📘 ইসলাম প্রচারে মনোবিজ্ঞানের ভূমিকা 📄 আলোচনার পদ্ধতি ও সত্যবাদিতা

📄 আলোচনার পদ্ধতি ও সত্যবাদিতা


আলোচনা ও বাক্যালাপের পদ্ধতি জানা আপনার কর্তব্য। মানুষের সঙ্গে সততা, সত্যবাদিতা আপনাকে তাদের বিশ্বাস ও আস্থার কেন্দ্র বিন্দুতে পরিণত করবে। এর দ্বারা আপনি হবেন তাদের জন্য নিরাপদ আশ্রয়। অতএব কখনোই অন্যকে বোকা ঠাওরানোর পদ্ধতি প্রয়োগ করবেন না। কখনো লোকদেরকে এ জানান দেবেন না যে, আপনি তাদের চেয়ে বেশি বুদ্ধিমান, যদি হয়েই থাকেন ঠিক আছে, তবে আপনি একাই বুদ্ধিমান নন- মানুষের মধ্যে তো আরো অনেক বুদ্ধিমান রয়েছে। আপনি যেমন বোঝেন তারাও তো বোঝে। বরং আপনার কর্মতৎপরতা ও তাদের সঙ্গে কথোপকথন পদ্ধতি তারা ধারণ করে রাখে। সুতরাং এ ক্ষেত্রে আপনার কর্তব্য হচ্ছে- আপনার সঙ্গে যিনি কথা বলছেন তাকে বলবেন আপনার কথাগুলো খুবই চমৎকার। কিন্তু আমি এ মুহূর্তে আপনার কথাগুলো গুরুত্ব দিয়ে শুনতে পারছি না। সেহেতু উপযুক্ত ও ব্যাপক সময় নিয়ে আমরা এ আলোচনাটি করতে পারি।

এখন আমাদের দ্বিতীয় বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করা দরকার। তা হচ্ছে: প্রশ্নের পদ্ধতি: মানুষের প্রশ্ন করার পদ্ধতি বিভিন্ন রকম হয়ে থাকে। কেউ করে উন্মুক্ত প্রশ্ন; উন্মুক্ত প্রশ্ন দ্বারা উদ্দেশ্য হচ্ছে- যার উত্তর শুধু হ্যাঁ বা না দ্বারা নয়, বরং অনেকগুলো উত্তর হতে পারে। তবে অবশ্যই সেই উত্তরগুলো হতে হবে সংক্ষিপ্ত ও নাতিদীর্ঘ। এটা বিশেষজ্ঞদের মত (হ্যাঁ অথবা না): কিন্তু উন্মুক্ত প্রশ্ন বলতে সাধারণভাবে তুমি কেমন আছো? বিশেষ করে তোমার পরিবার-পরিজনদের নিয়ে তোমার দিন কেমন কাটছে? সাধারণভাবে ইসলামের অনুসরণ কতটুকু করতে পেরেছো? এর উত্তরে সে ঐ প্রশ্নগুলো সমর্থন করে অথবা অসমর্থন করে কথা বলবে। অথবা এখানে আরো অনেক উত্তর থাকতে পারে। এমনকি আপনি যে উত্তরের অপেক্ষা করছেন তার বিপরীত উত্তরও সে দিয়ে ফেলতে পারে। অতএব আপনি তাকে বলতে পারেন তোমার পরিবারের সঙ্গে তুমি কেমন দিন কাটাচ্ছো? উত্তরে সে বলবে- আমার পরিবারের অনেক সমস্যা, এবং কথার প্রসঙ্গ অন্য দিকে ঘুরিয়ে নিয়ে যাবে। অর্থ্যাৎ মূল আলোচ্য বিষয়টাই পরিবর্তন করে ফেলবে। সুতরাং এই ভদ্রলোককে প্রশ্ন করার ক্ষেত্রে অবশ্যই আপনাকে পারদর্শিতার পরিচয় দিতে হবে। যাকে তারা 'ব্যাখ্যা সাপেক্ষ প্রশ্নমালা' বলে অভিহিত করেছেন- ঐ প্রশ্নগুলো আপনি ব্যবহার করবেন না।

কিন্তু প্রশ্ন করার আরো কিছু বিকল্প উপকরণ রয়েছে যা আলোচনাকে প্রাণবন্ত করণ, গতিশীলতা আনয়ন ও অধিক বাক্যালাপে সহায়তা করবে। আপনার প্রশ্নগুলো সুস্পষ্ট ভাষায় করবেন; এভাবে বলবেন, 'হ্যাঁ, এ বিষয় সে আমার সঙ্গে অনেক আলোচনা করেছে। অথবা তার কথার সংশ্লিষ্ট কোন একটা অংশের দিকে ইঙ্গিত করবেন, যার নিশ্চয়তা প্রদান ও ব্যখ্যার প্রয়োজন। অতঃপর তার কথার বৃদ্ধি কামনা করবেন।

