📘 ইসলামে সর্বোত্তম > 📄 চরিত্র

📄 চরিত্র


১০. হযরত ছাওবান (রা) বলেন যে, নবী করীম ﷺ ইরশাদ করেন:
أَفْضَلُ الدُّنَانِيرِ : دِيْنَارُ يُنْفِقُهُ الرَّجُلُ عَلَى عَمَالِهِ ، وَدِيْنَارٌ يُنْفِقُهُ الرَّجُلُ عَلَى دَابَّتِهِ فِي سَبِيلِ اللهِ ، وَدِيْنَارُ يُنْفِقُهُ الرَّجُلُ عَلَى أَصْحَابِهِ فِي سَبِيلِ اللَّهِ عَزَّ وَجَلَّ .
অর্থ : 'মুদ্রাগুলোর মধ্যে সর্বোত্তম মুদ্রা (টাকা) হলো যা ব্যক্তি তার পরিবারের জন্য ব্যয় করে, যে মুদ্রা তার আল্লাহর রাস্তায় যুদ্ধ করার প্রাণির জন্য ব্যয় করে এবং যে মুদ্রা সে তার দ্বীনী ভাইদের জন্য ব্যয় করে।' (সহীহ মুসলিম, খ-২, পৃ-৪৭৮ নং ২১৮০) (সুনানে তিরমিজি, নাসায়ী, ইবনে মাজা এবং আহমাদ। মিশকাতুল মাসাবীহ খ-১, পৃ-৪১০)

১১. ইবন উমর (রা) বর্ণনা করেন যে, নবী করীম ﷺ ইরশাদ করেনঃ
أَفْضَلُ الْمُؤْمِنِينَ أَحْسَنُهُمْ خُلُقًا.
অর্থ : 'সর্বোত্তম মুমিন হলো তারা যারা চরিত্রের দিক দিয়ে সর্বোত্তম।' (ইবন মাজা ও আল-হাকীম)

১২. ইবন আমর (রা) বর্ণনা করেন যে, নবী করীম ﷺ ইরশাদ করেন:
خِيَارُكُمْ أَحَاسِنُكُمْ أَخْلَاقًا
অর্থ : 'তোমাদের মধ্যে সর্বোত্তম ঐ ব্যক্তি, যিনি চরিত্রের দিক দিয়ে সর্বোত্তম।' (সুনানে আহমাদ, আতায়ালেসী, সহীহ আল-বুখারী, খ-৮, পৃ-৩৯ নং-৬১, সহীহ মুসলিম, খ-৪, পৃ-১২৪৪, নং ৫৭৪০)

📘 ইসলামে সর্বোত্তম > 📄 দান

📄 দান


১৩. মহামহিম আল্লাহ ইরশাদ করেনঃ
إِن تُبْدُوا الصَّدَقَاتِ فَنِعِمَّا هِيَ وَإِنْ تُخْفُوهَا وَتُؤْتُوهَا الْفُقَرَاءَ فَهُوَ خَيْرٌ لَّكُمْ وَيُكَفِّرُ عَنْكُمْ مِنْ سَيِّئَاتِكُمْ .
অর্থ: 'যদি তুমি প্রকাশ্যে দান কর তবে উহা ভাল। আর যদি তুমি এটি গোপন কর এবং দরিদ্রদের দাও তা হবে তোমার জন্য উত্তম, এতে আল্লাহ তোমাদের (কিছু) পাপ মোচন করবেন।' (সূরা আল-বাকারাহ- ২: ২৭১)

১৪. সর্বশক্তিমান আল্লাহ ইরশাদ করেনঃ
وَإِنْ كَانَ ذُو عُسْرَةٍ فَنَظِرَةٌ إِلَى مَيْسَرَةٍ وَأَنْ تَصَدِّقُوا خَيْرٌ لَكُمْ إِنْ كُنْتُمْ تَعْلَمُونَ .
অর্থ: 'যদি কোন ঋণগ্রস্তের সমস্যা থাকে (ঋণ পরিশোধে) তাহলে তাকে সচ্ছল হওয়া পর্যন্ত সময় দান কর। যদি তুমি তাকে দান কর তাই উত্তম যদি তুমি উপলব্ধি কর।” (সূরা আল-বাকারাহ- ২ঃ ২৮০)

