📘 ইসলাম ও জাহেলিয়াতের দ্বন্দ্ব 📄 শরীয়ত ত্যাগ করে আল্লাহর মহব্বত দাবী করা

📄 শরীয়ত ত্যাগ করে আল্লাহর মহব্বত দাবী করা


জাহেলী যুগের এই রীতির বিরুদ্ধে আল্লাহ তা'আলা বলেন-
(হে নবী) আপনি বলে দিন যে, যদি তোমরা যথার্থই আল্লাহর মহব্বতের দাবীদার হয়ে থাকো, তাহলে আমার অনুসরণ করো। তা হলেই আল্লাহ তোমাদেরকে ভালবাসবেন এবং তোমাদের পাপসমূহ মার্জনা করবেন। আল্লাহ মহা ক্ষমাশীল ও কৃপানিধাণ'। (সূরা আলে ইমরান ৩: আয়াত ৩১)

শানে নুযূলঃ হাসান রহ. ও ইবনে জুরায়েজ রহ. বলেন যে, রাসূলের সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের যামানায় একদল লোক আল্লাহর মহব্বতের দাবীর কথা নবীর দরবারে পেশ করলে উপরোক্ত আয়াত নাযিল হয়।

ইবনে আব্বাস রা. হতে যোহাক বর্ণনা করেন যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মসজিদুল হারামে দাঁড়িয়েছিলেন। এমতাবস্থায় কুরাইশগণ তাদের প্রতিমাগুলো সাজিয়ে রাখছিল। তারা প্রতিমার দেহে উট পাখীর ডিমের খোসা এবং কানে দুলসমূহ ঝুলিয়ে রাখছিল। অতঃপর তাকে সিজদা করছিল। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তখন তাদেরকে সম্বোধন করে বললেন- হে কুরায়েশরা, তোমরা তোমাদের পিতা ইব্রাহীম ও ইসমাঈল আলাইহিস সালামের দ্বীনের বিরোধিতা করছ। তাঁরা উভয়ে ইসলামের উপরই কায়েম ছিলেন। তারা তখন উত্তরে বলল, হে মুহাম্মদ! আমরা আল্লাহর মহব্বতেই এদের পূজা করি, যাতে এরা আমাদেরকে আল্লাহর সান্নিধ্যে পৌঁছে দেয়। এর পরে এই আয়াত নাযিল হয়।

আবু ছালেহ বর্ণনা করেন যে, যখন ইয়াহুদীরা নিজেদেরকে আল্লাহর সন্তান ও প্রিয় পাত্র বলে দাবী করে, তখন এই আয়াত নাযিল হয়, কিন্তু ইয়াহূদীদের সম্মুখে উক্ত আয়াত পেশ করা হলে তারা তা অস্বীকার করে।

মুহাম্মদ ইবনে ইসহাক রা. বর্ণনা করেন যে, নাজরানের খৃষ্টানদের সম্পর্কে উক্ত আয়াত নাযিল হয়। যখন তারা দাবী করে যে, আমরা ঈসা মসীহকে সম্মান করি, তাকে পূজা করি কেবলমাত্র আল্লাহর মহববতের খাতিরে। তাদের দাবীর প্রতিবাদে আল্লাহ উপরোক্ত আয়াত নাযিল করেন।

মোটকথা, পাপ-পূণ্যের জগাখিঁচুড়ি দিয়ে কেউ আল্লাহর মহব্বতের দাবী করতে পারে না। কবি কত সুন্দরই না বলেছেন-
'তুমি আল্লাহর অবাধ্য আচরণ করবে, অথচ মুখে তার প্রতি মহব্বত প্রকাশ করবে। আমার জীবনের কসম এটি একটি অভিনব যুক্তি। 'যদি তোমার ভালবাসা খাঁটি হয়, তাহলে অবশ্যই তুমি তার আনুগত্য করবে। নিশ্চয়ই প্রেমিক তার প্রেমাস্পদের প্রতি অনুগত থাকে।

