📘 ইসলামে সর্বোত্তম > 📄 অপছন্দনীয়

📄 অপছন্দনীয়


৪৪. সর্ব শক্তিমান আল্লাহ বলেন:
وَعَسَى أَنْ تَكْرَهُوا شَيْئًا وَهُوَ خَيْرٌ لَّكُمْ وَعَسَى أَنْ تُحِبُّوا شَيْئًا وَهُوَ شَرٌّ لَّكُمْ ط وَاللَّهُ يَعْلَمُ وَأَنْتُمْ لَا تَعْلَمُونَ .
অর্থ: 'হয়তো তোমরা কোন কিছুকে অপছন্দ কর অথচ তা তোমার জন্য ভাল এবং কিছুকে পছন্দ কর অথচ তা তোমাদের জন্য খারাপ। আল্লাহ অবগত আছেন এবং তোমরা জান না।' (সূরা আল-বাকারাহ-২: ২১৬)

📘 ইসলামে সর্বোত্তম > 📄 তালাক

📄 তালাক


৪৫. মহান আল্লাহ বলেন:
وَإِنِ امْرَأَةٌ خَافَتْ مِنْ بَعْلِهَا نُشُورًا أَوْ إِعْرَاضًا فَلَا جُنَاحَ عَلَيْهِمَا أَنْ يُصْلِحَا بَيْنَهُمَا صُلحًا ط وَالصُّلْحُ خَيْرٌ طَ وَأَحْضِرَتِ الأنفس الشح
অর্থ: 'যদি কোন স্ত্রী তার স্বামীর পক্ষ থেকে নিষ্ঠুরতা অথবা উপেক্ষার আশঙ্কা করে, তাহলে তাদের মধ্যে সমঝোতা তৈরি করাতে কোন দোষ নেই এবং সমঝোতাই উত্তম। মানুষের মধ্যে সর্বদাই স্বার্থপরতা বিদ্যমান।' (সূরা আন নিসা-৪: ১২৮)

টিকাঃ
৩০. ইবন কাছীর বর্ণনা করেন: যদি কোন স্ত্রীলোক আশঙ্কা করে যে, তার স্বামী তাকে ত্যাগ করবে, তাহলে সে তার ভরণ-পোষণ ও সময় থেকে কিছুটা ছাড় দিতে পারে। স্বামী এ ছাড় গ্রহণ করতেও পারে নাও করতে পারে এতে দোষের কিছু নেই। মহান রব অতঃপর বলেন, 'সমঝোতা ভাল।' অর্থাৎ তালাকের চাইতে সমঝোতা ভাল। 'স্বার্থপরতা সকলের মধ্যে বিদ্যমান।' অর্থাৎ তালাকের চাইতে স্বার্থপরতার মাধ্যমে পারস্পরিক সম্পর্ক টিকিয়ে রাখা উত্তম। এরূপে যখন সাওদা বিনতে জাময়াহকে রাসূল ﷺ তালাক দিতে চাইলেন, তখন তিনি তাঁর সময়কে আয়িশা (রা)-কে প্রত্যর্পণপূর্বক রেখে দেয়ার অনুরোধ জানালে রাসূল ﷺ এ প্রস্তাব গ্রহণ করে তাঁকে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ রাখেন। (তাফসীরুল কুরআনিল আজীম, খ-১, পৃ-৫৭৫)

📘 ইসলামে সর্বোত্তম > 📄 মাহর (মোহরানা)

📄 মাহর (মোহরানা)


৪৬. উকবা বিন আমির থেকে বর্ণিত, রাসূল ﷺ ইরশাদ করেন:
خَيْرُ الصَّدَاقِ أَيْسَرُهُ .
অর্থ: 'সর্বোত্তম মাহর হলো যা (আদায়ে) সহজতর।' (ইবন মাজাহ এবং ইবন হাকেম)

📘 ইসলামে সর্বোত্তম > 📄 রং

📄 রং


৪৭. যায়দ ইবন আসলাম থেকে বর্ণিত যে, ইবন উমর (রা) হলুদ রং দ্বারা তাঁর দাড়ি মুবারক রঞ্জিত করতেন। এত রং দিতেন যে, তাঁর সব পরিধেয় বস্ত্রও হলুদ হয়ে যেত। যখন তাঁকে জিজ্ঞেস করা হতো কেন তিনি হলুদ রঙে রঞ্জিত হতেন, তিনি উত্তর দিতেন:
إِنِّي رَأَيْتُ رَسُولَ اللهِ ﷺ يُصْبَعُ بِهَا ، وَلَمْ يَكُنْ شَيْءٍ أَحَبُّ إِلَيْهِ مِنْهَا ، وَقَدْ كَانَ يَصْبُغُ بِهَا ثِيَابَهُ كُلُّهَا حَتَّى عِمَامَتَهُ
"আমি আল্লাহর রাসূল ﷺ কে তার (হলুদ রং) দ্বারা রঞ্জিত হতে দেখিছি। এবং এর চেয়ে প্রিয় তাঁর নিকট আর কিছু ছিল না। তিনি প্রায় সময় এ রং দ্বারা তাঁর পোশাক রং করাতেন এমনকি তাঁর পাগড়ীও। (সুনানে আবু দাউদ, খ-৩, পৃ-১১৩৪-৫, নং ৪০৫৩)

