📄 ব্যবসা-বাণিজ্য
৬. পবিত্র আল-কুরআনে সর্বশক্তিমান আল্লাহ্ ইরশাদ করেন:
وَأَوْفُوا الْكَيْلَ إِذَا كِلْتُمْ وَزِنُوا بِالْقِسْطَاسِ الْمُسْتَقِيمِ ذَالِكَ خَيْرٌ وَأَحْسَنُ تَأْوِيلاً
অর্থঃ 'যখন তোমরা পরিমাপ কর তখন পূর্ণভাবে পরিমাপ কর এবং সঠিক দাঁড়িপাল্লা দ্বারা ওজন দাও এবং পরিণামে সেটাই সর্বোত্তম এবং কল্যাণকর।' (সূরা বনী ইসরাঈল- ১৭:৩৫)
৭. সর্বশক্তিমান আল্লাহ আরো বলেন:
يَأَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا إِذَا نُودِيَ لِلصَّلوة مِنْ يَوْمِ الْجُمُعَةِ فَاسْعَوْا إِلَى ذِكْرِ اللَّهِ وَذَرُوا الْبَيْعَ ذَلِكُمْ خَيْرٌ لَّكُمْ إِنْ كُنْتُمْ تَعْلَمُونَ .
অর্থ : 'হে বিশ্বাসিগণ! জুমুয়ার দিন যখন নামাযের জন্য ডাকা হয় তখন তোমরা আল্লাহর স্মরণের উদ্দেশ্যে দ্রুত আল্লাহর স্বরণে অগ্রসর হও এবং ব্যবসা ও কাজকর্ম বন্ধ কর। তোমাদের জন্য উত্তম যদি তোমরা জান।' (সূরা আল-জুমুয়াহ-৬২:০৯)
৮. আবু বুরদাহ ইবনে নিয়ার বলেন, নবী করীম ﷺ ইরশাদ করেন:
أَفْضَلُ الْكَسْبِ بَيْعٌ مَبْرُورٌ ، وَعَمَلُ الرَّجُلِ بِيَدِهِ .
অর্থঃ 'সর্বোত্তম উপার্জন হলো যা কল্যাণকর ব্যবসা' থেকে অর্জিত এবং যা ব্যক্তি তার স্বহস্তে হালাল উপায়ে অর্জন করে।' (মুসনাদে আহমাদ, তাবারানী ফিল কবীর)
৯. আবু হুরাইরা (রা) বর্ণনা করেন, আল্লাহর রাসূল ﷺ ইরশাদ করেনঃ
لانْ يَحْتَطِبَ أَحَدُكُمْ حُزْمَةً عَلَى ظَهْرِهِ خَيْرٌ لَهُ مِنْ أَنْ يَسْأَلَ أَحَدًا فَيُعْطِيَهُ أَوْ يَمْنَعَهُ
অর্থঃ 'তোমাদের মধ্য থেকে কেউ তার নিজ পিঠে করে জ্বালানি কাঠ বহন করা (এবং তা বিক্রি করে জীবিকা অর্জন করা) অন্য কারো নিকট (সাহায্য) প্রার্থনা করার চাইতে উত্তম, তাতে কেউ দিতেও পারে নাও দিতে পারে। (সহীহ আল-বুখারী, খ-২, পৃ-৩১৯, নং ৫৪৯) (সহীহ মুসলিম, খ-২, পৃ-৪৯৭-৮, নং ২২৬৭) (মুয়াত্ত্বা ইমাম মালিক পৃ-৪২৭ নং ১৮২৩) (মিশকাতুল মাসাবীহ, খ-১, পৃ-৩৯০)
টিকাঃ
১. হালাল ব্যবসা, আল্লাহর নিকট গ্রহণযোগ্য ব্যবসা, যা হালাল পথে উৎপাদিত এবং কোনরূপ প্রতারণা মুক্ত।
২. কুবাইসাহ ইবনে মুখারিক বর্ণনা করেন যে, নবী করীম ﷺ ইরশাদ করেন যে, ভিক্ষা (প্রার্থনা) শুধু নিম্নলিখিত যেকোন অবস্থায় অনুমোদিত।
