📘 ইসলাম ও জাহেলিয়াতের দ্বন্দ্ব 📄 কবরে বাতি দেওয়া

📄 কবরে বাতি দেওয়া


ইতোপূর্বে এর নিষেধাজ্ঞা সম্বলিত হাদীস উল্লেখিত হয়েছে। প্রিয় পাঠক! বিশেষ করে যদি আপনি একবার শিয়া ইমাম বা রাসূলের সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পরিবারভূক্ত ইমামদের কবরগুলিকে দেখতেন। সেখানে রমযানের রাত্রি ও অন্যান্য পবিত্র রাত্রিগুলিতে যেভাবে আলোকসজ্জা করা হয় (তা দারুণভাবে নিন্দনীয়)। অথচ তারা এক অতীব পূণ্যের কাজ বলে ভেবে থাকে।

📘 ইসলাম ও জাহেলিয়াতের দ্বন্দ্ব 📄 কবরগুলিকে ঈদের স্থানে পরিণত করা

📄 কবরগুলিকে ঈদের স্থানে পরিণত করা


আবু হুরায়রা রা. বলেন- রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি যে তোমরা (যিকির-আযকার ও সালাত থেকে খালি করে) তোমাদের ঘরগুলিকে কবরস্থানে পরিণত করো না। তোমরা আমার কবরকে ঈদ-উৎসবের স্থানে পরিণত করো না। তোমরা আমার উপর দরূদ পড়ো। যে স্থান থেকেই তোমরা দরুদ পড়ো না কেন, তা আমার কাছে পৌঁছানো হয়। (নাসাঈ, মেশকাত ৮৬ পৃঃ)

প্রিয় পাঠক! জেনে রাখুন যে, ঈদ বলা হয় ঐ সাধারণ সম্মেলনকে যা প্রতি বছর, সপ্তাহে বা মাসে নিয়মিতভাবে ফিরে আসে বা আবর্তিত হয়। যেমন- ঈদুল ফিতর, জুমু'আ বা অনুরূপ কোনো উপাসনা সম্মেলন অথবা সাধারণ সম্মেলন। কখনো তা নির্দিষ্ট স্থানকে কেন্দ্র করে হয়ে থাকে। কখনো বা অনির্দিষ্ট স্থানে। ইরাকবাসী মুসলিমদের অবস্থা হলো এই যে, তারা দেশের প্রত্যেক অলির কবরে নির্দিষ্ট একটি দিনে যিয়ারতের উদ্দেশ্যে জমায়েত হবে। (যেমন- আমাদের দেশে 'উরস' উৎসবে জমায়েত হয়ে থাকে)। কেউ জুমু'আর দিনকে নির্দিষ্ট করে নিয়েছে, কেউ মঙ্গলবার, কেউ বা অন্যান্য সময়ে। এমনিভাবে কোনো কোন রাতকেও তারা (যিয়ারত ও জমায়েতের উদ্দেশ্যে) নির্দিষ্ট করে নিয়েছে। যেমন- শবে কদর, শবেবরাত বা ঈদের দিনগুলিতে যেসব বিষয়ে আল্লাহ কোনো দলীল নাযিল করেন নি।

টিকাঃ
২৮. মাননীয় লেখক হাদীসটি ভুলক্রমে উল্লেখ করেননি। আলোচ্য বিষয়ের সহিত মিল থাকায় সংযোজন করা হল। (অনুবাদক)

📘 ইসলাম ও জাহেলিয়াতের দ্বন্দ্ব 📄 কবরে জবেহ করা

📄 কবরে জবেহ করা


আল্লাহ তা'আলা ইরশাদ করেন- (হে নবী) 'আপনি বলুন যে, নিশ্চয়ই আমার সালাত, আমার কুরবানী, আমার জীবন ও আমার মৃত্যু সবকিছুই কেবলমাত্র বিশ্ব চরাচরের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য। তাঁর কোনো শরীক নেই এবং আমি এ বিষয়ে (কোনরূপ শরীক না করার জন্যই) আদিষ্ট হয়েছি এবং আত্মসমর্পণকারীদের মধ্যে আমিই প্রথম'। (সূরা আল-আন'আম, ৬: আয়াত ১৬২-১৬৩)