কখনো একথা বলে আপনি তার দৃষ্টি আকর্ষণ করতে পারেন, 'তোমাকে তো আজ খুব বিষণ্ণ ও কিংকর্তব্যবিমূঢ় মনে হচ্ছে!' উত্তরে সে বলবে- কার্যত আমি হতবুদ্ধি ও দিশেহারাই বটে; কারণ আমি এরকম, এইরকম......। দেখেন! আপনি এখানে তেমন কিছুই বললেন না এবং আপনি এও জানতেন না যে বাস্তবিকই সে পরিশ্রান্ত কি না। কিন্তু আপনার উক্ত মন্তব্যে আপনার গুরুত্ব সে ঠিকই উপলব্ধি করে নিয়েছে। আবার কখনো বা সে পূর্ব থেকে ক্লান্ত নাও থাকতে পারে; কিন্তু আপনার এই উক্তি যেন তাকে বিষণ্ণ ও পরিশ্রান্ত-ক্লান্ত করে ফেলেছে। তখন এর উত্তরে সে আরো সংযোজন করে বলবে- আমাকে পরিশ্রান্ত করে দিয়েছে এটা এটা...। মনে হচ্ছে আপনি যেন তার অনুভূতির উপর আঘাত করেছেন। সে এখন বেশ কথা বলতে থাকবে।

ইসলামের দাওয়াতের কাজে নিয়োজিত প্রত্যেকটি ব্যক্তির এটা শিখে নেয়া একান্ত কর্তব্য, যাতে তার সম্মুখস্থ ব্যক্তি তার সমস্যা ও বিষয়াবলী সম্পর্কে যে কথা বলছে- তার সঠিক সমাধান দিতে পারে।

উদাহরণ: তার অনুভূতির উপর মন্তব্য করতে গিয়ে এভাবে বলতে পারেন- আজ তোমাকে খুব ফুরফুরে মেজাজে ও প্রফুল্ল লাগছে। উত্তরে সে বলবে- আল্লাহর কসম, আমি এরকম..., আমি সেরকম... সফলতা অর্জন করেছি। অতঃপর সে বলবে আপনি তো খুব তাড়াতাড়ি সংবাদটা জেনে ফেললেন। এরপর তার সূত্রধরে (উদাহরণ স্বরূপ) বলবে; আজ আমার একটি নবজাতক জন্ম গ্রহণ করেছে। অতঃপর আপনি তাকে বলতে পারেন, 'এইমাত্র আমি তোমার আনন্দের মূল কারণটা জানতে পারলাম।' ইতিমধ্যে আপনাদের পরস্পরের মধ্যে আলোচনা, ভালবাসা ও শুভেচ্ছা বিনিময় আরম্ভ হয়ে যাবে। ইসলামের দাওয়াত প্রেক্ষিতে এর ব্যাপক ভূমিকা অনস্বীকার্য।

কিছু অর্থহীন শব্দ ও মুখের প্রকাশভঙ্গী রয়েছে। যেমন কেহ কথা বলতে থাকলে আপনি তাকে লক্ষ করে বলবেন; (আহ), (উহ্), এই প্রকাশ ভঙ্গির মাধ্যমে আপনি বক্তাকে মনে মনে বলছেন 'আপনি একজন ভাল শ্রোতা।' (জি) (হ্যাঁ) এর দ্বারা আপনার উদ্দেশ্য হবে- আলোচনা চালিয়ে যান, আমি আপনার সঙ্গে আছি, আপনার কথা শুনছি। আর একটি উদাহরণ হতে পারে দুরালাপনীতে কথোপকথন: যখন বক্তা কথা বলতে আরম্ভ করবে, বিবরণ দেবে ও এক কথার মধ্যে অন্য কথা টেনে আনবে; এ অবস্থায়ও আপনি কোন মন্তব্য ছাড়া একেবারে চুপ করে থাকবেন। তখন যদি সে আপনাকে জিজ্ঞাসা করে বসে, 'আপনি কি আমার কথা শুনছেন?' উত্তরে আপনি বলবেন, 'হ্যাঁ, আমি তোমার কথা শুনছি', এবং তার আলোচনার শেষ বাক্যটা পুনরাবৃত্তি করে দেবেন। ফলে সে আপনার নাম লিপিবদ্ধ করে নেবে এবং আপনাকে অনেক নম্বর দেবে। তখন আপনি বলবেন, 'হ্যাঁ, এই বক্তব্যটা গতরাতে রেডিওতেও প্রচারিত হয়েছে।' মানুষের বেশি কথা আদায় করার ক্ষেত্রে এই অর্থহীন শব্দগুলোরও বিরাট প্রভাব রয়েছে। কারণ মানুষ সাধারণত এই অর্থহীন বাক্য ও কথা থেকে সুনির্দিষ্ট প্রকাশভঙ্গি ব্যক্ত করে থাকে।

