📄 ইহুদি-খ্রিস্টান
২১. মহান আল্লাহ ইরশাদ করেন:
وَلَوْ ءَامَنَ أَهْلُ الْكِتَابِ لَكَانَ خَيْرًا لَّهُمْ مِنْهُمُ الْمُؤْمِنُونَ وَأَكْثَرُهُمُ الْفَاسِقُونَ
'কিতাবধারী লোকেরা (ইহুদি ও খ্রিস্টানগণ) যদি বিশ্বাস স্থাপন করত তাহলে তাদের জন্য উত্তম হতো, তাদের মধ্যে কিছু আছে ঈমানদার বেশিরভাগই অপরাধী।' (সূরা আলে ইমরান- ৩: ১১০)
২২. মহান রব আরো ইরশাদ করেন:
يَأَهْلَ الْكِتَابِ لَا تَغْلُوا فِي دِينِكُمْ وَلَا تَقُولُوا عَلَى اللَّهِ إِلَّا الْحَقِّ إِنَّمَا الْمَسِيحُ عِيسَى ابْنُ مَرْيَمَ رَسُولُ اللَّهِ وَكَلِمَتُهُ أَلْقَاهَا إِلى مَرْيَمَ وَرُوْحٌ مِنْهُ فَنَامِنُوا بِاللَّهِ وَرُسُلِهِ وَلَا تَقُولُوا ثَلَاثَةٌ انْتَهُوا خَيْرًا لَكُمْ إِنَّمَا اللَّهُ إِلَهُ وَاحِدٌ سُبْحَانَهُ
অর্থ : 'হে কিতাবধারী (ইহুদি ও খ্রিস্টান) গণ তোমরা দ্বীনের ব্যাপারে বাড়াবাড়ি করো না, এবং আল্লাহর ব্যাপারে সত্য ছাড়া অন্য কিছু বলো না। মসীহ, মরিয়ম পুত্র ঈসা (আ) আল্লাহর রাসূল এবং তার বাণী (অর্থাৎ তার কালিমা বা যে বাক্যের দ্বারা ঈসা (আ)-এর জন্ম হয়েছে) যা তিনি মরিয়মের ওপর নিক্ষেপ করেছিলেন এবং তিনি একটি আত্মা যা আল্লাহর সৃষ্ট। সুতরাং আল্লাহ এবং তাঁর রাসূলের ওপর ঈমান আন। 'তিন' বলো না। এটা পরিত্যাগ করাই তোমাদের জন্য উত্তম। কেননা আল্লাহই একক মাবুদ এবং তিনি পুত্র গ্রহণ করা থেকে অত্যন্ত পবিত্র।' (সূরা আন নিসা-৪: ১৭১)
📄 পোশাক
২৩. মহান প্রভু আল্লাহ বলেন:
يَا بَنِي آدَمَ قَدْ أَنْزَلْنَا عَلَيْكُمْ لِبَاسًا يُوَارِي سَوْءَاتِكُمْ وَرِيْشًا وَلِبَاسُ التَّقْوى ذَلِكَ خَيْرٌ .
অর্থঃ 'হে আদম সন্তান, আমি (আরবিতে সম্মানার্থে আমরা ব্যবহৃত হয়েছে) তোমাদেরকে পোশাক দিয়েছি তোমাদের গুপ্তাঙ্গসমূহ ঢাকার জন্য এবং অলঙ্কার হিসেবে। তবে আল্লাহভীতিই সর্বোত্তম পোশাক।' (সূরা আল-আরাফ-৭ : ২৬)
২৪. সর্বশক্তিমান আল্লাহ ইরশাদ করেন:
وَالْقَوَاعِدُ مِنَ النِّسَاءِ الَّتِي لَا يَرْجُونَ نِكَاحًا فَلَيْسَ عَلَيْهِنَّ جُنَاحٌ أَنْ يَضَعْنَ ثِيَابَهُنَّ غَيْرَ مُتَبَرِّجَاتٍ بِزِينَةٍ وَأَنْ يَسْتَعْفِفْنَ خَيْرٌ لَّهُنَّ .
