📘 ইসলামে সর্বোত্তম > 📄 রং

📄 রং


৪৭. যায়দ ইবন আসলাম থেকে বর্ণিত যে, ইবন উমর (রা) হলুদ রং দ্বারা তাঁর দাড়ি মুবারক রঞ্জিত করতেন। এত রং দিতেন যে, তাঁর সব পরিধেয় বস্ত্রও হলুদ হয়ে যেত। যখন তাঁকে জিজ্ঞেস করা হতো কেন তিনি হলুদ রঙে রঞ্জিত হতেন, তিনি উত্তর দিতেন:
إِنِّي رَأَيْتُ رَسُولَ اللهِ ﷺ يُصْبَعُ بِهَا ، وَلَمْ يَكُنْ شَيْءٍ أَحَبُّ إِلَيْهِ مِنْهَا ، وَقَدْ كَانَ يَصْبُغُ بِهَا ثِيَابَهُ كُلُّهَا حَتَّى عِمَامَتَهُ
"আমি আল্লাহর রাসূল ﷺ কে তার (হলুদ রং) দ্বারা রঞ্জিত হতে দেখিছি। এবং এর চেয়ে প্রিয় তাঁর নিকট আর কিছু ছিল না। তিনি প্রায় সময় এ রং দ্বারা তাঁর পোশাক রং করাতেন এমনকি তাঁর পাগড়ীও। (সুনানে আবু দাউদ, খ-৩, পৃ-১১৩৪-৫, নং ৪০৫৩)

* নোট : অনেক হাদীস রয়েছে যেগুলো এই নির্দেশ করে যে, লাল রং পুরুষের জন্য নিষিদ্ধ। আব্দুল্লাহ বিন আমর (রা) বর্ণনা করেন, রাসূল ﷺ তাঁকে লাল রঙের 'উসফুর' দ্বারা রঞ্জিত পোশাক পরা অবস্থায় দেখলেন। তিনি তাঁর দিকে তাকিয়ে বললেন: তোমার গায়ে এ কি ধরনের পোশাক?' আব্দুল্লাহ্ (রা) উপলব্ধি করলেন যে তিনি এটা অপছন্দ করেছেন সুতরাং তিনি গৃহে গিয়ে তা পুড়িয়ে ফেললেন। । পরের দিন রাসূল ﷺ তাকে জিজ্ঞেস করলেন যে, সে পোশাক কি করলেন। তাঁকে জানানোর পর তিনি বললেন: 'তুমি কেন তা তোমার পরিবারকে দিলে না, সেগুলো মহিলাদের ব্যবহার করতে তো কোন দোষ নেই। (সুনানে আবু দাউদ, খ-৩, পৃ-১১৩৫, নং-৪০৫৫)
মুসলিম (র) এরূপ একটি হাদীস বর্ণনা করেছেন, তবে তাতে উল্লেখ পাওয়া যায়, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এ ধরনের 'উসফুর'-এর রঞ্জিত পোশাক এজন্য পরতে নিষেধ করেছেন যেহেতু তা অমুসলিমদের পরিধেয় এরপর তিনি আব্দুল্লাহকে তা পুড়িয়ে ফেলতে বললেন। (সহীহ মুসলিম, খ-৩, পৃ-১১৪৬, নং ৫১৭৩, ৭৪ ও ৭৫)
বারা ইবন আযিব থেকে বর্ণিত আরেকটি হাদীস রয়েছে যে, তিনি আল্লাহর রাসূলকে লাল রঙের একটি অত্যন্ত সুন্দর পোশাক পরা অবস্থায় দেখলেন। (সুনানে আবু দাউদ, খ-৩, পৃ-১১৩৬, নং-৪০৬১)
আমির ইবন আমরও বলেন যে, তিনি আল্লাহর রাসূলকে মিনায় একটি লাল পোশাক পরা অবস্থায় দেখেছেন, যখন তিনি একটি খচ্চরের পিঠে আরোহণ করে বক্তৃতা দিচ্ছিলেন। (সুনানে আবু দাউদ, খ-৩, পৃ-১১৩৬, নং ৪০৬২)
এ সব বৈপরীত্যের সমাধানে যেসব বক্তব্য পণ্ডিতগণ দিয়েছেন তার মধ্যে ইবনুল কাইয়িম-এর বক্তব্য গ্রহণযোগ্য, তা হলো ইয়েমেনের কাপড়ে লালের সঙ্গে অন্য সুতার মিশ্রণ ছিল এবং নিষিদ্ধ রং হলো যা এককভাবে লাল সুতা দ্বারা তৈরি।