১৫. হযরত আবু উমামাহ (রা) থেকে বর্ণিত, নবী করীম ﷺ ইরশাদ করেনঃ
أَفْضَلُ الصَّدَقَاتِ ظِلُّ فُسْطَاطٍ فِي سَبِيلِ اللَّهِ وَمَنِيْحَةُ خَادِمٍ فِي سَبِيلِ اللَّهِ ، أَوْ طَرُوقَةُ فَحْلٍ فِي سَبِيلِ اللَّهِ .
অর্থ : 'সর্বোত্তম দানগুলো হলো- ক. আল্লাহর রাস্তায় তাঁবুর ছায়া, খ. আল্লাহর রাস্তায় ক্রীতদাস দান করা, গ. আল্লাহর রাস্তায় বয়স্কা উটনী দান করা। (সুনানে আহমদ, তিরমিযী, আদী ইবন আবু হাতীম থেকেও তিরমিযী বর্ণনা করেন। মিশকাতুল মাসাবীহ খ-১, পৃ-৮১২-৩)

১৬. হাকীম ইবন হিজাম থেকে বর্ণিত, নবী করীম ﷺ ইরশাদ করেন:
أَفْضَلُ الصَّدَقَاتِ مَا كَانَ عَنْ ظَهْرِ عَنِّي، وَالْيَدُ الْعُلْيَا خَيْرٌ مِّنَ الْيَدِ السُّفْلَى، وَابْدَأَ بِمَنْ تَعُولُ
অর্থ: 'সর্বোত্তম দান হলো তা, যা কেউ অতিরিক্ত অর্থ থেকে দান করে, উপরের হাত (দাতার হাত) নিচের হাত (গ্রহীতার হাত) থেকে উত্তম। নির্ভরশীলদের থেকে তুমি তোমার দান শুরু কর।' (সুনানে নাসায়ী, আহমাদ, সহীহ মুসলিম খ-২, পৃ-৪৯৫, নং-২২৫৪, সুনানে আবু দাউদ খ-২, পৃ-৪৪০, নং ১৬৭২, মিশকাতুল মাসাবীহ, খ-১, পৃ-৪১০, একই বর্ণনা আবু হুরাইরাহ থেকে সহীহ আল-বুখারী, খ-২, পৃ-২৯২, নং ৫০৮)

১৭. আবু আইয়ুব এবং হাকীম ইবন হিজাম বর্ণনা করেন যে, নবী করীম ﷺ ইরশাদ করেন : أَفْضَلُ الصَّدَقَةِ الصَّدَقَةُ عَلَى ذِي الرَّحِمِ الْكَاشِعِ
অর্থ : 'সর্বোত্তম দান হলো যা নিঃস্ব আত্মীয়কে দেয়া হয়।' (মুসনাদে আহমাদ, আত্তাবারানী, আদাবুল মুফরাদ, ইমাম তিরমিজি আবু সাঈদ থেকে এবং হাকীম উম্মে কুলসুম বিনতে উকবা থেকে বর্ণনা করেছেন।)

১৮. আবু হুরাইরা (রা) বর্ণনা করেন যে, নবী করীম ﷺ ইরশাদ করেনঃ
أَفْضَلُ الصَّdَقَةِ جُهْدُ الْمُقِلِ، وَابْدَأَ بِمَنْ تَعُولُ
অর্থ: 'সর্বোত্তম দান হলো তা যা কষ্টের মধ্যেও কোন নিঃস্ব ব্যক্তিকে দেয়া হয় এবং তুমি তোমার ওপর নির্ভরশীল ব্যক্তি থেকে তোমার দানকে শুরু কর।' (সুনানে আবু দাউদ, খ-২, পৃ-৪৪০ নং ১৬৭৩)