ক. যে ব্যক্তি অপর ব্যক্তির দায়িত্ব গ্রহণ করেছে, এমতাবস্থায় প্রয়োজনীয় পরিমাণ অর্থ আদায় হওয়া পর্যন্ত।
খ. যার সম্পদ প্রাকৃতিক দুর্যোগে নষ্ট হয়েছে, তার আহারের সংস্থান হওয়া পর্যন্ত।
গ. দারিদ্র্যক্লিষ্ট ব্যক্তি, সচ্ছল হওয়া পর্যন্ত। তবে শর্ত থাকে যে, তার গোত্র থেকে তিনজন ভদ্র ব্যক্তি তাঁর দারিদ্র্যক্লিষ্টতার সাক্ষ্য দিবে। রাসূল ﷺ বলেন এর বাইরে সাহায্য চাওয়া (ভিক্ষা করা) হারাম এবং হে কুবাইসাহ তা ভক্ষণ হারাম। (সহীহ মুসলিম খ-২, পৃ-৪৯৮, নং২২৭১, সুনানে আবু দাউদ খ-২, পৃ-৪৩০ নং ১৬৩৬)
📄 চরিত্র
১০. হযরত ছাওবান (রা) বলেন যে, নবী করীম ﷺ ইরশাদ করেন:
أَفْضَلُ الدُّنَانِيرِ : دِيْنَارُ يُنْفِقُهُ الرَّجُلُ عَلَى عَمَالِهِ ، وَدِيْنَارٌ يُنْفِقُهُ الرَّجُلُ عَلَى دَابَّتِهِ فِي سَبِيلِ اللهِ ، وَدِيْنَارُ يُنْفِقُهُ الرَّجُلُ عَلَى أَصْحَابِهِ فِي سَبِيلِ اللَّهِ عَزَّ وَجَلَّ .
অর্থ : 'মুদ্রাগুলোর মধ্যে সর্বোত্তম মুদ্রা (টাকা) হলো যা ব্যক্তি তার পরিবারের জন্য ব্যয় করে, যে মুদ্রা তার আল্লাহর রাস্তায় যুদ্ধ করার প্রাণির জন্য ব্যয় করে এবং যে মুদ্রা সে তার দ্বীনী ভাইদের জন্য ব্যয় করে।' (সহীহ মুসলিম, খ-২, পৃ-৪৭৮ নং ২১৮০) (সুনানে তিরমিজি, নাসায়ী, ইবনে মাজা এবং আহমাদ। মিশকাতুল মাসাবীহ খ-১, পৃ-৪১০)
১১. ইবন উমর (রা) বর্ণনা করেন যে, নবী করীম ﷺ ইরশাদ করেনঃ
أَفْضَلُ الْمُؤْمِنِينَ أَحْسَنُهُمْ خُلُقًا.
অর্থ : 'সর্বোত্তম মুমিন হলো তারা যারা চরিত্রের দিক দিয়ে সর্বোত্তম।' (ইবন মাজা ও আল-হাকীম)
১২. ইবন আমর (রা) বর্ণনা করেন যে, নবী করীম ﷺ ইরশাদ করেন:
خِيَارُكُمْ أَحَاسِنُكُمْ أَخْلَاقًا
অর্থ : 'তোমাদের মধ্যে সর্বোত্তম ঐ ব্যক্তি, যিনি চরিত্রের দিক দিয়ে সর্বোত্তম।' (সুনানে আহমাদ, আতায়ালেসী, সহীহ আল-বুখারী, খ-৮, পৃ-৩৯ নং-৬১, সহীহ মুসলিম, খ-৪, পৃ-১২৪৪, নং ৫৭৪০)
📄 দান
১৩. মহামহিম আল্লাহ ইরশাদ করেনঃ
إِن تُبْدُوا الصَّدَقَاتِ فَنِعِمَّا هِيَ وَإِنْ تُخْفُوهَا وَتُؤْتُوهَا الْفُقَرَاءَ فَهُوَ خَيْرٌ لَّكُمْ وَيُكَفِّرُ عَنْكُمْ مِنْ سَيِّئَاتِكُمْ .
