📘 ইসলাম ও জাহেলিয়াতের দ্বন্দ্ব 📄 আলেমদের অবস্থা

📄 আলেমদের অবস্থা


জাহেলী যুগের নেতারা হয় বদকার আলেম হতো, নতুবা মূর্খ আবেদ হতো। যেমন আল্লাহ তা'আলা বলেন-
'তোমরা কি এটাই আকাংখা করছো যে, ওরা সবাই ঈমান আনবে। অথচ বাস্তব অবস্থা হলো এই যে, ওদের মধ্যে এক দল আছে যারা আল্লাহর কালাম শ্রবণ করে, অতঃপর তা হৃদয়ঙ্গম করার পর জেনেবুঝে তার পরিবর্তন সাধন করে।...তাদের মধ্যে আর একটা দল আছে যারা মূর্খ। যারা মিথ্যা আশা ব্যতীত আল্লাহর কিতাব সম্পর্কে কিছুই জানে না। বরং তারা কল্পনা করতেই অভ্যস্ত।' (সূরা আল-বাক্বারাহ, ২: আয়াত ৭৫-৭৮)

উপরোক্ত আয়াতে ইয়াহুদী সমাজের দু'টি সম্প্রদায়ের চরিত্র ব্যাখ্যা করা হয়েছে। প্রথমোক্ত দলটি হলো ইয়াহূদী আলেমদের। যাদের সাধারণ চরিত্র ছিল এই যে, তারা তাওরাতের আয়াতসমূহ পাঠ করতো বা শুনতো। তারপর নিজেদের স্বার্থে ইচ্ছামত অপব্যাখ্যা করতো। এমনকি তারা নিজেদের তৈরী অনেক কথাও তাওরাতে ঢুকিয়ে দিতো। যেমন তাওরাতে শেষ নবীর দৈহিক গঠন সম্পর্কে বর্ণনা আছে যে, তিনি মধ্যম আকৃতির গৌরবর্ণ হবেন, ইয়াহূদী আলেমরা নিজেদের স্বার্থে তার পরিবর্তন করে লিখলো, তিনি হবেন 'দীর্ঘাঙ্গ মেটে রঙের'। এমনিভাবে তারা বিবাহিত ব্যভিচারীকে পাথর মেরে হত্যা করার শাস্তির বিধান সম্বলিত আয়াতকে পরিবর্তন করে তাদের চেহারায় 'কালো রং' দেওয়ার বিধান জারি করলো। বুখারীতে এসবের বর্ণনা আছে।

দ্বিতীয় দলটি হলো ঐ সকল মূর্খ মুকাল্লিদ, যারা উপরোক্ত আলেমদের অনুসরণ করতো। যাদের নিজেদের কোনো বিচারশক্তি ছিল না।

জাহেলী যুগের উক্ত রীতি আজকের মুসলিম সমাজে ব্যাপক হারে বিস্তার লাভ করেছে। আজকের আলেমগণ বদ-স্বভাব এবং অলী- দরবেশগণ প্রবৃত্তি পরায়ণতায় সীমা ছাড়িয়ে গেছেন। আর তারা আল্লাহ সম্পর্কে এমন এমন কথা বলেন যার কোনো ভিত্তি নেই। শরীয়তের এমন এমন ব্যাখ্যা দেন যে, সম্পর্কে খোদ ইসলামই লজ্জাবোধ করে। সবকিছুর ফয়সালা আল্লাহর হাতে।