অর্থ : 'যে সব নারীদের ঋতু হয় না অথবা যারা বিয়ের প্রত্যাশা করে না, তারা যদি উপরিভাগের পোশাক কিছুটা হাল্কা করে তাতে কোন সমস্যা নেই, তাদের সৌন্দর্য প্রকাশের ইচ্ছে থাকতে পারবে না। তবে এ থেকে বিরত থাকাই তাদের জন্য উত্তম।' (সূরা আন নূর- ২৪:৬০)
২৫. আনাস (রা) থেকে বর্ণিত নবী করীম ﷺ ইরশাদ করেন:
خَيْرُ ثِيَابِكُمُ الْبَيَاضُ، أَلْبِسُوهَا أَحْيَاءَكُمْ، وَكَفِّنُوا فِيهَا مَوْتَاكُمْ .
অর্থ : 'সর্বোত্তম পোশাক হল সাদা। তোমরা জীবিতদের এর দ্বারা পোশাক পরাও এবং মৃতদের কাফন পরাবে।' (দারুকুতনী, সুনানে ইবন মাজা খ-২, পৃ-৩৮০, নং-১৪৭২, সুনানে আবু দাউদ, খ-৩, পৃ-১১৩৪ নং ৪০৫০ ইবন আব্বাস (রা) থেকে।
২৬. উম্মে সালামাহ (রা) বলেনঃ
كَانَ أَحَبُّ الشَّيَابِ إِلَى رَسُولِ اللَّهِ : الْقَمِيصُ .
অর্থ: 'আল্লাহর রাসূল সবচেয়ে বেশি পছন্দ করতেন লম্বা জামা।' (সুনানে আবু দাউদ, খ-৩, পৃ-১১২৬ নং ৪০১৪, খ-২, পৃ-৭৬১, নং ৩৩৯৬)
২৭. কাতাদাহ (রা) হতে বর্ণিত, তিনি আনাস (রা)-কে জিজ্ঞেস করলেনঃ
أَيُّ اللَّبَاسِ كَانَ أَحَبُّ إِلَى رَسُولِ اللَّهِ أَوْ أَعْجَبَ إِلَى رَسُولِ اللَّهِ؟ قَالَ : الْحِبَرَةُ .
অর্থ : 'কোন পোশাক আল্লাহর রাসূলের নিকট সবচেয়ে প্রিয় বা সবচেয়ে পছন্দের ছিল? তিনি উত্তর দিলেন ডোরাকাটা সুতীর কাপড়।' (বুখারী, মুসলিম এবং আবু দাউদ, সুনানে আবু দাউদ, খ-৩, পৃ-১১৩৩, নং ৪০৪৯)
২৮. আল-বারা ইবন আযিব (রা) থেকে বর্ণিত যে, একদা রাসূল ﷺ কে একটি রেশমী পোশাক দেয়া হয় এবং লোকেরা এর সৌন্দর্য এবং কোমলতায় আশ্চর্য হলে তিনি ইরশাদ করেন:
لَمَنَادِيلُ سَعْدِ بْنِ مُعَادٍ فِي الْجَنَّةِ أَفْضَلُ مِنْ هَذَا
অর্থ : 'সা'দ ইবন মুয়ায (রা)-এর জান্নাতের হাত রুমাল এর চেয়েও উত্তম।' (সহীহ আল-বুখারী, খ-৩, পৃ-৪৭৫ নং ৭৮৫)
টিকাঃ
১১. যেহেতু ইসলাম পরিচ্ছন্নতার ওপর জোর দিয়েছে। এজন্য সাদা বেশি পছন্দনীয়। কেননা এটা পরিচ্ছন্ন রাখতে বেশি ধোয়ার প্রয়োজন হয়।
১২. নবী করীম ﷺ লম্বা জামা বেশি পছন্দ করতেন, যা সারা শরীরকে আবৃত করে। তিনি স্কার্ট-এর মত ইজার পরতেন যা কোমর থেকে হাঁটু পর্যন্ত ঢেকে রাখত।
১৩. خیره (হিবারাহ) হলো ডোরাকাটা সাজানো এক প্রকার ইয়ামেনি কাপড়। যার রং সবুজ হতো। এটি আরবদের কাছে সর্বোত্তম।
১৪. সাদ ইবন মুয়ায (রা) মদিনার আওস গোত্রের একজন নেতা। রাসূল ﷺ এর মদিনা আগমনের পূর্বে ইসলাম গ্রহণকারী ইসলামের পথে ত্যাগ-তিতিক্ষার স্বাক্ষর রাখেন। বদর, ওহুদ যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন। খন্দকের যুদ্ধে মারাত্মকভাবে আহত হন। বনু কুরাইজার ব্যাপারে সঠিক ফায়সালা দান করার পর শাহাদাতবরণ করেন।
📄 সঙ্গী
২৯. ইবন আমর (রা) থেকে বর্ণিত, নবী করীম ﷺ ইরশাদ করেন:
خَيْرُ الْأَصْحَابِ عِنْدَ اللهِ خَيْرُهُمْ لِصَاحِبِهِ، وَخَيْرُ الْجِيرَانِ عِنْدَ اللَّهِ خَيْرُهُمْ لِجَارِهِ .