📘 ইসলাম ও জাহেলিয়াতের দ্বন্দ্ব 📄 আল্লাহর উপরে কাল্পনিক মিথ্যা আশা

📄 আল্লাহর উপরে কাল্পনিক মিথ্যা আশা


ইয়াহূদীরা অনুরূপ আশা পোষণ করতো। এদের একটি ঘটনা উপলক্ষে নিম্নোক্ত আয়াতটি নাযিল হয়-
(হে নবী!) "আপনি কি দেখেননি ওদের আচরণ, যাদেরকে আল্লাহর কিতাবসমূহের একটা অংশ (তাওরাত) দেওয়া হয়েছে? ফয়সালার জন্য ওদেরকে আল্লাহর কিতাবের দিকে ডাকা হলো। অতঃপর ওদের মধ্যকার একটি দল তা হতে মুখ ফিরিয়ে চলে গেল। (আল্লাহর কিতাবের ফয়সালা হতে মুখ ফিরিয়ে নেওয়ার দুঃসাহসের পিছনে তাদের যে ধারণা ক্রিয়াশীল ছিল, তা হলো এই যে) তারা বলতো যে, (বাছুর পূজার) মাত্র কয়েকটি দিন ব্যতীত জাহান্নামের আগুন তাদেরকে স্পর্শ করবে না। তাদের এই মিথ্যারোপ তাদেরকে দ্বীনের ব্যাপারে ধোঁকায় নিক্ষেপ করে।” (সূরা আলে ইমরান : ২৩- ২৪)

শানে নুযূলঃ ইবনে আব্বাস রা. থেকে ইবনে ইসহাক বর্ণনা করেন যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম একদা ইয়াহুদীদের তাওরাত শিক্ষা কেন্দ্রে প্রবেশ করে সমবেত ইয়াহূদীদেরকে আল্লাহর প্রতি দাওয়াত দিলেন। তখন ইয়াহূদী নেতা নু'মান ইবন আমর ও হারেছ ইবন যায়েদ জিজ্ঞেস করলো, 'আপনি কোনো দ্বীনের উপরে আছেন? রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন- 'ইব্রাহীমের দ্বীন ও মিল্লাতের উপরে'। তখন উক্ত দুইজন বলল, ইব্রাহীমতো ইয়াহূদী ছিলেন। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তখন বললেন, 'বেশ তাহলে তাওরাত নিয়ে এসো'। তাওরাতই তোমাদের ও আমাদের মধ্যে ফয়সালা দিবে। উক্ত ঘটনার দিকে ইঙ্গিত দিয়েই উপরোক্ত আয়াত নাযিল হয়।

বাইরের বর্ণনায় জানা যায় যে, ইসলামে রজমের নির্দেশ আসার আগে ইয়াহূদীদের মধ্যে একটি ব্যভিচারের ঘটনা সংঘটিত হয়। ব্যভিচারী পুরুষ ও মহিলা দু'জনেই উচ্চ সামাজিক মর্যাদার অধিকারী হওয়ার কারণে শাস্তি কিছু হালকা করবার জন্য ইয়াহূদীরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের দরবারে যাতায়াত শুরু করলো। রাসূল তাদেরকে বললেন, 'আমি তোমাদের ধর্মের কিতাব অনুযায়ী তোমাদের মধ্যে ফায়সালা করবো। তখন তারা রজমকে অস্বীকার করলে আল্লাহর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাওরাত আনতে হুকুম দিলেন। ইয়াহূদী নেতা জুরহুম ইবন ছুরিয়া চতুরতার সংগে রজমের আয়াতটির উপরে হাত রেখে ওটা বাদ দিয়ে পড়ে গেল।

তখন নও-মুসলিম প্রাক্তন ইয়াহুদী ধর্মীয় পন্ডিত আব্দুল্লাহ ইবন সালাম রাসূলকে সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সতর্ক করে দিলেন এবং আয়াতটি প্রকাশ করে দিলেন। অতঃপর তাওরাতের বিধান মতে উক্ত ব্যভিচারীদের পাথর মেরে হত্যা করা হলো। এই ঘটনায় ইয়াহুদীরা ক্রুদ্ধ হয়। তখন উপরোক্ত আয়াত নাযিল হয়।

রাসূলের সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের দেওয়া ফয়সালা ও তাওরাতের মীমাংসার প্রতি অবজ্ঞা করার পিছনে তাদের বিশ্বাস ছিল একটাই যে, জাহান্নামের আগুন তাদেরকে স্পর্শ করবে না। তাদের ধারণা ছিল এই যে, আমাদের বাপ-দাদারা নবী ছিলেন। তাঁরা আমাদের জন্য সুপারিশ করবেন। তাছাড়া আল্লাহ তা'আলা ইয়াকুব আলাইহিস সালামকে ওয়াদা দিয়েছেন যে, তিনি তার আওলাদদেরকে আযাব দিবেন না, কেবল কসম লংঘন করা ব্যতীত। আল্লাহ তাদের এই সব ধারণার প্রতিবাদ করেন।