📘 ইসলাম ও জাহেলিয়াতের দ্বন্দ্ব 📄 নিজেদেরকেই কেবল আল্লাহর অলী ধারণা করা

📄 নিজেদেরকেই কেবল আল্লাহর অলী ধারণা করা


মদীনার ইয়াহুদীরা খায়বরের ইয়াহূদীদের নিকট এই মর্মে লিখলো যে, মুহাম্মাদের আনুগত্য ও বিরোধিতার বিষয়ে তোমরা যেটা করবে আমরা সেটাই করবো। জওয়াবে খায়বরের ইয়াহূদীরা লিখলোঃ আমরা আল্লাহর বন্ধু ইবরাহীমের সন্তান। আমাদেরই মধ্যে আল্লাহর পুত্র ওযায়ের ও অন্যান্য নবীদের আগমন ঘটেছে। অতএব আরবদের মধ্য হতে কখনই নবী আসতে পারে না। নবী হওয়ার ব্যাপারে মুহাম্মাদের চাইতে আমরাই অধিক হকদার। সুতরাং তার প্রতি আনুগত্যের কোনো প্রশ্নই উঠে না। আল্লাহ তা'আলা তখন নিম্নোক্ত আয়াত নাযিল করলেন-
'(হে নবী) আপনি বলে দিন যে, হে ইয়াহুদীগণ যদি দুনিয়ার সমস্ত লোকদের মধ্যে কেবলমাত্র নিজেদেরকেই তোমরা আল্লাহর অলী বা প্রিয় বান্দা হিসাবে ধারণা করে থাকো এবং এই দাবী যদি তোমরা যথার্থভাবেই করে থাকো তাহলে তোমরা মৃত্যু কামনা করো। (নিজেদের অবাধ্যতার কারণে) তারা কখনো মৃত্যু কামনা করবে না। আল্লাহ যালিমদের সম্পর্কে খুব ভালভাবেই জ্ঞাত আছেন'। (সূরা আল-জুমু'আ, ৬২: আয়াত ৬-৭)

ইয়াহুদীদের দাবীর অসারতা প্রমাণের জন্যই রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে এরূপ চ্যালেঞ্জ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। কেননা ইয়াহূদীরা নিজেদেরকে আল্লাহর সন্তান ও প্রিয় বান্দা বলে দাবী করতো। উপরন্তু বলতো যে, তারাই কেবল জান্নাতের অধিকারী হবে, আর কেউ নয়। আল্লাহ তা'আলা ইরশাদ করে বলেন-
'তারা দাবী করতো যে, ইয়াহূদী বা খৃষ্টানরা ব্যতীত কেউই কখনো জান্নাতে প্রবেশাধিকার পাবে না। এটা তাদের আশা মাত্র। আপনি বলে দিন যে, তোমরা তোমাদের দাবীর সমর্থনে দলীল পেশ করো, যদি সত্যবাদী হয়ে থাকো'। (সূরা আল-বাক্বারাহ ৩: আয়াত ১১১)।

বর্ণিত আছে যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইয়াহুদীদেরকে উপরোক্ত মৃত্যু কামনার আহবান পেশ করার সময় বলেছিলেন যে, তোমদের কেউই মৃত্যু কামনার কথা মুখে প্রকাশ করতে গেলেই তার থুথু শুকিয়ে যাবে। বস্তুতপক্ষে তাদের কেউই মৃত্যু কামনার কথা বলেনি। কেননা, তারা আসলে শেষ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের আগমনের বাস্তবতায় বিশ্বাসী ছিল। তারা একথাও জানতো যে, তারা মৃত্যু কামনার কথা প্রকাশ করার সাথে সাথেই মৃত্যুবরণ করবে এবং জাহান্নামের খোরাক হবে। এটি ছিল শেষ নবীর অন্যতম মো'জেযা। এ কারণেই ইয়াহুদীরা আল- কুরআনের এ চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করেনি।

ইয়াহুদীদের ন্যায় ইসলামী ফেরকাগুলির মধ্যেও আজকাল অনুরূপ ধারণার প্রসার লাভ ঘটে। তারা প্রত্যেকেই নিজেদেরকে আল্লাহর অলী বলে দাবী করছে। অথচ আল্লাহর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দ্ব্যর্থহীনভাবে 'নাজী' ফিরকা বা মুক্তিপ্রাপ্ত দল হিসাবে কেবল তাদের কথাই বলে গেছেন, যারা নবী ও তার সাহাবীদের তরীকার উপরে কায়েম থাকবে'।

টিকাঃ
২৬. লেখক আলোচনার শুরুতেই আয়াত পেশ করেছেন এবং মাঝখানে যেয়ে শানে নুযুল উল্লেখ করেছেন। পাঠকের সহজবোধ্য হওয়ার জন্য শানে নুযূল আগে দিলাম।

📘 ইসলাম ও জাহেলিয়াতের দ্বন্দ্ব 📄 শরীয়ত ত্যাগ করে আল্লাহর মহব্বত দাবী করা

📄 শরীয়ত ত্যাগ করে আল্লাহর মহব্বত দাবী করা


জাহেলী যুগের এই রীতির বিরুদ্ধে আল্লাহ তা'আলা বলেন-
(হে নবী) আপনি বলে দিন যে, যদি তোমরা যথার্থই আল্লাহর মহব্বতের দাবীদার হয়ে থাকো, তাহলে আমার অনুসরণ করো। তা হলেই আল্লাহ তোমাদেরকে ভালবাসবেন এবং তোমাদের পাপসমূহ মার্জনা করবেন। আল্লাহ মহা ক্ষমাশীল ও কৃপানিধাণ'। (সূরা আলে ইমরান ৩: আয়াত ৩১)