অর্থ: 'যদি তুমি প্রকাশ্যে দান কর তবে উহা ভাল। আর যদি তুমি এটি গোপন কর এবং দরিদ্রদের দাও তা হবে তোমার জন্য উত্তম, এতে আল্লাহ তোমাদের (কিছু) পাপ মোচন করবেন।' (সূরা আল-বাকারাহ- ২: ২৭১)
১৪. সর্বশক্তিমান আল্লাহ ইরশাদ করেনঃ
وَإِنْ كَانَ ذُو عُسْرَةٍ فَنَظِرَةٌ إِلَى مَيْسَرَةٍ وَأَنْ تَصَدِّقُوا خَيْرٌ لَكُمْ إِنْ كُنْتُمْ تَعْلَمُونَ .
অর্থ: 'যদি কোন ঋণগ্রস্তের সমস্যা থাকে (ঋণ পরিশোধে) তাহলে তাকে সচ্ছল হওয়া পর্যন্ত সময় দান কর। যদি তুমি তাকে দান কর তাই উত্তম যদি তুমি উপলব্ধি কর।” (সূরা আল-বাকারাহ- ২ঃ ২৮০)
১৫. হযরত আবু উমামাহ (রা) থেকে বর্ণিত, নবী করীম ﷺ ইরশাদ করেনঃ
أَفْضَلُ الصَّدَقَاتِ ظِلُّ فُسْطَاطٍ فِي سَبِيلِ اللَّهِ وَمَنِيْحَةُ خَادِمٍ فِي سَبِيلِ اللَّهِ ، أَوْ طَرُوقَةُ فَحْلٍ فِي سَبِيلِ اللَّهِ .
অর্থ : 'সর্বোত্তম দানগুলো হলো- ক. আল্লাহর রাস্তায় তাঁবুর ছায়া, খ. আল্লাহর রাস্তায় ক্রীতদাস দান করা, গ. আল্লাহর রাস্তায় বয়স্কা উটনী দান করা। (সুনানে আহমদ, তিরমিযী, আদী ইবন আবু হাতীম থেকেও তিরমিযী বর্ণনা করেন। মিশকাতুল মাসাবীহ খ-১, পৃ-৮১২-৩)
১৬. হাকীম ইবন হিজাম থেকে বর্ণিত, নবী করীম ﷺ ইরশাদ করেন:
أَفْضَلُ الصَّدَقَاتِ مَا كَانَ عَنْ ظَهْرِ عَنِّي، وَالْيَدُ الْعُلْيَا خَيْرٌ مِّنَ الْيَدِ السُّفْلَى، وَابْدَأَ بِمَنْ تَعُولُ
অর্থ: 'সর্বোত্তম দান হলো তা, যা কেউ অতিরিক্ত অর্থ থেকে দান করে, উপরের হাত (দাতার হাত) নিচের হাত (গ্রহীতার হাত) থেকে উত্তম। নির্ভরশীলদের থেকে তুমি তোমার দান শুরু কর।' (সুনানে নাসায়ী, আহমাদ, সহীহ মুসলিম খ-২, পৃ-৪৯৫, নং-২২৫৪, সুনানে আবু দাউদ খ-২, পৃ-৪৪০, নং ১৬৭২, মিশকাতুল মাসাবীহ, খ-১, পৃ-৪১০, একই বর্ণনা আবু হুরাইরাহ থেকে সহীহ আল-বুখারী, খ-২, পৃ-২৯২, নং ৫০৮)
