📄 জিবত ও তাগুতের উপর ঈমান
জাহেলী যুগের লোকেরা জিবত (প্রতিমা, জাদুকর) ও তাগুতের (আল্লাহবিরোধী শক্তির) উপর ঈমান রাখতো এবং মুশরিকদের দ্বীনকে মুসলিমদের পবিত্র দ্বীনের উপর প্রাধান্য দিত। যেমন আল্লাহ বলেন-
'আপনি কি দেখেননি কিতাবধারী (ইয়াহুদী-খৃষ্টানদের) দেরকে, যারা জিবত ও তাগুতের উপর ঈমান এনেছে এবং অবিশ্বাসীদেরকে বলছে যে, তোমরা ঈমানদারদের চেয়ে অনেক হেদায়াতপ্রাপ্ত'। (সূরা আন-নিসা, ৪: আয়াত ৫১)
পুনরায় এখানে অবতারণার উদ্দেশ্য হলো যে, মূর্খ ইয়াহুদী খৃষ্টানরা মুশরিকদেরকে বলতো যে, মুসলিমদের চেয়ে তোমরা অনেক হিদায়েত প্রাপ্ত। মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ও তার সংগী-সাথীদের নিকটে যা আছে, তোমাদের নিকট তার চেয়ে উত্তম বস্তু রয়েছে।
প্রিয় পাঠক! আপনি দেখতে পাবেন আজকের যুগের সুফী সাহেবরা ঐসব মুশরিকদের মত বলে থাকেন যে, 'কবরবাসী মৃতব্যক্তির (পীরের) নিকট প্রার্থনা নিবেদনকারীগণ, তাওহীদ ও সুন্নাতের পাবন্দ ঐসব মু'মিনদের চেয়ে অনেক উত্তম, যারা লোকদের কবর পূজা হতে নিষেধ করে থাকেন।'
📄 জানা সত্ত্বেও সত্য গোপন
যেমন ইয়াহুদী-খৃষ্টানদের আলেম বা পাদ্রী পুরোহিতদের সম্পর্কে আল্লাহ তাঁর পবিত্র কালামে বর্ণনা করেছেন। যেমন তারা মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের আগমন সম্পর্কিত তাওরাত ও ইঞ্জীলের ভাষ্যসমূহ গোপন করেছে। অথচ তারা এগুলো তাদের গ্রন্থে আসার বিষয়টি নিশ্চিতভাবে জানে। শায়খুল ইসলাম ইমাম ইবনে তাইমিয়াহ প্রণীত আল-জাওয়াবুস সহীহ নামক গ্রন্থে এ বিষয়টির বিস্তারিত আলোচনা রয়েছে।
টিকাঃ
৩৪. ৩/৩২২-৩৬৮।
📄 না জেনে শুনে আল্লাহর সম্পর্কে কথা বলা
এটিই সব বিশৃঙ্খলা ও বিভ্রান্তির মূল উৎস। এ জাহেলী স্বভাবটি বেশী করে ঢুকে পড়েছে বেদআতী কালাম শাস্ত্রবিদ (মুসলিম) দার্শনিকদের মধ্যে। তারা আল্লাহর গুণাবলী সম্পর্কে এমন সব কথা বলছেন, যে সম্পর্কে আল্লাহ কোনো দলীল নাযিল করেন নি। তারা শরীয়তের নীতি নির্দেশসমূহকে নিজেদের খেয়াল খুশীমত ব্যাখ্যা করেছে। যেমন প্রখ্যাত মুফাসসির ইমাম রাযী করেছেন তার 'আসাসুত তাকদীস' নামক গ্রন্থে। আল্লাহ শায়খুল ইসলাম ইবন তাইমিয়্যাহকে উপযুক্ত প্রতিদান দিন, তিনি এর যথার্থ প্রতিবাদ করেছেন, ভিত্তি গুড়িয়ে দিয়েছেন, ভ্রান্তি ও অজ্ঞতা দূরে নিক্ষেপ করেছেন। এজন্যেই তো আল্লাহ বলেন-
‘যদি আল্লাহ একজনকে অপরজনের দ্বারা প্রতিরোধ না করতেন, তাহলে এ পৃথিবী বিশৃঙ্খলায় পূর্ণ হয়ে যেত।’ (সূরা আল-বাক্বারাহ, ২: আয়াত ২৫১)
টিকাঃ
৩৫. সেটা তার কালজয়ী "বায়ানু তালবীসিল জাহমিয়্যাহ” গ্রন্থে। যার অন্য নাম হচ্ছে, 'নাকছু তা'সীসিল জাহমিয়্যাহ।
📄 স্ববিরোধিতা
এটাও ছিল জাহেলী যুগের একটি স্বভাব। যেমন আল্লাহ তা'আলা বলেন-
'বরং ওরা প্রকৃত সত্যকে মিথ্যা প্রতিপন্ন করছে, যখন তা তাদের নিকট উপস্থিত হয়েছে। আসলে ওরা সিদ্ধান্তহীনতার মাঝে বিরাজ করছে।’ (সূরা ক্বাফ, ৫০: আয়াত ৫)
আজকাল যারা বেদআতী, তাদের অবস্থা হয়েছে ঠিক অনুরূপ। এরা ইসলামের দাবী করে। অথচ এমন সব কার্য করে, যা ইসলামের বিরোধী।