১৯. হযরত আবু হুরাইরা (রা) বর্ণনা করেন, নবী করীম ﷺ ইরশাদ করেনঃ
أفْضَلُ الصَّدَقَةِ أَنْ تَصَدَّقَ وَأَنْتَ صَحِيحٌ شَحِيْحٌ ، تَأْمَلُ الْغِنَى وَتَخْشَى الفَقْرَ ، وَلاَ تُمْهِلْ حَتَّى إِذَا بَلَغَتِ الْحُلْقُوْمَ قُلْتَ : لِفُلانٍ كَذَا ، وَلِفُلانٍ كَذَا ، أَلَا وَقَدْ كَانَ لِفُلانٍ كَذَا
অর্থঃ 'সর্বোত্তম দান হলো সুস্থ ও মন ভাল থাকা অবস্থায় দান করা। যখন সম্পদের আশা ও দরিদ্র্যতার ভয় করা হয়। আত্মা কণ্ঠনালীতে আসা পর্যন্ত (মৃত্যু) অপেক্ষা করো না। অতঃপর বলবে: এগুলো হলো অমুকের, ঐ জিনিসগুলো অমুকের, এটা যখন অমুকের হয়ে গেছে তখন।' (সহীহ আল-বুখারী, খ-২, পৃ. ২৮৬ নং-৫০০, সহীহ মুসলিম, খ-২ পৃ.-৪৯৪, নং ২২৫০, আবু দাউদ, নাসায়ী এবং আহমদ)

২০. সা'দ ইবন উবাদাহ (রা) থেকে বর্ণিত, নবী করীম ﷺ ইরশাদ করেন:
أَفْضَلُ الصَّدَقَةِ سَقَى الْمَاءِ .
অর্থ: 'সর্বোত্তম দান হলো জনগণকে সুপেয় পানি পান করানো।' (সুনানে আবু দাউদ, খ-২, পৃ-৪৪১ নং ১৬৭৫, নাসায়ী, ইবন মাজাহ, ইবন হিব্বান এবং আল-হাকীম, আবুল ইয়ালা (রা) ইবন আব্বাস (রা) থেকে বর্ণনা করেছেন)।

