📄 দাওয়াতের ক্ষেত্রে কোন সামাজিক চিকিৎসা আছে কি?
মনোবিজ্ঞান কখনো সামাজিক চিকিৎসা পদ্ধতি ব্যবহার করে থাকে নির্দিষ্ট সংখ্যক জনসাধারণকে সমবেত করে, মনোবিজ্ঞানী যখন উপলব্ধি করতে পারে তাদের সকলের পরিবেশ ও অবস্থার মধ্যে সামঞ্জস্য আছে। এ জাতীয় চিকিৎসার ক্ষেত্রে মনোবিজ্ঞানীগণ আদর্শ সংখ্যাটাকে ৬-৮ ব্যক্তির মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখতে পারে। তবে সংখ্যা এর চেয়ে বৃদ্ধি পেলে তাদের মধ্যে শৃংখলা বজায় রাখা দুরূহ ব্যাপার হয়ে যাবে। পক্ষান্তরে উক্ত সংখ্যা এর কম হলেও কার্যকারিতা হ্রাস পাবে। এই দলটির এক সঙ্গে বসবাসের মধ্য দিয়েই চিকিৎসা হয়ে যাবে। দাওয়াতের ক্ষেত্রে এই দৃষ্টিকোণ ও এই সহাবস্থান একটি মহতী উদ্যোগ এবং আচরণের সংস্কারে প্রভাব বিস্তারকারী। কারণ সেই দলের প্রত্যেকটি সদস্য মনে করে সে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ের মুখোমুখি। যেহেতু তা অসংখ্য মানুষের মধ্য হতে বাছাই করে তাকে মনোনীত করা হয়েছে। সে কারণে প্রত্যেকেই চেষ্টা করবে দলের মধ্যে ব্যতিক্রম ও অনন্য হতে। অতএব এই দৃষ্টিকোণ ও তাদের জন্য অনুপ্রেরণা।
সর্বশেষে একটি বিষয় থেকে যায়, যা কোন ঘটনা সংঘটিত হওয়ার সময় আচার-আচরণের ধরণ-প্রকৃতি ও নতুনত্ব বিশেষ পর্যবেক্ষণ ও গুরুত্বের দাবীদার। ব্যাপক অনুভূতি সৃষ্টি অথবা কোন আচরণকে উৎকৃষ্টতার দিকে রূপান্তরের লক্ষ্যে জীবনের সকল ঘটনার সঙ্গে সাধারণভাবে সংযোগ স্থাপন করা কর্তব্য। যখনই কোন ঘটনা সংঘটিত হয়, তখন তার সাথে যুক্ত হয় ভুল-ত্রুটির অনুভূতি। অতঃপর সেটা তার স্মৃতিতে জাগ্রত থাকে। এভাবে অন্য ঘটনা সকল ঘটনা প্রবাহের সঙ্গে যুক্ত হয়। আর সবগুলো একত্রিত হয়ে তার অভিজ্ঞতা সমৃদ্ধ হয়ে আচরণ পরিবর্তনের কারণ হয়।
ঘটনার সাথে সংশ্লিষ্ট আচার-আচরণ, ধরণ-প্রকৃতি যে কতখানি প্রভাবিত করে এর একটি উদাহরণ হিসেবে জিবরীল এর ঈমান ও ইসলামের ব্যাখ্যা সম্বলিত হাদীসের ঘটনা পেশ করা যেতে পারে। যা রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর সাহাবীদের নিকট বর্ণনা করেছেন। জিবরীলের মানুষের আকৃতি ধারণ করা, প্রশ্নকারীর চরিত্রে অভিনয় করা, এসবের উদ্দেশ্য হলো বিষয়বস্তু অন্তরে গেঁথে দেয়া অথবা তাদেরকে একটি তথ্য প্রদান।
অথচ রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর জন্য এ রকম বলা সহজ ছিল যে, ইসলামের রোকন হচ্ছে- এই, এই..., কিয়ামতের নিদর্শন হচ্ছে-এই, এই...; কিন্তু এই বয়ানটা একটি প্রাণবন্ত, হৃদয়গ্রাহী ও প্রত্যক্ষরূপে উপস্থাপন করা হয়েছে যা ভুলে যাওয়া সহজ হয় না। যেমন বর্ণনাকারী বললেন, 'আমাদের নিকট ধপধপে সাদা পোশাক পরিহিত, ঘনকাল কেশধারী এক ব্যক্তি আগমন করল, যাকে আমাদের মধ্যে কেউ চেনে না। আবার তার শরীরে ভ্রমণের কোন চিহ্ন দেখা যায় না ...।' এটা একটি অনভিপ্রেত বিষয় ও অবিস্মরণীয় ঘটনা যা তাদের স্মৃতিতে চির ভাস্বর হয়ে থাকে।
আল্লাহ তা'আলার নিকট প্রার্থনা করি, তিনি আমাদের যা শিক্ষা দিয়েছেন তা দ্বারা আপনাদেরকে এবং আমাকে উপকৃত করুন।
أسأل الله أن ينفعني وإياكم بما علمنا، وصلى الله على سيدنا محمد وعلى آله وصحبه وسلم।