📄 মানুষের মধ্যে আপনি কিভাবে প্রভাব বিস্তার করবেন?
প্রভাব বিস্তারের মূল প্রধান ও প্রথম স্তর হচ্ছে আস্থা অর্জন। আর তা অর্জিত হবে কতিপয় সেবা প্রধানের মাধ্যমে যা ইতিপূর্ব উল্লেখ করেছি। আস্থা অর্জন মানুষের মধ্যে ভালোবাসা ও বন্ধুত্বের জন্ম দেয়। অতএব যে আপনাকে ভালোবাসবে সে অবশ্যই আপনার আনুগত্য করবে। কারণ প্রভাব বিস্তারে ভালোবাসা অত্যন্ত শক্তিশালী, সক্রিয় ও কার্যকর মাধ্যম। যেমন একটি প্রসিদ্ধ কথা আছে :
إن المحب لمن يحب مطيع 'অবশ্যই প্রেমিক তার প্রেমাস্পদের আনুগত্য করে।'
এখানে অন্ধ আনুগত্য কখনোই আমাদের কাম্য নয়। যে আনুগত্য অন্ধ ভালোবাসা থেকে সৃষ্টি হয় তা কোন দোষ-ত্রুটি দেখে না। কারণ যে অন্ধের মত আনুগত্য করে সে আমাদের উদ্দেশ্য নয়। তবে আমরা এমন যুবসমাজ এবং ব্যক্তিদের চাই, যারা ব্যক্তিত্বের স্বাধীনতা, মুক্তচিন্তা, পরিচ্ছন্ন মতামতের স্বাধীনতা ও সত্যের ব্যাপারে সাহসিকতার পরিচয়ে অনন্য। অপরের মধ্যে প্রভাব বিস্তারের ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় যে গুণটি তা হচ্ছে উত্তম আদর্শ। শুধু কথা ও উপদেশ দ্বারা মানুষ প্রভাবিত হয় না। শুধুমাত্র কথামালা ও উপদেশ কি করতে পারবে? যখন মানুষ এমন কোন আদর্শ দাওয়াত-কর্মী পাবে না যে উক্ত উপদেশ প্রথমে নিজের উপর প্রয়োগ করতে ও নিজ জীবনে বাস্তবায়নে যত্নবান হবে। যখন সে নিজেই তার কাজকর্ম ও আচার-ব্যবহারে অপরের জন্য আদর্শ নয়; তখন মানুষ তা দেখে কি তার পদাঙ্ক অনুসরণ করবে?
আপনি যখন ভুল-ত্রুটি অথবা উপদেশ সংক্রান্ত আলোচনা করার সংকল্প করবেন, তখন আলোচনায় অন্য লোকদের প্রতি 'ইঙ্গিত পদ্ধতি' ব্যবহার করা কর্তব্য। যেমন আপনি বলতে পারেন- আল্লাহ তা'আলা চেয়েছেন অমুক ব্যক্তি এটা...করুক। আপনি যদি তার মেজাজ বোঝেন এবং জানতে পারেন যে, সামান্য একটু প্রশংসা পেলে সে অধিক নেক কাজ করতে বেশ উৎসাহিত হবে। তখন আপনি কেন তার প্রশংসা করবে না? আর মানুষের স্বভাব সর্বদা এরকমই হয়ে থাকে যে, সে নিজের প্রশংসা পেতে ভালবাসে। আপনি দেখতে পাবেন লোকজন তারই প্রশংসা করছে যে, সে এ..টা করেছে, সে সে. টা. করেছে তখন তা তার কাছে খুব ভালো লাগবে। কেউ কেউ মনে করেন এটা একটা ভালো উদ্যোগ।