টিকাঃ
৩. আবু হুরাইরা (রা) থেকে বর্ণিত, রাসূল ﷺ ইরশাদ করেন: কোন এক ব্যক্তি লোকদের ঋণ দিত এবং তার (আদায়কারী) চাকরকে বলত: “ঋণগ্রস্ত ব্যক্তি যদি দরিদ্র হয় তাহলে তাকে মাফ করে দিও, এতে হয়ত আল্লাহ আমাদের মাফ করে দিবেন, যখন তিনি আল্লাহর সঙ্গে মিলিত হলেন (মৃত্যুর পর) আল্লাহ তাকে ক্ষমা করে দিলেন। (সহীহ বুখারী, খ-৪, পৃ-৪৫৫, নং ৬৮৭)
৪. বয়স্কা উটনী (طروقة) হলো ঐ উটনী যা বাচ্চা জন্মদানের উপযুক্ত হয়েছে। Arabic English Lexicon. V-2, P-1849
৫. 'যে ব্যক্তি আল্লাহর সৈনিককে অস্ত্রদান করেন, তার অনুপস্থিতিতে তার পরিবার দেখাশুনা করেন তিনি যোদ্ধার সমান।' (সহীহ মুসলিম, খ-৩, পৃ-১০৫০-১, নং ৪৬৬৮)
৬. উপরের হাত হলো দানের হাত এবং নিচের হাত হলো গ্রহীতার হাত। অর্থাৎ উপকারীর হাত উপকৃতের হাত থেকে উত্তম। ইসলামে বিশেষ ক্ষেত্র ছাড়া ভিক্ষা করা নিষেধ। রাসূল ﷺ বর্ণনা করেন যে ব্যক্তি প্রকৃত প্রয়োজন ছাড়া ভিক্ষা করে, সে বিচারের দিবসে আল্লাহর সম্মুখে এমনভাবে উপস্থিত হবে যে, তার চেহারায় গোস্ত থাকবে না। (সহীহ আল-বুখারী, খ-২, পৃ-৩২১, নং ৫৫৩, সহীহ মুসলিম খ-২, প-৪৭৯, নং ২২৬৫)
৭. দান করা ঈমানের গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ। অত্র হাদীসে আল্লাহর কালাম এ বাণীকে ব্যাখ্যা করেঃ “ভাল কাজ এবং মন্দকাজ সমান নয়, মন্দকে উত্তম দিয়ে প্রতিরোধ কর তাহলে তোমাদের মধ্যকার শত্রুতা অন্তরঙ্গ বন্ধুত্বে পরিণত হবে।' (সূরা ফুসসিলাত-৪১:৩৪)
৮. বিনয়ের সর্বোত্তম আধ্যাত্মিক গুণ তখন অর্জিত হয় যখন সে লোভ ত্যাগ করতে পারে।
৯. উন্নত মানের গুণ বা কল্যাণ তখন দানের দ্বারা হয় না যখন কেউ মৃত্যুর মুখোমুখি হয় এবং সম্পদ সহজেই অন্যের হাতে চলে যাচ্ছে।
১০. পানির উৎস, যেমন কূপ অথবা ঝর্ণা, (চাপ কল), যা জনগণের ব্যবহারের জন্য রাখা হয়। ঐ সময় আরবে পানির বড়ই অভাব ছিল, তখন এ ধরনের কাজের খুবই গুরুত্ব ছিল। এমনকি এখনো নদী ও সাগরের দূষণের কারণে পৃথিবীর বিভিন্ন অংশে পানির অভাবে এর ভূমিকা বিরাট। একজন জাতিসংঘ কর্মী বর্ণনা করেন যে, প্রায় দশ কোটি লোক বর্তমানে বিশুদ্ধ পানির অভাবে ভুগছে (খালিজ টাইম্স, শুক্রবার, ১৯৯৮)
এ হাদীসের আরেকটি নির্ভরযোগ্য ভাষ্য সুনানে আবু দাউদে (হাদীস নং ১৬৭৭) সাদ (রা) বলেন, 'হে আল্লাহর রাসূল! উম্মে সাদ ইন্তিকাল করেছেন। (তার নামে) দানের সর্বোত্তম পদ্ধতি কি?' তিনি উত্তর দিলেন 'পানি'। সুতরাং তিনি একটি কূপ খনন করলেন এবং বললেন: 'এটা উম্মে সা'দ এর জন্য'। এ উক্তি থেকে একথা বুঝা যায় যে মৃত আত্মীয়-স্বজনের নামে দান করলে তারা এর দ্বারা উপকৃত হয়। বহু হাদীসে এর সমর্থন পাওয়া যায়, যেমন- হাজ্জ, সাওম ও দুয়া মুনাজাত ইত্যাদি। প্রশ্ন উঠে এটা কি তাদের শেষ বিচারের দিনে উপকারে আসবে নাকি কবরেও উপকার করবে? যখন কারো পক্ষ থেকে ঋণ পরিশোধ করা হয় (মৃত) নবী ﷺ ইরশাদ করেনঃ 'এখন তার চামড়া ঠাণ্ডা হয়েছে। (সুনানে আহমদ, আহকামুল জানাইজ, পৃ-১৬) রাসূল ﷺ এও বলেছেন: কবর হয়তো জান্নাতের একটি টুকরা অথবা জাহান্নামের একটি গর্ত। এটা কিছুটা বৈসাদৃশ্য যে, কেউ কবরে জাহান্নামের আগুন ভোগ করছে, অন্যের আমলের দ্বারা জান্নাতের স্বাদ আস্বাদন করবে। তবে এটা সাদৃশ্যপূর্ণ যে, অন্যের সাহায্যের দ্বারা প্রবল শাস্তি লাঘব হয়। (আল্লাহই ভাল জানেন।)

📘 ইসলামে সর্বোত্তম > 📄 ইহুদি-খ্রিস্টান

📄 ইহুদি-খ্রিস্টান


২১. মহান আল্লাহ ইরশাদ করেন:
وَلَوْ ءَامَنَ أَهْلُ الْكِتَابِ لَكَانَ خَيْرًا لَّهُمْ مِنْهُمُ الْمُؤْمِنُونَ وَأَكْثَرُهُمُ الْفَاسِقُونَ
'কিতাবধারী লোকেরা (ইহুদি ও খ্রিস্টানগণ) যদি বিশ্বাস স্থাপন করত তাহলে তাদের জন্য উত্তম হতো, তাদের মধ্যে কিছু আছে ঈমানদার বেশিরভাগই অপরাধী।' (সূরা আলে ইমরান- ৩: ১১০)