মানুষ আপনার কাছে সমস্যা নিয়ে আসে সমাধানের জন্য। কখনো এই সমস্যাগুলো ছোট হয়, আবার কখনো হয় বড়। তা যাই হোক, তার প্রতি অবশ্যই গুরুত্ব দিতে হবে এবং যেটার সমাধান করতে পারছেন না তার জন্য একটা অঙ্গীকার করবেন। এ ক্ষেত্রে আপনার কর্তব্য হচ্ছে- স্পষ্টভাবে বলে দেয়া। 'আমি এ সমস্যার সমাধানে আপনার সাহায্যের জন্য আমার সাধ্যমত সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালিয়ে যাবো।' কারণ আপনি যদি সময় বেঁধে দেন, অথবা এই সমস্যাটি সমাধানের জন্য কোন প্রতিশ্রুতি দেন -অথচ এ দু'এর কোনটিই পূর্ণ করার সামর্থ্য আপনার নেই- তখন আপনি অসুবিধায় পড়ে যাবেন এবং লোকটির আস্থা হারাবেন, যা আপনি প্রতিশ্রুতির মাধ্যমে তার সঙ্গে বেঁধে রেখেছিলেন। তখন আপনার সম্পর্কে সে বলবে, 'ভদ্রলোক ওয়াদা করে তা রাখে না।' এ সবকিছুর পরও আপনি যদি তাকে আশ্বস্ত করতে পারেন যে, নিশ্চয়ই আপনি আপনার সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালাবেন এবং যদি কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে পৌঁছতে পারেন তাহলে তো খুবই ভাল কথা। সে তার কাঙ্ক্ষিত বস্তু পেয়ে গেলে সে মনে করবে নিশ্চয়ই আপনি তার সঙ্গ দিচ্ছেন, তাকে সাহায্য সহযোগিতা করে যাচ্ছেন। তবে মনে রাখতে হবে সে যতক্ষণ আপনার শরণাপন্ন থাকবে- আপনি কখনোই কোন সমস্যার মধ্যে তাকে একা ফেলে যেতে পারবেন না।

আপনার জেনে রাখা দরকার যে, মানুষ তাদের অসুবিধা ও সমস্যাবলীর কথা বলতে সদা উদ্গ্রীব থাকে। সর্বদা তাদের এমন একজন লোকের প্রয়োজন যিনি তাদের কথাগুলো মনোযোগ দিয়ে শুনবেন, তাদের সঙ্গে নম্র আচরণ করবেন এবং তাদের সমস্যা সমাধানে কার্যকর ভূমিকা রাখবেন। শুধুমাত্র এই ভূমিকা বা তাগাদাটাই আপনাকে তাদের মূল্যায়ন ও আস্থার পাত্র বানাতে সক্ষম। এমনকি যদি আপনার এই ভূমিকা ও তাগাদা শুধুমাত্র মৌখিকই হোক না কেন। শুধু গুরুত্ব দিয়ে তার অবস্থাটা জিজ্ঞাসা করা আপনাকে তার আস্থা ও বিশ্বাসের পাত্রে পরিণত করতে পারে, যদি আপনি তার কোন ইতিবাচক সহযোগিতা করতে নাও পারেন। অতএব প্রমাণিত হল- একটি মিষ্টি কথা মানুষের হৃদয়কে খুব গভীরভাবে আকর্ষণ করে।

মানুষ যা শুনে তা দ্বারা প্রভাবিত হয় : আমি এখন তার একটি উদাহরণ দেবো: আমি যখন সর্বপ্রথম ব্রিটেন গিয়ে মসজিদের নিকটে বসবাস করার জন্য একটি বাসা খোঁজ করছিলাম, এ উদ্দেশ্যে একটি মসজিদের নিকট গেলাম এবং ভাড়া নিয়ে বসবাস করা যাবে এমন একটি বাসা সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলাম। তখন ঐ মসজিদে অবস্থিত এক ভদ্রলোক আমাকে সালাম দিল এবং আমার হাতে একটি ঠিকানা দিয়ে বলল; এই ঠিকানায় একটি ইসলামী কনফারেন্স আছে। আমি বললাম- আরে ভাই! আমি ভাড়া নেয়ার জন্য একটি বাসা খুঁজছি। অথচ আপনি আমাকে বলছেন- ঐখানে একটি ইসলামী কনফারেন্স আছে। আমি আরো বললাম, 'আমি ঠিকানাটা নেবো।' অতঃপর সে বলল, আমি এ এলাকার বাসিন্দা নই, তাই এ ব্যাপারে আপনাকে সাহায্য করতে পারছি না।' হয়ত সে এই এলাকার কিছুই চেনে না। অথবা সে প্রশ্নটাই বুঝতে পারেনি কিংবা সে এর প্রতি কোন গুরুত্ব দেয়নি। তবে আমাকে কনফারেন্সের তথ্য দেয়ার জন্য আমার প্রশ্নটাকেই সুবর্ণ সুযোগ মনে করেছে এবং তা কাজে লাগিয়েছে।

