📘 ইসলাম ও জাহেলিয়াতের দ্বন্দ্ব 📄 বড় বড় নিদর্শনসমূহ দ্বারা বরকত কামনা করা

📄 বড় বড় নিদর্শনসমূহ দ্বারা বরকত কামনা করা


কোন মহৎ কাজ বা মহান ব্যক্তি বা বংশের মর্যাদার বড়াই করা কিংবা তা দ্বারা বরকত কামনা করার এ স্বভাব জাহেলী যুগের আরব ও ইয়াহুদী খৃষ্টানদের মধ্যে ছিল। আজকাল মুর্খ মুসলিমদের ধমনীতে উক্ত বদ-স্বভাব ব্যাপক হারে অনুপ্রবেশ করেছে। বরং 'আইয়ামে জাহেলিয়াতের চেয়েও বেড়ে গেছে।

একবার হাকীম ইবন হেযাম রা. মুয়অবিয়ার রা. নিকট থেকে একশত দিরহামের বিনিময়ে কিছু উট, ঘোড়া ইত্যাদি (দানীয় বস্তু) ক্রয় করলে জনৈক ব্যক্তি তাকে বললো- 'আপনি কুরায়েশের মর্যাদা ক্রয় করলেন।' এ কথার জওয়াবে হাকীম ইবন হেযাম কুরায়শী রা. বললেন- 'যাবতীয় মর্যাদা চলে গেছে, এখন কেবল তাকওয়া বাকী আছে।' কেন বলবেন না? তিনি যে ছিলেন একজন জ্ঞানী, দানশীল, মর্যাদাবান, পরহেযগার, নেতৃস্থানীয় ব্যক্তি এবং ধনশালী। জাহেলী যুগে তিনি একশত উটের বিনিময়ে অন্যের একশত গোলাম আযাদ করেছেন। ইসলাম গ্রহণের পরে তিনি একশত উটসহ হজ্ব করেছেন। উটগুলিকে তিনি মূল্যবান ইয়ামনী চাদর পরিয়েছিলেন এবং কুরবানী দিয়েছিলেন, আরাফাতের ময়দানে হাজীদের খিদমতের জন্য একশত বালককে নিয়োজিত করেন, যাদের প্রত্যেকের গলায় রূপার বেড়ী ছিল। যাতে লেখা ছিল 'হাকীম ইবন হেযামের পক্ষ হতে আল্লাহর ওয়াস্তে আযাদকৃত'। তিনি এক হাজার ছাগল কুরবানী করেন। তিনি কাবার শরীফে জন্ম গ্রহণ করেন। তিনি জাহেলী যুগে ষাট বৎসর ও ইসলামে ষাট বৎসর- মোট একশত বিশ বছর হায়াত পেয়েছিলেন।

📘 ইসলাম ও জাহেলিয়াতের দ্বন্দ্ব 📄 প্রতিপত্তির অহংকার

📄 প্রতিপত্তির অহংকার


বুখারী ও মুসলিমের বর্ণনাতে এসেছে যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আবু মালিক আশআরীকে বলেন, দেখো 'আমার উম্মত জাহেলিয়াতের চারটি বদ স্বভাব ত্যাগ করতে পারবে না'। (১) প্রতিপত্তির অহংকার (২) বংশের নামে তিরস্কার (৩) গ্রহ নক্ষত্রাদির সাহায্যে বৃষ্টি প্রার্থনা ও (৪) কারো মৃত্যুর ফলে চিৎকার করে কান্নাকাটি করা। এগুলো যে করবে কিয়ামতের দিন তাকে আলকাতরার পাজামা এবং সারা গায়ে খোস পাঁচড়ার পোষাক পরানো হবে।' উক্ত হাদীস দ্বারা জাহেলী যুগের উপরোক্ত রীতিসমূহকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। মুসলিমদের মধ্যে আজকাল অনেকেই এ সবের অনুকরণ করছে, বরং আরও বেড়ে গেছে এবং সেতারে রাগিনী সংযোগ করেছে। প্রিয় পাঠক! আপনি এসব লোকদেরকে দেখবেন নিজেদের বাপ-দাদার গর্ব করছে। অথচ নিজেরা তাদের চেয়ে অনেক দূরে। কেউ বলবে আমার দাদা ছিলেন অমুক বুযুর্গ। কেউ বলবে আমার দাদা ছিলেন অমুক আলেমী হক্কানী, এমনিতরো আরো কত কিছু।

📘 ইসলাম ও জাহেলিয়াতের দ্বন্দ্ব 📄 বিভিন্ন গ্রহের মাধ্যমে বৃষ্টি প্রার্থনা করা

📄 বিভিন্ন গ্রহের মাধ্যমে বৃষ্টি প্রার্থনা করা


বুখারী ও মুসলিমের বর্ণনাতে এসেছে যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আবু মালিক আশআরীকে বলেন, দেখো 'আমার উম্মত জাহেলিয়াতের চারটি বদ স্বভাব ত্যাগ করতে পারবে না' যার মধ্যে একটি হলো গ্রহ নক্ষত্রাদির সাহায্যে বৃষ্টি প্রার্থনা করা। গ্রহ-নক্ষত্রাদির উত্থান বা পতনকে বৃষ্টির কারণ বা অসীলা মনে করা। অথচ তাদের অধিকাংশই এ বিশ্বাস রাখে না যে, গ্রহ-নক্ষত্রাদির উত্থান বা পতনের মূল নিয়ামক খোদ আল্লাহ রাববুল আলামীন।

📘 ইসলাম ও জাহেলিয়াতের দ্বন্দ্ব 📄 বংশ উল্লেখ করে তিরস্কার করা

📄 বংশ উল্লেখ করে তিরস্কার করা


বুখারী ও মুসলিমের বর্ণনাতে এসেছে যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আবু মালিক আশআরীকে বলেন, দেখো 'আমার উম্মত জাহেলিয়াতের চারটি বদ স্বভাব ত্যাগ করতে পারবে না' যার মধ্যে একটি হলো বংশের নামে তিরস্কার করা। বংশের বড়াই করে তারা বলে- অমুকের বাপ-দাদারা পবিত্র বংশের ছিল না, কিংবা অমুকের পূর্ব পুরুষ উচচ মর্যাদার অধিকারী ছিল না প্রভৃতি। এমনিভাবে বংশ উল্লেখ করে তিরস্কার করা জাহেলী যুগের রীতি।

ফন্ট সাইজ
15px
17px