২২. মহান রব আরো ইরশাদ করেন:
يَأَهْلَ الْكِتَابِ لَا تَغْلُوا فِي دِينِكُمْ وَلَا تَقُولُوا عَلَى اللَّهِ إِلَّا الْحَقِّ إِنَّمَا الْمَسِيحُ عِيسَى ابْنُ مَرْيَمَ رَسُولُ اللَّهِ وَكَلِمَتُهُ أَلْقَاهَا إِلى مَرْيَمَ وَرُوْحٌ مِنْهُ فَنَامِنُوا بِاللَّهِ وَرُسُلِهِ وَلَا تَقُولُوا ثَلَاثَةٌ انْتَهُوا خَيْرًا لَكُمْ إِنَّمَا اللَّهُ إِلَهُ وَاحِدٌ سُبْحَانَهُ
অর্থ : 'হে কিতাবধারী (ইহুদি ও খ্রিস্টান) গণ তোমরা দ্বীনের ব্যাপারে বাড়াবাড়ি করো না, এবং আল্লাহর ব্যাপারে সত্য ছাড়া অন্য কিছু বলো না। মসীহ, মরিয়ম পুত্র ঈসা (আ) আল্লাহর রাসূল এবং তার বাণী (অর্থাৎ তার কালিমা বা যে বাক্যের দ্বারা ঈসা (আ)-এর জন্ম হয়েছে) যা তিনি মরিয়মের ওপর নিক্ষেপ করেছিলেন এবং তিনি একটি আত্মা যা আল্লাহর সৃষ্ট। সুতরাং আল্লাহ এবং তাঁর রাসূলের ওপর ঈমান আন। 'তিন' বলো না। এটা পরিত্যাগ করাই তোমাদের জন্য উত্তম। কেননা আল্লাহই একক মাবুদ এবং তিনি পুত্র গ্রহণ করা থেকে অত্যন্ত পবিত্র।' (সূরা আন নিসা-৪: ১৭১)

📘 ইসলামে সর্বোত্তম > 📄 পোশাক

📄 পোশাক


২৩. মহান প্রভু আল্লাহ বলেন:
يَا بَنِي آدَمَ قَدْ أَنْزَلْنَا عَلَيْكُمْ لِبَاسًا يُوَارِي سَوْءَاتِكُمْ وَرِيْشًا وَلِبَاسُ التَّقْوى ذَلِكَ خَيْرٌ .
অর্থঃ 'হে আদম সন্তান, আমি (আরবিতে সম্মানার্থে আমরা ব্যবহৃত হয়েছে) তোমাদেরকে পোশাক দিয়েছি তোমাদের গুপ্তাঙ্গসমূহ ঢাকার জন্য এবং অলঙ্কার হিসেবে। তবে আল্লাহভীতিই সর্বোত্তম পোশাক।' (সূরা আল-আরাফ-৭ : ২৬)

২৪. সর্বশক্তিমান আল্লাহ ইরশাদ করেন:
وَالْقَوَاعِدُ مِنَ النِّسَاءِ الَّتِي لَا يَرْجُونَ نِكَاحًا فَلَيْسَ عَلَيْهِنَّ جُنَاحٌ أَنْ يَضَعْنَ ثِيَابَهُنَّ غَيْرَ مُتَبَرِّجَاتٍ بِزِينَةٍ وَأَنْ يَسْتَعْفِفْنَ خَيْرٌ لَّهُنَّ .
অর্থ : 'যে সব নারীদের ঋতু হয় না অথবা যারা বিয়ের প্রত্যাশা করে না, তারা যদি উপরিভাগের পোশাক কিছুটা হাল্কা করে তাতে কোন সমস্যা নেই, তাদের সৌন্দর্য প্রকাশের ইচ্ছে থাকতে পারবে না। তবে এ থেকে বিরত থাকাই তাদের জন্য উত্তম।' (সূরা আন নূর- ২৪:৬০)

