📘 ইসলাম প্রচারে মনোবিজ্ঞানের ভূমিকা 📄 মানুষকে তার বুদ্ধি অনুযায়ী সম্বোধন করা

📄 মানুষকে তার বুদ্ধি অনুযায়ী সম্বোধন করা


দাওয়াতের ক্ষেত্রে মানুষকে তার বুদ্ধি অনুযায়ী সম্বোধন করা একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। কারণ আমরা বিশ্বাস করি বুদ্ধির বিচিত্রতা ও বুঝের মধ্যেও তারতম্য রয়েছে। সুতরাং সকল মানুষ একই পরিমাণ মেধা ও ধীশক্তির অধিকারী নয়। অতএব সকল মানুষের সঙ্গে একই মানের আলোচনা করলে সেটা আপনার ভুল হবে। তাহলে প্রথমেই আপনাকে মানুষের শ্রেণি ও তাদের বুদ্ধির পরিধি জেনে নিতে হবে। আপনার নিকট প্রশ্নকারী লোকটির প্রশ্নের ধরন- গঠন, তার শিক্ষা ও জ্ঞানের পরিধি অথবা চাকুরীর মান দেখে খুব সহজেই আপনি তার শ্রেণিবিন্যাস করে নিতে পারবেন। আলী বিন আবু তালেব রা. বর্ণিত তিনি বলেন, 'মানুষের সঙ্গে তাদের পরিচিত বিষয় নিয়ে আলোচনা কর। তোমরা কি এটা পছন্দ করবে যে, আল্লাহ তাআলা ও তদীয় রাসুলকে সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে মিথ্যা প্রতিপন্ন করা হবে?' তাঁর এ কথার উদ্দেশ্য হচ্ছে, মানুষের সঙ্গে আপনি এমন বিষয় নিয়ে কথা বলবেন, যেটা তারা বুঝতে পারে। কারণ আপনি যদি এমন বিষয় নিয়ে কথা বলেন যা তার বুদ্ধির পরিধির বাহিরে, তখন সে নিশ্চয়ই এ কথা বলে ফেলবে, 'এটা আমার বোধগম্য নয়, এ কথা আল্লাহ তাআলা ও তাঁর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেননি।' আলী রা. এর এ বাণী ইমাম বুখারী র. তার কিতাবে বর্ণনা করেছেন। ইবনে মাসউদ রা. এর বাণী হতে ইমাম মুসলিম র. এর বর্ণনা এ রকম, 'আপনি যদি কোন সম্প্রদায়কে এমন একটি কথা বলেন, যা তাদের বোধগম্য নয়, তাহলে এটা তো তাদের মধ্য হতে অনেককেই বিভ্রান্তিতে ফেলে দেবে।' অর্থ্যাৎ আপনি যদি মানুষের সঙ্গে এমন কথা বলেন, যা তাদের বোধ ও বুঝের স্তরভুক্ত নয়, তখন অনেকের জন্য এই কথাটা তার দীনের ব্যপারে বিভ্রান্তির কারণ হবে। কারণ এই বিষয়টা তারা আয়ত্ত করতে পারেনি।

📘 ইসলাম প্রচারে মনোবিজ্ঞানের ভূমিকা 📄 চিন্তা-ভাবনার ভুলপদ্ধতি কিভাবে সংশোধন করবেন?

📄 চিন্তা-ভাবনার ভুলপদ্ধতি কিভাবে সংশোধন করবেন?


