📘 ইসলাম ও জাহেলিয়াতের দ্বন্দ্ব 📄 দরিদ্রদের ঘৃণা করা

📄 দরিদ্রদের ঘৃণা করা


ইমাম আহমদ ও তাবরানী প্রমুখ আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ রা. হতে বর্ণনা করেন যে, একদল কুরাইশ রাসূলে করীমের সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের পাশ দিয়ে যাচ্ছিলেন। তখন তার নিকটে সুহাইব, আম্মার, খাববাব ও অনুরূপ দুর্বল মুসলিমরা বসেছিলেন। কুরাইশগণ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে উদ্দেশ্য করে বলল, হে মুহাম্মদ, তুমি এইসব লোক নিয়ে সন্তুষ্ট? আল্লাহ কি আমাদের মধ্যে কেবল এই লোকগুলির উপরে মেহেরবাণী করলেন? আমরা কিভাবে এদেরই নীচে থাকবো? ওদেরকে তোমার ওখান থেকে বের করে দাও। তাহলে হয়তবা আমরা তোমার অনুসরণ করতে পারি।

ইবনে জারীর আবু শায়খ, বায়হাকী, দালায়েল প্রভৃতি গ্রন্থের মধ্যে খাব্বাব রা. হতে বর্ণনা করেন যে, আকরা' ইবন হাবিস তামীমী, 'উয়াইনা ইবন হিসন ফাযারী আল্লাহর নবীর দরবারে বলেন, আমরা চাই, হে মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তুমি আমাদের সংগে পৃথক মজলিসে বসো। বিভিন্ন আরব প্রতিনিধি দলের সম্মুখে আমরা আমাদের ঐসব কৃতদাসদের সংগে একত্রে বসতে লজ্জাবোধ করি। এসো, আমরা এই মর্মে একটা লিখিত চুক্তি করি যে, যখন আমরা আসবো, তখন তুমি ওদেরকে উঠিয়ে দেবে। তারপর যখন আমরা চলে যাবো, তখন তুমি চাইলে ওদেরকে নিয়ে বসতে পারো।

রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এতে সম্মত হলেন এবং আলীকে চুক্তিনামা লিপিবদ্ধ করার জন্য কাগজ কলম নিয়ে আসতে বলেন। এমতাবস্থায় আমরা সবাই এই কোণে উপবিষ্ট ছিলাম। হঠাৎ নিম্নোক্ত আয়াত নাযিল হলো-
'যারা সকাল-সন্ধ্যায় তাদের প্রতিপালককে তাঁর সন্তুষ্টি লাভের জন্য ডাকে, তাদেরকে তুমি বিতাড়িত করবে না। তাদের কর্মের জওয়াবদিহির দায়িত্ব তোমার নয়, বা তোমার কর্মের জওয়াবদিহিতার দায়িত্বও তাদের নয় যে, তুমি তাদেরকে বিতাড়িত করবে। যদি তা করো, তুমি সীমালঙ্ঘনকারীদের অন্তর্ভুক্ত হয়ে যাবে।’ (সূরা আল-আন'আম, ৬: আয়াত ৫২)

অতঃপর তিনি আমাদের কাছে ডাকলেন এবং পরবর্তী আয়াতটিও শুনিয়ে দিলেন-
'যারা আমার নিদর্শনসমূহে বিশ্বাস স্থাপন করে, তারা তোমার নিকট এলে তাদেরকে বল, তোমাদের উপর শান্তি বর্ষিত হউক- তোমাদের প্রতিপালক দয়া করাকে নিজের উপর অবশ্যকরণীয় নির্ধারণ করে নিয়েছেন। তোমদের মধ্যে অজ্ঞতাবশতঃ কেউ কোনো মন্দকার্য করার পর যদি তাওবা ও সংশোধনে ব্রতী হয়, তবে আল্লাহতো মহা ক্ষমাশীল ও পরম কৃপানিধান।' (সূরা আল-আনআম, ৬: আয়াত ৫৪)।

এরপর থেকে আমরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সংগে নিয়মিত বসতাম এবং তিনি যখন চাইতেন আমাদেরকে ছেড়ে যেতেন। ফলে নিম্নোক্ত আয়াত নাযিল হলো-
'তুমি নিজেকে ঐসব লোকদের সংগে ধরে রাখ, যারা তাদের প্রতিপালকে সন্তুষ্ট করার জন্য সকাল-সন্ধ্যায় ডাকে। তুমি পার্থিব সৌন্দর্য্য উপভোগের জন্য তাদের থেকে নিজের দৃষ্টি ফিরিয়ে নিবে না এবং যার অন্তঃকরণকে আমি আমার স্মরণ থেকে গাফেল করে দিয়েছি, যে ব্যক্তি নিজের খেয়াল খুশীমত কাজ করে ও যার কার্যকলাপ সীমা অতিক্রম করে- তুমি তার আনুগত্য করবে না। তুমি বলে দাও যে, সত্য তোমাদের প্রতিপালকের নিকট হতে প্রেরিত। যে চায় তা বিশ্বাস করুক, যে চায় তা প্রত্যাখ্যান করুক। তবে আমরা সীমা লংঘনকারীদের জন্য প্রস্তুত রেখেছি জাহান্নাম'। (সূরা আল- কাহাফ, ১৮: আয়াত ২৯-৩০)

এই আয়াত নাযিল হওয়ার পর আমরা মজলিস থেকে উঠে গেলে সবশেষে আল্লাহর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উঠে দঁড়াতেন।

টিকাঃ
৩৩. মাননীয় গ্রন্থকার একই মর্মে ইবনুল মুনযির হতে আরেকটি দীর্ঘ বর্ণনার অবতারণা করেছেন। যা বাদ দেওয়া হলো। (অনুবাদক)