মানুষের অভাব ও প্রয়োজনের মূল্যায়ন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়। উপরোন্তু ক্ষেত্রবিশেষে তা দাওয়াত ও উপদেশের চেয়েও বেশি গুরুত্বের দাবীদার। কারণ এই পাঠের জন্য দাওয়াত মানুষের কল্যাণ ও সৌভাগ্যের সঙ্গে সম্পৃক্ত। মানুষের সৌভাগ্য অর্জিত হয় তার প্রয়োজনে সাড়া দেয়া ও কল্যাণের পূর্ণতাপ্রাপ্তি থেকে। আপনি যখন তার স্বার্থ পূরণ করে দেবেন, তাহলে সে আপনার যে কোন ডাকে সাড়া দিতে প্রস্তুত থাকবে। কারণ আপনি তার আগ্রহ সৃষ্টি করেছেন অথবা তাকে এমন সেবা প্রদান করেছেন যা তার নেহায়েত প্রয়োজন ছিল। আর সে কারণেই আপনি তার শ্রদ্ধা ও আস্থার পাত্র হয়ে গেলেন।

কেউ বা কখনো আবার নিজের সম্পর্কে আলোচনা জুড়ে দেয় এবং দীর্ঘায়িত করে ফেলে। সে যদি বুঝতে পারে যে, আপনি কথার সমর্থন করছেন না, তাহলে কথা বন্ধ করে দেবে। তবে হ্যাঁ, যদি অনুভব করে আপনি তাকে সমর্থন বা তার কথা সত্যায়ন করছেন তাহলে নিশ্চয়ই সে আপনার প্রতি আস্থাশীল হবে ও আপনার সঙ্গে অনেক কথা বলবে। আপনি তার কথাগুলো এভাবে সমর্থন করতে পারেন: তার সমস্যার অনুরূপ ঘটনা আপনার অথবা আপনার সঙ্গীদের বেলায় ঘটে গেল।

কখনো আবার আপনি মানুষের সঙ্গে আলোচনা করতে গিয়ে তাদেরকে বলবেন- আমার নিকট একজন ভদ্রলোক এসে আমাকে এই, এই... সম্পর্কে বিবরণ দিল। কার্যত ঘটেছেও তাই। কখনো আবার সেই ভদ্রলোক ঐ তথ্যাবলীর সঙ্গে অপরকে সম্পৃক্ত করতে চায় না। আপনি ব্যতীত অন্য কারো কাছ থেকে ঘটনার বিবরণ- আপনার সঙ্গে যেভাবে আলোচনা করেছে হুবহু ঐ শব্দেই শুনে তাহলে সে হতচকিত হয়ে যাবে। এই শব্দগুলোও তার অনুভূতিতে আঘাত করতে পারে অথবা সেটা তার একান্ত ব্যক্তিগত গোপন বিষয়ও হতে পারে; অথবা কোন পদস্খলন যা তার থেকে সংঘটিত হয়ে গেছে। অতএব আপনার সঙ্গে যে কথা বলেছে তার গোপনীয়তা রক্ষার নিশ্চয়তা আপনাকেই দিতে হবে। এমনিভাবে আপনি সকল কথা জানতে পারবেন, তার সমস্যা ও বিষণ্ণতার অনেক কথা শুনতে পারবেন।

ব্যক্তিগত সাক্ষাতের সময় আপনার সম্মুখস্থ লোকটির কোন সেবা করার চেষ্টা করা আপনার নৈতিক দায়িত্ব- যে সেবাটা সে পেতে চায়। এবং আপনিও তার সেবা করার প্রয়োজনীয়তা অনুভব করেন- এ ভাব দেখিয়ে আপনি তাকে সম্ভাব্য সহযোগিতা করবেন। তবে যদি আপনি তার সহযোগিতা করতে না পারেন, তাহলে কমপক্ষে যে সহযোগিতা করতে পারবে এমন একজন লোকের সন্ধান দিন। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর বাণীর অনুসরণ করে অপরের সেবায় তৎপর থাকা আপনার কর্তব্য।
أن أسعى بحاجة أخي خير من أن اعتكف شهرا. ( رواه الطبراني في معجمه الكبير وخرجه الألباني في السلسلة الصحيحة)
"আমার ভাইয়ের প্রয়োজন পূরণে প্রচেষ্টা চালানো আমার নিকট একমাস ই'তিকাফ করার চেয়েও উত্তম।"