২৫. আনাস (রা) থেকে বর্ণিত নবী করীম ﷺ ইরশাদ করেন:
خَيْرُ ثِيَابِكُمُ الْبَيَاضُ، أَلْبِسُوهَا أَحْيَاءَكُمْ، وَكَفِّنُوا فِيهَا مَوْتَاكُمْ .
অর্থ : 'সর্বোত্তম পোশাক হল সাদা। তোমরা জীবিতদের এর দ্বারা পোশাক পরাও এবং মৃতদের কাফন পরাবে।' (দারুকুতনী, সুনানে ইবন মাজা খ-২, পৃ-৩৮০, নং-১৪৭২, সুনানে আবু দাউদ, খ-৩, পৃ-১১৩৪ নং ৪০৫০ ইবন আব্বাস (রা) থেকে।

২৬. উম্মে সালামাহ (রা) বলেনঃ
كَانَ أَحَبُّ الشَّيَابِ إِلَى رَسُولِ اللَّهِ : الْقَمِيصُ .
অর্থ: 'আল্লাহর রাসূল সবচেয়ে বেশি পছন্দ করতেন লম্বা জামা।' (সুনানে আবু দাউদ, খ-৩, পৃ-১১২৬ নং ৪০১৪, খ-২, পৃ-৭৬১, নং ৩৩৯৬)

২৭. কাতাদাহ (রা) হতে বর্ণিত, তিনি আনাস (রা)-কে জিজ্ঞেস করলেনঃ
أَيُّ اللَّبَاسِ كَانَ أَحَبُّ إِلَى رَسُولِ اللَّهِ أَوْ أَعْجَبَ إِلَى رَسُولِ اللَّهِ؟ قَالَ : الْحِبَرَةُ .
অর্থ : 'কোন পোশাক আল্লাহর রাসূলের নিকট সবচেয়ে প্রিয় বা সবচেয়ে পছন্দের ছিল? তিনি উত্তর দিলেন ডোরাকাটা সুতীর কাপড়।' (বুখারী, মুসলিম এবং আবু দাউদ, সুনানে আবু দাউদ, খ-৩, পৃ-১১৩৩, নং ৪০৪৯)

২৮. আল-বারা ইবন আযিব (রা) থেকে বর্ণিত যে, একদা রাসূল ﷺ কে একটি রেশমী পোশাক দেয়া হয় এবং লোকেরা এর সৌন্দর্য এবং কোমলতায় আশ্চর্য হলে তিনি ইরশাদ করেন:
لَمَنَادِيلُ سَعْدِ بْنِ مُعَادٍ فِي الْجَنَّةِ أَفْضَلُ مِنْ هَذَا
অর্থ : 'সা'দ ইবন মুয়ায (রা)-এর জান্নাতের হাত রুমাল এর চেয়েও উত্তম।' (সহীহ আল-বুখারী, খ-৩, পৃ-৪৭৫ নং ৭৮৫)

টিকাঃ
১১. যেহেতু ইসলাম পরিচ্ছন্নতার ওপর জোর দিয়েছে। এজন্য সাদা বেশি পছন্দনীয়। কেননা এটা পরিচ্ছন্ন রাখতে বেশি ধোয়ার প্রয়োজন হয়।
১২. নবী করীম ﷺ লম্বা জামা বেশি পছন্দ করতেন, যা সারা শরীরকে আবৃত করে। তিনি স্কার্ট-এর মত ইজার পরতেন যা কোমর থেকে হাঁটু পর্যন্ত ঢেকে রাখত।
১৩. خیره (হিবারাহ) হলো ডোরাকাটা সাজানো এক প্রকার ইয়ামেনি কাপড়। যার রং সবুজ হতো। এটি আরবদের কাছে সর্বোত্তম।
১৪. সাদ ইবন মুয়ায (রা) মদিনার আওস গোত্রের একজন নেতা। রাসূল ﷺ এর মদিনা আগমনের পূর্বে ইসলাম গ্রহণকারী ইসলামের পথে ত্যাগ-তিতিক্ষার স্বাক্ষর রাখেন। বদর, ওহুদ যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন। খন্দকের যুদ্ধে মারাত্মকভাবে আহত হন। বনু কুরাইজার ব্যাপারে সঠিক ফায়সালা দান করার পর শাহাদাতবরণ করেন।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00