বর্তমান যুগে মুসলিমদের মধ্যেও শাফাআতের ভুল ব্যাখ্যা প্রচলিত আছে এবং অনেকের ধারণা আছে যে, তারা নিজেদের আমল ব্যতীত অমুক হুজুর বা অমুক পীর সাহেবের কিংবা নিজেদের উচ্চ পদমর্যাদার কারণে সুপারিশের জোরে কিয়ামতের দিন পার পেয়ে যাবে। আল্লাহ আমাদেরকে রক্ষা করুন।

টিকাঃ
২৭. লেখক এখানে সূরায়ে বাক্বারাহ ৮১-৮২ আয়াতকে পূনরায় দলীল হিসাবে এনেছেন।

📘 ইসলাম ও জাহেলিয়াতের দ্বন্দ্ব 📄 নেককার লোকদের কবরগুলিকে মসজিদে পরিণত করা

📄 নেককার লোকদের কবরগুলিকে মসজিদে পরিণত করা


এই স্বভাব ছিল ইয়াহুদী খৃষ্টানদের। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এদের বিরুদ্ধে লা'নত করে বলেন, 'আল্লাহ ইয়াহুদী ও নাছারাদেরকে অভিশপ্ত করুন, তারা তাদের নবীদের কবরগুলিকে সিজদার স্থানে পরিণত করেছে।' বুখারী ও মুসলিমে আবু হোরায়রা রা. হতে বর্ণিত হয়েছে, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন যে, আল্লাহ ইয়াহুদী ও খৃষ্টানদের ধংস করুন, যারা তাদের নবীদের কবরগুলোকে মসজিদে পরিণত করেছে।

আয়েশা রা. প্রমুখ সহীহ বুখারী ও মুসলিমে বর্ণিত হয়েছে যে, একদা উম্মে সালমা ও উম্মে হাবীবা রা. রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট হাবাশাতে (ইথিওপিয়া) দেখে আসা মারিয়া নামক একটি ইয়াহূদী গীর্জা সম্পর্কে বর্ণনা করছিলেন। তারা উক্ত গীর্জার সৌন্দর্য ও তার মধ্যে টাঙানো ছবিসমূহের কথা উল্লেখ করলে রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন যে, উক্ত সম্প্রদায়ের মধ্যকার কোনো একজন নেককার লোক যখন মারা যায়, তখন তারা তার কবরে মসজিদ নির্মাণ করে এবং বিভিন্ন ছবিসমূহ সেখানে লটকিয়ে রাখে। এরা আল্লাহর নিকট সৃষ্টিকুলের সর্বাপেক্ষা নিকৃষ্ট জীব।

সুনানে আর বাআ'র অন্য বর্ণনাতে ইবনে আব্বাস রা. হতে বর্ণিত হয়েছে যে- রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কবর যিয়ারতকারিণী মহিলাদেরকে এবং কবরের উপরে মসজিদ নির্মাণ ও বাতি দানকারীদেরকে লা'নত করেছেন।

ইয়াহূদী নাছারাদের অনুকরণে সৎলোকদের কবরে এইভাবে মসজিদ নির্মাণ করাকে প্রকাশ্যভাবেই নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। এতদসত্ত্বেও একথা সকলেই জানেন যে, বর্তমান মুসলিম সমাজে কবরে মসজিদের সৌধ নির্মাণ করা হোক বা না হোক কবরকে সিজদার স্থানে পরিণত করা যে হারাম এবং সেই হারাম কর্ম সম্পাদনকারী যে স্পষ্ট মালাউন বা অভিশপ্ত, সে বিষয়ে কোনো সন্দেহ নেই। বিষয়টির উপর বহু হাদীস ও বর্ণনা রয়েছে এবং সে কারণে সালাফে ছালেহীনগণ উহার নিষেধাজ্ঞার ব্যাপারে অত্যন্ত কঠোরতা অবলম্বন করতেন।