আবার কখনোবা কেউ বলেও ফেলতে পারেন 'আমি কি শুধুমাত্র আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে করছি না মানুষের জন্য কাজটি করছি?' কিন্তু মানবস্বভাব অপর মানুষের মন্তব্য শোনার জন্য সর্বদা উৎকর্ণ থাকে। সুতরাং সে নিজের দিকে মানুষের দৃষ্টি আকৃষ্ট করার জন্য দৃঢ়ভাবে সংকল্পবদ্ধ হয়ে কষ্ট স্বীকার করবে। কারণ, তার একটাই উদ্দেশ্য মানুষ যেন তার দিকে সুন্দর ও ভালো দৃষ্টিতে তাকায়। এর সর্বোৎকৃষ্ট উদাহরণ হচ্ছে- সালেম বিন আব্দুল্লাহ বিন ওমর বিন খাত্তাব কর্তৃক তার পিতা হতে বর্ণিত রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর বাণী। তিনি এরশাদ করেন:
نعم الرجل عبد الله لو كان يصلى الليل، قال سالم : فكان عبد الله آنذاক لا ينام الليل إلا قليلا. (متفق عليه)
'যদি রাতে নামাজ আদায় করত আব্দুল্লাহ রা. তাহলে সে কত ভালো মানুষ হতে পারতো।' সালেম বলেন, 'তখন থেকে আব্দুল্লাহ রা. রাতে খুব সামান্যই ঘুমাতেন।' তিনি এ কথাটা আব্দুল্লাহ কে এভাবে বললেন না, 'তুমি রাতে তাহাজ্জুদ নামাজ আদায় করো না' অথবা 'তুমি কেন তাহাজ্জুদ আদায় করছো না?' তিনি বলেছেন, 'আব্দুল্লাহ রা. কত ভালো লোক হতো যদি সে রাতে নামাজ আদায় করতো!' তাঁর উদ্দেশ্য ছিল আব্দুল্লাহর রা. সকল গুণই উত্তম হয়ে যেত যদি এই আমলটিও সে করতে পারতো। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এখানে শুধুমাত্র এই একটি আমলকেই চিহ্নিত করেছেন যা তিনি আব্দুল্লাহ রা. থেকে প্রত্যাশা করতেন। তিনি মানুষের প্রশংসা অনুসন্ধান করেননি। কিন্তু যখনই কোন দোষ-ত্রুটি দেখেছেন অমনি তা ইঙ্গিত পদ্ধতি প্রয়োগে শোধরাতে চেষ্টা করেছেন। অভিযুক্ত ব্যক্তিকে সরাসরি তিরস্কার কিংবা শাস্তি প্রদানের পথ অবলম্বন করেননি; ইশারা-ইঙ্গিতের মাধ্যমে তাঁর ইচ্ছার প্রতিফলন ঘটিয়েছেন।
📄 মানুষকে তার বুদ্ধি অনুযায়ী সম্বোধন করা
দাওয়াতের ক্ষেত্রে মানুষকে তার বুদ্ধি অনুযায়ী সম্বোধন করা একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। কারণ আমরা বিশ্বাস করি বুদ্ধির বিচিত্রতা ও বুঝের মধ্যেও তারতম্য রয়েছে। সুতরাং সকল মানুষ একই পরিমাণ মেধা ও ধীশক্তির অধিকারী নয়। অতএব সকল মানুষের সঙ্গে একই মানের আলোচনা করলে সেটা আপনার ভুল হবে। তাহলে প্রথমেই আপনাকে মানুষের শ্রেণি ও তাদের বুদ্ধির পরিধি জেনে নিতে হবে। আপনার নিকট প্রশ্নকারী লোকটির প্রশ্নের ধরন- গঠন, তার শিক্ষা ও জ্ঞানের পরিধি অথবা চাকুরীর মান দেখে খুব সহজেই আপনি তার শ্রেণিবিন্যাস করে নিতে পারবেন। আলী বিন আবু তালেব রা. বর্ণিত তিনি বলেন, 'মানুষের সঙ্গে তাদের পরিচিত বিষয় নিয়ে আলোচনা কর। তোমরা কি এটা পছন্দ করবে