📄 সঙ্গী
২৯. ইবন আমর (রা) থেকে বর্ণিত, নবী করীম ﷺ ইরশাদ করেন:
خَيْرُ الْأَصْحَابِ عِنْدَ اللهِ خَيْرُهُمْ لِصَاحِبِهِ، وَخَيْرُ الْجِيرَانِ عِنْدَ اللَّهِ خَيْرُهُمْ لِجَارِهِ .
অর্থ : 'আল্লাহর নিকট সর্বোত্তম বন্ধু তারা যারা তাদের বন্ধুদের নিকট সর্বোত্তম, এবং সর্বোত্তম প্রতিবেশী তারা যারা তাদের প্রতিবেশীদের নিকট সর্বোত্তম।' (সুনানে আহমদ এবং তিরমিজী, মিশকাতুল মাসাবীহ, খ-২, পৃ-১০৩৭)
📄 সৃষ্টি
৩০. ইবনে আব্বাস (রা) হতে বর্ণিত, হযরত মুহাম্মাদ ﷺ ইরশাদ করেন:
خَيْرُ الصَّحَابَةِ أَرْبَعَةٌ ، وَخَيْرُ السَّرَايَا أَرْبَعُمَانَةٍ، وَخَيْرُ الْجُيُوشِ أَرْبَعَةُ الْآفِ، وَلَا تُهْزَمُ اثْنَا عَشَرَ أَلْفًا مِنْ قِلَّةٍ
অর্থ : 'সর্বোত্তম সঙ্গী হলো চারজনের দল, সর্বোত্তম যুদ্ধের দল হলো চারশত জন, সর্বোত্তম সেনাদল হলো চার হাজারের সেনাদল এবং বার হাজারের সেনাদল কখনো কম সংখ্যক হওয়ার কারণে পরাজিত হবে না।' (সুনানে আবু দাউদ খ-২, পৃ-৭২২, নং ২৬০৫, সুনানে তিরমিজী, মিশকাতুল মাসাবীহ, খ-২, পৃ-৮২৮)
৩১. সুমহান আল্লাহ বলেন:
إِنَّ الَّذِينَ آمَنُوا وَعَمِلُوا الصَّالِحَاتِ أُولَئِكَ هُمْ خَيْرُ الْبَرِيَّةِ .
অর্থ: 'নিশ্চয়ই যারা বিশ্বাস করে এবং সৎকর্ম করে তারাই হলো সর্বোত্তম সৃষ্টি।' (সূরা আল বাইয়্যিনাত- ৯৮:০৭)
টিকাঃ
১৫. ইমাম গাযালী (র) ব্যাখ্যা করেন যে, ভ্রমণের সময় দুটি মৌলিক জিনিসের প্রয়োজন- ক. নিরাপত্তা, খ.. প্রয়োজন পূরণ- যদি দুজনের একটি দল হয় তাহলে একজনের পিছনে কোন প্রয়োজন দেখা দিলে অন্যজন নিরাপত্তাহীন হয়ে পড়ে এবং তার প্রয়োজন একাকী পূরণ করতে হয়। তিন জনের দল হলে দু'জন একে অপরকে নিরাপত্তা দিলেও অপরজন একাকী পড়ে তার প্রয়োজন পূরণ করে, অথবা নিরাপত্তাহীন হয়ে পড়ে। চারজন হলে দু'জন প্রয়োজন পূরণের জন্য একত্রে যেতে পারে বাকি দুজন একত্রে অন্য কাজ করতে পারে। পাঁচ জন হলে একজন প্রয়োজনাতিরিক্ত হয়ে পড়ে। (আউনুল মাবুদ, খ-৪, পৃ-১৯৩) তবে আমর বিন শুরাইব তার দাদা থেকে যে হাদীস বর্ণনা করেছেন তার দ্বারা তিনজনের দলও উত্তম। (সুনানে আবু দাউদ খ-২, পৃ-৪৯৪, নং ২২৭১)
১৬. ইবন রাসলান বলেন ৩০০ থেকে ৪০০ সংখ্যাটি উত্তম কারণ বদর যুদ্ধের সৈন্য সংখ্যা এরূপ ছিল।
১৭. রাসূল ﷺ এর ইরশাদ এরূপ। যদি তারা পরাজিত হয় তাহলে অন্য কারণ। যেমন, অহঙ্কার, পদশোভা ইত্যাদি।
📄 দিবস
৩২. জাবির (রা) থেকে বর্ণিত, নবী করীম ﷺ ইরশাদ করেন:
أَفْضَلُ أَيَّامِ الدُّنْيَا أَيَّامُ الْعَشْرِ .