📘 ইসলাম ও জাহেলিয়াতের দ্বন্দ্ব 📄 নবীদের স্মৃতিচিহ্নসমূহে মসজিদ নির্মাণ করা

📄 নবীদের স্মৃতিচিহ্নসমূহে মসজিদ নির্মাণ করা


এ বিষয়টিও ইয়াহুদী খৃষ্টানদেরদের আবিস্কৃত। যেমন- ওমর রা. হতে বর্ণিত হয়েছে যে, তারা তাদের নবীদের নিদর্শনসমূহকে মসজিদে পরিণত করতো। এদের অনুকরণে বহু জাহেল মুসলিম এ ধরনের কাজ শুরু করেছে। যেমন তারা সৌধ নির্মাণ করেছে সেই স্থানে, যেখানে আল্লাহর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আত্মগোপন করেছিলেন। অথবা যেখানে পা রেখেছিলেন, কিংবা যেখানে দাড়িয়ে ইবাদত করেছিলেন। অথচ ইসলামে এইসব অতি ভক্তির কোনো স্থান নেই।

ইরাকে এমন বহু স্থান আছে, যেখানে বড় বড় সৌধ নির্মাণ করা হয়েছে। যেমন একটি জায়গা আছে, লোকদের ধারণা সেখানে শায়খ আব্দুল কাদের জীলানী রহ. ইবাদত করতেন। আর এক জায়গায় একটি পাথরের উপরে হাতের তালুর চিহ্ন আছে। শিয়াদের ধারণায় এটি তাদের ইমাম আলীর রা. হাতের তালুর চিহ্ন। এমনিভাবে আরো কয়েকটি জায়গা আছে, যেসব জায়গা সম্বন্ধে লোকদের ধারণা এই যে, এসব স্থানে খিযির আলাইহিস সালামকে দেখা গিয়েছিল। যদিও তার কোনো ভিত্তি নেই। এমনিভাবে আরো বহু স্থান আছে, যে সবের নাম করতে গেলে স্থান সংকুলান হবে না। অতএব যারা ইসলামের দাবীদার, তাদের উচিত এসব থেকে দূরে থাকা।

বিষয়টির বিস্তারিত ব্যাখ্যা দিলে আশা করি অন্যায় হবে না। শায়খুল ইসলাম ইমাম ইবনে তায়মিয়াহ রহ. বলেন যে, উপরোক্ত ব্যাপারে খ্যাতনামা ওলামায়ে কেরামের মধ্যে দু'ধরণের মতামত দেখতে পাওয়া যায়। এক - ঐ সমস্ত স্থানে ইবাদত করা নিষিদ্ধ। তবে যেসব স্থান সম্পর্কে শরীয়তের নির্দেশ আছে, সেগুলির হুকুম স্বতন্ত্র। যেমন মাকামে ইবরাহীমে সালাত আদায় করা, কাবা ঘরে খুঁটির নিকটে সালাত পাঠ করা, মসজিদসমূহে এবং পয়লা কাতারে ছালাতের আকাংখা করা ইত্যাদি।

দ্বিতীয় মত হলো- বিশেষ কোনো গুরুত্ব না দিয়ে এসব স্থানে ইবাদত করায় তেমন কোনো দোষ নেই। যেমন আব্দুল্লাহ ইবনে ওমর রা. আল্লাহর নবীর চলার পথের নিদর্শনসমূহকে অধিক গুরুত্ব দিতেন। যদিও নবী করীম এসব স্থানে হঠাৎ কখনো চলেছেন। ইমাম আহমদ ইবন হাম্বলকে রহ. উক্ত বিষয়ে কেউ জিজ্ঞেস করলে এর সমর্থনে তিনি বলেন, আবদুল্লাহ ইবনে উম্মে মাকতুম রা. (অন্ধ ছাহাবী) কি নিজ বাড়ীতে সালাত আদায় করার জন্য রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট অনুমতি চাননি? আবদুল্লাহ ইবনে ওমর রা.কি রাসূলের সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম চলার পথের নিদর্শনসমূহের অনুগমন করতেন না? অতএব এসব স্থানে যাতায়াত করায় কারুর জন্য ক্ষতির কারণ নেই। তবে বাড়াবাড়ি করা অন্যায়। আহমদ ইবনে কাসেম এ সম্পর্কে জিজ্ঞাসিত হলে তিনিও উপরোক্ত মন্তব্য করেন এবং বলেন যে, এক সময় ইবনে ওমর রা. কে একস্থানে পানি ঢালতে দেখা গেল। জিজ্ঞেস করা হলে তিনি বলেন যে, আমি এই স্থানে আল্লাহর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে পানি ঢালতে দেখেছি। আহমদ রহ. বলতেন যে, এতটুকু করায় কোনো দোষ বর্তায় না। কিন্তু আজকাল লোকেরা এ ব্যাপারে খুব বাড়াবাড়ি করছে। যেমন- ইমাম হোসাইয়েন রা. এর কবর প্রভৃতি সম্বন্ধে। উপরের আলোচনা দু'টি কিতাবুল আদবের মধ্যে 'খেলাল' বর্ণনা করেছেন।

