَّى تطلُعَ الشَّمْسُ شَفَقًا مِنَ السَّاعَةِ، إِلَّا ابْنَ آدَمَ، وَفِيهِ لاَ يُصَادِقُهَا عَبْدٌ مُؤْمِنٌ وَهُوَ فِي الصَّلَاةِ يَسْأَلُ اللَّهَ شَيْئًا إِلَّا أَعْطَاهُ إِيَّاهُ .
অর্থঃ 'যে দিনে সূর্যোদয় হয় তার মধ্যে সর্বোত্তম দিন হল শুক্রবার, এ দিনে আদম (আ)-কে সৃষ্টি করা হয়েছিল, ঐ দিনে তাঁকে জান্নাতে প্রবেশ করানো হয়, এদিনে তিনি জান্নাত ত্যাগ করেন, এদিনে তাঁকে ক্ষমা করা হয়, এ দিনে তিনি মারা যান, এ দিনেই চূড়ান্ত দিন (কিয়ামত) হবে। পৃথিবীর সব সৃষ্টি, আদম সন্তান ছাড়া শুক্রবারের চূড়ান্ত সূর্যোদয়ের সময় জান্নাত হবে এবং শুক্রবারের একটা সময় আছে যখন আল্লাহ মুমিন বান্দার দুয়া কবুল করেন, যদি মুমিন বান্দা ঐ সময় নামাযের মধ্যে থাকে। (সুনানে আবু দাউদ, খ-১, পৃ-২৬৯, নং ১০৪১, সহীহ মুসলিম, খ-২, পৃ-৪০৫, নং ১৮৫৬-৭, পৃ-৪০৪ নং ১৮৪৯-৫০, মিশকাতুল মাসাবীহ, খ-১, নং২৮৫)
৫৯. সামুরা (রা) থেকে বর্ণিত, নবী করীম ﷺ ইরশাদ করেন:
مَنْ تَوَضَّأَ يَوْمَ الْجُمُعَةِ فَبِهَا وَنِعْمَتْ، وَمَنِ اغْتَسَلَ فَهُوَ أَفْضَلُ .
অর্থ: 'যে জুমুয়ার দিনে অজু করে তা তার জন্য উত্তম, আর যে ব্যক্তি গোসল করে তা তার জন্য সর্বোত্তম।' (সুনানে আবু দাউদ, খ-১, পৃ-৯৩ নং ৩৫৪)
টিকাঃ
৪১. চূড়ান্ত সময় শুক্রবারের সূর্যোদয়ের পূর্বে শুরু হবে। ফলে সব সৃষ্টি ভীত-বিহ্বল হয়ে জাগ্রত হবে।
৪২. সহীহ মুসলিমের বর্ণনাসমূহে বুঝা যায় যে, এ সময়টি খুবই সংকীর্ণ এবং অজ্ঞাত যেমন লাইলাতুল কদর এর সময় অজ্ঞাত। বেশিরভাগ আলেম ঐ সময় আছর থেকে মাগরিবের বলে অনুমান করেছেন। (সূর্যাস্ত পর্যন্ত)
৪৩. নবী করীম ﷺ বিশেষভাবে বর্ণনা করেছেন যে, প্রার্থনা হবে শুক্রবারের বিধিবদ্ধ সালাতে। সেই প্রার্থনা সিজদার মধ্যে হতে পারে যেমন রাসূল (সা) অন্য হাদীসে ইরশাদ করেন প্রার্থনার সর্বোত্তম সময় হলো সিজদা। যদিও রাসূল ﷺ সর্বাবস্থায় প্রার্থনা করেছেন।