অর্থ: 'পৃথিবীর মধ্যে সর্বোত্তম দিনগুলো হলো রমাদানের (রমজানের) শেষ দশ দিন। (আল-বাজ্জার)
৩৩. আবু হুরাইরা (রা) থেকে বর্ণিত, রাসূল ﷺ ইরশাদ করেন:
أَفْضَلُ الْأَيَّامِ عِنْدَ اللهِ يَوْمُ الْجُمُعَةِ .
অর্থ: 'আল্লাহর নিকট সর্বোত্তম দিন হলো শুক্রবার, যা হলো সমবেত হওয়ার দিন।' (বাইহাকী ফী শুয়াবিল ঈমান)
৩৪. আব্দুল্লাহ ইবন কুরত (রা) উল্লেখ করেন যে, হযরত মুহাম্মাদ ﷺ ইরশাদ করেন:
إِنَّ أَعْظَمَ الْأَيَّامِ عِنْدَ اللهِ تَبَارَكَ وَتَعَالَى يَوْمَ النَّحْرِ ، ثُمَّ يَوْمُ الْقَرِ
অর্থ: 'মহান ও সর্বশক্তিমান আল্লাহর নিকট সবচেয়ে প্রিয় দিন হলো কুরবানির দিন এরপর হলো বিশ্রামের দিন।' (সুনানে আবু দাউদ, খ-২, পৃ-৪৬৩ নং ১৭৬২)
টিকাঃ
১৮. কারণ লাইলাতুল কদর এ দশ দিনের মধ্যেই।
১৯. যিলহজ্জ মাসের ১০ তারিখ যখন হাজিগণ পশু কুরবানি করেন এবং দরিদ্রদের মধ্যে গোশত বণ্টন করেন। হাজিগণ ছাড়া যারা আছেন তাঁরাও। এ দিনটি হযরত ইবরাহীম (আ) কর্তৃক স্বীয় পুত্র ইসমাঈল (আ)-এর পরিবর্তে পশু কুরবানির জন্য স্মরণীয়।
২০. يَوْمُ الْقَرّ ঐ দিনকে বলে যেদিন হাজিগণ কাবা শরীফের চূড়ান্ত তাওয়াফের পর মিনায় বিশ্রাম নেন।
📄 ঋণ
৩৫. হযরত আবু হুরাইরা (রা) বর্ণনা করেন, রাসূল ﷺ ইরশাদ করেন:
إنَّ خِيَارَكُمْ أَحْسَنُكُمْ قَضَاءً .
অর্থ : 'তোমাদের মধ্যে ঐ ব্যক্তি সর্বোত্তম যে তার ঋণ পরিশোধে সর্বোত্তম।' (সহীহ আল-বুখারী, খ-৩, পৃ-২৮৪-৫, নং ৫০১, সহীহ মুসলিম, খ-৩, পৃ-৮৪৩, নং ৩৮৯৮)
টিকাঃ
২১. ঋণ পরিশোধকে খুব জোর দিয়ে সত্যিকার ঈমান-এর অংশ গণ্য করা হয়েছে। আবু হুরাইরাহ (রা) থেকে বর্ণিত, নবী করীম ﷺ বলেন: 'মুমিনের আত্মা সন্দেহের মধ্যে থাকে যতক্ষণ না তার ঋণ পরিশোধ করা হয়।' (সুনানে ইবন মাজাহ, তিরমিজী, আহমদ, ইবন মাজাহ খ-২, পৃ-৫৩ নং ১৯৫৭, মিশকাতুল মাসাবীহ, খ-১, পৃ-৬২৩-৪)