* নোট : অনেক হাদীস রয়েছে যেগুলো এই নির্দেশ করে যে, লাল রং পুরুষের জন্য নিষিদ্ধ। আব্দুল্লাহ বিন আমর (রা) বর্ণনা করেন, রাসূল ﷺ তাঁকে লাল রঙের 'উসফুর' দ্বারা রঞ্জিত পোশাক পরা অবস্থায় দেখলেন। তিনি তাঁর দিকে তাকিয়ে বললেন: তোমার গায়ে এ কি ধরনের পোশাক?' আব্দুল্লাহ্ (রা) উপলব্ধি করলেন যে তিনি এটা অপছন্দ করেছেন সুতরাং তিনি গৃহে গিয়ে তা পুড়িয়ে ফেললেন। । পরের দিন রাসূল ﷺ তাকে জিজ্ঞেস করলেন যে, সে পোশাক কি করলেন। তাঁকে জানানোর পর তিনি বললেন: 'তুমি কেন তা তোমার পরিবারকে দিলে না, সেগুলো মহিলাদের ব্যবহার করতে তো কোন দোষ নেই। (সুনানে আবু দাউদ, খ-৩, পৃ-১১৩৫, নং-৪০৫৫)
মুসলিম (র) এরূপ একটি হাদীস বর্ণনা করেছেন, তবে তাতে উল্লেখ পাওয়া যায়, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এ ধরনের 'উসফুর'-এর রঞ্জিত পোশাক এজন্য পরতে নিষেধ করেছেন যেহেতু তা অমুসলিমদের পরিধেয় এরপর তিনি আব্দুল্লাহকে তা পুড়িয়ে ফেলতে বললেন। (সহীহ মুসলিম, খ-৩, পৃ-১১৪৬, নং ৫১৭৩, ৭৪ ও ৭৫)
বারা ইবন আযিব থেকে বর্ণিত আরেকটি হাদীস রয়েছে যে, তিনি আল্লাহর রাসূলকে লাল রঙের একটি অত্যন্ত সুন্দর পোশাক পরা অবস্থায় দেখলেন। (সুনানে আবু দাউদ, খ-৩, পৃ-১১৩৬, নং-৪০৬১)
আমির ইবন আমরও বলেন যে, তিনি আল্লাহর রাসূলকে মিনায় একটি লাল পোশাক পরা অবস্থায় দেখেছেন, যখন তিনি একটি খচ্চরের পিঠে আরোহণ করে বক্তৃতা দিচ্ছিলেন। (সুনানে আবু দাউদ, খ-৩, পৃ-১১৩৬, নং ৪০৬২)
এ সব বৈপরীত্যের সমাধানে যেসব বক্তব্য পণ্ডিতগণ দিয়েছেন তার মধ্যে ইবনুল কাইয়িম-এর বক্তব্য গ্রহণযোগ্য, তা হলো ইয়েমেনের কাপড়ে লালের সঙ্গে অন্য সুতার মিশ্রণ ছিল এবং নিষিদ্ধ রং হলো যা এককভাবে লাল সুতা দ্বারা তৈরি।

৪৮. আবু যার (রা) থেকে বর্ণিত আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন:
إِنَّ أَحْسَنَ مَا غُيِّرَ بِهِ هَذَا الشَّيْبُ الْحِنَّاءُ ، وَالْكَتَمُ)
অর্থ: 'নিশ্চয়ই সাদা দাড়ি পরিবর্তন করার সবচেয়ে সুন্দর জিনিস হলো হেনা এবং বাতাস।' (সুনানে তিরমিজী, আবু দাউদ,খ-৩ পৃ-১১৬৮ এবং ৪১৯৩)

টিকাঃ
৩১. صفره (ছুফরা) এক ধরনের ওষুধ জাতীয় জাফরান, যা প্রচুর সুঘ্রাণযুক্ত হলুদ রং এর।
৩২. ইহরাম অবস্থায় জাফরান ব্যবহার করা নিষেধ, চর্ম লোশন বা সুগন্ধি হিসেবেও পুরুষের জন্য তা ব্যবহার নিষিদ্ধ। (সুনানে আবু দাউদ, খ-৩, পৃ-১২৯২-৩, নং-৪৫৮৪)
৩৩. যেহেতু রাসূল ﷺ এর অল্প কিছু চুল সাদা ছিল তাই তাঁর চুলের কলপ লাগানোর প্রয়োজন ছিল না। (সহীহ মুসলিম, খ-৪, পৃ-১২৫০-১, নং ৫৭৭৯-৮৯)
৩৪. কাতাম ইয়েমেনের এক ধরনের বৃক্ষের (mimosa flava) পাতা। এর সঙ্গে হেনা মিশ্রিত করে চুলের মূল রং রক্ষার জন্য ব্যবহৃত হয়। তবে কালো রং ব্যবহার করা নিষেধ।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00