শানে নুযূলঃ হাসান রহ. ও ইবনে জুরায়েজ রহ. বলেন যে, রাসূলের সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের যামানায় একদল লোক আল্লাহর মহব্বতের দাবীর কথা নবীর দরবারে পেশ করলে উপরোক্ত আয়াত নাযিল হয়।

ইবনে আব্বাস রা. হতে যোহাক বর্ণনা করেন যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মসজিদুল হারামে দাঁড়িয়েছিলেন। এমতাবস্থায় কুরাইশগণ তাদের প্রতিমাগুলো সাজিয়ে রাখছিল। তারা প্রতিমার দেহে উট পাখীর ডিমের খোসা এবং কানে দুলসমূহ ঝুলিয়ে রাখছিল। অতঃপর তাকে সিজদা করছিল। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তখন তাদেরকে সম্বোধন করে বললেন- হে কুরায়েশরা, তোমরা তোমাদের পিতা ইব্রাহীম ও ইসমাঈল আলাইহিস সালামের দ্বীনের বিরোধিতা করছ। তাঁরা উভয়ে ইসলামের উপরই কায়েম ছিলেন। তারা তখন উত্তরে বলল, হে মুহাম্মদ! আমরা আল্লাহর মহব্বতেই এদের পূজা করি, যাতে এরা আমাদেরকে আল্লাহর সান্নিধ্যে পৌঁছে দেয়। এর পরে এই আয়াত নাযিল হয়।

আবু ছালেহ বর্ণনা করেন যে, যখন ইয়াহুদীরা নিজেদেরকে আল্লাহর সন্তান ও প্রিয় পাত্র বলে দাবী করে, তখন এই আয়াত নাযিল হয়, কিন্তু ইয়াহূদীদের সম্মুখে উক্ত আয়াত পেশ করা হলে তারা তা অস্বীকার করে।

মুহাম্মদ ইবনে ইসহাক রা. বর্ণনা করেন যে, নাজরানের খৃষ্টানদের সম্পর্কে উক্ত আয়াত নাযিল হয়। যখন তারা দাবী করে যে, আমরা ঈসা মসীহকে সম্মান করি, তাকে পূজা করি কেবলমাত্র আল্লাহর মহববতের খাতিরে। তাদের দাবীর প্রতিবাদে আল্লাহ উপরোক্ত আয়াত নাযিল করেন।

মোটকথা, পাপ-পূণ্যের জগাখিঁচুড়ি দিয়ে কেউ আল্লাহর মহব্বতের দাবী করতে পারে না। কবি কত সুন্দরই না বলেছেন-
'তুমি আল্লাহর অবাধ্য আচরণ করবে, অথচ মুখে তার প্রতি মহব্বত প্রকাশ করবে। আমার জীবনের কসম এটি একটি অভিনব যুক্তি। 'যদি তোমার ভালবাসা খাঁটি হয়, তাহলে অবশ্যই তুমি তার আনুগত্য করবে। নিশ্চয়ই প্রেমিক তার প্রেমাস্পদের প্রতি অনুগত থাকে।

📘 ইসলাম ও জাহেলিয়াতের দ্বন্দ্ব 📄 আল্লাহর উপরে কাল্পনিক মিথ্যা আশা

📄 আল্লাহর উপরে কাল্পনিক মিথ্যা আশা


ইয়াহূদীরা অনুরূপ আশা পোষণ করতো। এদের একটি ঘটনা উপলক্ষে নিম্নোক্ত আয়াতটি নাযিল হয়-
(হে নবী!) "আপনি কি দেখেননি ওদের আচরণ, যাদেরকে আল্লাহর কিতাবসমূহের একটা অংশ (তাওরাত) দেওয়া হয়েছে? ফয়সালার জন্য ওদেরকে আল্লাহর কিতাবের দিকে ডাকা হলো। অতঃপর ওদের মধ্যকার একটি দল তা হতে মুখ ফিরিয়ে চলে গেল। (আল্লাহর কিতাবের ফয়সালা হতে মুখ ফিরিয়ে নেওয়ার দুঃসাহসের পিছনে তাদের যে ধারণা ক্রিয়াশীল ছিল, তা হলো এই যে) তারা বলতো যে, (বাছুর পূজার) মাত্র কয়েকটি দিন ব্যতীত জাহান্নামের আগুন তাদেরকে স্পর্শ করবে না। তাদের এই মিথ্যারোপ তাদেরকে দ্বীনের ব্যাপারে ধোঁকায় নিক্ষেপ করে।” (সূরা আলে ইমরান : ২৩- ২৪)