যে, আল্লাহ তাআলা ও তদীয় রাসুলকে সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে মিথ্যা প্রতিপন্ন করা হবে?' তাঁর এ কথার উদ্দেশ্য হচ্ছে, মানুষের সঙ্গে আপনি এমন বিষয় নিয়ে কথা বলবেন, যেটা তারা বুঝতে পারে। কারণ আপনি যদি এমন বিষয় নিয়ে কথা বলেন যা তার বুদ্ধির পরিধির বাহিরে, তখন সে নিশ্চয়ই এ কথা বলে ফেলবে, 'এটা আমার বোধগম্য নয়, এ কথা আল্লাহ তাআলা ও তাঁর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেননি।' আলী রা. এর এ বাণী ইমাম বুখারী র. তার কিতাবে বর্ণনা করেছেন। ইবনে মাসউদ রা. এর বাণী হতে ইমাম মুসলিম র. এর বর্ণনা এ রকম, 'আপনি যদি কোন সম্প্রদায়কে এমন একটি কথা বলেন, যা তাদের বোধগম্য নয়, তাহলে এটা তো তাদের মধ্য হতে অনেককেই বিভ্রান্তিতে ফেলে দেবে।' অর্থ্যাৎ আপনি যদি মানুষের সঙ্গে এমন কথা বলেন, যা তাদের বোধ ও বুঝের স্তরভুক্ত নয়, তখন অনেকের জন্য এই কথাটা তার দীনের ব্যপারে বিভ্রান্তির কারণ হবে। কারণ এই বিষয়টা তারা আয়ত্ত করতে পারেনি।
📄 চিন্তা-ভাবনার ভুলপদ্ধতি কিভাবে সংশোধন করবেন?
আপনার সম্মুখে অবস্থিত ব্যক্তিকে যদি ভুল পদ্ধতিতে চিন্তা-ভাবনা করতে দেখেন, তখন আপনি কিভাবে তার চিন্তা-ভাবনাকে নির্ভুল ও উত্তম পদ্ধতিতে পরিবর্তন করে দেবেন- যে পদ্ধতিটা আপনাকে তার নিকট গ্রহণযোগ্য করতে সক্ষম। ফলশ্রুতিতে তার অন্তকরণে আপনার প্রতি গভীর ভালোবাসা সৃষ্টি হবে এবং তার বুদ্ধিমত্তায় আপনার সক্রিয় প্রভাব পড়বে? সেটা এভাবে হবে- তাকে এবং তার গবেষণা পদ্ধতিকে ধন্যবাদ জ্ঞাপন ও তার প্রতি শ্রদ্ধাবোধ রেখে আপনি চিন্তা-গবেষণার সঠিক দিকনির্দেশনা দিন এবং তার সামনে গবেষণার ত্রুটিপূর্ণ দিকটা তুলে ধরুন! কিন্তু সে যদি এতটুকুতেই সেটা পরিবর্তন করে নেয়, তাহলে উত্তম। তবে সে যেন মনে কষ্ট না নেয় সে দিকে আবশ্যই খেয়াল রাখতে হবে। আপনি তার চিন্তা-ভাবনার দৃষ্টিভঙ্গির সাথে টক্কর লাগাবেন না। এবং সর্বদা তার মস্তিস্কে এ বিশ্বাস স্থাপন করতে চেষ্টা করুন যে, আপনিই হচ্ছেন সংশোধন ও দিক-নির্দেশনার আধার। জেনে রাখুন! এই মানুষটিকে কল্যাণকর বিষয়ের দিকনির্দেশনা প্রদান ব্যতিরেকে আপনার উদ্দেশ্য কখনোই সফল হবে না। তাকে একজন স্বাভাবিক মানুষ (যে দ্বীনের অনেক মৌলিক বিষয়ের প্রতি উদাসীন) থেকে পরিবর্তন করে ইসলামের সেবায় নিবেদিতপ্রাণ একজন উদ্যমী মানুষে পরিণত করার প্রয়াসই আপনার সর্বোচ্চ লক্ষ্য হওয়া উচিত। যে ইসলামের সেবা ও তার লক্ষ্যসমূহ বাস্তবায়নে নিজের সকল যোগ্যতা, প্রতিভা ও গবেষণা নিয়োজিত করবে। সেক্ষেত্রে আপনার জন্যও মহা পুরস্কারের ব্যবস্থা রয়েছে।