৪৮. আবু যার (রা) থেকে বর্ণিত আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন:
إِنَّ أَحْسَنَ مَا غُيِّرَ بِهِ هَذَا الشَّيْبُ الْحِنَّاءُ ، وَالْكَتَمُ)
অর্থ: 'নিশ্চয়ই সাদা দাড়ি পরিবর্তন করার সবচেয়ে সুন্দর জিনিস হলো হেনা এবং বাতাস।' (সুনানে তিরমিজী, আবু দাউদ,খ-৩ পৃ-১১৬৮ এবং ৪১৯৩)

টিকাঃ
৩১. صفره (ছুফরা) এক ধরনের ওষুধ জাতীয় জাফরান, যা প্রচুর সুঘ্রাণযুক্ত হলুদ রং এর।
৩২. ইহরাম অবস্থায় জাফরান ব্যবহার করা নিষেধ, চর্ম লোশন বা সুগন্ধি হিসেবেও পুরুষের জন্য তা ব্যবহার নিষিদ্ধ। (সুনানে আবু দাউদ, খ-৩, পৃ-১২৯২-৩, নং-৪৫৮৪)
৩৩. যেহেতু রাসূল ﷺ এর অল্প কিছু চুল সাদা ছিল তাই তাঁর চুলের কলপ লাগানোর প্রয়োজন ছিল না। (সহীহ মুসলিম, খ-৪, পৃ-১২৫০-১, নং ৫৭৭৯-৮৯)
৩৪. কাতাম ইয়েমেনের এক ধরনের বৃক্ষের (mimosa flava) পাতা। এর সঙ্গে হেনা মিশ্রিত করে চুলের মূল রং রক্ষার জন্য ব্যবহৃত হয়। তবে কালো রং ব্যবহার করা নিষেধ।

📘 ইসলামে সর্বোত্তম > 📄 ঈমান

📄 ঈমান


৪৯. আবু যার (রা) নবী করীম ﷺ থেকে উল্লেখ করেন:
أَفْضَلُ الْعَمَلِ إِيْمَانُ بِاللَّهِ وَجِهَادٌ فِي سَبِيلِ اللَّهِ
অর্থঃ 'সর্বোত্তম কাজ হলো আল্লাহর প্রতি ঈমান আনা এবং আল্লাহর রাস্তায় জিহাদ করা।' (ইবন হিব্বান, সহীহ আল-বুখারী, খ-৩, পৃ-৪১৯-২০, নং ৬৯৪) সহীহ মুসলিম খ-১, পৃ-৪৯, নং ২৪৯, মিশকাতুল মাসাবীহ।

৫০. উকবা বিন আমির (রা) হতে বর্ণিত, হযরত মুহাম্মাদ ﷺ ইরশাদ করেন:
أَفْضَلُ الْمُؤْمِنِينَ إِيْمَانًا أَحْسَنُهُمْ خُلُقًا .
অর্থ: 'ঈমানের দিক দিয়ে সর্বোত্তম ঐ ব্যক্তি যিনি চরিত্রের দিক দিয়ে সর্বোত্তম।' (আততাবারানী ফিল কবীর, মিশকাতুল মাসাবীহ, খ-১, পৃ-১৫ ও ১৬)

৫১. মাকাল ইবন ইয়াসার এবং উমাইর ইবন আল লাইছী আল্লাহর রাসূলকে বলতে শুনেছেন:
أَفْضَلُ الْإِيْمَانِ الصَّبْرُ وَالسَّمَاحَةُ
অর্থঃ 'সর্বোত্তম ঈমান হলো ধৈর্য এবং সহিষ্ণুতা।' (দায়লামী, আল-বুখারী ফিত্ তারীখ আমর ইবন আবাসা থেকে, আহমাদ এবং বায়হাকী থেকেও বর্ণিত।)