📘 ইসলাম ও জাহেলিয়াতের দ্বন্দ্ব 📄 ফেরেশতা অহী, রেসালাত ও কেয়ামতকে অস্বীকার করা

📄 ফেরেশতা অহী, রেসালাত ও কেয়ামতকে অস্বীকার করা


তাফসীর, হাদীছ ও আক্বায়েদের কিতাবসমূহে জাহেলী আরবদের উপরোক্ত অস্বীকৃতি সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা রয়েছে। এখানে এর পক্ষে পবিত্র কুরআনের কয়েকটি আয়াত পেশ করা হলো। যেমন আল্লাহ বলেন-
'অবিশ্বাসীরা ধারণা করছে যে, তাদেরকে পুনরুত্থিত হতে হবে না। তুমি বলে দাও যে, হ্যাঁ (আমার প্রতিপালকের শপথ) তোমাদেরকে সকলকে অবশ্য অবশ্যই উঠানো হবে। অতঃপর অবশ্যই তোমাদেরকে তোমাদের (সারা জীবনের) কাজকর্ম সম্পর্কে খবর দেওয়া হবে। আর এ বিষয়টি আল্লাহর জন্য অতীব সহজ।’ (সূরা আত-তাগাবুন ৬৪: আয়াত ৭)

জাহেলী আরবদের রচিত বহু কবিতায় তাদের এই অস্বীকৃতির প্রমাণ পাওয়া যায়। যেমন-জনৈক কবি বলেছেন-
'এই রাসূল আমাদেরকে বলেন যে, আমরা পুনরায় জীবিত হবো। কিন্তু কেমন করে জং ও মাথার মরা খুপরীর মধ্যে জীবন আসতে পারে?'

আর এক কবি বলেন-
'জীবন, ফের মরণ, আবার পূনরুত্থান। হে আমরের মা, এসবই বাজে কথা।'

অন্যত্র আল্লাহ অবিশ্বাসীদের বক্তব্য তুলে ধরে বলেন যে, তারা বলত-
'আমরা মরে গিয়ে হাড্ডি-মাটি সার হবো। তারপরও আমাদের বাপ-দাদা পূর্ব পুরুষ সবাই পূনরায় জীবন্ত উঠবো।’ (সূরা আছ-ছাফফাত, ৩৭: আয়াত ১৬-১৭)

বিষয়টির উপরে আমরা অত্র গ্রন্থের বিভিন্ন স্থানে বিভিন্নভাবে আলোচনা করেছি।

📘 ইসলাম ও জাহেলিয়াতের দ্বন্দ্ব 📄 জিবত ও তাগুতের উপর ঈমান

📄 জিবত ও তাগুতের উপর ঈমান


জাহেলী যুগের লোকেরা জিবত (প্রতিমা, জাদুকর) ও তাগুতের (আল্লাহবিরোধী শক্তির) উপর ঈমান রাখতো এবং মুশরিকদের দ্বীনকে মুসলিমদের পবিত্র দ্বীনের উপর প্রাধান্য দিত। যেমন আল্লাহ বলেন-
'আপনি কি দেখেননি কিতাবধারী (ইয়াহুদী-খৃষ্টানদের) দেরকে, যারা জিবত ও তাগুতের উপর ঈমান এনেছে এবং অবিশ্বাসীদেরকে বলছে যে, তোমরা ঈমানদারদের চেয়ে অনেক হেদায়াতপ্রাপ্ত'। (সূরা আন-নিসা, ৪: আয়াত ৫১)

পুনরায় এখানে অবতারণার উদ্দেশ্য হলো যে, মূর্খ ইয়াহুদী খৃষ্টানরা মুশরিকদেরকে বলতো যে, মুসলিমদের চেয়ে তোমরা অনেক হিদায়েত প্রাপ্ত। মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ও তার সংগী-সাথীদের নিকটে যা আছে, তোমাদের নিকট তার চেয়ে উত্তম বস্তু রয়েছে।

প্রিয় পাঠক! আপনি দেখতে পাবেন আজকের যুগের সুফী সাহেবরা ঐসব মুশরিকদের মত বলে থাকেন যে, 'কবরবাসী মৃতব্যক্তির (পীরের) নিকট প্রার্থনা নিবেদনকারীগণ, তাওহীদ ও সুন্নাতের পাবন্দ ঐসব মু'মিনদের চেয়ে অনেক উত্তম, যারা লোকদের কবর পূজা হতে নিষেধ করে থাকেন।'

📘 ইসলাম ও জাহেলিয়াতের দ্বন্দ্ব 📄 জানা সত্ত্বেও সত্য গোপন

📄 জানা সত্ত্বেও সত্য গোপন


যেমন ইয়াহুদী-খৃষ্টানদের আলেম বা পাদ্রী পুরোহিতদের সম্পর্কে আল্লাহ তাঁর পবিত্র কালামে বর্ণনা করেছেন। যেমন তারা মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের আগমন সম্পর্কিত তাওরাত ও ইঞ্জীলের ভাষ্যসমূহ গোপন করেছে। অথচ তারা এগুলো তাদের গ্রন্থে আসার বিষয়টি নিশ্চিতভাবে জানে। শায়খুল ইসলাম ইমাম ইবনে তাইমিয়াহ প্রণীত আল-জাওয়াবুস সহীহ নামক গ্রন্থে এ বিষয়টির বিস্তারিত আলোচনা রয়েছে।

টিকাঃ
৩৪. ৩/৩২২-৩৬৮।

ফন্ট সাইজ
15px
17px
🎤 ভাষা বেছে নিন
🇧🇩
বাংলা
Bengali
🕌
আরবি
العربية