১৭. আবু আইয়ুব এবং হাকীম ইবন হিজাম বর্ণনা করেন যে, নবী করীম ﷺ ইরশাদ করেন : أَفْضَلُ الصَّدَقَةِ الصَّدَقَةُ عَلَى ذِي الرَّحِمِ الْكَاشِعِ
অর্থ : 'সর্বোত্তম দান হলো যা নিঃস্ব আত্মীয়কে দেয়া হয়।' (মুসনাদে আহমাদ, আত্তাবারানী, আদাবুল মুফরাদ, ইমাম তিরমিজি আবু সাঈদ থেকে এবং হাকীম উম্মে কুলসুম বিনতে উকবা থেকে বর্ণনা করেছেন।)
১৮. আবু হুরাইরা (রা) বর্ণনা করেন যে, নবী করীম ﷺ ইরশাদ করেনঃ
أَفْضَلُ الصَّdَقَةِ جُهْدُ الْمُقِلِ، وَابْدَأَ بِمَنْ تَعُولُ
অর্থ: 'সর্বোত্তম দান হলো তা যা কষ্টের মধ্যেও কোন নিঃস্ব ব্যক্তিকে দেয়া হয় এবং তুমি তোমার ওপর নির্ভরশীল ব্যক্তি থেকে তোমার দানকে শুরু কর।' (সুনানে আবু দাউদ, খ-২, পৃ-৪৪০ নং ১৬৭৩)
১৯. হযরত আবু হুরাইরা (রা) বর্ণনা করেন, নবী করীম ﷺ ইরশাদ করেনঃ
أفْضَلُ الصَّدَقَةِ أَنْ تَصَدَّقَ وَأَنْتَ صَحِيحٌ شَحِيْحٌ ، تَأْمَلُ الْغِنَى وَتَخْشَى الفَقْرَ ، وَلاَ تُمْهِلْ حَتَّى إِذَا بَلَغَتِ الْحُلْقُوْمَ قُلْتَ : لِفُلانٍ كَذَا ، وَلِفُلانٍ كَذَا ، أَلَا وَقَدْ كَانَ لِفُلانٍ كَذَا
অর্থঃ 'সর্বোত্তম দান হলো সুস্থ ও মন ভাল থাকা অবস্থায় দান করা। যখন সম্পদের আশা ও দরিদ্র্যতার ভয় করা হয়। আত্মা কণ্ঠনালীতে আসা পর্যন্ত (মৃত্যু) অপেক্ষা করো না। অতঃপর বলবে: এগুলো হলো অমুকের, ঐ জিনিসগুলো অমুকের, এটা যখন অমুকের হয়ে গেছে তখন।' (সহীহ আল-বুখারী, খ-২, পৃ. ২৮৬ নং-৫০০, সহীহ মুসলিম, খ-২ পৃ.-৪৯৪, নং ২২৫০, আবু দাউদ, নাসায়ী এবং আহমদ)
২০. সা'দ ইবন উবাদাহ (রা) থেকে বর্ণিত, নবী করীম ﷺ ইরশাদ করেন:
أَفْضَلُ الصَّدَقَةِ سَقَى الْمَاءِ .