অপরের সেবার প্রয়াস দাওয়াতী কাজে বিরাট ভূমিকা রাখে। কারণ আপনি এর মাধ্যমে তাদের হৃদয়কে প্রভাবিত ও তাদের ভালোবাসা কুড়াতে পারবেন। সে কারণে তা একমাস ই'তিকাফ করার চেয়েও উত্তম বলা হয়েছে। কারণ যে ব্যক্তি মানুষকে নিঃস্বার্থ সেবা দিয়ে যায়, সে-ই তাদের ভালোবাসা পায় ও আস্থা অর্জন করতে পারে। অতএব মানুষের আস্থা ও শ্রদ্ধা অর্জনের পর সে যদি মানুষের কাছে কিছু চায়, তা যাই হোকনা কেন; তাদের সামর্থ্য থাকা সত্ত্বেও তার আবেদন প্রত্যাখ্যান করা যুক্তিসঙ্গত নয়।

📘 ইসলাম প্রচারে মনোবিজ্ঞানের ভূমিকা 📄 মানুষের মধ্যে আপনি কিভাবে প্রভাব বিস্তার করবেন?

📄 মানুষের মধ্যে আপনি কিভাবে প্রভাব বিস্তার করবেন?


প্রভাব বিস্তারের মূল প্রধান ও প্রথম স্তর হচ্ছে আস্থা অর্জন। আর তা অর্জিত হবে কতিপয় সেবা প্রধানের মাধ্যমে যা ইতিপূর্ব উল্লেখ করেছি। আস্থা অর্জন মানুষের মধ্যে ভালোবাসা ও বন্ধুত্বের জন্ম দেয়। অতএব যে আপনাকে ভালোবাসবে সে অবশ্যই আপনার আনুগত্য করবে। কারণ প্রভাব বিস্তারে ভালোবাসা অত্যন্ত শক্তিশালী, সক্রিয় ও কার্যকর মাধ্যম। যেমন একটি প্রসিদ্ধ কথা আছে :
إن المحب لمن يحب مطيع 'অবশ্যই প্রেমিক তার প্রেমাস্পদের আনুগত্য করে।'

এখানে অন্ধ আনুগত্য কখনোই আমাদের কাম্য নয়। যে আনুগত্য অন্ধ ভালোবাসা থেকে সৃষ্টি হয় তা কোন দোষ-ত্রুটি দেখে না। কারণ যে অন্ধের মত আনুগত্য করে সে আমাদের উদ্দেশ্য নয়। তবে আমরা এমন যুবসমাজ এবং ব্যক্তিদের চাই, যারা ব্যক্তিত্বের স্বাধীনতা, মুক্তচিন্তা, পরিচ্ছন্ন মতামতের স্বাধীনতা ও সত্যের ব্যাপারে সাহসিকতার পরিচয়ে অনন্য। অপরের মধ্যে প্রভাব বিস্তারের ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় যে গুণটি তা হচ্ছে উত্তম আদর্শ। শুধু কথা ও উপদেশ দ্বারা মানুষ প্রভাবিত হয় না। শুধুমাত্র কথামালা ও উপদেশ কি করতে পারবে? যখন মানুষ এমন কোন আদর্শ দাওয়াত-কর্মী পাবে না যে উক্ত উপদেশ প্রথমে নিজের উপর প্রয়োগ করতে ও নিজ জীবনে বাস্তবায়নে যত্নবান হবে। যখন সে নিজেই তার কাজকর্ম ও আচার-ব্যবহারে অপরের জন্য আদর্শ নয়; তখন মানুষ তা দেখে কি তার পদাঙ্ক অনুসরণ করবে?

আপনি যখন ভুল-ত্রুটি অথবা উপদেশ সংক্রান্ত আলোচনা করার সংকল্প করবেন, তখন আলোচনায় অন্য লোকদের প্রতি 'ইঙ্গিত পদ্ধতি' ব্যবহার করা কর্তব্য। যেমন আপনি বলতে পারেন- আল্লাহ তা'আলা চেয়েছেন অমুক ব্যক্তি এটা...করুক। আপনি যদি তার মেজাজ বোঝেন এবং জানতে পারেন যে, সামান্য একটু প্রশংসা পেলে সে অধিক নেক কাজ করতে বেশ উৎসাহিত হবে। তখন আপনি কেন তার প্রশংসা করবে না? আর মানুষের স্বভাব সর্বদা এরকমই হয়ে থাকে যে, সে নিজের প্রশংসা পেতে ভালবাসে। আপনি দেখতে পাবেন লোকজন তারই প্রশংসা করছে যে, সে এ..টা করেছে, সে সে. টা. করেছে তখন তা তার কাছে খুব ভালো লাগবে। কেউ কেউ মনে করেন এটা একটা ভালো উদ্যোগ।