এ প্রেক্ষাপটে কেউ বা আবার বিরাট ভুল করে থাকেন। যেমন- ব্যাপকতরকরণ বিষয়; অনেকে আছেন তার জীবনে অথবা কোন কাজে একটি ভুল যদি সে করে ফেলে, তখন গোটা পৃথিবীটা তার চোখে অন্ধকার হয়ে যায় এবং বিশ্বাস করে সকল কাজেই সে ব্যর্থ ও অকৃতকার্য। উদাহরণ স্বরূপ বলা যায়, অনেক ভাই আছেন, যারা সাময়িক সময় পর্যন্ত দাওয়াতি কাজ করার উদ্দেশ্যে কিছু কর্মসূচী হাতে নিয়ে থাকেন। অতঃপর 'পাঠদান' বিষয় দিয়ে শুরু করেন (তবে অবশ্যই সেই পাঠের বিষয়বস্তুটা মানুষের অবস্থা, মন-মানসিকতা এবং তাদের ধারণ ক্ষমতার অনুকুল হতে হবে) অথচ এরপরও কাঙ্ক্ষিত সংখ্যক মানুষ তার পাঠদানে সাড়া দেয়নি। এ কারণে তিনি রাগান্বিত হয়ে বললেন- 'আমি এ কাজের উপযুক্ত নই।' আপনার কর্তব্য এ ভদ্রলোককে দিকনির্দেশনা দেয়া।
আপনি তাকে বলতে পারেন, 'ভাই! আপনি পুরোপুরি উপযুক্ত।' এবং আপনার এ কথা ভুলে গেলে চলবে না, আপনি গেল বছর এটা উপস্থাপন করেছেন, এবং এর দু'বছর পূর্বে তো আপনি এই, এই... বিষয় পেশ করেছিলেন। আর এটা একটি উত্তম ও মহান কাজ।
আপনি এর দ্বারা উক্ত ধারণাটা অথবা তার ত্রুটিপূর্ণ চিন্তা-ভাবনার দৃষ্টিভঙ্গি সংশোধন ও সুন্দর করে দিতে পারেন। পক্ষান্তরে কিছু লোক আছে যারা শুধুমাত্র নেতিবাচক দিকটা উল্লেখ করতেই সদা তৎপর থাকে; এটা অত্যন্ত নিন্দনীয় ও অনভিপ্রেত ব্যাপার। তারা ইতিবাচক দিকগুলো উল্লেখ করতে চায় না, অথচ ইতিবাচক দিকের আলোচনা মানুষের মধ্যে সৎকাজের আগ্রহ সৃষ্টি করে, ব্যক্তিসত্তা ও মূল্যবোধ জাগ্রত করে। উপরন্তু তাকে এ বিশ্বাস করতে শেখায় যে, সে এই সমাজেরই একটি সফল ও গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ।
অনেক লোক এমনও আছে যে, তার নিকট কোন নির্দিষ্ট ব্যক্তির আলোচনা হলে সে বলে উঠে- 'সে একটি খারাপ লোক, তার মধ্যে এই, এই..... খারাপ দোষ আছে এবং সে কোন কাজেরই যোগ্য নয়।' এটা আসলেই একটা আশ্চয্যজনক ব্যাপার! এই নেতিবাচক দিক ও ত্রুটিগুলো ব্যতীত কি আর কোন কিছুই নেই এই মানুষটির জীবনে? সে কি এ.... ভাল কাজগুলো করেনি? আমাদেরকে ইতিবাচক দিকগুলো খুঁজে বের করতে হবে। অতঃপর যখন আমরা সকল ইতিবাচক দিকগুলো সংগ্রহ করতে পারবো, তখন বুঝতে পারবো এই ভদ্রলোক ঠিক কোন কাজটির জন্য উপযুক্ত। আর