আপনার সম্মুখে অবস্থিত ব্যক্তিকে যদি ভুল পদ্ধতিতে চিন্তা-ভাবনা করতে দেখেন, তখন আপনি কিভাবে তার চিন্তা-ভাবনাকে নির্ভুল ও উত্তম পদ্ধতিতে পরিবর্তন করে দেবেন- যে পদ্ধতিটা আপনাকে তার নিকট গ্রহণযোগ্য করতে সক্ষম। ফলশ্রুতিতে তার অন্তকরণে আপনার প্রতি গভীর ভালোবাসা সৃষ্টি হবে এবং তার বুদ্ধিমত্তায় আপনার সক্রিয় প্রভাব পড়বে? সেটা এভাবে হবে- তাকে এবং তার গবেষণা পদ্ধতিকে ধন্যবাদ জ্ঞাপন ও তার প্রতি শ্রদ্ধাবোধ রেখে আপনি চিন্তা-গবেষণার সঠিক দিকনির্দেশনা দিন এবং তার সামনে গবেষণার ত্রুটিপূর্ণ দিকটা তুলে ধরুন! কিন্তু সে যদি এতটুকুতেই সেটা পরিবর্তন করে নেয়, তাহলে উত্তম। তবে সে যেন মনে কষ্ট না নেয় সে দিকে আবশ্যই খেয়াল রাখতে হবে। আপনি তার চিন্তা-ভাবনার দৃষ্টিভঙ্গির সাথে টক্কর লাগাবেন না। এবং সর্বদা তার মস্তিস্কে এ বিশ্বাস স্থাপন করতে চেষ্টা করুন যে, আপনিই হচ্ছেন সংশোধন ও দিক-নির্দেশনার আধার। জেনে রাখুন! এই মানুষটিকে কল্যাণকর বিষয়ের দিকনির্দেশনা প্রদান ব্যতিরেকে আপনার উদ্দেশ্য কখনোই সফল হবে না। তাকে একজন স্বাভাবিক মানুষ (যে দ্বীনের অনেক মৌলিক বিষয়ের প্রতি উদাসীন) থেকে পরিবর্তন করে ইসলামের সেবায় নিবেদিতপ্রাণ একজন উদ্যমী মানুষে পরিণত করার প্রয়াসই আপনার সর্বোচ্চ লক্ষ্য হওয়া উচিত। যে ইসলামের সেবা ও তার লক্ষ্যসমূহ বাস্তবায়নে নিজের সকল যোগ্যতা, প্রতিভা ও গবেষণা নিয়োজিত করবে। সেক্ষেত্রে আপনার জন্যও মহা পুরস্কারের ব্যবস্থা রয়েছে।

এ প্রেক্ষাপটে কেউ বা আবার বিরাট ভুল করে থাকেন। যেমন- ব্যাপকতরকরণ বিষয়; অনেকে আছেন তার জীবনে অথবা কোন কাজে একটি ভুল যদি সে করে ফেলে, তখন গোটা পৃথিবীটা তার চোখে অন্ধকার হয়ে যায় এবং বিশ্বাস করে সকল কাজেই সে ব্যর্থ ও অকৃতকার্য। উদাহরণ স্বরূপ বলা যায়, অনেক ভাই আছেন, যারা সাময়িক সময় পর্যন্ত দাওয়াতি কাজ করার উদ্দেশ্যে কিছু কর্মসূচী হাতে নিয়ে থাকেন। অতঃপর 'পাঠদান' বিষয় দিয়ে শুরু করেন (তবে অবশ্যই সেই পাঠের বিষয়বস্তুটা মানুষের অবস্থা, মন-মানসিকতা এবং তাদের ধারণ ক্ষমতার অনুকুল হতে হবে) অথচ এরপরও কাঙ্ক্ষিত সংখ্যক মানুষ তার পাঠদানে সাড়া দেয়নি। এ কারণে তিনি রাগান্বিত হয়ে বললেন- 'আমি এ কাজের উপযুক্ত নই।' আপনার কর্তব্য এ ভদ্রলোককে দিকনির্দেশনা দেয়া।

আপনি তাকে বলতে পারেন, 'ভাই! আপনি পুরোপুরি উপযুক্ত।' এবং আপনার এ কথা ভুলে গেলে চলবে না, আপনি গেল বছর এটা উপস্থাপন করেছেন, এবং এর দু'বছর পূর্বে তো আপনি এই, এই... বিষয় পেশ করেছিলেন। আর এটা একটি উত্তম ও মহান কাজ।

আপনি এর দ্বারা উক্ত ধারণাটা অথবা তার ত্রুটিপূর্ণ চিন্তা-ভাবনার দৃষ্টিভঙ্গি সংশোধন ও সুন্দর করে দিতে পারেন। পক্ষান্তরে কিছু লোক আছে যারা শুধুমাত্র নেতিবাচক দিকটা উল্লেখ করতেই সদা তৎপর থাকে; এটা অত্যন্ত নিন্দনীয় ও অনভিপ্রেত ব্যাপার। তারা ইতিবাচক দিকগুলো উল্লেখ করতে চায় না, অথচ ইতিবাচক দিকের আলোচনা মানুষের মধ্যে সৎকাজের আগ্রহ সৃষ্টি করে, ব্যক্তিসত্তা ও মূল্যবোধ জাগ্রত করে। উপরন্তু তাকে এ বিশ্বাস করতে শেখায় যে, সে এই সমাজেরই একটি সফল ও গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ।

