📘 ইসলাম ও জাহেলিয়াতের দ্বন্দ্ব 📄 মুমিনদের প্রতি মিথ্যারোপ

📄 মুমিনদের প্রতি মিথ্যারোপ


জাহেলী যুগের লোকেরা মুমিনদের বিরুদ্ধে পার্থিব প্রতিপত্তি লাভের জন্য মিথ্যা অভিযোগ উত্থাপন করতো। যেমন ফেরাউনের কওম মূসা আলাইহিস সালামের নিকট লা-জওয়াব হওয়ার পরে দূর্বলের চিরন্তন নীতি অনুযায়ী বাপ-দাদার রীতিসমূহের প্রতি অন্ধ গোড়ামী প্রদর্শন করে বলে-তুমি কি আমাদের নিকট আমাদের বাপ-দাদার রীতি-নীতি হতে বিচ্যুত করবার জন্য এসেছ এবং এই দেশে যাতে তোমাদের দু'ভাইয়ের প্রতিপত্তি বৃদ্ধি পায় সেজন্য? আমরা তোমাদের উপর বিশ্বাসী নই'।

'তারা বলল, তুমি কি আমাদের নিকট এ জন্য এসেছো যে, আমাদের সরিয়ে দিবে সে পথ হতে যাতে আমরা আমাদের বাপ-দাদাদের পেয়েছি। আর পৃথিবীতে তোমাদের দু' জনের আধিপত্য স্থাপিত হয়ে যায়? কিন্তু আমরা তোমাদের দু' জনকে কখনো মেনে নেবনা।” (সূরা ইউনূস : ৭৮)

এখানে পার্থিব প্রতিপত্তি বলতে বাদশাহী বুঝানো হয়েছে যেমন- মুজাহিদ থেকে বর্ণনা করা হয়েছে যাজ্জাজ বলেন, বাদশাহীকে প্রতিপত্তি এজন্যে বলা হয়েছে যে, তাই হলো দুনিয়াতে সর্বাপেক্ষা বড় কাম্য বস্তু। অতএব যখনই কোনো হকপন্থী ব্যক্তি মানুষকে হকের দাওয়াত দেয়, বাতিলপন্থী জাহেলরা অমনি তাদেরকে প্রতিপত্তি লোভী রাজনৈতিক স্বার্থবিরোধী বলে দোষারোপ করে। অথচ একবারও তারা ভেবে দেখে না, এরা কি বলতে চায় এবং তা কতটুকু যুক্তিনির্ভর।

📘 ইসলাম ও জাহেলিয়াতের দ্বন্দ্ব 📄 মুমনিদের বিরুদ্ধে সমাজে ফাসাদ সৃষ্টির অভিযোগ

📄 মুমনিদের বিরুদ্ধে সমাজে ফাসাদ সৃষ্টির অভিযোগ


মুমিনদেরকে সমাজে ফ্যাসাদ সৃষ্টিকারী বলে অভিহিত করা জাহেলী যুগের একটি রীতি। যেমন- সূরা বাক্বারার ১১ ও ১২ আয়াতে পরিষ্কার বলা হয়েছে,

“যখন তাদেরকে বলা হয় পৃথিবীতে ফ্যাসাদ সৃষ্টি করো না, তখন তারা বলে আমরাইতো শান্তি স্থাপনকারী। সাবধান এরাই (আসলে) অশান্তি সৃষ্টির হোতা। কিন্তু ওরা (নিজেদের দোষ) বুঝতে অপারগ।” (সূরা আল-বাকারা : ১১-১২)

এমনিভাবে একই রীতি চলছে প্রতি যুগে, ঐ সমস্ত লোকের মধ্যে যাদের অন্তরে বিভিন্ন বেদআতী রেওয়াজ প্রথা ও বিভ্রান্তিসমূহ দানা বেঁধে আছে।

📘 ইসলাম ও জাহেলিয়াতের দ্বন্দ্ব 📄 মুমনিদের বিরুদ্ধে ধর্ম পরিবর্তনের অভিযোগ

📄 মুমনিদের বিরুদ্ধে ধর্ম পরিবর্তনের অভিযোগ


জাহেলী যুগের অন্যতম রীতি ছিল যে, তারা যে নীতির উপরে চলতো, সেটাকেই এক মাত্র হক মনে করতো। এর বাইরে সব কিছুকে গুমরাহী ভাবতো। কেউ তাদের ভুল ধরিয়ে হক পথের সন্ধান দিলে উল্টা তাকেই দ্বীন পরিবর্তনকারী ও ফ্যাসাদ সৃষ্টিকারী বলে আখ্যায়িত করতো। যেমন আল্লাহ উদ্ধৃতি করে বলেন-

'আমি আশংকা করছি যে, এই ব্যক্তি তোমাদের ধর্মকে পাল্টে দেবে এবং দেশে ফ্যাসাদ ব্যপ্ত করে দেবে।' (সূরা আল-গাফের, ৪০: আয়াত ২৬)

প্রতি যুগেই হকপন্থীদের বিরুদ্ধে বাতিল পন্থীদের এমনি আচরণ চলে আসছে।

📘 ইসলাম ও জাহেলিয়াতের দ্বন্দ্ব 📄 হকপন্থীদের বিরুদ্ধে সরকারের নিকট কুপরামর্শ

📄 হকপন্থীদের বিরুদ্ধে সরকারের নিকট কুপরামর্শ


যখন বাতিলপন্থীরা যুক্তিতে হেরে যায় তখন তারা অস্ত্রের আশ্রয় নেয় এবং দেশের সরকারকে কুমন্ত্রণা দিতে শুরু করে। হকপন্থীদের বিরুদ্ধে সরকার বিরোধী চক্রান্তের মিথ্যা অপবাদ রটিয়ে দেয়। আরও বলে, এরা দেশের প্রতিষ্ঠিত সরকারকে হেয় করছে এবং জনসাধারণকে তাদের ধর্ম সম্পর্কে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা চালাচ্ছে।

যেমন- ফেরাউনকে তার সম্প্রদায়ের নেতারা কুমন্ত্রণা দিয়ে বলেছিল-

'আপনি কি মূসা ও তার কওমকে রাজ্যে বিপর্যয় সৃষ্টি করার জন্য সুযোগ দিবেন'? (সূরা আল-আরাফ, ৭: আয়াত ১২৭)

এ নিয়ম সব যুগেই ছিল, আজও আছে।

ফন্ট সাইজ
15px
17px