আবার কখনোবা কেউ বলেও ফেলতে পারেন 'আমি কি শুধুমাত্র আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে করছি না মানুষের জন্য কাজটি করছি?' কিন্তু মানবস্বভাব অপর মানুষের মন্তব্য শোনার জন্য সর্বদা উৎকর্ণ থাকে। সুতরাং সে নিজের দিকে মানুষের দৃষ্টি আকৃষ্ট করার জন্য দৃঢ়ভাবে সংকল্পবদ্ধ হয়ে কষ্ট স্বীকার করবে। কারণ, তার একটাই উদ্দেশ্য মানুষ যেন তার দিকে সুন্দর ও ভালো দৃষ্টিতে তাকায়। এর সর্বোৎকৃষ্ট উদাহরণ হচ্ছে- সালেম বিন আব্দুল্লাহ বিন ওমর বিন খাত্তাব কর্তৃক তার পিতা হতে বর্ণিত রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর বাণী। তিনি এরশাদ করেন:
نعم الرجل عبد الله لو كان يصلى الليل، قال سالم : فكان عبد الله آنذاক لا ينام الليل إلا قليلا. (متفق عليه)
'যদি রাতে নামাজ আদায় করত আব্দুল্লাহ রা. তাহলে সে কত ভালো মানুষ হতে পারতো।' সালেম বলেন, 'তখন থেকে আব্দুল্লাহ রা. রাতে খুব সামান্যই ঘুমাতেন।' তিনি এ কথাটা আব্দুল্লাহ কে এভাবে বললেন না, 'তুমি রাতে তাহাজ্জুদ নামাজ আদায় করো না' অথবা 'তুমি কেন তাহাজ্জুদ আদায় করছো না?' তিনি বলেছেন, 'আব্দুল্লাহ রা. কত ভালো লোক হতো যদি সে রাতে নামাজ আদায় করতো!' তাঁর উদ্দেশ্য ছিল আব্দুল্লাহর রা. সকল গুণই উত্তম হয়ে যেত যদি এই আমলটিও সে করতে পারতো। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এখানে শুধুমাত্র এই একটি আমলকেই চিহ্নিত করেছেন যা তিনি আব্দুল্লাহ রা. থেকে প্রত্যাশা করতেন। তিনি মানুষের প্রশংসা অনুসন্ধান করেননি। কিন্তু যখনই কোন দোষ-ত্রুটি দেখেছেন অমনি তা ইঙ্গিত পদ্ধতি প্রয়োগে শোধরাতে চেষ্টা করেছেন। অভিযুক্ত ব্যক্তিকে সরাসরি তিরস্কার কিংবা শাস্তি প্রদানের পথ অবলম্বন করেননি; ইশারা-ইঙ্গিতের মাধ্যমে তাঁর ইচ্ছার প্রতিফলন ঘটিয়েছেন।

📘 ইসলাম প্রচারে মনোবিজ্ঞানের ভূমিকা 📄 মানুষকে তার বুদ্ধি অনুযায়ী সম্বোধন করা

📄 মানুষকে তার বুদ্ধি অনুযায়ী সম্বোধন করা


দাওয়াতের ক্ষেত্রে মানুষকে তার বুদ্ধি অনুযায়ী সম্বোধন করা একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। কারণ আমরা বিশ্বাস করি বুদ্ধির বিচিত্রতা ও বুঝের মধ্যেও তারতম্য রয়েছে। সুতরাং সকল মানুষ একই পরিমাণ মেধা ও ধীশক্তির অধিকারী নয়। অতএব সকল মানুষের সঙ্গে একই মানের আলোচনা করলে সেটা আপনার ভুল হবে। তাহলে প্রথমেই আপনাকে মানুষের শ্রেণি ও তাদের বুদ্ধির পরিধি জেনে নিতে হবে। আপনার নিকট প্রশ্নকারী লোকটির প্রশ্নের ধরন- গঠন, তার শিক্ষা ও জ্ঞানের পরিধি অথবা চাকুরীর মান দেখে খুব সহজেই আপনি তার শ্রেণিবিন্যাস করে নিতে পারবেন। আলী বিন আবু তালেব রা. বর্ণিত তিনি বলেন, 'মানুষের সঙ্গে তাদের পরিচিত বিষয় নিয়ে আলোচনা কর। তোমরা কি এটা পছন্দ করবে যে, আল্লাহ তাআলা ও তদীয় রাসুলকে সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে মিথ্যা প্রতিপন্ন করা হবে?' তাঁর এ কথার উদ্দেশ্য হচ্ছে, মানুষের সঙ্গে আপনি এমন বিষয় নিয়ে কথা বলবেন, যেটা তারা বুঝতে পারে। কারণ আপনি যদি এমন বিষয় নিয়ে কথা বলেন যা তার বুদ্ধির পরিধির বাহিরে, তখন সে নিশ্চয়ই এ কথা বলে ফেলবে, 'এটা আমার বোধগম্য নয়, এ কথা আল্লাহ তাআলা ও তাঁর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেননি।' আলী রা. এর এ বাণী ইমাম বুখারী র. তার কিতাবে বর্ণনা করেছেন। ইবনে মাসউদ রা. এর বাণী হতে ইমাম মুসলিম র. এর বর্ণনা এ রকম, 'আপনি যদি কোন সম্প্রদায়কে এমন একটি কথা বলেন, যা তাদের বোধগম্য নয়, তাহলে এটা তো তাদের মধ্য হতে অনেককেই বিভ্রান্তিতে ফেলে দেবে।' অর্থ্যাৎ আপনি যদি মানুষের সঙ্গে এমন কথা বলেন, যা তাদের বোধ ও বুঝের স্তরভুক্ত নয়, তখন অনেকের জন্য এই কথাটা তার দীনের ব্যপারে বিভ্রান্তির কারণ হবে। কারণ এই বিষয়টা তারা আয়ত্ত করতে পারেনি।

