📘 ইসলাম ও জাহেলিয়াতের দ্বন্দ্ব 📄 নিজেদের লালিত মতবাদকেই হক মনে করে তার উপরে আমল বজায় রাখার দাবী

📄 নিজেদের লালিত মতবাদকেই হক মনে করে তার উপরে আমল বজায় রাখার দাবী


এটা ছিল জাহেলী যুগে ইয়াহূদীদের স্বভাব, যেমন আল্লাহ বলেন- আল্লাহর নাযিলকৃত পাক কুরআনের উপর ইয়াহূদীদেরকে ঈমান আনতে বলা হলে তারা বলে ছিল যে, আমরা কেবলমাত্র বিশ্বাস করবো ঐ বস্তুর উপর যা আমাদের উপর নাযিল হয়েছে (অর্থাৎ তাওরাত) এবং তা ব্যতীত সব কিছুকে তারা প্রত্যাখ্যান করবে। অথচ কুরআনই প্রকৃত হক কিতাব যা তাদের (তাওরাত-ইঞ্জিল) সত্যতা প্রতিপন্ন করে থাকে। (হে নবী) আপনি বলুন যে, 'তোমরা যদি সত্যিকারের ঈমানদার হও, তাহলে কেন ইতোপূর্বে নবীদেরকে হত্যা করেছিলেন'? (সূরা আল-বাক্বারাহ, ২: আয়াত ৯১)

📘 ইসলাম ও জাহেলিয়াতের দ্বন্দ্ব 📄 ইবাদতের ব্যাপারে বাড়াবাড়ি করা

📄 ইবাদতের ব্যাপারে বাড়াবাড়ি করা


যেমন তারা আশুরা প্রভৃতি দিনে নিজেদের পক্ষ থেকে ইবাদত বানিয়ে নিত।

📘 ইসলাম ও জাহেলিয়াতের দ্বন্দ্ব 📄 ইবাদতে কমতি করা

📄 ইবাদতে কমতি করা


যেমন- কুরাইশ বংশের লোকেরা হজ্জের সময় অন্যান্যদের ন্যায় আরাফাতের ময়দানে অবস্থান (উকুফ) না করে মুযদালিফায় অবস্থান করতো এবং নিজেদেরকে 'হুমুস' বা কঠিন ধার্মিক বলে দাবী করতো। (বুখারী, মুসলিম আয়েশা রা. হতে)

আল্লাহ তাদের এই ইচ্ছাকৃতভাবে ইবাদতের কমতি বা ত্রুটির প্রতিবাদ করে ইরশাদ করেন-
‘অতএব তোমরা প্রত্যাবর্তন করো সেখান হতে যেখান হতে অন্যান্য লোকেরা প্রত্যাবর্তন করে থাকে। আল্লাহর নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করো। নিশ্চয় তিনি ক্ষমাশীল ও দয়ালু।’ (সূরা আল-বাক্বারাহ ২: আয়াত ১৯৯)

📘 ইসলাম ও জাহেলিয়াতের দ্বন্দ্ব 📄 ইবাদতের উদ্দেশ্যে রুচিকর খাদ্য ও সৌন্দর্য ত্যাগ করা

📄 ইবাদতের উদ্দেশ্যে রুচিকর খাদ্য ও সৌন্দর্য ত্যাগ করা


ইবনে আব্বাস রা. প্রমুখ হতে বর্ণিত হয়েছে যে, বেদুঈনদের বহু লোক এমনকি মেয়েরাও গাধার মুখের মাছি খেদানোর পট্টির মত ছোট একটা পর্দা নিম্নাংগে ঝুলিয়ে নগ্নাবস্থায় কবিতা আওড়িয়ে পবিত্র কাবা তাওয়াফ করতো। কালবী বলেন, হজ্জের মৌসুমে জাহেলী যুগের লোকেরা জান বাঁচানোর মত সামান্য খেত এবং তারা হজ্জের সময় চর্বি খেত না। মুসলিমরা বললেন যে, হজ্জের সম্মান রক্ষায় আমরাই অধিক হকদার। অতএব, আমরাও অনুরূপ করতে চাই (অর্থাৎ ভাল খাদ্যদ্রব্য ও পোষাক পরিচ্ছদ ত্যাগ করতে চাই।

(আল্লাহ্‌ পাক) উপরোক্ত বিষয়গুলির দিকে ইংগিত দিয়ে তখন নিম্নোক্ত আয়াত নাযিল করলেন।
'হে আদম সন্তানেরা তোমরা সেজদার স্থানসমূহে (আসার সময়) সুন্দর পোষাকসমূহ পরিধান করো। তোমরা খাও, পান করো, কিন্তু অপচয় করো না। নিশ্চয় আল্লাহ্‌ অপচয়কারীদের পছন্দ করেন না। (হে নবী!) আপনি বলুন, আল্লাহর দেওয়া সৌন্দর্যসমূহ যা তিনি বান্দাদের জন্য সৃষ্টি করেছেন এবং রুচিকর (বা পুষ্টিকর) খাদ্যসমূহ কে তোমাদের জন্য হারাম করেছে? আপনি বলে দিন যে, এ সবকিছুই পার্থিব জীবনে মুমিনদের উপভোগের জন্য, বিশেষ করে কিয়ামতের দিনে। জ্ঞানী সম্প্রদায়ের জন্য এইভাবে আমি আয়াতসমূহকে ব্যাখ্যা করে থাকি'। (সূরা আল-আ'রাফ, ৭: আয়াত ৩১-৩২)

টিকাঃ
২৩. নগ্ন মেয়েরা তাওয়াফের সময় নিম্নোক্ত কবিতা আওড়াতো- আজরেক দিনে উহার কিছু অংশ বা সম্পূর্ণটাই প্রকাশিত হয়ে পড়েছে। যাই প্রকাশ হোক না কেন আমি উহাকে হালাল করবো না।

ফন্ট সাইজ
15px
17px