অনেক লোক এমনও আছে যে, তার নিকট কোন নির্দিষ্ট ব্যক্তির আলোচনা হলে সে বলে উঠে- 'সে একটি খারাপ লোক, তার মধ্যে এই, এই..... খারাপ দোষ আছে এবং সে কোন কাজেরই যোগ্য নয়।' এটা আসলেই একটা আশ্চয্যজনক ব্যাপার! এই নেতিবাচক দিক ও ত্রুটিগুলো ব্যতীত কি আর কোন কিছুই নেই এই মানুষটির জীবনে? সে কি এ.... ভাল কাজগুলো করেনি? আমাদেরকে ইতিবাচক দিকগুলো খুঁজে বের করতে হবে। অতঃপর যখন আমরা সকল ইতিবাচক দিকগুলো সংগ্রহ করতে পারবো, তখন বুঝতে পারবো এই ভদ্রলোক ঠিক কোন কাজটির জন্য উপযুক্ত। আর এই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে আমরা সামর্থ্য ও সম্ভাবনা নির্ণয় করে তাকে সঠিক দিকনির্দেশনা দিতে সক্ষম হবো। সমাজে বহু লোক আছে, যারা অপরের দিকে শুধু কু-দৃষ্টিতেই তাকায়। অপরকে তারা সদাসর্বদা কালো চশমা দিয়ে দেখে। অতএব এদের দৃষ্টিভঙ্গি হলো- সকল মানুষই খারাপ। কারোর মধ্যেই কোন কল্যাণ নেই; বরং তারা সকলেই এই দীন থেকে বহু দূরে। সুতরাং হে ভাই! এই শ্রেণির মানুষদের আপনাকেই দিকনির্দেশনা দিতে হবে। তার আশ-পাশের ভাল বিষয়গুলোর বিবরণ দিতে হবে। তাকে বলুন- ইসলামের দিকে অগ্রসরমান এই প্রত্যয়ী যুবক ও মসজিদসমূহের স্থাপনার দিকে লক্ষ কর! সেই মুসলিম যুবতীদের দিকে তাকাও! যারা সাক্ষাত সকল কঠিন পরিস্থিতি উপেক্ষা করে সর্বস্থানে হিজাবের নির্দেশকে আঁকড়ে ধরেছে। এই উম্মতের মধ্যে কল্যাণ ও মঙ্গল সর্বকালে বিদ্যমান থাকবে। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এ প্রসঙ্গে এরশাদ করেন:
الخير في وفي أمتي إلى يوم القيامة
"আমি এবং আমার উম্মতের মধ্যে কেয়ামত অবধি কল্যাণ বিদ্যমান থাকবে।”²

টিকাঃ
²( )

📘 ইসলাম প্রচারে মনোবিজ্ঞানের ভূমিকা 📄 অনুকূল পরিবেশ তৈরী করা

📄 অনুকূল পরিবেশ তৈরী করা


যে ব্যক্তিকে আপনি সম্বোধন করছেন, তার নিকট গ্রহণযোগ্যতা পেতে এবং আপনার নিশ্চিত প্রভাব বিস্তার করতে হলে অবশ্যই আপনাকে উপযুক্ত সময় নির্বাচন করতে হবে। প্রথমেই নিশ্চিত হয়ে নেবেন- কাঙ্ক্ষিত উপদেশ শ্রবণের জন্য সে সম্পূর্ণ প্রস্তুত কিনা। আপনি যদি এটা নিশ্চিত হতে না পারেন তাহলে পরিবেশ তৈরী করে তাকে প্রস্তুত করে নেন। আর সেটা এভাবেও হতে পারে, যেমন- আপনি তাকে বলবেন, আসসালামু আলাইকুম। উত্তরে সে আপনাকে স্বাগতম... ধন্যবাদ বলবে। এখন আপনি তার সঙ্গে ইসলামের ক্ষুদ্র একটি বিষয়- সালামের শিক্ষা দেয়ার মাধ্যমে আলোচনা শুরু করতে পারেন- তার নিকট স্পষ্ট করে দেবেন যে, অপেক্ষাকৃত উত্তম বাক্যে সালামের উত্তর প্রদান একজন মুসলমানের অন্যতম দায়িত্ব। সে ক্ষেত্রে স্বাগতম, মারহাবা ইসলামী সালাম এর সমকক্ষ নয়। আল্লাহ তাআলা এরশাদ করেন:
وَإِذَا حُيِّيتُمْ بِتَحِيَّةٍ فَحَيُّوا بِأَحْسَنَ مِنْهَا أَوْ رُدُّوهَا
"আর তোমাদেরকে যদি সালাম দেয়, তাহলে তোমরাও তাকে সালাম দাও; তার চেয়ে উত্তম পন্থায় অথবা তারই মত করে।”¹ আপনি এর দ্বারা আলোচনার পথ তৈরী করে নেবেন এবং ভালবাসার রশি শক্ত করে বেঁধে নেবেন। এরপর আপনি উপদেশ প্রদান করতে পারবেন। এভাবে আপনি তার নিশ্চিত গ্রহণযোগ্যতা পাবেন।