সহীহ বুখারীতে মুসা ইবন উকবা হতে বর্ণিত হয়েছে, তিনি বলেন যে, আমি সালেম ইবন আবদুল্লাহকে রাস্তায় বিভিন্ন স্থানে দাঁড়াতে ও সালাত আদায় করতে দেখেছি। তিনি বলতেন, আমার পিতা আবদুল্লাহ ইবন ওমর রা. এসব স্থানে রাসূলকে সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে ছালাত আদায় করতে দেখার কারণে নিজেও সালাত আদায় করতেন। এসব কারণেই ইমাম আহমদ রহ. এ ব্যাপারে অনুমতি দিয়েছেন।

পক্ষান্তরে যারা এটাকে অপছন্দ করেন, তাদের যুক্তি নিম্নরূপঃ
সাঈন ইবন মানছুর স্বীয় সুনানে মারুর ইবন সুওয়াইদ হতে বর্ণনা করেন যে, আমরা একদা ওমরের রা. সংগে হজ্জের সফরে বের হলাম। তিনি আমাদের সংগে ফজরের জামা'আতে প্রথম রাকা'আতে সুরা ফীল ও দ্বিতীয় রাকা'আতে সূরা কুরাইশ তিলাওয়াত করলেন। অতঃপর হজ্জ থেকে ফেরার পথে দেখলেন যে, এক জায়গায় সালাত পাঠ করার জন্য লোকেরা খুব তাড়াতাড়ি কছে। তিনি জিজ্ঞেস করে জানতে পারলেন যে, এখানে রাসূলুল্লাহ সালাত আদায় করেছিলেন। একথা শুনে ওমর রা. বলেন, তোমাদের পূর্বে ইয়াহুদী খৃষ্টানরা এভাবেই ধ্বংস হয়েছে। তারা তাদের নবীদের স্মৃতি চিহ্নগুলিকে ইবাদতগাহে পরিণত করেছিল। এতএব তোমাদের মধ্যে যাদের (ফরয) সালাত বাকী আছে, তারা আদয় করে নাও। যাদের সালাতের প্রয়োজন নেই, তারা চলে যাও।

অন্য বর্ণনায় মুহাম্মাদ ইবন আযযাহ প্রমুখ বর্ণনা করেন যে, হুদায়বিয়ার সন্ধিকালীন যে ঐতিহাসিক গাছ তলায় দাঁড়িয়ে উপস্থিত সকল মুসলিম রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের পবিত্র হাতে হাত রেখে মৃত্যুশপথ নিয়েছিলেন, পরবর্তীকালে যখন লোকেরা ঐ গাছের কাছে যাতায়াত শুরু করলো, তখন ওমর রা. ভবিষ্যৎ ফেৎনার আশংকায় গাছটি কেটে ফেলার নির্দেশ দিলেন।

এখানে ওমর রা. যে দূরদর্শী সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন উহাই গ্রহণযোগ্য। তাঁর জ্যেষ্ঠপুত্র আবদুল্লাহ ইবন ওমর ব্যতীত সকল ছাহাবীর মতামত উহাই। অতএব তার উপরেই আমাদের আমল করা ওয়াজিব এবং সেদিকেই ফিরে যাওয়া উচিত। গ্রন্থকার মুহাম্মাদ ইবন সুলায়মান আল তামিমী যে একজন স্বাধীন ও নিরপেক্ষ কুর'আন ও সুন্নাহপন্থী চিন্তাবিদ ছিলেন এবং হাম্বলী মাযহাবের মুকাল্লিদ ছিলেন না, উপরোক্ত আলোচনা তাঁর একটি প্রকৃষ্ট প্রমাণ।

ফন্ট সাইজ
15px
17px