উক্ত আয়াতে আল্লাহ রাব্বুল আলামীন স্বীয় নবীকে নির্দেশ দিচ্ছেন- মুশরিকদের নিকট একথা পৌঁছে দেওয়ার জন্য যে, তিনি স্বীয় ইবাদত উপাসনা ও যবেহ কুরবানীকে শুধুমাত্র আল্লাহর জন্যই খালেছ করছেন। অতএব যে ব্যক্তি আল্লাহ ব্যতীত অন্যের নৈকট্য কামনা করবে তার ক্ষতির হাত থেকে বাঁচার জন্য কিংবা তার কাছ থেকে কোনো উপকার লাভের জন্য- তাহলে সেটা হবে সেইরূপ কুফরী ও শিরকী আক্বীদা, যার উপর পূর্ববর্তী লোকেরা ছিল।

উহর নিষিদ্ধতার ব্যাপারে নিম্নোক্ত হাদীসগুলি প্রণিধানযোগ্য। জনৈক ব্যক্তি আল্লাহর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট 'বাওয়ানাহ্' নামক স্থানে তার মানতী পশু যবেহ করার অনুমতি চাইল। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে জিজ্ঞেস করলেন, সেখানে কি কোনো মূর্তি আছে? তারপর জিজ্ঞেস করলেন, সেখানে কি মুশরিকদের জমায়েতের মত জমায়েত হয়ে থাকে? উত্তরে সেই ব্যক্তি বলেন কোনটাই নয়। তখন রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে অনুমতি প্রদান করলেন। (আবু দাউদ)

অন্য একটি সহীহ হাদীসে ইরশাদ হয়েছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একদিন বলেন যে, দেখো সামান্য একটা মাছির কারণে একজন লোক জাহান্নামে গেল অপরজন জান্নাতে গেল। লোকেরা জিজ্ঞেস করলো, ইয়া রাসূলুল্লাহ! সেটা কিরূপ? রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন যে, দু'জন লোক একটি সম্প্রদায়ের লোকদের নিকট দিয়ে যাচ্ছিল। তাদের একটি প্রতিমা ছিল। নিয়ম ছিল এই যে, তার নিকট দিয়ে যে কেউ অতিক্রম করবে, তাকে ঐ প্রতিমার নামে কিছু কুরবানী দিয়ে যেতে হবে। একজন বলল, কুরবানী দেয়ার মত আমার কাছে কিছু নেই। তারা বলল, একটি মাছি ধরে হলেও কুরবানী দাও। তাদের কথা অনুযায়ী প্রথম লোকটি কাজ করলো, একটি মাছি কুরবানী দিল এবং সে মুক্তি পেল। অতঃপর জাহান্নামী হলো। অন্য জন পরিষ্কার বলে দিল যে, আমি আল্লাহ ব্যতীত অন্য কারো নামে কোনো কিছু কুরবানী দিতে প্রস্তুত নই। ফলে লোকেরা তাকে হত্যা করলো। কিন্তু সে জান্নাতী হলো।

হাদীসটিতে (আমাদের জন্য) বহু উপদেশ ও মঙ্গল নিহিত রয়েছে। এখানে লোক দুইটি মুসলিম ছিল। অথচ সামান্য কারণে একজন জাহান্নামে গেল। লোকটির আক্বীদা-বিশ্বাসে কোনো ত্রুটি ছিল না। সে শুধুমাত্র 'জান বাঁচানোর' খাতিরেই কাজটি করেছিল। প্রিয় পাঠক! নিয়ত ও আক্বীদা-বিশ্বাসই সর্বাপেক্ষা বড় জিনিস। আক্বীদা কত মজবুত ও আপোষহীন হওয়া প্রয়োজন, উপরের ঘটনাটি তার জ্বাজ্জল্যমান প্রমাণ। অতএব আপনি বিষয়টি গভীরভাবে অনুধাবন করুন। মনের কান দিয়ে শুনুন, লোকগুলি ঐ দু'জনের নিকট কি প্রস্তাব দিয়েছিল। দেখুন সত্য সব সময়ই স্পষ্ট, আর বাতিল সব সময়ই সন্দেহযুক্ত। গভীরভাবে চিন্তা করে দেখুন, মুশরিকগণ তাদের প্রতিমাগুলির জন্যে কুরবানী করে থাকে আল্লাহর নৈকট্য হাছিলের উদ্দেশ্যে, ওরা আল্লাহর নিকট তাদের জন্য শাফাআত করবে এই উদ্দেশ্যে। কেননা ওরা কেউ আল্লাহর রাসূল, কেউ মালাইকা, কেউ বা আউলিয়া। আজকালকের মানুষ আরও কত কি করছে, তা আপনার নিকট খুব পরিষ্কার। আল্লাহ আমাদেরকে সাহায্য করুন।