শানে নুযূলঃ ইবনে আব্বাস রা. থেকে ইবনে ইসহাক বর্ণনা করেন যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম একদা ইয়াহুদীদের তাওরাত শিক্ষা কেন্দ্রে প্রবেশ করে সমবেত ইয়াহূদীদেরকে আল্লাহর প্রতি দাওয়াত দিলেন। তখন ইয়াহূদী নেতা নু'মান ইবন আমর ও হারেছ ইবন যায়েদ জিজ্ঞেস করলো, 'আপনি কোনো দ্বীনের উপরে আছেন? রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন- 'ইব্রাহীমের দ্বীন ও মিল্লাতের উপরে'। তখন উক্ত দুইজন বলল, ইব্রাহীমতো ইয়াহূদী ছিলেন। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তখন বললেন, 'বেশ তাহলে তাওরাত নিয়ে এসো'। তাওরাতই তোমাদের ও আমাদের মধ্যে ফয়সালা দিবে। উক্ত ঘটনার দিকে ইঙ্গিত দিয়েই উপরোক্ত আয়াত নাযিল হয়।

বাইরের বর্ণনায় জানা যায় যে, ইসলামে রজমের নির্দেশ আসার আগে ইয়াহূদীদের মধ্যে একটি ব্যভিচারের ঘটনা সংঘটিত হয়। ব্যভিচারী পুরুষ ও মহিলা দু'জনেই উচ্চ সামাজিক মর্যাদার অধিকারী হওয়ার কারণে শাস্তি কিছু হালকা করবার জন্য ইয়াহূদীরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের দরবারে যাতায়াত শুরু করলো। রাসূল তাদেরকে বললেন, 'আমি তোমাদের ধর্মের কিতাব অনুযায়ী তোমাদের মধ্যে ফায়সালা করবো। তখন তারা রজমকে অস্বীকার করলে আল্লাহর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাওরাত আনতে হুকুম দিলেন। ইয়াহূদী নেতা জুরহুম ইবন ছুরিয়া চতুরতার সংগে রজমের আয়াতটির উপরে হাত রেখে ওটা বাদ দিয়ে পড়ে গেল।

তখন নও-মুসলিম প্রাক্তন ইয়াহুদী ধর্মীয় পন্ডিত আব্দুল্লাহ ইবন সালাম রাসূলকে সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সতর্ক করে দিলেন এবং আয়াতটি প্রকাশ করে দিলেন। অতঃপর তাওরাতের বিধান মতে উক্ত ব্যভিচারীদের পাথর মেরে হত্যা করা হলো। এই ঘটনায় ইয়াহুদীরা ক্রুদ্ধ হয়। তখন উপরোক্ত আয়াত নাযিল হয়।

রাসূলের সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের দেওয়া ফয়সালা ও তাওরাতের মীমাংসার প্রতি অবজ্ঞা করার পিছনে তাদের বিশ্বাস ছিল একটাই যে, জাহান্নামের আগুন তাদেরকে স্পর্শ করবে না। তাদের ধারণা ছিল এই যে, আমাদের বাপ-দাদারা নবী ছিলেন। তাঁরা আমাদের জন্য সুপারিশ করবেন। তাছাড়া আল্লাহ তা'আলা ইয়াকুব আলাইহিস সালামকে ওয়াদা দিয়েছেন যে, তিনি তার আওলাদদেরকে আযাব দিবেন না, কেবল কসম লংঘন করা ব্যতীত। আল্লাহ তাদের এই সব ধারণার প্রতিবাদ করেন।

বর্তমান যুগে মুসলিমদের মধ্যেও শাফাআতের ভুল ব্যাখ্যা প্রচলিত আছে এবং অনেকের ধারণা আছে যে, তারা নিজেদের আমল ব্যতীত অমুক হুজুর বা অমুক পীর সাহেবের কিংবা নিজেদের উচ্চ পদমর্যাদার কারণে সুপারিশের জোরে কিয়ামতের দিন পার পেয়ে যাবে। আল্লাহ আমাদেরকে রক্ষা করুন।

টিকাঃ
২৭. লেখক এখানে সূরায়ে বাক্বারাহ ৮১-৮২ আয়াতকে পূনরায় দলীল হিসাবে এনেছেন।

ফন্ট সাইজ
15px
17px