অর্থ: 'সর্বোত্তম দান হলো জনগণকে সুপেয় পানি পান করানো।' (সুনানে আবু দাউদ, খ-২, পৃ-৪৪১ নং ১৬৭৫, নাসায়ী, ইবন মাজাহ, ইবন হিব্বান এবং আল-হাকীম, আবুল ইয়ালা (রা) ইবন আব্বাস (রা) থেকে বর্ণনা করেছেন)।
টিকাঃ
৩. আবু হুরাইরা (রা) থেকে বর্ণিত, রাসূল ﷺ ইরশাদ করেন: কোন এক ব্যক্তি লোকদের ঋণ দিত এবং তার (আদায়কারী) চাকরকে বলত: “ঋণগ্রস্ত ব্যক্তি যদি দরিদ্র হয় তাহলে তাকে মাফ করে দিও, এতে হয়ত আল্লাহ আমাদের মাফ করে দিবেন, যখন তিনি আল্লাহর সঙ্গে মিলিত হলেন (মৃত্যুর পর) আল্লাহ তাকে ক্ষমা করে দিলেন। (সহীহ বুখারী, খ-৪, পৃ-৪৫৫, নং ৬৮৭)
৪. বয়স্কা উটনী (طروقة) হলো ঐ উটনী যা বাচ্চা জন্মদানের উপযুক্ত হয়েছে। Arabic English Lexicon. V-2, P-1849
৫. 'যে ব্যক্তি আল্লাহর সৈনিককে অস্ত্রদান করেন, তার অনুপস্থিতিতে তার পরিবার দেখাশুনা করেন তিনি যোদ্ধার সমান।' (সহীহ মুসলিম, খ-৩, পৃ-১০৫০-১, নং ৪৬৬৮)
৬. উপরের হাত হলো দানের হাত এবং নিচের হাত হলো গ্রহীতার হাত। অর্থাৎ উপকারীর হাত উপকৃতের হাত থেকে উত্তম। ইসলামে বিশেষ ক্ষেত্র ছাড়া ভিক্ষা করা নিষেধ। রাসূল ﷺ বর্ণনা করেন যে ব্যক্তি প্রকৃত প্রয়োজন ছাড়া ভিক্ষা করে, সে বিচারের দিবসে আল্লাহর সম্মুখে এমনভাবে উপস্থিত হবে যে, তার চেহারায় গোস্ত থাকবে না। (সহীহ আল-বুখারী, খ-২, পৃ-৩২১, নং ৫৫৩, সহীহ মুসলিম খ-২, প-৪৭৯, নং ২২৬৫)
৭. দান করা ঈমানের গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ। অত্র হাদীসে আল্লাহর কালাম এ বাণীকে ব্যাখ্যা করেঃ “ভাল কাজ এবং মন্দকাজ সমান নয়, মন্দকে উত্তম দিয়ে প্রতিরোধ কর তাহলে তোমাদের মধ্যকার শত্রুতা অন্তরঙ্গ বন্ধুত্বে পরিণত হবে।' (সূরা ফুসসিলাত-৪১:৩৪)
৮. বিনয়ের সর্বোত্তম আধ্যাত্মিক গুণ তখন অর্জিত হয় যখন সে লোভ ত্যাগ করতে পারে।
৯. উন্নত মানের গুণ বা কল্যাণ তখন দানের দ্বারা হয় না যখন কেউ মৃত্যুর মুখোমুখি হয় এবং সম্পদ সহজেই অন্যের হাতে চলে যাচ্ছে।
১০. পানির উৎস, যেমন কূপ অথবা ঝর্ণা, (চাপ কল), যা জনগণের ব্যবহারের জন্য রাখা হয়। ঐ সময় আরবে পানির বড়ই অভাব ছিল, তখন এ ধরনের কাজের খুবই গুরুত্ব ছিল। এমনকি এখনো নদী ও সাগরের দূষণের কারণে পৃথিবীর বিভিন্ন অংশে পানির অভাবে এর ভূমিকা বিরাট। একজন জাতিসংঘ কর্মী বর্ণনা করেন যে, প্রায় দশ কোটি লোক বর্তমানে বিশুদ্ধ পানির অভাবে ভুগছে (খালিজ টাইম্স, শুক্রবার, ১৯৯৮)