৫২. হযরত আবু হুরাইরা (রা) আল্লাহর নবীকে বলতে শুনেছেনঃ
الإيمَانُ بِضْعَ وَسَبْعُونَ أَفْضَلُهَا قَوْلُ لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ وَأَدْنَاهَا إِمَاطَةُ الْعَظْمِ عَنِ الطَّرِيقِ وَالْحَيَاءُ شُعْبَةٌ مِنَ الْإِيْمَانِ .
অর্থ: 'ঈমানের সত্তরটিরও বেশি শাখা-প্রশাখা রয়েছে, সর্বোত্তম শাখা হলো এ ঘোষণা দেয়া যে, আল্লাহ ছাড়া ইবাদতের উপযুক্ত আর কোন মাবুদ নেই, নিম্নতম শাখা হলো, রাস্তা থেকে হাড় সরিয়ে ফেলা, এবং লজ্জা ঈমানের একটি শাখা।' (সহীহ আল-বুখারী, মুসলিম, ইবন মাজাহ ও আবু দাউদ (আবু দাউদ খ-৩, পৃ-১৩১১ নং ৪৬৫৯)

টিকাঃ
৩৫. পূর্ববর্তী ৭নং বর্ণনাটি 'সর্বোত্তম চরিত্রের অধিকারীরা সর্বোত্তম ঈমানদার' বেশি প্রচলিত।
৩৬. এ শব্দগুলো আবু দাউদ এর বেশিরভাগ গ্রন্থে ৫১। শব্দটি উল্লেখ আছে, যার অর্থ বিরক্তিকর অথবা কষ্টদায়ক জিনিস।

📘 ইসলামে সর্বোত্তম > 📄 সাওম

📄 সাওম


৫৩. আবু উমামাহ (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি আল্লাহর রাসূলকে জিজ্ঞেস করেন:
أَيُّ الْعَمَلِ أَفْضَلُ؟ قَالَ : (عَلَيْكَ بِالصَّوْمِ فَإِنَّهُ لَا عِدْلَ لَهُ)
অর্থ : 'কোন কাজ উত্তম?' তিনি উত্তর দিলেন 'রোযা রাখা, কারণ এর সমান কিছুই নেই।' (সহীহ সুনানে নাসায়ী, খ-২, পৃ-৪৭৬ নং ২০৯৯, মিশকাতুল মাসাবীহ খ-১, পৃ-৮১৩-৪)

৫৪. জুনদুব (রা) বর্ণনা করেন, নবী কারীম ﷺ বলেন:
أَفْضَلُ الصِّيَامِ بَعْدَ رَمَضَانَ الشَّهْرُ الَّذِي تَدْعُونَهُ الْمُحَرَّمَ
অর্থ: 'রমযানের পরে সর্বোত্তম রোজা হলো তোমরা যাকে 'মহররম' বল (তার রোযা)।' (সুনানে নাসায়ী, সহীহুল মুসলিম, খ-২, পৃ-৫৬৯ নং ২৬১১, সুনানে আবু দাউদ, খ-২, পৃ-৬৬৮ নং ২৪২৩, মিশকাতুল মাসাবীহ, খ-১, নং ৪৩৩)

كَانَ أَحَبُّ الشُّهُورِ إِلَى رَسُولِ اللهِ ﷺ أَنْ يَصُومَهُ شَعْبَانُ، ثُمَّ يَصِلُهُ بِرَمَضَانَ .
অর্থ: 'আল্লাহর রাসূল ﷺ যে মাসকে (নফল) রোযার জন্য সর্বাধিক পছন্দ করতেন তা হলো শাবান, এরপর তিনি তাকে রমযানের সঙ্গে মিলাতেন।' (সুনানে আবু দাউদ খ-২, পৃ-৬৬৮, নং২৪২৫)