টিকাঃ
২৯. আমাদের দেশে কবরে 'হাজত' দেওয়া বলা হয়। (অনুবাদক)
৩০. 'জান বাঁচানো ফরজ' এই গোড়া অজুহাত দেখিয়ে এবং তথাকথিত হেকমতের দোহাই দিয়ে যারা শিরকের সংগে সহঅবস্থানের চেষ্টা করেন, তারা হাদীসটি সম্পর্কে চিন্তা করুন।

📘 ইসলাম ও জাহেলিয়াতের দ্বন্দ্ব 📄 বড় বড় নিদর্শনসমূহ দ্বারা বরকত কামনা করা

📄 বড় বড় নিদর্শনসমূহ দ্বারা বরকত কামনা করা


কোন মহৎ কাজ বা মহান ব্যক্তি বা বংশের মর্যাদার বড়াই করা কিংবা তা দ্বারা বরকত কামনা করার এ স্বভাব জাহেলী যুগের আরব ও ইয়াহুদী খৃষ্টানদের মধ্যে ছিল। আজকাল মুর্খ মুসলিমদের ধমনীতে উক্ত বদ-স্বভাব ব্যাপক হারে অনুপ্রবেশ করেছে। বরং 'আইয়ামে জাহেলিয়াতের চেয়েও বেড়ে গেছে।

একবার হাকীম ইবন হেযাম রা. মুয়অবিয়ার রা. নিকট থেকে একশত দিরহামের বিনিময়ে কিছু উট, ঘোড়া ইত্যাদি (দানীয় বস্তু) ক্রয় করলে জনৈক ব্যক্তি তাকে বললো- 'আপনি কুরায়েশের মর্যাদা ক্রয় করলেন।' এ কথার জওয়াবে হাকীম ইবন হেযাম কুরায়শী রা. বললেন- 'যাবতীয় মর্যাদা চলে গেছে, এখন কেবল তাকওয়া বাকী আছে।' কেন বলবেন না? তিনি যে ছিলেন একজন জ্ঞানী, দানশীল, মর্যাদাবান, পরহেযগার, নেতৃস্থানীয় ব্যক্তি এবং ধনশালী। জাহেলী যুগে তিনি একশত উটের বিনিময়ে অন্যের একশত গোলাম আযাদ করেছেন। ইসলাম গ্রহণের পরে তিনি একশত উটসহ হজ্ব করেছেন। উটগুলিকে তিনি মূল্যবান ইয়ামনী চাদর পরিয়েছিলেন এবং কুরবানী দিয়েছিলেন, আরাফাতের ময়দানে হাজীদের খিদমতের জন্য একশত বালককে নিয়োজিত করেন, যাদের প্রত্যেকের গলায় রূপার বেড়ী ছিল। যাতে লেখা ছিল 'হাকীম ইবন হেযামের পক্ষ হতে আল্লাহর ওয়াস্তে আযাদকৃত'। তিনি এক হাজার ছাগল কুরবানী করেন। তিনি কাবার শরীফে জন্ম গ্রহণ করেন। তিনি জাহেলী যুগে ষাট বৎসর ও ইসলামে ষাট বৎসর- মোট একশত বিশ বছর হায়াত পেয়েছিলেন।

ফন্ট সাইজ
15px
17px