এ হাদীসের আরেকটি নির্ভরযোগ্য ভাষ্য সুনানে আবু দাউদে (হাদীস নং ১৬৭৭) সাদ (রা) বলেন, 'হে আল্লাহর রাসূল! উম্মে সাদ ইন্তিকাল করেছেন। (তার নামে) দানের সর্বোত্তম পদ্ধতি কি?' তিনি উত্তর দিলেন 'পানি'। সুতরাং তিনি একটি কূপ খনন করলেন এবং বললেন: 'এটা উম্মে সা'দ এর জন্য'। এ উক্তি থেকে একথা বুঝা যায় যে মৃত আত্মীয়-স্বজনের নামে দান করলে তারা এর দ্বারা উপকৃত হয়। বহু হাদীসে এর সমর্থন পাওয়া যায়, যেমন- হাজ্জ, সাওম ও দুয়া মুনাজাত ইত্যাদি। প্রশ্ন উঠে এটা কি তাদের শেষ বিচারের দিনে উপকারে আসবে নাকি কবরেও উপকার করবে? যখন কারো পক্ষ থেকে ঋণ পরিশোধ করা হয় (মৃত) নবী ﷺ ইরশাদ করেনঃ 'এখন তার চামড়া ঠাণ্ডা হয়েছে। (সুনানে আহমদ, আহকামুল জানাইজ, পৃ-১৬) রাসূল ﷺ এও বলেছেন: কবর হয়তো জান্নাতের একটি টুকরা অথবা জাহান্নামের একটি গর্ত। এটা কিছুটা বৈসাদৃশ্য যে, কেউ কবরে জাহান্নামের আগুন ভোগ করছে, অন্যের আমলের দ্বারা জান্নাতের স্বাদ আস্বাদন করবে। তবে এটা সাদৃশ্যপূর্ণ যে, অন্যের সাহায্যের দ্বারা প্রবল শাস্তি লাঘব হয়। (আল্লাহই ভাল জানেন।)
📄 ইহুদি-খ্রিস্টান
২১. মহান আল্লাহ ইরশাদ করেন:
وَلَوْ ءَامَنَ أَهْلُ الْكِتَابِ لَكَانَ خَيْرًا لَّهُمْ مِنْهُمُ الْمُؤْمِنُونَ وَأَكْثَرُهُمُ الْفَاسِقُونَ
'কিতাবধারী লোকেরা (ইহুদি ও খ্রিস্টানগণ) যদি বিশ্বাস স্থাপন করত তাহলে তাদের জন্য উত্তম হতো, তাদের মধ্যে কিছু আছে ঈমানদার বেশিরভাগই অপরাধী।' (সূরা আলে ইমরান- ৩: ১১০)
২২. মহান রব আরো ইরশাদ করেন:
يَأَهْلَ الْكِتَابِ لَا تَغْلُوا فِي دِينِكُمْ وَلَا تَقُولُوا عَلَى اللَّهِ إِلَّا الْحَقِّ إِنَّمَا الْمَسِيحُ عِيسَى ابْنُ مَرْيَمَ رَسُولُ اللَّهِ وَكَلِمَتُهُ أَلْقَاهَا إِلى مَرْيَمَ وَرُوْحٌ مِنْهُ فَنَامِنُوا بِاللَّهِ وَرُسُلِهِ وَلَا تَقُولُوا ثَلَاثَةٌ انْتَهُوا خَيْرًا لَكُمْ إِنَّمَا اللَّهُ إِلَهُ وَاحِدٌ سُبْحَانَهُ
অর্থ : 'হে কিতাবধারী (ইহুদি ও খ্রিস্টান) গণ তোমরা দ্বীনের ব্যাপারে বাড়াবাড়ি করো না, এবং আল্লাহর ব্যাপারে সত্য ছাড়া অন্য কিছু বলো না। মসীহ, মরিয়ম পুত্র ঈসা (আ) আল্লাহর রাসূল এবং তার বাণী (অর্থাৎ তার কালিমা বা যে বাক্যের দ্বারা ঈসা (আ)-এর জন্ম হয়েছে) যা তিনি মরিয়মের ওপর নিক্ষেপ করেছিলেন এবং তিনি একটি আত্মা যা আল্লাহর সৃষ্ট। সুতরাং আল্লাহ এবং তাঁর রাসূলের ওপর ঈমান আন। 'তিন' বলো না। এটা পরিত্যাগ করাই তোমাদের জন্য উত্তম। কেননা আল্লাহই একক মাবুদ এবং তিনি পুত্র গ্রহণ করা থেকে অত্যন্ত পবিত্র।' (সূরা আন নিসা-৪: ১৭১)