📘 ইসলাম প্রচারে মনোবিজ্ঞানের ভূমিকা 📄 চিন্তা-ভাবনার ভুলপদ্ধতি কিভাবে সংশোধন করবেন?

📄 চিন্তা-ভাবনার ভুলপদ্ধতি কিভাবে সংশোধন করবেন?


আপনার সম্মুখে অবস্থিত ব্যক্তিকে যদি ভুল পদ্ধতিতে চিন্তা-ভাবনা করতে দেখেন, তখন আপনি কিভাবে তার চিন্তা-ভাবনাকে নির্ভুল ও উত্তম পদ্ধতিতে পরিবর্তন করে দেবেন- যে পদ্ধতিটা আপনাকে তার নিকট গ্রহণযোগ্য করতে সক্ষম। ফলশ্রুতিতে তার অন্তকরণে আপনার প্রতি গভীর ভালোবাসা সৃষ্টি হবে এবং তার বুদ্ধিমত্তায় আপনার সক্রিয় প্রভাব পড়বে? সেটা এভাবে হবে- তাকে এবং তার গবেষণা পদ্ধতিকে ধন্যবাদ জ্ঞাপন ও তার প্রতি শ্রদ্ধাবোধ রেখে আপনি চিন্তা-গবেষণার সঠিক দিকনির্দেশনা দিন এবং তার সামনে গবেষণার ত্রুটিপূর্ণ দিকটা তুলে ধরুন! কিন্তু সে যদি এতটুকুতেই সেটা পরিবর্তন করে নেয়, তাহলে উত্তম। তবে সে যেন মনে কষ্ট না নেয় সে দিকে আবশ্যই খেয়াল রাখতে হবে। আপনি তার চিন্তা-ভাবনার দৃষ্টিভঙ্গির সাথে টক্কর লাগাবেন না। এবং সর্বদা তার মস্তিস্কে এ বিশ্বাস স্থাপন করতে চেষ্টা করুন যে, আপনিই হচ্ছেন সংশোধন ও দিক-নির্দেশনার আধার। জেনে রাখুন! এই মানুষটিকে কল্যাণকর বিষয়ের দিকনির্দেশনা প্রদান ব্যতিরেকে আপনার উদ্দেশ্য কখনোই সফল হবে না। তাকে একজন স্বাভাবিক মানুষ (যে দ্বীনের অনেক মৌলিক বিষয়ের প্রতি উদাসীন) থেকে পরিবর্তন করে ইসলামের সেবায় নিবেদিতপ্রাণ একজন উদ্যমী মানুষে পরিণত করার প্রয়াসই আপনার সর্বোচ্চ লক্ষ্য হওয়া উচিত। যে ইসলামের সেবা ও তার লক্ষ্যসমূহ বাস্তবায়নে নিজের সকল যোগ্যতা, প্রতিভা ও গবেষণা নিয়োজিত করবে। সেক্ষেত্রে আপনার জন্যও মহা পুরস্কারের ব্যবস্থা রয়েছে।

এ প্রেক্ষাপটে কেউ বা আবার বিরাট ভুল করে থাকেন। যেমন- ব্যাপকতরকরণ বিষয়; অনেকে আছেন তার জীবনে অথবা কোন কাজে একটি ভুল যদি সে করে ফেলে, তখন গোটা পৃথিবীটা তার চোখে অন্ধকার হয়ে যায় এবং বিশ্বাস করে সকল কাজেই সে ব্যর্থ ও অকৃতকার্য। উদাহরণ স্বরূপ বলা যায়, অনেক ভাই আছেন, যারা সাময়িক সময় পর্যন্ত দাওয়াতি কাজ করার উদ্দেশ্যে কিছু কর্মসূচী হাতে নিয়ে থাকেন। অতঃপর 'পাঠদান' বিষয় দিয়ে শুরু করেন (তবে অবশ্যই সেই পাঠের বিষয়বস্তুটা মানুষের অবস্থা, মন-মানসিকতা এবং তাদের ধারণ ক্ষমতার অনুকুল হতে হবে) অথচ এরপরও কাঙ্ক্ষিত সংখ্যক মানুষ তার পাঠদানে সাড়া দেয়নি। এ কারণে তিনি রাগান্বিত হয়ে বললেন- 'আমি এ কাজের উপযুক্ত নই।' আপনার কর্তব্য এ ভদ্রলোককে দিকনির্দেশনা দেয়া।

