📘 ইসলাম ও জাহেলিয়াতের দ্বন্দ্ব 📄 ইবাদতে কমতি করা

📄 ইবাদতে কমতি করা


যেমন- কুরাইশ বংশের লোকেরা হজ্জের সময় অন্যান্যদের ন্যায় আরাফাতের ময়দানে অবস্থান (উকুফ) না করে মুযদালিফায় অবস্থান করতো এবং নিজেদেরকে 'হুমুস' বা কঠিন ধার্মিক বলে দাবী করতো। (বুখারী, মুসলিম আয়েশা রা. হতে)

আল্লাহ তাদের এই ইচ্ছাকৃতভাবে ইবাদতের কমতি বা ত্রুটির প্রতিবাদ করে ইরশাদ করেন-
‘অতএব তোমরা প্রত্যাবর্তন করো সেখান হতে যেখান হতে অন্যান্য লোকেরা প্রত্যাবর্তন করে থাকে। আল্লাহর নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করো। নিশ্চয় তিনি ক্ষমাশীল ও দয়ালু।’ (সূরা আল-বাক্বারাহ ২: আয়াত ১৯৯)

📘 ইসলাম ও জাহেলিয়াতের দ্বন্দ্ব 📄 ইবাদতের উদ্দেশ্যে রুচিকর খাদ্য ও সৌন্দর্য ত্যাগ করা

📄 ইবাদতের উদ্দেশ্যে রুচিকর খাদ্য ও সৌন্দর্য ত্যাগ করা


ইবনে আব্বাস রা. প্রমুখ হতে বর্ণিত হয়েছে যে, বেদুঈনদের বহু লোক এমনকি মেয়েরাও গাধার মুখের মাছি খেদানোর পট্টির মত ছোট একটা পর্দা নিম্নাংগে ঝুলিয়ে নগ্নাবস্থায় কবিতা আওড়িয়ে পবিত্র কাবা তাওয়াফ করতো। কালবী বলেন, হজ্জের মৌসুমে জাহেলী যুগের লোকেরা জান বাঁচানোর মত সামান্য খেত এবং তারা হজ্জের সময় চর্বি খেত না। মুসলিমরা বললেন যে, হজ্জের সম্মান রক্ষায় আমরাই অধিক হকদার। অতএব, আমরাও অনুরূপ করতে চাই (অর্থাৎ ভাল খাদ্যদ্রব্য ও পোষাক পরিচ্ছদ ত্যাগ করতে চাই।

(আল্লাহ্‌ পাক) উপরোক্ত বিষয়গুলির দিকে ইংগিত দিয়ে তখন নিম্নোক্ত আয়াত নাযিল করলেন।
'হে আদম সন্তানেরা তোমরা সেজদার স্থানসমূহে (আসার সময়) সুন্দর পোষাকসমূহ পরিধান করো। তোমরা খাও, পান করো, কিন্তু অপচয় করো না। নিশ্চয় আল্লাহ্‌ অপচয়কারীদের পছন্দ করেন না। (হে নবী!) আপনি বলুন, আল্লাহর দেওয়া সৌন্দর্যসমূহ যা তিনি বান্দাদের জন্য সৃষ্টি করেছেন এবং রুচিকর (বা পুষ্টিকর) খাদ্যসমূহ কে তোমাদের জন্য হারাম করেছে? আপনি বলে দিন যে, এ সবকিছুই পার্থিব জীবনে মুমিনদের উপভোগের জন্য, বিশেষ করে কিয়ামতের দিনে। জ্ঞানী সম্প্রদায়ের জন্য এইভাবে আমি আয়াতসমূহকে ব্যাখ্যা করে থাকি'। (সূরা আল-আ'রাফ, ৭: আয়াত ৩১-৩২)

টিকাঃ
২৩. নগ্ন মেয়েরা তাওয়াফের সময় নিম্নোক্ত কবিতা আওড়াতো- আজরেক দিনে উহার কিছু অংশ বা সম্পূর্ণটাই প্রকাশিত হয়ে পড়েছে। যাই প্রকাশ হোক না কেন আমি উহাকে হালাল করবো না।

📘 ইসলাম ও জাহেলিয়াতের দ্বন্দ্ব 📄 মুখে শিস দেওয়া ও হাত তালি দেওয়ার মাধ্যমে ইবাদত করা

📄 মুখে শিস দেওয়া ও হাত তালি দেওয়ার মাধ্যমে ইবাদত করা


জাহেলী যুগের লোকেরা পবিত্র কা'বা ঘরে এসে মুখে শিস দিতো ও দু'হাতে তালি বাজাতো। আর একেই তারা 'সালাত' বা নামাজ বলে অভিহিত করতো। কোনো বর্ণনায় পাওয়া যায় যে, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন সালাতে দাঁড়াতেন তখন তারা শিস দেওয়া ও তালি দেওয়া শুরু করতো, যাতে ছালাতে (নামাজে) একাগ্রতা বিনষ্ট হয়। অন্য বর্ণনায় পাওয়া যায় যে, নারী ও পুরুষ একত্রিত হয়ে হাত ধরাধরি করে উলঙ্গ অবস্থায় কা'বাঘর তাওয়াফ করতো এবং শিস দিতো ও তালি বাজাতো। ইবাদতের নামে ও ছালাতের নামে জাহেলী যুগের লোকদের এই অশিষ্ট আচরণের বর্ণনা দিতে গিয়ে আল্লাহ বলেন-
'বায়তুল্লাহ শরীফের নিকট শিস দেওয়া ও তালি বাজানোই তাদের সালাত (নামাজ) ছিল। অতএব আজকের দিনে তোমাদের সেই কুফরী কর্মের স্বাদ গ্রহণ করো।' (সূরা আন-আনফাল, ৮: আয়াত ৩৫)

আজকের এ যুগেও কোনো কোন জাহেল মুসলিম মসজিদে যিকির করার নামে শিস দিয়ে থাকে ও তালি বাজিয়ে থাকে। এ সবই যে জাহেলী যুগের তরিকা, তাতে কোনই সন্দেহ নাই। যাবতীয় বাদ্যযন্ত্রের আওয়াজ শরীয়তে শয়তানের আওয়াজ হিসাবে গণ্য করা হয়েছে ইহাই সর্বজন বিদিত।

টিকাঃ
২৪. এখানে শ্রদ্ধেয় লেখক একটি কবিতা নকল করেছেন। এতদ্ব্যতীত উপরোক্ত বক্তব্যের সমর্থনে সূরা আল-ইসরার ৬৪ আয়াতটি উদ্ধৃত করেছেন। যদিও তা সংগতিপূর্ণ নয়। কলেবর বৃদ্ধির ভয়ে বাদ দেওয়া হলো।

📘 ইসলাম ও জাহেলিয়াতের দ্বন্দ্ব 📄 আকীদা-বিশ্বাসে মুনাফেকী

📄 আকীদা-বিশ্বাসে মুনাফেকী


জাহেলী যুগের অনেকে যখন মুসলিমদের নিকট আসতো তখন মুখে ঈমানের দাবী করতো। কিন্তু যখন সেখান থেকে বেরিয়ে যেতো, তখন যে অবিশ্বাস বা কুফরী নিয়ে সে প্রবেশ করেছিল, সেটা সংগে নিয়েই সে নিষ্ক্রান্ত হতো।

ফন্ট সাইজ
15px
17px