📄 বিভিন্ন গ্রহের মাধ্যমে বৃষ্টি প্রার্থনা করা
বুখারী ও মুসলিমের বর্ণনাতে এসেছে যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আবু মালিক আশআরীকে বলেন, দেখো 'আমার উম্মত জাহেলিয়াতের চারটি বদ স্বভাব ত্যাগ করতে পারবে না' যার মধ্যে একটি হলো গ্রহ নক্ষত্রাদির সাহায্যে বৃষ্টি প্রার্থনা করা। গ্রহ-নক্ষত্রাদির উত্থান বা পতনকে বৃষ্টির কারণ বা অসীলা মনে করা। অথচ তাদের অধিকাংশই এ বিশ্বাস রাখে না যে, গ্রহ-নক্ষত্রাদির উত্থান বা পতনের মূল নিয়ামক খোদ আল্লাহ রাববুল আলামীন।
📄 বংশ উল্লেখ করে তিরস্কার করা
বুখারী ও মুসলিমের বর্ণনাতে এসেছে যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আবু মালিক আশআরীকে বলেন, দেখো 'আমার উম্মত জাহেলিয়াতের চারটি বদ স্বভাব ত্যাগ করতে পারবে না' যার মধ্যে একটি হলো বংশের নামে তিরস্কার করা। বংশের বড়াই করে তারা বলে- অমুকের বাপ-দাদারা পবিত্র বংশের ছিল না, কিংবা অমুকের পূর্ব পুরুষ উচচ মর্যাদার অধিকারী ছিল না প্রভৃতি। এমনিভাবে বংশ উল্লেখ করে তিরস্কার করা জাহেলী যুগের রীতি।
📄 কারো মৃত্যুর পর চিৎকার করে কান্নাকাটি করা
বুখারী ও মুসলিমের বর্ণনাতে এসেছে যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আবু মালিক আশআরীকে বলেন, দেখো 'আমার উম্মত জাহেলিয়াতের চারটি বদ স্বভাব ত্যাগ করতে পারবে না' যার একটি হলো কারো মৃত্যুর ফলে চিৎকার করে কান্নাকাটি করা। এগুলো যে করবে কিয়ামতের দিন তাকে আলকাতরার পাজামা এবং সারা গায়ে খোস পাঁচড়ার পোষাক পরানো হবে।' মৃত ব্যক্তির উপরে শোক করার বিষয়টি অনেকে শ্রেষ্ঠ আমল ও আল্লাহর সন্তুষ্টির উপায় হিসাবে ধরে নিয়েছিলেন। যেমন- বিশেষ করে প্রতি বছর আশুরার সময় ইমাম হোসায়েনের রা. নামে 'তাযিয়া' বা শোক মিছিল বের করা হয়।
📄 বাপ-মায়ের কর্ম দ্বারা কাউকে তিরস্কার করা
অন্যের কর্ম দ্বারা বিশেষ করে বাপ-মায়ের কর্ম দ্বারা মানুষকে তিরস্কার করা জাহেলী যুগের অন্যতম রীতি ছিল। আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এই রীতির বিরোধিতা করলেন। অবশ্য এই অপকর্মের ফলে কেউ মুশরিক বলে গণ্য হবে না। সহীহ বুখারীর কিতাবুল ঈমানের মধ্যে মারুর রা. হতে বর্ণিত হয়েছে তিনি বলেন যে, আমি একদিন আবুযর গিফারী রা. এর সংগে রবযাহ নামক স্থানে সাক্ষাৎ করতে গিয়ে দেখি যে, তাঁর ক্রীতদাস ও তিনি একই ধরণের পোষাক পরে আছেন। জিজ্ঞেস করলে তিনি বললেন যে, আমি একজন লোককে তার মায়ের নামে গালি দিয়েছিলাম তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে বলেন, হে আবুযর! তুমি কি করে মায়ের নামে তিরস্কার করলে? তোমাদের অধীন যারা তারা তোমাদের ভাই। আল্লাহ তাদেরকে তোমাদের অধীনস্ত করেছেন। অতএব তোমাদের কারো অধীনে কোনো ভাই থাকলে সে যেন নিজে যা খায়, তাই তাকে খাওয়ায়, নিজে যে পোশাক পরে তাই তাকে পরায় ও তাদেরকে অধিক না খাটায়। যদি খাটাতে হয়, তাহলে তোমারা নিজেরা ওদেরকে সাহায্য করো।
মোটকথা, এক জনের কর্মের কারণে অন্যকে তিরস্কার করা মোটেই পূর্ণ ঈমান ও দুরদর্শিতার পরিচায়ক নয়। আবুযর গিফারী রা. পূর্ণ ঈমান ও মারেফাত হাছিল করার পূর্বে এক সময় বিলালের রা. সাথে ঝগড়ায় লিপ্ত হন। এক পর্যায়ে তিনি বিলালকে রা. 'ইবনুস সওদা' বা কৃষ্ণমাতার সন্তান বলে গালি দেন। বিলাল রা. এ বিষয়ে রাসূলের সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট অভিযোগ করলে তিনি আবুযর গিফারীকে ডেকে বলেন যে, আবুযর তুমি কি বেলালকে গালি দিয়েছ? তুমি কি তাকে তার কৃষ্ণমাতার নামে ধিক্কার দিয়েছ? তিনি বলেন- জ্বী হ্যাঁ। তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে বলেন, আমার মনে হয় তোমার মধ্যে এখনও জাহেলী যুগের কিছু অংশ বাকী আছে। একথা শোনার সংগে সংগে আবুযর গিফারী রা. মাটিতে মুখ থুবড়ে পড়ে গেলেন এবং বলেন আমি আমার চেহারা মাটি থেকে উঠাবো না, যতক্ষণ পর্যন্ত না বেলাল তার পা দিয়ে আমার চেহারা মাড়িয়ে যাবে।'
হায়! হায়! আজকের মানুষের মধ্যে জাহেলী যুগের এ সকল স্বভাব কত ব্যাপকহারেই না দেখা যাচ্ছে। তারা একটা দেশের একজন মানুষের অপকর্মের জন্য পুরা দেশবাসীকে তিরস্কার করেছে। জাহেলী স্বভাব থেকে এরা আর কত দূরে।