আপনি তাকে বলতে পারেন, 'ভাই! আপনি পুরোপুরি উপযুক্ত।' এবং আপনার এ কথা ভুলে গেলে চলবে না, আপনি গেল বছর এটা উপস্থাপন করেছেন, এবং এর দু'বছর পূর্বে তো আপনি এই, এই... বিষয় পেশ করেছিলেন। আর এটা একটি উত্তম ও মহান কাজ।

আপনি এর দ্বারা উক্ত ধারণাটা অথবা তার ত্রুটিপূর্ণ চিন্তা-ভাবনার দৃষ্টিভঙ্গি সংশোধন ও সুন্দর করে দিতে পারেন। পক্ষান্তরে কিছু লোক আছে যারা শুধুমাত্র নেতিবাচক দিকটা উল্লেখ করতেই সদা তৎপর থাকে; এটা অত্যন্ত নিন্দনীয় ও অনভিপ্রেত ব্যাপার। তারা ইতিবাচক দিকগুলো উল্লেখ করতে চায় না, অথচ ইতিবাচক দিকের আলোচনা মানুষের মধ্যে সৎকাজের আগ্রহ সৃষ্টি করে, ব্যক্তিসত্তা ও মূল্যবোধ জাগ্রত করে। উপরন্তু তাকে এ বিশ্বাস করতে শেখায় যে, সে এই সমাজেরই একটি সফল ও গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ।

অনেক লোক এমনও আছে যে, তার নিকট কোন নির্দিষ্ট ব্যক্তির আলোচনা হলে সে বলে উঠে- 'সে একটি খারাপ লোক, তার মধ্যে এই, এই..... খারাপ দোষ আছে এবং সে কোন কাজেরই যোগ্য নয়।' এটা আসলেই একটা আশ্চয্যজনক ব্যাপার! এই নেতিবাচক দিক ও ত্রুটিগুলো ব্যতীত কি আর কোন কিছুই নেই এই মানুষটির জীবনে? সে কি এ.... ভাল কাজগুলো করেনি? আমাদেরকে ইতিবাচক দিকগুলো খুঁজে বের করতে হবে। অতঃপর যখন আমরা সকল ইতিবাচক দিকগুলো সংগ্রহ করতে পারবো, তখন বুঝতে পারবো এই ভদ্রলোক ঠিক কোন কাজটির জন্য উপযুক্ত। আর এই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে আমরা সামর্থ্য ও সম্ভাবনা নির্ণয় করে তাকে সঠিক দিকনির্দেশনা দিতে সক্ষম হবো। সমাজে বহু লোক আছে, যারা অপরের দিকে শুধু কু-দৃষ্টিতেই তাকায়। অপরকে তারা সদাসর্বদা কালো চশমা দিয়ে দেখে। অতএব এদের দৃষ্টিভঙ্গি হলো- সকল মানুষই খারাপ। কারোর মধ্যেই কোন কল্যাণ নেই; বরং তারা সকলেই এই দীন থেকে বহু দূরে। সুতরাং হে ভাই! এই শ্রেণির মানুষদের আপনাকেই দিকনির্দেশনা দিতে হবে। তার আশ-পাশের ভাল বিষয়গুলোর বিবরণ দিতে হবে। তাকে বলুন- ইসলামের দিকে অগ্রসরমান এই প্রত্যয়ী যুবক ও মসজিদসমূহের স্থাপনার দিকে লক্ষ কর! সেই মুসলিম যুবতীদের দিকে তাকাও! যারা সাক্ষাত সকল কঠিন পরিস্থিতি উপেক্ষা করে সর্বস্থানে হিজাবের নির্দেশকে আঁকড়ে ধরেছে। এই উম্মতের মধ্যে কল্যাণ ও মঙ্গল সর্বকালে বিদ্যমান থাকবে। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এ প্রসঙ্গে এরশাদ করেন:
الخير في وفي أمتي إلى يوم القيامة
"আমি এবং আমার উম্মতের মধ্যে কেয়ামত অবধি কল্যাণ বিদ্যমান থাকবে।”²

টিকাঃ
²( )

ফন্ট সাইজ
15px
17px