৫৬. ইবন আমর (রা) বর্ণনা করেন যে, নবী হযরত মুহাম্মাদ ﷺ ইরশাদ করেন:
أفْضَلُ الصَّوْمِ صَوْمُ أَخِي دَاوُدَ، كَانَ يَصُومُ يَوْمًا وَيُفْطِرُ يَوْمًا وَلَا يَفِرُّ إِذَا لاقى .
অর্থ: 'সর্বোত্তম (নফল) রোযা হল আমার ভাই দাউদ (নবী আ.)-এর রোযা, যিনি একদিন পর একদিন রোযা রাখতেন এবং তিনি যুদ্ধের ময়দানে শত্রুর মুকাবিলায় কখনো পলায়ন করেন নি।' (সুনানে তিরমিজী, সুনানে নাসায়ী, সহীহুল বুখারী, খ-৩, পৃ-১১৩-৪, নং ২০০, সহীহ মুসলিম খ-২, পৃ- ৫৬৫ নং ২৫৯৫, সুনানে আবু দাউদ, খ-২, পৃ-৬৭৪, নং-২৪৪২, মিশকাতুল মাসাবীহ খ-১, পৃ-৪৩৫-৬)

টিকাঃ
৩৭. নবী করীম ﷺ তাঁর সাহাবীদের চান্দ্র বছরের প্রথম মাস অর্থাৎ মহররমে বিশেষ করে প্রথম ১০ দিনে রোযা রাখার প্রতি জোর দিয়েছেন। যে ১০ দিনে রোযা মুসলমানদের ওপর মাহে রমাদানের রোযার পূর্বে ফরয ছিল অবশ্য তিনি ৮ম মাস অর্থাৎ শাবানের রোযাও গুরুত্ব সহকারে রাখতেন। তবে চাপ পড়ার ভয়ে সাহাবীদের উৎসাহ দিতেন না।
৩৮. ইমাম বুখারী (র) আয়িশা (রা) থেকে এ বিষয়ে দুটি বর্ণনা উল্লেখ করেছেন। ক. রাসূল ﷺ পূর্ণ রমযানই রোযা রাখতেন, খ. অন্য বর্ণনায় তিনি মাহে রমাদান ছাড়া অন্য কোন মাসে রাসূল ﷺ কে পূর্ণ মাস রোযা রাখতে দেখেন নি'। ইবন হাজার (র) বলেন যে, প্রথমটি দ্বিতীয়টির চাইতে কম বিশেষ। (ফতহুল বারী, খ-৫, পৃ-৭৪৪) তিনি বিরতিহীনভাবে শাবান ও রমাদানের পূর্ণ রোযা রাখতেন। এ আমল যেহেতু অন্যদের করতে নিষেধ করেছেন, তাই তা তার জন্য খাস। (দেখুন সহীহ আল বুখারী খ-৩, পৃ-৭৫-৭৬ নং ১৩৮, সহীহ মুসলিম, খ-২, পৃ-৫২৭ নং ২৩৮২)

📘 ইসলামে সর্বোত্তম > 📄 ঈদ

📄 ঈদ


৫৭. আনাস (রা) বর্ণনা করেন যে, যখন নবী করীম ﷺ মদিনায় আগমন করেন, জাহেলিয়াতের যুগে মদীনার লোকেরা দুই দিন খেলাধুলা করে কাটাত। তিনি তাদের বলেন:
كَانَ لَكُمْ يَوْمَانِ تَلْعَبُونَ فِيهِمَا وَقَدْ أَبْدَلَكُمُ اللهُ بِهِمَا خَيْرًا مِنْهُمَا يَوْمَ الْفِطْرِ وَيَوْمَ الْأَضْحَى
অর্থ : 'তোমাদের দুটি দিন ছিল যাতে তোমরা খেলাধুলা করতে, কিন্তু আল্লাহ তার চেয়ে উত্তম জিনিস দিয়ে সেগুলোকে বদল করেছেন। তা হল-
ক. কুরবানির উৎসব – ঈদুল আজহা,
খ. রোযা শেষের উৎসব- ঈদুল ফিতর। (সুনানে নাসায়ী, খ-৩, পৃ-৪৭৯, নং ৭২৮)

টিকাঃ
৩৯. জাহেলিয়াত শাব্দিক অর্থ “অন্ধকার যুগ” রাসূল ﷺ এর আগমনের পূর্বে আরবের সময়কে নির্দেশক।
৪০. এ হাদীস দ্বারা এ দুই ঈদ ছাড়া সব ধরনের বার্ষিক অনুষ্ঠান বাতিল বলে প্রতীয়মান হয়। (যেমন: জন্ম দিবস, জাতীয় দিবস, গোত্রীয় অনুষ্ঠান, নববর্ষ, এপ্রিল ফুল, মাতৃদিবস ইত্যাদি।)

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00