এই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে আমরা সামর্থ্য ও সম্ভাবনা নির্ণয় করে তাকে সঠিক দিকনির্দেশনা দিতে সক্ষম হবো। সমাজে বহু লোক আছে, যারা অপরের দিকে শুধু কু-দৃষ্টিতেই তাকায়। অপরকে তারা সদাসর্বদা কালো চশমা দিয়ে দেখে। অতএব এদের দৃষ্টিভঙ্গি হলো- সকল মানুষই খারাপ। কারোর মধ্যেই কোন কল্যাণ নেই; বরং তারা সকলেই এই দীন থেকে বহু দূরে। সুতরাং হে ভাই! এই শ্রেণির মানুষদের আপনাকেই দিকনির্দেশনা দিতে হবে। তার আশ-পাশের ভাল বিষয়গুলোর বিবরণ দিতে হবে। তাকে বলুন- ইসলামের দিকে অগ্রসরমান এই প্রত্যয়ী যুবক ও মসজিদসমূহের স্থাপনার দিকে লক্ষ কর! সেই মুসলিম যুবতীদের দিকে তাকাও! যারা সাক্ষাত সকল কঠিন পরিস্থিতি উপেক্ষা করে সর্বস্থানে হিজাবের নির্দেশকে আঁকড়ে ধরেছে। এই উম্মতের মধ্যে কল্যাণ ও মঙ্গল সর্বকালে বিদ্যমান থাকবে। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এ প্রসঙ্গে এরশাদ করেন:
الخير في وفي أمتي إلى يوم القيامة
"আমি এবং আমার উম্মতের মধ্যে কেয়ামত অবধি কল্যাণ বিদ্যমান থাকবে।”²
টিকাঃ
²( )
📄 অনুকূল পরিবেশ তৈরী করা
যে ব্যক্তিকে আপনি সম্বোধন করছেন, তার নিকট গ্রহণযোগ্যতা পেতে এবং আপনার নিশ্চিত প্রভাব বিস্তার করতে হলে অবশ্যই আপনাকে উপযুক্ত সময় নির্বাচন করতে হবে। প্রথমেই নিশ্চিত হয়ে নেবেন- কাঙ্ক্ষিত উপদেশ শ্রবণের জন্য সে সম্পূর্ণ প্রস্তুত কিনা। আপনি যদি এটা নিশ্চিত হতে না পারেন তাহলে পরিবেশ তৈরী করে তাকে প্রস্তুত করে নেন। আর সেটা এভাবেও হতে পারে, যেমন- আপনি তাকে বলবেন, আসসালামু আলাইকুম। উত্তরে সে আপনাকে স্বাগতম... ধন্যবাদ বলবে। এখন আপনি তার সঙ্গে ইসলামের ক্ষুদ্র একটি বিষয়- সালামের শিক্ষা দেয়ার মাধ্যমে আলোচনা শুরু করতে পারেন- তার নিকট স্পষ্ট করে দেবেন যে, অপেক্ষাকৃত উত্তম বাক্যে সালামের উত্তর প্রদান একজন মুসলমানের অন্যতম দায়িত্ব। সে ক্ষেত্রে স্বাগতম, মারহাবা ইসলামী সালাম এর সমকক্ষ নয়। আল্লাহ তাআলা এরশাদ করেন:
وَإِذَا حُيِّيتُمْ بِتَحِيَّةٍ فَحَيُّوا بِأَحْسَنَ مِنْهَا أَوْ رُدُّوهَا
"আর তোমাদেরকে যদি সালাম দেয়, তাহলে তোমরাও তাকে সালাম দাও; তার চেয়ে উত্তম পন্থায় অথবা তারই মত করে।”¹ আপনি এর দ্বারা আলোচনার পথ তৈরী করে নেবেন এবং ভালবাসার রশি শক্ত করে বেঁধে নেবেন। এরপর আপনি উপদেশ প্রদান করতে পারবেন। এভাবে আপনি তার নিশ্চিত গ্রহণযোগ্যতা পাবেন।
টিকাঃ
১. সূরা আন-নিসা, আয়াত- ৮৬