অর্থ : 'আল্লাহর নিকট সর্বোত্তম বন্ধু তারা যারা তাদের বন্ধুদের নিকট সর্বোত্তম, এবং সর্বোত্তম প্রতিবেশী তারা যারা তাদের প্রতিবেশীদের নিকট সর্বোত্তম।' (সুনানে আহমদ এবং তিরমিজী, মিশকাতুল মাসাবীহ, খ-২, পৃ-১০৩৭)
📄 সৃষ্টি
৩০. ইবনে আব্বাস (রা) হতে বর্ণিত, হযরত মুহাম্মাদ ﷺ ইরশাদ করেন:
خَيْرُ الصَّحَابَةِ أَرْبَعَةٌ ، وَخَيْرُ السَّرَايَا أَرْبَعُمَانَةٍ، وَخَيْرُ الْجُيُوشِ أَرْبَعَةُ الْآفِ، وَلَا تُهْزَمُ اثْنَا عَشَرَ أَلْفًا مِنْ قِلَّةٍ
অর্থ : 'সর্বোত্তম সঙ্গী হলো চারজনের দল, সর্বোত্তম যুদ্ধের দল হলো চারশত জন, সর্বোত্তম সেনাদল হলো চার হাজারের সেনাদল এবং বার হাজারের সেনাদল কখনো কম সংখ্যক হওয়ার কারণে পরাজিত হবে না।' (সুনানে আবু দাউদ খ-২, পৃ-৭২২, নং ২৬০৫, সুনানে তিরমিজী, মিশকাতুল মাসাবীহ, খ-২, পৃ-৮২৮)
৩১. সুমহান আল্লাহ বলেন:
إِنَّ الَّذِينَ آمَنُوا وَعَمِلُوا الصَّالِحَاتِ أُولَئِكَ هُمْ خَيْرُ الْبَرِيَّةِ .
অর্থ: 'নিশ্চয়ই যারা বিশ্বাস করে এবং সৎকর্ম করে তারাই হলো সর্বোত্তম সৃষ্টি।' (সূরা আল বাইয়্যিনাত- ৯৮:০৭)
টিকাঃ
১৫. ইমাম গাযালী (র) ব্যাখ্যা করেন যে, ভ্রমণের সময় দুটি মৌলিক জিনিসের প্রয়োজন- ক. নিরাপত্তা, খ.. প্রয়োজন পূরণ- যদি দুজনের একটি দল হয় তাহলে একজনের পিছনে কোন প্রয়োজন দেখা দিলে অন্যজন নিরাপত্তাহীন হয়ে পড়ে এবং তার প্রয়োজন একাকী পূরণ করতে হয়। তিন জনের দল হলে দু'জন একে অপরকে নিরাপত্তা দিলেও অপরজন একাকী পড়ে তার প্রয়োজন পূরণ করে, অথবা নিরাপত্তাহীন হয়ে পড়ে। চারজন হলে দু'জন প্রয়োজন পূরণের জন্য একত্রে যেতে পারে বাকি দুজন একত্রে অন্য কাজ করতে পারে। পাঁচ জন হলে একজন প্রয়োজনাতিরিক্ত হয়ে পড়ে। (আউনুল মাবুদ, খ-৪, পৃ-১৯৩) তবে আমর বিন শুরাইব তার দাদা থেকে যে হাদীস বর্ণনা করেছেন তার দ্বারা তিনজনের দলও উত্তম। (সুনানে আবু দাউদ খ-২, পৃ-৪৯৪, নং ২২৭১)
১৬. ইবন রাসলান বলেন ৩০০ থেকে ৪০০ সংখ্যাটি উত্তম কারণ বদর যুদ্ধের সৈন্য সংখ্যা এরূপ ছিল।
১৭. রাসূল ﷺ এর ইরশাদ এরূপ। যদি তারা পরাজিত হয় তাহলে অন্য কারণ। যেমন, অহঙ্কার, পদশোভা ইত্যাদি।