টিকাঃ
১. সূরা আন-নিসা, আয়াত- ৮৬

📘 ইসলাম প্রচারে মনোবিজ্ঞানের ভূমিকা 📄 রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর মধ্যেই রয়েছে আমাদের জন্য উত্তম আদর্শ

📄 রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর মধ্যেই রয়েছে আমাদের জন্য উত্তম আদর্শ


এখানে কিছু প্রনিধানযোগ্য বিষয় রয়েছে যা সর্বাগ্রে উল্লেখ করার প্রয়াস পাবো: সরাসরি উপদেশ প্রদান রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর অভ্যাস ছিল না। বরং তিনি অন্য বিষয় দ্বারা সেটাকে প্রস্তুত করে নিতেন। কখনো বা কোন জানা বিষয় প্রশ্ন করার মাধ্যমে আরম্ভ করতেন অথবা একটা বিষয় দ্বারা অন্য বস্তুর দিকে ইঙ্গিত করতেন। যেমন তিনি একবার একজনের প্রশ্নের উত্তর দিতে গিয়ে বললেন:
قد سألت عن عظيم، وإنه ليسير على من يسره الله عليه
'তুমি একটি মহান বিষয় প্রশ্ন করেছো, তবে আল্লাহ তাআলা যার উপর সহজ করেছেন তার জন্য এটা অবশ্যই সহজ।' অর্থাৎ তোমার এই প্রশ্নটা অত্যন্ত গুরুত্বের দাবীদার। তুমি আরাম করে বস এবং মনোযোগ দিয়ে শোন!
تعبد الله ولا تشرك به شيئا، تقيم الصلاة وتوتي الزকاة وتصوم رمضان وتحج البيت.
'আল্লাহর ইবাদত করবে এবং তার সঙ্গে কোন কিছুকে শরীক করবে না, নামাজ কায়েম করবে, যাকাত প্রদান করবে, রমজান মাসে রোজা রাখবে এবং বাইতুল্লাহর হজ করবে।' আবার তিনি অন্য পদ্ধতি অবলম্বন করলেন। উৎসাহ ও উদ্দীপনা প্রদান পদ্ধতির দিকে মনোনিবেশ করলেন, যাতে করে বক্তব্যটা অন্তরের মধ্যে অর্থবহ ও কার্যকর প্রভাব ফেলে। যেমন তিনি বললেন:
ألا أدلك على أبواب الخير عامة ؟ . . الصوم جنة، والصدقة تطفئ الخطيئة كما يطفئ الماء النار، وصلاة الرجل في جوف الليل، ثم تلا قوله تعالى : تتجافى جنوبهم عن المضاجع.
'আমি কি তোমাদেরকে ব্যাপকতর কল্যাণের পথসমূহ বাতলে দেবো না? বললেন, 'রোজা হচ্ছে ঢাল স্বরূপ, সদকা পাপরাশি মোচন করে দেয় যেভাবে পানি আগুনকে নিভিয়ে দেয় এবং গভীর রাতে তাহাজ্জুদ নামাজ। অতঃপর তিনি আল্লাহ তাআলার বাণী তেলাওয়াত করলেন, 'তাদের পার্শ্ব শয্যা থেকে আলাদা থাকে।' কখনো তিনি বলেছেন এভাবে:
ألا أخبرك برأس الأمر وعموده وذروة سنامه
'তোমাকে কি ধর্মীয় বিষয়গুলোর মূল, তার স্তম্ভসমূহ ও শীর্ষ চূড়া সম্পর্কে সংবাদ দেব না?"

এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় উৎসাহ প্রদান করার জন্য ভিন্ন একটি পদ্ধতি ব্যবহার করেছেন। যার অর্থ দাঁড়ায় এ রকম যে, তুমি ইতিপূর্বে যা শুনেছো ব্যাপক কল্যাণের পথ সম্পর্কে তারপরেও সকল কাজের শীর্ষবিন্দু হিসাবে বিবেচিত ও তোমার শ্রুত বিষয়ের চেয়ে উন্নত আরো কিছু আছে। এ কথার মাধ্যমে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম শিক্ষার্থীর মাথায় এমন একটা বিদ্যানুরাগ ঢুকিয়ে দিলেন, যা তাকে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় শ্রবণ করার যোগ্য করে গড়ে তুলতে সক্ষম হবে। উত্তরে শ্রোতারা বলল, 'হ্যাঁ, অবশ্যই বলুন; হে আল্লাহর রাসুল! তখন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এরশাদ করলেন:
رأس الأمر الإسلام، وعموده الصلاة وذروة سنامه الجهاد
"সকল কল্যাণের মূল বা মাথা হচ্ছে ইসলাম, তার স্তম্ভ হলো নামাজ এবং জিহাদ হল তার শীর্ষচূড়া।”

এরপর তিনি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন:
ألا أخبرك بملاك ذلك كله
"আমি কি তোমাকে এই সবগুলোর ধ্বংসকারী সম্পর্কে অবহিত করবো না?"
अर्थাৎ ধর্মের মূল, স্তম্ভ ও শীর্ষ চূড়া সম্পর্কে তুমি যা কিছু শুনলে এ সবকিছুর পরও একটি বিষয় রয়ে গেছে, যা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। যা এগুলো শেষ করে দেয়। সে সম্পর্কে আমি কি তোমাদের সংবাদ দেবো না?' তারা বলল, 'অবশ্যই বলুন, হে আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম।' অতঃপর তিনি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিজের জিহ্বাটি চেপে ধরে বললেন:
أمسك عليك هذا
“এটা খুব সংযত করে রেখ।"

শ্রোতা বলল, 'হে আল্লাহর রাসুল! আমরা যত কথা বলি সে সকল কথার জন্য কি আমাদেরকে শাস্তি দেয়া হবে?' তিনি বললেন,
ثقلتك أمك يا معاذ! وهل يكب الناس على وجوههم في النار إلا حصائد ألسنتهم ؟
"হে মুআয! তোমার মা তোমার জন্য বিলাপ করুক! লোকদেরকে কি তাদের রসনার অর্জন ব্যতীত অন্য কিছু তাদের অধমুখী করে জাহান্নামে নিক্ষেপ করবে?” (তিরমিযী বর্ণিত হাদিস)

রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর কথা-বার্তা, শ্রোতার মনোযোগ আকর্ষণ, তার মন ও মস্তিস্ককে জাগ্রত করণ এবং যে উপদেশ, জ্ঞান ও সংবাদ পরিবেশন করার ক্ষেত্রে, তার প্রতি অনুপ্রেরণা দানে বিভিন্ন রকম পদ্ধতি প্রয়োগ করেছেন। যেমন দেখুন রাসুলুল্লাহ'র সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বাণী:
ألا اعلمكم شيئا تدرکون به من سبقكم؟ (صحيح الجامع)
"তোমাদেরকে কি আমি এমন বস্তু শিক্ষা দেবো, যার মাধ্যমে তোমরা তোমাদের পূর্ববর্তীদের নাগাল পেতে পারো?” এরকম কথা শোনার পর স্বভাবতই আমরা পরস্পর জিজ্ঞাসা করতে থাকি; সেই মহান কাজটি কি যা করতে পারলে আমরা বিশাল মর্যাদা, বিনিময় ও পুরস্কারের দিক থেকে আমাদের পূর্ববর্তীদের পর্যন্ত পৌঁছতে পারবো? অনুরূপ রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর আর একটি বাণী:
ألا أدلكم على كنز من كنوز الجنة (صحيح الجامع)
“আমি কি তোমাদেরকে জান্নাতের খাজানাসমূহের থেকে একটি খাযানার কথা বলবো না?" আমাদেরকে এক সঙ্গে লক্ষ্য রাখতে হবে, আলোচনায় উৎসাহ ও প্রেরণাদান পদ্ধতি, পদ্ধতির বিভিন্ন ধরণ এবং শ্রোতার মন ও অবস্থা অনুযায়ী ধীরতা অবলম্বনের দিকে। প্রথম শিক্ষক রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর মধ্যেই রয়েছে আমাদের জন্য উত্তম আদর্শ। আমরা যদি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর হাদীসসমূহ অনুসন্ধান করি, তাহলে দেখতে পাবো কিভাবে তিনি কালজয়ী হয়েছেন এবং সাম্প্রতিক কালে আধুনিক প্রশিক্ষণ পদ্ধতিতে কঠিন সাধনা করে অর্জিত বিভিন্ন বিভাগে বিশেষজ্ঞ মনীষীদের উপর কি করে প্রাধান্য বিস্তার করে গেছেন।

ফন্ট সাইজ
15px
17px